Saturday, 24 January 2026

ইসলামে ভোট ও ভোটারের দায়িত্ব

 

ইসলামে ভোট ও ভোটারের দায়িত্ব


গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ভোট শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের উপায় নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি পবিত্র আমানত এবং সাক্ষ্যদান। একজন মুমিনের কাছে ভোটের ব্যবহার নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি পরকালীন জবাবদিহির বিষয়।

শরিয়তের পরিভাষায় কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অর্থ—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, ওই ব্যক্তি সৎ, যোগ্য এবং আমানতদার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা ও মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে বিরত থাকো।’ (সুরা হজ : ৩০)

কোনো ভোটার যদি জেনেশুনে অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেন, তবে তিনি মূলত মিথ্যা সাক্ষ্য দিলেন। আর ইসলামে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে শিরকের পরপরই অন্যতম বড় অপরাধ ও কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও নেতৃত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত। ভোটারদের দায়িত্ব হলো যোগ্য ব্যক্তির হাতে এই আমানত তুলে দেওয়া। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতগুলো তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা নিসা : ৫৮)

স্বজনপ্রীতি, দলীয় আবেগ বা অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া স্পষ্ট আমানতের খেয়ানত। রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, ‘যখন অযোগ্য ব্যক্তির হাতে নেতৃত্ব ন্যস্ত হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।’ (বুখারি)। অর্থাৎ, অযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ।

যেহেতু ভোট এক ধরনের সুপারিশ, তাই কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী-‘যে ব্যক্তি ভালো কাজের সুপারিশ করবে, সে তার সওয়াবের অংশ পাবে। আর যে মন্দকাজের সুপারিশ করবে, সে তার পাপের বোঝা বহন করবে।’ (সুরা নিসা : ৮৫)

সুতরাং, নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি ভালো কাজ করেন, ভোটার তার সওয়াব পাবেন। কিন্তু প্রতিনিধি যদি দুর্নীতি বা জুলুম করেন, তবে তাকে ক্ষমতায় বসানোর কারণে ভোটারকেও সেই পাপের অংশীদার হতে হবে। তাই প্রার্থীর সততা ও যোগ্যতা যাচাই না করে ভোট দেওয়া ইহকাল এবং পরকাল—উভয় জগতেই বিপদের কারণ হতে পারে।

No comments:

Post a Comment

ইসলামে ভোট ও ভোটারের দায়িত্ব

  গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ভোট শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের উপায় নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি পবিত্র আমানত এবং সাক্ষ্যদান। একজন মুমিনের কা...