Tuesday, 21 April 2026

জেরুজালেম থেকে মক্কা, কিবলা পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ

জেরুজালেম থেকে মক্কা, কিবলা পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ

মেরাজের কিছুদিন পর জেরুজালেম থেকে মক্কার দিকে কিবলা পরিবর্তন এই দুই ঘটনা নামাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হিজরতের প্রায় ষোলো মাস পর শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ আসে, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহর এক বিশেষ দিক নির্দেশনা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে নামাজ সংক্রান্ত দুটি ঘটনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর তাহলো মেরাজ এবং কিবলা পরিবর্তন। অধিকাংশ ইসলামী চিন্তাবিদ একমত যে, হিজরতের প্রায় এক বছর আগে রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে মেরাজের ঘটনা ঘটে। আর হিজরতের ১৬ মাস পর মদিনায় জামাতে নামাজ পড়ার সময় কিবলা পরিবর্তনের ওহি নাজিল হয়।

একজন মুসলিমের জন্য কিবলা ছাড়া নামাজ পড়া সম্ভব নয়। কিবলা মানে হলো দিকনির্দেশনা বা সঠিক অভিমুখ। প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের সময় মুসলিমরা মক্কার পবিত্র কাবা শরীফের দিকে মুখ করে দাঁড়ান। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের সঙ্গে অদৃশ্য আধ্যাত্মিক সুতায় যুক্ত করেন নিজেদের। 

ঐক্যের প্রতীক

কিবলা এমন এক অনন্য ব্যবস্থা যা বিশ্বের প্রতিটি জাতি, বর্ণ এবং গোত্রকে প্রতিদিন পাঁচবার একই সারিতে নিয়ে আসে। এটি মুসলিম উম্মাহর হৃদপিণ্ড হিসেবে কাজ করে, যা বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের আধ্যাত্মিক অস্তিত্বকে সচল রাখে। এটি মূলত একত্ববাদেরই বহিঃপ্রকাশ—এক আল্লাহ, এক ধর্ম এবং এক উম্মাহ।

জেরুজালেম থেকে মক্কা

মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে সব নবীদের ইমামতি করেছিলেন। এই ঘটনাটি কাবার সঙ্গে আল-আকসার এবং পূর্ববর্তী সব নবীদের শিক্ষার সঙ্গে ইসলামের এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করে। 

হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বড় ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর বংশধারায় মহানবী (সা.)-এর জন্ম। অন্যদিকে হজরত ইসহাক (আ.)-এর বংশধারার প্রতিনিধিত্ব করে জেরুজালেম।

প্রথমে জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার নির্দেশ এবং পরবর্তী সময়ে মক্কার কাবার দিকে মুখ ফেরানোর আদেশ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ইসলাম পূর্ণতা পায়। এটি মূলত একটি পরীক্ষা ছিল যে, কে আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ বিনাবাক্যে মেনে নেয়।

মধ্যপন্থি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ

কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে মুসলিমদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ বা মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, মহানবী (সা.) শুধু কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জাতির নবী নন, বরং তিনি সমগ্র মানবতার দূত। মক্কাকে কেন্দ্র করে এই উম্মাহ এখন থেকে বিশ্ববাসীকে আল্লাহর পথে ডাকার দায়িত্ব পালন করবে।

মূলত কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আদি ধর্মকে চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিবলা পরিবর্তন শুধু একটি দিকের পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামের পূর্ণতা এবং মক্কার পবিত্র কাবাকে বিশ্ব ও ধর্মের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠার এক আসমানী ঘোষণা।

ইরানের প্রধান দুটি বিমানবন্দর চালু

 

ইরানের প্রধান দুটি বিমানবন্দর চালু
ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের কারণে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রধান দুটি বিমানবন্দর। বিমানবন্দর দুটি হলো তেহরানের ইমাম খোমেনি ও মেহরাবাদ বন্দর।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে স্থগিত করা হয়েছিল ইরানের আকাশপথ ও বিমান চলাচল।

ইরানি বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার থেকে শিরাজ, কেরমান, রেশত, ইয়াজদ, উর্মিয়া, কেরমানশাহ, আবাদান, গোরগান, বিরজান্দ ও জাহেদান বিমানবন্দরও পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, চুক্তি না হলে যুদ্ধ শুরু বলে আমি মনে করছি। ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে।

মার্কিন অবরোধ ডিঙিয়ে হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ইরানের জাহাজ

মার্কিন অবরোধ ডিঙিয়ে হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ইরানের জাহাজ

মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ইরানের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ‘শুজা ২’ নামের জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে শহীদ রাজায়ী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে এটি ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, তারা তাসনিম নিউজের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে সমুদ্রযান চলাচল পর্যালোচনাকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতেই অবস্থান করছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শুজা ২-এর গন্তব্য ভারত। 

Monday, 20 April 2026

অহংকার কেন মানুষের জন্য এক ঘাতক ব্যাধি

 

অহংকার কেন মানুষের জন্য এক ঘাতক ব্যাধি

পবিত্র কোরআনে নানাভাবে চিত্রিত হয়েছে অহংকার নামক ঘাতক ব্যাধির কথা। একে ঘাতক ব্যাধি বলা হয়, কারণ তা মানুষের অন্তর্জগৎকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। আর এর পরকালীন ক্ষতি তো রয়েছেই। এই অহংকার শয়তানকে ‘শয়তানে’ পরিণত করেছে, অভিশপ্ত করে দিয়েছে, আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করেছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার প্রকাশ করে তাদেরকে অবশ্যই আমি আমার নিদর্শনাবলি থেকে বিমুখ করে রাখব। (সুরা আ‘রাফ, আয়াত : ১৪৬)

পবিত্র কোরআনের অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ২৩)

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সত্যের বিরুদ্ধে অহংকার করে তার ঈমান তার কোনো উপকার করতে পারে না। ইবলিসের অবস্থা এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

রাসুল (সা.) বলেছেন, যার অন্তরে এক বিন্দু পরিমাণ অহংকার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি বললেন, কোনো ব্যক্তি চায় তার জামা-কাপড়, জুতা সুন্দর হোক তাহলে এটাও কি অহংকার? রাসুল (সা.) উত্তর দিলেন, আল্লাহ নিজে সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। (অর্থাৎ এগুলো অহংকারের অর্ন্তভুক্ত নয়) অহংকার হলো সত্যকে গোপন করা আর মানুষকে অবজ্ঞা করা। (মুসলিম)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, অহংকার বশে তুমি মানুকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে অহংকারের সাথে পদচারণা করো না। কখনো আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা লোকমান, আয়াত: ১৮)

রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, মহত্ব আমার পরিচয় আর অহংকার আমার চাদর, যে ব্যক্তি এ দু’টি নিয়ে টানা হেচাড়া করবে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। (মুসলিম)

জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ, বাংলাদেশে কবে

জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ, বাংলাদেশে কবে

বাংলাদেশে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলকদ মাস শুরু হতে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আজ রোববার শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে এবং আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে নতুন মাসের গণনা শুরু হতে যাছে।

ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলকদ মাসের পরের মাস হলো জিলহজ এবং মাসটির ১০ তারিখে উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহা

২০ এপ্রিল থেকে আগামী মে মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত ২৯ দিন জিলকদ মাস। জিলহজ মাস শুরু হতে পারে আগামী ১৯ মে। সেই হিসাবে জিলকদ মাস ২৯ দিনে শেষ হলে ২৮ মে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। আর জিলকদ মাস ৩০ দিনের হলে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মে।

তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে জিলহজ মাসের শুরু এবং ঈদুল আজহার সঠিক দিন। এ বিষয়ে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে।

জাহাজে হামলায় পরিস্থিতি বদলে গেছে, দ্রুত উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা


জাহাজে হামলায় পরিস্থিতি বদলে গেছে, দ্রুত উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত।

ওমান সাগরে ইরানি জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান। খবর আলজাজিরার।

আহমাদিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেদিন অবরোধের ঘোষণা দেয়, সেদিন থেকেই ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তারা ইরানি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর কোনো অবরোধের সীমা মানবেন না এবং তারা তাদের পূর্ববর্তী নীতি অনুযায়ীই কাজ করবেন।

তিনি আরো বলেন, এর আগে সতর্কতা থাকলেও ‘আজ রাতেই পরিস্থিতি বদলে গেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পণ্যবাহী জাহাজে হামলা বা ইরানি জাহাজ জব্দ করা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইরানিদের একইরকমভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া ছাড়া আর বিকল্প কোনো উপায় থাকবে না।

আহমাদিয়ান আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই অবরোধকে “যুদ্ধের শামিল” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আর জাহাজ জব্দ করা এই সংঘাতকে আরো উসকে দেওয়ার মতো একটি পদক্ষেপ।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিলেও, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আত্মসমর্পণ ও আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।

জাহাজ জব্দের ঘটনা স্বীকার ইরানের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

 

জাহাজ জব্দের ঘটনা স্বীকার ইরানের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত।

ওমান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও জব্দের ঘটনা স্বীকার করেছে ইরান। একই সঙ্গে এর দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। খবর আলজাজিরার।

আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের হাজরাত খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক সদর দপ্তর ওমান সাগরে একটি জাহাজের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর চালানো হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান সাগরের পানিসীমায় সামুদ্রিক জলদস্যুতা করে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালায় মার্কিন বাহিনী; এতে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে। পরে জাহাজে ডেকে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন মেরিন সদস্যরা জাহাজটির ডেকে উঠে এই অভিযান চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই এই সশস্ত্র জলদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধ নেবে।”

উল্লেখ্য, এ ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে আগে থেকেই ভিন্নতা দেখা গেলেও এবার ইরান সরাসরি জাহাজ জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করল এবং পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল।

কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র: পেজেশকিয়ান

 

কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র: পেজেশকিয়ান
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবর আলজাজিরার।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গে বলেন, আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং অত্যাচারী ও অযৌক্তিক আচরণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত নৌ অবরোধের মাধ্যমে উস্কানিমূলক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা যুদ্ধবিরতি সমঝোতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি।

এ বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকিমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি এই ধরনের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে অবিশ্বাস কেবল বাড়িয়েই তুলছে। আর এটি এখন আগের চেয়েও বেশি প্রকাশ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র তার পূর্ববর্তী ধারারই পুনরাবৃত্তি করতে এবং কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাইছে।

পেজেশকিয়ান আরো বলেন যে, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসনের যেকোনো নতুন দুঃসাহসিকতার বিরুদ্ধে দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করবে।

Sunday, 19 April 2026

“পুরুষ মানুষ কি কাঁদে না?”: ইউনিফর্মের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নিঃশব্দ হাহাকার

 



“পুরুষ মানুষ কি কাঁদে না?”: ইউনিফর্মের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নিঃশব্দ হাহাকার


মোঃ মোস্তফা কামাল, নতুন সকাল | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২০২৬

সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যারা রাত-দিন রাজপথে থাকেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেন—তারা হলেন আমাদের পুলিশ বাহিনী। আমরা তাদের শক্ত সামর্থ্য ইউনিফর্ম পরা অবয়ব দেখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু সেই কঠোর আবরণের নিচেও যে একটি রক্তাক্ত মন থাকতে পারে, তা হয়তো আমরা ভুলে যাই। সম্প্রতি একজন পুলিশ সদস্যের একটি আবেগঘন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আবারও সামনে এসেছে পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক চাপে তাদের নিঃশব্দে হারিয়ে যাওয়ার গল্প।

শক্ত থাকার অভিনয় এবং একটি করুণ পরিণতি** ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, সমাজের সুরক্ষায় সর্বদা সজাগ থাকা সেই মানুষটি আজ নিজেই নিজের জীবনের কাছে বড় অসহায়। আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি— “পুরুষ মানুষ কাঁদে না,” কিংবা “পুরুষের কাঁদতে নেই।” এই ভুল সামাজিক ধারণাটিই একজন মানুষকে ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। মনের ভেতর কষ্টের পাহাড় জমতে থাকলেও সমাজ ও পরিবারের চাপে তারা হাসিমুখে ‘শক্ত থাকার অভিনয়’ করে যায়। কিন্তু এই অভিনয় করতে করতেই একদিন মানুষগুলো নিঃশব্দে হারিয়ে যায়।

“তুমি কি ঠিক আছো?”— এই প্রশ্নটাই করা হয় না** যিনি হাজারো মানুষের সমস্যার সমাধান করেন, তার নিজের মনের যন্ত্রণা বোঝার মতো কেউ পাশে থাকে না। কেউ হয়তো তাকে একবারও ভালোবেসে জিজ্ঞেস করেনি,

“তুমি কি ঠিক আছো তো? তোমার শরীর-মন ভালো আছে তো?” কাজের প্রচণ্ড চাপ, অনিয়মিত জীবন আর একাকিত্ব যখন অসহ্য হয়ে ওঠে, তখন ইউনিফর্মের তারকাগুলোও মনের অন্ধকার দূর করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন** মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের আবেগ প্রকাশ করতে না পারার এই প্রবণতা এক ধরণের 'সাইলেন্ট কিলিং'। ইউনিফর্মে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি, কারণ তাদের সবসময় কঠোর ও সাহসী থাকতে হয়। তারা বলেন:
"মানসিক চাপ যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন মানুষ এমন সব সিদ্ধান্ত নেয় যা অপূরণীয়। আমাদের উচিত প্রিয়জনদের মানসিক অবস্থার খোঁজ রাখা, বিশেষ করে যারা সেবাখাতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন।"

প্রিয়জন হারিয়ে যাওয়ার পর শোক প্রকাশের চেয়ে, সে বেঁচে থাকতেই তার হাতটা শক্ত করে ধরা অনেক বেশি জরুরি। পুলিশ হোক বা সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকটি মানুষেরই কাঁদার অধিকার আছে, ভেঙে পড়ার অধিকার আছে। আসুন, ‘পুরুষ মানুষ কাঁদে না’— এই মিথ ভেঙে আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াই।

মনে রাখবেন, মনের ওপর জেঁকে বসা পাথরটা নামানোর জন্য একটু সহমর্মিতাই যথেষ্ট। সময় থাকতে খোঁজ নিন আপনার পাশের মানুষটির। হয়তো আপনার একটি ছোট্ট প্রশ্ন— "তুমি কেমন আছো?"— বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণ।

নিঃশব্দে হারিয়ে যাওয়ার আগে প্রিয় মানুষটির অবলম্বন হয়ে উঠুন।

জেরুজালেম থেকে মক্কা, কিবলা পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ

মেরাজের কিছুদিন পর জেরুজালেম থেকে মক্কার দিকে কিবলা পরিবর্তন এই দুই ঘটনা নামাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হিজরতের প্রায় ষোলো...