“পুরুষ মানুষ কি কাঁদে না?”: ইউনিফর্মের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নিঃশব্দ হাহাকার
মোঃ মোস্তফা কামাল, নতুন সকাল | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২০২৬
সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যারা রাত-দিন রাজপথে থাকেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেন—তারা হলেন আমাদের পুলিশ বাহিনী। আমরা তাদের শক্ত সামর্থ্য ইউনিফর্ম পরা অবয়ব দেখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু সেই কঠোর আবরণের নিচেও যে একটি রক্তাক্ত মন থাকতে পারে, তা হয়তো আমরা ভুলে যাই। সম্প্রতি একজন পুলিশ সদস্যের একটি আবেগঘন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আবারও সামনে এসেছে পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক চাপে তাদের নিঃশব্দে হারিয়ে যাওয়ার গল্প।
শক্ত থাকার অভিনয় এবং একটি করুণ পরিণতি** ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, সমাজের সুরক্ষায় সর্বদা সজাগ থাকা সেই মানুষটি আজ নিজেই নিজের জীবনের কাছে বড় অসহায়। আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি— “পুরুষ মানুষ কাঁদে না,” কিংবা “পুরুষের কাঁদতে নেই।” এই ভুল সামাজিক ধারণাটিই একজন মানুষকে ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। মনের ভেতর কষ্টের পাহাড় জমতে থাকলেও সমাজ ও পরিবারের চাপে তারা হাসিমুখে ‘শক্ত থাকার অভিনয়’ করে যায়। কিন্তু এই অভিনয় করতে করতেই একদিন মানুষগুলো নিঃশব্দে হারিয়ে যায়।
“তুমি কি ঠিক আছো?”— এই প্রশ্নটাই করা হয় না** যিনি হাজারো মানুষের সমস্যার সমাধান করেন, তার নিজের মনের যন্ত্রণা বোঝার মতো কেউ পাশে থাকে না। কেউ হয়তো তাকে একবারও ভালোবেসে জিজ্ঞেস করেনি,
“তুমি কি ঠিক আছো তো? তোমার শরীর-মন ভালো আছে তো?” কাজের প্রচণ্ড চাপ, অনিয়মিত জীবন আর একাকিত্ব যখন অসহ্য হয়ে ওঠে, তখন ইউনিফর্মের তারকাগুলোও মনের অন্ধকার দূর করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন** মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের আবেগ প্রকাশ করতে না পারার এই প্রবণতা এক ধরণের 'সাইলেন্ট কিলিং'। ইউনিফর্মে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি, কারণ তাদের সবসময় কঠোর ও সাহসী থাকতে হয়। তারা বলেন:
"মানসিক চাপ যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন মানুষ এমন সব সিদ্ধান্ত নেয় যা অপূরণীয়। আমাদের উচিত প্রিয়জনদের মানসিক অবস্থার খোঁজ রাখা, বিশেষ করে যারা সেবাখাতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন।"
প্রিয়জন হারিয়ে যাওয়ার পর শোক প্রকাশের চেয়ে, সে বেঁচে থাকতেই তার হাতটা শক্ত করে ধরা অনেক বেশি জরুরি। পুলিশ হোক বা সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকটি মানুষেরই কাঁদার অধিকার আছে, ভেঙে পড়ার অধিকার আছে। আসুন, ‘পুরুষ মানুষ কাঁদে না’— এই মিথ ভেঙে আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াই।
মনে রাখবেন, মনের ওপর জেঁকে বসা পাথরটা নামানোর জন্য একটু সহমর্মিতাই যথেষ্ট। সময় থাকতে খোঁজ নিন আপনার পাশের মানুষটির। হয়তো আপনার একটি ছোট্ট প্রশ্ন— "তুমি কেমন আছো?"— বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণ।
নিঃশব্দে হারিয়ে যাওয়ার আগে প্রিয় মানুষটির অবলম্বন হয়ে উঠুন।
No comments:
Post a Comment