Monday, 23 February 2026

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

ছবি: সংগৃহীত

মহিমান্বিত রমজান মাস ও পবিত্র আল- কোরআন একটি অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেন এক বৃন্তে দুটি দৃষ্টিনন্দন ফুল। ভাবতেই হৃদয়ে শিহরণ জাগে। ভালো লাগার স্নিগ্ধ সমীরণ বয়ে যায় অন্তর্জগতে। পবিত্র কোরআন মাজিদ রমজানের সৌন্দর্যকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। কোরআন মুমিন হৃদয়ের অনির্বচনীয় প্রশান্তির নাম। কোরআনের স্পর্শ ছাড়া মানব জনম অর্থহীন। এর স্পর্শে মৃতপ্রায় হৃদয় সজীব হয়ে ওঠে। আর রমজানে কোরআনের স্পর্শে মুমিনের অন্তর উদ্বেলিত হয়। হৃদয়ে নামে হেদায়াতের বসন্ত। আর সে বসন্ত পূর্ণতা পায় তারাবির সালাতে পবিত্র কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতে। এ যেন রবের সঙ্গে একান্তে আলাপন। যে আলাপনের মজা কখনো শেষ হওয়ার নয়; বরং কেবল বাড়তেই থাকে।

রমজানে কোরআন তিলাওয়াতের মাহাত্ম্য

সারাদিন ক্ষুধা আর পিপাসায় কাতর হয়ে সিয়াম সাধনা শেষে সন্ধ্যায় ইফতার সেরে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে রাজ্যের ক্লান্তি নেমে আসার কথা। একটু অলসতায় শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিয়ে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কোরআনের প্রেমে মাতোয়ারা মুমিনরা সব ক্লান্তি ও অলসতা পায়ে দলে ঠিকই মসজিদে চলে আসেন। এশার ফরজ শেষে ডুব দেন রবের প্রেমের সরোবরে।

মুমিনরা তারাবির সালাতে কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহতায়ালার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মেতে ওঠে। যে আলাপচারিতার মজা সঠিকভাবে ব্যক্ত করতে পারেÑএমন ভাষা বিশ্বে বিরল। প্রশ্ন জাগে, রমজানে কোরআন তিলাওয়াতে এত মজা কেন। বারবার কোরআন তিলাওয়াত করে এবং একাধিকবার শুনেও কেন আশ মেটে না?

সহজ জবাবÑরমজান কোরআন নাজিলের মাস। হ্যাঁ, বিশ্বমানবতাকে সঠিক পথের দিশা দেওয়ার দৃপ্ত শপথে বলীয়ান হয়ে যে কোরআন পৃথিবীতে এসেছে, সেই কোরআন মাজিদ কবে নাজিল হয়েছেÑতার জবাবে কোরআন জানাচ্ছে, ‘রমজান সেই মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে’ (সুরা বাকারা- ১আট৫)।

সার কথা, রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রমজানে হৃদয়ে কোরআনের বসন্ত নামে। অন্তর কোরআনের আলোয় ভরে ওঠে। আর তারাবির সালাতে কোরআন তিলাওয়াতে সেই বসন্ত ষোলকলায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। রমজানে কোরআন তিলাওয়াতের স্বাদে মোহিত হওয়ার এটাই মৌলিক রহস্য।

কোরআনের সুরে মুখরিত দিগন্ত

একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে হাফেজে কোরআনদের সংখ্যা ছিল খুব কম। পুরো অঞ্চল চষে বেড়িয়ে হাফেজ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর ছিল। একদল হাফেজ আলেমের নিরন্তর প্রচেষ্টায় ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবুজ বাংলাদেশে হাফেজে কোরআনদের রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে। লাখ লাখ হাফেজে কোরআন বের হচ্ছেন মাদরাসাগুলো থেকে। ফলে রমজানে তারাবির সালাতে দেশের প্রায় তিন লাখ মসজিদ মুখরিত থাকে পবিত্র কোরআন মাজিদের সুমধুর তিলাওয়াতে।

মসজিদের তুলনায় হাফেজে কোরআনের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অনেক বাসাবাড়ি কিংবা অফিসেও তারাবির জামাতে হাফেজরা কোরআন তিলাওয়াত করেন। এ গৌরব বাংলাদেশের। এ মর্যাদা লাল-সবুজের। এ সম্মান আল্লাহর পক্ষ থেকে এ দেশের তাওহিদী জনতার প্রতি বিশেষ পুরস্কার।

তারাবির রাকায়াত : বিতর্ক ছাড়ুন

তারাবির সালাত ২০ রাকায়াতÑএটাই সঠিক কথা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম ২০ রাকাআত পড়েছেন। এর পক্ষে অসংখ্য দলিল রয়েছে। ভারত উপমহাদেশে জালেম ইংরেজদের অশুভ অনুপ্রবেশের আগে এ বিষয়ে কিছু বলার বা লেখার প্রয়োজন হতো না। গোটা ইসলামি দুনিয়ায় সাহাবায়ে কেরামের স্বর্ণযুগ থেকেই প্রতিটি মসজিদে ২০ রাকআত তারাবি চলে আসছে।

ইংরেজদের প্রত্যক্ষ মদতে মুসলমানদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে আলেম নামধারী এক শ্রেণির অপরিপক্ব চিন্তার লোক আট রাকআত তারাবির প্রোপাগান্ডা চালায়। যদিও দক্ষ ও প্রাজ্ঞ আলেমদের শক্ত প্রতিরোধে আট রাকআত তারাবির প্রোপাগান্ডা এখন অনেকটা ম্লানই বলা যায়। এসব প্রোপাগান্ডায় প্রভাবিত না হয়ে ২০ রাকআত তারাবিতে কোরআন শোনায় মনোযোগ দিন। হৃদয়কে আলোকিত করুন।

তাড়াহুড়ো নয়, তারতিলের সঙ্গে পড়ুন

কিছু অতিউৎসাহী মানুষ যারা কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে না, তারা তারাবির সালাতে দ্রুতগতিতে কোরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে হাফেজদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ। এই হীন স্বভাব পরিহার করতে হবে। তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে কোরআনের নির্দেশনা হচ্ছে, তারতিল অর্থাৎ ধীরে-সুস্থে পড়া। তাড়াহুড়োর ক্ষেত্রে অনেক সময় অর্থের বিকৃতি ঘটে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ের ধৃষ্টতা বৈ কিছু নয়। তাই তারতিলের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার বিকল্প নেই।

কোরআনের শিক্ষা গ্রহণে চেষ্টা করুন

কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতে সওয়াবের জন্য এর অর্থ বোঝা জরুরি নয়। না বুঝে পড়লে বা শুনলেও প্রতি হরফে নেকি রয়েছে। সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু কোরআন থেকে পরিপূর্ণ উপকৃত হতে কোরআনের হিদায়াত বা নির্দেশনা জানার বিকল্প নেই। কোরআন নাজিলের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কোরআনের আয়াতের শিক্ষা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা। ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে রাসুল) এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি; যাতে মানুষ এর আয়াতের মধ্যে চিন্তা করে এবং বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা যাতে উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা ছোয়াদ-২৯)

নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থের আলোকে তারাবিতে পঠিত অংশটুকুর তাফসির দেখে নেওয়ার মাধ্যমে তাদাব্বুর বা শিক্ষা গ্রহণের কাজটি করে নিতে পারেন। এছাড়াও মুয়াসসাসা ইলমিয়া বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত মাওলানা রাশেদুর রহমানের লেখা ‘এক ঝলকে কোরআন কারিম’ বা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত শায়েখ আহমাদুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহর লেখা ‘তারাবির সালাতে কোরআনের বার্তা’ বই দুটি পড়তে পারেন।

অনর্থক কথা-কাজ পরিহারপূর্বক যথার্থ পন্থায় সিয়াম সাধনা, সালাতুত তারাবিহ এবং কোরআন মাজিদের প্রতি আত্মনিয়োগের মাধ্যমে আসুন আমাদের রমজানকে অর্থবহ করে তুলি। হৃদয়ে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ুক কোরআনের বসন্ত। তাকওয়ার সৌরভে সুরভিত হোক প্রতিটি মানব জীবন।

সামরিক চাপেও নতি স্বীকার নয়, ইরান ইস্যুতে কৌতূহলী ট্রাম্প

সামরিক চাপেও নতি স্বীকার নয়, ইরান ইস্যুতে কৌতূহলী ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত।


মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং জানতে চাইছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরও কেন তেহরান ‘আত্মসমর্পণ’ করেনি। শনিবার ফক্স নিউজে ট্রাম্পের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উইটকফ জানান, ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন অস্ত্র মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে ইরানকে ‘কঠোর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে।

সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, ট্রাম্প ‘হতাশ’ নন, তবে কৌতূহলী যে এত চাপের মুখেও ইরান কেন আলোচনায় নরম অবস্থান নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমি ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না, কিন্তু কেন তারা আমাদের কাছে এসে বলছে না যে তারা অস্ত্র চায় না এবং কী করতে প্রস্তুত তা জানাচ্ছে?’ তার মতে, তেহরানকে সেই অবস্থানে আনা সহজ হচ্ছে না।

এছাড়া উইটকফ নিশ্চিত করেন যে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনি ইরানের সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে পাহলভি ইরানে ফেরেননি। তবে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মালয়েশিয়া

 

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মালয়েশিয়া
ছবি: সংগৃহীত


মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ অঙ্গরাজ্যের উপকূলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সাবাহ অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবলু থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও কম উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার।

এদিকে মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৮ রেকর্ড করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাবাহর পশ্চিম উপকূল ছাড়াও সারাওয়াক রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে।

বগুড়ায় আলুর বাম্পার ফলন, ছাড়াতে পারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

বগুড়ায় আলুর বাম্পার ফলন, ছাড়াতে পারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশেই বগুড়ার আলুর বেশ কদর। এ অঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলনে প্রতিবছরই বাড়ছে চাষের জমি। ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকও খুশি। আগাম জাতের আলু চাষ করে সেই জমিতে আবার অন্য ফসলও চাষ করা হচ্ছে। এতে বেশি লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। পেঁয়াজ নিয়ে দেশে হুলুস্থুল হলেও আলুর দাম নিয়ে কোনো কথা নেই। প্রায় একই দামে সারা বছর বিক্রি হয়ে আসছে। চলতি বছর জেলায় আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সোয়া ১২ লাখ টন। তবে উচ্চ ফলনশীল জাত ব্যবহারের কারণে শেষ পর্যন্ত ফলন সাড়ে ১২ লাখ টনে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষি অফিস থেকে উচ্চ ফলনশীল আলু আবাদ এবং জৈবসার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে এবার জেলায় আলুর উৎপাদন বাড়বে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের কিছু আলু তোলা হয়েছে। এই আলু খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। ডিসেম্বরের শেষদিক থেকে জেলায় আলু তোলা শুরু হয়। এখনো জমিতে আলু রয়েছে। বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, ধুনট ও শেরপুর উপজেলায় আলুর ক্ষেত এখনো সতেজ। 

বগুড়ার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রকারভেদে ৬০০-৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে আলু। খুচরা বাজারে একটু বেশি। প্রতি কেজি পাকরী আলু ২৫ টাকা, রোমানা ও কার্ডনাল ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান শহরের ফতেহ আলী বাজারের দোকানদার মামুন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ২০১১-১২ মৌসুমে আলু চাষের পর ফলন পাওয়া যায় ১১ লাখ সাত হাজার ২২৫ টন। ২০১২-১৩ মৌসুমে ফলন হয় ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টন। এরপর থেকে দিন যতই গড়িয়েছে, আলুর ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর আলুর ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ হাজার টন। এখন পর্যন্ত জেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১২ লাখ টনে দাঁড়াবে।

সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকার আলুচাষি রফিক ইসলাম জানান, আলু গাছ বেশ সতেজ রয়েছে। এবার কোল্ড ইনজুরি ও লেট ব্রাইট রোগ হয়নি। জমির বেড বাঁধাই করার পর থেকে জমিতে আলু গাছগুলো লম্বা হয়েছে। ছোট ছোট ডালপালা ছড়িয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর ভালো ফলন পেয়েছি। এ বছরও ভালো ফলন পাব। ইতোমধ্যেই বাজারে আলু বিক্রি শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার আশোকোলা গ্রামের শুকু হোসেন জানান, প্রতিবছর এক বিঘায় আলু আবাদ করেন তিনি। এ বছরও চাষ করা হয়েছে। ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। এছাড়া আমন ধান কাটতে দেরি হয়েছে। সে কারণে আলু আবাদে অনেক চাষি পিছিয়ে পড়েছেন। ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন। কৃষকরা আমন ধান কেটে জমি তৈরি করে আবার আলু চাষে ঝুঁকেছেন। যারা আগে আলু চাষ করেছেন, তারা কিছু কিছু আলু তুলেছেন। এখন পুরো আলুর মৌসুম। জমি থেকে আলু তুলে চাষিরা হাট-বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, বাজারে বিক্রি বা খাওয়ার জন্য ৬০-৮০ দিনের মধ্যে আলু তুলতে হয়। আর কোল্ডস্টোরেজে রাখতে আলু ৯০-৯৫ দিনের হতে হয়। জেলার ৩৩টির মতো কোল্ডস্টোরেজে দুই লাখ টনের কিছু বেশি আলু রাখা যায়।

Friday, 20 February 2026

রোজা বিষয়ে যা না জানলে নয়

 

রোজা বিষয়ে যা না জানলে নয়

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে আবার আমাদের মধ্যে ফিরে এলো পবিত্র রমজান। মুমিনের দ্বারে দ্বারে বেজে উঠেছে তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির আগমনী গান। এই মাস শুধু উপবাসের নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির তরে নিজেকে উৎসর্গ করার এক অনন্য প্রশিক্ষণ। রমজানের এই বরকতময় মুহূর্তগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে রোজার সঠিক নিয়মকানুন ও মাসায়েল জানা অত্যন্ত জরুরি।

যাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ

রমজানের চাঁদ উদিত হওয়ার পর প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান পুরুষ এবং নারীর ওপর পূর্ণ মাস রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেনÑ‘অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)

রোজার নিয়ত

রোজার নিয়ত করা ফরজ। নামাজ-রোজা ও অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই হলো নিয়ত। মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয়। তবে অন্তরের নিয়তের সঙ্গে সঙ্গে মুখে উচ্চারণ করে বললেও অসুবিধা নেই।

সাহরি ও ইফতার

সাহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়; এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা সাহরি খাও। কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে। (মুসলিম : ১০৯৫)

সূর্যাস্তের পর দেরি না করে ইফতার করা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যতদিন মানুষ দেরি না করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে। (বুখারি : ১৯৫৭)

যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়

১. স্ত্রী সহবাস করা।

২. খাবার গ্রহণ করা।

৩. পানীয় গ্রহণ করা।

৪. ভুলে খাওয়া বা পান করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা।

৫. বিড়ি-সিগারেট বা হুঁকা সেবন করা।

৬. কাঁচা চাল, আটার খামির বা একত্রে অনেক লবণ খাওয়া।

৭. এমন কোনো বস্তু খাওয়া, যা সাধারণত খাওয়া হয় না। যেমন—কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি।

৮. পাথর, কাদামাটি, কঙ্কর, তুলা-সুতা, তৃণলতা, খড়কুটো ও কাগজ গিলে ফেলা।

৯. নিজের থুতু হাতে নিয়ে গিলে ফেলা।

১০. ভুলে স্ত্রী সম্ভোগের পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা।

১১. বৃষ্টি বা বরফের টুকরো খাদ্যনালির ভেতরে চলে যাওয়া।

১২. দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে যদি তা থুতুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালিতে চলে যায়।

১৩. মুখে পান দিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক করা।

১৪. কাউকে জোরজবরদস্তি করে পানাহার করানো।

১৫. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা বা বমি আসার পর তা গিলে ফেলা।

১৬. মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের পর ঋতুস্রাব হলে।

(ফাতওয়া শামি, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ৩৭৫; ফাতওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৯৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১২৭)

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

০১. অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলাবালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।

২. অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।

৩. অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।

৪. বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।

৫. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।

৬. ইনজেকশন নেওয়া।

৭. ভুলক্রমে পানাহার করা।

৮. সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেওয়া।

৯. নিজ মুখের থুতু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।

১০. শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।

১১. ঠান্ডার জন্য গোসল করা।

১২. মিসওয়াক করা। যদিও মিসওয়াক করার দরুন দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হলো গলার ভেতর না পৌঁছানো।

১৩. ঘুমের মাঝে স্বপ্নদোষ হলে।

১৪. স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে কোনো কসরত ছাড়া বীর্যপাত হলে।

১৫. স্ত্রীকে চুম্বন করলে, যদি বীর্যপাত না হয় (রোজা না ভাঙলেও এটা রোজার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী)।

১৬. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত খেয়ে ফেললে (যদি পরিমাণে কম হয়), পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক ৪/৩১৩, দুররে মুখতার ৩/৩৭৩, ফাতহুল কাদির ২/৩৪৭, হিন্দিয়া ১/২০৩)

আল্লাহতায়ালা সবাইকে সঠিকভাবে রমজানের রোজা রাখার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের ইবাদতগুলো কবুল করে নিন। আমিন।

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

ছবি: সংগৃহীত মহিমান্বিত রমজান মাস ও পবিত্র আল- কোরআন একটি অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেন এক বৃন্তে দুটি দৃষ্টিনন্দন ফুল। ভাবতেই হৃদয়ে শি...