Saturday, 7 February 2026

সময় এখন রমজান প্রস্তুতির

 

সময় এখন রমজান প্রস্তুতির


যারা রমজানকে ভালোবাসেন, রমজান নিয়ে অনেক কিছু করতে চান, আলহামদুলিল্লাহ তারা রমজানের সুবাস পেতে শুরু করেছেন। যেমন একজন আম ব্যবসায়ী আমের সিজনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম বাগানের আমের মুকুল এলে সাভারে বসে এটার গন্ধ পায়। আমগাছের এক মুকুল থেকে আরেক মুকুলে মৌমাছি ঘুরে বেড়ায়, সেও তখন এখানে বসে একটু নাচানাচি করে, গুন গুন করে। একইভাবে সত্যিকার রমজান-প্রেমিকদেরও এখন একটু নড়েচড়ে ওঠার কথা। মা-বাবা-স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ খুব কাছের যারা, তারা এটা টের পাওয়ার কথা।

সময় নির্বাচনের! নির্বাচনের সময় শুরু হয়েছে সেই কবে থেকে? কত আয়োজন, কত উদ্যোগ! কবে তা শেষ হবে? এ নির্বাচনের প্রভাব-ফল-ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কী, ১৩-১৪-২৮ ফেব্রুয়ারিতেই থেমে যাবে? নিশ্চয়ই না। যারা নির্বাচন নিয়ে বছর দেড়েক ধরে দিন-রাত পড়ে আছেন, তারা কি নির্বাচনের রেশ কাটিয়ে এত তাড়াতাড়ি রমজান প্রস্তুতির ভেতরে ঢুকে পড়তে পারবেন? নির্বাচনে বিজয়ী-বিজিত উভয়পক্ষই হুট করেই রমজানের বিষয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পারবে?

১৮/১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান। তাহলে রমজান প্রস্তুতি শুরু হবে কবে? একটু ভাবুন, নির্বাচন বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে রমজান নিয়ে প্রস্তুতির কথা ভাবার সুযোগই দেয়নি। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারল না, সে চরম হতভাগা!!’ নির্বাচন থেকে যারা কিছুই পাবে না, তারা হয়তো এ নিয়ে আফসোস করতেও পারে। কিন্তু বিজয়ীরা কখনো রমজান হারানোর বেদনায় আফসোস করার সুযোগ পাবে না। নির্বাচনের ফল তাদের আরো অন্যরকম বিষয়ে ডুবিয়ে ফেলবে।

শুধু নির্বাচন নয়, এভাবেই প্রতিদিন-সপ্তাহ-মাস-বছর করে নানা বিষয়ে নানাভাবে আমরা নানা বিষয়ের মধ্যে ডুবে যাই। সময়ের ব্যবধানে আবার আরেক সময় আরেক বিষয়ে মেতে উঠি। রমজান নিয়ে প্রস্তুতি যার যে অবস্থায় থাকুক না কেন, রমজানের শেষদিকে ঈদ নিয়ে সবাই মাতামাতিতে লিপ্ত হবেই, তা যেকোনোভাবেই হোক না কেন।

সুরা বাকারার ২৩ রুকুতে রমজান সাফল্যে কোরআনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। সে সূত্রে রমজান সাফল্যে প্রস্তুতির কিছু বিষয়-

১. রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত বিষয়ে স্বচ্ছ-সুস্পষ্ট-বিস্তারিত ধারণা অর্জন। বিশুদ্ধ বিষয় সঠিক উৎস থেকে জানা, এগুলো বারবার পড়া এবং বেশি বেশি চিন্তা করার কোনো বিকল্প নেই। একটি বিষয় ভালোভাবে উপলব্ধি করলে যে কেউই রমজান নিয়ে আনন্দের সাগরে দুলতে থাকবেন। সে দোলা তাকে চারপাশের অনেককেই আন্দোলিত করতে বাধ্য করবে।

২. রমজান সাফল্যের প্রস্তুতি বিষয়ে দ্বিতীয় বিষয় হলো-দোয়া। দোয়ার মাস-রমজানে যদি ঠিকমতো দোয়া করতে চাই, তাহলে দোয়াগুলো আগে শিখতে হবে। রমজানে শিখতে চাইলে পড়বেন কখনÑপাবেন কীভাবে? নিজে পারলে না অন্যকে খুব সহজেই দিতে পারবেন। নিজে না পারলে অন্যকে পারানোর চিন্তা করতে পারবেন না।

৩. রমজানের নামাজ-উপভোগ করতে হবে। সারাটা বছর নামাজ উপভোগ না করে, নামাজ উপভোগের কলাকৌশল আয়ত্ত না করে, রমজানে হঠাৎ করে নামাজ উপভোগ করার চিন্তা খুবই একটা বেমানান বলে মনে করি। যেকোনোভাবে নামাজ উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজের কাজে লাগছে এমন একটি বিষয়ও আয়ত্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের আপনজনদের তা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

৪. রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোজা। মুহাম্মদ (সা.) রমজানের রোজার হক আদায় করার জন্য শাবানে প্রচুর রোজা রাখতেন। আর আমরা সারাটা বছর রোজার কোনো খবর না রেখে হঠাৎ করে রমজানের রোজার হক আদায় করার কথা চিন্তা করি কীভাবে? রোজার আসল উদ্দেশ্য, প্রায়োগিক অর্থ সম্পর্কে খুব ভালোভাবে বিস্তারিত জানার বিকল্প নেই। রোজার আসল আনন্দ কীসে? বুঝতে পারলে রমজান সাফল্যে আর কোনো বাধা থাকবে না। বাকি সবই অতি সহজেই আয়ত্তে চলে আসবে।

৫. রমজান ও কোরআন। কোরআন সম্পর্কে রমজানের যে দাবি, সে ব্যাপারে কোনো পূর্বপরিকল্পনা গোছগাছ ছাড়া রমজানে হুট করে সব ঠিকঠাকমতো করার দৃষ্টিভঙ্গিটা অবশ্যই চরম বিভ্রান্তি। রোজা ঠিক না হলে কোরআন ঠিকমতো ধরতে পারবেন না। খতম দেবেন-পড়বেন কিন্তু কাজ হবে না।

কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি পরিকল্পনা ছাড়া মাত্র এক মাসের মধ্যে এসবের সবকিছু সম্পাদন কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। সুতরাং আসুন কালবিলম্ব না করে শাবানের সামনের কয়েকটি দিনে রমজান সফল করার যাবতীয় বিষয় সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিই।

পরিবার-আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী-বন্ধুবান্ধব-মুসল্লি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেশাজীবী গ্রুপ ইত্যাদিতে নানাভাবে রমজানের গুরুত্ব-দোয়া-নামাজ-রোজা-কোরআন-সমাজ সেবা-জাকাত ব্যবস্থাপনা-ইতিকাফ ইত্যাদি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করি।

এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে কিছুটা অগ্রসর হয়েছি যারা, তাদের অনেক বেশি দায়িত্ব-যারা কিছুই করেনি, তাদের পাশে দাঁড়ানো। স্রেফ ব্যক্তিগত উন্নয়নে সন্তুষ্টদের শেষ পর্যন্ত পস্তাতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। খুব ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে-রমজান শুধু মুমিনদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য। সুতরাং সাধু সাবধান।

বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ২০২৬-এর হজযাত্রীদের রমজান সাফল্যের প্রতি। মনে রাখতে হবে, রমজান সফল না করে কেউ হজ সফল করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে পুরাতন হজ-ওমরাহকারীরা খুবই সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন।

রমজান সাফল্যে অভাবনীয় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে মসজিদের ইমামকে। ইমামই হবেন রমজান সাফল্যের সুস্পষ্ট উদাহরণ। এ ব্যাপারে ইমামদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক। ইমামরা রমজান সাফল্যের কলাকৌশল আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হলে অন্য আর কোনো উপায়ে তা সফল করা সম্ভব নয়।

পরিশেষে আমাদের সবাইকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে-মানুষের প্রকাশ্য শত্রু শয়তানই রমজান সাফল্যের প্রস্তুতির পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা। তার কারণেই আমরা রমজান প্রস্তুতিকে মোটেও গুরুত্ব দিতে পারি না। একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন, দেখুন আমাদের অতিশয় সুমহান প্রতিপালক আল্লাহ এ বিষয়ে কী করেছেন। তিনি রমজানের এক মাসে শয়তানকে জিনজিরাবদ্ধ করে বন্দি করার ব্যবস্থা করেছেন। সুবহানাল্লাহ। তা সত্ত্বেও যদি আমরা শয়তানের সঙ্গে না পারি, তাহলে শয়তানকে দোষারোপ করে কোনোই লাভ হবে না। বরং প্রমাণ হবে আসল কারণ-আমিই শয়তান। রমজানে শয়তান বন্দি থাকতেও যারা শয়তানি ছাড়তে পারব না, তাদেরই যারা রমজান শেষে হজে যাবেন, তারা মিনায় শয়তানের সঙ্গে পারবেন কীভাবে?

মনকে যেভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত করবেন

 

মনকে যেভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত করবেন


রমজান শুধু অনাহারে থাকার মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও হৃদয় জাগরণের সময়। শরীরকে রোজার জন্য প্রস্তুত করার কথা ভাবি আমরা অনেকেই, কিন্তু হৃদয় ও মনকে প্রস্তুত করার বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। অথচ রমজানের আসল শিক্ষা ও পরিবর্তন শুরু হয় মন থেকেই। পবিত্র এই মাসের জন্য আমাদের হৃদয়কে কীভাবে প্রস্তুত করা যায়?

রমজানের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো নিয়ত করা। যেমন করে প্রিয় কোনো অতিথির আগমনে আমরা আনন্দিত হই, ঠিক তেমনি রমজানকে স্বাগত জানানোর মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে, এই মাসে যেন তিনি আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করেন, ভেতরের অপ্রয়োজনীয় আসক্তি ও পাপের বোঝা হালকা করে দেন।

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, রমজান শব্দের অর্থ এমন এক উত্তাপ, যা পাপকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তাই আগে থেকেই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই মাসকে কীভাবে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়। শুধু রোজা রাখাই নয়, বরং নিজের চরিত্র, চিন্তা ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সংকল্প করতে হবে।

হৃদয়ে আল্লাহর জন্য জায়গা তৈরি করতে হলে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমাতে হবে। সব সময় ফোন, বই বা নানা কোলাহলে নিজেকে ভরিয়ে রাখলে আত্মসংযোগ তৈরি হয় না। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় একান্তে কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোনো বিভ্রান্তি ছাড়া চুপচাপ বসে দোয়া করা, নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দেওয়া এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্তরের সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করাই হতে পারে উত্তম প্রস্তুতি।

দিনে মাত্র ১০ মিনিট নীরবতায় বসে থাকার অভ্যাস হৃদয় ও মনকে অনেক বেশি শান্ত ও মনোযোগী করে তুলতে পারে। এতে রমজানে ইবাদতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং নিয়ত থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

রমজানের পরের জীবন নিয়েও এখনই ভাবা জরুরি। অনেকেই রমজান শেষে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যান। এই পরিস্থিতি এড়াতে হলে রমজানেই একটি বাস্তব পরিকল্পনা করতে হবে যে, কীভাবে কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ ও অন্যান্য ভালো অভ্যাসগুলো বছরজুড়ে ধরে রাখা যায়।

যারা বেশি কোরআন পড়তে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি করা প্রয়োজন। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ে যত্নশীল হওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।

চেষ্টা করতে হবে রমজান যেন আমাদের জীবনে প্রিয় অতিথির মতো আসে, হৃদয় ও আত্মাকে জাগিয়ে তোলে।

মালয়েশিয়ায় ক্রেনের নিচে পড়ে বাংলাদেশির মৃত্যু

মালয়েশিয়ায় ক্রেনের নিচে পড়ে বাংলাদেশির মৃত্যু


মালয়েশিয়ার জালান পেরাকে ‘স্পাইডার লিফট’ ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজেই ক্রেনটির চালক ছিলেন। কুয়ালামপুর ট্রাফিক ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান এসিপি মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ইসা একথা বলেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি সেখানে রাস্তার পাশের একটি বিলবোর্ডে কাজ করছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ক্রেনটি ফুটপাতের সঙ্গে আটকে যায়। এটি রিমোট কন্টোলের মাধ্যমে চালানো হচ্ছিল। ফুটপাতে আটকে গিয়ে ক্রেনটি উল্টে যায়। সেটির নিচেই চাপা পড়েন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক।

এছাড়া ক্রেনটির ভারে দুটি গাড়িও চূর্ণ হয়। তবে গাড়ির ভেতর থাকা যাত্রীদের কেউ আহত হননি।

দুর্ঘটনার পর ওই ক্রেনটির মালিক প্রতিষ্ঠানকে খুঁজছে পুলিশ। কুয়ালামপুরে এটি চালানোর অনুমতি ছিল কি না সেটি তদন্ত করছেন তারা।

বিয়ে শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনের মৃত্যু

 

বিয়ে শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনের মৃত্যু
ছবি: প্রতীকী।


নতুন জীবনের আনন্দঘন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা রূপ নেয় গভীর শোকে। মিসরের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনিয়া গভর্নরেটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক নবদম্পতি ও আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার মিনিয়ার উত্তরে বেনি মাজর জেলায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নতুন বাড়ির পথে যাওয়ার সময় নববধূ, বর, নববধূর বোন ও আরো একজনকে নিয়ে চলা একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

মিসরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই গুরুতর আঘাতে নববধূ ও তার বোনের মৃত্যু হয়। বর ও গাড়িচালককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর বরও তার আঘাতে মারা যান। নিজের বিয়ের রাতেই প্রাণ হারান তিনি।

এই দুর্ঘটনায় পুরো মিসরজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নববধূর বাবা অশ্রুসিক্ত অবস্থায় মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বলছেন, আমি তো তোমার জন্য খুশি হওয়ার সুযোগই পেলাম না, আমার মেয়ে, আমার আদরের সন্তান।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে প্রসিকিউশন বিভাগ।

শান্তি ও যুদ্ধ দুটির জন্যই প্রস্তুত ইরান: আরাগচি

 

শান্তি ও যুদ্ধ দুটির জন্যই প্রস্তুত ইরান: আরাগচি
ছবি: সংগৃহীত।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষ আলোচনার দ্বিতীয় দফা কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি, তবে ইরান শান্তি এবং যুদ্ধ উভয়ের জন্যই প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকেদেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দুই পক্ষই দ্বিতীয় দফার আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। তবে আলোচনার সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবু তেহরান ও ওয়াশিংটন মনে করছে, এই আলোচনা দ্রুত হওয়া জরুরি।

আরাগচির মতে, ‘দ্রুত’ শব্দটি এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠী অথবা ওয়াশিংটনে ইসরাইল লবির প্রভাব এই প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

আল জাজিরা আরবির সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে। তবে ইরান শান্তি ও যুদ্ধ উভয়ের জন্যই প্রস্তুত।

আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য আশ্বস্তকারী এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে ইরান ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করবে, আঞ্চলিক দেশগুলোকে নয়। তিনি বলেন, এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

এছাড়া তিনি দুই দেশের মধ্যকার আস্থার সংকটের বিষয়টিও আবারো তুলে ধরেন। আরাগচি বলেন, গত বছরের যুদ্ধের কারণে আস্থা গড়ে তুলতে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল ডব্লিউএইচও

 

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল ডব্লিউএইচও


নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নওগাঁ জেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে শুক্রবার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। রাজশাহী বিভাগে এই নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, ওই মৃত রোগী নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারী। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তার শরীরে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়। ২৮ জানুয়ারি তার গলা থেকে শ্লেষ্মা এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ২৯ জানুয়ারি পরীক্ষার ফলাফলে তার শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত এর কিছুদিন পরেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ (আইএইচআর এনএফপি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে অবহিত করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই নারীর সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ‘টেরোপাস’ প্রজাতির ফলাহারি বাদুড়। শীতকালে বাদুড় যখন খেজুরের রস সংগ্রহের হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাদের লালা বা মলমূত্রের মাধ্যমে হাঁড়ির রসে ভাইরাস মিশে যায়। সেই কাঁচা রস মানুষ পান করলে সরাসরি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৪৮ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, তাঁদের প্রায় অর্ধেকই সংক্রমিত হয়েছেন কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে। অন্যদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে আসার ফলে ভাইরাস ছড়িয়েছে।

Friday, 6 February 2026

আমাদের শবেবরাত : ইতিহাস ও সংস্কৃতি

 

আমাদের শবেবরাত : ইতিহাস ও সংস্কৃতি


শাবান মাসের চতুর্দশ দিবসে পালিত মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হলো শবেবরাত। ইসলামের ইতিহাসে নববি যুগ থেকেই এ রাতের তাৎপর্য আলোচিত হয়ে আসছে। এ রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত লাভের সুসংবাদও এ রাতকে ঘিরে বর্ণিত হয়েছে। দুই ঈদের পর এটি বাংলার মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত।

উপমহাদেশে শবেবরাত

নবীজি (সা.)-এর সময়কাল এবং তার পরবর্তী সময়ে আরব থেকে ইসলাম প্রচারে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে যারা সফর করেছেন, তাদের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে শবেবরাত পালনের আনুষ্ঠানিকতা ছড়িয়ে পড়ে। তখন এই আনুষ্ঠানিকতাকে উৎসব হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ফলে ধীরে ধীরে এই দিনে ভালো খাবার তৈরি ও খাবার বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার প্রথা তৈরি হয়।

বাংলা পাক-ভারত উপমহাদেশে শবেবরাত পালনের প্রচলন কবে থেকে শুরু হলো সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে ধারণা করা যায়, ইসলামের সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলে শবেবরাতেরও আগমন ঘটেছিল। উপমহাদেশের মুসলমানরা আনন্দ উৎসবের সঙ্গে এই দিনটি অতিবাহিত করে। এই উপলক্ষে তারা বহু আচার-অনুষ্ঠান ও আমোদ-স্ফূর্তির ব্যবস্থা করে এবং অসাধারণ আড়ম্বরের সঙ্গে তা উদযাপন করে। আলোকসজ্জা ও আতশবাজি পোড়ানো এই উৎসবের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য অঙ্গ ছিল।

১৩ শতকে দিল্লির সুলতানদের শবেবরাত পালনের বিভিন্ন বিবরণ ইতিহাসের গ্রন্থাদিতে পাওয়া যায়। শামস সিরাজ আফিফের বর্ণনা থেকে জানা যায়, ‘সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক (শবেবরাত উপলক্ষে) চার দিনব্যাপী উৎসব উদযাপন করতেন এবং এত বেশি আতশবাজি পোড়াতেন যে, রাতের বেলায়ও দিনের মতো আলোকিত হয়ে যেত।

ইরানের ইয়াজদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের অধ্যাপক মোহসেন সাইদি মাদানি তার ‘ইমপ্যাক্ট অব হিন্দু কালচার অন মুসলিমস’ বইতে উল্লেখ করেছেন, ‘দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ভারতীয় উপমহাদেশে শবেবরাতে হালুয়া-রুটি তৈরি ও বিতরণের প্রমাণ পাওয়া যায়।’

সমসাময়িক বিভিন্ন উৎস থেকে জানা যায়, ‘শের শাহর একজন বিখ্যাত সেনাপতি ও তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আদিল খানের সমর্থক খাস খান ফতেহপুর সিকরীর শেখ সলিম চিশতির সঙ্গে শবেবারাতে সারারাত ইবাদত-বন্দেগি করতেন।

মোগল সম্রাট জাহাঙ্গিরও এই দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করতেন। মির্জা নাথানের ‘বাহারিস্তানে গায়েবি’তে শবেবরাত উদযাপনের বিবরণ পাওয়া যায়।

পুরোনো দিনে পুরান ঢাকায় শবেবরাত

আদি ঢাকার অধিবাসীরা দুই ঈদের চাঁদরাতের মতো শবেবরাতও বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতেন। এ রাতে আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুলের প্রত্যাশায় মুসলমানরা গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকতেন। পুরান ঢাকায় শবেবরাত উপলক্ষে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও রাত জেগে ইবাদতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যেত।

ফলে রাতব্যাপী তসবিহ পাঠ, নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত ও খতম, দরুদ শরিফ পাঠ প্রভৃতিতে প্রায় প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা মশগুল থাকতেন। সন্ধ্যার পর শিশুদের তারাবাতি নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠাও ছিল এ রাতের একটি উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ। অনেক পরিবার ঘরবাড়িতে মোমবাতি ও আগরবাতি প্রজ্বালন করতেন। বর্তমান সময়েও শবেবরাত উপলক্ষে পাড়া-মহল্লায় তারাবাতি, মোমবাতি ও আগরবাতির বিক্রিতে লক্ষণীয় বৃদ্ধি দেখা যায়।

শবেবরাতে মসজিদগুলোয় সারারাত ইবাদত-বন্দেগি শেষে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যেতেন। মধ্যরাতেও মানুষের চলাচলে পুরান ঢাকার রাস্তাঘাট দিনের মতো মুখর থাকত। এর ফলে গভীর রাত পর্যন্ত খাবারের দোকানপাট খোলা থাকতে দেখা যেত। এখনো এ উপলক্ষে বৃহদাকারের বিশেষ রুটি বিক্রির প্রচলন রয়েছে। পাশাপাশি পরদিন রোজা পালনকারী মুসলমানদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইফতারসামগ্রীও পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হতে দেখা যায়। শবেবরাত উপলক্ষে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অস্থায়ীভাবে শামিয়ানা টাঙিয়ে নানা পদের ও বিভিন্ন আকৃতির রুটি বিক্রির দৃশ্য একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ দিনেই বৃহৎ আকারের বিশেষ রুটি প্রস্তুত ও বিক্রির প্রচলন সর্বাধিক লক্ষ করা যায়।

শবেবরাতে উপলক্ষে বছরের একমাত্র এই দিনে পুরান ঢাকায় নানা ধরনের বিশেষ রুটি এবং হালুয়া প্রস্তুত ও বিক্রি করা হতো। এ সময় বাজারে বিভিন্ন সাইজের গোল রুটি, ছোট আয়নায় সাজানো রুটি, রঙিন পুঁতিমালা দ্বারা সজ্জিত রুটি, কুমির, মাছসহ বিভিন্ন আকৃতির রুটি বিক্রি হতো। এছাড়া প্রচলিত বানরুটি প্রস্তুত থাকত। প্রতিটি পরিবারের ঘরে নানা পদের হালুয়া তৈরি হতো, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল বুটের ডাল ও সুজির হালুয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দোকানগুলোয় আরো বিভিন্ন ধরনের হালুয়ার দেখা পাওয়া যায়।

শবেবরাত উপলক্ষে অধিকাংশ বাড়িতে পোলাও-বিরিয়ানি রান্নার আয়োজন থাকত। সারারাত ইবাদতে নিমগ্ন থাকার জন্য মসজিদগুলোতেও বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা দেখা যেত। ফজরের নামাজের পর মসজিদগুলোয় তবারক হিসেবে তেহারি বিতরণ করা হতো, যা বর্তমান সময়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ সময় হালুয়া-রুটি তৈরির উপকরণ ও মাংসের দোকানগুলোয় অনেক বেশি ব্যস্ততা লক্ষ করা যেত। এখনো আবুল হাসনাত রোড, রায়সাহেব বাজার, নারিন্দা, লালবাগ, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, কসাইটুলি, আরমানিটোলা, গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর, নাজিরাবাজার ইত্যাদি স্থানে বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী বিশাল শিরমাল রুটি বিক্রি করতে দেখা যায়।

শবেবরাতে শিশুরা পাঞ্জাবি ও টুপি পরে বড়দের সঙ্গে মসজিদে যেত। এছাড়া ঘরে তৈরি চালের রুটি, বানরুটি ও হালুয়ার সাজানো ডালা নিয়ে ঘরে ঘরে বিতরণ করত। বর্ণিল পুরান ঢাকার শবেবরাত শুধু একটি ধর্মীয় রাতই ছিল না; এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও একতার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হতো।

শবেবরাতের রাতে কিশোর-কিশোরীরা আনন্দ প্রকাশের জন্য পটকা ও আতশবাজি ব্যবহার করত, যা উৎসবমুখর পরিবেশকে আরো উজ্জ্বল করে তুলত। পুরান ঢাকার শবেবরাতের সব আয়োজন মূলত চকবাজারকে কেন্দ্র করে হতো। চকবাজারের বড় মসজিদের আশপাশে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসতেন। দিন দিন এ প্রচলন এতটাই বৃদ্ধি পাতে থাকে যে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে রুটি বিক্রির দৃশ্য দেখা যেত। বিশেষ করে, সাতরওজা এলাকার আনন্দ বেকারি, চকবাজারের বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কাবাব, রায়সাহেব বাজারের ইউসুফ বেকারি, বংশালের আল-রাজ্জাক কনফেকশনারি এবং ইসলামপুরের কুসুম বেকারিসহ অন্যান্য বেকারির বিশেষ আয়োজন এক নজরে লক্ষণীয় ছিল।

পুরান ঢাকার নবাবরাও এই দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করত। শবেবরাত উপলক্ষে তারা মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করতেন।

যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আইনের কঠোর প্রয়োগ ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে এই প্রচলন কিছুটা কমে এসেছে, তবু উৎসবমুখর পরিবেশে ছোট-বড় সবাই অন্যান্য রাতের তুলনায় অনেক বেশি আনন্দমুখর হয়ে ওঠে।

সময় এখন রমজান প্রস্তুতির

  যারা রমজানকে ভালোবাসেন, রমজান নিয়ে অনেক কিছু করতে চান, আলহামদুলিল্লাহ তারা রমজানের সুবাস পেতে শুরু করেছেন। যেমন একজন আম ব্যবসায়ী আমের সিজন...