Tuesday, 3 February 2026

সাইবার নিরাপত্তায় প্রযুক্তির চেয়ে সচেতনতাই বড় হাতিয়ার

 

সাইবার নিরাপত্তায় প্রযুক্তির চেয়ে সচেতনতাই বড় হাতিয়ার


প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। হ্যাকিং, ফিশিং কিংবা এআইয়ের অপব্যবহারে ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত পড়ছে নতুন নতুন ঝুঁকির মুখে। মূলত সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে পুঁজি করেই অপরাধীরা তাদের জাল বিস্তার করে। এসব সমসাময়িক ঝুঁকি ও প্রতিকার নিয়ে ‘আমার দেশ’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন সাইবার সিকিউরিটি গবেষক এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বিশেষায়িত তদন্ত শাখা সিআইডির সাইবার ক্রাইম অ্যানালিস্ট ও কনসালট্যান্ট মনজুর শরীফ

প্রশ্ন : সাইবার সিকিউরিটি বা বাগ বাউন্টি জগতে আপনার প্রবেশ কীভাবে?

উত্তর : শুরুটা ছিল নিছক কৌতূহল থেকে। হ্যাকিংকেন্দ্রিক সিনেমাগুলো আমার মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করত। সিনেমার নায়ক বা ভিলেনের মতো হ্যাকার হওয়ার ভাবনা থেকেই এই জগৎ সম্পর্কে জানাশোনা শুরু এবং ধীরে ধীরে পেশাদার জগতে প্রবেশ।

প্রশ্ন : সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে বর্তমানে কতটা নিরাপদ?

উত্তর : আমাদের সচেতনতার এখনো অনেক কমতি আছে। ডিজিটাল সেবার বিস্তার দ্রুত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার সচেতনতা কম, ফলে ফিশিং বা অ্যাকাউন্ট হাইজ্যাকের মতো ঘটনায় তারা সহজেই ভুক্তভোগী হচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা থাকলেও দক্ষ জনবল ও ‘প্রো-অ্যাকটিভ’ সিকিউরিটি ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা ও দক্ষতায় আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন।

প্রশ্ন : আমাদের দেশে টেকনিক্যাল হ্যাকিংয়ের চেয়ে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বেশি দেখা যায়। হ্যাকাররা আসলে মানুষের কোন দুর্বলতাটাকে টার্গেট করে?

উত্তর : দেশে সাইবার অপরাধীরা প্রযুক্তিগত দুর্বলতার চেয়ে মানুষের আচরণগত ও মানসিক সীমাবদ্ধতাকে বেশি টার্গেট করে। সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে আক্রমণকারীরা মানুষের ভয়, তাড়াহুড়ো, কর্তৃপক্ষের দোহাই এবং অতিরিক্ত আস্থাকে কাজে লাগায়। মানুষ যখন মানসিকভাবে চাপে থাকে বা লোভে পড়ে, তখনই তারা পিন বা ওটিপি শেয়ার করার মতো ভুল করে বসে।

প্রশ্ন : ডিপফেইক ভিডিও বা এআই ভয়েস ক্লোনিং ব্যবহার করে প্রতারণা বাড়ছে। সাধারণ মানুষ আসল-নকল বুঝবে কীভাবে?

উত্তর : বর্তমান এআই এতটাই উন্নত যে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন। তবে তিনটি বিষয় খেয়াল রাখলে ঝুঁকি কমে—

১. ভিডিও বা অডিওতে আচরণ, কণ্ঠ বা আবেগ অস্বাভাবিক বা যান্ত্রিক মনে হলে সন্দেহ করা।

২. হঠাৎ জরুরি পরিস্থিতি দেখিয়ে অর্থ বা গোপন তথ্য চাইলে সতর্ক হওয়া।

৩. স্পর্শকাতর কনটেন্ট বিশ্বাস করার আগে অন্য মাধ্যমে যাচাই করা।

প্রশ্ন : এআই কি আমাদের সুরক্ষা দিতে পারে?

উত্তর : এআই শুধু আক্রমণকারীদের হাতেই নয়, প্রতিরক্ষামূলক কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। HackerOne-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এখন এআই-ভিত্তিক সিকিউরিটি টেস্টিং ও অটোমেটেড অ্যানালাইসিস ব্যবহার করছে। সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো দ্রুত ও শক্তিশালী করতে সক্ষম।

প্রশ্ন : সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকতে তিনটি সহজ পরামর্শ কী?

উত্তর : সিআইডিতে দেখেছি, সাইবার অপরাধের সিংহভাগই ঘটে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। নিরাপদ থাকার তিনটি পরামর্শ—

১. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা এবং কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।

২. অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক না করা।

৩. একান্তই লিংকে প্রবেশ করতে হলে ব্রাউজারের ‘ইনকগনিটো মোড’ ব্যবহার করা।

প্রশ্ন : তরুণরা যারা এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাদের জন্য পরামর্শ কী?

উত্তর : প্রধান বাধা হলো সঠিক গাইডলাইন ও রিসোর্সের অভাব। আমার পরামর্শ—চটকদার কোর্সের পেছনে না ছুটে নিজে রিসোর্স খুঁজুন। এক্স (টুইটার) বা লিঙ্কডইনে ‘বাগ বাউন্টি’ বা ‘সাইবার সিকিউরিটি’ লিখে সার্চ দিলে প্রচুর আর্টিকেল পাওয়া যায়। নামকরা ইথিক্যাল হ্যাকারদের লেখা ও অ্যানালাইসিস পড়লে এই জার্নিটা সহজ হবে।

প্রশ্ন : উইন্ডোজ, ম্যাক নাকি লিনাক্স—হ্যাকিংয়ের জন্য কোনটি সেরা?

উত্তর : অবশ্যই লিনাক্স (Linux)। এটি ওপেন-সোর্স এবং সিকিউরিটি টেস্টিং টুলের জন্য অপ্টিমাইজড। তবে মনে রাখতে হবে, অপারেটিং সিস্টেম নয়, একজন হ্যাকারকে সংজ্ঞায়িত করে তার স্কিল এবং এথিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড।

প্রশ্ন : স্মার্টফোনে অ্যাপ পারমিশনের ক্ষেত্রে কি সতর্ক থাকা উচিত?

উত্তর : অ্যাপের কাজের ধরন অনুযায়ী পারমিশন যৌক্তিক কি না যাচাই করুন। যেমন, ক্যালকুলেটর বা টর্চ লাইট অ্যাপ যদি গ্যালারি বা কন্টাক্ট পারমিশন চায়, তবে সেটা সন্দেহজনক। এমন দেখলে পারমিশন দেবেন না এবং অ্যাপটি ডিলিট করে দেবেন।

প্রশ্ন : সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ক্ষেত্রে উন্নতি প্রয়োজন?

উত্তর : অগ্রগতি থাকলেও আরো কার্যকর হতে হলে কয়েকটি জায়গায় জোর দিতে হবে—

১. ডিজিটাল ফরেনসিক ও এআই জালিয়াতি শনাক্তকরণে টেকনিক্যাল সক্ষমতা ও ট্রেনিং বাড়ানো।

২. বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং।

৩. দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আধুনিক টুলস ও প্রসিডিউর আপডেট করা।

সর্বোপরি, অপরাধ প্রতিরোধের চেয়ে প্রতিকারের ওপর জোর দিতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রশ্ন : সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি যথেষ্ট?

উত্তর : সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়, যার ফলে অতীতে তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তবে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। নিয়মিত VAPT (Vulnerability Assessment) করানো জরুরি। আশার কথা, ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ এখন আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

প্রশ্ন : সিআইডিতে কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য আপনার শেষ পরামর্শ কী?

উত্তর : অনলাইনে নিরাপদ থাকার প্রথম শর্ত হলো ‘লোভ পরিহার’ করা। আর্থিক অপরাধের অডিটগুলো বলে, অধিকাংশ ভুক্তভোগী মুখরোচক বিজ্ঞাপনে প্ররোচিত হয়ে অধিক লাভের আশায় ভুয়া সাইটে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হন। তাই অনলাইনে চটকদার অফার দেখলে আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তবতার নিরিখে চিন্তা করুন।

রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে সম্মত মোদি: ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে সম্মত মোদি: ট্রাম্প



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবেন।

সোমবার রাতে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করেন।

মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, আলোচনায় বাণিজ্যের পাশাপাশি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবেন। এর ফলে দিল্লির বিরুদ্ধে রুশ তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা তুলে নেওয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত আগামী দিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে থাকবে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা কেবল বাণিজ্যই নয়, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় চুক্তি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত। ভারতে তৈরি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করায় ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে তাকে অনেক ধন্যবাদ।’

মোদি জানান, বিশ্বের দুটি বৃহৎ অর্থনীতি ও বৃহত্তম গণতন্ত্র যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন সাধারণ মানুষই উপকৃত হয়। তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বকে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল এবং ভারতীয় রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। নতুন এই চুক্তিকে সেই উত্তেজনা প্রশমনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত

 

দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত
প্রতীকী ছবি


বাংলাদেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের গভীরতা ছিল ১৫০ কিলোমিটার। গভীরতা বেশি হওয়ায় কম্পনটি তীব্র ছিল না।

ভূমিকম্পে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোরসহ আশপাশের এলাকা মৃদু কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত রোববার ভোরে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভূমিকম্পটি ভোর ৪টা ৩২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহর থেকে পূর্ব দক্ষিণ-পূর্ব দিকে।

Monday, 2 February 2026

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে ১০০ ছাড়াল মৃতের সংখ্যা

 

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে ১০০ ছাড়াল মৃতের সংখ্যা
ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ে ১০০ জন ছাড়িয়েছে নিহতের সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন নিউ ইয়র্ক, কেনটাকি ও টেনেসির মতো রাজ্যগুলোতে। এছাড়া টেনেসিতেও একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর ক্যারোলিনার কান্নাপোলিসে ১৪ ইঞ্চি এবং শার্লট ও গ্রিনভিলের মতো শহরগুলোতে ১১ ইঞ্চির বেশি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শার্লট শহরের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ তুষারপাতের ঘটনা।

এ ছাড়া দক্ষিণ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া এবং ভার্জিনিয়াতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তুষারপাত হয়েছে।

তীব্র শীত ও পিচ্ছিল রাস্তার কারণে উত্তর ক্যারোলিনায় এক হাজারেরও বেশি যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর জোশ স্টেইন জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে প্রতিকূল আবহাওয়ায় দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

ফ্লোরিডায় গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। ভেরো বিচ ও মেলবোর্নে তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ কমে যথাক্রমে ২৭ ও ২৬ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে, যা গত কয়েক দশকের ফেব্রুয়ারির রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

নিউ ইয়র্কসহ পূর্ব উপকূল বরাবর ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩০ মাইল বেগে বাতাস বইছে, যা শীতের তীব্রতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে নতুন সপ্তাহ শুরু হওয়ার সাথে সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে এবং বাতাসের গতি কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

গাজায় দুই বছর পর ‘সীমিত পরিসরে’ খুলল রাফা ক্রসিং

 

গাজায় দুই বছর পর ‘সীমিত পরিসরে’ খুলল রাফা ক্রসিং


অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার সঙ্গে মিসর সংলগ্ন সীমান্ত পথ রাফা ক্রসিং ‘সীমিত পরিসরে’ খুলে দিয়েছে ইসরাইল। রোববার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথে এ খবর জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, ‘সীমিত পরিসরে রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ধারণা অনুসারে, আগামীকাল (সোমবার) থেকে উভয় দিক থেকে লোক চলাচল শুরু হবে। প্রতিদিন এ অঞ্চল দিয়ে ১৫০ ব্যক্তি গাজা ছেড়ে যাবে। অপরদিকে ৫০ জন প্রবেশ করবে।’

খবরে বলা হয়, আগ্রাসনের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিরাই শুধু ফিরে যাওয়ার অনুমতি পাবে। নজরদারির সরঞ্জামের মাধ্যমে ইসরাইল এ সীমান্ত পথের যাবতীয় কার্যক্রম দেখভাল করবে।

এতে আরো বলা হয়, প্রতিদিন গাজায় প্রবেশ করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা মিসর ইসরাইলের কাছে পাঠাবে। ইসরাইল তা পরীক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেবে। অপরদিকে ইসরাইল প্রতিদিন কম সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গাজা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেবে। যারা গাজা ছেড়ে যাবে, তারা আবার ফিরে আসার অনুমতি পাবে।

মিসর সংলগ্ন রাফা ক্রসিং বাকি বিশ্বের সঙ্গে গাজার একমাত্র সংযোগ পথ। আগ্রাসনের মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরাইলি বাহিনী এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। গত বছর অক্টোবরে ঘোষিত প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এ সীমান্ত ক্রসিং খোলার কথা ছিল। কিন্তু ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ শেষ জিম্মির লাশ উদ্ধার না হলে খোলা হবে না বলে শর্ত দিয়েছিল। যার ফলে কার্যকরভাবে কয়েক মাস ধরে চুক্তি বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়।

এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় প্রচণ্ড হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। সোমবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আগের দিন রোববার গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহতের তথ্য জানায় আলজাজিরা। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী হামাস ও ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারা হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। হামাসের পক্ষ থেকে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ২৬ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ৫২৩ জন নিহত ও এক হাজার ৪৩৩ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৭১৫টি লাশ।

সব মিলিয়ে গাজায় দুই বছরের আগ্রাসনে ৭১ হাজার ৭৯৫ জন নিহত ও এক লাখ ৭১ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন।

সাইবার নিরাপত্তায় প্রযুক্তির চেয়ে সচেতনতাই বড় হাতিয়ার

  প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। হ্যাকিং, ফিশিং কিংবা এআইয়ের অপব্যবহারে ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত প...