Wednesday, 24 June 2026

আশুরা নিয়ে প্রচলিত ১১ ভুল ধারণা

 

আশুরা নিয়ে প্রচলিত ১১ ভুল ধারণা

মহররম মাসের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি, বহু নবীর জীবনের স্মরণীয় ঘটনা এবং সিয়াম পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে সময়ের প্রবাহে বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য বই ও লোককথার মাধ্যমে এ দিনটিকে ঘিরে বহু ভিত্তিহীন বিশ্বাস, জাল বর্ণনা ও বিদআত সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অনেক মানুষ সুন্নাহভিত্তিক আমলের চেয়ে প্রচলিত লৌকিক রীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। নিচে এ সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণা এবং দলিলভিত্তিক সঠিক তথ্য তুলে ধরা হলো।





১. আশুরার গুরুত্ব শুধু কারবালার কারণেই প্রতিষ্ঠিত

অনেকের ধারণা, ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের কারণেই আশুরার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কারবালার ঘটনার (৬১ হিজরি) বহু আগে থেকেই আশুরা ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পরিচিত ছিল।

ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (স.) মদিনায় এসে দেখেন, ইহুদিরা এ দিনে রোজা রাখে। কারণ, এদিন আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায়কে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেন, ‘মুসার ব্যাপারে আমরাই তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।’ এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি: ২০০৪)

২. মহররমের ১০ দিন রোজা রাখলে ১০ হাজার বছরের সওয়াব

সমাজে প্রচলিত কিছু বইয়ে দাবি করা হয়, মহররমের প্রথম ১০ দিন রোজা রাখলে ১০ হাজার বছরের ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়। মুহাদ্দিসদের মতে, এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও জাল বর্ণনা।

ইমাম ইবনুল জাওজি (রহ.) এ ধরনের বর্ণনাকে ‘মাওজু’ (জাল) বলে উল্লেখ করেছেন। (আল-মাওজুয়াত, ইমাম ইবনুল জাওজি)

মুহাররমের নফল রোজার ফজিলত অবশ্যই আছে, তবে কাল্পনিক সংখ্যা ও অতিরঞ্জিত প্রতিদানের মাধ্যমে তা প্রচার করা সঠিক নয়।



৩. শুধু ১০ তারিখে একটি রোজা রাখাই যথেষ্ট

অনেকে মনে করেন, কেবল ১০ মহররমে রোজা রাখাই পূর্ণ সুন্নাহ আদায়। প্রকৃতপক্ষে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে রাসুলুল্লাহ (স.) ৯ তারিখেও রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি বলেন, আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই নবম তারিখেও রোজা রাখব। (সহিহ মুসলিম: ১১৩৪)

তাই ৯-১০ অথবা ১০-১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা অধিক উত্তম বলে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন।




৪. আশুরার রাতে বিশেষ পদ্ধতির নামাজ

প্রচলিত আছে যে আশুরার রাতে ১২ রাকাত, ১০০ রাকাত বা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করলে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

মুহাদ্দিসগণ এজাতীয় সব বর্ণনাকে জাল ও ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করেছেন। ইমাম ইবনুল জাওজি (রহ.) আশুরাকেন্দ্রিক বিশেষ নামাজের বর্ণনাগুলোকে ‘মাওজু’ বা জাল আখ্যা দিয়েছেন। (আল-মাওজুয়াত)

আল্লামা লখনবী (রহ.)-ও এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোকে বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন। (আল-আসারুল মারফুআহ ফিল আখবারিল মাওজুআহ)

৫. নির্দিষ্ট আমলে সব গুনাহ নিশ্চিতভাবে মাফ হয়ে যায়

কিছু গ্রন্থে দাবি করা হয়, আশুরার রাতে নির্দিষ্টসংখ্যক নামাজ বা তাসবিহ পড়লে নিশ্চিত জান্নাত কিংবা সব গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা মেলে।

এ ধরনের বর্ণনার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। ইবাদতের ক্ষেত্রে কেবল কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর দলিলই গ্রহণযোগ্য।




৬. বিশেষ গোসল বা ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আলাদা সওয়াব

ধারণা প্রচলিত আছে যে আশুরার দিন বিশেষভাবে গোসল করলে বা ঘরবাড়ি পরিষ্কার করলে সারা বছর রোগ-ব্যাধি কিংবা দারিদ্র্য থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

এ বিষয়ে কোনো সহিহ হাদিস পাওয়া যায় না। তাই সওয়াবের আশায় এ ধরনের কাজকে ধর্মীয় আমল মনে করা ঠিক নয়।

৭. সুরমা, মেহেদি বা তেল ব্যবহারে বিশেষ সওয়াব

প্রচলিত আছে, আশুরার দিন চোখে সুরমা লাগালে সারা বছর চোখের রোগ হয় না কিংবা মেহেদি বা তেল ব্যবহারের বিশেষ ফজিলত আছে।

অনেক আলেম ও মুহাদ্দিস এ ধরনের বর্ণনাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই এগুলোকে সুন্নাহ বা বিশেষ আমল মনে করা সঠিক নয়।



৮. খিচুড়ি বা বিশেষ খাবার রান্না করা সওয়াবের কাজ

কিছু অঞ্চলে প্রচলিত আছে, আশুরার দিনে খিচুড়ি, হালুয়া-রুটি বা বিশেষ খাবার রান্না করা ধর্মীয়ভাবে ফজিলতপূর্ণ কাজ।

বাস্তবে এ ধরনের আচারকে সুন্নাহ প্রমাণ করে এমন কোনো সহিহ দলিল নেই। খাবার রান্না করা বৈধ কাজ হলেও তা ধর্মীয় মর্যাদাসম্পন্ন আমল হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।




৯. মাতম, আত্মনিপীড়ন ও শোক পালনকে ইবাদত মনে করা

কারবালার শোকে বুক চাপড়ানো, শরীর রক্তাক্ত করা বা উচ্চস্বরে বিলাপ করাকে অনেকে ইবাদত বা শ্রদ্ধা প্রকাশের মাধ্যম মনে করেন।

কারবালার ঘটনা মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসের অত্যন্ত হৃদয়বিদারক অধ্যায় হলেও এ ধরনের আত্মনিপীড়নমূলক আচরণ ইসলামে অনুমোদিত নয়।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে (মৃত ব্যক্তির জন্য) গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে এবং জাহিলি যুগের মতো চিৎকার দেয়।’ (সহিহ বুখারি: ১২৯৪)

১০. আশুরাকে কেবল শোক বা কেবল আনন্দ-উৎসবের দিনে পরিণত করা

একদল মানুষ আশুরাকে সম্পূর্ণ শোকের দিনে পরিণত করেছে, আবার অন্যরা একে আনন্দ-উৎসব, আলোকসজ্জা বা বিশেষ আয়োজনের দিনে রূপ দিয়েছে।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে আশুরা শোকের উৎসবও নয়, আনন্দের উৎসবও নয়; বরং এটি ইবাদত, কৃতজ্ঞতা, তওবা ও শিক্ষা গ্রহণের দিন।



১১. মহররম মাসে বিয়ে করা অশুভ

আমাদের সমাজে অনেকের বিশ্বাস, মহররম মাসে বিয়ে করলে অমঙ্গল হয় বা সংসারে অশান্তি নেমে আসে। মূলত কারবালার ঘটনার সঙ্গে আবেগগত সম্পর্কের কারণে এ ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে।

কিন্তু কোরআন-হাদিসে মহররম মাসে বিয়ে নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। ইসলামে কোনো হালাল কাজকে অশুভ মনে করা বৈধ নয়। তাই মহররমে বিয়ে করা বা অন্য কোনো বৈধ কাজ থেকে বিরত থাকার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।



আশুরার প্রকৃত শিক্ষা

আশুরা মুসলমানদের জন্য কৃতজ্ঞতা, তওবা, ধৈর্য, সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা এবং সুন্নাহ অনুসরণের শিক্ষা বহন করে। এ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত আমল হলো রোজা রাখা।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)

সমাজে আশুরাকে ঘিরে প্রচলিত অনেক গল্প, ঘটনা বা আমলের বিবরণের কোনো সহিহ সূত্র নেই; কিছু দুর্বল, কিছু সম্পূর্ণ জাল। তাই আশুরা সংক্রান্ত যেকোনো আমল গ্রহণের আগে কোরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

কুসংস্কার, জাল বর্ণনা ও বিদআত থেকে দূরে থেকে সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী এ দিন পালন করাই একজন মুসলিমের দায়িত্ব। কেননা ইসলাম আবেগের নয়, দলিলের অনুসরণ শিক্ষা দেয়।

মহররমের ফজিলত ও আমল

 

মহররমের ফজিলত ও আমল

হিজরি সালের প্রথম মাস মহররম ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মাস। কোরআনে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত মাস বলা হয়েছে তার অন্যতম মহররম। আল্লাহ তাআলা এ মাসগুলোতে বিশেষ করে সব রকম জুলুম ও পাপাচার থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

কোরআন ও হাদিসে মহররম মাস সম্পর্কে যা এসেছে তা হল, এটা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। কোরআনের ভাষায় এটি ‘আরবাআতুন হুরুম’-অর্থাৎ চার সম্মানিত মাসের অন্যতম।





এ মাসে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা হল সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (সহিহ মুসলিম ২/৩৬৮; জামে তিরমিজি ১/১৫৭)

এর মধ্যে আশুরার রোযার ফযীলত আরও বেশি।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (সহিহ বুখারী ১/২১৮)

আলী (রা.)-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমজানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোজা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তার খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘রমজানের পর যদি তুমি রোজো রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’ (জামে তিরমিজি ১/১৫৭)

অন্য হাদিসে নবী করীম (সা.) বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ (সহিহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিজি ১/১৫৮)

আশুরার রোজা সম্পর্কে এক হাদিসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’ (মুসনাদে আহমদ ১/২৪১)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোজা রাখব।’ (সহিহ মুসলিম ১/৩৫৯)

ভারতে মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস করছে বিজেপি, কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ওয়াইসি

 

ভারতে মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস করছে বিজেপি, কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ওয়াইসি

ভারতের রাজস্থানের সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ, মাদরাসা ও দরগাসহ মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস ও অপসারণের ঘটনা বন্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান এবং হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।





রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াইসি অভিযোগ করেন, রাজস্থানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে উচ্ছেদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

এআইএমআইএমের বিকানের জেলা সভাপতি শফি জামিল কাসমির তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, বিকানেরে চারটি এবং ফালোদি, জয়সলমের ও বারমের এলাকায় আরও নয়টি মসজিদ ও দরগা ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ওয়াইসির ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে স্থাপনাগুলো চারণভূমির ওপর নির্মিত। তবে স্থানীয়রা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পর অনুমোদন ও নথিগত জটিলতার বিষয়টি সামনে আনা হয়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওয়াইসি বলেন, এই উচ্ছেদ কার্যক্রম বৈষম্যমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনসম্মত নয়। তাই অবিলম্বে এ ধরনের অভিযান বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে বিষয়টি নিয়ে রাজস্থান রাজ্য সরকার কিংবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বারবার ষড়যন্ত্র করে হারছে ভারত, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে গুরুত্ব বাড়ছে পাকিস্তানের

 

বারবার ষড়যন্ত্র করে হারছে ভারত, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে গুরুত্ব বাড়ছে পাকিস্তানের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত ওই সমঝোতা চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান।



শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের নেতৃত্বকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। সমঝোতার ঘোষণার পর তেলের দাম কমেছে এবং বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

এদিকে, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সফলতা ভারতের জন্যও একটি নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে ভারত পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল গ্রহণ করলেও বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা সহজ নয় বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রায় ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যা নিয়ে দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র। মুসলিম বিশ্বে এর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব পাকিস্তানকে একটি বিশেষ অবস্থান দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি প্রবাসীও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

সামরিক শক্তির দিক থেকেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের বৃহৎ স্থায়ী সেনাবাহিনীগুলোর একটি পাকিস্তানের রয়েছে। দেশটি চীন ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে এবং বিভিন্ন দেশে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।

পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থানও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশটির হাতে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব বাড়িয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানও পাকিস্তানের অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারত, আফগানিস্তান, ইরান ও চীনের সঙ্গে স্থলসীমান্ত এবং আরব সাগরের তীরবর্তী অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পাকিস্তান।

তবে এসব শক্তির পাশাপাশি দেশটি অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি। বেলুচিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকট পাকিস্তানের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং মিত্র দেশগুলোর আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতাও দেশটির দুর্বলতার অন্যতম দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের গুরুত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতার দাবিও সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা বা বিচ্ছিন্ন করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: এনডিটিভি

আশুরা নিয়ে প্রচলিত ১১ ভুল ধারণা

  মহররম মাসের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলের ফেরাউনের ক...