Friday, 27 February 2026

দশম তারাবি: আহসানুল কাসাস, সুন্দরতম ঘটনা

 

দশম তারাবি: আহসানুল কাসাস, সুন্দরতম ঘটনা

আজ দশম তারাবিতে সূরা ইউসুফ (৫৩-১১১), সূরা রাদ ও সূরা ইবরাহিম পড়া হবে। পারা হিসাবে আজ পড়া হবে ১৩তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশেরবিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো।

সূরা ইউসুফ (৫৩-১১১) সংক্ষিপ্তাকারে নবী ইউসুফ (আ.) এর কাহিনী আমরা গতকাল পড়েছিলাম। কাহিনিটির যে অংশ আজ শুনবঃ-মিশরের বাদশা ইউসুফ (আ.) এর কাছে স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা শুনে তাকে জেল থেকে মুক্ত করে দিলেন। মুক্তির আগে ইউসুফ (আ.) সবার সামনে নিজের নির্দোষিতার প্রমাণ করতে চাইলেন। আজিজে মিশরের স্ত্রী নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করল। ইউসুফ (আ.) নির্দোষ এ কথাও সে অকপটে বলল।

জেল থেকে বেরিয়ে ইউসুফ (আ.) মিশরের অর্থ বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সে সময়ে মিশর ও তার আশপাশের এলাকাগুলোয় দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। এ কারণে ইউসুফ (আ.) এর ভাইয়েরা বিশেষ দান সংগ্রহের জন্য মিশরে আসে। এক-দুই সাক্ষাতের পর ইউসুফ (আ.) ভাইদের জানিয়ে দেন, আমি তোমাদের ভাই ইউসুফ। এরপর ইউসুফ (আ.) এর বাবা-মাও মিশর চলে আসেন এবং এখানেই বসতি স্থাপন করেন। নবী ইউসুফের শৈশবে দেখা স্বপ্ন সত্যে পরিণত হয়। সূরা ইউসুফ শেষ হয়েছে এই বার্তা দিয়ে, ‘এই সব মহামনীষীর ঘটনায় রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য বহু শিক্ষা ও নসিহত’। (১১১)। ১৩. সূরা রাদ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৪৩, রুকু ৬) এ সূরায় তাওহিদ, রিসালাত ও কেয়ামত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার প্রথম আয়াতে কোরআনের সত্যতার আলোচনা রয়েছে।

পরবর্তী আয়াতে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ববাদের দলিল প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। আসমান-জমিন, চাঁদ-সূর্য, রাত-দিন, পাহাড়পর্বত ও নদীনালা, লতাগুল্ম, বৈচিত্র্যময় স্বাদ এবং বিভিন্ন রঙের ফলমূলের স্রষ্টা তো একমাত্র তিনিই। জীবন-মরণ এবং উপকার ও ক্ষতিসাধন একমাত্র তাঁরই হাতে। এরপর কেয়ামতের পুনরুত্থান ও প্রতিদানের আলোচনা করা হয়েছে। ফেরেশতাদের দিয়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে হেফাজত করেন, সুরক্ষিত রাখেন- এ প্রসঙ্গের আলোচনার পর একটি মূলনীতি বলা হয়েছে। তা হলো, ‘আল্লাহ তায়ালা কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ বদলান না, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে’। (১১)। মুসলিম জাতি সম্মান পেতে চাইলে, লাঞ্ছনার পথ পরিহার করে মর্যাদার পথ অবলম্বন করতে হবে। বাতিলের উপমা দেওয়া হয়েছে ঢেউয়ের ওই বুদবুদের সঙ্গে, যা বাহ্যত সব জিনিসের ওপর ছেয়ে থাকে। কিন্তু অবশেষে বিলুপ্ত ও বিলীন হয়ে যায়।

আর হক ও সত্যপন্থিদের ওই সোনা চাঁদির সঙ্গে উপমা দেওয়া হয়েছে, যা ঢেউয়ের সাথে সাথে ভেসে যায় না, বরং জমিনের মাঝেই থেকে যায়। তারপর আগুনে উত্তপ্ত করলে তা একেবারে খাঁটি সোনায় পরিণত হয় এবং খাদ ও ময়লা তা থেকে পৃথক হয়ে যায়। (১৭)। মুত্তাকি এবং সত্যিকার বুদ্ধিমানদের আটটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে আলোচ্য সূরায়।

সেগুলো হলোঃ- প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, আপন প্রতিপালকের ভয়, মন্দ হিসাবের ব্যাপারে শঙ্কা, ধৈর্যধারণ, সালাত কায়েম, প্রকাশ্যে এবং গোপনে দান, মন্দের জবাবে ভালো ও উত্তম চরিত্র প্রদর্শন করা। (২০-২৪)। নবীরা মানুষই, শুধু পার্থক্য হলো তাদের কাছে ওহি আসে (৩৮)- এ বিষয়ে আলোকপাতের পর নবী মুহাম্মদ (সা.) এর নবুয়তের সাক্ষ্য দিয়ে সূরাটির সমাপ্তি ঘটেছে। (৪৩)। ১৪. সূরা ইবরাহিম (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৫২, রুকু ৭) সূরার সূচনাপর্বে কোরআন কারিম নাযিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর তা হলো মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনা। সূরাটিতে তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাত- মৌলিকভাবে এ তিনটি বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। ২, ৩ ও ২৩ নম্বর আয়াতে কাফেরদের নিন্দা জানানো হয়েছে।

সূরায় বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নবীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে এর কিছু নমুনা তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন যুগের অস্বীকারকারী গোষ্ঠী সাধারণত চার ধরনের সন্দেহের কথা বলত এবং বর্তমানেও বলে। সন্দেহগুলোর উল্লেখপূর্বক জবাব দেওয়া হয়েছে, ‘আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে সন্দেহ’, অথচ একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায়, রাব্বুল আলামিনের অস্তিত্বের অসংখ্য প্রমাণ। ‘রাসুল মানুষ হবেন কেন?’ মানুষের জন্য মানুষ রাসুল পাঠানোই তো বেশি যৌক্তিক। ‘বাপ-দাদাদের ধর্ম ছেড়ে নতুন ধর্ম কেন গ্রহণ করব?’ কেউ যদি ভুল পথে থাকে তবু কি তাকে অনুসরণ করা হবে? ‘মোজেজার দাবি করা মাত্রই সেগুলো নবীরা কেন প্রদর্শন করেন না?’ মোজেজা দেখানো নবীদের ইচ্ছাধীন নয়, মোজেজা তো আল্লাহ তায়ালার হাতে। (৯-১২)।

সত্যসন্ধানী মানুষের কাজ হলো সন্দেহের পথ পরিহার করা এবং মহান আল্লাহর বান্দা হিসেবে তাঁর কৃতজ্ঞ হয়ে থাকা। কেননা আল্লাহ কৃতজ্ঞদেরকে তার নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন, আর অকৃতজ্ঞদের জন্য রয়েছে তার কঠিন শাস্তি। (৭)। সূরার দ্বিতীয়, তৃতীয় ও শেষ রুকুতে কেয়ামতের দৃশ্যের অবতারণা করা হয়েছে এবং জাহান্নামের ভীষণ ভয়ংকর আজাবের আলোচনা করা হয়েছে। কেয়ামতের ময়দানে নিজ অনুসারীদের থেকে শয়তানের পলায়ন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে এবং হক-বাতিলের চমৎকার একটি উপমা পেশ করা হয়েছে।এ সূরায় বিশেষভাবে হযরত ইবরাহিম (আ.) এর ওই সব দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো তিনি করেছিলেন বায়তুল্লাহ বিনির্মাণের পর মক্কাবাসী, নিজের সন্তানসন্ততি ও পরবর্তী বংশধর এবং মানবতার জন্য। দোয়ায় তিনি নিরাপত্তা, রিজিকের ব্যবস্থা, মক্কার প্রতি সবার অন্তরের টান, সালাত কায়েম করা এবং মাগফিরাতের দরখাস্ত করেছিলেন। (৩৫-৪১)। সূচনাপর্বের মতো সূরার শেষেও পবিত্র কোরআনের আলোচনা রয়েছে।(৫২)।

উত্তেজনার মধ্যে নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল চীন


উত্তেজনার মধ্যে নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল চীন

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান থেকে নিজ নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

শুক্রবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থানরত নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা স্থলপথে স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদেরও উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, তাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং নিকটবর্তী বোমা আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ বহির্গমন পথ সম্পর্কে আগাম ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইল থেকে অপ্রয়োজনীয় দূতাবাস কর্মীদের প্রত্যাহারের অনুমোদন দেয়। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার হুমকির মধ্যে অঞ্চলটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ জোরদার করছে ওয়াশিংটন। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইসরাইল উপকূলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরও উত্তেজনা প্রশমনের আশা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এই রমজানে যেভাবে সন্তানকে আল্লাহভীরু বানাবেন

 

এই রমজানে যেভাবে সন্তানকে আল্লাহভীরু বানাবেন

মানুষের আত্মগঠন, চরিত্র নির্মাণ ও আল্লাহমুখী জীবনের প্রশিক্ষণকাল রমজান মাস । এই মাসের প্রতিটি দিনেই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অফুরন্ত ধারা প্রবাহিত হয়। তাই শিশুদের রমজানকে আলাদা আলাদা ভাগে নয়; বরং ৩০ দিনের একটি ধারাবাহিক তারবিয়াত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে মোবাইল, টিভি, ইন্টারনেট ও গেমের আসক্তি শিশুদের হৃদয় থেকে ইবাদতের স্বাদ দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। অথচ আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে… যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা আল-বাকারা ২ : ১৮৩)

তাকওয়ার এই শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই শুরু করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৫)

অতএব রমজানের ৩০ দিন হতে পারে শিশুদের জন্য ঈমান, আমল ও আদব শেখার বাস্তব কর্মসূচি।

পারিবারিক নিয়ত : রমজানের প্রথম পাঠ

রমজানের একেবারে শুরুতেই পরিবারে ছোট্ট বৈঠক হতে পারেÑআমাদের রমজান কেমন হবে?

এখানে তিনটি বিষয় নির্ধারণ করা জরুরি : নামাজ, কোরআন ও ভালো কাজ।

কারণ আল্লাহ বলেন : ‘তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম ৬৬:৬)

শিশু বুঝবে সে এই রমজানের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

একটি নূরভরা দৈনিক রুটিন

সাহরি : এটি হলো সুন্নাহর প্রশিক্ষণ। রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা সাহরি খাও, এতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি : ১৯২৩)

শিশুকে ভালোবাসা দিয়ে জাগানো, এক গ্লাস পানি ও একটি খেজুরের মাধ্যমেই তার মনে সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে।

ফজরের পর : কোরআনের আলো

আল্লাহ বলেন : ‘এই কোরআন মানুষকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে।’ (সুরা আল-ইসরা ১৭ : ৯)

প্রতিদিন একটি আয়াত, একটি দোয়া এটাই হোক শুরু।

দিনের সময় : স্ক্রিন নয়, সৃজনশীলতা

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি : ১৯০৩)

এখান থেকেই শেখানো যায়, চোখেরও রোজা আছে।

বিকল্প কার্যক্রম

▪️রমজান ডায়েরি, ইসলামি গল্প, ক্যালিগ্রাফি ও মায়ের কাজে সাহায্য।

ইফতারের মুহূর্ত : দোয়ার স্কুল

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৮) এই সময় শিশুকে দোয়া শেখানো মানে তার হৃদয়ে আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করা।

রাত : আত্মমূল্যায়নের সময়

দিন শেষে একটি প্রশ্ন-আজ আমি কাকে খুশি করেছি? এটাই হবে তার আত্মশুদ্ধির শুরু।

কোরআনের সঙ্গে শিশুর বন্ধুত্ব

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে কোরআন শেখে ও শেখায়।’ (সহিহ বুখারি : ৫০২৭)

বাস্তব পদ্ধতি : প্রতিদিন একটি আয়াত, অর্থসহ শিক্ষা, মা-বাবার সঙ্গে তিলাওয়াত।

সামাজিক মানবিকতা : জীবন্ত রমজান

রাসুল (সা.) ছিলেন রমজানে সবচেয়ে বেশি দানশীল। (সহিহ বুখারি : ৬) সুতরাং শিশুকে দিয়ে করাতে পারেন-ইফতার বিতরণ, গরিবদের খাবার দেওয়া ও মসজিদ পরিষ্কার।

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

আত্মসংযম : রোজার আসল শিক্ষা

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘রোজা ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি : ১৮৯৪) সুতরাং শিশু শেখানÑরাগ নিয়ন্ত্রণ, মিথ্যা না বলা, ঝগড়া না করা।

রাতের নীরবতা : লাইলাতুল কদরের অনুভূতি

আল্লাহ বলেন : ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা আল-কদর ৯৭ : ৩)

দোয়া : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি। (তিরমিজি : ৩৫১৩)

শিশুর জন্য কয়েক মিনিট তাহাজ্জুদই হতে পারে সারাজীবনের স্মৃতি।

মাস শেষে যে পরিবর্তন

এই ত্রিশ দিনের প্রশিক্ষণে-নামাজের অভ্যাস, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক, মোবাইলনির্ভরতা কমে যাওয়া, দানশীলতা, আত্মসংযম ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা।

আল্লাহ বলেন : ‘নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ (সুরা আল-আ‘লা ৮৭ : ১৪)

আজকের শিশুর হাতে যদি আমরা রমজানের এই নূরভরা পরিকল্পনা তুলে দিতে পারি, তবে সে শুধু রোজাদার হবে না; হবে কোরআনের মানুষ, নামাজের মানুষ, মানবতার মানুষ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তানদেরও তাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেব।’ (সুরা আত-তুর ৫২ : ২১)

রমজান তখন আর একটি মাস থাকবে না, এটি হয়ে যাবে একটি প্রজন্ম গড়ার বিপ্লব।

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদের ইমামকে লক্ষ্য করে গুলি

 

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদের ইমামকে লক্ষ্য করে গুলি

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে দেশটির অন্যতম বৃহৎ মসজিদের এক ইমামকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। রমজান মাসে সোমবার সন্ধ্যায় নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এ হামলার মুখে পড়েন তিনি।

হামলার শিকার ইমাম শুয়াইব দিন ইউটা ইসলামিক সেন্টারের নেতা। তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও তার গাড়িতে একাধিক গুলি লাগে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিন জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি তার বাড়ির বাইরে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। তার ভাষ্য, হামলাকারী তার বাসা, গাড়ি এবং সময়সূচি সম্পর্কে অবগত ছিল। প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। গুলিগুলো তার গাড়ির উইন্ডশিল্ড এবং সামনের ও পেছনের আসনে আঘাত করে।

পুলিশ একটি সাদা যাত্রীবাহী গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছে, যা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ইমাম দিন বলেন, তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রু আছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে তিনি সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটি ইসলামবিদ্বেষী হামলা হতে পারে।

এদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, নেইট ব্লুইন, যিনি ইউটা স্টেট সিনেট-এর সদস্য, ঘটনাটিকে “হত্যাচেষ্টা” হিসেবে বর্ণনা করে একে ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে এ হামলার সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিতও দেন।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’

 

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’

পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। তবে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে দেশ দুটির মধ্যে কোনো চুক্তি হবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। শিগগিরই আবার আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে উভয় পক্ষ।

আলবুসাইদি বলেন, দুই পক্ষই নিজ নিজ দেশে পরামর্শ শেষে ‘শিগগিরই’ আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনায় তার দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও অন্য কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী দফা আলোচনা হবে।

দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। তারা নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে কর্মকর্তারা কিছু ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তা প্রকাশ করা হয়নি। আলোচিত একটি বিকল্প হলো, তিন থেকে পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশের পর আন্তর্জাতিক নজরদারিতে সীমিত মাত্রায় ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেয়া। এছাড়া চুক্তির বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আরাগচি। ইরানি টেলিভিশনকে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।

বিবিসি বলছে, পরোক্ষ এই আলোচনা দুই দফায় হয়। সকালে তিন ঘণ্টার একটি বৈঠক এবং সন্ধ্যায় আরেকটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক। ফলাফল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আলোচনায় আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও এই আলোচনায় যোগ দেন।

Thursday, 26 February 2026

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য

 

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য


আজ নবম তারাবিতে সূরা হুদ এবং সূরা ইউসুফ (১-৫২) পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১২তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশেরবিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো ১১. সূরা হুদ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১২৩, রুকু ১০) প্রথম পাঁচ আয়াত ব্যতীত সূরা হুদ পুরোটাই এই পারায়।

সূরাটির সূচনাপর্বে কোরআনের আজমত ও বড়ত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। শব্দ, ভাষা, অর্থ সবদিক দিয়েই পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য। তার বর্ণনায় কোনো বিরোধ নেই, কোনো কিছুই অযৌক্তিক এবং বাস্তব বিরুদ্ধ নয়। এর অনুপম ভাষা এবং বর্ণনাধারা, অলৌকিক সাবলীলতা এবং প্রাঞ্জলতায় কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই।

কোরআনের প্রতিটি তত্ত্ব এবং তথ্য অকাট্য, কালের পরিবর্তনে তাতে চিড় ধরার সম্ভাবনা মাত্র নেই, রোজ কেয়ামত পর্যন্ত এর সার্থকতা, উপাদেয়তা এবং প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। (১-৫)।কোরআনের আজমত বর্ণনার পর তাওহিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর একত্ববাদের বিভিন্ন প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। (৬-১২)। যারা বলে, কোরআন মানব রচিত, তাদেরকে কোরআনের অনুরূপ কিছু বানিয়ে দেখানোর জন্য চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। (১৩)। কিন্তু কখনোই কাফেররা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারেনি এবং কেয়ামত পর্যন্তও পারবে না। কাফেররদের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে অন্ধ ও বধিরের সঙ্গে, আর ঈমানদারদের উপমা দেওয়া হয়েছে চক্ষুষ্মান ও শ্রবণসম্পন্ন ব্যক্তির সাথে।(১৫-২৪)।

কোরআনের সত্যতা এবং তাওহিদ ও রিসালতের বাস্তবতার প্রমাণ উল্লেখের পর হজরত নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব, মুসা এবং হারুন (আ.) এর কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত এই ঘটনাগুলো বর্ণনার একটি উদ্দেশ্য হল নবী মুহাম্মদ (সা.) এর ওহির সত্যতা এবং কোরআনের চির সত্য হওয়ার প্রমাণ পেশ করা।

সূরায় নবীদের ঘটনা আলোচনা প্রসঙ্গে হজরত নুহ (আ.) এর ঘটনা বর্ণনার পর বলা হয়েছে, এসব ঘটনা অদৃশ্যের সংবাদের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমাকে ওহির মাধ্যমে জানাচ্ছি। ইতঃপূর্বে না তুমি জানতে এগুলো, আর না জানত তোমার জাতি। সুতরাং সবর করো, মুত্তাকিদের পরিণতি ভালোই হয়। (৪৯)।

নবীদের ঘটনাগুলোয় বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য রয়েছে অসংখ্য উপদেশ, আর রয়েছে নবীজি (সা.) এবং মুখলিস ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য সান্ত্বনা ও দৃঢ়তার সবক। তাই ঘটনাগুলোর বর্ণনা প্রসঙ্গে নবীজি ও তার উম্মতকে দ্বীনের ওপর ইস্তেকামাত ও জমে থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। (১১২)। বস্তুত ইস্তেকামাত এমন এক হুকুম, যার সম্পর্ক আকিদা-বিশ্বাস, কথা-কাজ এবং আখলাক-চরিত্র সবকিছুর সঙ্গে। ইস্তেকামাত অর্থ হলো সারা জীবন সেই শিক্ষার আলোকে চলা, যেভাবে চলার নির্দেশনা আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। ইস্তেকামাতই হলো আসল কারামাত। ইস্তেকামাতের চেয়ে বড় কোনো কারামাত আর হতে পারে না।মুসা (আ.) এর ঘটনা আলোচনা প্রসঙ্গে গোনাহ ও নাফরমানির ব্যাপারে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না। (১০২-১০৩)। মূলত গোনাহ, সীমাতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং মন্দ কাজে বাধা না দেওয়ার কারণেই জাতীয় জীবনে বিপর্যয় এবং আল্লাহর আজাব নেমে আসে।(১১৬)।

পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন কাহিনী আলোচনার কী উদ্দেশ্য সে বিষয়ে আলোকপাতের মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।১২. সূরা ইউসুফ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১১, রুকু ১২) সূরার নামই বলে দেয়, সূরায় হজরত ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা বিবৃত হয়েছে। খোদ কোরআন ইউসুফ (আ.) এর ঘটনাকে ‘আহসানুল কাসাস’ তথা সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে। ঘটনাটিতে প্রচুর শিক্ষা ও নসিহত রয়েছে। নবী ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা এতই প্রসিদ্ধ যে, প্রকৃত মুসলিম পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাও তা জানে। সূরা ইউসুফের যে অংশটুকু আজ পড়া হবে তার সারসংক্ষেপ হলঃ-হজরত ইয়াকুব (আ.) এর বারো সন্তান ছিল। এদের মধ্যে ইউসুফ ছিলেন অস্বাভাবিক সৌন্দর্যের অধিকারী, বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও দৈহিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আচার-ব্যবহারেও তিনি ছিলেন অনন্য। তাই বাবার কাছেও ছিলেন সবচেয়ে আদরের।

মহব্বতের একটি কারণ এ-ও ছিল, ইউসুফ শৈশবে একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখেন, যা ছিল তার নবী হওয়ার পূর্বাভাষ। তাছাড়া ইউসুফ ও তার ভাই বিনয়ামিন ছিলেন সবার ছোট, আর তাদের মায়েরও ইন্তেকাল হয়ে গিয়েছিল। বাবা ইয়াকুব (আ.) এর এই স্বভাবজাত মহব্বত ভাইয়েরা সহ্য করতে পারেনি, তারা হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। বিনোদনের কথা বলে একদিন তারা ইউসুফ (আ.) কে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি কূপে তাকে ফেলে দেয়।

সেই পথ দিয়ে একটি কাফেলা যাচ্ছিল, পানির প্রয়োজনে তারা কূপের সামনে যায়, বালতি নিচে ফেলার পর বালতি ওঠানো মাত্রই ফুটফুটে সুন্দর ইউসুফকে দেখতে পায়। কাফেলার লোকরা মিশরে পৌঁছে ইউসুফকে বিক্রি করে দেয়।মিশরের আজিজ ইউসুফকে কিনে নিজের ঘরে নিয়ে যান। ধীরে ধীরে ইউসুফ বড় হন, যৌবনে পদারপর্ণ করেন। একসময় আজিজে মিশরের স্ত্রী ইউসুফের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। সে ইউসুফকে খারাপ কাজের প্রতি আহ্বান করে, ইউসুফ (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজপরিবার বদনাম থেকে বাঁচার জন্য ইউসুফকে জেলে নিক্ষেপ করে। জেলের কুঠুরিতেও তাওহিদের দাওয়াত অব্যাহত থাকে, বন্দীদের অনেকেই তার হাতে মুসলমান হন।সে সময় তৎকালীন বাদশা একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফ সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা বলে দেন। ইউসুফের প্রতি বাদশাহর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। বাদশা ইউসুফকে সে দেশের অর্থ বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দেন এবং তাকে নিজের উজির বানিয়ে নেন। (৩-৫২)।

দশম তারাবি: আহসানুল কাসাস, সুন্দরতম ঘটনা

  আজ দশম তারাবিতে সূরা ইউসুফ (৫৩-১১১), সূরা রাদ ও সূরা ইবরাহিম পড়া হবে। পারা হিসাবে আজ পড়া হবে ১৩তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশেরবিষয়বস...