Wednesday, 17 June 2026

পবিত্র আশুরার তারিখ ঘোষণা

 

পবিত্র আশুরার তারিখ ঘোষণা

বাংলাদেশের আকাশে মঙ্গলবার ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। সে অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান।





১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

এ সভায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকারর জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. খোরশেদ আলম খান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ডক্টর গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানে নিহত ১ হাজার ২৬৫, আহত ২ হাজার ৮০০

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানে নিহত ১ হাজার ২৬৫, আহত ২ হাজার ৮০০

ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৬৫ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের নগর প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।





তেহরান সিটি কাউন্সিলের নিরাপত্তা কমিটির প্রধান মেহদি বাবাই রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হামলার ফলে রাজধানীজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ভবনের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সামান্য হলেও ব্যাপক সংখ্যক বাসিন্দা এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মেহদি বাবাই আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহতদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১২৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলার ফলে তেহরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

তেলের দাম বিশ্ব বাজারে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

তেলের দাম বিশ্ব বাজারে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের আশা, দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে শিগগির একটি স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।



গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকেই ঊদ্ধমুখী ছিল তেলের দাম। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার আশাবাদ তৈরি হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ১৫ ডলার কমেছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৯৬ ডলারে নেমেছে। গত ৩ মার্চ থেকে এটিই তেলের সর্বনিম্ন দাম।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের তেলের ট্যাংকারগুলো ফের সমুদ্রে চলাচল শুরু করেছে। এই খবরটি আসার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমে যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি ইরানি তেল ট্যাংকার বর্তমানে উত্তর ভারত মহাসাগরে চলাচল করছে। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং গবাদি পশুর খাদ্যবাহী আরও দুটি ট্যাংকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ইরানের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত কঠোর অবরোধ শিথিল করা হয়েছে।

এদিকে হরমূজ প্রণালি আগামী শুক্রবারের মধ্যে ফের উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না তার ইউরোপীয় মিত্ররা। জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের মতো এতটা নিশ্চিত হতে পারছেন না বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা

Tuesday, 16 June 2026

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

 

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

অনেকেই ইসলামকে ভুলভাবে এমন একটি ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন, যেখানে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনের কোনো মূল্য নেই। অথচ ইসলামে মানুষের আত্মিক পবিত্রতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শালীন রুচিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম মানুষকে অহংকার ও অপচয় থেকে যেমন বিরত থাকতে বলে, তেমনি অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলাপূর্ণ জীবনকেও নিরোৎসাহিত করে। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের যথাযথ ও পরিমিত প্রকাশকেও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,



إنَّ اللَّهَ يحبُّ أن يرى أثرَ نعمتِهِ على عبدِهِ

‘আল্লাহ তাআলা তার দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তার বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)

এই হাদিসে ‘নিয়ামতের নিদর্শন’ বলতে শুধু ধন-সম্পদ নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া বৈধ রিজিক, পরিচ্ছন্নতা, শালীন পোশাক, পরিপাটি জীবনযাপন এবং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যবোধকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ কাউকে সামর্থ্য দিলে সে যেন নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন না করে, যাতে তাকে চরম অভাবগ্রস্ত বা অগোছালো মনে হয়। কারণ ইসলাম কৃত্রিম দারিদ্র্য প্রদর্শনকে পছন্দ করে না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ

‘বলুন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আ‘রাফ, আয়াত : ৩২)

এই আয়াত ইসলামের সৌন্দর্যবোধকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ইসলাম সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে নয়; বরং সৌন্দর্যকে সঠিক সীমার মধ্যে দেখতে চায়। তাই সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা রুচিশীল জীবনযাপন করা কোনো দোষ নয়, যদি তা অহংকার, অপচয় ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। তিনি সুন্দর কাপড় পরতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং সাহাবিদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে-

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا قَدْ تَفَرَّقَ شَعْرُهُ فَقَالَ: أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ شَعْرَهُ، وَرَأَى رَجُلًا آخَرَ وَعَلْيِهِ ثِيَابٌ وَسِخَةٌ، فَقَالَ أَمَا كَانَ هَذَا يَجِدُ مَاءً يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এখানে এসে এক বিক্ষিপ্ত চুলওয়ালাকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার চুলগুলো আচড়ানোর জন্য কিছু পায় না? তিনি ময়লা কাপড় পরিহিত অপর ব্যক্তিকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য কিছু পায় না? (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৬২)

এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলাম এমন জীবনব্যবস্থা চায়, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও সৌন্দর্যবোধ পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।

বর্তমান সমাজে এই বিষয়ে দুই ধরনের চরমপন্থা দেখা যায়। একদল মনে করে, দ্বীনদার হতে হলে মলিন ও অপরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অন্যদিকে আরেকদল সৌন্দর্যের নামে অপচয়, ব্র্যান্ড-আসক্তি, বিলাসিতা ও অহংকারে ডুবে যায়। ইসলাম এই দুই চরমতার মাঝখানে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। ইসলাম চায় না মানুষ নিজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিমভাবে নিজেকে অভাবী সাজাক। আবার এটাও চায় না, সে অহংকারের প্রতীক হয়ে উঠুক।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ

‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’

সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করেছিলেন, মানুষ তো সুন্দর কাপড় ও সুন্দর জুতা পছন্দ করে। তখন তিনি বললেন,

إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ، الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাবু তাহরীমিল কিবর ওয়া বায়ানিহি, হাদিস : ৯১)

এই হাদিস ইসলামের সৌন্দর্যবোধের মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। সুন্দর পোশাক বা ভালো জীবনযাপন নিজে কোনো অহংকার নয়। অহংকার হলো মানুষের প্রতি ঔদ্ধত্য এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই বিলাসিতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পোশাক, বাড়ি, গাড়ি কিংবা ভোগবিলাসকে মর্যাদার মাপকাঠি বানানো হচ্ছে। অন্যদিকে কেউ কেউ ধর্মীয় ভাবমূর্তির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাভাবিক জীবনযাপনকে তাকওয়া মনে করেন। এই দুই প্রবণতাই ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষার বিপরীত।

ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে বান্দা আল্লাহর শোকর আদায় করে; অহংকারে লিপ্ত না হয়। অর্থাৎ নিয়ামত ব্যবহার করা হবে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে, প্রদর্শন ও আত্মগরিমার জন্য নয়।

আসলে আল্লাহর নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহারও এক ধরনের শোকর। একজন মানুষ যখন হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য পরিচ্ছন্ন ও শালীন জীবন নিশ্চিত করে, তখন সে আল্লাহর একটি বিধানই বাস্তবায়ন করে। কারণ ইসলাম দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করেনি; বরং আত্মমর্যাদাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনকে উৎসাহিত করেছে।

ইসলাম শুধু মসজিদের ভেতরের ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি জীবনব্যবস্থা। একজন মুসলিমের পোশাক, পরিচ্ছন্নতা, রুচি, ব্যবহার ও জীবনযাপনেও ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠা উচিত। এমন সৌন্দর্য, যা বিনয় শেখায়; এমন পরিচ্ছন্নতা, যা হৃদয়ের পবিত্রতার প্রতিফলন; এমন জীবনযাপন, যা মানুষকে আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রকাশ তখনই ইবাদত হয়ে ওঠে, যখন তা কৃতজ্ঞতা, শালীনতা ও বিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। তাই অপচয় নয়, কৃত্রিম দারিদ্র্যও নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যই হোক একজন মুমিনের পরিচয়।

তেতাল্লিশ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি জ্বালানি তেলের মজুদ সর্বনিম্নে

তেতাল্লিশ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি জ্বালানি তেলের মজুদ সর্বনিম্নে

টেক্সাসের ফ্রিপোর্টে, ব্রায়ান মাউন্ড সাইটে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর)। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। খবর সিএনএনের।

সোমবার প্রকাশিত মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা শুধু গত সপ্তাহেই এসপিআর থেকে আরও ৮৯ লক্ষ ব্যারেল তেল ছেড়েছেন। ফলে দেশটির জরুরি তেল মজুত কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৩ লক্ষ, যা ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা আগের সর্বনিম্ন রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।



বর্তমান মজুতের পরিমাণ ১৯৮৩ সালের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কম। তখন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসন প্রথমবারের মতো এই রিজার্ভ গড়ে তুলছিল।

জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব কমিয়ে ভোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি লিপো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের তেল ছাড় এবং চীনের রপ্তানি হ্রাসের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

পরপর দুটি যুদ্ধ এসপিআর থেকে একটি বড় অংশ নিঃশেষ করে দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এসপিআর থেকে মোট ৭৫ মিলিয়ন ব্যারেল বা প্রায় ১৮ শতাংশ তেল কমে গেছে। অথচ ২০২২ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রচারণা শুরু করার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করেছিলেন। তবে বর্তমানে তার প্রশাসন আরও দ্রুতগতিতে এই মজুত ব্যবহার করছে।

বর্তমানে এসপিআর ধারণক্ষমতার অর্ধেকেরও কম পূর্ণ রয়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের সিইও মাইক সোমার্স সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য রিজার্ভে অন্তত ২০ শতাংশ তেল থাকা প্রয়োজন।

আমরা এখনই বিপদ সংকেত দিচ্ছি বলে সোমার্স বলেন, এটি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি আমরা উদ্বিগ্ন।’

বিশ্লেষক অ্যান্ডি লিপো বলেন, মার্চ মাসে ঘোষিত ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার কর্মসূচি শেষ হলে এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার গতি কমাতে হতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, মেক্সিকো উপসাগরে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় উৎপাদন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিলে বর্তমানে যে নিরাপত্তা বাফার রয়েছে, তা আর অবশিষ্ট থাকবে না।

পবিত্র আশুরার তারিখ ঘোষণা

  বাংলাদেশের আকাশে মঙ্গলবার ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। সে অনুযায়...