Friday, 20 February 2026

রোজা বিষয়ে যা না জানলে নয়

 

রোজা বিষয়ে যা না জানলে নয়

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে আবার আমাদের মধ্যে ফিরে এলো পবিত্র রমজান। মুমিনের দ্বারে দ্বারে বেজে উঠেছে তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির আগমনী গান। এই মাস শুধু উপবাসের নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির তরে নিজেকে উৎসর্গ করার এক অনন্য প্রশিক্ষণ। রমজানের এই বরকতময় মুহূর্তগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে রোজার সঠিক নিয়মকানুন ও মাসায়েল জানা অত্যন্ত জরুরি।

যাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ

রমজানের চাঁদ উদিত হওয়ার পর প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান পুরুষ এবং নারীর ওপর পূর্ণ মাস রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেনÑ‘অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)

রোজার নিয়ত

রোজার নিয়ত করা ফরজ। নামাজ-রোজা ও অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই হলো নিয়ত। মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয়। তবে অন্তরের নিয়তের সঙ্গে সঙ্গে মুখে উচ্চারণ করে বললেও অসুবিধা নেই।

সাহরি ও ইফতার

সাহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়; এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা সাহরি খাও। কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে। (মুসলিম : ১০৯৫)

সূর্যাস্তের পর দেরি না করে ইফতার করা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যতদিন মানুষ দেরি না করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে। (বুখারি : ১৯৫৭)

যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়

১. স্ত্রী সহবাস করা।

২. খাবার গ্রহণ করা।

৩. পানীয় গ্রহণ করা।

৪. ভুলে খাওয়া বা পান করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা।

৫. বিড়ি-সিগারেট বা হুঁকা সেবন করা।

৬. কাঁচা চাল, আটার খামির বা একত্রে অনেক লবণ খাওয়া।

৭. এমন কোনো বস্তু খাওয়া, যা সাধারণত খাওয়া হয় না। যেমন—কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি।

৮. পাথর, কাদামাটি, কঙ্কর, তুলা-সুতা, তৃণলতা, খড়কুটো ও কাগজ গিলে ফেলা।

৯. নিজের থুতু হাতে নিয়ে গিলে ফেলা।

১০. ভুলে স্ত্রী সম্ভোগের পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা।

১১. বৃষ্টি বা বরফের টুকরো খাদ্যনালির ভেতরে চলে যাওয়া।

১২. দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে যদি তা থুতুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালিতে চলে যায়।

১৩. মুখে পান দিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক করা।

১৪. কাউকে জোরজবরদস্তি করে পানাহার করানো।

১৫. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা বা বমি আসার পর তা গিলে ফেলা।

১৬. মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের পর ঋতুস্রাব হলে।

(ফাতওয়া শামি, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ৩৭৫; ফাতওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৯৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১২৭)

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

০১. অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলাবালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।

২. অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।

৩. অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।

৪. বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।

৫. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।

৬. ইনজেকশন নেওয়া।

৭. ভুলক্রমে পানাহার করা।

৮. সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেওয়া।

৯. নিজ মুখের থুতু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।

১০. শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।

১১. ঠান্ডার জন্য গোসল করা।

১২. মিসওয়াক করা। যদিও মিসওয়াক করার দরুন দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হলো গলার ভেতর না পৌঁছানো।

১৩. ঘুমের মাঝে স্বপ্নদোষ হলে।

১৪. স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে কোনো কসরত ছাড়া বীর্যপাত হলে।

১৫. স্ত্রীকে চুম্বন করলে, যদি বীর্যপাত না হয় (রোজা না ভাঙলেও এটা রোজার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী)।

১৬. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত খেয়ে ফেললে (যদি পরিমাণে কম হয়), পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক ৪/৩১৩, দুররে মুখতার ৩/৩৭৩, ফাতহুল কাদির ২/৩৪৭, হিন্দিয়া ১/২০৩)

আল্লাহতায়ালা সবাইকে সঠিকভাবে রমজানের রোজা রাখার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের ইবাদতগুলো কবুল করে নিন। আমিন।

ছাড়া পেলেন সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু

 

ছাড়া পেলেন সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু


সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে।

গ্রেপ্তারের পরে রাজা চার্লস তৃতীয় বলেন, ‘আইনকে অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে’ এবং পুলিশকে ‘পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা’ দেওয়া হয়েছে। অ্যান্ড্রু রাজা চার্লসের ছোট ভাই।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক এবং গোপন তথ্য লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা এপস্টিনের ফাইলের কিছু অংশে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে দাবি করা হয়, ২০১০ সালে এপস্টিন আরেকজন নারীর সঙ্গে অ্যান্ড্রুর যৌন সম্পর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। ওই নারী তখন ২০-এর কোটায় ছিলেন এবং ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না। তবে গ্রেপ্তারকৃত অ্যান্ড্রু এই যৌন অপরাধের কোনো অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।

ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে সফরে গিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন সরকারি ও ব্যাবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রকাশিত নথি অনুসারে, আফগানিস্তানে স্বর্ণ ও ইউরেনিয়ামে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কিত তথ্য এবং ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও চীনের সরকারি সফরের প্রতিবেদন তিনি এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।

সরকারি নির্দেশনায় বলা রয়েছে, বাণিজ্য দূতদের সরকারি সফরের সংবেদনশীল, বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। অ্যান্ড্রু সব সময় এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে অন্যায় কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। জানুয়ারিতে এপস্টিন-সংক্রান্ত লাখ লাখ ফাইল প্রকাশের পরও তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

রাষ্ট্রদ্রোহে যাবজ্জীবন দণ্ডের পর ক্ষমা চাইলেন ইউন সুক ইয়োল

 

রাষ্ট্রদ্রোহে যাবজ্জীবন দণ্ডের পর ক্ষমা চাইলেন ইউন সুক ইয়োল

বিতর্কিত সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ২০২৪ সালে জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

বৃহস্পতিবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট অচল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যে বিদ্রোহের নেতৃত্ব তিনি দিয়েছিলেন, তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

সামরিক শাসন জারির চেষ্টার ফলে জনমনে যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা স্বীকার করে নিয়েছেন ইউন। তবে তিনি দাবি করেন, পদক্ষেপটি তিনি ‘সম্পূর্ণভাবে জাতির স্বার্থে’ নিয়েছিলেন।

আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে ইউন বলেন, “দেশকে রক্ষার সংকল্প থাকা সত্ত্বেও আমার অদূরদর্শিতার কারণে জনগণের যে ভোগান্তি ও হতাশা হয়েছে, সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি।”

যাবজ্জীবন দণ্ডের রায়কে ‘মেনে নেওয়া কঠিন’ বললেও তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। ৬৫ বছর বয়সী এই সাবেক প্রেসিডেন্ট কবে প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন, তা এখনও অনিশ্চিত। দেশটির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা সাধারণত ২০ বছর পর প্যারোলের আবেদন করতে পারেন।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক জি গুই-ইয়ন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কণ্ঠরোধ করতেই ইউন পার্লামেন্ট ভবনে সেনা পাঠিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য আইনসভাকে অচল করে দিতে চেয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে টেলিভিশনে আকস্মিক ভাষণে ইউন সুক ইয়োল সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়া-র প্রভাব ও তথাকথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’র হুমকির কথা উল্লেখ করে বেসামরিক সরকার স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে ছয় ঘণ্টার মধ্যেই আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে জরুরি ভোটের মাধ্যমে সেই মার্শাল ল বাতিল করে দেন।

‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার আবেদন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে খারিজ

 

‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার আবেদন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে খারিজ

মুঘল সম্রাট বাবর বা বাবরি মসজিদের নামে কোনো মসজিদ বা ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ বা নামকরণ নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার একটি বেঞ্চ আবেদনটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর আবেদনকারীর আইনজীবী তা প্রত্যাহার করে নেন।

শুনানির সময় আবেদনকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন, বাবর ছিলেন একজন ‘আক্রমণকারী’ এবং তার নামে কোনো ধর্মীয় স্থাপনা বা মসজিদ নির্মিত হওয়া উচিত নয়।



সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সদস্য ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এই ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সারাদেশে এই নামের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানানো হয়।

আবেদনকারী চেয়েছিলেন, সমগ্র ভারতে বাবর বা বাবরি মসজিদের নামে যেকোনো প্রকার নির্মাণ বা নামকরণের অনুমতি না দেওয়ার জন্য যেন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শীর্ষ আদালত এই মামলাটি গ্রহণে কোনো আগ্রহ না দেখানোয় আবেদনকারী শেষ পর্যন্ত পিটিশনটি প্রত্যাহার করে নেন। ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

Thursday, 19 February 2026

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

 

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?


রমজান মাসে, ইফতারের সময় খাবারের অন্যতম প্রধান উপকরণ খেজুর। সূর্যাস্তের সময় বিশ্বের কোটি মুসলমান এই খাবারটিকে বেছে নেন রোজা ভাঙার জন্য।

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। রমজান মাসে, মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, ইসলামের নবী রোজা ভাঙার জন্য খেজুর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআনেও বেশ কয়েকটি জায়গায় খেজুরের উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু খেজুরে এমন কী চিকিৎসাগত উপকারিতা রয়েছে যা রোজাদারদের জন্য একটি আদর্শ খাবার করে তোলে?

অনন্য 'পুষ্টিগত উপকারিতা'

রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় কিছু না খেয়ে থাকতে হয়। অনেকক্ষণ ধরে না খাওয়ার পর খেজুরের পুষ্টিগুণ মানুষের পাকস্থলীর জন্য একটি চমৎকার খাবার।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশির বলছেন, "যখন আপনি রোজা ভাঙেন, তখন আপনার শরীর তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ শরীরে জ্বালানি হিসেবে এটির প্রয়োজন হয়।"

খেজুরে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে, যা অন্যান্য খাবারের তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি করে।

শাহনাজ বশির আরও বলেন, "খেজুর অসাধারণ একটি খাবার, কারণ এতে শর্করা এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট উভয়ই থাকে।"

এর অর্থ হল এই ফলটি শরীরকে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করে। যারা দীর্ঘদিন ধরে কিছু খাননি তাদের জন্য এটি আদর্শ।

খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে শরীরকে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করতেও সহায়তা করে এই খাবারটি।

পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলুন

খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও, এটি মানুষের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিকভাবেই এতে ইলেক্ট্রোলাইট পটাসিয়াম থাকে, যা পানির জন্য চুম্বকের মতো কাজ করে, শরীরের কোষগুলোকে পানিতে পরিপূর্ণ করে তোলে।

শাহনাজ বশিরের মতে, "অনেকে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন এবং পানিও পান করেন। এটি শক্তির জন্য চমৎকার, পাশাপাশি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।"

তিনি আরও বলেন যে, "খেজুর খাওয়ার পরে, সাধারণত অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না।"

অতিরিক্ত খাওয়া

রমজান মাসে অনেকের ওজন কমে যায়, কিন্তু ইফতারে অতিরিক্ত খেলে রোজা রাখার পরও ওজন বাড়তে পারে।

ঐতিহ্যগতভাবে, অনেক মুসলিম ইফতারের পর বিজোড় সংখ্যক খেজুর (তিন, পাঁচ, সাত, অথবা নয়) খায় এবং এরপর মাগরিবের নামাজ পড়ে। নামাজ শেষে তারা আবারও খাবার গ্রহণ করে।

মানবদেহ তন্তুযুক্ত খেজুর হজম করতে শুরু করলে, অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যেতে পারে। এর ফলে একজন মানুষের জন্য খাবারের ভারসাম্য ধরে রাখা সহজ হয়।

শাহনাজ বশির বলছেন, "এটি (খেজুর) আপনার শরীরকে বুঝতে সাহায্য করে যে কিছু খাবার গ্রহণ করা হয়েছে এবং হজম প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।"

হজম

রোজাদার মুসলমানদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপা একটি সাধারণ অভিযোগ।

কারণ সাধারণ দিনগুলোতে, সারা দিন ধরে খাওয়া-দাওয়া চলতে থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সচল রাখে।

অন্যদিকে রমজান মাসে দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখায় এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধীর হয়ে যায়।

খেজুর ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের বর্জ্য পদার্থকে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগ প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দেয়।

শাহনাজ বশির বলছেন, "রমজানে মাঝে মাঝে আমরা সরল বা সিম্পল কার্বোহাইড্রেট খেতে চাই, যা শরীর দ্রুত হজম করে তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করে। কিন্তু যদি আমরা পরিকল্পনা করে রান্না করি, তাহলে আমরা এতে ফাইবারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারি।"

এক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শুকনো ফল ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ফাইবার গ্রহণ বাড়ানোর একটি সহজ উপায়।

খেজুর পছন্দ না হলে কী করা উচিত?

রমজান মাসে রোজা রাখা কেবল ধর্মীয় কারণেই নয় বরং স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে কিছু না খাওয়ার প্রবণতাও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

শাহনাজ বশিরের মতে, "এটা অনেকটা ঠিক রমজান মাসে আমরা যেভাবে রোজা রাখি তার মতোই।"

যদি একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট ধরনের খেজুর পছন্দ না করে, এতেও সমস্য নেই বলে মনে করেন মিজ বশির। "শত শত ধরনের খেজুর রয়েছে, এক্ষেত্রে অন্য ধরনও চেষ্টা করা যেতে পারে," বলেন তিনি।

"এগুলোর গঠন আলাদা ধরনের, কিছু শক্ত যা চিবিয়ে খেতে হয়, কিছু খুব নরম। কোনোটির ত্বক পুরু আবার কোনোটির ত্বক পাতলা," শাহনাজ বশির বলেন।

তার পরামর্শ, যদি এরপরও কারো খেজুর খেতে ইচ্ছা না করে, তাহলে স্মুদি বা শরবতে খেজুর যোগ করুন।

"খেজুর এবং দুধ একসাথে মিশিয়ে নিন, সামান্য দই এবং শুকনো ফল যোগ করুন, মিশিয়ে খান। এগুলো খুবই ভালো খাবার যা শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী," বলেন তিনি।

রোজা বিষয়ে যা না জানলে নয়

  রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে আবার আমাদের মধ্যে ফিরে এলো পবিত্র রমজান। মুমিনের দ্বারে দ্বারে বেজে উঠেছে তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির আগমনী ...