Sunday, 7 June 2026

আসছে ডায়াবেটিসের নতুন ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ‍টিকা

 

আসছে ডায়াবেটিসের নতুন ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ‍টিকা

টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতা মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে সপ্তাহে একবার নেওয়া ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ইনজেকশন রেটাট্রুটাইড । সম্প্রতি প্রকাশিত ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গেছে, এই নতুন ওষুধ রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পাশাপাশি শরীরের ওজনও ব্যাপকভাবে কমাতে সক্ষম।





চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় ৯৩০ জন টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউই আগে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করছিলেন না। তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল না এবং সবার বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ছিল অন্তত ২৩।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪, ৯ অথবা ১২ মিলিগ্রাম রেটাট্রুটাইড কিংবা প্লাসেবো দেওয়া হয়। ৪০ সপ্তাহ ধরে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা (এইচবিএ১সি), ওজন, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, রেটাট্রুটাইড গ্রহণকারীদের এইচবিএ১সি গড়ে ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে, যেখানে প্লাসেবো গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে রেটাট্রুটাইড গ্রহণকারীদের শরীরের ওজন গড়ে ১১ দশমিক ৫ থেকে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা প্লাসেবো গ্রুপের ২ দশমিক ৬ শতাংশ ওজন হ্রাসের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।

গবেষকদের মতে, রেটাট্রুটাইডের বিশেষত্ব হলো এটি একসঙ্গে তিনটি অন্ত্র-হরমোন জিএলপি-১, জিআইপি এবং গ্লুকাগনের কার্যকারিতা অনুকরণ করে। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি মূলত জিএলপি-১ কে অনুসরণ করে ক্ষুধা কমায়, আর মাউনজারো জিএলপি-১ ও জিআইপির সমন্বয়ে কাজ করে। তবে রেটাট্রুটাইড অতিরিক্তভাবে গ্লুকাগন রিসেপ্টর সক্রিয় করে শরীরের শক্তি ব্যয়ও বাড়ায়, যা ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপের উন্নতিও লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ১৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, এর মধ্যে দুজন ছিলেন প্লাসেবো গ্রুপে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এবং সময়ের সঙ্গে তা কমে যায়। পরিপাকতন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

গবেষকরা মনে করছেন, যেসব রোগীর টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের জন্য এই নতুন ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে আরো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান রয়েছে।

স্থূলতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাথ ম্যাককালো বলেন, ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় ভোগা অনেক মানুষের জন্য এ ধরনের চিকিৎসা সত্যিকার অর্থেই জীবন বদলে দিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওষুধ কোনো ‘জাদুকরী সমাধান’ নয়; দীর্ঘমেয়াদে মানুষের এমন অবস্থায় পৌঁছানোই রোধ করতে হবে যাতে তাদের এসব ওষুধের প্রয়োজন না হয়।

অন্যদিকে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএস এপিডেমিওলজির বিশেষজ্ঞ ডা. মেরি স্প্রেকলি বলেন, গবেষণায় দেখা ওজন হ্রাসের মাত্রা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তবে এই গবেষণায় রেটাট্রুটাইডকে বর্তমান জনপ্রিয় ওষুধ সেমাগ্লুটাইড বা টিরজেপাটাইডের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা হয়নি। ফলে এটি বিদ্যমান চিকিৎসার তুলনায় কতটা বেশি বা কম কার্যকর, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ওজন কমানোই সর্বোত্তম স্বাস্থ্যগত ফল নিশ্চিত করে না। চিকিৎসার সময় রোগীদের পর্যাপ্ত পুষ্টি, পেশিশক্তি সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ডায়াবেটিস ইউকের গবেষণা ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ডা. লুসি চেম্বার্স বলেন, এই ফলাফলগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। নতুন এই শ্রেণির ওষুধ একই সঙ্গে ওজন কমানো এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে দ্বৈত সুবিধা দিতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসার সঙ্গে তুলনামূলক কার্যকারিতা জানতে আমরা আরো গবেষণার অপেক্ষায় রয়েছি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কোরবানি কার নামে হবে, যা বলছে ইসলাম

কোরবানি কার নামে হবে, যা বলছে ইসলাম

ছবি: আল-জাজিরা

কোরবানির সময় এলেই অনেকেই নিজের নাম ছাড়াও বাবা-মা, নাবালক সন্তান বা মৃত আত্মীয়স্বজনের নামেও কোরবানি দিয়ে থাকেন। অনেক পরিবারে আবার একটি পশু কোরবানিতে কয়েকজন শরিক হন, কেউ কেউ মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য নামেও অংশ রাখেন।

কোরবানি কার নামে হবে, কার ওপর ওয়াজিব এবং অন্যের নামে কোরবানি দেওয়া যাবে কি-না এসব বিষয় নিয়ে ইসলামি শরিয়তে নির্দিষ্ট কিছু বিধান রয়েছে।





মূলত, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার মতো প্রাণী একজনের পক্ষ থেকে একটি কোরবানি হিসেবেই আদায় করা হয়। অর্থাৎ, এসব পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারেন না। তবে গরু, মহিষ বা উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়া যায়। প্রত্যেকের নিয়ত ও অংশ আলাদা হলেও কোরবানি একটি পশুর মাধ্যমেই আদায় করা সম্ভব।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন,‘সাতজন মানে সাতটি নামের পক্ষ থেকে। সাতটি নামের চেয়ে কমও হতে পারে, বেশি হতে পারবে না। ভাগের ক্ষেত্রে নামের বিষয়টি হলো, অমুকের পক্ষ থেকে (কোরবানি হচ্ছে) এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোরবানির পশু জবাই আল্লাহ'র নামে করতে হয়।’

শরীফ মুহাম্মদ বলেন,‘কিন্তু মৃত বাবা-মায়ের নামে কোরবানি করা যাবে? স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই কি আলাদা কোরবানি প্রয়োজন? নাবালক সন্তান বা যাদের আয় রোজগার নেই, তাদের নামে কোরবানি দেওয়া যাবে?

কোরবানি মূলত কার ওপর ওয়াজিব?

ঈদ-উল-আজহা বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সৃষ্টিকর্তার সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশের মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।

আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির দিন ও পরবর্তী দুই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে থাকেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, যাদের ওপর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব তারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি না দেন, তাহলে গোনাহের ভাগীদার হতে হবে।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নেসাব অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত ভরি পরিমাণ স্বর্ণ অথবা, সাড়ে ৫২ ভরি পরিমাণ রুপা বা এর সমমূল্যের নগদ টাকা অথবা সম্পদ থাকলে তার জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। যাদের এই পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তি নেই, তাদের জন্য পশু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। এই নিয়ম নারী-পুরুষ সবার জন্য প্রযোজ্য।

ইসলামের নবী মুহাম্মদের সময় মানুষের সম্পদের হিসাব অনেক ক্ষেত্রে স্বর্ণ-রুপা দিয়েই করা হতো। তাই, ইসলামে ‘নেসাব’ নির্ধারণে স্বর্ণ ও রুপাকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।

বর্তমান বাজারে মানভেদে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১৮ লাখ কিংবা ১৮ লাখের চেয়ে কিছুটা বেশি। অন্যদিকে, সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দাম প্রায় তিন লাখ টাকার কাছাকাছি। সেক্ষেত্রে রুপার নেসাব ধরলে যারা স্বচ্ছল নয়, তাদের ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ এ বিষয়ে বলেন, ‘নবী মুহাম্মদ সা:-এর সময় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ এবং সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দাম এক ছিল। যুগ পরিক্রমায় এখন দামে পার্থক্য হয়ে গেছে। তাই, এখন সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বাজারে যে দামে বিক্রি হয়, সেই পরিমাণ অর্থ যদি জিলহজ মাসের ১০, ১১, ১২-এই তিন দিনে যদি কারো হাতে জমা থাকে, তাহলে উনি কোরবানি দিবেন।

কখন অন্য কারো নামে কোরবানি দেওয়া যাবে?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। তবে অনেকেই আছেন, যারা অন্যদের নামেও কোরবানি দেন।

যেমন, কেউ তার কোনো পরিবারের সদস্য বা প্রিয় মানুষের নামে কোরবানি দেন। অনেকেই আছেন, যারা তাদের মৃত বাবা-মায়ের নামে বা কোনো আত্মীয়ের নামে কোরবানি দেন।

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে মৃত বাবা-মা বা স্বজনদের নামে কোরবানি দেওয়ার প্রচলন অনেক পুরোনো। ইসলামি দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি দেওয়া জায়েজ।

অনেকেই মনে করেন, এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াবের দোয়া করা হয়।

তবে, জীবিত বা মৃত, অন্য কারো নামে কোরবানি দেওয়ার সর্বপ্রথম শর্ত হলো, আগে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে হবে। তারপর সে অন্য কারো নামও যুক্ত করতে পারবে বলে জানান শরীফ মুহাম্মদ।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন,‘নিজের নামে দিয়ে অন্যদের নামে দেওয়া যায়। তা হতে পারে কোনো মহান ব্যক্তি বা কোনো প্রিয় মানুষ বা পরিবারের সদস্য। তবে মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোরবানি দিলে সেই গোশত গরীবকে একটু বেশি দিলে ভালো হয়।’

এছাড়া, অনেকেই আছেন যারা তাদের নাবালক সন্তানের নামে কোরবানি দেন। নাবালক সন্তানের নামেও কোরবানি দেওয়ার জায়েজ আছে বলে জানান শরীফ মুহাম্মদ।

সব শরীককে কি সমান অর্থ দিতে হবে?

বিধান অনুযায়ী, সব শরীককে সমান অর্থ দিতে হবে এবং গোশত সমবন্টন করতে হবে।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘সাতজন যদি একদমই স্বতন্ত্র হয়, যেমন- ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের বা ভিন্ন ব্যক্তি, তাহলে তারা প্রত্যেকে সমান টাকা দিবেন এবং গোশতও সমানভাবে ভাগ করে নিবেন।’

অধ্যাপক আব্দুর রশীদ বলেন,‘তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, অনেকেই আছেন, যারা কোরবানি দিতে চান কিন্তু প্রতি ভাগে যে পরিমাণ টাকা দিতে হবে, তিনি সেই পরিমাণ দিতে পারছে না। তখন ‘কেউ তাকে ১০ হাজার টাকা উপহার হিসেবে দিতে পারে। কিন্তু গোশত সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। কেউ উপহার হিসেবে দিলে সমস্যা নাই।’

তবে কেউ যদি সন্তান হিসেবে তার মায়ের বা বাবার নামে কোরবানি দেন, এমনকি পরিবারের অন্য কারো নামে বা একাধিক ব্যক্তির নামে স্বেচ্ছায় কোরবানি দেন, তখন তাদের কাছে সেই টাকা চাওয়া জরুরি না বলে জানিয়েছেন ইসলামি স্কলাররা।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘আর স্বামী হিসেবে কেউ যদি স্ত্রীর নামে কোরবানি দিতে চান, স্ত্রীর কোরবানি ওয়াজিব হোক বা না হোক, সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে না জানিয়ে করার চেয়ে জানিয়ে করা ভালো। যদি স্ত্রীর কোরবানি ওয়াজিব হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে নিয়ত করতে হবে যে তার কোরবানিটা তার স্বামী করছেন।’

যদিও অধ্যাপক আব্দুর রশীদের মতে, মৃত ব্যক্তি বা অন্য কারো নামে কোরবানি দিলে এখানে অনুমতির প্রয়োজন নাই। যে কারো নামেই কোরবানি দেওয়া যেতে পারে। আর কোনো নারী যদি অবিবাহিত হন এবং তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে তাকেও আগে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে হবে। এরপর তিনিও তার বাবা-মা বা অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজন বা প্রিয়জনের নামে নিজ অর্থেই কোরবানি দিতে পারবেন।

ঋণ নিয়ে কোরবানি করা যায়?

এদিকে, অনেকেই আছেন, যারা খুব স্বচ্ছল নন, কিন্তু কোরবানি দিতে চান। সেক্ষেত্রে তারাও কোরবানি দিতে পারবেন এবং তা নফল হিসেবে কবুল হবে উল্লেখ করে ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলছিলেন, এখানে একটা শর্ত আছে।

তিনি বলেন, ‘ধরলাম, বাচ্চাদের মন খারাপ হয়ে আছে। সেজন্য তিনি কোরবানি দিতে চান। তাহলে হবে না। এখানে শর্ত হলো, কোনো সামাজিক উপলক্ষ্যই এখানে মূখ্য হতে পারবে না। নিয়ত থাকতে হবে যে আল্লাহকে খুশি করার জন্য করছি। অর্থাৎ, এটা প্রদর্শনমূলক না।’

তিনি আরো বলেন এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি ঋণ নিয়ে সেই নফল কোরবানি আদায় করতে পারবেন। কিন্তু বারবার ঋণ করার পর সেই ঋণ ওয়াদামাফিক পূরণ না করতে পারলে সেটারও দরকার নাই করার।’

এছাড়া যারা ১০০ বা হাজার কোটি টাকা শিল্প ঋণ নিয়েছেন নেসাবের পরিমাণ মিলাতে গিয়ে তাদের ঋণের পরিমাণ ধর্তব্য হবে না। কারণ ঋণের টাকা হিসাবে ধরা হলে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তার কোরবানি আবশ্যকীয় থাকে না।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘কিন্তু ব্যক্তিগত লোন, তা ১০ হাজার টাকা হোক বা ১০ লাখ টাকা হোক, এটা প্লাস-মাইনাস করে যদি দেখা যায় যে লোন পরিশোধ করেও আপনার কাছে নেসাব পরিমাণ অতিরিক্ত টাকা আছে, তাহলে আপনার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে।’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেন উত্তর কোরিয়া সফর করছেন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেন উত্তর কোরিয়া সফর করছেন

প্রায় সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দুই নেতার সাক্ষাতের জন্য নয়, বরং উত্তর কোরিয়ায় চীনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।





শি জিনপিং সর্বশেষ ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বিদেশ সফর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন। সাধারণত বিভিন্ন দেশের নেতারাই এখন বেইজিংয়ে গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করেন। তাই শির নিজে পিয়ংইয়ং সফরে যাওয়া চীনের জন্য বিষয়টির বিশেষ গুরুত্বের ইঙ্গিত বহন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের দ্রুত ঘনিষ্ঠতাই চীনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জনবল সরবরাহ করেছে। এর বিনিময়ে মস্কো থেকে বিপুল অর্থ ও সম্ভাব্য সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে প্রায় ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সহায়তা দিয়েছে। এর বড় একটি অংশ উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশের মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং আশঙ্কা করছে যে, রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়লে উত্তর কোরিয়ায় চীনের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমে যেতে পারে। ফলে শি জিনপিংয়ের সফরের মাধ্যমে চীন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার চেষ্টা করতে পারে।

একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিও চীনের উদ্বেগের কারণ। চলতি বছর দেশটি ইতোমধ্যে আটবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। সম্প্রতি তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রিত নতুন ট্যাকটিক্যাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে। এছাড়া কিম জং উন সম্প্রতি একটি নতুন পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, যা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হবে বলে জানানো হয়েছে।

কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ১৯৫০ সালের কোরিয়া যুদ্ধের পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালে কিম জং উন কোরীয় পুনঃএকত্রীকরণের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দক্ষিণ কোরিয়া আশা প্রকাশ করেছে, শি জিনপিংয়ের এই সফর কোরীয় উপদ্বীপের চলমান সংকট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, শি ও কিমের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বৈঠকের বিষয়টিও উঠে আসতে পারে।

এদিকে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক-লজিস্টিক সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা। জাপানের সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং সিউল-টোকিও ঘনিষ্ঠতা নিয়েও চীনের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, উত্তর কোরিয়ার সামরিক অগ্রগতি এবং পূর্ব এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Saturday, 6 June 2026

কোরবানি আমাদের কী শেখাল

 

কোরবানি আমাদের কী শেখাল

ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো কোরবানি, যা শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, আত্মত্যাগ, তাকওয়া এবং মানবিকতার এক মহান শিক্ষা। প্রতিবছর জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনগুলোয় বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কোরবানি করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোরবানি শেষ হওয়ার পর আমাদের জীবনে এর প্রভাব কতটুকু থাকে? কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা কি শুধু কয়েক দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি তা আমাদের সারা জীবনের পথচলাকে প্রভাবিত করে? পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের গোশত এবং রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ : ৩৭)

এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য পশুর রক্ত প্রবাহিত করা নয়; বরং মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি, আত্মশুদ্ধি এবং তাঁর নির্দেশের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের গুণ সৃষ্টি করা। কোরবানির ইতিহাস আমাদের নিয়ে যায় ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর সেই অনন্য আত্মত্যাগের ঘটনায়। আল্লাহর নির্দেশের সামনে তাঁরা নিজেদের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকেও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। এ ঘটনা শুধু অতীতের একটি স্মৃতি নয়; বরং প্রতিটি মুমিনের জন্য এক চিরন্তন শিক্ষা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রবৃত্তি, স্বার্থ, লোভ এবং অবাধ্যতাকে কোরবানি করার মানসিকতা গড়ে তোলাই কোরবানির প্রকৃত লক্ষ্য।





দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় আমরা কোরবানিকে একটি সামাজিক বা পারিবারিক আয়োজন হিসেবে দেখি। পশু কেনা, জবাই করা, গোশত বণ্টন করা এবং আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দেওয়ার মধ্যেই যেন আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। অথচ কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া। যদি কোরবানির পরও আমাদের জীবনে মিথ্যা, প্রতারণা, অন্যায়, হিংসা, অহংকার এবং অবাধ্যতা থেকে যায়, তাহলে কোরবানির চেতনা আমাদের অন্তরে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলা কঠিন।

কোরবানি আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। এই ত্যাগ শুধু অর্থ ব্যয় করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো কখনো সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়। কখনো অন্যের কল্যাণে নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিতে হয়। কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হারাম উপার্জনের সুযোগ ছেড়ে দিতে হয়। কোরবানির পর একজন মুসলমানের জীবনে এই ত্যাগের মানসিকতা আরো শক্তিশালী হওয়ার কথা। এছাড়া কোরবানি আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়িত্বের শিক্ষা দেয়। কোরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং দরিদ্র মানুষের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বন্ধন দৃঢ় হয়। কিন্তু বছরের বাকি সময়েও কি আমরা অসহায় মানুষের খোঁজ রাখি? কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো সারাবছর মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, অসুস্থের খোঁজ নেওয়া, বিপদগ্রস্তের সহযোগিতা করা এবং সমাজের দুর্বল মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

কোরবানি আমাদের অহংকার থেকে মুক্ত হওয়ারও শিক্ষা দেয়। মানুষ যখন একটি পশু আল্লাহর নামে কোরবানি করে, তখন সেই উপলব্ধি করে যে তার ধন-সম্পদ, সামর্থ্য এবং জীবনের সবকিছুই মূলত আল্লাহর দান। তাই সম্পদ নিয়ে গর্ব করার কোনো সুযোগ নেই। কোরবানির পর একজন মুসলমানের উচিত বিনয়ী হওয়া এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধি করা।

একই সঙ্গে কোরবানি আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। মানুষের নফস বা প্রবৃত্তি সবসময় তাকে নিজের ইচ্ছার অনুসরণ করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু কোরবানির শিক্ষা হলো আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা। যে ব্যক্তি কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের চর্চা করে, তার জন্য হারাম থেকে বেঁচে থাকা, অন্যায় থেকে দূরে থাকা এবং নৈতিক জীবনযাপন করা সহজ হয়। আজকের সমাজে নানা ধরনের নৈতিক অবক্ষয়, স্বার্থপরতা ও ভোগবাদ আমাদের চারপাশকে গ্রাস করছে। মানুষ ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় কোরবানির শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

কোরবানি আমাদের শেখায়, জীবনের উদ্দেশ্য শুধু ভোগ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মানুষ যত বেশি ত্যাগ করতে শিখবে, তত বেশি সে মানবিক, উদার ও আল্লাহভীরু হয়ে উঠবে। কোরবানির পর আমাদের উচিত আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের মূল্যায়ন করা। আমরা কি সত্যিই আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল হতে পেরেছি? আমাদের নামাজ, রোজা, সততা, আমানতদারি এবং পারিবারিক ও সামাজিক আচরণে কি কোরবানির প্রভাব পড়েছে? যদি না পড়ে, তবে কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জনে আমাদের আরো সচেষ্ট হতে হবে।

বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্মের জন্য কোরবানির শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের যুবসমাজ নানা প্রলোভন ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাদের সামনে কোরবানির চেতনা তুলে ধরতে হবে, যাতে তারা আত্মনিয়ন্ত্রণ, নৈতিকতা এবং আল্লাহভীতির গুণে সমৃদ্ধ হতে পারে। একটি আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য এ মূল্যবোধের বিকল্প নেই। পরিবারেও কোরবানির শিক্ষা চর্চা করা প্রয়োজন। সন্তানদের শুধু পশু জবাই দেখালেই হবে না; বরং তাদের বোঝাতে হবে যে কোরবানি মানে আল্লাহর জন্য ত্যাগ করা। তাদের মধ্যে দানশীলতা, সহমর্মিতা ও মানবিকতা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই কোরবানির প্রকৃত চেতনা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সঞ্চারিত হবে।

কোরবানি-পরবর্তী জীবনের সবচেয়ে বড় আহ্বান হলো—আমরা যেন শুধু একটি পশু কোরবানি করেই থেমে না যাই; বরং নিজেদের ভেতরের অহংকার, হিংসা, লোভ, স্বার্থপরতা এবং পাপপ্রবণতাকেও কোরবানি করার চেষ্টা করি। কারণ আল্লাহতায়ালা মানুষের বাহ্যিক রূপ বা সম্পদের দিকে নয়, বরং তার অন্তরের তাকওয়া ও আন্তরিকতার দিকে দৃষ্টি দেন।

পরিশেষে মনে রাখতে হবে, কোরবানি কোনো একদিনের অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি চলমান শিক্ষা। ঈদুল আজহার কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কোরবানির ত্যাগ, তাকওয়া, আনুগত্য ও মানবিকতার চেতনাকে সারা বছরের জীবনে ধারণ করাই একজন মুমিনের প্রকৃত কর্তব্য। আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে যদি কোরবানির শিক্ষা প্রতিফলিত হয়, তবে শুধু আমাদের জীবনই নয়, পুরো সমাজও শান্তি, সৌহার্দ্য ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

আসছে ডায়াবেটিসের নতুন ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ‍টিকা

  টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতা মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে সপ্তাহে একবার নেওয়া ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ইনজেকশন রেটাট্রুটাইড । সম্প্র...