Monday, 27 July 2026

আজ থেকে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু



আজ ২৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যে আগামী বছর হজে গমনেচ্ছুদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তবে প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে করতে হবে প্রাক-নিবন্ধন। আর এ বছরই ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।





সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিতদের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

নিবন্ধন করা যাবে যেখানে

সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছুদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

হজে যেতে পারবেন না যারা

১৫ বছরের কম বয়সি কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন-হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়বিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমেনশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন ক্যানসার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না। এছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন-যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো নারী হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবেন না।

প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার, যেসব দেশের নাগরিক বেশি



সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহে আইন অমান্য করার অভিযোগে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪,৯৭০ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে আটক করা হয়।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইনের ৭,৪৩৭ জন, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের ৩,৯৯১ জন এবং শ্রম আইনের ৩,৫৪২ জন অপরাধী রয়েছেন।





এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরব ঢোকার সময় আরো ১,৬২৬ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার সময় ধরা পড়েছেন ৩৩ জন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের সাহায্য বা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮ জন।

বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং এর মধ্যে ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের সাহায্য করলে ১৫ বছরের জেল এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষকেও এ ধরনের অপরাধ দেখলে পুলিশকে গোপনে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালেন ইসরাইলপন্থি জেলেনস্কি



কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, হামলায় তাদের একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর তেহরান ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।





ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাস্পিয়ান সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। তেহরানের দাবি, এই ঘটনা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরো বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি জাহাজটির নাম প্রকাশ করেননি।

জেলেনস্কি আরো অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইরানকে উপসাগরীয় অঞ্চল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সম্পর্কিত স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে, যা পরবর্তীতে ইরানের সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইউক্রেন এসব তথ্য তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করবে।

কেন মুখোমুখি ইরান ও ইউক্রেন?

২০২২ সালে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পর থেকেই তেহরান ও কিয়েভের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৪৪ হাজারেরও বেশি ইরানি নকশার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ার পর ইউক্রেন উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তাও প্রদান করেছে।

নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কাস্পিয়ান সাগরকে ইরানের তুলনামূলক নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার পর সেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমানে দক্ষিণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার কারণে ইরান ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাস্পিয়ান সাগরেও যদি ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে দেশটির বাণিজ্য, জ্বালানি রপ্তানি এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আরো বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

পাল্টা জবাব দেবে কি ইরান?

এখনও পর্যন্ত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি ইরান। তবে দেশটির বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ইউক্রেন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লার মধ্যেই রয়েছে। ফলে তেহরান চাইলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আর না বাড়াতে বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কাতার, মিসর, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অন্তত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যাতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়।

সূত্র: আল জাজিরা

Thursday, 23 July 2026

বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

 



ইসলামে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্ব এবং আমানত। বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও ইসলাম এটিকে কোনো শর্তহীন অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং ন্যায়বিচার, আর্থিক সামর্থ্য, দায়িত্বশীলতা এবং আল্লাহভীতিকে একাধিক বিয়ের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিয়ে গোপন রাখার অনুমোদন নেই। বরং বিয়ের পর তা সমাজে ঘোষণা করা বা প্রচার করা আবশ্যক।

বিয়ের ঘোষণা (ই’লান): রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, তোমরা বিয়ে প্রকাশ্যে সম্পন্ন করো। বিয়ে যে সম্পন্ন হয়েছে, তা যেন সমাজের মানুষ জানতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





সাক্ষী ও অভিভাবক: বিয়ের আকদ বা চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো দুইজন মুসলিম পুরুষ (অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) সাক্ষী এবং কনের অভিভাবকের (ওয়ালী) উপস্থিতি থাকতে হবে। হাদিসে এসেছে, অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না। (সহিহ ইবনে হিব্বান)

ওলিমা: বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার সবচেয়ে উত্তম এবং সুন্নাতসম্মত মাধ্যম হলো ‘ওলিমা’ বা বিয়ের খাবার আয়োজন করা। সামর্থ্য অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবীদের দাওয়াত খাইয়ে বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং জানান দেওয়া ওয়াজিব বা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ওয়ালিমা করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করার পরদিন ওয়ালিমা করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস নম্বর-৫১৭০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছাফিয়াহ (রা.)-কে বিয়ের পর তিন দিন যাবৎ ওয়ালিমা খাইয়েছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নম্বর-৩৮৩৪)

ঢোল বাজানো ও আনন্দ করা: ইসলামে বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার জন্য মেয়েদের দফ (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজিয়ে গান গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে আশেপাশের মানুষ বুঝতে পারে যে বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা বিয়ের ঘোষণা দেবে এবং তা মসজিদে সম্পন্ন করবে। আর এ উপলক্ষে দফ বাজাবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৮৯)

আজ থেকে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

আজ ২৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যে আগামী বছর হজে গ...