Thursday, 12 March 2026

রমজানে পাপমুক্ত জীবনের অনুশীলন

 

রমজানে পাপমুক্ত জীবনের অনুশীলন
ছবি: সংগৃহীত

রমজান পুণ্য অর্জনের মাস। আমরা প্রত্যেকেই রমজানে বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করি। সাধ্যমতো সবাই চেষ্টা করি এ মাসে রোজা, তারাবি, কোরআন তেলাওয়াত, জাকাত-ফিতরা ও দান-সদকার মাধ্যমে পুণ্য অর্জন করতে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের যোগ্য হতে। তবে এসবের পাশাপাশি রোজার আচরণবিধি মেনে চলাও জরুরি। রোজায় সব ধরনের পাপ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ রোজা ফরজ করা হয়েছে মানুষকে তাকওয়াসম্পন্ন বানানোর জন্য। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়াসম্পন্ন হও।’ (সুরা বাকারাÑ১৫৩) আর তাকওয়ার মূল কথাই হলো, সর্বদা আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা এবং তার কাছে জবাবদিহির ভয়ে সব ধরনের নাফরমানি-অবাধ্যতা থেকে নিবৃত্ত থাকা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতেও রোজায় গুনাহ বর্জনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেমন তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে অসত্য কথা ও অন্যায় কাজ বর্জন করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বোখারি) আরেক হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা থাকলে সে যেন অশ্লীল ভাষায় কথা না বলে এবং চিৎকার করে বাক্যবিনিময় না করে। তথাপি কেউ যদি তার সঙ্গে বিবাদ-ঝগড়ায় প্রবৃত্ত হয় কিংবা লড়াই করতে আসে, তাহলে (অনাগ্রহ দেখিয়ে) বলবে, আমি রোজাদার। (তাই আমি কিছুতেই তোমার সঙ্গে বিবাদে জড়াব না)।’ (প্রাগুক্ত) কোনো কোনো সময় আমরা নিজের থেকে হয়তো মন্দ কথা বলি না, কিন্তু পরিস্থিতির শিকার হলে আর সংযত থাকা যায় না। হাদিসে এমন পরিস্থিতির করণীয়ই বলে দেওয়া হয়েছে।

তাই রোজায় যেমন ব্যক্তিজীবনের প্রতিটি ফরজ কাজ ঠিকমতো আদায় করতে হবে। তেমনি সমাজ জীবনে কেউ যেন আমার কথা-কাজে কষ্ট না পায়, সেদিকটিও খেয়াল রাখতে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘সে প্রকৃত মুসলিম যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।’ (মুসলিম)

গিবত-পরনিন্দা, হিংসা-পরশ্রীকাতরতা, মিথ্যা, অহংকার, দুর্নীতি, সুদ, ঘুস ও অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, ইত্যকার সব অন্যায়-অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। রমজানে আমাদের সারা বছরের জন্য এমন পাপাচার-অনাচারমুক্ত জীবনেরই অনুশীলন করা হয়।

আবারও ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ

 

আবারও ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলে আবারও হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী বলছে, তারা উত্তর ইসরাইলের শ্তুলা শহরে এ চালিয়েছে।

লেবাননে বৈরুতে ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধে এ হামলা চালানো হয় বলে উল্লেখ করে তারা। এর আগে লেবাননের রাজধানীতে একের পর এক ভারী হামলা চালাল ইসরাইল।

এদিকে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে একযোগে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তত ১০০টি রকেট ছোড়া হয়েছে বলে দাবি ইসরাইলের। সূত্র: আল জাজিরা

অধিবেশন শুরুর আগেই উত্তাপ


অধিবেশন শুরুর আগেই উত্তাপ

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। তবে অধিবেশন শুরুর আগেই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি প্রথম দিনের বৈঠকেই বিরোধী দলের ওয়াক আউটের আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তাদের মিত্র সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া, ওই পরিষদের শপথ-সংক্রান্ত চিঠি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে উচ্চ আদালতের জারি করা রুলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে।

এদিকে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টিও নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জন্ম দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক।

বিরোধী দল অধিবেশনে যোগ দিলেও রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় অধিবেশন বর্জন করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। অবশ্য এ বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে খোলাসা করে কিছু বলা হয়নি। আজ এ বিষয়ে তারা দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের একতরফা সংসদের অবসান ঘটিয়ে নতুন একটি সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। এবার সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বিরোধী দলও তুলনামূলকভাবে বেশ শক্তিশালী। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বিগত সময়ের মতো সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি থেকে তারা বেরিয়ে আসবে, সংসদে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে এবং ভুল ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের পরামর্শ দেবে।

জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকারি দলের পক্ষে চিফ হুইফ নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব এবং সেই পথ ধরেই আমরা জাতিকে আরো শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারব।

অপরদিকে দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপে সমর্থন-সহযোগিতা করবেন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার ভুল করলে আমরা সংশোধনের সুযোগ ও পরামর্শ দেব। এতে কাজ না হলে প্রতিবাদ করব; আর প্রতিবাদে কাজ না হলে জনগণের অধিকারের পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়াব।

এদিকে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছিল সরকারি দল। তবে তাতে সাড়া দেয়নি বিরোধী পক্ষ। তাদের বক্তব্য, খণ্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেওয়ার পরিবর্তে তারা জুলাই সংস্কারের পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়ন চায়। মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। এটাকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এর পরপরই ভেঙে দেওয়া হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় এবার সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতায় ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠক শুরু হচ্ছে।

সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠক শুরুর কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। গত সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং গণহত্যা মামলায় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাবন্দি থাকায় নতুন সংসদের সিনিয়র কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠক শুরু হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, স্পিকারের চেয়ার ফাঁকা রেখেই কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রথমে শুরু হবে অধিবেশন। এরপর বৈঠকে সভাপতিত্ব করার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান সংসদের একজন সিনিয়র সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। অন্য একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। তারপর ওই সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হবে। প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি নির্বাচন করবেন। স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলে কিছুক্ষণের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এই ফাঁকে রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন। শপথ গ্রহণ শেষেই নতুন স্পিকার মুলতবি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। অবশ্য ডেপুটি স্পিকার প্রথমে নির্বাচন না করা হলে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে নির্বাচন করা হবে।

নতুন স্পিকার সভাপতির আসনে বসে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেবেন। এরপর সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটিও গঠন হবে আজকের বৈঠকে। পরে রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণদানের মাধ্যমে প্রথম দিনের অধিবেশন শেষ হবে।

সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর সে ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

এদিকে প্রথম অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর কমিটির বৈঠকে প্রথম অধিবেশনের সময়কাল ঠিক হবে। সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়।

সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হবেন এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকাল সরকারি দলের সভায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে বিএনপির সংসদীয় দল। তবে স্পিকার হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এর বাইরে পটুয়াখালী-১ আসনের আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. এম ওসমান ফারুক আলোচনায় রয়েছেন। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদও। তবে স্পিকার হতে হলে তাকে আগে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এদিকে ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

জানা গেছে, আজ প্রথম বৈঠকের পর দুদিন বিরতি দিয়ে ১৫ মার্চ রোববার দ্বিতীয় বৈঠক হবে। এরপর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুই সপ্তাহের মতো বিরতি দিয়ে ২৯ মার্চ ফের অধিবেশন শুরু হবে। এপ্রিলের দ্বিতীয়ার্ধে এ অধিবেশন শেষ হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে অধিবেশন শুরুর আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলের দাবি, যে চারটি বিষয়ের ওপর গণভোট হয়েছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য তারা দুটি পদে শপথ নিয়েছেন। ওই সনদ বাস্তবায়নে তারা সংসদে যাচ্ছেন।

গত শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি, ফ্যাসিস্টের রেখে যাওয়া লেজুড় রাষ্ট্রপতি সংসদে বক্তব্য রাখবেন। আমরা পরিষ্কার বলতে চাইÑ ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি না। আমরা সংসদে যাচ্ছি সংস্কার আদায় করার জন্য। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য। কবে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে সেটা দেখার জন্য।

গতকাল বিরোধী দলের সভা শেষে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট ও সংসদ নির্বাচনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এই দুটি নির্বাচন একটি আরেকটির অংশ। বরং নির্বাচিত সদস্যদের প্রথম কাজ শুরু হবে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। এই কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর তারাই আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করবেন। এজন্য একই অর্ডিন্যান্সকে সম্মান করে আমরা প্রথম দিনেই দুটি শপথ নিয়েছি। আমরা দুই জায়গায় শপথ নিয়েছি এবং দুই জায়গায় স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সরকারি দল এখন পর্যন্ত প্রথম শপথটি নেননি। আমরা তাদের প্রতি আহবান জানাবÑআসুন জুলাইকে সম্মান করি। জুলাইকে সম্মান করলেই, চব্বিশ থাকলেই ছাব্বিশ থাকবে, না হলে ছাব্বিশের অস্তিত্ব থাকে না। চব্বিশকে অমান্য, অগ্রাহ্য করে, পাশ কাটিয়ে ছাব্বিশ এ জাতির জন্য কোনো সুখবর নয়। আশা করি তারা এই শপথ নিয়ে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করবেন। তিনি বলেন, আমরা চাইব যে চারটি বিষয় গণভোটে দেওয়া হয়েছিল তার সব হুবহু গ্রহণ করা হোক, বাস্তবায়ন হোক। আমাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

অপরদিকে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনড় সরকারি দল। তারা জানান, তারা জুলাই সনদের যেটাতে সম্মতি জানিয়েছে সেটাই তারা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলটি স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে বাকিটা বাস্তবায়ন করতে চায়। এক্ষেত্রে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করতে চায় বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সভায় জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। সরকার যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। এর আগে শনিবার এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে, সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।

এবি পার্টির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ নিয়ে শুরুতেই যে বিতর্ক ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা আইনি ও সাংবিধানিক বিরোধ এড়িয়ে সমঝোতামূলক ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল সরকারি দলের বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সে কমিটিতে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যরাও থাকবেন।

বিরোধী দলের থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো ‘পজেটিভ রেসপন্স’ আসেনি। পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছেÑএটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সে বিষয়ে কাল (আজ বৃহস্পতিবার) জানা যাবে। জানা গেছে, আজকের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অংশে সংসদে থাকা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। ওই টিমে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও রয়েছেন। তারা আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ধ্বংস করে ইরানের জয়

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ধ্বংস করে ইরানের জয়

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান‑যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরাইলের সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে ইরান তার ডিফেন্স ভাঙার কৌশল ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর সীমাবদ্ধতা এবং যুদ্ধের নতুন প্যাটার্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কৌশলগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে রূপ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম যেমন রয়টার্স জানাচ্ছে, মার্কিন নেতৃত্বে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাপক ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছে। যার ফলে সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, তেল ও গ্যাস অবকাঠামোসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং গ্লোবাল এনার্জি মার্কেটও ব্যাহত হয়েছে।

বিশেষ করে ইউনাইটেড আরব আমিরাতে (ইউএই) ইরানের হামলা আর্থিক ও বাণিজ্যিক হাবগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাত লেগে মানুষ আহত এবং শিপিং রুটগুলোতে ক্ষতি হয়। যা আন্তর্জাতিক বন্দর ও বাণিজ্যিক পরিবহণকে বিভ্রান্ত করেছে। যার খবর এপি নিউজও প্রকাশ করেছে। এই ধরনের আক্রমণের মাধ্যমে ইরান স্ট্রেট অব হরমুজ বিশ্বের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ কার্যত ব্যাহত করে দিয়েছে। গ্লোবাল তেল বাজারে বিপুল উত্থান ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

একই সময়, ইউনাইটেড নেশনস সিকিউরিটি কাউন্সিল (ইউএনএসসি) ইরানের হামলা প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়াল হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ান রিপোর্ট করে যে ইরান শুধু সামরিক উদ্দেশ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে না! বরং নৌ ও বাণিজ্যিক যান চলাচলসহ অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ করে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করছে। যা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের কৌশলটি কেবল সরাসরি ধ্বংসাত্মক হামলা নয়। বরং এটি স্যাটুরেশন স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত! যেখানে বহুস্তরীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা হয় এবং রাডার ও ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমগুলোকে চাপের মুখে ফেলা হয়। দক্ষিণ উপসাগরীয় প্রতিরক্ষা সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ১৪৪০টিরও বেশি ড্রোন এবং ২৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। যেখানে অনেকগুলোই প্রতিরক্ষা সিস্টেমে ধরা পড়ে বা ধ্বংস হয়, কিন্তু কিছু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেসামরিক এলাকাও আঘাত পায়।

একে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে এই হামলায় তেল ও গ্যাস খাতে অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ শুধু যুদ্ধের খেলা নয় বরং জল ও শক্তি সরবরাহকে আইনগত পরিবেশেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বহু সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হচ্ছে। অপরদিকে ইউরোনিউজ রিপোর্ট করছে যে, ইরান সমর্থিত আক্রমণে হামলার ছোট ছোট ঢেউও বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যেখানে ড্রোন আঘাতে বিমানের যাত্রী চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই খাতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও উগ্র। উদাহরণস্বরূপ, ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মার্কিন যুদ্ধকে অান্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউরোপিয়ান নিরাপত্তা ও শক্তি বাজারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এসব বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, ইরান শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যগুলোই নিশানা করছে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামোকে পরীক্ষা করছে।

সমষ্টিগতভাবে, ইরানের কৌশল এ সম্পর্কেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চিন্তা ব্যবস্থা করেছে যে এটি মডুলার স্ট্রাইক ও বিকেন্দ্রীকৃত কমান্ড স্ট্রাকচারের মতো আধুনিক কৌশলগুলোকে বাস্তবে প্রয়োগ করছে। যার ফলে প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কগুলোকে একাধিক শটে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রতিক্রিয়া সময় কমানো হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান লক্ষ্যসমূহকে বিভক্ত করে সেগুলোর মাঝে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ স্তরগুলোকে কম কার্যকর করার চেষ্টা করছে— একটি কৌশলগত পদ্ধতি যা আধুনিক যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে।

একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়া রিপোর্টে যেমন দ্য অ্যাথলেটিক কাউন্সিলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সংঘাত শুধু সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয় নয়; একে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতি একসাথে জড়িত হয়েছে এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশই সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের পাশাপাশি আইএসডব্লিউ (ও ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট‑র রিপোর্টও উল্লেখ করছে যে মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বাহিনী ইরানের ব্যালিস্টিক ও ড্রোন সক্ষমতা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু ইরান এখনও তার আসন্ন ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নতুন কৌশলগুলো অন্বেষণ করছে।

অর্থনৈতিক স্তরেও ইরানের এই কৌশল আন্তর্জাতিক বাজারকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে। গ্লোবাল তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি আক্রমণ ও হরমুজ সংকটের কারণে তেলের দাম অস্থিরভাবে ওঠানামা করছে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান এই কৌশল প্রয়োগ করে শুধু সামরিক সুবিধা অর্জন করছে না, বরং প্রতিরক্ষার খরচ বাড়িয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অনিশ্চয়তায় ফেলছে, যা পরিণামে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে নতুনভাবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করবে।

এ সংঘাত শুধুমাত্র সামরিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আইন ও ভূ-রাজনীতির বহুমাত্রিক ক্ষেত্রগুলোকে স্পর্শ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলি এই পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করার সময় বারবার উল্লেখ করেছে যে ইরানের কৌশল ডিফেন্স ভাঙার নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে— যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্যভিত্তিক স্ট্রাইক, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে টেকনিক্যালভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং সেই সাথে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে কঠিন প্রশ্নে ফেলছে।

Wednesday, 11 March 2026

হরমুজ প্রণালিতে পরপর ৩টি জাহাজে হামলা, একটিতে আগুন

 

হরমুজ প্রণালিতে পরপর ৩টি জাহাজে হামলা, একটিতে আগুন
ছবি: সংগৃহীত।

পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালিতে পরপর ৩টি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে তিন জাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যে কারণে ওই জাহাজের বেশিরভাগ নাবিককে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও) জানায়, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

দু’টি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে হামলার শিকার হয়েছে। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরবর্তীতে এই ঘটনার বিষয়ে ইউকেএমটিও বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং এতে পরিবেশগত কোনও বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক ওই জাহাজে অবস্থান করছেন।

এর আগে, দু’টি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র বলেছিল, জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর ২৫ নটিক্যাল মাইল (৪৬ কিলোমিটার) উত্তর-পশ্চিমে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটির নাবিকরা সবাই নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটি নিরাপদ নোঙরস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে তৃতীয় আরেকটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজেও অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে।

মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড বলেছে, মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী জাহাজ স্টার গুইনেথে আঘাতের ফলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং জাহাজটির নাবিকরা নিরাপদ আছেন।

মোজতবা খামেনির নিরাপত্তার দায়িত্বে দুর্ধর্ষ কমান্ডো বাহিনী

 

মোজতবা খামেনির নিরাপত্তার দায়িত্বে দুর্ধর্ষ কমান্ডো বাহিনী

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিরাপত্তার দায়িত্ব পেয়েছে দেশটির সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কমান্ডো ইউনিট ‌‘নোপো’। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা আর জনসম্মুখে আসেননি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাবার ওপর চালানো ওই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি স্থানে চিকিৎসাধীন। তবে ইরান সরকার এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা পুরোপুরি সুস্থ ও নিরাপদ আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নোপো ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে মোজতবার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এই ইউনিট ইরানের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কমান্ডো বাহিনী হিসেবে পরিচিত।

ইরানের বিশেষায়িত এই ‘ব্ল্যাক-ক্ল্যাড’ (কালো পোশাকধারী) বাহিনী ১৯৯১ সালে গঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জিম্মি উদ্ধার এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের কাজে নিয়োজিত থাকলেও বাস্তবে এই বাহিনীটি সর্বোচ্চ নেতার ব্যক্তিগত ঢাল হিসেবে কাজ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, নোপো বাহিনী ইরানের সাধারণ পুলিশ বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) চেয়েও অনেক বেশি প্রশিক্ষিত ও নিষ্ঠুর।

মা-বাবার সেবায় জান্নাত কিনুন এ মাসে


মা-বাবার সেবায় জান্নাত কিনুন এ মাসে

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক মলিন হোক, যার কাছে আমার কথা আলোচনা করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না। ওই লোকের নাক মলিন হোক, যার কাছে রমজান মাস এলো, তারপর তাকে ক্ষমা করার পূর্বেই রমজান শেষ হয়ে গেলো, অথচ সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হলো না। ওই ব্যক্তির নাক মলিন হোক, যে তার মা-বাবাকে বার্ধক্য অবস্থায় পেয়েও তাকে জান্নাতে নিতে পারল না।’ (তিরমিজি)।

পবিত্র রমজান মাসের সবচেয়ে তিন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে এই হাদিসে। মা-বাবার সঙ্গে সদাচার এবং তাদের হক আদায়ের চেষ্টা তার অন্যতম। হাদিসটিতে মা-বাবার প্রতি করণীয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট তেমন কিছু বলা হয়নি। কিন্তু একটি বাক্যে যা বলা হয়েছে, এর মধ্যে কিছু বাকিও থাকেনি! এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মা-বাবাই সন্তানের জান্নাত-জাহান্নাম। তারা খুশি তো আল্লাহ খুশি। আল্লাহ খুশি তো জান্নাত আপনার ঠিকানা। তারা অখুশি তো আল্লাহ অখুশি। আল্লাহ অখুশি তো জাহান্নাম থেকে রেহাই নেই।

এই হাদিস আরো বলছে, রমজান মাসটি অনেক নেক আমলের পাশাপাশি মা-বাবার খেদমত করে জান্নাত কিনে নেওয়ারও মাস। আমাদের চেষ্টা করা উচিত সম্ভাব্য সব উপায়ে মা-বাবার সেবা ও খেদমত করে নিজের জান্নাত কিনে নেওয়া। মা-বাবার সেবায় শুধু মরণের পর জান্নাত মেলে না, পার্থিব জীবনে আমাদের ব্যক্তিগত সাফল্যও নির্ভর করে অনেকটা তাদের দোয়ার ওপর।

একদিন ছেলেকে আহ্লাদ করতে দেখে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের উদ্দেশে তার মা বললেন, শিশুসুলভ আচরণ করো না। তুমি এখন রাষ্ট্রপ্রধান। তোমার পক্ষে আমার কদমবুছির জন্য নিচু হওয়া শোভন নয়। তুর্কি প্রেসিডেন্ট সহাস্যে বললেন, আচ্ছা, প্রেসিডেন্টদের জন্য কি জান্নাত হারাম করে দেওয়া হয়েছে? কে বলবে, মায়ের প্রতি এমন নিখাদ ভালোবাসাই হয়তো একদিনের সাধারণ পরিবারের এরদোয়ানকে আজকের এই অবস্থানে এনেছে।

আমরা আরো মনে করতে পারি, ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র মরহুম আনিসুল হকের কথাও। তার মৃত্যুর পর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তৃতার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সেই বক্তৃতায় তিনি নিজের ও তার সেনাপ্রধান ভাইয়ের জীবনে ক্যারিয়ার-সাফল্যের গোপন রহস্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মা-বাবার দোয়ার কথা। তরুণদের সামনে তিনি জীবনে সাফল্যের জন্য মা-বাবার দোয়ার অপরিহার্যতা তুলে ধরেছেন আবেগ ও চিন্তা জাগানিয়া ভঙ্গিতে।

পৃথিবীতে স্রষ্টা মহান আল্লাহর পর সবচেয়ে আপন হলেন মা-বাবা। এবার দেখুন, সেই মহান আল্লাহ কী বলছেন তাদের সম্পর্কেÑ‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারো এবাদত করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের ‘উহ’শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না এবং বলো তাদের শিষ্টাচারপূর্ণ কথা। তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে, নম্রভাবে মাথানত করে দাও এবং বল : হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা ইসরা : ২৩-২৪)

উপর্যুক্ত আয়াতে স্রষ্টা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন জন্মদাতা মা-বাবার জন্য আমরা কীভাবে দোয়া করব : ‘বলো, রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি ছগিরা। অর্থাৎ, হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’কে না জানে দোয়াটি? কিন্তু আমরা কজন উপলব্ধি করি ছোট্ট এ বাক্যের গভীর মর্ম? সন্তানের জন্য মা-বাবার কী ত্যাগ আর কত বিশাল অবদান, তা আসলে ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। এমনকি খোদ মা-বাবারও মনে থাকে না কী কষ্ট আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা সন্তানকে বড় করে তুলেছেন।

আমাদের প্রথম সন্তানটির বয়স এখন সাত বছর। দ্বিতীয় সন্তানের চলছে সাত মাস। ছেলেটিকে মানুষ করতে গিয়ে রোজ মনে পড়ছে মেয়েটির কথা। ওর জন্যও তো আমরা এমন মাটি কামড়ানো সময় পাড়ি দিয়েছি! নিজেরা সয়ে আসা কষ্টই ভুলে গেছি, তাহলে আমার জন্য বাবা-মা কী করেছেনÑতা আর কতটুকু মনে থাকে। প্রতিদিনই উপলব্ধি গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে, আমার বাবা-মা ত্যাগের কী হিমালয় পাড়ি দিয়েই না বড় করেছেন আমাকে! এসবের দীর্ঘ, অবর্ণনীয় উত্তরই লুকিয়ে আছে ওই ছোট্ট বাক্যের মধ্যেÑ ‘রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি ছগিরা’।

তাই জীবন গড়ার এই মাসে চেষ্টা করুন আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে নিজ মা-বাবার সন্তুষ্টি অর্জনের। তারা যদি গত হয়ে থাকেন, তবে প্রাণ খুলে উচ্চারণ করুন আল্লাহর শিখিয়ে দেওয়া ওই ছোট্ট দোয়াটি।

রমজানে পাপমুক্ত জীবনের অনুশীলন

  ছবি: সংগৃহীত রমজান পুণ্য অর্জনের মাস। আমরা প্রত্যেকেই রমজানে বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করি। সাধ্যমতো সবাই চেষ্টা করি এ...