Tuesday, 19 May 2026

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি

 

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি, যা ঈদুল আজহার মূল আকর্ষণ। এই ইবাদত শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়ার এক মহান প্রতীক। তাই একজন কোরবানিদাতার উচিত আগে থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে নিজেকে প্রস্তুত করা।





কোরবানির তাৎপর্য ও লক্ষ্য

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মহান আল্লাহ বলেন : আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সুরা আল-হাজ্জ : ৩৭)

এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় কোরবানির আসল শিক্ষা হলো হৃদয়ের পবিত্রতা ও আল্লাহভীতি।

কোরবানির অগ্রিম প্রস্তুতি

১. নিয়ত শুদ্ধ করা

প্রথম ও প্রধান প্রস্তুতি হলো নিয়ত ঠিক করা। কোরবানি যেন লোকদেখানো বা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের জন্য না হয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (বুখারি : ১)

২. হালাল উপার্জনের অর্থ নিশ্চিত করা

কোরবানির পশু অবশ্যই হালাল উপার্জনের অর্থ দিয়ে কিনতে হবে। হারাম উপার্জনে করা ইবাদত কবুল হয় না।

৩. উত্তম ও সুস্থ পশু নির্বাচন

কোরবানির পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত ও নির্ধারিত বয়সের। রাসুল (সা.) বলেছেন, চার ধরনের পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয় অন্ধ, রোগাক্রান্ত, খোঁড়া ও অত্যন্ত দুর্বল। (আবু দাউদ)

৪. জিলহজের চাঁদ দেখার পর...

যখন জিলহজ মাস শুরু হবে, তখন কোরবানিদাতা চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরবানি করতে চায়, সে যেন (জিলহজের চাঁদ দেখার পর) তার চুল ও নখ না কাটে। (মুসলিম : ১৯৭৭)

কোরবানিদাতার গুরুত্বপূর্ণ আমল

১. তাকওয়া ও ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি

এ সময় বেশি বেশি নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করা উচিত।

২. তাকবির ও জিকির পাঠ

বিশেষ করে, ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) থেকে তাকবিরে তাশরিক পড়া সুন্নত। ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার…

৩. রোজা রাখা (বিশেষত আরাফার দিন)

৯ জিলহজে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে।’ (মুসলিম)

৪. কোরবানি নিজ হাতে করা

সম্ভব হলে নিজ হাতে কোরবানি করা উত্তম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই কোরবানি করতেন। (বুখারি)

৫. কোরবানির দোয়া ও তাকবির পাঠ

জবাইয়ের সময় বলা : বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার (বুখারি)

কোরবানির সামাজিক ও মানবিক দিক

কোরবানি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; এটি সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে। কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম : এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য।

কোরবানি একটি সামগ্রিক ইবাদত, যেখানে নিয়ত, ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবিকতা একসঙ্গে মিলিত হয়। একজন সচেতন মুসলমানের উচিত অগ্রিম প্রস্তুতি গ্রহণ করে এই ইবাদতকে পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা উপলব্ধি করার এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সিন্ধু পানি চুক্তি বহাল, ভারতের একতরফা স্থগিতাদেশের দাবি খারিজ

 

সিন্ধু পানি চুক্তি বহাল, ভারতের একতরফা স্থগিতাদেশের দাবি খারিজ

সিন্ধু পানি চুক্তি (ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি-আইডব্লিউটি) বহাল রেখে রায় দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ)। এতে বলা হয়েছে ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। আদালতের এই সম্পূরক রায়কে পাকিস্তান তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।





দীর্ঘদিন ধরে সিন্ধু নদব্যবস্থার পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতের ‘রান-অব-দ্য-রিভার’ প্রকল্পগুলো নিম্নপ্রবাহে পানির প্রবাহ কমিয়ে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্প্রতি রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও কিশেঙ্গঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা-সংক্রান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে আদালত ‘সাপ্লিমেন্টাল অ্যাওয়ার্ড কনসার্নিং ম্যাক্সিমাম পন্ডেজ’ জারি করে। এতে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার ওপর চুক্তিভিত্তিক সুস্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং এসব সীমা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রকল্প পরিকল্পনা ও নকশা পর্যায় থেকেই তা কার্যকর হবে।

পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানির ধারণক্ষমতা বা ‘পন্ডেজ’ অবশ্যই প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজন, সম্ভাব্য পরিচালনা পদ্ধতি, নদীর জলপ্রবাহ, জলবিদ্যুৎ ব্যবস্থার চাহিদা এবং চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। শুধু ভবিষ্যতে পানি ব্যবহারে সংযমের আশ্বাস দিলেই চুক্তির শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

আদালত আরো বলেছে, পাকিস্তানকে পর্যাপ্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা ভারতের পক্ষ থেকে দিতে হবে যাতে ইসলামাবাদ চুক্তি মেনে চলা হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে পারে। ভারত যদি যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রস্তাবিত পন্ডেজ চুক্তির শর্ত পূরণ করছে এটি প্রমাণের দায়ও তারা পালন করতে পারবে না।

পাকিস্তান জানায়, তারা সিন্ধু পানি চুক্তি, এর বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং পানি-সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সব ধরনের আইনগত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৮ আগস্টও পিসিএ পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়ে বলেছিল, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি পাকিস্তানের ‘অবাধ ব্যবহারের’ জন্য প্রবাহিত হতে দিতে হবে। ২০১৬ সালে পাকিস্তান এই মামলা দায়ের করেছিল।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আদালতের এই কার্যক্রমকে ‘অবৈধভাবে গঠিত তথাকথিত সালিশি আদালত’ আখ্যা দিয়ে রায়কে অকার্যকর ও বাতিল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা ভারতের এ অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত মনজুরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে ভারত কার্যত আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাশ্মীর-সংক্রান্ত প্রস্তাব উপেক্ষার পর এবার ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আদালতের বাধ্যতামূলক রায়ও মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

মনজুরুল হক আরো সতর্ক করে বলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে পানি নিয়ে বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান: ইরানি গণমাধ্যম

 

পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান: ইরানি গণমাধ্যম
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম।



আলোচনাকারী দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে তাসনিম জানায়, প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং এতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, অবরোধ প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি তেহরান সফর তৃতীয় দিনের জন্য বাড়িয়েছেন। তার এই সফরকে আঞ্চলিক শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Monday, 18 May 2026

কোরবানিতে শরিকানার অংশ যেমন হবে

 

কোরবানিতে শরিকানার অংশ যেমন হবে

ছাগল, ভেড়া, দুম্বা শুধু একজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে। এমন একটি পশু দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি করলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না।

আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবে। সাতের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না। (ফতোয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৭-২০৮)।





জাবের (রা.)-সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, ‘আমরা হজের ইহরাম বেঁধে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে বেরুলাম। তখন রাসুল (সা.) আমাদেরকে একটি গরু এবং একটি উটে সাতজন করে শরিক হওয়ার নির্দেশ দিলেন।’ (মুসলিম : ১৩১৮/৩৫১, মুয়াত্তায়ে মালেক : ১/৩১৯)।

শরিকানার অংশ ও শরিক যেমন হবেন

সাতজনে মিলে কোরবানি করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারও অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। (যেমন- কারও আধাভাগ, কারও দেড়ভাগ)। এমন হলে কোনো শরিকের কোরবানি সহিহ হবে না। তেমনিভাবে কোরবানি করতে হবে সম্পূর্ণ হালাল সম্পদ থেকে। হারাম টাকা দ্বারা কোরবানি করা সহিহ নয় এবং এ ক্ষেত্রে অন্য শরিকদের কোরবানিও আদায় হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৭)।

শরিক নির্বাচনে সর্তকতা

সব অংশিদারের নিয়ত কোরবানির জন্য হতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; কিন্তু পৌঁছে তোমাদের অন্তরের তাকওয়া।’ (সুরা হজ : ৩৭)। তাই যদি কেউ আল্লাহতায়ালার হুকুম পালনের উদ্দেশে কোরবানি না করে নিছক গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করে, তাহলে তার কোরবানি সহিহ হবে না। তাকে অংশিদার বানালে শরিকদের কারও কোরবানিই আদায় হবে না। সুতরাং খুব সতর্কতার সঙ্গে শরিক নির্বাচন করা চাই। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৮, ফতোয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৪৯)।

একা পশু কিনে পরে শরিক করা

যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে ক্রয় করে আর সে ধনী হয়, তাহলে তার জন্য এ পশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ। তবে এতে কাউকে শরিক না করে তার একা কোরবানি করাই শ্রেয়। শরিক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরিব হয়, যার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়, তাহলে যেহেতু কোরবানির নিয়তে পশুটি ক্রয় করার মাধ্যমে লোকটি তার পুরোটাই আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছে, তাই তার জন্য এ পশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ নয়। যদি শরিক করে, তাহলে ওই টাকা সদকা করে দেওয়া জরুরি। আর কোরবানির পশুতে কাউকে শরিক করতে চাইলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিতে হবে। (ফতোয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২১০)।

জবাইয়ের আগে শরিকের মৃত্যুর বিধান

জবাইয়ের আগে কোনো শরিকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করার অনুমতি দেয়, তাহলে তা জায়েজ হবে। নইলে ওই শরিকের টাকা ফেরৎ দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে তার স্থলে অন্যকে শরিক করা যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩২৬, ফতোয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৫১)।

কোরবানির পশুতে আকিকা ও হজের নিয়ত

কোরবানির পশুতে আকিকা ও হজের কোরবানির নিয়ত করা যাবে। এতে প্রত্যেকের নিয়তকৃত ইবাদত আদায় হয়ে যাবে। এমন পশু হেরেম এলাকায় জবাই করতে হবে। অন্যথায় হজের কোরবানি আদায় হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৯, আল ইনায়া : ৮/৪৩৫-৩৪৬)।

ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে ইরানি মুখপাত্রের ভিডিও পোস্ট

 

ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে ইরানি মুখপাত্রের ভিডিও পোস্ট
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ চলচ্চিত্রের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই বায়োপিকটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক কর্মজীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

চলচ্চিত্রের ওই দৃশ্যটিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের পরামর্শদাতা রয় কোন তার ‘জেতার নিয়মাবলি’ বর্ণনা করছেন। যার মধ্যে রয়েছে-‘যাই ঘটুক না কেন, সর্বদা নিজের বিজয় দাবি করতে হবে এবং কখনোই পরাজয় স্বীকার করা যাবে না’ এবং সফল হতে হলে ‘যেকোনো মানুষের সঙ্গে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকতে হবে’।



ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের অনুসারী অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে যে ব্যাপক কটাক্ষ ও উপহাস করা হচ্ছে, বাঘাইয়ের এই পোস্টটি তারই অংশ। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যাপক সমালোচিত এবং দুর্বল পরিকল্পনার হামলার বিষয়টিকেও এই প্রচারণার মাধ্যমে উপহাস করা হচ্ছে।

এর আগেও নিজের বিভিন্ন মন্তব্যে সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ টেনেছেন ইসমাইল বাঘাই। বিশেষ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় মার্কিন নীতির সমালোচনা করে লেখা একটি কলামে তিনি মার্তিনিকের চিন্তাবিদ এইমে সেজায়ার এবং দ্বাদশ শতাব্দীর পারস্যের কবি ফরিদুদ্দিন আত্তারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি

  ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি, যা ঈদুল আজহার মূল আকর্ষণ। এই ইবাদত শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রত...