Monday, 29 June 2026

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

 

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানুষের কথায় নয়, তার চরিত্র, ধৈর্য, আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা, উত্তম সঙ্গ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থার মধ্যেই প্রকাশ পায়। একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উত্তম আচরণেই প্রকৃত প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটে। একজন সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের জীবনকে এমন কিছু সুন্দর অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে তোলেন, যা তাকে দুনিয়ায় সম্মানিত এবং আখিরাতে সফল হওয়ার পথ দেখায়।

কম কথা বলুন, বেশি কাজ করুন






জ্ঞানী মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, বরং তার চরিত্র ও কর্মে ফুটে ওঠে। অপ্রয়োজনীয় কথা কম বলুন, প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নতুবা নীরব থাকে।’ (বুখারি ৬০১৮, মুসলিম ৪৭)

যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শান্ত থাকুন

রাগ বা উত্তেজনা নয়, ধৈর্য ও আত্মসংযমই একজন শক্তিশালী মানুষের প্রকৃত পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)

আত্মসমালোচনা ও চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন

কখনো কখনো নির্জনতা মানুষকে নিজের ভুল-ত্রুটি বুঝতে, আল্লাহকে স্মরণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ... لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ

‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৯০)

তর্কে নয়, উত্তম কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দিন

অকারণ বিতর্ক মানুষকে বিভক্ত করে, কিন্তু উত্তম চরিত্র ও সৎকর্ম মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا

‘যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক পরিত্যাগ করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।’ (আবু দাউদ ৪৮০০)

সৎ ও প্রজ্ঞাবান মানুষের সঙ্গ বেছে নিন

মানুষ তার সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই উত্তম চরিত্রের মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করুন এবং ক্ষতিকর সঙ্গ থেকে দূরে থাকুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ

‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিজি ২৩৭৮)

অভিযোগ নয়, কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন

যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য আরও কল্যাণ বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৭)

আরও পড়ুন

পরিবারের গোপন বিষয় সংরক্ষণ করুন

পরিবারের সম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাস রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত বিষয় অযথা প্রকাশ করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً... يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের একজন হলো সে, যে তার স্ত্রীর গোপন বিষয় মানুষের কাছে প্রকাশ করে।’ (মুসলিম ১৪৩৭)

বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

জীবনে পরীক্ষা আসবেই। ধৈর্য, হাসিমুখ ও আল্লাহর প্রতি ভরসাই একজন মুমিনের শক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

আমরা যদি এই গুণগুলোকে জীবনের অংশ করে নিতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ দুনিয়ায় সম্মানিত জীবন এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হবে।

ইউরোপে দাবদাহে ১৩০০ মৃত্যু

 

ইউরোপে দাবদাহে ১৩০০ মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে নজিরবিহীন গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহের কারণে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তীব্র এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে রোববার জার্মানি, পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রসহ পুরো মহাদেশজুড়ে তাপমাত্রার আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে।





সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ২১ জুন থেকে ইউরোপের এই উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত ১ হাজার ৩০০টির বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে।

তিনি বলেন, তাপমাত্রাজনিত চাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলো এমন তাপমাত্রার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি।

রোববার সকালে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে গত বুধবার থেকে প্রায় এক হাজার বাড়তি মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এসব অতিরিক্ত মৃত্যুর একটি বড় অংশই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের। বাড়িতে মানুষের মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ বেড়েছে।



ডব্লিউএইচও প্রধান সতর্ক করে বলেন, বিশ্বে মহাসচিব হিসেবে ইউরোপই সবচেয়ে দ্রুত গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মহাদেশটির লাখ লাখ মানুষ এখন তীব্র গরমের মধ্যে বসবাস করছে। শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুতের গ্রিডগুলো বিকল হয়ে পড়ছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার টানা তৃতীয় দিনের মতো জার্মানি ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পার করেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে পূর্ব ব্র্যান্ডেনবার্গের কোশেনের একটি আবহাওয়া স্টেশনে স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

চেক প্রজাতন্ত্রের আবহাওয়া ইনস্টিটিউট সিএইচএমআই জানিয়েছে, দেশটিতে টানা দুই দিনে দুই দফায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। প্রাগের উত্তরে ডোকসানি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, রোববার এই তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে পরে পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ভারী ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

পোল্যান্ডেও সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। রোববার দেশটির সলুবিস শহরে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। পোল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব মেটিওরোলজি অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের (আইএমজিডব্লিউ) এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানান।



এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন ডব্লিউএইচওর প্রধান। তিনি আবারও সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। প্রজন্মে একবার দেখা দেওয়ার মতো এমন তাপপ্রবাহ এখন প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাপপ্রবাহ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।



চরম আবহাওয়ার কারণে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার চরম গরমের কারণে নজিরবিহীন 'কোড রেড' সতর্কবার্তা জারির পর নেদারল্যান্ডসের সঙ্গীত উৎসব 'ডেফকন.১' বাতিল করা হয়।

প্যারিসে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ কমাতে জনসাধারণের জন্য বাইরে বা খোলা জায়গায় অ্যালকোহল কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয় এবং শহরের প্রাইড মার্চ বাতিল করা হয়।

ফ্রান্স ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়ে রোববার সকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।



ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস শনিবার লে প্যারিসিয়ান সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন, দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সে অন্তত ৭৪ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে নদী, হ্রদ এবং পুকুরের মতো অনিরাপদ ও নজরদারীহীন জলাশয়গুলোতে।



জুন মাসের এই রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের জন্য 'হিট ডোম' বা তাপ বলয় প্রভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। এই আবহাওয়ার ধরণে বায়ুমণ্ডল থেকে বাতাস নিচের দিকে নেমে আসে। ফলে বাতাস সংকুচিত হয় এবং ভূমিতে আঘাত করার সময় আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই নিচে নেমে আসা বাতাস শুষ্ক হওয়ায় কোনো মেঘ তৈরি হতে পারে না। ফলে তীব্র সূর্যালোক মাঠঘাট ও ভূমিকে আরো বেশি উত্তপ্ত করে তোলে।


সূত্র: বিবিসি

ইসরাইলি আগ্রাসন থেকে লেবানন রক্ষার ঘোষণা দিল হিজবুল্লাহ

 

ইসরাইলি আগ্রাসন থেকে লেবানন রক্ষার ঘোষণা দিল হিজবুল্লাহ
২৭ জুন লেবাননে একটি বড় ইসরাইলি পতাকা সম্বলিত ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশে ইসরাইলি সামরিক। ছবি: রয়টার্স

ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, এই লঙ্ঘনের পর লেবাননকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।





গতকাল রোববার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে বলে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরাইলি ফাইটার জেট দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ শহর এবং কাছের মায়ফাদৌন শহরের আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, ফারউন শহরের উন্মুক্ত অঞ্চল এবং বিন্ত জবেইলে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তাইবেহ ও হাদাতা এলাকার আবাসিক ভবনগুলোতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘আমরা এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের জন্মভূমি এবং জনগণকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মার্চ মাসের শুরু থেকেই লেবাননে তীব্র ও ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল।

সূত্র: আল-জাজিরা

Thursday, 25 June 2026

৩০ জুন ঐতিহ্যবাহী উৎসব কাবা শরিফ ধোয়া

 

৩০ জুন ঐতিহ্যবাহী উৎসব কাবা শরিফ ধোয়া

পবিত্র কাবা শরিফ ধৌতকরণের ঐতিহ্যবাহী উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ জুন । প্রতি বছরের মতো এবারও  ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই পবিত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

ইতিমধ্যেই এই ধৌতকরণ উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। গত রাতে এশার নামাজের পর কাবার গিলাফ ওপরে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ধৌতকরণের সময় ভেতরে যাতায়াত করতে কোনো সমস্যা না হয়। মূলত প্রতি বছর ফজরের নামাজের পর এই ঐতিহ্যবাহী ধৌতকরণ উৎসব শুরু হয়।





পবিত্র কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, আলেম, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে থাকেন। সৌদি আরবের বাদশাহ অথবা তার নিযুক্ত কোনো বিশেষ প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন।

কাবার ভেতরের দেয়াল ও মেঝে ধোয়ার এই কাজটি একই সাথে একটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

এই ধৌতকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় জমজমের পানি এবং সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত দামি উদ ও গোলাপ জল। বিশেষ করে তায়েফের বাগান থেকে সংগৃহীত গোলাপ দিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ গোলাপ জল। কাবার ভেতরের দেয়াল ও মেঝে সুবাসিত করতে এবার ৪০ লিটার জমজমের পানি দুটি রুপার পাত্রে রাখা হয়েছে।

এর সাথে মেশানো হবে ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফি গোলাপ জল, ২৪ মিলিলিটার প্রিমিয়াম কোয়ালিটির গোলাপ তেল, ২৪ মিলিলিটার খাঁটি উদ তেল এবং ৩ মিলিলিটার কস্তুরী।

সাধারণত বছরে দুইবার কাবা শরিফ ধোয়ার এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমবার পবিত্র রমজান মাসের আগে এবং দ্বিতীয়বার পবিত্র হজ শেষ হওয়ার পর মহররম মাসের শুরুতে।

কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ সীমিত হলেও এই উৎসবের ছবি ও ভিডিও চিত্র যখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের মনে এক গভীর আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।

যেসব খেলাধুলায় উৎসাহ দেয় ইসলাম

 

যেসব খেলাধুলায় উৎসাহ দেয় ইসলাম

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এতে সব বিষয়ের সুষ্ঠু সমাধান রয়েছে। মানুষের আত্মিক ও শারীরিক সুস্থতার প্রতিও ইসলামে গুরুত্ব রয়েছে।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শে আমরা এমন কিছু খেলাধুলা ও শারীরিক প্রশিক্ষণের দৃষ্টান্ত দেখতে পাই, যা আজও সবার জন্য অনুসরণীয়। ইসলাম ৬ খেলাধুলায় উৎসাহ দেয়।





তীরন্দাজি

তীরন্দাজি ছিল ইসলামের শুরুর যুগে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ। রসুলুল্লাহ (সা.) তীর নিক্ষেপ শেখাকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং এটিকে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে, অর্থ: তোমরা তীর নিক্ষেপ করো এবং অশ্বারোহণ করো; তবে তোমাদের তীর নিক্ষেপ করাই আমার কাছে বেশি প্রিয়। (মুসলিম ১৯১৮)

ঘোড়দৌড়

ঘোড়া ছিল সে যুগের প্রধান বাহন এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির অন্যতম মাধ্যম। রসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। হাদিসে এসেছে, অর্থ: হজরত আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ঘোড়াগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। (বুখারি ২৮৭০)

সাঁতার শিক্ষা

সাঁতার একটি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা। ইসলাম মানুষের উপকারী জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ অর্জনে উৎসাহ দেয়। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, অর্থ: আল্লাহর স্মরণবিহীন সব কিছুই অনর্থক, তবে চারটি বিষয় ব্যতীত... তার মধ্যে রয়েছে সাঁতার শিক্ষা। (নাসাঈ ৮৯৪০)

দৌড় প্রতিযোগিতা

রসুলুল্লাহ (সা.) পরিবারে আনন্দ ও সৌহার্দ্য সৃষ্টির জন্য বৈধ বিনোদনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, অর্থ: রসুলুল্লাহ (সা.) আমার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন, তখন আমি তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলাম। (আবু দাউদ ২৫৭৮)

মল্লযুদ্ধ

কুস্তি শক্তি, সহনশীলতা ও আত্মরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সীরাতগ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, নবীজি (সা.) মক্কার প্রসিদ্ধ মল্লযোদ্ধা রুকানাকে কুস্তিতে পরাজিত করেছিলেন। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, একজন মুমিনের শারীরিক শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, অর্থ: শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। (মুসলিম ২৬৬৪)

লক্ষ্যভেদ

যে সকল খেলাধুলা মানুষের দক্ষতা, মনোযোগ ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ইসলাম সেগুলোকে উৎসাহিত করেছে। ঘোড়া প্রশিক্ষণ, লক্ষ্যভেদ এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির বিভিন্ন অনুশীলন এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে এসেছে, অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি তীরের মাধ্যমে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন-- তীর প্রস্তুতকারী, তীর নিক্ষেপকারী এবং যে তাকে সহযোগিতা করে। তিরমিজি ১৬৩৭)

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

  প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানুষের কথায় নয়, তার চরিত্র, ধৈর্য, আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা, উত্তম সঙ্গ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থার মধ্...