Sunday, 24 May 2026

কোরবানি : ইতিহাস থেকে শিক্ষা

 

কোরবানি : ইতিহাস থেকে শিক্ষা

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। (আবু দাউদ : ১১৩৪; নাসায়ি : ১৫৫৬) জিলহজ মাসের ১০ তারিখে সারা বিশ্বের মুসলমানরা মহান আল্লাহর আদেশে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নিজ ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার ইচ্ছা এবং ত্যাগের স্মৃতি স্মরণে পশু কোরবানি করে থাকেন। আল্লাহতায়ালা ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে ছেলের পরিবর্তে তাকে পশু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। (সুরা সাফফাত : ১০৭)



কোরবানির পরিচয় ও ইতিহাস

‘ঈদ’ অর্থ-উৎসব এবং ‘আজহা’ অর্থÑকোরবানি বা উৎসর্গ। পারিভাষিক অর্থে, জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরয়ি তরিকায় পশু জবাই করাই হলো কোরবানি। মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম কোরবানি ছিল হজরত আদম (আ.)-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের কোরবানি। (সুরা মায়েদাহ : ২৭) হাবিলের নিষ্ঠাপূর্ণ কোরবানি গৃহীত হয়েছিল। কারণ, তিনি ছিলেন মুত্তাকি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ওই কোরবানি যাকে আগুন (অদৃশ্য থেকে) গ্রাস করে নেবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৩) এ পদ্ধতিই প্রাচীন শরিয়তে কবুলিয়তের নিদর্শন ছিল।

আমাদের কোরবানি মূলত ‘সুন্নতে ইবরাহিমি’। মুসলিম জাতির পিতা হিসেবে হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করেছেন। (সুরা হাজ্জ : ৭৮) ৮৬ বছর বয়সে তিনি আল্লাহর কাছে সৎকর্মশীল ছেলে চেয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল ছেলের সুসংবাদ দেন। (সুরা সাফফাত : ১০০-১০১)

সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি ছিল স্বপ্নের মাধ্যমে প্রিয় ছেলেকে কোরবানির নির্দেশ। ইবরাহিম (আ.) তাঁর ছেলেকে বললেন, ‘হে আমার ছেলে! আমি স্বপ্নে দেখেছি তোমাকে আমি জবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কী?’ ইসমাইল (আ.) জবাবে বললেন, ‘হে আমার পিতা! আপনাকে যা নির্দেশ করা হয়েছে, আপনি তা কার্যকর করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : ১০২) পিতা যখন ছেলেকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন, তখন আল্লাহ ঘোষণা করলেন—‘হে ইবরাহিম! তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়েছো। আমি সৎকর্মকারীদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।’ (সুরা সাফফাত : ১০৩-১০৯)

কোরআনের আলোকে গুরুত্ব ও লক্ষ্য

কোরবানি শুধু প্রথা নয়, বরং আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন। (সুরা হাজ্জ : ৩৬) আল্লাহতায়ালা প্রতিটি উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান রেখেছিলেন, যেন তারা আল্লাহর দেওয়া পশু জবেহ করার সময় তার নাম স্মরণ করে। (সুরা হাজ্জ : ৩৪) আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাওসার : ২)

তবে কোরবানির মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া। আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন : ‘মনে রেখো, কোরবানির গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হাজ্জ : ৩৭)

রাসুল (সা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি ঘোষণা করেন—‘আমার নামাজ, আমার ইবাদতের সমস্ত অনুষ্ঠান, আমার জীবন ও মৃত্যুÑসবকিছু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য।’ (সুরা আনআম : ১৬২-১৬৩)

প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা

১. আত্মসমর্পণ : ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় কীভাবে আবেগ ও সম্পদের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর নির্দেশের সামনে মাথা নত করতে হয়।

২. পশুত্ব বিসর্জন : কোরবানি শুধু পশু জবেহ নয়, বরং নিজের ক্ষুদ্রতা, নীচতা, স্বার্থপরতা ও আমিত্ব ত্যাগের শপথ।

৩. সামাজিক সাম্য : কোরবানি কোনো লোকদেখানো বা গোশত খাওয়ার উৎসব নয়। নিজের উপার্জিত উৎকৃষ্ট অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করাই প্রকৃত মুমিনের কাজ। (সুরা বাকারাহ : ২৬৭)

৪. তাকওয়ার পরীক্ষা : যারা অহংকার প্রদর্শনের জন্য বড় পশু কেনেন বা শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত করেন, তাদের কোরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। হালাল উপার্জন এবং ইখলাসই কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত।

উপসংহার : তাকওয়ার কষ্টিপাথরে যাচাই করলে দেখা যায়, কোরবানি হলো আল্লাহর প্রতি পরম প্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ইবরাহিম (আ.) ও তার পরিবারের সেই অবিস্মরণীয় আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের জান-মাল ও প্রিয়তম সবকিছু আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। কারণ আল্লাহ শুধু মুত্তাকিদের আদর্শকেই উত্তম আদর্শ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। (সুরা মুমতাহিনা : ৪)

এআই কীভাবে ইন্টারনেটকে চিরতরে বদলে দিচ্ছে

 

এআই কীভাবে ইন্টারনেটকে চিরতরে বদলে দিচ্ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে—বিশেষ করে অনলাইন সার্চ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ই-কমার্সে। ব্যবহারকারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল, দীর্ঘ এবং কথোপকথনের মতো প্রশ্ন করছেন, যা ইন্টারনেটের কাজের কাঠামোকেই নতুন করে গড়ে তুলছে।

গুগল সার্চ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি স্টেইন বলেন, মানুষ এখন এমন সব প্রশ্ন করছে যার সরাসরি উত্তর ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় না। এই পরিবর্তনের কারণেই গুগল তাদের সার্চ সিস্টেমে বড় ধরনের আপগ্রেড আনছে, যেখানে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভিজ্যুয়াল ও ইন্টারেক্টিভভাবে ফলাফল দেখানো হবে।



বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ব্যবহারকারীরা শুধু কীওয়ার্ড নয়, বরং পুরো প্রশ্ন বা কথোপকথনের মতো বাক্য ব্যবহার করছেন। এসইও প্রতিষ্ঠান ফার্ম সেমরাশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও কথোপকথনভিত্তিক সার্চ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যদিও এখনো অধিকাংশ ব্যবহারকারী সংক্ষিপ্ত শব্দ ব্যবহার করেন।

গুগল জানিয়েছে, ছবি বা স্ক্রিনের অংশ ব্যবহার করে সার্চ করার প্রবণতা বছরে ৬০ শতাংশ হারে বাড়ছে। পাশাপাশি তাদের “এ আই মোড” ব্যবহারও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে সার্চ আরও দীর্ঘ ও কথোপকথনভিত্তিক হয়ে উঠছে।

চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। মানুষ এখন তথ্য সারসংক্ষেপ করা, তুলনা করা এবং কনটেন্ট তৈরির জন্য আলাদা আলাদা এআই টুল ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি থেকে আসা ব্যবহার আবার গুগলে ফিরে যাচ্ছে, যা দুই প্ল্যাটফর্মের মিলিত ব্যবহারের প্রবণতা দেখায়।

এআই-এর প্রভাব শুধু সার্চেই সীমাবদ্ধ নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভার্চুয়াল ও এআই-নির্ভর ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি হচ্ছে, যারা বাস্তব মানুষের মতো কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস এবং গুগল নতুন এআই মডেল, চ্যাট ফিচার এবং ভার্চুয়াল অ্যাভাটার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতাকে আরও বদলে দিচ্ছে।

অনলাইন শপিংয়েও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এআই-চালিত টুল ব্যবহার করে রিটেইল ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক কয়েকশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অ্যামাজনসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন এআই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও পণ্য তুলনা করার টুল তৈরি করছে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

গুগলও নতুন “ইউনিভার্সাল শপিং কার্ট” চালু করেছে, যেখানে বিভিন্ন অনলাইন দোকানের পণ্য একসঙ্গে যুক্ত করা যায়। এতে ব্যবহারকারীর কেনাকাটার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও একীভূত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-নির্ভর সার্চ ফলাফল সরাসরি উত্তর দেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে ক্লিক কমতে পারে, তবে যারা ক্লিক করছেন তারা বেশি কার্যকর ব্যবহারকারী—যেমন কেনাকাটা বা বুকিং সম্পন্ন করা।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট এখন একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সার্চ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন শপিং—সব ক্ষেত্রেই এআই ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে পারে

হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলি, আহত ২

 

হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলি, আহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের কাছে সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ ও ১৭তম স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের সংযোগস্থলের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, অস্ত্রধারী একজন ব্যক্তিকে ঘিরে খবর পাওয়ার পর সিক্রেট সার্ভিসের ইউনিফর্মধারী সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।



ঘটনার সময় হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি অবস্থানরত সাংবাদিকরা টানা গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে পুরো এলাকা লকডাউন করা হয় এবং সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

সিএনএনের সাংবাদিকদের বর্ণনায় বলা হয়েছে, কয়েক ডজন গুলির শব্দ শোনার পর হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে থাকা সংবাদকর্মীদের দ্রুত প্রেস ব্রিফিং রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের আশ্রয় নিতে বলা হয় এবং সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা “নিচে শুয়ে পড়ুন” ও “গুলি চলছে” বলে সতর্ক করেন।

ঘটনার পর রাইফেলধারী সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের হোয়াইট হাউসের নর্থ লন এলাকায় টহল দিতে এবং প্রেস ব্রিফিং রুম ঘিরে ফেলতে দেখা যায়। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের কিছু পরে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।

ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, এফবিআই ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে জানানো হবে।

সূত্র: সিএনএন

Saturday, 23 May 2026

যে অবস্থায় বদলি হজের বিধান প্রযোজ্য

 

যে অবস্থায় বদলি হজের বিধান প্রযোজ্য
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েতের একটি হজ। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মৌলিক ভিত্তির একটি, যা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য পালনীয় একটি কর্তব্য। যে কারণে হজ পালনে প্রতি বছর বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ পালনে মক্কা নগরীতে সমবেত হন।

ইসলামের পরিভাষায় হজের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা করা ও সফর বা ভ্রমণ করা। অর্থাৎ হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে বিশেষ কিছু কর্ম সম্পাদন করা।



ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ আদায় করা আবশ্যক। তবে অনেক সময় কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হওয়ার পরও অসুস্থতা, বার্ধক্য বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি নিজে হজে যেতে সক্ষম হন না। সেক্ষেত্রে, তার জন্যও হজ করার বিধান রাখা হয়েছে ইসলামে। ধর্মীয় পরিভাষায় যে হজকে বলা হয়ে থাকে বদলি হজ।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মোহাম্মদ বলেন, ‘যে ব্যক্তির আর্থিকভাবে সক্ষমতা আছে, কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা নাই বা মৃত্যু পর্যন্ত ছিল না কিংবা থাকার সম্ভাবনাও প্রায় রহিত হয়, তার জন্যই বদলি হজ।

তবে অনেক সময় প্রশ্ন থাকে কারো ওপর যদি হজ ফরজ হয়ে থাকে, তা পালন করার শারীরিক সক্ষমতাও থাকে তাহলে তার ক্ষেত্রে বদলি হজ প্রযোজ্য হবে না।

এক্ষেত্রে বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধি বিধান রয়েছে ইসলামে। যেগুলো অবশ্যই পালন করা উচিত বলে বলছেন ইসলামিক চিন্তাবিদ ও গবেষকরা।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, যিনি বদলি হজ করতে মক্কায় যাবেন তার ক্ষেত্রেও খুব সুনির্দিষ্ট কিছু কিছু নিয়ম রয়েছে।

বদলি হজ কী

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হজ ফরজ করা হয়েছে ইসলামের বিধানে। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি ফরজ হজ্জ আদায় করতে অক্ষম হয় তাহলে তার পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি হজ্জ পালন করে দিতে পারে। ইসলামের পরিভাষায় এটিকে বদলি হজ্জ বলে।

বদলি হজ কেন?

বদলি হজের মূল লক্ষ্য হলো ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে জিম্মাদারি আদায় করা, যিনি নিজে হজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন।

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা আনিসুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘মৃত অবস্থায় ওসিয়ত করে গেলে বা জীবিত অবস্থায় যদি কেউ দেখেন তিনি হজ করতে যেতে পারবেন না তাহলে তার পক্ষ থেকে যে হজ পালন করা হবে সেটিকে ইসলামের পরিভাষায় বদলি হজ বলে।,

বদলি হজ কেন করাতে হয় তার বিভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী। ইসলামি গবেষকরা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘ধরুন একজন ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ ছিল, কিন্তু শারীরিকভাবে সমর্থ থাকতে হজ করেননি। এখন শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, এখন আপনার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে হজ করতে পাঠানো আপনার জন্য ফরজ’।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়েছিল, কিন্তু তিনি হজে যাবার আগেই মারা গেছেন। তাহলে মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার ওয়ারিশগন বদলি হজ পালন করতে পারেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক বলেন, ‘মারা যাওয়ার আগে যদি কোনো ব্যক্তি তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিশগণের কাছে এমন বদলি ওয়াজের বিষয়ে ওসিয়ত করে যান তাহলে তার ক্ষেত্রে বদলি হজ পালন করানো ওয়াজিব। আর যদি ওসিয়ত নাও করে থাকে যদি তার রেখে যাওয়া সেই পরিমাণ সম্পদ থাকে তার পক্ষে তার সন্তানরা মনে করেন তার মা/বাবার নামে বদলি হজ করাতে পারেন। সেটি ওয়াজিব না হলেও উত্তম।’

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যে ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার আশা আছে বা যিনি নিজে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তিনি অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করালে তাঁর ফরজ আদায় হবে না।

বদলি হজ পালনের নিয়ম কী?

হাদিস ও ইসলামের বিভিন্ন বিধান পর্যালোচনা করে বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানের কথা বলছেন ইসলামি লেখক ও গবেষকরা। সেক্ষেত্রে, কেউ শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সক্ষমতা হারিয়ে ফেললে এবং তা থেকে মুক্তির কোনো সম্ভাবনা না থাকলে বদলি হজ করানো যায়। দ্বিতীয়ত, জোর করে কেউকে আটকে রাখা হলে, তৃতীয়ত যাওয়ার পথ কারো জন্য অনিরাপদ হলে, চতুর্থত-নারীর ক্ষেত্রে হজে যাওয়ার জন্য মাহরাম পুরুষ সঙ্গে না পেলে তার জন্য বদলি হজ করানো যায়।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় কোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবে এতটাই অক্ষম যে তার আর্থিক সামর্থ্য আছে, কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা নেই তার ক্ষেত্রে বদলি হজ করানো যায়।’

তবে, যদি কেউ উল্লিখিত ওজরগুলোর কারণে নিজে জীবিত থাকা অবস্থায় নিজের ফরজ হজ অন্যের মাধ্যমে বদলি হজ হিসেবে করিয়ে ফেলেন, এরপর যদি তিনি আবার শারীরিক সক্ষমতা বা ওইসব সংকট কেটে যায় তাহলে তার পূর্ববর্তী কৃত বদলি হজ বাতিল হয়ে যাবে। এবং পরে তাকে নিজের ফরজ হজ নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘যদি মনে করে এখন সুস্থ না আগামী বার সুস্থ হয়ে হজে যেতে পারবে, তাহলে নিজেই করার চেষ্টা করবে। আর যদি কোনোভাবেই না হয় তাহলে জীবিত অবস্থায় অন্য কাউকে দিয়ে হজ করিয়ে নিতে হবে।’

বদলি হজ করানোর ক্ষেত্রে অনেকে আলেম-ওলামা দিয়ে বদলি হজ করিয়ে থাকেন। তবে, এক্ষেত্রে নিজের নিকট আত্নীয় স্বজনের মধ্যে থেকে বদলি হজ করানো উত্তম মনে করেন ধর্মীয় গবেষকরা।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো হবে তাকেই খরচ বহন করতে হবে। ওই ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে অসিয়ত করে যান তাহলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে এই হজ করাতে হবে।

বদলি হজের ক্ষেত্রে একটি আলোচনা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য আছে ইসলামি গবেষকদের মতে। একটি পক্ষ মনে করেন, যে ব্যক্তি আগে ফরজ হজ আদায় করেননি তাকে দিয়ে বদলি হজ করানো যাবে না।

তবে, ধর্মীয় বিধান পর্যালোচনা করে কেউ কেউ বলছেন, এই বিধানের পক্ষে জোরালো কোন যুক্তি নেই। যে কারণে যে কাউকে দিয়ে বদলি হজ করানো যাবে।

অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন, কোনো নারীর পক্ষ থেকে বদলি হজ করাতে হলে অন্য নারী দিয়েই করাতে হবে কি-না? তবে ধর্মীয় বিধান পর্যালোচনা করে ইসলামি গবেষকরা বলছেন, বদলি হজের ক্ষেত্রে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। বরং নারীর পক্ষ থেকে পুরুষও বদলি হজ করতে পারবে।

অন্যদিকে ধর্মীয় গবেষকদের মতে, যিনি বদলি হজ করবেন, তাকে সেই দেশের নাগরিক বা বাসিন্দা হতে হবে, যার পক্ষ থেকে তিনি বদলি হজ করছেন।

অবরুদ্ধ বা জেলবন্দির ক্ষেত্রে নিয়ম কী?

প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সৌদি আরবে যান হজ পালন করতে। এ বছর অন্তত ১৫ লাখ মুসলমানে হজে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে এবার শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকেই হজে যাচ্ছেন ৭৮ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

অনেক সময় বিভিন্ন অপরাধ বা নানা কারণে জেলে আটকা থাকেন অনেকে। অনেকের আবার আমৃত্যু কারাদণ্ড বা আমৃত্যু জেলও দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে অনেকে প্রশ্ন করেন, জেলবন্দি মানুষের ক্ষেত্রে বদলি হজ করানো যাবে কি-না।

বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রে যে সব নিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে, জোর করে কেউকে আটকে রাখা হলে বদলি হজ করানো যায়।

লেখক ও গবেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ জেলে থাকে, যদি আমৃত্যু সাজা হয়, উনি যদি বুঝতে পারেন উনি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারবেন না, আমলটা করতে পারবেন না। তখন দেখতে হবে তার ওপর হজ ফরজ হয়েছে কি-না।’

তিনি মনে করেন, এক্ষেত্রে যদি তার আর বের হওয়ার কোন সুযোগ না থাকে, তার পক্ষ থেকে পরিবার বদলি হজ করিয়ে নিতে পারেন যদি তার সেই সামর্থ্য থাকে।

প্রায় একই রকম বলছিলেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার। তিনি বলেন, ‘যদি কারো এমন কারাদণ্ড হয়, তার যদি আর্থিকভাবে সামর্থ্য থাকে তাহলে সে কাউকে দিয়ে হজ করিয়ে দিবে। এ রকম অবস্থা হলে সে বদলি হজ করাতে পারবে’।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরাফা দিবসের মর্যাদা ও করণীয়

 

আরাফা দিবসের মর্যাদা ও করণীয়

আল্লাহতায়ালা মুমিনদের বিবিধ হিসাবনিকাশের জন্য বারো মাসে একটি বছরের রূপ দান করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় আসমানগুলো ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই মাস বারোটি, এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত (নিষিদ্ধ বা হারাম মাস)। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।’ (সুরা তাওবা : ৩৫) এই চারটি মাসের একটি হলো, জিলহজ মাস। এই মাসটি পবিত্র হজ পালনের মাস। ইসলামের পঞ্চ রুকনের মধ্যে অন্যতম একটি হলো হজ আদায়। অন্যদিকে হজের মধ্যকার অন্যতম রোকন হলো আরাফায় অবস্থান। মহিমাঘেরা এই দিবসের তাৎপর্য, মহত্ত্ব চির উদ্ভাসিত।

বছরের শ্রেষ্ঠতম দিন আরাফার দিবস



সুরা আল-ফজরের দ্বিতীয় আয়াতে জিলহজের প্রথম দশকের কসম করে আল্লাহতায়ালা আয়াত নাজিল করেন, যা এই রাত্রিগুলোর অন্যতম মহিমার বহিঃপ্রকাশই মাত্র। এদিকে জিলহজের প্রথম দশকের নবম দিন আরাফার দিন। মহান যে দিবস নিয়ে আল্লাহতায়ালা অন্যত্র বলেন, ‘এবং (শপথ) সেই দিবসের, যে উপস্থিত হয় এবং যাতে উপস্থিত হয়।’ (সুরা বুরুজ : ০৩) এই আয়াতের তাফসিরে রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইয়াওমে মাশহুদ তথা যাতে উপস্থিত হয় দ্বারা আরাফার দিবস উদ্দেশ্য।’ (তিরমিজি : ৩৩৩৯)

আরাফার দিবসেই ইসলামের পূর্ণতা ঘোষণা

আরাফার ন্যায় মর্যাদাপূর্ণ দিবসে আল্লাহতায়ালা ইসলামের পূ্র্ণতার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা আরাফা দিবসের শেষ ভাগে কোরআনের সেই মহান ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়াত অবতীর্ণ করেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ (সুরা মায়িদা : ০৩)

জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভের দিন

একজন বান্দা মাত্রই আল্লাহর সমীপে ক্ষমাপ্রত্যাশী। ক্ষমা লাভের সুসংবাদ থেকে শ্রেষ্ঠ কোনো অর্জন বান্দার জন্য আর হতে পারে না। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘আরাফা দিবসের তুলনায় এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহতায়ালা সর্বাধিক লোককে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহতায়ালা নিকটবর্তী হন, অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের সামনে গৌরব করেন এবং বলেন, তারা কী উদ্দেশে সমবেত হয়েছে (বা তারা কী চায়)?’ (মুসলিম : ৩১৭৯)

ফেরেশতাদের সঙ্গে আল্লাহর গর্ব প্রকাশ

আমর বিন আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা আরাফায় অবস্থানরত লোকদের নিয়ে আসমানের ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করে বলেন, দেখো! আমার বান্দাদের দেখো, তারা এলোমেলো চুল ও ধূলিময় অবস্থায় আমার কাছে এসেছে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৮০৪৭)

আরাফাবাসীদের ক্ষমার ঘোষণা

আরাফার এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যঘেরা স্থানে যে বান্দাই আল্লাহর সমীপে নিজের প্রয়োজন পেশ করে, আল্লাহতায়ালা তা অবশ্যই পূরণ করেন। আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের বলেন, আচ্ছা! (আরাফাবাসী) এরা আমার কাছে কী চায়? এরপর আল্লাহ বলেন, হে আমার ফেরশেতারা! তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।’ (মুসলিম : ১৩৪৮)

আরাফা দিবসের দোয়ার শ্রেষ্ঠত্ব

দোয়া ও মোনাজাতের জন্য বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর দোয়া হলো আরাফা দিবসের দোয়া। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আরাফার দোয়া শ্রেষ্ঠতর দোয়া।’ (তিরমিজি : ৩৫৮৫)

সুতরাং এই দিবসটিকে হজ ও হজের বাইরের সব মুসলিমের উচিত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানো। তাই জেনে নিন আরাফার দিবসে কী কী করণীয় আছে।

আরাফায় অবস্থান করা

হজের মধ্যকার অন্যতম রুকন হলো, আরাফায় অবস্থান। নবীজি বলেন, ‘আরাফায় অবস্থানই হজ।’ (তিরমিজি : ৮৮৯) তাই এই দিবসে হাজিরা আরাফায় সমবেত অবস্থান করবেন।

আরাফা দিবসের রোজায় দুই বছরের গুনাহ মাফ

আরাফার দিবসের মতো শ্রেষ্ঠতর দিনে আল্লাহতায়ালা বান্দার পক্ষ থেকে সেরা সব আমলের নজরানা পছন্দ করেন। এর মধ্যে একটি হলো, যারা হজে যাননি, তারা নিজ স্থানে থেকে রোজা পালন করা সুন্নতসম্মত একটি বিধান। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আর আরাফার দিবসের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ (মুসলিম : ২৬৩৬)

অধিক পরিমাণে দোয়া ও ইস্তেগফার

এই দিনে অধিক পরিমাণে দোয়া করা। বিশেষত, এই দোয়াটি অধিক পরিমাণে করা; সেটি হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদুহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়্যিন ক্বাদির। মোটকথা, এদিনে আমাদের কর্তব্য হবে ক্ষমা প্রার্থনা এবং রোনাজারির মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা করা।

কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর জিকির করা

এই দিবসে কিছু পরিমাণ সময় কোরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট করা। হৃদয়ে প্রশান্তি অর্জনে কোরআন তিলাওয়াতের এবং হৃদয়ে সজীবতা আনতে জিকিরের তথা আল্লাহর অধিক স্মরণের বিকল্প নেই।

দান-সদকা করা

মহান এই দিনে সাধ্যমতো দান-সদকা ইত্যাদিতে নিজের জন্য একটি অংশ হলেও রাখা। আল্লাহতায়ালা দান-সদকাকারীদের ভালোবাসেন। সদকার মাধ্যমে আল্লাহর ক্রোধ ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা যায়। সদকার সুবাদে যেকোনো আমল কবুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

কোরবানি : ইতিহাস থেকে শিক্ষা

  পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। (আবু দাউদ : ১১৩৪; নাসায়ি : ১৫৫৬) জিলহজ মাসের ১০ তারিখে সারা বিশ্বের মুসলমানরা ...