Tuesday, 10 February 2026

ইসলামে ভোট প্রদানের গুরুদায়িত্ব

 

ইসলামে ভোট প্রদানের গুরুদায়িত্ব

আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনে ভোটের নাগরিক অধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে পুরো জাতি। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও সচেতন মুসলিম হিসেবে ভোট দেওয়ার আগে জেনে নেওয়া উচিত ইসলাম এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দিয়েছে। আধুনিক গবেষক আলেমদের দৃষ্টিতে ইসলামে ভোট দেওয়ার অর্থ কোরআন-সুন্নাহর চারটি পরিভাষার সমন্বিত দায়িত্ব পালন করা।

ভোট মানে সাক্ষ্য দেওয়া

ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট দেওয়া মানে শাহাদাত বা সাক্ষ্য প্রদান করা। অর্থাৎ আপনি যাকে ভোট দিচ্ছেন, তার ব্যাপারে এই মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছেন—আপনার দৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য এই ব্যক্তি সর্বাধিক যোগ্য এবং আপনার দৃষ্টিতে এই পদের জন্য তার থেকে অধিক যোগ্য কোনো প্রার্থী নেই।

সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে ইসলামের কথা হলো, ন্যায় ও ইনসাফের সঙ্গে সাক্ষ্য প্রদান করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা হারাম। আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন— ‘যখন তোমরা কোনো কথা বলো তখন ন্যায়নীতি অবলম্বন করো, সে ব্যক্তি (যার বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে) তোমাদের নিকটাত্মীয় হলেও।’ (সুরা আনআম: ১৫২)। অন্য আয়াতে ঘোষণা হয়েছে—‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনো ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার করো।’ (সুরা মায়িদা: ৮)। মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো; তাতে তোমাদের নিজের বা পিতামাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও।’ (সুরা নিসা: ১৩৫)। উল্লিখিত আয়াতগুলো থেকে দুটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়—এক. সর্বাবস্থায় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে; দুই. সত্য সাক্ষ্য এবং সত্য কথা বলতে পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না।

যোগ্যতম প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব বা দলীয় সম্পর্কের কারণে, অথবা বিপক্ষীয় বিরোধিতার কারণে কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে ভোট প্রদান করা মিথ্যা সাক্ষ্যের আওতায় পড়বে। কোরআন ও হাদিসে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মিথ্যা সাক্ষ্যের নিন্দা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে—‘অতএব তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা থেকে বিরত হও এবং মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত হও।’ (সুরা হজ: ৩০)

রাসুল (সা.) মিথ্যা সাক্ষ্যকে সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবু বকর (রা.) বলেন, একবার নবী (সা.) বললেন, ‘আমি কি তোমাদের সর্বাধিক জঘন্য গুনাহ সম্পর্কে বলব না? আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশী স্থাপন করা, বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া এবং খুব ভালো করে শোনো—মিথ্যা সাক্ষ্য, মিথ্যা কথা।’ আবু বকর (রা.) বলেন, তিনি হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। যখন মিথ্যা সাক্ষ্যের প্রসঙ্গটি আসে, তখন তিনি সোজা হয়ে উঠে বসলেন। আর ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ শব্দটি বারবার বলতে লাগলেন। একপর্যায়ে আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম, ‘ইশ! যদি নবী (সা.) চুপ করতেন।’ (বুখারি)। উল্লেখ্য, টাকার বিনিময়ে কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করা হলে দুটি কবিরা গুনাহ একত্র হবে। একটি হচ্ছে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান, অপরটি হচ্ছে ঘুষ গ্রহণ।

ভোট মানে সুপারিশ

ভোটের দ্বিতীয় অবস্থানটি হচ্ছে সুপারিশ। অর্থাৎ, প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ভোটদাতা যাকে ভোট প্রদান করে তার জন্য সুপারিশ করেন যে, ওই প্রার্থীকে প্রতিনিধি মনোনয়ন করা হোক। ফলে শরিয়তের দৃষ্টিতে ভোট প্রদান করার অর্থ হচ্ছে, কোনো পদের জন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে সুপারিশ করা।

আর ইসলামে সৎ কাজের জন্য সুপারিশ করা সওয়াবের কারণ এবং অবৈধ কাজে সুপারিশ করা পাপ। আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন, ‘যে লোক সৎ কাজের জন্য কোনো সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক সুপারিশ করবে মন্দ কাজের জন্য, সে তার বোঝারও একটি অংশ পাবে। বস্তুত আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল।’ (সুরা নিসা: ৮৫)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ভালো কাজে উদ্বুদ্ধকারী সেই সওয়াব পাবে, যা ওই নেক আমলকারী পাবে।’ (তাবরানি)। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বৈধ অধিকার বা বৈধ কাজের জন্য সুপারিশ করবে সে সওয়াব পাবে। আর কোনো অবৈধ কাজের জন্য যে সুপারিশ করবে, তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে প্রথমত একটি ভালো কাজে সুপারিশের প্রতিদান পাবে। দ্বিতীয়ত, প্রার্থী বিজয়ী হলে ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় তার সব ভালো কাজের পুণ্যের একটা অংশ সে লাভ করবে। পক্ষান্তরে কোনো অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে প্রথমত একটি মন্দ কাজের সুপারিশ করায় এবং দ্বিতীয়ত যদি প্রার্থী বিজয় লাভ করে তাহলে ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় তার সব মন্দ কাজের পাপের একটি অংশ তাকে ভোগ করতে হবে।

ভোট অর্থ উকিল নিয়োগ

ভোটের তৃতীয় অবস্থান হচ্ছে উকিল নিয়োগ। অর্থাৎ ভোটদাতা প্রার্থীকে তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগের প্রস্তাব করছেন। সুতরাং ভোট প্রদান অর্থ হচ্ছে, সম্মিলিত অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো পরিষদে নিজের প্রতিনিধিত্বের জন্য উকিল বা প্রতিনিধি নিয়োগের প্রস্তাব করা। উকিল নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সৎ, আমানতদার এবং যোগ্য ব্যক্তিকে উকিল বানানো জরুরি। বিশেষত কোনো সম্মিলিত অধিকারের ক্ষেত্রে তার গুরুত্ব আরো বেশি। কোনো জাতীয় দায়িত্বের প্রতিনিধিত্বে পুরো জাতির অধিকার সংশ্লিষ্ট থাকে। তাই কোনো অযোগ্য লোককে প্রতিনিধিত্বের জন্য ভোট প্রদান করা পুরো জাতির হক নষ্ট করার চেষ্টা করা, যা মারাত্মক গুনাহ।

ভোট হলো আমানত

ভোটের চতুর্থ অবস্থান হচ্ছে আমানত। অর্থাৎ ভোট প্রদানকারী তার নিকট গচ্ছিত আমানত তার হকদারকে পৌঁছে দিচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য ভোটাধিকার আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের কাছে আমানতস্বরূপ। সুতরাং শরিয়তের দৃষ্টিতে ভোট দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, তার কাছে থাকা আমানতটি তার হকদারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

আমানতকৃত বস্তু তার যথার্থ প্রাপকের কাছে না পৌঁছানো হলো খিয়ানত, যা হারাম। খিয়ানতের ব্যাপারে রাসুল (সা.) অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কোনো খুতবা দিয়েছেন আর তাতে নিম্নের বাণী উচ্চারণ করেননি, এমন ঘটনা খুব কমই ঘটেছে—‘যার মধ্যে আমানতদারি নেই তার মধ্যে ঈমান নেই এবং যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষার তাগিদ নেই তার ধর্ম নেই।’ (বাইহাকি)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ ফরমান, ‘মুনাফেকের আলামত তিনটি। যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন কোনো কিছু আমানত রাখা হয় তার খিয়ানত করে।’ (বুখারি, মুসলিম)। সুতরাং উপযুক্ত ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করার অর্থ ভোটের আমানত যোগ্য স্থানে পৌঁছে দেওয়া। আর উপযুক্ত প্রার্থীকে পাশ কাটিয়ে কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, আমানতের খিয়ানত করা, যা স্পষ্ট হারাম।

অতএব, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—ব্যাপারটি এমন সরল নয়। বরং বাস্তবতা হলো, ‘আমার ভোট আমি দেব, বুঝে-শুনে যোগ্য ব্যক্তিকে দেব।’ আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন।

মনকে যেভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত করবেন

 

মনকে যেভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত করবেন

রমজান শুধু অনাহারে থাকার মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও হৃদয় জাগরণের সময়। শরীরকে রোজার জন্য প্রস্তুত করার কথা ভাবি আমরা অনেকেই, কিন্তু হৃদয় ও মনকে প্রস্তুত করার বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। অথচ রমজানের আসল শিক্ষা ও পরিবর্তন শুরু হয় মন থেকেই। পবিত্র এই মাসের জন্য আমাদের হৃদয়কে কীভাবে প্রস্তুত করা যায়?

রমজানের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো নিয়ত করা। যেমন করে প্রিয় কোনো অতিথির আগমনে আমরা আনন্দিত হই, ঠিক তেমনি রমজানকে স্বাগত জানানোর মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে, এই মাসে যেন তিনি আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করেন, ভেতরের অপ্রয়োজনীয় আসক্তি ও পাপের বোঝা হালকা করে দেন।

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, রমজান শব্দের অর্থ এমন এক উত্তাপ, যা পাপকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তাই আগে থেকেই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই মাসকে কীভাবে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়। শুধু রোজা রাখাই নয়, বরং নিজের চরিত্র, চিন্তা ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সংকল্প করতে হবে।

হৃদয়ে আল্লাহর জন্য জায়গা তৈরি করতে হলে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমাতে হবে। সব সময় ফোন, বই বা নানা কোলাহলে নিজেকে ভরিয়ে রাখলে আত্মসংযোগ তৈরি হয় না। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় একান্তে কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোনো বিভ্রান্তি ছাড়া চুপচাপ বসে দোয়া করা, নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দেওয়া এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্তরের সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করাই হতে পারে উত্তম প্রস্তুতি।

দিনে মাত্র ১০ মিনিট নীরবতায় বসে থাকার অভ্যাস হৃদয় ও মনকে অনেক বেশি শান্ত ও মনোযোগী করে তুলতে পারে। এতে রমজানে ইবাদতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং নিয়ত থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

রমজানের পরের জীবন নিয়েও এখনই ভাবা জরুরি। অনেকেই রমজান শেষে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যান। এই পরিস্থিতি এড়াতে হলে রমজানেই একটি বাস্তব পরিকল্পনা করতে হবে যে, কীভাবে কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ ও অন্যান্য ভালো অভ্যাসগুলো বছরজুড়ে ধরে রাখা যায়।

যারা বেশি কোরআন পড়তে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি করা প্রয়োজন। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ে যত্নশীল হওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।

চেষ্টা করতে হবে রমজান যেন আমাদের জীবনে প্রিয় অতিথির মতো আসে, হৃদয় ও আত্মাকে জাগিয়ে তোলে।

কলম্বিয়ায় ভারি বৃষ্টিতে নিহত ১৩, ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

 

কলম্বিয়ায় ভারি বৃষ্টিতে নিহত ১৩, ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কলম্বিয়ায় মৌসুমের এই সময়ে বিরল ও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা আইডিয়াম জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা থেকে দ্রুতগতিতে নেমে আসা একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূলে আঘাত হানায় গত মাসে স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় বৃষ্টিপাত প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

চলতি সপ্তাহে প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নারিনো প্রদেশে। সেখানে ভূমিধসে সাতজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাতে টানা ভারি বৃষ্টির ফলে একটি পাহাড়ি ঝিরি হঠাৎ ফুলে-ফেঁপে ওঠে। এর পরপরই ভূমিধসে কয়েকটি বসতবাড়ি কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে।

ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ ও কাদা সরাচ্ছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশিতে কুকুরও কাজে লাগানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউএনজিআরডি জানিয়েছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার প্রভাবে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কলম্বিয়ায় শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই দেশে আলাদা করে ঋতু না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টি ও খরার তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরান ভীত নয়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না: আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরান ভীত নয়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না: আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার জানিয়েছেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি ত্যাগ করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হুমকির সামনে ইরান কখনো ভীত নয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি।

আরাগচি তেহরানে এক ফোরামে বলেন, “ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আমরা খুব কম বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি এবং সন্দেহ আছে যে আমেরিকান পক্ষ সত্যিই আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে কি না।” তিনি আরও বলেন, তেহরান চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করছে, যারা পরমাণু সমঝোতার ক্ষেত্রে ‘কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে কাজ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সমৃদ্ধকরণের ওপর এত জোর দিচ্ছি। কারণ আমাদের আচরণ নির্ধারণ করার অধিকার কারো নেই। আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও আমরা ত্যাগ করব না।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মোতায়েন হলেও ইরান ভীত নয়।

গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের ১২ দিনের সংঘর্ষের পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রথমবারের মতো গত শুক্রবার ওমানে আলোচনার পুনঃসূচনা করেছে। ইরান এই আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চাইছে। আরাগচি বলেছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আস্থা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।’

পশ্চিমা দেশ ও ইসরাইল অভিযোগ করছে যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু ইরান বারবার এ দাবি অস্বীকার করেছে। আরাগচি বলেন, “আমরা কোনো পারমাণবিক বোমা চাই না, আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি হলো বড় শক্তিগুলোর কাছে ‘না’ বলার ক্ষমতা।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনের বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ দিচ্ছে। তবে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে আলোচনার পরিধি বাড়াতে অস্বীকার করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দিতে নারাজ।

চাঁদে শহর গড়ার পরিকল্পনা করছেন ইলন মাস্ক

 

চাঁদে শহর গড়ার পরিকল্পনা করছেন ইলন মাস্ক

চাঁদে একটি শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তার ভাষায়, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স এখন চাঁদে একটি ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর’ নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আগামী ১০ বছরের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, স্পেসএক্স এখনো ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে শহর গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ধরে রেখেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মানবসভ্যতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত চাঁদে পৌঁছানো।

এর আগে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেসএক্স বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে যে তারা আপাতত মঙ্গল গ্রহের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়ে চাঁদ অভিযানে মনোযোগ দিচ্ছে। মঙ্গল অভিযান ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্স ২০২৭ সালের মার্চে চাঁদে একটি মানববিহীন মহাকাশযান অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এদিকে, এক সপ্তাহ আগে ইলন মাস্ক ঘোষণা দেন যে তার নেতৃত্বাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই অধিগ্রহণ করেছে স্পেসএক্স। এই চুক্তিতে স্পেসএক্সের মূল্যায়ন করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার এবং এক্সএআই-এর মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি ডলার।

Saturday, 7 February 2026

সময় এখন রমজান প্রস্তুতির

 

সময় এখন রমজান প্রস্তুতির


যারা রমজানকে ভালোবাসেন, রমজান নিয়ে অনেক কিছু করতে চান, আলহামদুলিল্লাহ তারা রমজানের সুবাস পেতে শুরু করেছেন। যেমন একজন আম ব্যবসায়ী আমের সিজনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম বাগানের আমের মুকুল এলে সাভারে বসে এটার গন্ধ পায়। আমগাছের এক মুকুল থেকে আরেক মুকুলে মৌমাছি ঘুরে বেড়ায়, সেও তখন এখানে বসে একটু নাচানাচি করে, গুন গুন করে। একইভাবে সত্যিকার রমজান-প্রেমিকদেরও এখন একটু নড়েচড়ে ওঠার কথা। মা-বাবা-স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ খুব কাছের যারা, তারা এটা টের পাওয়ার কথা।

সময় নির্বাচনের! নির্বাচনের সময় শুরু হয়েছে সেই কবে থেকে? কত আয়োজন, কত উদ্যোগ! কবে তা শেষ হবে? এ নির্বাচনের প্রভাব-ফল-ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কী, ১৩-১৪-২৮ ফেব্রুয়ারিতেই থেমে যাবে? নিশ্চয়ই না। যারা নির্বাচন নিয়ে বছর দেড়েক ধরে দিন-রাত পড়ে আছেন, তারা কি নির্বাচনের রেশ কাটিয়ে এত তাড়াতাড়ি রমজান প্রস্তুতির ভেতরে ঢুকে পড়তে পারবেন? নির্বাচনে বিজয়ী-বিজিত উভয়পক্ষই হুট করেই রমজানের বিষয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পারবে?

১৮/১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান। তাহলে রমজান প্রস্তুতি শুরু হবে কবে? একটু ভাবুন, নির্বাচন বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে রমজান নিয়ে প্রস্তুতির কথা ভাবার সুযোগই দেয়নি। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারল না, সে চরম হতভাগা!!’ নির্বাচন থেকে যারা কিছুই পাবে না, তারা হয়তো এ নিয়ে আফসোস করতেও পারে। কিন্তু বিজয়ীরা কখনো রমজান হারানোর বেদনায় আফসোস করার সুযোগ পাবে না। নির্বাচনের ফল তাদের আরো অন্যরকম বিষয়ে ডুবিয়ে ফেলবে।

শুধু নির্বাচন নয়, এভাবেই প্রতিদিন-সপ্তাহ-মাস-বছর করে নানা বিষয়ে নানাভাবে আমরা নানা বিষয়ের মধ্যে ডুবে যাই। সময়ের ব্যবধানে আবার আরেক সময় আরেক বিষয়ে মেতে উঠি। রমজান নিয়ে প্রস্তুতি যার যে অবস্থায় থাকুক না কেন, রমজানের শেষদিকে ঈদ নিয়ে সবাই মাতামাতিতে লিপ্ত হবেই, তা যেকোনোভাবেই হোক না কেন।

সুরা বাকারার ২৩ রুকুতে রমজান সাফল্যে কোরআনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। সে সূত্রে রমজান সাফল্যে প্রস্তুতির কিছু বিষয়-

১. রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত বিষয়ে স্বচ্ছ-সুস্পষ্ট-বিস্তারিত ধারণা অর্জন। বিশুদ্ধ বিষয় সঠিক উৎস থেকে জানা, এগুলো বারবার পড়া এবং বেশি বেশি চিন্তা করার কোনো বিকল্প নেই। একটি বিষয় ভালোভাবে উপলব্ধি করলে যে কেউই রমজান নিয়ে আনন্দের সাগরে দুলতে থাকবেন। সে দোলা তাকে চারপাশের অনেককেই আন্দোলিত করতে বাধ্য করবে।

২. রমজান সাফল্যের প্রস্তুতি বিষয়ে দ্বিতীয় বিষয় হলো-দোয়া। দোয়ার মাস-রমজানে যদি ঠিকমতো দোয়া করতে চাই, তাহলে দোয়াগুলো আগে শিখতে হবে। রমজানে শিখতে চাইলে পড়বেন কখনÑপাবেন কীভাবে? নিজে পারলে না অন্যকে খুব সহজেই দিতে পারবেন। নিজে না পারলে অন্যকে পারানোর চিন্তা করতে পারবেন না।

৩. রমজানের নামাজ-উপভোগ করতে হবে। সারাটা বছর নামাজ উপভোগ না করে, নামাজ উপভোগের কলাকৌশল আয়ত্ত না করে, রমজানে হঠাৎ করে নামাজ উপভোগ করার চিন্তা খুবই একটা বেমানান বলে মনে করি। যেকোনোভাবে নামাজ উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজের কাজে লাগছে এমন একটি বিষয়ও আয়ত্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের আপনজনদের তা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

৪. রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোজা। মুহাম্মদ (সা.) রমজানের রোজার হক আদায় করার জন্য শাবানে প্রচুর রোজা রাখতেন। আর আমরা সারাটা বছর রোজার কোনো খবর না রেখে হঠাৎ করে রমজানের রোজার হক আদায় করার কথা চিন্তা করি কীভাবে? রোজার আসল উদ্দেশ্য, প্রায়োগিক অর্থ সম্পর্কে খুব ভালোভাবে বিস্তারিত জানার বিকল্প নেই। রোজার আসল আনন্দ কীসে? বুঝতে পারলে রমজান সাফল্যে আর কোনো বাধা থাকবে না। বাকি সবই অতি সহজেই আয়ত্তে চলে আসবে।

৫. রমজান ও কোরআন। কোরআন সম্পর্কে রমজানের যে দাবি, সে ব্যাপারে কোনো পূর্বপরিকল্পনা গোছগাছ ছাড়া রমজানে হুট করে সব ঠিকঠাকমতো করার দৃষ্টিভঙ্গিটা অবশ্যই চরম বিভ্রান্তি। রোজা ঠিক না হলে কোরআন ঠিকমতো ধরতে পারবেন না। খতম দেবেন-পড়বেন কিন্তু কাজ হবে না।

কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি পরিকল্পনা ছাড়া মাত্র এক মাসের মধ্যে এসবের সবকিছু সম্পাদন কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। সুতরাং আসুন কালবিলম্ব না করে শাবানের সামনের কয়েকটি দিনে রমজান সফল করার যাবতীয় বিষয় সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিই।

পরিবার-আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী-বন্ধুবান্ধব-মুসল্লি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেশাজীবী গ্রুপ ইত্যাদিতে নানাভাবে রমজানের গুরুত্ব-দোয়া-নামাজ-রোজা-কোরআন-সমাজ সেবা-জাকাত ব্যবস্থাপনা-ইতিকাফ ইত্যাদি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করি।

এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে কিছুটা অগ্রসর হয়েছি যারা, তাদের অনেক বেশি দায়িত্ব-যারা কিছুই করেনি, তাদের পাশে দাঁড়ানো। স্রেফ ব্যক্তিগত উন্নয়নে সন্তুষ্টদের শেষ পর্যন্ত পস্তাতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। খুব ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে-রমজান শুধু মুমিনদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য। সুতরাং সাধু সাবধান।

বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ২০২৬-এর হজযাত্রীদের রমজান সাফল্যের প্রতি। মনে রাখতে হবে, রমজান সফল না করে কেউ হজ সফল করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে পুরাতন হজ-ওমরাহকারীরা খুবই সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন।

রমজান সাফল্যে অভাবনীয় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে মসজিদের ইমামকে। ইমামই হবেন রমজান সাফল্যের সুস্পষ্ট উদাহরণ। এ ব্যাপারে ইমামদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক। ইমামরা রমজান সাফল্যের কলাকৌশল আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হলে অন্য আর কোনো উপায়ে তা সফল করা সম্ভব নয়।

পরিশেষে আমাদের সবাইকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে-মানুষের প্রকাশ্য শত্রু শয়তানই রমজান সাফল্যের প্রস্তুতির পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা। তার কারণেই আমরা রমজান প্রস্তুতিকে মোটেও গুরুত্ব দিতে পারি না। একটু মনোযোগ দিয়ে শুনুন, দেখুন আমাদের অতিশয় সুমহান প্রতিপালক আল্লাহ এ বিষয়ে কী করেছেন। তিনি রমজানের এক মাসে শয়তানকে জিনজিরাবদ্ধ করে বন্দি করার ব্যবস্থা করেছেন। সুবহানাল্লাহ। তা সত্ত্বেও যদি আমরা শয়তানের সঙ্গে না পারি, তাহলে শয়তানকে দোষারোপ করে কোনোই লাভ হবে না। বরং প্রমাণ হবে আসল কারণ-আমিই শয়তান। রমজানে শয়তান বন্দি থাকতেও যারা শয়তানি ছাড়তে পারব না, তাদেরই যারা রমজান শেষে হজে যাবেন, তারা মিনায় শয়তানের সঙ্গে পারবেন কীভাবে?

মনকে যেভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত করবেন

 

মনকে যেভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত করবেন


রমজান শুধু অনাহারে থাকার মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও হৃদয় জাগরণের সময়। শরীরকে রোজার জন্য প্রস্তুত করার কথা ভাবি আমরা অনেকেই, কিন্তু হৃদয় ও মনকে প্রস্তুত করার বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। অথচ রমজানের আসল শিক্ষা ও পরিবর্তন শুরু হয় মন থেকেই। পবিত্র এই মাসের জন্য আমাদের হৃদয়কে কীভাবে প্রস্তুত করা যায়?

রমজানের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো নিয়ত করা। যেমন করে প্রিয় কোনো অতিথির আগমনে আমরা আনন্দিত হই, ঠিক তেমনি রমজানকে স্বাগত জানানোর মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে, এই মাসে যেন তিনি আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করেন, ভেতরের অপ্রয়োজনীয় আসক্তি ও পাপের বোঝা হালকা করে দেন।

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, রমজান শব্দের অর্থ এমন এক উত্তাপ, যা পাপকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তাই আগে থেকেই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই মাসকে কীভাবে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়। শুধু রোজা রাখাই নয়, বরং নিজের চরিত্র, চিন্তা ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সংকল্প করতে হবে।

হৃদয়ে আল্লাহর জন্য জায়গা তৈরি করতে হলে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমাতে হবে। সব সময় ফোন, বই বা নানা কোলাহলে নিজেকে ভরিয়ে রাখলে আত্মসংযোগ তৈরি হয় না। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় একান্তে কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোনো বিভ্রান্তি ছাড়া চুপচাপ বসে দোয়া করা, নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দেওয়া এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্তরের সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করাই হতে পারে উত্তম প্রস্তুতি।

দিনে মাত্র ১০ মিনিট নীরবতায় বসে থাকার অভ্যাস হৃদয় ও মনকে অনেক বেশি শান্ত ও মনোযোগী করে তুলতে পারে। এতে রমজানে ইবাদতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং নিয়ত থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

রমজানের পরের জীবন নিয়েও এখনই ভাবা জরুরি। অনেকেই রমজান শেষে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যান। এই পরিস্থিতি এড়াতে হলে রমজানেই একটি বাস্তব পরিকল্পনা করতে হবে যে, কীভাবে কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ ও অন্যান্য ভালো অভ্যাসগুলো বছরজুড়ে ধরে রাখা যায়।

যারা বেশি কোরআন পড়তে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি করা প্রয়োজন। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ে যত্নশীল হওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।

চেষ্টা করতে হবে রমজান যেন আমাদের জীবনে প্রিয় অতিথির মতো আসে, হৃদয় ও আত্মাকে জাগিয়ে তোলে।

ইসলামে ভোট প্রদানের গুরুদায়িত্ব

  আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনে ভোটের নাগরিক অধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে পু...