Tuesday, 24 February 2026

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

আজ সপ্তম তারাবিতে সূরা আনফাল (৪১-৭৫) এবং সূরা তাওবা (১-৯৩) আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে দশম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো।

৮. সূরা আনফাল (৪১-৭৫)

দশম পারার শুরুতে গনিমতের সম্পদ বণ্টননীতি প্রসঙ্গে আলোচনার পর বদরযুদ্ধের আলোচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বদর যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বদর যুদ্ধে শয়তানের ভূমিকা এবং কাফেরদেরকে ফেরেশতাদের পিটুনি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। জিহাদের জন্য আত্মিক বল ও রুহানি শক্তি অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য যুদ্ধের ময়দানে অটল অবস্থান, বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য, মতভেদ ও অহংকার পরিহার এবং ধৈর্য ধারণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় জীবনে উত্থান-পতনের মূলনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। বদরযুদ্ধের বন্দি সমস্যা ও সমাধান বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। আনসার, মুজাহির এবং মুজাহিদদের পুরস্কার ও মর্যাদার আলোচনা করে সূরাটির সমাপ্তি ঘটেছে।

এই সূরার সূচনা হয়েছিল জিহাদ ও গনিমতের আলোচনা দিয়ে, আর সমাপ্তিও হয়েছে সাহায্য-সহযোগিতা ও জিহাদের আলোচনার মাধ্যমে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সূরাটিতে জিহাদের আলোচনাই ছিল প্রধান বিষয়। (৪১-৭৫)।

৯. সূরা তওবা (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ১২৯, রুকু ১৬)

আলোচ্য সূরার প্রথম শব্দটি হলো ‘বারাআত’, অর্থ নিঃসম্পর্ক হওয়া। সূরাটি নবম হিজরির ওই সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) রোমানদের শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলেন। এটি গাজওয়া তাবুক নামে পরিচিত। সূরা তওবায় মৌলিকভাবে দুটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছেঃ ১. মুশরিক ও আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে জিহাদের বিধানাবলি বর্ণনা এবং ২. গাজওয়া তাবুকের প্রেক্ষাপটে মোনাফেকদের মুখোশ উন্মোচন। জিহাদের বিধান বর্ণনার আগে ভূমিকাস্বরূপ বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অমুসলিমদের সঙ্গে মুসলমানদের সব সম্পর্ক ও চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। মুশরিকদের কাবা শরিফ ঘিরে হজ-ওমরা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ তারা অপবিত্র, কয়েকবার তারা চুক্তিভঙ্গ করেছে, ইসলামের অব্যাহত অগ্রযাত্রা রোধ করার জন্য ইহুদিদের সঙ্গে তারা জোট করেছিল।

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা, তার রাসুল ও জিহদের চেয়ে কোনো কিছু যেন মুসলমানদের কাছে বেশি প্রিয় না হয়- এ ব্যাপারে খুব তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। মুশরিকদের থেকে সম্পর্কোচ্ছেদের পাশাপাশি আহলে কিতাব তথা ইহুদী খৃস্টানদের কূটচক্রান্ত, ধোঁকা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, কপটতা এবং মিথ্যা সহ তাদের যাবতীয় মন্দ দোষের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, লড়াই করো ওদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে না, হারামকে হারাম মনে করে না এবং সত্য ধর্মের অনুসরণ করে না; তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাও, যতক্ষণ না তারা লাঞ্চিত হয়ে নিজ হাতে জিযিয়া প্রদান করে।(২৯-৪৯)।

সূরাটির অন্যতম একটি বিষয় হলো, মোনাফেকদের মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া। সে হিসেবে এ সূরার আরেকটি নাম ‘সূরাতুল ফাজিহাহ’ তথা লাঞ্ছনাকারী সূরা। এ সূরা নাজিল হওয়ার আগে মোনাফেকরা নিজেদের মুসলমান দাবি করত; কিন্তু আড়ালে কুফর গোপন রাখত। যাদের মনে কুফর আছে তাদের গোপন অবস্থা এ সূরা এমনভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে যে, কারও আর অজানা থাকেনি, কে মোনাফেক আর কে মুখলিস মোমিন। মোনাফেকদের দুর্বলতা ও গোপন দোষগুলো প্রকাশের বাহ্যিক কারণ ছিল তাবুক যুদ্ধ। স্বভাবতই জিহাদ প্রাণের ঝুঁকিসংকুল ইবাদত। গাজওয়া তাবুক ছিল বস্তুগত বিচারে সময়ের সবচেয়ে বড় শক্তির বিরুদ্ধে মোকাবিলা, তাও আবার যুগপৎ প্রচণ্ড গরম ও অভাব-দারিদ্র্যের দিনে। এই গাজওয়ার প্রেক্ষাপটে মোনাফেকদের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়ে যায়। সে সময় মোনাফেকদের যে আচরণ প্রকাশ পেয়েছিল তা সব যুগের সকল মোনাফেকের চিত্র। আমি খাঁটি মুসলমান কি না যাচাইয়ের পথ হলো, আমার মধ্যে মোনাফেকদের এ দোষগুলো নেই তো!

গাজওয়া তাবুকের প্রেক্ষাপটে মোনাফেকদের যে দোষগুলো প্রকাশ পেয়েছিল সেগুলো হলঃ- মিথ্যা অজুহাত পেশ করা (৪২), হিলা-বাহনা (৪৪-৪৬), হাস্যকর আপত্তির কথা বলে নিজেদের জন্য জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি আদায় (৪৯), মুসলিম সমাজে মাঝে অনিষ্ট ছড়ানো (৪৭), মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বিদ্বেষ, মুসলমানদের বিপদে আনন্দ প্রকাশ (৫০), মিথ্যা শপথ (৫৬), সম্পদ পেলে আনন্দ, না পেলে ক্ষোভ (৫৮), আল্লাহর মহব্বত, আল্লাহর জিকির ও তার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ শূন্য অন্তর (৫৯), নবীজিকে গালমন্দ করা (৬১), একে অপরকে মন্দ কাজের আদেশ দেওয়া, ভালো কাজ থেকে নিষেধ করা, কৃপণতা (৬৭)। এসব ছিল মোনাফেকদের প্রকাশ্য দোষগুলোর অন্যতম। মূলত মোনাফেকদের এসব দোষ আর কার্যকলাপ পূর্বেকার কাফেরদের চরিত্রেরই প্রতিনিধিত্ব করে। (৬৯)।

কাফেরদের সঙ্গে মোনাফেকদের সাদৃশ্যের কথা বলতে গিয়ে কওমে নুহ, আদ, সামুদ, কওমে ইবরাহিম, আসহাবে মাদয়ান ও কওমে লুতের কথা বলা হয়েছে। তাদের পরিণাম জানা সত্ত্বেও এরূপ আচরণ সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

দশম পারার শেষ পর্যন্ত মোনাফেকদের আলোচনাই রয়েছে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এ ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন, ‘হে আমার রাসুল, যদি আপনি তাদের জন্য সত্তরবার ইস্তেগফার করেন, তবুও আল্লাহ কিছুতেই তাদের মাফ করবেন না।’এ কথাও বলেছেন যে, ‘যদি তাদের কারও মৃত্যু হয় তাহলে আপনি তার জানাজার নামাজ পড়াবেন না’। (৮০-৮৪)।

দশম পারার শেষে আল্লাহ তায়ালা ওই একনিষ্ঠ মুসলমানদের কথাও আলোচনা করেছেন, যারা বার্ধক্য, প্রচণ্ড অসুস্থতা বা সরঞ্জাম না পাওয়ার কারণে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারেনি ঠিক; কিন্তু তাদের আগ্রহ এত বেশি ছিল যে, জিহাদে অংশগ্রহণ করতে না পারার দুঃখে তাদের চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। এ কারণেই বলা হয়েছে, এই একনিষ্ঠ মাজুর মুসলমানদের জিহাদে অংশ না নেওয়ায় কোনো গোনাহ হবে না। (৯১-৯২)।

হামাস নিরস্ত্র না হলে পুরো গাজা দখলের হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীর

 

হামাস নিরস্ত্র না হলে পুরো গাজা দখলের হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীর

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস যদি অস্ত্র সমর্পণ না করে, তাহলে পুরো গাজা দখল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের কট্টরপন্থি রাজনীতিক ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। হামাসের পক্ষ থেকে ইসরাইলি আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

গত সপ্তাহে ইসরাইল জানিয়েছিল, ৬০ দিনের মধ্যে হামাসকে সব অস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ সমর্পণ করতে হবে। এই সময়সীমার জন্য মার্কিন প্রশাসন অনুরোধ করেছিল। অস্ত্র সমর্পণ না হলে ইসরাইলি বাহিনী আইডিএফ নতুন করে সামরিক অভিযানে নামবে।

তবে হামাস দাবি করছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও গণমাধ্যমের হুঁশিয়ারি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা, চলমান আলোচনার সঙ্গে এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাবি জানিয়েছেন, তারা এই হুমকি মানতে রাজি নয়।

স্মোট্রিচ বলেন, হামাসকে খুব শিগ্‌গির গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হতে পারে। যদি তা না মানে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক সমর্থন ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়ে নিজ উদ্যোগে অভিযান চালাবে। তিনি জানান, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থ হলে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় প্রবেশ করে এলাকা দখল করবে এবং কীভাবে অভিযান চালানো হবে সে বিষয়ে দু-তিনটি পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় ২০ হাজার সদস্যের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। যদিও বিদেশি সেনারা মোতায়েন থাকলেও, স্মোট্রিচের দাবি, ইসরাইলি বাহিনী চাইলে দ্রুত তাদের সরিয়ে অভিযান চালাতে পারবে। তবে আপাতত আন্তর্জাতিক বাহিনী দ্রুত গাজায় প্রবেশ করবে বলে মনে হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখল ইইউ

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখল ইইউ
ছবি: মিডল ইস্ট মনিটর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে এই মুহূর্তে শিলমোহর দিলো না ইইউ পার্লামেন্ট। ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে বাতিল করেছে। এর পরেই ট্রাম্প একাধারে সবার উপর ১৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক চাপান। এর ফলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ।

যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প পণ্যের উপর রপ্তানি শুল্ক বসানো নিয়ে ইইউ পার্লামেন্টের ট্রেড কমিটিতে মঙ্গলবার ভোটাভুটির সম্ভবনা ছিলো। এই ভোটও পিছিয়ে দেওয়া হলো।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ওলোফ জিল বলেন, ওয়াশিংটন নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলে ব্রাসেলস কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারবে না।

তিনি বলেন, "আমরা আশা করবো ঠিক কী ঘটছে তার যথোপযুক্ত ব্যাখ্যা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।"

সূত্র: রয়টার্স

Monday, 23 February 2026

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

ছবি: সংগৃহীত

মহিমান্বিত রমজান মাস ও পবিত্র আল- কোরআন একটি অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেন এক বৃন্তে দুটি দৃষ্টিনন্দন ফুল। ভাবতেই হৃদয়ে শিহরণ জাগে। ভালো লাগার স্নিগ্ধ সমীরণ বয়ে যায় অন্তর্জগতে। পবিত্র কোরআন মাজিদ রমজানের সৌন্দর্যকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। কোরআন মুমিন হৃদয়ের অনির্বচনীয় প্রশান্তির নাম। কোরআনের স্পর্শ ছাড়া মানব জনম অর্থহীন। এর স্পর্শে মৃতপ্রায় হৃদয় সজীব হয়ে ওঠে। আর রমজানে কোরআনের স্পর্শে মুমিনের অন্তর উদ্বেলিত হয়। হৃদয়ে নামে হেদায়াতের বসন্ত। আর সে বসন্ত পূর্ণতা পায় তারাবির সালাতে পবিত্র কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতে। এ যেন রবের সঙ্গে একান্তে আলাপন। যে আলাপনের মজা কখনো শেষ হওয়ার নয়; বরং কেবল বাড়তেই থাকে।

রমজানে কোরআন তিলাওয়াতের মাহাত্ম্য

সারাদিন ক্ষুধা আর পিপাসায় কাতর হয়ে সিয়াম সাধনা শেষে সন্ধ্যায় ইফতার সেরে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে রাজ্যের ক্লান্তি নেমে আসার কথা। একটু অলসতায় শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিয়ে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কোরআনের প্রেমে মাতোয়ারা মুমিনরা সব ক্লান্তি ও অলসতা পায়ে দলে ঠিকই মসজিদে চলে আসেন। এশার ফরজ শেষে ডুব দেন রবের প্রেমের সরোবরে।

মুমিনরা তারাবির সালাতে কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহতায়ালার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মেতে ওঠে। যে আলাপচারিতার মজা সঠিকভাবে ব্যক্ত করতে পারেÑএমন ভাষা বিশ্বে বিরল। প্রশ্ন জাগে, রমজানে কোরআন তিলাওয়াতে এত মজা কেন। বারবার কোরআন তিলাওয়াত করে এবং একাধিকবার শুনেও কেন আশ মেটে না?

সহজ জবাবÑরমজান কোরআন নাজিলের মাস। হ্যাঁ, বিশ্বমানবতাকে সঠিক পথের দিশা দেওয়ার দৃপ্ত শপথে বলীয়ান হয়ে যে কোরআন পৃথিবীতে এসেছে, সেই কোরআন মাজিদ কবে নাজিল হয়েছেÑতার জবাবে কোরআন জানাচ্ছে, ‘রমজান সেই মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে’ (সুরা বাকারা- ১আট৫)।

সার কথা, রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রমজানে হৃদয়ে কোরআনের বসন্ত নামে। অন্তর কোরআনের আলোয় ভরে ওঠে। আর তারাবির সালাতে কোরআন তিলাওয়াতে সেই বসন্ত ষোলকলায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। রমজানে কোরআন তিলাওয়াতের স্বাদে মোহিত হওয়ার এটাই মৌলিক রহস্য।

কোরআনের সুরে মুখরিত দিগন্ত

একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে হাফেজে কোরআনদের সংখ্যা ছিল খুব কম। পুরো অঞ্চল চষে বেড়িয়ে হাফেজ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর ছিল। একদল হাফেজ আলেমের নিরন্তর প্রচেষ্টায় ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবুজ বাংলাদেশে হাফেজে কোরআনদের রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে। লাখ লাখ হাফেজে কোরআন বের হচ্ছেন মাদরাসাগুলো থেকে। ফলে রমজানে তারাবির সালাতে দেশের প্রায় তিন লাখ মসজিদ মুখরিত থাকে পবিত্র কোরআন মাজিদের সুমধুর তিলাওয়াতে।

মসজিদের তুলনায় হাফেজে কোরআনের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অনেক বাসাবাড়ি কিংবা অফিসেও তারাবির জামাতে হাফেজরা কোরআন তিলাওয়াত করেন। এ গৌরব বাংলাদেশের। এ মর্যাদা লাল-সবুজের। এ সম্মান আল্লাহর পক্ষ থেকে এ দেশের তাওহিদী জনতার প্রতি বিশেষ পুরস্কার।

তারাবির রাকায়াত : বিতর্ক ছাড়ুন

তারাবির সালাত ২০ রাকায়াতÑএটাই সঠিক কথা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম ২০ রাকাআত পড়েছেন। এর পক্ষে অসংখ্য দলিল রয়েছে। ভারত উপমহাদেশে জালেম ইংরেজদের অশুভ অনুপ্রবেশের আগে এ বিষয়ে কিছু বলার বা লেখার প্রয়োজন হতো না। গোটা ইসলামি দুনিয়ায় সাহাবায়ে কেরামের স্বর্ণযুগ থেকেই প্রতিটি মসজিদে ২০ রাকআত তারাবি চলে আসছে।

ইংরেজদের প্রত্যক্ষ মদতে মুসলমানদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে আলেম নামধারী এক শ্রেণির অপরিপক্ব চিন্তার লোক আট রাকআত তারাবির প্রোপাগান্ডা চালায়। যদিও দক্ষ ও প্রাজ্ঞ আলেমদের শক্ত প্রতিরোধে আট রাকআত তারাবির প্রোপাগান্ডা এখন অনেকটা ম্লানই বলা যায়। এসব প্রোপাগান্ডায় প্রভাবিত না হয়ে ২০ রাকআত তারাবিতে কোরআন শোনায় মনোযোগ দিন। হৃদয়কে আলোকিত করুন।

তাড়াহুড়ো নয়, তারতিলের সঙ্গে পড়ুন

কিছু অতিউৎসাহী মানুষ যারা কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে না, তারা তারাবির সালাতে দ্রুতগতিতে কোরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে হাফেজদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ। এই হীন স্বভাব পরিহার করতে হবে। তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে কোরআনের নির্দেশনা হচ্ছে, তারতিল অর্থাৎ ধীরে-সুস্থে পড়া। তাড়াহুড়োর ক্ষেত্রে অনেক সময় অর্থের বিকৃতি ঘটে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ের ধৃষ্টতা বৈ কিছু নয়। তাই তারতিলের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার বিকল্প নেই।

কোরআনের শিক্ষা গ্রহণে চেষ্টা করুন

কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতে সওয়াবের জন্য এর অর্থ বোঝা জরুরি নয়। না বুঝে পড়লে বা শুনলেও প্রতি হরফে নেকি রয়েছে। সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু কোরআন থেকে পরিপূর্ণ উপকৃত হতে কোরআনের হিদায়াত বা নির্দেশনা জানার বিকল্প নেই। কোরআন নাজিলের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কোরআনের আয়াতের শিক্ষা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা। ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে রাসুল) এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি; যাতে মানুষ এর আয়াতের মধ্যে চিন্তা করে এবং বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা যাতে উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা ছোয়াদ-২৯)

নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থের আলোকে তারাবিতে পঠিত অংশটুকুর তাফসির দেখে নেওয়ার মাধ্যমে তাদাব্বুর বা শিক্ষা গ্রহণের কাজটি করে নিতে পারেন। এছাড়াও মুয়াসসাসা ইলমিয়া বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত মাওলানা রাশেদুর রহমানের লেখা ‘এক ঝলকে কোরআন কারিম’ বা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত শায়েখ আহমাদুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহর লেখা ‘তারাবির সালাতে কোরআনের বার্তা’ বই দুটি পড়তে পারেন।

অনর্থক কথা-কাজ পরিহারপূর্বক যথার্থ পন্থায় সিয়াম সাধনা, সালাতুত তারাবিহ এবং কোরআন মাজিদের প্রতি আত্মনিয়োগের মাধ্যমে আসুন আমাদের রমজানকে অর্থবহ করে তুলি। হৃদয়ে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ুক কোরআনের বসন্ত। তাকওয়ার সৌরভে সুরভিত হোক প্রতিটি মানব জীবন।

সামরিক চাপেও নতি স্বীকার নয়, ইরান ইস্যুতে কৌতূহলী ট্রাম্প

সামরিক চাপেও নতি স্বীকার নয়, ইরান ইস্যুতে কৌতূহলী ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত।


মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং জানতে চাইছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরও কেন তেহরান ‘আত্মসমর্পণ’ করেনি। শনিবার ফক্স নিউজে ট্রাম্পের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উইটকফ জানান, ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন অস্ত্র মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে ইরানকে ‘কঠোর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে।

সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, ট্রাম্প ‘হতাশ’ নন, তবে কৌতূহলী যে এত চাপের মুখেও ইরান কেন আলোচনায় নরম অবস্থান নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমি ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না, কিন্তু কেন তারা আমাদের কাছে এসে বলছে না যে তারা অস্ত্র চায় না এবং কী করতে প্রস্তুত তা জানাচ্ছে?’ তার মতে, তেহরানকে সেই অবস্থানে আনা সহজ হচ্ছে না।

এছাড়া উইটকফ নিশ্চিত করেন যে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনি ইরানের সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে পাহলভি ইরানে ফেরেননি। তবে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মালয়েশিয়া

 

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মালয়েশিয়া
ছবি: সংগৃহীত


মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ অঙ্গরাজ্যের উপকূলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সাবাহ অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবলু থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও কম উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার।

এদিকে মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৮ রেকর্ড করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাবাহর পশ্চিম উপকূল ছাড়াও সারাওয়াক রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে।

বগুড়ায় আলুর বাম্পার ফলন, ছাড়াতে পারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

বগুড়ায় আলুর বাম্পার ফলন, ছাড়াতে পারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশেই বগুড়ার আলুর বেশ কদর। এ অঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলনে প্রতিবছরই বাড়ছে চাষের জমি। ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকও খুশি। আগাম জাতের আলু চাষ করে সেই জমিতে আবার অন্য ফসলও চাষ করা হচ্ছে। এতে বেশি লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। পেঁয়াজ নিয়ে দেশে হুলুস্থুল হলেও আলুর দাম নিয়ে কোনো কথা নেই। প্রায় একই দামে সারা বছর বিক্রি হয়ে আসছে। চলতি বছর জেলায় আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সোয়া ১২ লাখ টন। তবে উচ্চ ফলনশীল জাত ব্যবহারের কারণে শেষ পর্যন্ত ফলন সাড়ে ১২ লাখ টনে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষি অফিস থেকে উচ্চ ফলনশীল আলু আবাদ এবং জৈবসার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে এবার জেলায় আলুর উৎপাদন বাড়বে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের কিছু আলু তোলা হয়েছে। এই আলু খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। ডিসেম্বরের শেষদিক থেকে জেলায় আলু তোলা শুরু হয়। এখনো জমিতে আলু রয়েছে। বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, ধুনট ও শেরপুর উপজেলায় আলুর ক্ষেত এখনো সতেজ। 

বগুড়ার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রকারভেদে ৬০০-৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে আলু। খুচরা বাজারে একটু বেশি। প্রতি কেজি পাকরী আলু ২৫ টাকা, রোমানা ও কার্ডনাল ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান শহরের ফতেহ আলী বাজারের দোকানদার মামুন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ২০১১-১২ মৌসুমে আলু চাষের পর ফলন পাওয়া যায় ১১ লাখ সাত হাজার ২২৫ টন। ২০১২-১৩ মৌসুমে ফলন হয় ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টন। এরপর থেকে দিন যতই গড়িয়েছে, আলুর ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর আলুর ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ হাজার টন। এখন পর্যন্ত জেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১২ লাখ টনে দাঁড়াবে।

সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকার আলুচাষি রফিক ইসলাম জানান, আলু গাছ বেশ সতেজ রয়েছে। এবার কোল্ড ইনজুরি ও লেট ব্রাইট রোগ হয়নি। জমির বেড বাঁধাই করার পর থেকে জমিতে আলু গাছগুলো লম্বা হয়েছে। ছোট ছোট ডালপালা ছড়িয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর ভালো ফলন পেয়েছি। এ বছরও ভালো ফলন পাব। ইতোমধ্যেই বাজারে আলু বিক্রি শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার আশোকোলা গ্রামের শুকু হোসেন জানান, প্রতিবছর এক বিঘায় আলু আবাদ করেন তিনি। এ বছরও চাষ করা হয়েছে। ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। এছাড়া আমন ধান কাটতে দেরি হয়েছে। সে কারণে আলু আবাদে অনেক চাষি পিছিয়ে পড়েছেন। ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন। কৃষকরা আমন ধান কেটে জমি তৈরি করে আবার আলু চাষে ঝুঁকেছেন। যারা আগে আলু চাষ করেছেন, তারা কিছু কিছু আলু তুলেছেন। এখন পুরো আলুর মৌসুম। জমি থেকে আলু তুলে চাষিরা হাট-বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, বাজারে বিক্রি বা খাওয়ার জন্য ৬০-৮০ দিনের মধ্যে আলু তুলতে হয়। আর কোল্ডস্টোরেজে রাখতে আলু ৯০-৯৫ দিনের হতে হয়। জেলার ৩৩টির মতো কোল্ডস্টোরেজে দুই লাখ টনের কিছু বেশি আলু রাখা যায়।

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

আজ সপ্তম তারাবিতে সূরা আনফাল (৪১-৭৫) এবং সূরা তাওবা (১-৯৩) আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে দশম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশ...