Thursday, 11 June 2026

রাসুলুল্লাহর (সা.) অর্থনৈতিক জীবন

 

রাসুলুল্লাহর (সা.) অর্থনৈতিক জীবন

প্রচলিত ওয়াজ-মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কে এমন কিছু বর্ণনা শোনানো হয়। বরং যা শুনে সাধারণ মানুষের মনে একটি স্থায়ী ধারণা তৈরি হয় যে তিনি চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন পার করেছেন।

তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র খুব সামান্য ছিল, তার বর্ম বন্ধক রাখা ছিল এবং ঘরে দিনের পর দিন খাবার থাকত না—এই ধরনের খণ্ডিত বর্ণনাগুলো শুনে অনেকে মনে করেন যে ইসলামে আধ্যাত্মিকতা বা ধার্মিকতা অর্জনের পথই হলো দুনিয়া ত্যাগ করা এবং চরম দারিদ্র্য বেছে নেওয়া।





কিন্তু রাসুলুল্লাহর (সা.) সামগ্রিক অর্থনৈতিক জীবন এবং ইসলামের মূল দর্শনের দিকে তাকালে বোঝা যায় যে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয় এবং এর পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে।

মক্কী জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায় যে সেটি অভাব-অনটনের জীবন ছিল না, বরং তা ছিল অত্যন্ত সচ্ছল এক ব্যক্তির জীবন। তিনি নিজে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। পরবর্তীতে উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজার (রা.) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তার জীবনে যে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও প্রাচুর্য আসে, তার স্পষ্ট প্রমাণ ইতিহাসে রয়েছে।

সে সময়ে তার দস্তরখান ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত এবং তার অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই ভালো ছিল যে তিনি বহু মানুষের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজে বহন করতেন। সিরাত ও ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতে এই বিষয়গুলোর চমৎকার ও বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে মহানবীর (সা.) অর্থনৈতিক জীবন এই সময়ে কতটা সমৃদ্ধ ছিল।

মদিনায় হিজরতের পর প্রাথমিক অবস্থায় মুসলমানদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। মক্কা থেকে সবকিছু ছেড়ে মুহাজিররা যখন মদিনায় আসেন, তখন স্বভাবতই এক বিশাল মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়। একই সাথে মহানবীর (সা.) ওপর শুধু দ্বীন প্রচারের দায়িত্বই নয়, বরং একটি নবগঠিত রাষ্ট্রের পরিচালনার দায়িত্বও এসে পড়ে।

এমতাবস্থায় সমাজের ও রাষ্ট্রের প্রধান অভিভাবক বা পিতা হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বেচ্ছায় একটি অতি সাধারণ ও কৃচ্ছ্রতার জীবন বেছে নেন। এটি কোনো নিয়তি বা ভাগ্যের চাপিয়ে দেওয়া দারিদ্র্য ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। মুসলমানদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রে যে সম্পদ বা সাহায্য আসত, নবীজির (সা.) প্রধান লক্ষ্যই ছিল তা দিয়ে আগে মুহাজির ও অভাবী মানুষদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজের পরিবারের ওপরও কঠোরতা আরোপ করেছিলেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যতক্ষণ না সমাজের এই অভাবী মানুষদের দায়িত্ব তিনি পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারছেন, ততক্ষণ তিনি নিজের ঘরে আরাম-আয়েশ বা প্রাচুর্য চান না।

‘ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে’

 

‘ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে’

ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধবিরতির “সম্পূর্ণ ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” এবং এর ফলে কার্যত যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হামলাকে “আত্মরক্ষা” হিসেবে বর্ণনা করলেও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এর কোনো বৈধতা নেই।





গরিবাবাদি বলেন, “শব্দের মারপ্যাঁচ দিয়ে সামরিক আগ্রাসনকে বৈধ করা যায় না। আন্তর্জাতিক আইনে আগ্রাসী পক্ষ কেবল নাম পরিবর্তন করে তার কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে এবং “দৃঢ়, কর্তৃত্বপূর্ণ ও অনুতাপ সৃষ্টি করবে এমন জবাবের মাধ্যমে” দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষা করবে।

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক সতর্ক করে বলেন, “এই অবৈধ ও বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের পূর্ণ পরিণতি যুক্তরাষ্ট্র এবং যেকোনো পক্ষকে বহন করতে হবে, যারা এতে অংশ নেয়, সহযোগিতা করে বা সহায়তা প্রদান করে।”

মার্কিন হামলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এসআর

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি ট্রাম্পের, আজ রাতেই ‘কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি ট্রাম্পের, আজ রাতেই ‘কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি

ইরানের প্রধান তেল অবকাঠামো ও দেশটির প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আজ রাতেই ইরানের ওপর 'খুব কঠোর' সামরিক হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশটির অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।





তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ বিষয়ে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে দাবি করেন, অতীতের অনুরূপ পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।

ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে খুব কঠোর সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। তবে সম্ভাব্য ওই অভিযানের ধরন বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ইতোমধ্যেই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই হুঁশিয়ারি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে, কারণ দ্বীপটি ইরানের তেল রফতানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এর ফলে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন

Monday, 8 June 2026

কাবা কোন কাপড়ে কেন ঢেকে রাখা হয়

 

কাবা কোন কাপড়ে কেন ঢেকে রাখা হয়

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা পাঁচ দিনে শেষ হয়। হজের অংশ হিসেবে হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ তওয়াফ করেন।

কাবা শরিফ কিসওয়া নামক একটি কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, যার ওপর সোনার সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত লেখা থাকে।





কাবা শরিফকে সুরক্ষিত, সম্মানিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রাখার উদ্দেশ্যে ঢেকে রাখা হয়। কাবার গায়ে সর্বপ্রথম কে কিসওয়া জড়িয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, ইসলাম-পূর্ব যুগে এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত। অনেকে মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল ৪০০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের বিশেষ কাপড় দিয়ে সর্বপ্রথম কাবা ঢেকে দিয়েছিলেন।

অন্য এক মতানুসারে, হজরত ইসমাইল (আ.) নিজেই প্রথম কাবা ঢেকেছিলেন। তবে এর পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। উসমানী আমলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রতিষ্ঠিত গাজী হুসরেভ-বেগ মাদরাসার অধ্যাপক এবং ‘এ গাইড থ্রু মক্কা আল-মুকাররমা’ বইয়ের লেখক মেনসুদ দুলোভিচ বলেন, তিনি যদি কোনো আবরণ দিয়েও থাকেন, তবে তা সম্ভবত পুরো কাঠামোর পরিবর্তে কাবার একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ ছিল।’

কিসওয়া কী

কিসওয়া হলো কালো রেশমি কাপড়, যা কাবা শরিফকে ঢেকে রাখে। কিসওয়া আরবি শব্দ। এর শব্দমূল হলো কাফ, সিন এবং ওয়াও। কিসওয়া শব্দের অর্থ ঢাকা বা আবৃত করা। মূলত, যেকোনো ধরনের পোশাক বা আবরণ বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হতো। কালক্রমে শব্দটি বিশেষভাবে কাবার আবরণের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরব অঞ্চল খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু থাকলেও কিসওয়া তৈরি হতো মিসরে। সেই সময় মিসরের দামিয়েত্তা ও অন্যান্য স্থানে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘তিরাজ’ কারখানায় উন্নত টেক্সটাইল শিল্প গড়ে উঠেছিল। সেখানেই কিসওয়া বোনা ও প্রস্তুত করা হতো।

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কিসওয়া গিলাফ নামে পরিচিত। ফার্সি গিলাফ শব্দের অর্থও কিসওয়ার অনুরূপ: ঢাকনা, আবরণ বা পর্দা।

হজের সময় কিসওয়ার নিচের অংশটি সযত্নে ওপরে তুলে রাখা হয়। মূলত বিপুলসংখ্যক হাজি কাবার কাছাকাছি যেতে এবং বরকত লাভের আশায় এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। তাই, কাপড়টি সুরক্ষিত রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কিসওয়া কোন উপাদানে তৈরি

বর্তমানে কিসওয়া প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে ইতিহাসজুড়ে কাবা ঢাকতে বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রথম দিকের কিসওয়াগুলো সাধারণত লিনেন, তুলা ও পশমের মতো প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি করা হতো।

কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে ইসলাম-পূর্ব যুগে কিসওয়া হিসেবে চামড়ার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে।

চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না নেতানিয়াহুর: ট্রাম্প

 

চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না নেতানিয়াহুর: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না।





ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তার (নেতানিয়াহুর) কোনো বিকল্প থাকবে না। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমিই সব সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন না।”

এদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ইচ্ছা বদলায়নি বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হামলাটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এর আগে তিনি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানাতে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করবে না।

তিনি বলেন, “এটি চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কী হয়, তা দেখা যাবে। কিন্তু এই হামলাগুলো চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পথেও যেতে পারে।

ট্রাম্পের ভাষায়, “চুক্তি না হলে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আমরা সামরিকভাবে বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান করতে পারি। দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। আমার মতে, এই অবরোধ দেশটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান

 

ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।





ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে আরও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরাইলি হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইল সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানায় দেশটির সেনাবাহিনী।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর হাইফা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহরের কাছাকাছি রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে চালানো সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়।

অন্যদিকে, ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, “আজ রাতেই তেহরানকে অবশ্যই জ্বলতে হবে”—যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Sunday, 7 June 2026

আসছে ডায়াবেটিসের নতুন ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ‍টিকা

 

আসছে ডায়াবেটিসের নতুন ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ‍টিকা

টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতা মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে সপ্তাহে একবার নেওয়া ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ইনজেকশন রেটাট্রুটাইড । সম্প্রতি প্রকাশিত ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গেছে, এই নতুন ওষুধ রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পাশাপাশি শরীরের ওজনও ব্যাপকভাবে কমাতে সক্ষম।





চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় ৯৩০ জন টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউই আগে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করছিলেন না। তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল না এবং সবার বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ছিল অন্তত ২৩।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪, ৯ অথবা ১২ মিলিগ্রাম রেটাট্রুটাইড কিংবা প্লাসেবো দেওয়া হয়। ৪০ সপ্তাহ ধরে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা (এইচবিএ১সি), ওজন, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, রেটাট্রুটাইড গ্রহণকারীদের এইচবিএ১সি গড়ে ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে, যেখানে প্লাসেবো গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে রেটাট্রুটাইড গ্রহণকারীদের শরীরের ওজন গড়ে ১১ দশমিক ৫ থেকে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা প্লাসেবো গ্রুপের ২ দশমিক ৬ শতাংশ ওজন হ্রাসের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।

গবেষকদের মতে, রেটাট্রুটাইডের বিশেষত্ব হলো এটি একসঙ্গে তিনটি অন্ত্র-হরমোন জিএলপি-১, জিআইপি এবং গ্লুকাগনের কার্যকারিতা অনুকরণ করে। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি মূলত জিএলপি-১ কে অনুসরণ করে ক্ষুধা কমায়, আর মাউনজারো জিএলপি-১ ও জিআইপির সমন্বয়ে কাজ করে। তবে রেটাট্রুটাইড অতিরিক্তভাবে গ্লুকাগন রিসেপ্টর সক্রিয় করে শরীরের শক্তি ব্যয়ও বাড়ায়, যা ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপের উন্নতিও লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ১৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, এর মধ্যে দুজন ছিলেন প্লাসেবো গ্রুপে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এবং সময়ের সঙ্গে তা কমে যায়। পরিপাকতন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

গবেষকরা মনে করছেন, যেসব রোগীর টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের জন্য এই নতুন ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে আরো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান রয়েছে।

স্থূলতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাথ ম্যাককালো বলেন, ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় ভোগা অনেক মানুষের জন্য এ ধরনের চিকিৎসা সত্যিকার অর্থেই জীবন বদলে দিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওষুধ কোনো ‘জাদুকরী সমাধান’ নয়; দীর্ঘমেয়াদে মানুষের এমন অবস্থায় পৌঁছানোই রোধ করতে হবে যাতে তাদের এসব ওষুধের প্রয়োজন না হয়।

অন্যদিকে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএস এপিডেমিওলজির বিশেষজ্ঞ ডা. মেরি স্প্রেকলি বলেন, গবেষণায় দেখা ওজন হ্রাসের মাত্রা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তবে এই গবেষণায় রেটাট্রুটাইডকে বর্তমান জনপ্রিয় ওষুধ সেমাগ্লুটাইড বা টিরজেপাটাইডের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা হয়নি। ফলে এটি বিদ্যমান চিকিৎসার তুলনায় কতটা বেশি বা কম কার্যকর, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ওজন কমানোই সর্বোত্তম স্বাস্থ্যগত ফল নিশ্চিত করে না। চিকিৎসার সময় রোগীদের পর্যাপ্ত পুষ্টি, পেশিশক্তি সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ডায়াবেটিস ইউকের গবেষণা ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ডা. লুসি চেম্বার্স বলেন, এই ফলাফলগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। নতুন এই শ্রেণির ওষুধ একই সঙ্গে ওজন কমানো এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে দ্বৈত সুবিধা দিতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসার সঙ্গে তুলনামূলক কার্যকারিতা জানতে আমরা আরো গবেষণার অপেক্ষায় রয়েছি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রাসুলুল্লাহর (সা.) অর্থনৈতিক জীবন

  প্রচলিত ওয়াজ-মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কে এমন কিছু বর্ণনা শোনানো হয়। বরং যা শ...