Thursday, 23 July 2026

বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

 



ইসলামে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্ব এবং আমানত। বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও ইসলাম এটিকে কোনো শর্তহীন অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং ন্যায়বিচার, আর্থিক সামর্থ্য, দায়িত্বশীলতা এবং আল্লাহভীতিকে একাধিক বিয়ের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিয়ে গোপন রাখার অনুমোদন নেই। বরং বিয়ের পর তা সমাজে ঘোষণা করা বা প্রচার করা আবশ্যক।

বিয়ের ঘোষণা (ই’লান): রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, তোমরা বিয়ে প্রকাশ্যে সম্পন্ন করো। বিয়ে যে সম্পন্ন হয়েছে, তা যেন সমাজের মানুষ জানতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





সাক্ষী ও অভিভাবক: বিয়ের আকদ বা চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো দুইজন মুসলিম পুরুষ (অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) সাক্ষী এবং কনের অভিভাবকের (ওয়ালী) উপস্থিতি থাকতে হবে। হাদিসে এসেছে, অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না। (সহিহ ইবনে হিব্বান)

ওলিমা: বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার সবচেয়ে উত্তম এবং সুন্নাতসম্মত মাধ্যম হলো ‘ওলিমা’ বা বিয়ের খাবার আয়োজন করা। সামর্থ্য অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অভাবীদের দাওয়াত খাইয়ে বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং জানান দেওয়া ওয়াজিব বা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ওয়ালিমা করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করার পরদিন ওয়ালিমা করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস নম্বর-৫১৭০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছাফিয়াহ (রা.)-কে বিয়ের পর তিন দিন যাবৎ ওয়ালিমা খাইয়েছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নম্বর-৩৮৩৪)

ঢোল বাজানো ও আনন্দ করা: ইসলামে বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার জন্য মেয়েদের দফ (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজিয়ে গান গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে আশেপাশের মানুষ বুঝতে পারে যে বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা বিয়ের ঘোষণা দেবে এবং তা মসজিদে সম্পন্ন করবে। আর এ উপলক্ষে দফ বাজাবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৮৯)

ভারতে ‘ককরোচ পার্টি’র বিক্ষোভে আবারো সংঘর্ষ, ইন্টারনেট বন্ধ

 


ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থল শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।





দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া এক পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া করে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

সংসদ মার্গের পার্ক হোটেলের কাছে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয় এবং পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশের অনুরোধে সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকেরা বিক্ষোভকারীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান। লাউডস্পিকারযুক্ত একটি পুলিশ বাসের ওপর দাঁড়িয়ে তারা শান্তি বজায় রাখা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ থেকে বিরত থাকা এবং সড়কে বসে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার আহ্বান জানান। স্বেচ্ছাসেবকেরা সতর্ক করেন, সহিংসতা আন্দোলনের লক্ষ্য ও অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এদিকে, সংঘর্ষের আশঙ্কায় যন্তর মন্তর স্মৃতিসৌধ ও আশপাশের সড়ক থেকে পাথর সরিয়ে ফেলতে দেখা যায় সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদের, যাতে সেগুলো সংঘর্ষে ব্যবহার করা না যায়।

পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় দিল্লির কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়।

তবে সব উত্তেজনার মধ্যেও যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থল শান্ত ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ মার্গমুখী অংশ ব্যারিকেড ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যানবাহন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। একই সঙ্গে সংসদ স্ট্রিট থানার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

সৌদির দুই জাহাজে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

 


লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে একই সময়ে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির দাবি, সমন্বিত এই হামলায় দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়।





হামলার দায় স্বীকার করে হুতিরা জানায়, গত ১২ বছর ধরে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপর সৌদি আরব যে অন্যায্য অবরোধ জারি রেখেছে, এটি তারই পাল্টা জবাব। এখন থেকে সৌদি আরবের ওপরও একইভাবে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এই নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল হুতি বিদ্রোহীরা। সে সময় তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রবেশদ্বার বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদির কোনো জাহাজকে আসা-যাওয়া করতে দেওয়া হবে না। এই পথ ব্যবহারের চেষ্টা করলেই কঠোর হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে দুটি জাহাজে হামলার হুতি দাবি করলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অর্গানাইজেশন (ইউকেএমটিও) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সৌদি উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে আগুন ধরে যায়। তবে ওই জাহাজের ক্রুদের হতাহত হওয়া বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি তারা।

Sunday, 19 July 2026

দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে নানা ধরনের দুর্যোগ আসে। কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড়, কখনো ভূমিকম্প, কখনো অগ্নিকাণ্ড, আবার কখনো অতিবৃষ্টি বা খরায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান, লাখো পরিবার গৃহহীন হয়, কৃষকের ফসল নষ্ট হয়, জীবিকা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন অসংখ্য মানুষ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে বটে, কিন্তু প্রকৃতির প্রবল শক্তির সামনে মানুষ আজও অসহায়। এমন বাস্তবতায় ইসলাম দুর্যোগকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখে না; বরং এটি ঈমান, আত্মসমালোচনা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধের আলোকে মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি ইসলাম দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য এমন কিছু নীতিমালা প্রদান করেছে, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়েই প্রাসঙ্গিক।

১. ইসলাম শিক্ষা দেয়—দুর্যোগের সময় একজন মুমিন আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা আল-বাকারা : ১৫৫) এই আয়াত আমাদের জানিয়ে দেয়, বিপদ-মসিবত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দুর্যোগে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের প্রথম পরিচয়।





২. দুর্যোগের সময় তাওবা, ইস্তিগফার ও দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিপদ মানুষকে তার অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, সালাত আদায় করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা আল-বাকারা : ৪৫) একজন মুমিন জানেন, প্রকৃত সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

৩. ইসলাম শুধু দোয়ার শিক্ষা দেয় না; বরং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে বলেছিলেন, ‘আগে উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (জামে তিরমিজি) এই হাদিস আমাদের শেখায়, সতর্কতা, পরিকল্পনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়; বরং তারই অংশ। তাই দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে চলা, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, উদ্ধার-প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা ইসলামি দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

৪. দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা আল-মায়িদাহ : ২) বন্যার্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া—এসবই ইসলামের দৃষ্টিতে মহৎ ইবাদত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (মুসলিম : ২৬৯৯) আবার তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (মুসলিম) এসব হাদিস প্রমাণ করে, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক কাজ নয়; বরং আখিরাতের সফলতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

৫. ইসলাম গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। দুর্যোগের সময় যাচাইহীন তথ্য, অতিরঞ্জিত সংবাদ বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী প্রচারণা মানুষের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।’ (সুরা আল-হুজুরাত : ৬) বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই নির্দেশনার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।

৬. ইসলাম দুর্যোগকে কেন্দ্র করে অন্যায় লাভের সব পথ বন্ধ করতে চায়। ত্রাণ আত্মসাৎ, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানো ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। একজন মুসলমান সংকটকে ব্যবসার সুযোগ নয়, বরং সেবার সুযোগ হিসেবে দেখেন।

৭. দুর্যোগের সময় ইখলাস বা একনিষ্ঠতার গুরুত্ব অপরিসীম। দান-সদকা কিংবা মানবসেবা মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে নষ্ট করো না।’ (সুরা আল-বাকারা : ২৬৪) তাই সাহায্য এমনভাবে করতে হবে, যাতে বিপদগ্রস্ত মানুষের আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

৮. ইসলাম দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দেয়। শুধু ত্রাণ বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা ফিরিয়ে আনা, শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসুস্থদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও ইসলামি দায়িত্বের অংশ। মানবকল্যাণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

সবশেষে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে ‘এটি আল্লাহর গজব’ বলে ঘোষণা দেওয়া আমাদের কাজ নয়, যদি সে বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহতে স্পষ্ট দলিল না থাকে। একজন মুমিনের কাজ হলো বিপদ থেকে শিক্ষা নেওয়া, নিজের আমল পর্যালোচনা করা, তাওবা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

আজ আমাদের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ইসলামের শিক্ষা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—দুর্যোগ শুধু রাষ্ট্র বা কোনো প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ব্যক্তি, পরিবার, মসজিদ, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্র—সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন মামদানি

 

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন মামদানি
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা উচিত বলেই মনে করেন তিনি। তবে এ উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।





শনিবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অভিযোগ এনেছে। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই এই মত পোষণ করেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আগেও বলেছি, নিউইয়র্ক সিটিতে যে আইন কার্যকর রয়েছে, আমি সেটিই অনুসরণ করব। একজন নগরপ্রধান হিসেবে আইনের শাসন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি বিশ্বাস করি।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কে আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেবে, আমরা সেটাই করব। তবে এ উদ্দেশ্যে আমরা নিজেরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।”

কোন আইন কী অনুমতি দেয়—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” চলছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) নির্দেশ দেবেন। সেই তালিকায় নেতানিয়াহুর পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নামও ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিসির এখতিয়ার নেই। দেশটির ফেডারেল আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে এ ধরনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে না। এছাড়া পৃথক একটি ফেডারেল আইনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিদেশি কর্মকর্তাদের আটক বা তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয়েও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ইরানে টানা অষ্টম রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

 

ইরানে টানা অষ্টম রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ছবি: আল-জাজিরা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে টানা অষ্টম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং কাছাকাছি কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ





ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে।

অন্যদিকে, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, প্রাদেশিক কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত বা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের হামলার প্রমাণ পাওয়ার কথা তারা জানাননি।

তাসনিমের খবরে আরো বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্বীপের অন্তত ৩ থেকে ৫টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিমান হামলা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

তবে দ্বীপে থাকা তাসনিমের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো নিরাপত্তা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত

এদিকে, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই খবর নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই হামলার পর থেকে আরো এক সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার সেন্টকম বলেছে, আহত চার মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করে দ্রুত জর্ডানের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আহত হওয়া বাকি সেনাসদস্যদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবারও ডিউটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর বিধান

  ইসলামে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্ব এবং আমানত। বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনু...