Sunday, 26 April 2026

সৌদি আরবে পৌঁছালেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

সৌদি আরবে পৌঁছালেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ২৯ হাজার ২৪৮ জন।





শনিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত বিশেষ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৩টা পর্যন্ত মোট ৮১টি ফ্লাইটে ৩২ হাজার ৫৩২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৩টি ফ্লাইটে গেছেন ১৩ হাজার ৬৮৪ জন। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের (সাউদিয়া) ৩০টি ফ্লাইটে পৌঁছেছেন ১১ হাজার ২৯৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী জেদ্দায় পৌঁছেছেন।

এদিকে, এ বছর পবিত্র হজ পালনে সৌদি গিয়ে এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তারা হলেন— টাঙ্গাইলের সদরের মো. আবুল কাশেম ও জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল। টাঙ্গাইলের মো. আবুল কাশেম সৌদির মক্কায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল স্বাভাবিকভাবে মক্কায় মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে। এ ফ্লাইট পরিচালনা শেষ হবে আগামী ২১ মে। ৩০ মে থেকে পুনরায় হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, শেষ হবে ৩০ জুন। এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

হুমকির মুখে ‘জোরপূর্বক আলোচনায়’ যাবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

 

হুমকির মুখে ‘জোরপূর্বক আলোচনায়’ যাবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, চাপ, হুমকি বা অবরোধের মুখে তেহরান কোনোভাবেই জোরপূর্বক আলোচনায় প্রবেশ করবে না।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা।





পেজেশকিয়ান বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা সংলাপকে জটিল করে তুলছে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, যতদিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী কর্মকাণ্ড ও কৌশলগত চাপ অব্যাহত থাকবে, ততদিন “বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং সংলাপের পথে অগ্রগতি গুরুতর বাধার সম্মুখীন হবে”।

‘আরেকটি আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান

 

‘আরেকটি আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান


ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী যদি এই অঞ্চলে “অবরোধ, দস্যুতা ও জলদস্যুতা” অব্যাহত রাখে, তবে তারা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী পাল্টা জবাবের মুখোমুখি হবে।





রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আরেকটি আগ্রাসনের ঘটনা ঘটলে আমরা আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুদের ওপর আরও গুরুতর আঘাত হানতে প্রস্তুত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইরান এই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের কার্যক্রম ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।

নতুন দুটি চন্দ্র খনিজ আবিষ্কারের ঘোষণা চীনের

 

নতুন দুটি চন্দ্র খনিজ আবিষ্কারের ঘোষণা চীনের
ছবি: সংগৃহীত।

চাঁদ থেকে আনা নমুনা বিশ্লেষণ করে নতুন দুটি খনিজের সন্ধান পেয়েছে চীন। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

চীনের ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিএনএসএ) জানায়, চাং’ই-৫ মিশনের মাধ্যমে সংগৃহীত চাঁদের নমুনা থেকেই এই খনিজ দুটি শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এই মিশন পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং প্রায় ১,৭৩১ গ্রাম চাঁদের মাটি নিয়ে আসে, যা ছিল চীনের প্রথম সংগৃহীত চন্দ্র নমুনা এবং ৪৪ বছর পর পৃথিবীতে আনা প্রথম চাঁদের নমুনা।





নতুন খনিজগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ম্যাগনেসিওচেঞ্জসাইট-(ওয়াই) এবং চেঞ্জসাইট-(সিই)। এর ফলে বিশ্বব্যাপী চাঁদে আবিষ্কৃত মোট খনিজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আটটিতে।

এর আগে ২০২২ সালে চীনা বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো চাঁদে ‘চেঞ্জসাইট-(ওয়াই)’ নামের একটি খনিজ আবিষ্কার করেছিলেন।

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংদুতে ২০২৬ সালের ‘স্পেস ডে অব চায়না’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিএনএসএ জানায়, আন্তর্জাতিক মিনারেলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের নতুন খনিজ, নামকরণ ও শ্রেণিবিন্যাস কমিশন এই খনিজগুলোকে অনুমোদন দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে চাং’ই-৪ প্রোবের মাধ্যমে চাঁদের অদৃশ্য অংশে প্রথমবারের মতো সফল অবতরণ করে ইতিহাস গড়ে চীন।

Saturday, 25 April 2026

জিলকদ মাসের মাহাত্ম্য ও ফজিলত

জিলকদ মাসের মাহাত্ম্য ও ফজিলত

আরবি ক্যালেন্ডারের ১১তম মাস জিলকদ। আরবি উচ্চারণ ‘জুলকাআদাহ’। বাংলায় এর অর্থ-বসা বা বিশ্রাম করা। প্রাচীন আরবে এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ব্যবসা থেকে প্রত্যাবর্তন করার প্রচলন ছিল। ঋতু পরিবর্তনে আরবদের জিলকদ মাসে কোনো কাজ না থাকায় ঘরে বসেই সময় কাটত। আর এ মাসে তারা যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অপরাধমূলক কাজ থেকেও যথাসম্ভব বিরত থাকত। তাই এ মাসের নামকরণ জিলকদ করা হয়।

আরবি ১২ মাসের মধ্যে চারটি হারাম বা সম্মানিত মাস রয়েছে। এর মধ্যে জিলকদ অন্যতম (বাকি তিনটি হচ্ছে জিলহজ, মহররম ও রজব)। এছাড়া, হজের তিন মাসের দ্বিতীয়টি জিলকদ। অন্য মাসগুলোর তুলনায় হারাম মাসগুলো আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় বিধায় এতে করা নেককাজগুলোর প্রতিদান যেমন অধিক, খারাপ কাজের পরিণামও তেমনই ভয়াবহ





জিলকদ মাসের আগের চার মাস মুমিন-মুসলমানরা রজব, শাবান, রমজান, শাওয়ালের রোজাসহ অন্যান্য ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করেন। জিলকদের পরের দুমাস-অর্থাৎ, জিলহজ ও মহররম মাসে যথাক্রমে ৯ ও ১০টি নফল রোজার পাশাপাশি হজ ও কোরবানির মতো ফজিলতপূর্ণ ইবাদত রয়েছে। সে তুলনায় জিলকদ মাসে তেমন ইবাদত না থাকায় এটাকে মুমিন বান্দাদের বিশ্রামের মাস হিসেবে গণ্য করা হয়।

মুসলিম ইতিহাসে এ মাসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা এবং তাৎপর্য বিদ্যমান। হুদায়বিয়ার সন্ধি ও বাইয়াতে রিদওয়ানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয় এ মাসে। ৮ জিলকদ হজ ফরজের হুকুম নাজিল হয়। এ তারিখেই পৃথিবীতে কাবার প্রথম ভিত্তি স্থাপিত হওয়ার বর্ণনাও রয়েছে। এছাড়া রাসুল (সা.)-এর জীবনে আদায় করা চারটি উমরাই আদায় করেছেন এ মাসে।

বাজারে প্রচলিত ভিত্তিহীন কিছু বইয়ে উল্লেখ থাকলেও পূর্বাপর মাসগুলোর মতো এ মাসে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত নেই। তবে হারাম মাস হিসেবে এ মাসে ইবাদতের ফজিলত অধিকতর। তাই সুন্নত ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিদের রোজা রাখা, প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার সুন্নত রোজা পালন করা এবং জিলহজে যাদের ওপর হজ ফরজ, হজের প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই এ মাসের বিশেষ করণীয়।

ঋণ দেওয়া-নেওয়ার আদব

 

ঋণ দেওয়া-নেওয়ার আদব

মানবজীবন পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সংকটে পড়েন। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য অন্যের সাহায্য গ্রহণ করা তাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে ঋণদান বা কারো প্রয়োজনে অর্থ ধার দেওয়া শুধু একটি মানবিক কাজই নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি অত্যন্ত মহৎ আমল হিসেবে বিবেচিত।




ইসলাম মানবকল্যাণমুখী একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এখানে প্রতিটি কাজের মধ্যেই রয়েছে নৈতিকতা, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার শিক্ষা। ঋণদান সেই শিক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ঋণদানের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, ‘কে আছে এমন, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, অতঃপর তিনি তাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে ফিরিয়ে দেবেন।’ (সুরা বাকারা : ২৪৫) এখানে আল্লাহর পথে ব্যয় করাকে ঋণ দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা এর মর্যাদা ও গুরুত্ব স্পষ্ট করে।

ঋণদান মূলত এক ধরনের নিঃস্বার্থ সাহায্য। এটি এমন একটি কাজ, যেখানে দাতা কোনো তাৎক্ষণিক লাভের আশায় নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে। একজন ব্যক্তি যখন আর্থিক কষ্টে পড়ে, তখন তার কাছে সামান্য সহায়তাও অনেক বড় হয়ে ওঠে। এমন সময়ে কাউকে ঋণ দেওয়া মানে তার কষ্ট লাঘব করা, তার মুখে হাসি ফোটানো। এই মানবিক অনুভূতিই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঋণদানের ফজিলত সম্পর্কে বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে দুবার ঋণ দেয়, তার জন্য একবার সদকা করার সমান সওয়াব রয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ) অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তকে ঋণ দেয় বা তার ঋণ মওকুফ করে, আল্লাহতায়ালা তাকে কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।’ এসব বাণী থেকে স্পষ্ট, ঋণদান শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি আখিরাতের জন্যও এক বিরাট পুঁজি।

ঋণদানের মাধ্যমে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। ধনী-গরিবের মধ্যে ব্যবধান কমে আসে। সমাজের একশ্রেণির মানুষ যখন অন্য শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তখন একটি সুন্দর ও সুষম সমাজ গড়ে ওঠে। এতে হিংসা-বিদ্বেষ কমে যায় এবং পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। তাই ঋণদান শুধু ব্যক্তিগত সওয়াব অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণেরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তবে ঋণদানের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, ঋণ দেওয়ার সময় আন্তরিকতা থাকতে হবে। এতে কোনো ধরনের রিয়া বা লোকদেখানো মনোভাব থাকা উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, ঋণগ্রহীতার প্রতি নম্রতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, ঋণ দেওয়ার পর দাতা ব্যক্তি ঋণগ্রহীতার সঙ্গে কঠোর আচরণ করেন, যা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যদি ঋণগ্রহীতা কষ্টে থাকে, তবে তাকে স্বচ্ছলতা পর্যন্ত অবকাশ দাও। আর যদি তোমরা ক্ষমা করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম।’ (সুরা বাকারা : ২৮০)

তৃতীয়ত, ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করা জরুরি। ঋণগ্রহীতা যদি সত্যিই অসহায় হয়, তবে তাকে সময় দেওয়া উচিত। এমনকি সামর্থ্য থাকলে ঋণ মওকুফ করে দেওয়া আরো উত্তম। এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় প্রতিদান পাওয়ার আশা করা যায়।

অন্যদিকে, ঋণগ্রহীতারও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। তাকে অবশ্যই ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে। অযথা বিলম্ব করা বা প্রতারণা করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম।’ (বুখারি) তাই ঋণ গ্রহণের পর তা যথাসময়ে পরিশোধ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

বর্তমান সমাজে ঋণদান প্রথা অনেকাংশে বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করেছে। সুদভিত্তিক ঋণব্যবস্থা মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের আরো দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইসলাম এ ধরনের শোষণমূলক ব্যবস্থার বিরোধিতা করে এবং সুদমুক্ত ঋণদানের প্রতি উৎসাহ দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে ‘করজে হাসানা’ বা উত্তম ঋণ হচ্ছে সেই ঋণ, যেখানে কোনোপ্রকার অতিরিক্ত লাভের শর্ত থাকে না।

সমাজে যদি সুদমুক্ত ঋণদানের চর্চা বাড়ে, তবে তা অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সহজে তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে পারবে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে। ফলে সমাজে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

ঋণদান একটি ইবাদত, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। এটি এমন একটি আমল, যার মাধ্যমে একজন মানুষ দুনিয়াতে মানুষের উপকার করতে পারে এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত, সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা এবং ঋণদানের এই মহৎ আমলকে আমাদের জীবনের অংশ করে নেওয়া।

পরিশেষে বলা যায়, ঋণদান শুধু অর্থনৈতিক লেনদেন নয়, এটি একটি মানবিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব। এটি সমাজে সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তাই সবার উচিত, আমরা সবাই যেন এই মহৎ আমলের গুরুত্ব অনুধাবন করি এবং বাস্তব জীবনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। আল্লাহতায়ালা তাওফিক দান করুন।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই: ইরান

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই: ইরান

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাঘাই বলেন, ইসলামাবাদ সফরকালে ইরানের অবস্থান ও বার্তা পাকিস্তানের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন এবং দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এই সফর মূলত ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্যে পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বলা হলেও ইরানের এই বক্তব্যে সে বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হলো।

সৌদি আরবে পৌঁছালেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

ছবি: সংগৃহীত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। এর মধ্যে ...