Saturday, 11 July 2026

হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ


তাহাজ্জুদ শব্দটি গভীর রাতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে। রাত গভীর হলেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়। হৃদয়ের আবেগ ঢেলে প্রেমপেয়ালা পরিপূর্ণ করার সময় হলো তাহাজ্জুদ। সেজদায় রবের কাছে গিয়ে প্রেমালাপের উত্তম তরিকা তাহাজ্জুদ। মনের ভাষাগুলো চোখ দিয়ে বের করে হাতে ও মুখে শান্তি মাখানোর নাম-ই তাহাজ্জুদ।

তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে রব বান্দার খুব কাছাকাছি চলে আসেন। বান্দারও সুযোগ থাকে রবকে কাছে পেয়ে সব হাজত তুলে ধরার। দুনিয়াবাসী এ সময় ঘুমের কোলে পরম আরামে থাকে। আরশ থেকে নামা রবের বিশেষ রহমত পেতে বান্দার আরাম বিসর্জন দেওয়া জরুরি। ইবাদত যত ত্যাগ ও মেহনতময় হবে, তত লাভজনক হবে এর ফল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম : ১১৬৩)





গোনাহ মাফ, নৈকট্যলাভ ও মন ভালো রেখে মন্দ থেকে দূরে থাকার অন্যতম পথ হলো রাতের নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজ আদায় করা উচিত। কারণ, রাতে ইবাদত করা তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের রীতি। এটি তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পথ, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ-অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার মাধ্যম।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১১৩৫)

পৃথিবীর প্রাসাদ মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। আর মাটিও ইসরাফিল (আ.)-এর ফুঁতকারের অপেক্ষায়। আকাশ-মাটি সব ধ্বংস হবে। দুনিয়ার প্রাসাদ তো দুনিয়ার চোখে নামমাত্র সুন্দর, কিন্তু রাতজাগা ইবাদতকারীদের জন্য রয়েছে, অবর্ণনীয় সুন্দরের জান্নাতি চিরস্থায়ী প্রাসাদ। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতের মধ্যে প্রাসাদগুলো এমন হবে যে, এর ভেতর থেকে বাইরের সবকিছু দেখা যাবে এবং এর বাইরে থেকে ভেতরের সবকিছু দেখা যাবে।’ এক বেদুইন দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! এসব কাদের জন্য? তিনি বললেন, ‘যারা মানুষের সঙ্গে নরম কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়, সিয়াম পালন করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করে ।’ (তিরমিজি : ২৫২৭)

আমরা মানুষ। আল্লাহর বান্দা। তিনি জানেন আমরা অপরাধ করতে পারি! তাই তো, তিনিই ক্ষমার অপার সুযোগ রেখে তাহাজ্জুদের সময় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে আমাদের ডাকতে থাকেন। সাহাবি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদিগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনÑকেউ আছে কি! যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিয়ে দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি : ৬৩২১)

বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাপ্রেমিকরা শেষরাতে প্রিয় দলের লড়াই দেখার জন্য জেগে ওঠে। (কপালপোড়া সেই মুসলিমরা আল্লাহর সব নিয়ামত ভোগ করেও তাঁর হুকুমে একটু পর ফজর পড়তে পারে না।) তেমনি প্রকৃত মুমিনরা শেষ রাতে আল্লাহর সান্নিধ্যের টানে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। তাহাজ্জুদকে সেতু বানিয়ে সেজদার বাহনে চড়ে চলে যায় মহান রবের দরবারে। আল্লাহর দরবারের চেয়ে উত্তম গন্তব্য মুমিমের আর কী হতে পারে! রব আমাদের সবাইকে কবুল করুন।

চোরাবালিতে নামলেন ট্রাম্প, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন

 

চোরাবালিতে নামলেন ট্রাম্প, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘সমাপ্ত’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণার পর মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সামনেই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময়ে একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর রিপাবলিকানরা আশা করেছিল, যুদ্ধ বন্ধ হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা ভালো ফল করবে। এর আগে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ে দলের নেতারা হোয়াইট হাউসকে সতর্কও করেছিলেন।





এখন যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। একদিকে মার্কিন ভোটারদের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরোধী, অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের পুরোপুরি দূরেও সরিয়ে নিতে পারছেন না। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে এবং ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে।

রিপাবলিকানপন্থী নির্বাচনী সংগঠন ‘মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপ’-এর প্রধান সারা চেম্বারলিন বলেন, ‘ভোক্তাদের কাছে এখন প্রধান বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এই মৌসুমে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখন প্রার্থীদের চেষ্টা করতে হবে এই পরিস্থিতির পুরো দায় ইরানের ওপর চাপানোর।’

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকায় অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই অসন্তুষ্ট। গত জুন মাসে ফক্স নিউজ পরিচালিত এক জরিপে ৫৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এছাড়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতাই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর থেকে অধিকাংশ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে টমাস ম্যাসির মতো কোনো কোনো নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা একে ট্রাম্পের ‘পছন্দের যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের জন্য একে দায়ী করছে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যখন ক্রমাগত বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের বেপরোয়া ইরান যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। তিনি জীবনযাত্রার সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা আরও গভীর করেছেন।’

একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ অনুযায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে তুলছেন।

ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলার পর তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও সম্ভব, তবে তা হবে সময়ের অপচয়।

এর পাশাপাশি বুধবার তিনি ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের তীব্র হুমকি দেন। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এক দিনের মধ্যেই আমরা ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দিতে পারি। তাদের সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানা রয়েছে, প্রয়োজন হলে সেগুলোও ধ্বংস করব... এমনকি খার্গ দ্বীপও হয়তো আমরা দখল করে নেব!’

এবার অমুসলিম দেশেও ইসরাইলি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ

 

এবার অমুসলিম দেশেও ইসরাইলি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ

অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট। টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে অন্যতম কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।



‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরাইলের স্বীকৃত সীমানার বাইরের আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেন এ ধরনের আমদানি বিধিনিষেধের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।

তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের ‘চরম ইসরাইলিবিরোধী নীতির’ অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন।

Tuesday, 30 June 2026

ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। বহু হতাহতের খবর ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। যেকোনো সময় বাংলাদেশও শিকার হতে পারে এ ভূমিকম্পে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করব

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা আইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতানু ইনদাল মাওতি, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদিগান।





অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে।

যেভাবেই হোক ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে চান ট্রাম্প

 

যেভাবেই হোক ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে চান ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। ওভাল অফিসের সেই মুহূর্তে একটি বাক্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যেভাবেই হোক ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে চান তিনি।

সেখানে তিনি বলেন, ‘সেভ আমেরিকা ভোটিং অ্যাক্ট’ ছাড়া অন্য সবকিছুই এতটুকু বলে অনেক বড় হাই তোলেন।





‘সেভ আমেরিকা ভোটিং অ্যাক্ট’ এই আইনটি পাসের জন্য বেশ কিছু সময় ধরে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প।

স্পষ্টতই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করতে চান।

জানা গেছে, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার দোহায় অপর একটি আলোচনাকারী দলের সঙ্গে থাকবেন। তারা সম্ভবত দু’পক্ষের মধ্যে চলা লড়াইয়ের অবসান আশা করছেন। উভয় পক্ষই এর আগে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল। তবে বর্তমানে সেই হামলাগুলো বন্ধ রয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যেও কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা ভেবেছিলেন দু’পক্ষকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পেরেছেন। তবে এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, এই প্রক্রিয়াগুলো কতটা কঠিন।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বৈঠক করতে চান। তার দাবি, ইরানিরাও বৈঠক করতে চায়। কিন্তু ইরানিরা এই দাবি অস্বীকার করছে। তাই আসলে কী ঘটছে, তা আলোচনার কক্ষে উপস্থিত না থাকা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যাবে না।

তবে এটি স্পষ্ট যে, ট্রাম্প এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তার ভাষায়, অন্য সবকিছুই ক্লান্তিকর।

সূত্র: আল-জাজিরা

বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি

 

বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বর্তমানে যে রাম মন্দির দাঁড়িয়ে আছে, সেই স্থানেই একসময় ছিল ষোড়শ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। ১৯৯২ সালে হিন্দু উগ্রপন্থীদের হাতে মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনা গোটা ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্ম দেয়। সেই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম।





পরবর্তীতে ওই স্থানকে কেন্দ্র করেই বিজেপি-সমর্থিত হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়। আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন। বহু হিন্দুর বিশ্বাস, এ স্থানই ভগবান রামের জন্মভূমি।

তবে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ইতিহাসের পর ভক্তদের কাছে ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠা এই মন্দির এখন বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। গত এক মাস ধরে অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।

ভক্ত ব্রজেশ কুমার আল জাজিরাকে বলেন, তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তার ভাষায়, যারা ধর্মের নামে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তারাই সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে।

রাম মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই ভারতের অন্যতম ব্যস্ত ধর্মীয় তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। মন্দিরটি পরিচালনা করে স্বাধীন সংস্থা ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। যদিও ট্রাস্টটি সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নয়, এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিজেপির আদর্শিক সংগঠন আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।

২০২৪ সালের ২২শে জানুয়ারী, ভারতের নয়াদিল্লির একটি রাস্তায় উত্তর ভারতের অযোধ্যা শহরে রাম মন্দিরের উদ্বোধন উদযাপন করছেন মানুষজন। ছবি: রয়টার্স
২০২৪ সালের ২২শে জানুয়ারী, ভারতের নয়াদিল্লির একটি রাস্তায় উত্তর ভারতের অযোধ্যা শহরে রাম মন্দিরের উদ্বোধন উদযাপন করছেন মানুষজন। ছবি: রয়টার্স

চলতি মাসে ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মহিপাল সিং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলেও আল জাজিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

এদিকে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, মন্দিরের অনুদানের কোটি কোটি রুপি গায়েব হয়ে গেছে। বিরোধীদের চাপের মুখে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এরই মধ্যে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনও রয়েছেন।

শুধু তাই নয়, আরও অনেক ভক্ত দাবি করেছেন, তারা ট্রাস্টের কাছে জমা দেওয়া রুপার ইট, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান উপহারের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শুক্রবার ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ট্রাস্টি পদত্যাগ করেন। রাম মন্দির আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হওয়ায় চম্পত রায়ের পদত্যাগ ঘটনাটিকে আরও অভিযোগগুলো আরো শক্তিশালী করে তুলেছে।

তবে পদত্যাগের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। হাজারো ভক্তের পাশাপাশি বিজেপির একাংশের সমর্থকরাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন এবং অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

Monday, 29 June 2026

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

 

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানুষের কথায় নয়, তার চরিত্র, ধৈর্য, আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা, উত্তম সঙ্গ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থার মধ্যেই প্রকাশ পায়। একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উত্তম আচরণেই প্রকৃত প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটে। একজন সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের জীবনকে এমন কিছু সুন্দর অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে তোলেন, যা তাকে দুনিয়ায় সম্মানিত এবং আখিরাতে সফল হওয়ার পথ দেখায়।

কম কথা বলুন, বেশি কাজ করুন






জ্ঞানী মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, বরং তার চরিত্র ও কর্মে ফুটে ওঠে। অপ্রয়োজনীয় কথা কম বলুন, প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নতুবা নীরব থাকে।’ (বুখারি ৬০১৮, মুসলিম ৪৭)

যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শান্ত থাকুন

রাগ বা উত্তেজনা নয়, ধৈর্য ও আত্মসংযমই একজন শক্তিশালী মানুষের প্রকৃত পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)

আত্মসমালোচনা ও চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন

কখনো কখনো নির্জনতা মানুষকে নিজের ভুল-ত্রুটি বুঝতে, আল্লাহকে স্মরণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ... لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ

‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৯০)

তর্কে নয়, উত্তম কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দিন

অকারণ বিতর্ক মানুষকে বিভক্ত করে, কিন্তু উত্তম চরিত্র ও সৎকর্ম মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا

‘যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক পরিত্যাগ করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।’ (আবু দাউদ ৪৮০০)

সৎ ও প্রজ্ঞাবান মানুষের সঙ্গ বেছে নিন

মানুষ তার সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই উত্তম চরিত্রের মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করুন এবং ক্ষতিকর সঙ্গ থেকে দূরে থাকুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ

‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিজি ২৩৭৮)

অভিযোগ নয়, কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন

যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য আরও কল্যাণ বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৭)

আরও পড়ুন

পরিবারের গোপন বিষয় সংরক্ষণ করুন

পরিবারের সম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাস রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত বিষয় অযথা প্রকাশ করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً... يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের একজন হলো সে, যে তার স্ত্রীর গোপন বিষয় মানুষের কাছে প্রকাশ করে।’ (মুসলিম ১৪৩৭)

বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

জীবনে পরীক্ষা আসবেই। ধৈর্য, হাসিমুখ ও আল্লাহর প্রতি ভরসাই একজন মুমিনের শক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

আমরা যদি এই গুণগুলোকে জীবনের অংশ করে নিতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ দুনিয়ায় সম্মানিত জীবন এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হবে।

হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ

তাহাজ্জুদ শব্দটি গভীর রাতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে। রাত গভীর হলেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়। হৃদয়ের আবেগ ঢেলে প্রেমপেয়ালা পরিপূর্ণ করার সময় হলো...