Thursday, 12 February 2026

২০ কোটি শিশুর মানবিক সহায়তা প্রয়োজন: ইউনিসেফ

 

২০ কোটি শিশুর মানবিক সহায়তা প্রয়োজন: ইউনিসেফ

জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, এ বছর ১৩০টিরও বেশি দেশের ২০ কোটিরও বেশি শিশুর মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের নিয়মিত অধিবেশনে সংস্থাটির প্রধান ক্যাথেরিন রাসেল এ কথা বলেন। খবর বার্তা সংস্থা আনাদোলুর।

তিনি বলেন, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বৈষম্য আরো গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী শিশুরা যেসব চ্যালঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তার মাত্রা ও জটিলতা তীব্রতর হচ্ছে।

রাসেল বলেন, ‘শিশুরা ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক মানবিক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৬ সালে ১৩০টিরও বেশি দেশের ২০ কোটিরও বেশি শিশুর মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানবিক চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইউনিসেফের জন্য মূল অগ্রাধিকার হিসাবে রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বৈষম্য শিশু, পরিবার ও সমাজের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।’

শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ব্যাপক বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত বছর (২০২৫ সাল) শিশুদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চসংখ্যক গুরুতর সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, অপহরণ ও যৌন সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউনিসেফ ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে কাজ করে উল্লেখ করে, জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী অংশীদারত্বের আহ্বান জানিয়েছেন রাসেল।

ভোটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব ইস্যু

ভোটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব ইস্যু

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতির মাঠ এখন বেশ সরগরম। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, গণতন্ত্রহীনতা ও রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের প্রতিযোগিতা নয়— বরং দেশের ভবিষ্যৎ পথনকশা নির্ধারণের একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সে কারণে এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু ইস্যুতে দলগুলোর অবস্থান ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মনে যে ইস্যুগুলো দাগ কাটবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গণভোট, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংগঠিত গুম-খুন ও জুলাই বিপ্লবে সংগঠিত গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার, আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান, দুর্নীতি দমন ইত্যাদি। এছাড়া গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহি, কর্মসংস্থান, নারীদের জীবনমান উন্নয়ন ইত্যাদি ইস্যুতেও নজর থাকবে ভোটারদের। সে হিসেবে এবারের নির্বাচন শুধু দল বা প্রতীকের লড়াই নয়; বরং এটি নাগরিক জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধান ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। যে দল বা প্রার্থী এসব জাতীয় ইস্যুতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত, মানবিক ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান নিতে পারবে— ভোটারদের পছন্দে তারাই এগিয়ে থাকবেন।

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধার। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কাঠামোর কারণে দীর্ঘ সময় নির্বাচনি ব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ছিল, সাধারণ ভোটারের মনে সেটিও গভীর প্রভাব ফেলেছে। সে কারণে ভোটাররা এমন প্রার্থীকে নির্বাচন করবেন, যারা সুষ্ঠু নির্বাচন, শক্তিশালী সংসদ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য অঙ্গীকার করছে।

দুর্নীতিকে বলা হয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে প্রধান অন্তরায়। এ কারণে দ্রব্যমূল্যের চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট এবং সেবা ও অধিকার বঞ্চিত হন নাগরিকরা। সেদিক থেকে ভোটাররা বাস্তব জীবনে দুর্নীতি দমনে যারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তাদের খুঁজে নেবেন।

রাষ্ট্রসংস্কার প্রসঙ্গও এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করে, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়— রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতেই মৌলিক পরিবর্তন দরকার। যে দলগুলো স্পষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা, সময়সূচি ও বাস্তবায়নের রূপরেখা দিতে পারবে, তারা শিক্ষিত ও সচেতন ভোটারদের আস্থা অর্জনে এগিয়ে থাকবে। এই সংস্কার ইস্যুতে গণভোটে যাদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান থাকবে, নিরপেক্ষ ভোটাররা সেদিকেই রায় দেবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের বিষয়টি এবারের নির্বাচনে আবেগঘন ও সংবেদনশীল ইস্যু। যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের কাছে বিচার শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়— এটি ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। এই ইস্যুতে অবস্থান নেওয়ার সময় রাজনৈতিক দলগুলোর ভাষা ও প্রতিশ্রুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর বা অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করবে। বরং স্বচ্ছ তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের কথা যারা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করবে, ভোটাররা তাদেরই পছন্দ করবেন।

আধিপত্যবাদ মোকাবিলার ইস্যুটিও এবারের নির্বাচনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি বরাবরই সংবেদনশীল বিষয়। আধিপত্যবাদী ভারতের চাপিয়ে দেওয়া আওয়ামী দুঃশাসনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এখনো মানুষ বয়ে বেড়াচ্ছে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ভারসাম্য ও কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। সেটি বিবেচনায় যারা ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, বাস্তববাদী ও জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারে অবিচল থাকার পাশাপাশি বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ডে তা ফুটিয়ে তুলতে পারবে, তারা এই ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে থাকবে। এছাড়া দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নারী স্বাধীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধের অক্ষুণ্ণতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ইত্যাদি বিষয় ভোটে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখা দিতে পারে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছি‌দ্দিকুর রহমান খান আমার দেশকে বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রথম কথা হলো— বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পরিবর্তন, সংস্কার, সুশাসন। তারপরে সন্ত্রাস দমন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এগুলো নির্বাচনি প্রচারে প্রধান ইস্যু হিসেবে স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া প্রায় চার কোটি তরুণ প্রজন্ম ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। এর বাইরে আগামী দিনে যেসব রাজনৈতিক দল নিজেদের গণ্ডির বাইরে এসে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারবে— তাদের জয়ের পাল্লা ভারি হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম বলেন, আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও এবারের ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে। তাদের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে দল ও প্রার্থীদের সক্ষমতা বিবেচনায় ভোট দেবেন ভোটাররা। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, নারী-যুবকদের কর্মসংস্থানসহ জাতীয় স্বার্থগুলো কোন রাজনৈতিক দল বেশি খেয়াল করতে পারবে— সেটি ভোটের মাঠে নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

Wednesday, 11 February 2026

নির্বাচন নিয়ে যে ১৩ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ভোটাররা

 

নির্বাচন নিয়ে যে ১৩ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ভোটাররা

‘‘ভোটকেন্দ্র কোথায় এখনও সেটা জানি না। আগে তো বাসায় স্লিপ দিয়ে যেত। এবার কেউ ভোটার স্লিপ দিয়ে যায়নি। এমনিতে সবসময়ই লেডি দেহলভি স্কুলে ভোট দিয়েছি। হয়তো ওই কেন্দ্রই হবে। সমস্যা নাই, সার্চ করলেই জানা যাবে’’ কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুরের একজন ভোটার সেলিনা আক্তার।

ভোটারদের এবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটসহ মোট দুইটি ভোট দিতে হবে। আবার ভোটগ্রহণের সময়ও এবার এগিয়ে আনা হয়েছে এবং এক ঘণ্টা সময়ও বাড়ানো হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর অল্প সময় হাতে রয়েছে। গুগল ও স্যোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, নির্বাচনের ঠিক আগেভাগে এ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ।

যেমন: ইলেকশন ২০২৬, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি ২০২৬, ভোটার স্লিপ বিডি, ভোটার নম্বর চেক অনলাইন, ভোট সেন্টার চেক, ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম এমন নানা শব্দ গুগলে লিখে ভোটের শেষ মুহূর্তে বুধবারও মানুষ এ সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাচ্ছেন।

কেবল দুইটি শব্দ বাংলায় লিখে সার্চ করেছেন বা খুঁজেছেন ভোটাররা। তবে বেশিরভাগ শব্দই ইংরেজিতে লিখে সেটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।

গুগল বা সামাজিক মাধ্যমে মানুষ জানতে চেয়েছেন এমন বেশ কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর এই লেখায় তুলে ধরা হলো।

ইলেকশন ২০২৬

গুগল সার্চের একদম ওপরে রয়েছে এই শব্দটি। জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এরকম আরো কয়েকটি শব্দ দিয়ে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কেই বেশি জানতে চেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯ টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১ টি দল।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১ দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র - তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিও এবারই প্রথমবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে এবারের নির্বাচনে।

সারাদেশের আসনভিত্তিক যে ভোটার তালিকা ইসি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার।

এর মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার।

এছাড়া হিজড়া ভোটার এক হাজার ১২০ জন।

ভোট কখন শুরু, কখন শেষ?

বাংলাদেশে এর আগে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোতে সাধারণত সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হতো। বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারতেন।

কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।

ভোট সেন্টার

চাঁদপুরের ভোটার সেলিনা আক্তারের মতো অনেক ভোটারই এবার নিজের ভোটকেন্দ্র নিয়ে এখনও সংশয়ে ভুগছেন।

তবে মিজ আক্তারের মতো অনেকেই গুগলে নিজের ভোটকেন্দ্র কোনটি সেটি বের করতে ভোট সেন্টার চেক, ভোট সেন্টার এমন বেশ কিছু শব্দ দিয়ে তথ্য জানতে চাচ্ছেন।

গুগল ট্রেন্ড ঘেঁটে দেখা যায়, গত একদিনে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি সার্চ করা হয়েছে সেটি হলো ভোট সেন্টার চেক বিডি বা ভোট কেন্দ্র চেক।

অর্থাৎ ভোটাররা এখনো তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি নিয়ে জানতে চান।

এমন ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন এবার অ্যাপ, হটলাইন নম্বর, এসএমএস সেবা চালু করেছে।

এমনকি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়েও ভোটার তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্র নামে একটি অপশন রয়েছে।

সেখানে ভোট কেন্দ্র অনুসন্ধানের জন্য দুইটি তথ্য দিতে হয়। একটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং অপরটি জন্ম তারিখ।

এই দুই তথ্য লিখে অনুসন্ধানে ক্লিক করলেই দেখা যায় ভোট কেন্দ্রের তথ্যের বিস্তারিত পাওয়া গেছে।

ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, ভোট কেন্দ্রের নাম এবং কেন্দ্রের অবস্থানও ম্যাপে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।

স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬

গুগল ট্রেন্ডের সার্চের একেবারে শুরুর দিকে এই শব্দটি পাওয়া যাচ্ছে।

মূলত স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি, একটি অ্যাপ যেটি নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নানা তথ্য পাওয়ার জন্য চালু করেছে।

এই অ্যাপে ঢুকে একজন ভোটার তার ১০ নম্বর অথবা ১৩ নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই তার ভোটকেন্দ্র পেয়ে যাবেন।

আবার ভোটার নম্বরও এই অ্যাপে পাওয়া যাবে।

ভোটার নাম্বার বের করার নিয়ম

ভোটার সিরিয়াল নম্বর চেক, ভোটার নম্বর চেক, ভোটার সিরিয়াল নম্বর বের করার নিয়ম জানতে চেয়ে সার্চ করছেন অনেক ভোটার।

এসব তথ্য যাতে ভোটার পূর্ণাঙ্গভাবে পায় সে কারণে নির্বাচন কমিশন নিজেদের ওয়েবসাইট, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি অ্যাপ, এসএমএস, হটলাইন নম্বরে ফোন করে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

যে কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫ এ ফোন করে নিজের ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার নম্বর বের করতে পারবেন।

১০৫ এ ফোন করে অপারেটরের সাথে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। পরে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার নম্বর যেমন জানা যাবে তেমনি ভোট কেন্দ্রের নামও জানতে পারবেন ভোটাররা।

ভোটার স্লিপ

গুগল ট্রেন্ডে ঘেঁটে দেখা যায়, ভোটার স্লিপ, ভোটার স্লিপ চেক, ভোটার স্লিপ পিডিএফ ডাউনলোড ২০২৬ এমন শব্দ লিখে ভোটাররা গত সাতদিনে তথ্য খুঁজেছেন।

ভোটার স্লিপ হচ্ছে এমন একটি তথ্য সংবলিত কাগজ, যেখানে ভোটারের নামের পাশাপাশি ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্র লেখা থাকে।

বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেখা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার, কাউন্সিলর বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটারের নম্বর, ভোটকেন্দ্র সংবলিত একটি স্লিপ দেওয়া হতো।

কিন্তু এই ভোটার স্লিপ আসলে সরকারি কোনো স্লিপ নয়। কিন্তু এবার বেশিরভাগ জায়গাতেই এসব স্লিপ দেওয়া হয়নি।

এবার এই স্লিপ ভোটাররা পাননি যেটি বিবিসি বাংলাকে মিজ আক্তারই বলেছিলেন।

ভোটকেন্দ্রে সেলফি তুলতে পারবো?

অনেক ভোটার আছেন যারা চান স্মৃতি জমিয়ে রাখতে।

আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রথমবার দেবেন এমন ভোটাররা হয়তো ছবি তুলে রাখতে চাইবেন।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে এবং ছবিও তোলা যাবে।

কিন্তু কোনোভাবেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি।

অর্থাৎ ভোটাররা বুথের যে গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন সেখানে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তবে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি বা সেলফি তোলার সুযোগ নেই।

মুখের নিকাব খুলতে হবে?

অনেক ভোটার আছেন যারা মুখ ঢেকে পর্দা করেন, তারা কিছুটা শঙ্কায় ভোট দিতে গেলে কী মুখের পর্দা বা নিকাব খুলতে হবে?

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসারের দায়িত্বই হলো ভোটারের চেহারার দিকে তাকানো।

ওই কর্মকর্তার কাছে থাকা ভোটার তালিকার ছবির সাথে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখে তিনি উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ও ভোটার নম্বর বলবেন।

পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক সংবলিত একটি ব্যালট পেপার ও গণভোটের হ্যাঁ, না সংবলিত আরেকটি ব্যালট পেপার দিয়ে আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেবেন নির্বাচনী কর্মকর্তা।

কিন্তু যদি পরিচয় গোপন করে বা ছদ্মবেশে জাল ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন এমন বিষয় প্রমাণ হয় তবে ওই কর্মকর্তা তাকে নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করবেন।

তিনি তখন সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের দায়িত্ব পালন করবেন।

এমন অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানাও হতে পারে।

নির্বাচনের দিন যানবাহন চলবে কী?

রাজধানী ঢাকায় এখনো এমন অনেক ভোটার আছেন যারা অন্য জেলার ভোটার, কিন্তু ঢাকা ছেড়ে যাননি।

বুধবার বিকেলে বা রাতে ঢাকার বাইরে যেতে কোনো যানবাহন আছে কি না এমন বিষয়ও গুগলে সার্চ করে দেখছেন তারা।

এদিকে, নির্বাচন ঘিরে যানবাহন চলাচলে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১০ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের পরদিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এই কারণে মঙ্গলবার রাত থেকেই বন্ধ রয়েছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল সার্ভিস।

এছাড়া ১১ই ফেব্রুয়ারি, বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই আওতামুক্ত থাকবে।

জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সকল ধরনের যানবাহনও চলাচল করতে পারবে।

ভোট কেন্দ্রে বাচ্চা নেওয়া যাবে?

সন্তানের বয়স যদি প্রতীক বোঝার মতো না হয় তাহলে যে কোনো মা ভোটার ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষেও ওই সন্তানকে নিয়ে যেতে পারবেন।

কিন্তু যদি প্রতীক বোঝার মতো বয়সী কোনো সন্তান হয় সেক্ষেত্রে ওই সন্তানকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারলেও তাকে বাইরে রেখেই ভোটারকে ভোট কক্ষে ঢুকতে হবে।

গণভোটের ব্যালট ফেলবো কোন বাক্সে?

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি ব্যালটেই একই সাথে ভোট দিতে হবে।

এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের জন্য যে ব্যালট থাকবে সেটি হবে সাদাকালো আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রংয়ের।

দুইটি ব্যালট পেপার এক বাক্সে ফেলবেন কিনা এ বিষয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন অনেক ভোটার।

এই বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে।

এতে বলা হয়েছে, "জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবারহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের বাক্স হিসাবে ব্যবহৃত হবে। ভোটারগণ ভোট প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন।"

অর্থাৎ, ভোটার জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালটে সিল দেওয়ার পর সেটি একই বাক্সে ফেলবেন।

ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল কখন জানা যাবে এমন প্রশ্ন রয়েছে।

কেননা এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ফলে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে সময় বেশি লাগবে সেটি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্র থেকে গণনার পরে সেই ফলাফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়। সেখান থেকে সেটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়। এরপর সেখান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

সাধারণত বাংলাদেশের বেতার ও টেলিভিশনে এসব ফলাফল প্রচার করা হয়।

অতীতের সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মধ্যরাত নাগাদ কোন আসনে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে, সেই সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।

কিন্তু এবার গণভোট এক সাথে গণনার ফলে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।

তবে, ধারণা করা হচ্ছে, অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে শুক্রবার দুপুর কিংবা বিকেল হয়ে যেতে পারে।

ফলাফল নিয়ে আপত্তি না থাকলে, যাচাই বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেটাই আনুষ্ঠানিক সরকারি ফলাফল। এটা আসতে আসতে শনিবার বা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যের শপথ পড়ানোর বিধান রয়েছে।

নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন কে?

গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তিন দিন পরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে।

১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, যেহেতু জাতীয় সংসদ কার্যকর নেই তাহলে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন কে?

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেদিন (পাঁচই ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন।

অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা চায় উল্লেখ করে মি. নজরুল জানিয়েছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথের সম্ভাবনা বেশি।

২০ কোটি শিশুর মানবিক সহায়তা প্রয়োজন: ইউনিসেফ

  জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, এ বছর ১৩০টিরও বেশি দেশের ২০ কোটিরও বেশি শিশুর মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ড...