Saturday, 28 February 2026

রমজানে পাপমুক্ত জীবনের অনুশীলন

রমজানে পাপমুক্ত জীবনের অনুশীলন

ছবি: সংগৃহীত

রমজান পুণ্য অর্জনের মাস। আমরা প্রত্যেকেই রমজানে বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করি। সাধ্যমতো সবাই চেষ্টা করি এ মাসে রোজা, তারাবি, কোরআন তেলাওয়াত, জাকাত-ফিতরা ও দান-সদকার মাধ্যমে পুণ্য অর্জন করতে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের যোগ্য হতে। তবে এসবের পাশাপাশি রোজার আচরণবিধি মেনে চলাও জরুরি। রোজায় সব ধরনের পাপ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ রোজা ফরজ করা হয়েছে মানুষকে তাকওয়াসম্পন্ন বানানোর জন্য। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি করা হয়েছিল পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়াসম্পন্ন হও।’ (সুরা বাকারাÑ১৫৩) আর তাকওয়ার মূল কথাই হলো, সর্বদা আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা এবং তার কাছে জবাবদিহির ভয়ে সব ধরনের নাফরমানি-অবাধ্যতা থেকে নিবৃত্ত থাকা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতেও রোজায় গুনাহ বর্জনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেমন তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে অসত্য কথা ও অন্যায় কাজ বর্জন করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বোখারি) আরেক হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা থাকলে সে যেন অশ্লীল ভাষায় কথা না বলে এবং চিৎকার করে বাক্যবিনিময় না করে। তথাপি কেউ যদি তার সঙ্গে বিবাদ-ঝগড়ায় প্রবৃত্ত হয় কিংবা লড়াই করতে আসে, তাহলে (অনাগ্রহ দেখিয়ে) বলবে, আমি রোজাদার। (তাই আমি কিছুতেই তোমার সঙ্গে বিবাদে জড়াব না)।’ (প্রাগুক্ত) কোনো কোনো সময় আমরা নিজের থেকে হয়তো মন্দ কথা বলি না, কিন্তু পরিস্থিতির শিকার হলে আর সংযত থাকা যায় না। হাদিসে এমন পরিস্থিতির করণীয়ই বলে দেওয়া হয়েছে।

তাই রোজায় যেমন ব্যক্তিজীবনের প্রতিটি ফরজ কাজ ঠিকমতো আদায় করতে হবে। তেমনি সমাজ জীবনে কেউ যেন আমার কথা-কাজে কষ্ট না পায়, সেদিকটিও খেয়াল রাখতে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘সে প্রকৃত মুসলিম যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।’ (মুসলিম)

গিবত-পরনিন্দা, হিংসা-পরশ্রীকাতরতা, মিথ্যা, অহংকার, দুর্নীতি, সুদ, ঘুস ও অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, ইত্যকার সব অন্যায়-অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। রমজানে আমাদের সারা বছরের জন্য এমন পাপাচার-অনাচারমুক্ত জীবনেরই অনুশীলন করা হয়।

নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ চীনের

 

নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ চীনের

ইরানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির কারণে বহিরাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—এমন উল্লেখ করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ নির্দেশনা দেয় বেইজিং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করতে এবং দ্রুত সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আপাতত ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ জোরদার করার পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে অ-জরুরি দূতাবাস কর্মীদের প্রস্থান অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগের দিন ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে তেহরান সতর্ক করে জানায়, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত দাবি’ প্রত্যাহার করতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা স্থলপথে দেশত্যাগে ইচ্ছুক নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

অবশেষে বন্ধ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

অবশেষে বন্ধ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি স্থাপনকারী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবারও বন্ধ হয়ে গেল। সাম্প্রতিক সময়ে দেউলিয়া ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। লন্ডনে বিলাসপণ্য বিক্রির ব্র্যান্ড হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে না পেরে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয় ঐতিহাসিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

একসময় বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করা এ কোম্পানি ভারত ও এশিয়ার নানা অঞ্চলে শোষণ, লুটপাট ও নিপীড়নের জন্য কুখ্যাত হয়ে আছে। ইতিহাসের পাতায় তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাম আজও বিতর্কের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় দেড়শ বছর আগে কোম্পানিটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে ২০১০ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের স্বত্ব কিনে নিয়ে লন্ডনে এ কোম্পানিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তিনি এ কোম্পানিকে বিলাসপণ্যের খুচরা ব্র্যান্ড হিসেবে নতুন করে পরিচিত করান।

জানা যায়, ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কেনার চেষ্টা শুরু করেন একবিংশ শতকের শুরুর দিকে। ২০১০ সালে মেফেয়ারে একটি দোকানে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুনরায় শুরু করেন। সেখানে উঁচুমানের চা, চকোলেট, মিষ্টান্ন, মসলা ও অন্যান্য দামি পণ্য বিক্রি করা হতো।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসাটি বন্ধ হয়ে যায়। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে কোম্পানিটি লিকুইডেটর নিয়োগ করে। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ছয় লাখ পাউন্ডের বেশি দেনা জমে। পাশাপাশি কর ও কর্মীদের পাওনাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বকেয়া ছিল। ফলে লন্ডনের মেফেয়ারের দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়, ওয়েবসাইটও অচল।

জানা যায়, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ সরকারের হাতে যায়। ১৮৫৮ সালে ভারতবর্ষে সরাসরি ব্রিটিশ রাজের শাসন শুরু হয়।

ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসনামলে এ কোম্পানি বিশ্ববাণিজ্যের ধরন বদলে দিয়েছিল। কিন্তু নিপীড়ন আর দুর্ভিক্ষের ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ভারতীয়দের জন্য নিয়ে আসে এক মহাদুর্ভোগ। সে সময় বাংলার দুর্ভিক্ষে মারা যায় প্রায় তিন কোটি মানুষ।

২০১০ সালে যখন ভারতীয় উদ্যোক্তা এ কোম্পানির স্বত্ব কিনে নেন, তখন অনেকেই একে ঔপনিবেশিক অপশাসনের প্রতিশোধ হিসেবে দেখেছিলেন। যে কোম্পানি একসময় ভারত শাসন করেছিল, সে কোম্পানি এখন একজন ভারতীয়ের মালিকানায় বিষয়টি সে সময় বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল।

ব্রিটেনের দ্য সানডে টাইমস জানায়, অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে লিকুইডেটর নিয়োগ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত মূল গ্রুপের কাছে এ কোম্পানির দেনা জমেছিল ছয় লাখ পাউন্ডের বেশি। এছাড়া কর বাবদ এক লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৯ পাউন্ড এবং কর্মীদের কাছে দায় দেড় লাখের বেশি পাউন্ড ।

২০১৭ সালে গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহতা বলেন, ‘একজন ভারতীয় এখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিকÑএটাই প্রমাণ করে যে, নেতিবাচক বিষয়টি এখন ইতিবাচক হয়ে গেছে। ঐতিহাসিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আগ্রাসনের ওপর দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু আজকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সহমর্মিতার কথা বলে।’

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯ শতকের শুরুর দিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল সাফল্যের শিখরে, তখন এ কোম্পানির প্রায় আড়াই লাখ সৈন্যের নিজস্ব বাহিনী ছিল। ভারতের বিশাল অঞ্চল তখন নিয়ন্ত্রণ করত তারা। মসলা, তুলা, রেশম, চা, নীলসহ নানা পণ্যের বাণিজ্যে বিশ্বে তারাই নেতৃত্ব দিত। তবে তাদের এ সাফল্য এসেছিল শোষণ আর বঞ্চনার মধ্য দিয়ে।

১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রানি প্রথম এলিজাবেথের জারিকৃত রাজকীয় সনদের মাধ্যমে এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে সম্মিলিতভাবে ‘ইস্ট ইন্ডিজ’ বলা হতো। মূলত মসলা, রেশম, তুলা ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এটি একটি জয়েন্ট স্টক ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে লাভক্ষতিতে অংশ নিতে পারতেন, যা সে যুগে ব্যবসায়িক কাঠামোর ক্ষেত্রে ছিল অত্যন্ত অগ্রগামী ধারণা।

১৬১২-১৩ সালে কোম্পানি ভারতের সুরাটে প্রথম বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে কেপ অব গুড হোপের পূর্বাঞ্চলে ব্রিটিশ বাণিজ্যে একচেটিয়া অধিকার লাভের মাধ্যমে তাদের প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত হয়। অষ্টাদশ শতকের শুরুতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়। ভারতের বিভিন্ন স্থানে দুর্গ নির্মাণ, স্থানীয় শাসকদের সঙ্গে জোট এবং ফরাসিদের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে তারা নিজেদের আধিপত্য সুসংহত করে।

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ ছিল তাদের ক্ষমতা বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এরপর বাংলাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শাসনক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে কোম্পানি। তারা কর আদায়, বিচারব্যবস্থা পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। ফলে কার্যত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বদলে শাসক শক্তিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিশ্ববাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষত কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়।

তবে এ বিস্তারের পেছনে ছিল শোষণ, কৃষকদের নীলসহ অর্থকরি ফসল চাষে বাধ্য করা এবং রপ্তানিনির্ভর কঠোর নীতি, যার ফলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। অবশেষে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

Friday, 27 February 2026

দশম তারাবি: আহসানুল কাসাস, সুন্দরতম ঘটনা

 

দশম তারাবি: আহসানুল কাসাস, সুন্দরতম ঘটনা

আজ দশম তারাবিতে সূরা ইউসুফ (৫৩-১১১), সূরা রাদ ও সূরা ইবরাহিম পড়া হবে। পারা হিসাবে আজ পড়া হবে ১৩তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশেরবিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো।

সূরা ইউসুফ (৫৩-১১১) সংক্ষিপ্তাকারে নবী ইউসুফ (আ.) এর কাহিনী আমরা গতকাল পড়েছিলাম। কাহিনিটির যে অংশ আজ শুনবঃ-মিশরের বাদশা ইউসুফ (আ.) এর কাছে স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা শুনে তাকে জেল থেকে মুক্ত করে দিলেন। মুক্তির আগে ইউসুফ (আ.) সবার সামনে নিজের নির্দোষিতার প্রমাণ করতে চাইলেন। আজিজে মিশরের স্ত্রী নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করল। ইউসুফ (আ.) নির্দোষ এ কথাও সে অকপটে বলল।

জেল থেকে বেরিয়ে ইউসুফ (আ.) মিশরের অর্থ বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সে সময়ে মিশর ও তার আশপাশের এলাকাগুলোয় দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। এ কারণে ইউসুফ (আ.) এর ভাইয়েরা বিশেষ দান সংগ্রহের জন্য মিশরে আসে। এক-দুই সাক্ষাতের পর ইউসুফ (আ.) ভাইদের জানিয়ে দেন, আমি তোমাদের ভাই ইউসুফ। এরপর ইউসুফ (আ.) এর বাবা-মাও মিশর চলে আসেন এবং এখানেই বসতি স্থাপন করেন। নবী ইউসুফের শৈশবে দেখা স্বপ্ন সত্যে পরিণত হয়। সূরা ইউসুফ শেষ হয়েছে এই বার্তা দিয়ে, ‘এই সব মহামনীষীর ঘটনায় রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য বহু শিক্ষা ও নসিহত’। (১১১)। ১৩. সূরা রাদ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৪৩, রুকু ৬) এ সূরায় তাওহিদ, রিসালাত ও কেয়ামত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার প্রথম আয়াতে কোরআনের সত্যতার আলোচনা রয়েছে।

পরবর্তী আয়াতে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ববাদের দলিল প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। আসমান-জমিন, চাঁদ-সূর্য, রাত-দিন, পাহাড়পর্বত ও নদীনালা, লতাগুল্ম, বৈচিত্র্যময় স্বাদ এবং বিভিন্ন রঙের ফলমূলের স্রষ্টা তো একমাত্র তিনিই। জীবন-মরণ এবং উপকার ও ক্ষতিসাধন একমাত্র তাঁরই হাতে। এরপর কেয়ামতের পুনরুত্থান ও প্রতিদানের আলোচনা করা হয়েছে। ফেরেশতাদের দিয়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে হেফাজত করেন, সুরক্ষিত রাখেন- এ প্রসঙ্গের আলোচনার পর একটি মূলনীতি বলা হয়েছে। তা হলো, ‘আল্লাহ তায়ালা কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ বদলান না, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে’। (১১)। মুসলিম জাতি সম্মান পেতে চাইলে, লাঞ্ছনার পথ পরিহার করে মর্যাদার পথ অবলম্বন করতে হবে। বাতিলের উপমা দেওয়া হয়েছে ঢেউয়ের ওই বুদবুদের সঙ্গে, যা বাহ্যত সব জিনিসের ওপর ছেয়ে থাকে। কিন্তু অবশেষে বিলুপ্ত ও বিলীন হয়ে যায়।

আর হক ও সত্যপন্থিদের ওই সোনা চাঁদির সঙ্গে উপমা দেওয়া হয়েছে, যা ঢেউয়ের সাথে সাথে ভেসে যায় না, বরং জমিনের মাঝেই থেকে যায়। তারপর আগুনে উত্তপ্ত করলে তা একেবারে খাঁটি সোনায় পরিণত হয় এবং খাদ ও ময়লা তা থেকে পৃথক হয়ে যায়। (১৭)। মুত্তাকি এবং সত্যিকার বুদ্ধিমানদের আটটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে আলোচ্য সূরায়।

সেগুলো হলোঃ- প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, আপন প্রতিপালকের ভয়, মন্দ হিসাবের ব্যাপারে শঙ্কা, ধৈর্যধারণ, সালাত কায়েম, প্রকাশ্যে এবং গোপনে দান, মন্দের জবাবে ভালো ও উত্তম চরিত্র প্রদর্শন করা। (২০-২৪)। নবীরা মানুষই, শুধু পার্থক্য হলো তাদের কাছে ওহি আসে (৩৮)- এ বিষয়ে আলোকপাতের পর নবী মুহাম্মদ (সা.) এর নবুয়তের সাক্ষ্য দিয়ে সূরাটির সমাপ্তি ঘটেছে। (৪৩)। ১৪. সূরা ইবরাহিম (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৫২, রুকু ৭) সূরার সূচনাপর্বে কোরআন কারিম নাযিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর তা হলো মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনা। সূরাটিতে তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাত- মৌলিকভাবে এ তিনটি বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। ২, ৩ ও ২৩ নম্বর আয়াতে কাফেরদের নিন্দা জানানো হয়েছে।

সূরায় বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নবীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে এর কিছু নমুনা তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন যুগের অস্বীকারকারী গোষ্ঠী সাধারণত চার ধরনের সন্দেহের কথা বলত এবং বর্তমানেও বলে। সন্দেহগুলোর উল্লেখপূর্বক জবাব দেওয়া হয়েছে, ‘আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে সন্দেহ’, অথচ একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায়, রাব্বুল আলামিনের অস্তিত্বের অসংখ্য প্রমাণ। ‘রাসুল মানুষ হবেন কেন?’ মানুষের জন্য মানুষ রাসুল পাঠানোই তো বেশি যৌক্তিক। ‘বাপ-দাদাদের ধর্ম ছেড়ে নতুন ধর্ম কেন গ্রহণ করব?’ কেউ যদি ভুল পথে থাকে তবু কি তাকে অনুসরণ করা হবে? ‘মোজেজার দাবি করা মাত্রই সেগুলো নবীরা কেন প্রদর্শন করেন না?’ মোজেজা দেখানো নবীদের ইচ্ছাধীন নয়, মোজেজা তো আল্লাহ তায়ালার হাতে। (৯-১২)।

সত্যসন্ধানী মানুষের কাজ হলো সন্দেহের পথ পরিহার করা এবং মহান আল্লাহর বান্দা হিসেবে তাঁর কৃতজ্ঞ হয়ে থাকা। কেননা আল্লাহ কৃতজ্ঞদেরকে তার নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন, আর অকৃতজ্ঞদের জন্য রয়েছে তার কঠিন শাস্তি। (৭)। সূরার দ্বিতীয়, তৃতীয় ও শেষ রুকুতে কেয়ামতের দৃশ্যের অবতারণা করা হয়েছে এবং জাহান্নামের ভীষণ ভয়ংকর আজাবের আলোচনা করা হয়েছে। কেয়ামতের ময়দানে নিজ অনুসারীদের থেকে শয়তানের পলায়ন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে এবং হক-বাতিলের চমৎকার একটি উপমা পেশ করা হয়েছে।এ সূরায় বিশেষভাবে হযরত ইবরাহিম (আ.) এর ওই সব দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো তিনি করেছিলেন বায়তুল্লাহ বিনির্মাণের পর মক্কাবাসী, নিজের সন্তানসন্ততি ও পরবর্তী বংশধর এবং মানবতার জন্য। দোয়ায় তিনি নিরাপত্তা, রিজিকের ব্যবস্থা, মক্কার প্রতি সবার অন্তরের টান, সালাত কায়েম করা এবং মাগফিরাতের দরখাস্ত করেছিলেন। (৩৫-৪১)। সূচনাপর্বের মতো সূরার শেষেও পবিত্র কোরআনের আলোচনা রয়েছে।(৫২)।

উত্তেজনার মধ্যে নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল চীন


উত্তেজনার মধ্যে নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল চীন

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান থেকে নিজ নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

শুক্রবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থানরত নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা স্থলপথে স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদেরও উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, তাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং নিকটবর্তী বোমা আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ বহির্গমন পথ সম্পর্কে আগাম ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইল থেকে অপ্রয়োজনীয় দূতাবাস কর্মীদের প্রত্যাহারের অনুমোদন দেয়। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার হুমকির মধ্যে অঞ্চলটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ জোরদার করছে ওয়াশিংটন। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইসরাইল উপকূলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরও উত্তেজনা প্রশমনের আশা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এই রমজানে যেভাবে সন্তানকে আল্লাহভীরু বানাবেন

 

এই রমজানে যেভাবে সন্তানকে আল্লাহভীরু বানাবেন

মানুষের আত্মগঠন, চরিত্র নির্মাণ ও আল্লাহমুখী জীবনের প্রশিক্ষণকাল রমজান মাস । এই মাসের প্রতিটি দিনেই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অফুরন্ত ধারা প্রবাহিত হয়। তাই শিশুদের রমজানকে আলাদা আলাদা ভাগে নয়; বরং ৩০ দিনের একটি ধারাবাহিক তারবিয়াত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে মোবাইল, টিভি, ইন্টারনেট ও গেমের আসক্তি শিশুদের হৃদয় থেকে ইবাদতের স্বাদ দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। অথচ আল্লাহতায়ালা বলেন : ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে… যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা আল-বাকারা ২ : ১৮৩)

তাকওয়ার এই শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই শুরু করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৫)

অতএব রমজানের ৩০ দিন হতে পারে শিশুদের জন্য ঈমান, আমল ও আদব শেখার বাস্তব কর্মসূচি।

পারিবারিক নিয়ত : রমজানের প্রথম পাঠ

রমজানের একেবারে শুরুতেই পরিবারে ছোট্ট বৈঠক হতে পারেÑআমাদের রমজান কেমন হবে?

এখানে তিনটি বিষয় নির্ধারণ করা জরুরি : নামাজ, কোরআন ও ভালো কাজ।

কারণ আল্লাহ বলেন : ‘তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম ৬৬:৬)

শিশু বুঝবে সে এই রমজানের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

একটি নূরভরা দৈনিক রুটিন

সাহরি : এটি হলো সুন্নাহর প্রশিক্ষণ। রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা সাহরি খাও, এতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি : ১৯২৩)

শিশুকে ভালোবাসা দিয়ে জাগানো, এক গ্লাস পানি ও একটি খেজুরের মাধ্যমেই তার মনে সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে।

ফজরের পর : কোরআনের আলো

আল্লাহ বলেন : ‘এই কোরআন মানুষকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে।’ (সুরা আল-ইসরা ১৭ : ৯)

প্রতিদিন একটি আয়াত, একটি দোয়া এটাই হোক শুরু।

দিনের সময় : স্ক্রিন নয়, সৃজনশীলতা

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি : ১৯০৩)

এখান থেকেই শেখানো যায়, চোখেরও রোজা আছে।

বিকল্প কার্যক্রম

▪️রমজান ডায়েরি, ইসলামি গল্প, ক্যালিগ্রাফি ও মায়ের কাজে সাহায্য।

ইফতারের মুহূর্ত : দোয়ার স্কুল

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৮) এই সময় শিশুকে দোয়া শেখানো মানে তার হৃদয়ে আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করা।

রাত : আত্মমূল্যায়নের সময়

দিন শেষে একটি প্রশ্ন-আজ আমি কাকে খুশি করেছি? এটাই হবে তার আত্মশুদ্ধির শুরু।

কোরআনের সঙ্গে শিশুর বন্ধুত্ব

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে কোরআন শেখে ও শেখায়।’ (সহিহ বুখারি : ৫০২৭)

বাস্তব পদ্ধতি : প্রতিদিন একটি আয়াত, অর্থসহ শিক্ষা, মা-বাবার সঙ্গে তিলাওয়াত।

সামাজিক মানবিকতা : জীবন্ত রমজান

রাসুল (সা.) ছিলেন রমজানে সবচেয়ে বেশি দানশীল। (সহিহ বুখারি : ৬) সুতরাং শিশুকে দিয়ে করাতে পারেন-ইফতার বিতরণ, গরিবদের খাবার দেওয়া ও মসজিদ পরিষ্কার।

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

আত্মসংযম : রোজার আসল শিক্ষা

রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘রোজা ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি : ১৮৯৪) সুতরাং শিশু শেখানÑরাগ নিয়ন্ত্রণ, মিথ্যা না বলা, ঝগড়া না করা।

রাতের নীরবতা : লাইলাতুল কদরের অনুভূতি

আল্লাহ বলেন : ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা আল-কদর ৯৭ : ৩)

দোয়া : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি। (তিরমিজি : ৩৫১৩)

শিশুর জন্য কয়েক মিনিট তাহাজ্জুদই হতে পারে সারাজীবনের স্মৃতি।

মাস শেষে যে পরিবর্তন

এই ত্রিশ দিনের প্রশিক্ষণে-নামাজের অভ্যাস, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক, মোবাইলনির্ভরতা কমে যাওয়া, দানশীলতা, আত্মসংযম ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা।

আল্লাহ বলেন : ‘নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ (সুরা আল-আ‘লা ৮৭ : ১৪)

আজকের শিশুর হাতে যদি আমরা রমজানের এই নূরভরা পরিকল্পনা তুলে দিতে পারি, তবে সে শুধু রোজাদার হবে না; হবে কোরআনের মানুষ, নামাজের মানুষ, মানবতার মানুষ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তানদেরও তাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেব।’ (সুরা আত-তুর ৫২ : ২১)

রমজান তখন আর একটি মাস থাকবে না, এটি হয়ে যাবে একটি প্রজন্ম গড়ার বিপ্লব।

রমজানে পাপমুক্ত জীবনের অনুশীলন

ছবি: সংগৃহীত রমজান পুণ্য অর্জনের মাস। আমরা প্রত্যেকেই রমজানে বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করি। সাধ্যমতো সবাই চেষ্টা করি এ ম...