Wednesday, 20 May 2026

জান্নাতি ঝরনা জমজমের সূচনা

 

জান্নাতি ঝরনা জমজমের সূচনা

মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশির মধ্যে এক অলৌকিক ঝরনাধারা ‘জমজম’। এটি শুধু একটি কূপ নয়, বরং মহান আল্লাহর কুদরতের এক জীবন্ত নিদর্শন। হাজার হাজার বছর ধরে কোটি কোটি তৃষ্ণার্ত মানুষের পিপাসা মিটিয়ে আসা এই কূপের পানি পবিত্রতা, বরকত এবং আরোগ্যের প্রতীক। বিশেষ করে, পবিত্র হজের মৌসুমে জমজম কূপের গুরুত্ব ও তাৎপর্য মুমিন হৃদয়ে এক অনন্য আবেগ তৈরি করে।

খ্রিষ্টপূর্ব ২১০০ থেকে ১৯০০ অব্দের মাঝামাঝি। ইতিহাসের বিভাজন অনুযায়ী সময়টি ব্রোঞ্জ যুগ। তবে ধর্মীয় ও সভ্যতার প্রেক্ষাপটে এটি ছিল ‘পিতা-পিতামহদের যুগ’ (Age of the Patriarchs)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭৭ মিটার উঁচুতে চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা মাঝখানে জনমানবহীন ঢালু উত্তপ্ত মরুভূমি থেকে চিন্তিত মুখে ফিরে যাচ্ছেন ইব্রাহিম (আ.)। তিনি চলে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী হাজেরা (আ.) ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি কি আমাদের এভাবে ফেলে যাচ্ছেন?’ ইব্রাহিম (আ.) কোনো উত্তর দেননি। কিন্তু যখন হাজেরা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহ কি আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?’ তখন ইব্রাহিম (আ.) বললেন, ‘হ্যাঁ।’ জবাবে হাজেরা (আ.) দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘তাহলে আল্লাহ আমাদের ধ্বংস করবেন না।’ অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের সঙ্গে থাকা সামান্য খাবার ও পানি শেষ হয়ে যায়। প্রখর রোদে তৃষ্ণায় শিশু ইসমাইল (আ.) ছটফট করতে থাকেন। সন্তানের এই কষ্ট মা হাজেরা সহ্য করতে পারছিলেন না। উত্তপ্ত মরুভূমিতে পার্শ্ববর্তী পাহাড়গুলোর মধ্যে মরীচিকার সৃষ্টি হয়। সেখানে পানির উৎস আছে মনে করে সেদিকে ছুটতে থাকেন তিনি। এভাবে সাফা থেকে মারওয়া এবং মারওয়া থেকে সাফা—সাতবার আসা-যাওয়া করেন। দুই পাহাড়ের মাঝখানে একটি নিচু জায়গা ছিল, যেখান থেকে শিশু ইসমাইলকে দেখা যেত না। সেই অংশটুকু তিনি দ্রুত দৌড়ে পার হতেন, যা বর্তমানে পবিত্র হজ ও ওমরাহর সময় পুরুষদের জন্য এই স্থানে সবুজ বাতি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে দৌড়ানো সুন্নত।





সপ্তমবার যখন তিনি মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছান, তখন একটি শব্দ শুনতে পান। তিনি সেখানে জিবরাইল (আ.)-কে দেখতে পান। জিবরাইল (আ.) তার ডানা বা পায়ের গোড়ালি দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে পাথুরে শক্ত মাটি থেকে স্বচ্ছ পানির ধারা বেরিয়ে আসতে শুরু করে। বিবি হাজেরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে পানির চারপাশে বালু দিয়ে বাঁধ দিতে থাকেন এবং বলছিলেন—‘জমজম’ (থামো ও থামো)।

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতাগুলোর সঙ্গে জমজমের পানি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হজের প্রতিটি ধাপে যখন হাজিরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন জমজম তাদের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি দান করে। হাজেরা (আ.)-এর সেই স্মৃতি স্মরণে হাজিরা যখন সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ান, তখন তাদের পিপাসা মেটানোর প্রধান উৎস হয় জমজম। কাবার চারদিকে তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর দুই রাকাত নামাজ শেষে জমজমের পানি পান করেন হাজিরা।

জমজমের পানি পান করার দোয়া—‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআঁও, ওয়া রিজকান ওয়াসিআঁও, ওয়া শিফা-আম মিন কুল্লি দা-ইন।’ অর্থাৎ—‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সমস্ত রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করছি।’

জমজমের পানির মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহানবী (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হবে, তা-ই পূরণ হবে।’ (ইবনে মাজাহ)

আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি জমজম কূপ। হাজার বছর ধরে অবিরত জান্নাতি পানির প্রবাহ কোটি কোটি মানুষের পেট ও আত্মাকে ভরিয়ে দিচ্ছে। হজের প্রতিটি মুহূর্তে জমজমের পানি হাজিদের হৃদয়ে ঈমানি শক্তি জোগায় এবং মহান আল্লাহর অলৌকিক সৃষ্টিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ট্রাম্পকে বিদায়, পুতিনকে স্বাগত—চীনের কূটনৈতিক বার্তা কী

 

ট্রাম্পকে বিদায়, পুতিনকে স্বাগত—চীনের কূটনৈতিক বার্তা কী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই দিনের সফরে চীনে পৌঁছান পুতিন। বেইজিং বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।



এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব কূটনীতিতে নিজেদের প্রভাব ও অবস্থান নিয়ে চীনের বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন এই সফর। একইসঙ্গে এটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও নতুনভাবে সামনে এনেছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে চীনের ওপর রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে এলেও বেইজিং বরং মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পুতিনের সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়ছে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠক থেকেও বড় কোনও অগ্রগতি আসেনি। ফলে এর ঠিক পরপরই পুতিনের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন এবং এর পরিচালনা কাঠামো তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণাও দিয়েছে। পাশাপাশি, ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষেও এই সফরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুই নেতা এখন পর্যন্ত ৪০ বারের বেশি বৈঠক করেছেন, যা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কোনও পশ্চিমা নেতার বৈঠকের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতাকে আতিথেয়তা দেওয়া চীনের কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত। তার মতে, শি জিনপিং এভাবেই ওয়াশিংটনকে বুঝিয়ে দিতে চাইছেন যে, চীনের শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার এখনও রয়েছে।

এদিকে, ইউক্রেইন যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় রাশিয়ার ভেতরেও পুতিন চাপের মুখে রয়েছেন। অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হওয়ায় চীনের ওপর মস্কোর নির্ভরশীলতাও বাড়ছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্রমেই আরও একপেশে করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সফরের আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে “এক নজিরবিহীন উচ্চতায়” পৌঁছেছে। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, ডলারের পরিবর্তে রুবল ও ইউয়ানে লেনদেন এবং দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, শি ও পুতিনের কৌশলগত নেতৃত্বে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে এবং তা জনগণের মধ্যেও আরও দৃঢ় ভিত্তি পাবে।

ট্রাম্পের ইরান হামলা স্থগিত ঘোষণায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

 

ট্রাম্পের ইরান হামলা স্থগিত ঘোষণায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমে গেছে।



বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও কমে প্রায় ১০৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে এখন নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে আগে প্রতিদিন বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। ফলে এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Tuesday, 19 May 2026

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি

 

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি, যা ঈদুল আজহার মূল আকর্ষণ। এই ইবাদত শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়ার এক মহান প্রতীক। তাই একজন কোরবানিদাতার উচিত আগে থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে নিজেকে প্রস্তুত করা।





কোরবানির তাৎপর্য ও লক্ষ্য

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মহান আল্লাহ বলেন : আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সুরা আল-হাজ্জ : ৩৭)

এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় কোরবানির আসল শিক্ষা হলো হৃদয়ের পবিত্রতা ও আল্লাহভীতি।

কোরবানির অগ্রিম প্রস্তুতি

১. নিয়ত শুদ্ধ করা

প্রথম ও প্রধান প্রস্তুতি হলো নিয়ত ঠিক করা। কোরবানি যেন লোকদেখানো বা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের জন্য না হয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (বুখারি : ১)

২. হালাল উপার্জনের অর্থ নিশ্চিত করা

কোরবানির পশু অবশ্যই হালাল উপার্জনের অর্থ দিয়ে কিনতে হবে। হারাম উপার্জনে করা ইবাদত কবুল হয় না।

৩. উত্তম ও সুস্থ পশু নির্বাচন

কোরবানির পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত ও নির্ধারিত বয়সের। রাসুল (সা.) বলেছেন, চার ধরনের পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয় অন্ধ, রোগাক্রান্ত, খোঁড়া ও অত্যন্ত দুর্বল। (আবু দাউদ)

৪. জিলহজের চাঁদ দেখার পর...

যখন জিলহজ মাস শুরু হবে, তখন কোরবানিদাতা চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরবানি করতে চায়, সে যেন (জিলহজের চাঁদ দেখার পর) তার চুল ও নখ না কাটে। (মুসলিম : ১৯৭৭)

কোরবানিদাতার গুরুত্বপূর্ণ আমল

১. তাকওয়া ও ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি

এ সময় বেশি বেশি নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করা উচিত।

২. তাকবির ও জিকির পাঠ

বিশেষ করে, ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) থেকে তাকবিরে তাশরিক পড়া সুন্নত। ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার…

৩. রোজা রাখা (বিশেষত আরাফার দিন)

৯ জিলহজে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে।’ (মুসলিম)

৪. কোরবানি নিজ হাতে করা

সম্ভব হলে নিজ হাতে কোরবানি করা উত্তম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই কোরবানি করতেন। (বুখারি)

৫. কোরবানির দোয়া ও তাকবির পাঠ

জবাইয়ের সময় বলা : বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার (বুখারি)

কোরবানির সামাজিক ও মানবিক দিক

কোরবানি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; এটি সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে। কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম : এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য।

কোরবানি একটি সামগ্রিক ইবাদত, যেখানে নিয়ত, ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবিকতা একসঙ্গে মিলিত হয়। একজন সচেতন মুসলমানের উচিত অগ্রিম প্রস্তুতি গ্রহণ করে এই ইবাদতকে পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা উপলব্ধি করার এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সিন্ধু পানি চুক্তি বহাল, ভারতের একতরফা স্থগিতাদেশের দাবি খারিজ

 

সিন্ধু পানি চুক্তি বহাল, ভারতের একতরফা স্থগিতাদেশের দাবি খারিজ

সিন্ধু পানি চুক্তি (ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি-আইডব্লিউটি) বহাল রেখে রায় দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ)। এতে বলা হয়েছে ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। আদালতের এই সম্পূরক রায়কে পাকিস্তান তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।





দীর্ঘদিন ধরে সিন্ধু নদব্যবস্থার পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতের ‘রান-অব-দ্য-রিভার’ প্রকল্পগুলো নিম্নপ্রবাহে পানির প্রবাহ কমিয়ে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্প্রতি রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও কিশেঙ্গঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা-সংক্রান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে আদালত ‘সাপ্লিমেন্টাল অ্যাওয়ার্ড কনসার্নিং ম্যাক্সিমাম পন্ডেজ’ জারি করে। এতে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার ওপর চুক্তিভিত্তিক সুস্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং এসব সীমা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রকল্প পরিকল্পনা ও নকশা পর্যায় থেকেই তা কার্যকর হবে।

পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানির ধারণক্ষমতা বা ‘পন্ডেজ’ অবশ্যই প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজন, সম্ভাব্য পরিচালনা পদ্ধতি, নদীর জলপ্রবাহ, জলবিদ্যুৎ ব্যবস্থার চাহিদা এবং চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। শুধু ভবিষ্যতে পানি ব্যবহারে সংযমের আশ্বাস দিলেই চুক্তির শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

আদালত আরো বলেছে, পাকিস্তানকে পর্যাপ্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা ভারতের পক্ষ থেকে দিতে হবে যাতে ইসলামাবাদ চুক্তি মেনে চলা হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে পারে। ভারত যদি যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রস্তাবিত পন্ডেজ চুক্তির শর্ত পূরণ করছে এটি প্রমাণের দায়ও তারা পালন করতে পারবে না।

পাকিস্তান জানায়, তারা সিন্ধু পানি চুক্তি, এর বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং পানি-সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সব ধরনের আইনগত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৮ আগস্টও পিসিএ পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়ে বলেছিল, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি পাকিস্তানের ‘অবাধ ব্যবহারের’ জন্য প্রবাহিত হতে দিতে হবে। ২০১৬ সালে পাকিস্তান এই মামলা দায়ের করেছিল।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আদালতের এই কার্যক্রমকে ‘অবৈধভাবে গঠিত তথাকথিত সালিশি আদালত’ আখ্যা দিয়ে রায়কে অকার্যকর ও বাতিল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা ভারতের এ অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত মনজুরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে ভারত কার্যত আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাশ্মীর-সংক্রান্ত প্রস্তাব উপেক্ষার পর এবার ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আদালতের বাধ্যতামূলক রায়ও মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

মনজুরুল হক আরো সতর্ক করে বলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে পানি নিয়ে বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

জান্নাতি ঝরনা জমজমের সূচনা

  মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশির মধ্যে এক অলৌকিক ঝরনাধারা ‘জমজম’। এটি শুধু একটি কূপ নয়, বরং মহান আল্লাহর কুদরতের এক জীবন্ত নিদর্শন। হাজার হাজার ব...