Tuesday, 17 February 2026

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটি শুরুর তারিখ নিয়ে যা জানা গেলো




দেশের নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুরো রমজান বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট, তা আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে গেছে। এর ফলে স্কুলে রমজানের ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকেই। তবে নির্বাচিত সরকার নতুন সিদ্ধান্ত দিতে পারে আবার এই সিদ্ধান্তও বহাল রাখতে পারে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ছুটি তালিকা অনুযায়ীই হবে। স্কুল বন্ধ রাখার হাইকোর্টের রায়কে বাতিল করে দেয়া হয়েছে। ফলে আগের ছুটির তালিকাই বহাল থাকছে। রমজানে খোলা থাকবে। কোর্টের কোনো অর্ডারই আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। আমরা মেসেজ পেয়েছি আমাদের আইন শাখা থেকে। ৮ মার্চ থেকে স্কুলে ঈদের ছুটি শুরু হবে। তবে এখন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে তা নতুন সরকার নিতে পারবে।

এর আগে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। ছুটির তালিকায় ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রোজা, ঈদসহ কয়েকটি ছুটি রয়েছে। শুক্র ও শনিবারসহ সেখানে মোট ছুটি ১৯ দিন।

এদিকে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি সেই রিটের শুনানি হয়। এতে পুরো রমজান মাস অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

পরে গতকাল সোমবার পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত স্থগিতের আদেশ দেন।

রোজায় মক্কা-মদিনার তাপমাত্রা কেমন থাকবে জেনে নিন


রোজায় মক্কা-মদিনার তাপমাত্রা কেমন থাকবে জেনে নিন


পবিত্র রমজানে মাসে মক্কা ও মদিনায় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে এবং তাপমাত্রা সামান্য বেশি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সৌদি আরবের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মাসজুড়ে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও মোট বৃষ্টিপাত মৌসুমি গড়ের নিচে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এনসিএমের প্রাথমিক জলবায়ু পূর্বাভাস অনুযায়ী, রমজান মাসে মক্কা ও মদিনা দুই শহরেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ের তুলনায় কম হতে পারে। সাধারণত মাসিক গড় বৃষ্টিপাত মক্কায় প্রায় ৪ দশমিক ২ মিলিমিটার এবং মদিনায় ৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার। রমজানে যদি বৃষ্টি হয়, তা হালকা মাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি।

তাপমাত্রার দিক থেকেও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা উষ্ণ পরিস্থিতির আভাস দিয়েছে কেন্দ্রটি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মক্কায় গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মদিনায় সর্বোচ্চ প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে মক্কায় গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মদিনায় ২৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এনসিএম জানিয়েছে, এই মৌসুমি পূর্বাভাসের লক্ষ্য হলো প্রস্তুতি ও পরিচালন সক্ষমতা জোরদার করা। বিশেষ করে রমজান মাসে দুই পবিত্র মসজিদের দর্শনার্থীদের সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার জন্য। পাশাপাশি সর্বশেষ আবহাওয়া তথ্য ও নিয়মিত জলবায়ু ব্রিফিং পেতে জনসাধারণকে সংস্থাটির সরকারি চ্যানেল অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে এনসিএম।

স্পেনে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৫

স্পেনে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৫

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বার্সেলোনা প্রদেশের মানলেউ শহরে সোমবার সন্ধ্যায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়, ভবনের ছাদতলায় আগুনের সূত্রপাত হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে কাতালান ফায়ার সার্ভিস। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ভবনের ওপরের তলায় অবস্থানরত পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে আহত চারজনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের কারও শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পুলিশ আগুন লাগার কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় টহল ইউনিটগুলোও তদন্তে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডে ভবনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু

 

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু

সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির সরকার পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম বলছে, সৌদি আরবে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে দেশটিতে আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই রমজান শুরু হচ্ছে।

এদিকে, দেশে আগামীকাল বুধবার চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার চাঁদ দেখা গেলে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশে রমজান শুরু হবে।

Monday, 16 February 2026

সৌদিতে রমজানের চাঁদ দেখার আহ্বান, সতর্কতা দিল আমিরাত

 

সৌদিতে রমজানের চাঁদ দেখার আহ্বান, সতর্কতা দিল আমিরাত
ছবি: সংগৃহীত।


সৌদি আরবে মুসলমানদের আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রমজান মাসের নতুন চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। সৌদি আরবের সরকারি হিজরি ক্যালেন্ডার (উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার) অনুযায়ী ওই দিনট ২৯শে শাবান।

এক বিবৃতিতে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, কেউ খালি চোখে বা দূরবীন ব্যবহার করে চাঁদ দেখতে পেলে কাছের যেকোনো আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য জানাতে হবে। এ ছাড়া যারা চাঁদ দেখার সক্ষমতা রাখেন, তাদেরকে এ উদ্দেশ্যে গঠিত আঞ্চলিক কমিটিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে চাঁদ দেখার এই উদ্যোগকে পুণ্যের কাজ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এটি ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং সমগ্র মুসলিম সমাজের উপকারে আসে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান শুরুর অপেক্ষায় থাকা বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক সেন্টার সতর্ক করেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখার চেষ্টা ‘চোখের জন্য বিপজ্জনক’ হতে পারে।

কেন্দ্রটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই দিন চাঁদ সূর্যের খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে এবং একই দিনে সূর্যগ্রহণও ঘটবে। ফলে যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া দূরবীন বা টেলিস্কোপ দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো সাময়িক বা স্থায়ী দৃষ্টিহানির কারণ হতে পারে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

৫৮ বছর পর আবারো পশ্চিম তীরের মালিকানা দাবি ইসরাইলের

 

৫৮ বছর পর আবারো পশ্চিম তীরের মালিকানা দাবি ইসরাইলের
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে পশ্চিম তীরের হেবরনের কাছে বেইত আওয়া গ্রামে অনুমোদনবিহীন দাবি করে ভেঙে ফেলা হচ্ছে একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি।


অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে দখলদার ইসরাইল সরকার। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর এই প্রথম এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান। খবর আনাদোলু এজেন্সির।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট জমিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিবন্ধিত হবে।

এই পদক্ষেপ পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব আরো জটিল করে তুলবে। ফিলিস্তিনি পক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগেই এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেক দেশ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। এই সিদ্ধান্ত নতুন করে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতে মুসলিমদের ভয় ও বিরামহীন হতাশার জীবন

ভারতে মুসলিমদের ভয় ও বিরামহীন হতাশার জীবন


ভারতীয় লেখক, অনুবাদক ও ইতিহাসবিদ রাখশান্দা জলিল প্রতি বছর গয়ায় অনুষ্ঠিত শিল্প ও সাহিত্য উৎসবে যোগ দেন। চলতি বছর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাহিত্য উৎসবেও যোগ দেন তিনি। উৎসবটিতে তিনি যতবার আসেন ততবারই মুগ্ধ হন; কারণ এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা বলার এবং নিজেদের তুলে ধরার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

রাখশান্দা জলিল বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে আমি নিজের পরিচয় তৈরির একটি জায়গা খুঁজে পেয়েছি। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের ওপর অন্যের শক্তি কালো মেঘের মতো ‍জুড়ে রয়েছে, যা নিয়ে আমার মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।’ উৎসবে এসেও সেসব বিষয় নিয়ে মন খুলে কথা বলতে বেশ অস্বস্তিবোধ করছিলেন তিনি। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে হয়েছে এই উৎসবই সেই ‘ভয়’ নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত জায়গা। নিজের মনের কথা, অন্ধকার ভয়ের কথা এখানে না বললে আর কোথায় বলা যাবে? সেই ভাবনা থেকেই ভয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। রাখশান্দা বলেন, ‘আমি ভয় সম্পর্কে কথা বলতে চাই, যা আমাদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, যে ভয় আমাদের অস্তিত্বকে ধীরে ধীরে বিলীনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতের মুসলমানরা যেসব বিষয়ে ভয় অনুভব করেন, তা নিয়ে কথা বলব। কারণ এই ভয় শুধু মুসলিমরাই অনুভব করেন তা নয়, একই ধরনের ভয় ভারতের অন্য সংখ্যালঘুদের মধ্যেও আছে, যাদের অবস্থান একেবারেই প্রান্তিক। এমনকি এটি সংখ্যাগরিষ্ঠদের অনেকের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।’

রাখশান্দা বলেন, ‘আমি একটি ভয়াবহ ভয়ের কথা উল্লেখ করতে চাই, যা এখনো আমাকে চরমভাবে আতংকিত করে তোলে, দম বন্ধ করা পরিবেশ সৃষ্টি করে। বর্তমানে আমার শিক্ষাদীক্ষা, আমার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সুযোগ-সুবিধা, উচ্চপদের বন্ধু-বান্ধব— এত কিছুর পরও আমি সেই ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারিনি। আমার এ ভয় গত কয়েক বছর ধরে প্রায় স্থায়ী একটি হতাশায় রূপ নিয়েছে, যা অনেকটা হালকা তাপমাত্রার জ্বরের মতো, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত না করলেও স্বস্তি দিচ্ছে না। এর উপস্থিতি সবসময় বিদ্যমান, যে ভয় নিজের অস্তিত্বকে ধীরে ধীরে বিলীন করে দিয়ে দুঃখবোধ ও হতাশার দিকে চালিত করছে।

তবে লেখকের মতে, তিনি একা নন, ভারতের শহুরে অনেক মুসলিমের মধ্যেও এই ভয় এবং হতাশা দেখা যাচ্ছে। তারা এদেশের রাজনৈতিক বিতর্কে মোটেও অংশগ্রহণে আগ্রহী নন, এক্ষেত্রে পুরোপুরি নীরব। তাদের এই নীরবতা স্কুল এবং কলেজ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোর পাশাপাশি আরডব্লিউএ/হাউসিং সোসাইটি গ্রুপ চ্যাট সবখানেই দৃশ্যমান।

সাম্প্রতিক কিছু সাম্প্রদায়িক ক্ষোভ বা নৃশংসতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এবং তা আবার মুছে দেওয়ার বিষয়টি এই নীরবতাকেই প্রকটভাবে প্রকাশ্যে এনেছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেন তারা। হোক তা একজন মুসলিম পুরুষ তার হিন্দু বান্ধবীকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলেছে সেই ঘটনা কিংবা একজন মুসলিম পুরুষ তার অমুসলিম সঙ্গীকে ব্যবসায়িক বিরোধে হত্যা করেছে সেই ঘটনাও। এক্ষেত্রে অপরাধী হচ্ছেন একজন মুসলিম।

লেখক মনে করেন, যদি তার মতো উচ্চ স্তরে থাকা একজন মানুষ এতটা ভয় ও হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত থাকেন, তাহলে দারিদ্র্য এবং নিরক্ষর মুসলিমদের ভয় ও হতাশা তো আরো বেশি। কারণ সেসব প্রান্তিক মুসলিমের তার মতো সুরক্ষা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। যেখানে আমাদের মতো মানুষদের সুরক্ষিত কমিউনিটি থাকে, সেখানে তাদের কিছুই নেই।

দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে তাদের মিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, রঙমিস্ত্রি, ছুতোর, গৃহপরিচারিকা এবং বিভিন্ন পরিসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে নিম্ন বেতনের কাজ করতে হয়। জীবনের মায়ায় তারা নিজেদের কর্মস্থলে ‘মুসলিম’ পরিচয় দেন না। তাদের ভয় মুসলিম পরিচয় প্রকাশ হলে কাজ নাও মিলতে পারে। সবজি বিক্রেতার মতো মুসলিমরা বাধ্য হয়ে নিজের সবজি ভ্যানের সামনে গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে নেন। এছাড়া বিরিয়ানি বিক্রেতা, কাবাব বিক্রেতা, লেপ প্রস্তুতকারক, গাড়ির মেকানিক—যারা ঐতিহ্যগতভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই পেশাগুলোতে আছেন, তারাও এখন জীবন নিয়ে শংকিত। লেখক সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ইমাম এবং নায়েব ইমামদের কী হবে, যারা দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার মসজিদগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন।

‘আমি দেখতে মুসলমানদের মতো নয় বলে আমি অনেক নিরাপদে চলাচল করতে পারি’— এমনটাই বলেন লেখক রাখশান্দা। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নাম প্রকাশ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি নিরাপদ, কিন্তু নাম কীভাবে গোপন রাখা যাবে? পরিচয়ের অন্যতম পূর্বশর্তই হলো নাম প্রকাশ। যদিও নামের প্রথম অংশ আমাকে কিছু সুবিধা এনে দেবে, কিন্তু পরের অংশ তো মুসলিম। নতুন ভারতে যেভাবে মুসলিমদের নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়েছে, সেখানে যদি মুসলিম রক্তের জন্য তৎপর একদল জনতা আমাকে ঘেরাও করে, তখন আমার অবস্থা কী হবে? আমার সব তথাকথিত সুযোগ-সুবিধা লুটেরাদের ভিড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর এসব ভাবনা আমাকে ভীত করে তোলে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটি শুরুর তারিখ নিয়ে যা জানা গেলো

দেশের নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুরো রমজান বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট, তা আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে গেছে। এর ফলে স্কুলে রম...