Sunday, 19 July 2026

দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে নানা ধরনের দুর্যোগ আসে। কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড়, কখনো ভূমিকম্প, কখনো অগ্নিকাণ্ড, আবার কখনো অতিবৃষ্টি বা খরায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান, লাখো পরিবার গৃহহীন হয়, কৃষকের ফসল নষ্ট হয়, জীবিকা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন অসংখ্য মানুষ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে বটে, কিন্তু প্রকৃতির প্রবল শক্তির সামনে মানুষ আজও অসহায়। এমন বাস্তবতায় ইসলাম দুর্যোগকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখে না; বরং এটি ঈমান, আত্মসমালোচনা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধের আলোকে মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি ইসলাম দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য এমন কিছু নীতিমালা প্রদান করেছে, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়েই প্রাসঙ্গিক।

১. ইসলাম শিক্ষা দেয়—দুর্যোগের সময় একজন মুমিন আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা আল-বাকারা : ১৫৫) এই আয়াত আমাদের জানিয়ে দেয়, বিপদ-মসিবত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দুর্যোগে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের প্রথম পরিচয়।





২. দুর্যোগের সময় তাওবা, ইস্তিগফার ও দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিপদ মানুষকে তার অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, সালাত আদায় করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা আল-বাকারা : ৪৫) একজন মুমিন জানেন, প্রকৃত সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

৩. ইসলাম শুধু দোয়ার শিক্ষা দেয় না; বরং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে বলেছিলেন, ‘আগে উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (জামে তিরমিজি) এই হাদিস আমাদের শেখায়, সতর্কতা, পরিকল্পনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়; বরং তারই অংশ। তাই দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে চলা, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, উদ্ধার-প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা ইসলামি দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

৪. দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা আল-মায়িদাহ : ২) বন্যার্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া—এসবই ইসলামের দৃষ্টিতে মহৎ ইবাদত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (মুসলিম : ২৬৯৯) আবার তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (মুসলিম) এসব হাদিস প্রমাণ করে, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক কাজ নয়; বরং আখিরাতের সফলতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

৫. ইসলাম গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। দুর্যোগের সময় যাচাইহীন তথ্য, অতিরঞ্জিত সংবাদ বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী প্রচারণা মানুষের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।’ (সুরা আল-হুজুরাত : ৬) বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই নির্দেশনার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।

৬. ইসলাম দুর্যোগকে কেন্দ্র করে অন্যায় লাভের সব পথ বন্ধ করতে চায়। ত্রাণ আত্মসাৎ, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানো ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। একজন মুসলমান সংকটকে ব্যবসার সুযোগ নয়, বরং সেবার সুযোগ হিসেবে দেখেন।

৭. দুর্যোগের সময় ইখলাস বা একনিষ্ঠতার গুরুত্ব অপরিসীম। দান-সদকা কিংবা মানবসেবা মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে নষ্ট করো না।’ (সুরা আল-বাকারা : ২৬৪) তাই সাহায্য এমনভাবে করতে হবে, যাতে বিপদগ্রস্ত মানুষের আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

৮. ইসলাম দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দেয়। শুধু ত্রাণ বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা ফিরিয়ে আনা, শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসুস্থদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও ইসলামি দায়িত্বের অংশ। মানবকল্যাণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

সবশেষে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে ‘এটি আল্লাহর গজব’ বলে ঘোষণা দেওয়া আমাদের কাজ নয়, যদি সে বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহতে স্পষ্ট দলিল না থাকে। একজন মুমিনের কাজ হলো বিপদ থেকে শিক্ষা নেওয়া, নিজের আমল পর্যালোচনা করা, তাওবা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

আজ আমাদের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ইসলামের শিক্ষা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—দুর্যোগ শুধু রাষ্ট্র বা কোনো প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ব্যক্তি, পরিবার, মসজিদ, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্র—সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন মামদানি

 

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন মামদানি
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা উচিত বলেই মনে করেন তিনি। তবে এ উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।





শনিবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অভিযোগ এনেছে। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই এই মত পোষণ করেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আগেও বলেছি, নিউইয়র্ক সিটিতে যে আইন কার্যকর রয়েছে, আমি সেটিই অনুসরণ করব। একজন নগরপ্রধান হিসেবে আইনের শাসন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি বিশ্বাস করি।”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কে আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেবে, আমরা সেটাই করব। তবে এ উদ্দেশ্যে আমরা নিজেরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।”

কোন আইন কী অনুমতি দেয়—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” চলছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) নির্দেশ দেবেন। সেই তালিকায় নেতানিয়াহুর পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নামও ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিসির এখতিয়ার নেই। দেশটির ফেডারেল আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে এ ধরনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে না। এছাড়া পৃথক একটি ফেডারেল আইনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিদেশি কর্মকর্তাদের আটক বা তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয়েও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ইরানে টানা অষ্টম রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

 

ইরানে টানা অষ্টম রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ছবি: আল-জাজিরা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে টানা অষ্টম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং কাছাকাছি কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ





ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে।

অন্যদিকে, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, প্রাদেশিক কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত বা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের হামলার প্রমাণ পাওয়ার কথা তারা জানাননি।

তাসনিমের খবরে আরো বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্বীপের অন্তত ৩ থেকে ৫টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিমান হামলা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

তবে দ্বীপে থাকা তাসনিমের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো নিরাপত্তা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত

এদিকে, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই খবর নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই হামলার পর থেকে আরো এক সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার সেন্টকম বলেছে, আহত চার মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করে দ্রুত জর্ডানের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আহত হওয়া বাকি সেনাসদস্যদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবারও ডিউটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

Saturday, 18 July 2026

মসজিদুল হারামে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চালু, মুসল্লিরা পাবেন যেসব সুবিধা

মসজিদুল হারামে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চালু, মুসল্লিরা পাবেন যেসব সুবিধা

পবিত্র কাবায় হজযাত্রী ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করেছে সৌদি আরব। দেশটির এ উদ্যোগের ফলে তীর্থযাত্রীদের দুর্ভোগ আরো কমবে। যেকোনো মুহূর্তে তাওয়াফ ও সায়ীর জন্য নির্ধারিত এলাকায় ভিড়ের সর্বশেষ তথ্য জানা যাবে।

শনিবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।





প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ নতুন একটি ডিজিটাল সেবা চালু করেছে। এর মাধ্যমে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে ইবাদতকারী ও হজযাত্রীরা ভিড়ের সর্বশেষ তথ্য জানতে পারবেন। এতে তাওয়াফ ও সায়ীর জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর ভিড়ের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে মুসল্লিরা তাওয়াফ ও সায়ী করার জন্য তুলনামূলক কম ভিড়ের পথ বেছে নিতে পারবেন।

গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ভিড়ের ঘনত্বের সরাসরি সূচক ও তাৎক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ভিড় এড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হবে। ইবাদত পালনকারীদের অভিজ্ঞতা আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কিউআর কোডের মাধ্যমে এ সেবা পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটি গ্র্যান্ড মসজিদ এলাকায় চলাচল আরো সহজ করতে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করবে। ফলে তীর্থযাত্রীরা আরো স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে তাওয়াফ ও সায়ী সম্পন্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি এর মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণও আরো কার্যকর হবে।

ধোঁয়া-আগুন-বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র


ধোঁয়া-আগুন-বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র
ধোঁয়া-আগুন-বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে দাবানল, বন্যা এবং দাবানলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট দূষণ—এই তিন ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি একযোগে আঘাত হেনেছে। পূর্বাঞ্চলে দাবানলের ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে, দক্ষিণে টেক্সাসে তৃতীয় দিনের মতো বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে নতুন নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। খবর রয়টার্সের।



শুক্রবার দেশটির ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) জানায়, বর্তমানে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। বজ্রপাতের পর শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই নতুন করে ১৭টি দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে, যা অঞ্চলটিকে বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত করেছে।

একই সময়ে গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে টেক্সাসের হিল কান্ট্রি এলাকায় বন্যার পানি তৃতীয় দিনের মতো তাণ্ডব চালাচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ১৭ হাজার ৪০০-এর বেশি দমকলকর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ এয়ার ট্যাঙ্কার মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর (১৫ লাখ ১০ হাজার হেক্টর) বনভূমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক জেসি বারম্যান বলেন, একই সময়ে একাধিক দুর্যোগ দেখা দিলে তার সম্মিলিত প্রভাব অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “এগুলো যৌথ দুর্যোগ। একাধিক দুর্যোগ একসঙ্গে ঘটলে প্রতিটির আলাদা প্রভাবের তুলনায় সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়।”

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিদ মাইকেল মানের মতে, এই চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর পেছনে জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক তরঙ্গধারা বা ‘রেজোন্যান্স’ কাজ করছে। এতে জেট স্ট্রিমের বড় তরঙ্গগুলো দীর্ঘ সময় একই স্থানে আটকে থাকে, ফলে কোনো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী চরম আবহাওয়া বিরাজ করে।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৫০-এর দশকের তুলনায় এ ধরনের স্থবির জেট স্ট্রিমের ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন স্কুলের ডিন জনাথন ওভারপেক বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন একই সঙ্গে খরা ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তার ভাষায়, “উষ্ণ বায়ুমণ্ডল মাটি ও উদ্ভিদ থেকে দ্রুত আর্দ্রতা শুষে নেয়, ফলে বনভূমি আরও শুষ্ক হয়ে দাবানলের ঝুঁকি বাড়ে। আবার একই উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, যা পরে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হয়।”

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যেখানে একই সময়ে একদিকে খরা ও দাবানল, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির মতো দুর্যোগ আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।”

দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

  প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে নানা ধরনের দুর্যোগ আসে। কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড়, কখনো ভূমিকম্প, কখনো অগ্নিকাণ্ড, আবার কখনো অতিবৃষ্টি বা খরায় ...