Sunday, 22 March 2026

ইসরাইলের পারমাণবিক শহরে ইরানের হামলা, আহত ৩৯


ইসরাইলের পারমাণবিক শহরে ইরানের হামলা, আহত ৩৯
ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধে ২২তম দিনে পরিস্থিতি আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই দিনে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ শহর দিমোনায় একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয় গেছে। খবর আলজাজিরার

শহরটিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পঞ্চমবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই শহরটিতেই ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা অবস্থিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় একাধিক স্থানে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

এই হামলায় অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম দাবি করেছে, ইসরাইলের নাতানজ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে ঘটনাটির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত দিমোনা ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং এটি দেশটির অঘোষিত পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রে রয়েছে। এই সংবেদনশীল এলাকায় হামলার ঘটনাকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি ভিন্ন ধরনের ছিল বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, যা আগে দেখা যায়নি। ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি বহুতল ভবনে আঘাত হানলে সেটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে। তবে ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ইসরাইলের কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

ঈদ আনন্দ ও ইসলামের জীবনবোধ


ঈদ আনন্দ ও ইসলামের জীবনবোধ

প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর বার্ষিক উৎসবকেই ঈদ বলে। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ঈদের দিন বললেন, ‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ঈদ রয়েছে, আর আজ আমাদের ঈদ’ (বুখারি : ৯৫২; মুসলিম : ৮৯২)। ঈদ আরবি শব্দ। ঈদ মানে ফিরে আসা। যে উৎসব প্রতি বছর ফিরে ফিরে আসে আরবি ভাষায় তাকে ঈদ বলে। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। ইসলামের রয়েছে দুটি ঈদ : ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহা।

ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের দিন সমস্ত উম্মতের জন্য ঈদ ও আনন্দের দিন হওয়ার কারণ হলো, ওইদিন আল্লাহ রোজাদারদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। ফলে যারা গুনাহগার, তারাও নেককারদের দলে শামিল হয়ে যায়। আর ঈদুল আজহার দিন বড় ঈদ হওয়ার কারণ হচ্ছে, এর আগের দিন আরাফার দিন, যেদিন এত বিপুল পরিমাণ লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সারা বছরের আর কোনো দিন এত লোককে মুক্তি দেওয়া হয় না।’ (লাতাইফুল মাআরিফ, পৃ. ২৩৭-২৩৮)

ঈদুল ফিতরের আনন্দ মূলত সিয়াম পালনকারীর জন্য। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের দুটি খুশি : একটি ইফতারের সময়, আরেকটি তার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।’ (বুখারি : ৭৪৯২, মুসলিম : ১১৫১)

ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে সিয়াম পালনকারীর প্রতিশ্রুত প্রতিদান প্রত্যাশার আনন্দ ঈদুল ফিতর– তার পূর্বাপর পাপরাশি ক্ষমা করা হয়েছে, সে রাজাধিরাজ রবের সাক্ষাতে তাঁর কাছ থেকে প্রতিদান গ্রহণ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের জন্য রয়েছে আলাদা তোরণ, ইত্যাদি আরো যেসব প্রতিদানের কথা হাদিস শরিফে ঘোষিত হয়েছে, এক মাস রোজা পালন করে সে এসব কিছু লাভের উপযুক্ত হলো– এই অনুভূতিই মূলত ঈদুল ফিতরের আনন্দের অনুঘটক। কিন্তু মুমিন রোজাদার শাওয়াল মাসের প্রথম দিন যখন এসব অনুভূতি নিয়ে আনন্দ উদযাপন করে তখন হাদিস শরিফে বর্ণিত অন্য একটি সাবধান বাণী তাকে সতর্ক ও শঙ্কিত করে। বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও তার গুনাহ মাফ করাতে পারল না সে ধ্বংস হোক।’ (মুস্তাদরাক হাকিম : ৭২৫৬)

রোজাদার একমাস ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে সিয়াম সাধনার তওফিক পেয়েছে। এখন তার মনে প্রতিশ্রুত প্রতিদান পাওয়ার প্রত্যাশা– যে রব যথাযথভাবে রমজান পালনের তওফিক দিয়েছেন প্রতিশ্রুত প্রতিদানও তিনি দেবেন! তবু আখিরাতে রবের কাছ থেকে প্রতিদান পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার আশঙ্কা কাটে না– তার সাধনা প্রতিদানের উপযুক্ত হয়েছে তো! রব্বে কারিম তার ইবাদত কবুল করেছেন কি? রোজাদার তাই ঈদ আনন্দে বল্গাহারা হয়ে যেতে পারে না।

এখন আমাদের সমাজে ঈদ উপলক্ষে বল্গাহীন আনন্দে বিজাতীয় অপসংস্কৃতির যে সয়লাব বয়ে যায়, এর মোকাবিলার জন্যই মূলত ঈদ উৎসব। মদিনাবাসীর দুটি আবহমানকালের দেশজ বার্ষিক উৎসব ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতের পর একবার তাদেরকে এ দুটি দিবস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলল, এদিনে আমরা জাহিলিয়াতের সময় থেকে খেলাধুলা, আনন্দ-উৎসব করি। নবীজি (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের এ দুটির পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন : আজহার দিন ও ফিতরের দিন।’ (আবু দাউদ : ১১৩৪; নাসায়ি : ১৫৫৬)

আখিরাতের অনন্ত জীবনে বিশ্বাসী মুমিনের আর শুধু দুনিয়ার জীবন নিয়ে মজে থাকা অবিশ্বাসীর জীবনাচার, জীবনে আনন্দের উপলক্ষ ও তা প্রকাশের ভাষা এবং পদ্ধতি এক হবে না। মুমিনের প্রকৃত আনন্দের দিন হাশরে আপন রবের কাছ থেকে ডান হাতে আমলনামা প্রাপ্তির দিন, যেদিন সে নিজেকে চিরসফলদের অন্তর্ভুক্ত বলে জেনে নিশ্চিত হবে। তাই আমাদের ঈদ আনন্দ হোক বিশ্বাসী মুমিনের ঈদ আনন্দ, যে আনন্দে খুশি আর সংযম একীভূত থাকে, যে আনন্দে জাতিগত স্বাতন্ত্র্য পরিস্ফুট থাকে।

ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ: ইরানের স্পিকার

ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ: ইরানের স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত।

ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনায় সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ। খবর আলজাজিারার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দিমোনা এলাকায় যদি ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা যুদ্ধের নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশের ইঙ্গিত দেয়।’

তিনি আরো দাবি করেন, ‘ইসরাইলের আকাশ এখন প্রতিরক্ষাহীন।”

নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত দিমোনা ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং এটি দেশটির অঘোষিত পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রে রয়েছে। তবে এই
সংবেদনশীল শহরটিতে ২৪ ঘণ্টার পাঁচবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান।

Friday, 20 March 2026

নতুন চাঁদ দেখলে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন

 

নতুন চাঁদ দেখলে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন
নতুন চাঁদ

ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষে মাসের সূচনা, সমাপ্তিসহ রোজার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইবাদত চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদ দেখে কল্যাণের প্রার্থনা করে দোয়া করতেন।

দোয়াটি হলো-

اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ

উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।

হাদিস

তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন এই দোয়া পড়তেন।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ ঈদ

 

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ ঈদ

সৌদি আরবে বৃহস্পতিবার ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ শুক্রবার দেশটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এটি মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রোজা শুরু এবং ঈদের এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সৌদি আরবের রাজকীয় আদালত (রয়্যাল কোর্ট) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার ৩০ রোজা পূর্ণ হবে এবং শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ, বিদায় নিচ্ছে রমজানও


পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ, বিদায় নিচ্ছে রমজানও

আজ পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার, জুমাতুল বিদা। সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হবে। পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। অপরদিকে আজকের দিন শেষে বিদায় নিচ্ছে ১৪৪৭ হিজরি সনের মহিমান্বিত মাস রমজান।

আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জুমার নামাজে যোগ দেবেন। নামাজ আদায়ের আগে খতিব ও আলেমগণ জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে খুতবা দেবেন।

জুমার নামাজ শেষে মসজিদগুলোতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এদিন পবিত্র রমজান মাসকে বিদায় জানিয়ে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করবেন মুসল্লিরা।

জুমাতুল বিদার সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। জুমার নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

সারা বছরের মধ্যে মুমিনের কাছে রমজান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুমাতুল বিদার মাধ্যমে কার্যত রোজাকে বিদায় জানানো হয়। এ ছাড়া আজ শুক্রবার রমজানের ৩০ দিনও পূর্ণ হচ্ছে। পরদিন শনিবার সারা দেশে একযোগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন দেশবাসী।

Wednesday, 18 March 2026

জাকাত আদায় করা যায় যে ৮ খাতে

 

জাকাত আদায় করা যায় যে ৮ খাতে

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত। এটি শুধু একটি আর্থিক ইবাদত নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। জাকাতের মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সমাজে দারিদ্র্য লাঘবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ইসলামের দৃষ্টিতে জাকাত গরিবদের প্রতি ধনীদের অনুগ্রহ নয়, বরং এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার।

কোরআন ও সুন্নাহতে জাকাতের বিধান, এর খাত এবং প্রাপকদের স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সমাজে একটি কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

জাকাত গরিবের অধিকার : জাকাত ধনীদের সম্পদে গরিবদের অধিকার। এ জন্য জাকাত আদায়কারীর নিজ দায়িত্বে জাকাতের সম্পদ জাকাত গ্রহিতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘এবং তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে আছে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৯)

জাকাতের খাত: পবিত্র কোরআনে আট শ্রেণির লোকদের জাকাত প্রদানের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, জাকাত হলো শুধু ফকির, মিসকিন, জাকাত উসুলের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী এবং যাদের মনোরঞ্জন করা উদ্দেশ্য তাদের হক। আর তা দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তের ঋণ পরিশোধ এবং আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের সাহায্যেও ব্যয় করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)

আট শ্রেণির লোকদের বিবরণ নিম্নরূপ :

১. ফকির: যার মালিকানায় জাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই, যদিও সে কর্মক্ষম বা কর্মরত হয়।

২. মিসকিন: যার মালিকানায় কোনো ধরনের সম্পদ নেই; একেবারেই নিঃস্ব ও অসহায়।

৩. আমিল: জাকাত সংগ্রহকারী বা ইসলামী রাষ্ট্রের বাইতুল মাল কর্তৃক জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। তাদের সংগৃহীত জাকাত থেকে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।

তবে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জাকাত সংগ্রহকারীদের জাকাত থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

৪. মুআল্লাফাতুল কুলুব: অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা বা নতুন মুসলমানদের সহায়তার উদ্দেশ্যে জাকাত প্রদান করা। ইসলামের বিজয় ও মর্যাদা লাভের পর প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় অমুসলিমদের জাকাত দেওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়। তবে নওমুসলিমকে পুনর্বাসনের জন্য জাকাত দেওয়া যেতে পারে।

৫. দাস মুক্তি: দাস-দাসিদের মুক্ত করার জন্য জাকাত প্রদান করা যায়। বর্তমানে এ ব্যবস্থা প্রায় বিলুপ্ত।

৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি: এমন ঋণগ্রস্ত ও অসহায় ব্যক্তি, যার ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই।

৭. ফি সাবিলিল্লাহ: যে মুসলমান আল্লাহর পথে নিয়োজিত। যেমন—দ্বিনের খিদমত, জিহাদ বা দ্বিনি জ্ঞান অর্জনের পথে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব আছে।

৮. মুসাফির: কোনো ব্যক্তি নিজ দেশে সম্পদশালী হলেও সফরের সময় অর্থশূন্য হয়ে পড়লে তাকে বাড়ি পৌঁছানোর পরিমাণ জাকাত দেওয়া যায়। উল্লিখিত যেকোনো একটি খাতে জাকাত প্রদান করলে জাকাত আদায় হয়ে যায়।

যাদের জাকাত দেওয়া উত্তম: নিকটাত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা অভাবগ্রস্ত, তাদের জাকাত দেওয়া উত্তম। এতে জাকাতের সওয়াবের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াবও অর্জিত হয়।

যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না: নিজ সন্তান বা তাদের অধস্তন, মা-বাবা বা ঊর্ধ্বতন আত্মীয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে জাকাত দেওয়া যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধররাও জাকাত গ্রহণ করতে পারেন না।

জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে শর্ত হলো—গ্রহীতাকে সম্পদের পূর্ণ মালিকানা দিতে হবে। এ জন্য যেসব কাজে ব্যক্তিগত মালিকানা সৃষ্টি হয় না, যেমন—মসজিদ, রাস্তা, মাদরাসার স্থাপনা, কবরস্থান বা এতিমখানার ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরাসরি জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায় না। তবে গরিব-এতিম ছাত্রদের জাকাত দেওয়া যায়। জাকাতের অর্থ দিয়ে অভাবী ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দেওয়া, ব্যক্তিমালিকানায় নলকূপ বা কৃষি সরঞ্জাম প্রদান করা কিংবা গৃহনির্মাণ করে তাকে মালিক বানিয়ে দেওয়া বৈধ। এ ছাড়া বিধবা ও এতিমের সহায়তা, চিকিৎসা, গরিব ছেলেমেয়ের বিবাহ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয়ে জাকাত প্রদান করা যায়। মূল শর্ত হলো—জাকাতের অর্থের মালিকানা অভাবী ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, জাকাত ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যা সমাজে ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধন করে। যথাযথভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ইসরাইলের পারমাণবিক শহরে ইরানের হামলা, আহত ৩৯

ছবি: সংগৃহীত। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধে ২২তম দিনে পরিস্থিতি আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই দিনে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের ...