Saturday, 16 May 2026

জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা ও আমল

 

জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা ও আমল

হিজরি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ মাস। এ মাস চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এটি হজের মাস, ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার মাস, প্রভুর সান্নিধ্য লাভের মাস। পবিত্র রমজান মাসের পর গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সময় হলো জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন। এই দিনগুলোর ইবাদত আল্লাহতায়ালার কাছে অতি প্রিয়।

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা পবিত্র কোরআন মজিদে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই দশকের রাতের শপথ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের।’ (সুরা আল-ফজর : ১-২) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও মুজাহিদ (রহ.)-সহ অনেক সাহাবি, তাবেয়ি ও মুফাসসির বলেন, এখানে ‘দশ রাত’ দ্বারা জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)




সুতরাং এই ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। এই ১০ দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে জিলহজ মাসের ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও এর চেয়ে উত্তম নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদের চেয়ে উত্তম যে নিজের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে। অতঃপর কোনো কিছু নিয়ে ঘরে ফিরে আসেনি।’ (সুনানে আবু দাউদ, সহিহ বুখারি, জামি তিরমিজি, সুনানে ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

অন্যত্র আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দুনিয়ার সর্বোত্তম দিনগুলো হলো, জিলহজ মাসের ১০ দিন। জিজ্ঞাসা করা হলো, আল্লাহর রাস্তায়ও কি তার সমতুল্য নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায়ও তার সমতুল্য নেই। তবে ওই ব্যক্তি যার চেহারা ধূলিযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শাহাদত লাভ করেছে।’ (মুসনাদে বাজ্জার, মুসনাদে আবু ইয়ালা, মাজমাউল জাওয়াইদ)

এসব বর্ণনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, জিলহজ মাসের প্রথম দশক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই একজন মুসলিমকে ইবাদতের এই সুবর্ণ সময়ের সদ্ব্যবহার করে অন্য সময়ের আমলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য প্রস্তুত হওয়া জরুরি। আক্ষেপের বিষয় হলো, পবিত্র কোরআন-হাদিসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া এই ইবাদতের সময় সম্পর্কে সমাজের খুব স্বল্পসংখ্যক মুসলিমই ধারণা রাখেন। জিলহজ মাসের প্রথম দশকের উল্লেখযোগ্য কিছু আমল হলো—

হাজিদের সাদৃশ্য হিসেবে চুল-নখ না কাটা : কোরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির এই ১০ দিন—নখ, চুলসহ শরীর থেকে কোনো কিছু না কাটা মুস্তাহাব। এ সম্পর্কে উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) বলছেন, ‘যে ব্যক্তি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখে এবং কোরবানির ইচ্ছা করে, সে যতক্ষণ কোরবানি না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন চুল বা নখ না কাটে।’ (সহিহ মুসলিম) এ আমল মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। ফিকাহবিদরা বলেছেন, কোরবানি করার আগে নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি না কাটার পেছনে হিকমত হচ্ছে হজযাত্রীদের সঙ্গে সাদৃশ্য করা। কারণ, তাদের ইহরাম অবস্থায় এসব কাটা নিষিদ্ধ।

তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা : জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখের আসর নামাজ পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। এটি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সব বালেগ পুরুষ, মহিলা, মুকিম, মুসাফির, গ্রামবাসী, শহরবাসী, জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায়কারী বা একাকী আদায়কারী প্রত্যেকের ওপর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা কর্তব্য। (ফাতাওয়ায়ে শামি, বাহরুর রায়েক)। পুরুষের জন্য তাকবিরে তাশরিক জোরে পড়া ওয়াজিব। আস্তে পড়লে তাকবির পড়ার হক আদায় হবে না। আর মহিলারা নিচু আওয়াজে—অর্থাৎ নিজে শুনতে পায় এমন আওয়াজে পড়বে। (রদ্দুল মুহতার, এলাউস সুনান)

তাকবিরে তাশরিক হলো—আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহ আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অধিক পরিমাণে জিকির করা : আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালার কাছে জিলহজ মাসের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই। সুতরাং, তোমরা এই দিনগুলোয় বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করো।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

আরাফার দিনে রোজা রাখা : আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি মনে করি, তার বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা এক বছর আগের এবং এক বছর পরের গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম) আরাফার দিন ছাড়াও ঈদের দিন ছাড়া প্রথম দশকের বাকি ৯ দিন রোজা রাখাকে মুস্তাহাব বলেছেন ইমাম নববি (রহ.)।

ঈদুল আজহার সালাত আদায় : ঈদের দিনের যাবতীয় সুন্নতগুলো পালনে সচেষ্ট হওয়া। জিলহজ মাসের দশম দিন ঈদুল আজহার সালাত প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যা ঈদগাহে গিয়ে আদায় করতে হয়। হজরত আবু সাঈদ (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) ঈদুল ফিতর এবং আজহাতে ঈদগাহে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি)

কোরবানি করা : এ দিনগুলোর দশম দিন ঈদের সালাতের পর সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহতায়ালা তার নবীকে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো।’ (সুরা আল-কাউসার : ২)

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে জিলহজ মাসের প্রথম দশকের মর্যাদার প্রতি লক্ষ রেখে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন!

ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

 

ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভোজশালা কমপ্লেক্সের বিতর্কিত স্থানকে সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।





আদালত বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে এই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিতর্কিত এলাকাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল।’

আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায় ভোজশালাকে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতীর মন্দির বলে মনে করে। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ দাবি করে যে এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

২০০৩ সালের এএসআই চুক্তি অনুসারে, হিন্দু ও মুসলমানরা যথাক্রমে মঙ্গলবার ও শুক্রবার এখানে প্রার্থনা করে থাকেন।

হিন্দু পক্ষ এই আদেশকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে।

হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১১ মার্চ এএসআইকে ভোজশালা মন্দির-কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

এএসআই সেই বছরের ২২ মার্চ সমীক্ষা শুরু করে এবং ৯৮ দিনব্যাপী একটি বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই এর বৈজ্ঞানিক জরিপের সময় প্রাপ্ত মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপি প্রমাণ করে যে এই চত্বরটি মূলত একটি মন্দির ছিল।

তবে, মুসলিম পক্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি

চীনের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানাল ইরান, আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় ওয়াশিংটন

 

চীনের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানাল ইরান, আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় ওয়াশিংটন

ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় , চীনের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানাল ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একইসঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান সংকট নিরসনে চীনের যেকোনো মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক সহায়তাকে ইরান স্বাগত জানাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।





আরাগচি বলেন, আমরা আবারও মার্কিনিদের কাছ থেকে বার্তা পেয়েছি যে তারা আলোচনা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ চালিয়ে যেতে চায়।

শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

আরাগচি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইরানের যুদ্ধের সময় সামরিক সহায়তা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, তিনি বলেন, আমরা যেকোনো দেশের সহায়তাকে স্বাগত জানাই, বিশেষ করে চীনকে।

আরাগচি বলেন, চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই চীন যদি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে, সেটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান স্বাগত জানাবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং দ্রুত সমাধান খোঁজা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থেও জরুরি।

আরাগচি জানান, পাকিস্তান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় ভূমিকা পালন করছে, তবে প্রথম দফা আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

Friday, 15 May 2026

নফল তাওয়াফের নিয়ম ও ফজিলত

 

নফল তাওয়াফের নিয়ম ও ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত

হজ ও ওমরার ক্ষেত্রে তাওয়াফ করা বাধ্যতামূলক হলেও এর বাইরে ‘নফল তাওয়াফ’ করার সুযোগ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।

মসজিদুল হারামে অবস্থানকালে যে কেউ যেকোনো সময় নফল তাওয়াফ করতে পারেন। হজ বা ওমরার মতো এর জন্য ইহরাম বাঁধার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।





মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ক্ষমা প্রার্থনা এবং রহমত লাভের উদ্দেশ্যেই এই ইবাদত করা হয়। মক্কায় অবস্থানকালীন অবসরে নফল তাওয়াফ সওয়াব অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম।

নফল তাওয়াফ কী

ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদতের বাইরে নিজের ইচ্ছায় যে তাওয়াফ করা হয় তাকেই নফল তাওয়াফ বলে। যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তাদের জন্য নফল তাওয়াফ অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

এই তাওয়াফে ইহরাম পরতে হয় না এবং তাওয়াফ শেষে সাঈ (সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌঁড়ানো) করারও প্রয়োজন নেই। শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী দিনে যতবার খুশি নফল তাওয়াফ করা যায়।

নফল তাওয়াফের নিয়ম

নফল তাওয়াফ করা অত্যন্ত সহজ। এর ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • নিয়ত করা: প্রথমেই মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নফল তাওয়াফের নিয়ত করতে হবে।
  • অজু করা: তাওয়াফ করার জন্য অবশ্যই অজু অবস্থায় থাকতে হবে।
  • শালীন পোশাক:পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরতে হবে। তবে ইহরাম জরুরি নয়।
  • শুরু ও শেষ: হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরকে সামনে রেখে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। সাতবার প্রদক্ষিণ করলে একটি তাওয়াফ পূর্ণ হয়।
  • দোয়া ও জিকির: তাওয়াফকালে যেকোনো দোয়া, জিকির বা কোরআন তেলাওয়াত করা যায়। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাও যায়।
  • নামাজ ও জমজম: সাত চক্কর শেষ করার পর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এরপর জমজমের পানি পান করে দোয়া করা উত্তম।

নফল তাওয়াফের ফজিলত

নফল তাওয়াফের প্রতিটি কদমে সওয়াব রয়েছে। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। অনেক আলেমদের মতে, একবার তাওয়াফ করা একটি পূর্ণ সালাত বা নামাজের সমান সওয়াব হয়।

তাওয়াফ মনকে শান্ত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ

 

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ
ছবি: সংগৃহীত

ওমানের উপকূলে একটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনার পর সেটি ডুবে গেছে বলে দাবি করেছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, অজ্ঞাত হামলাকারীর হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির নাম ছিল এমএসভি হাজ আলি। ১৪ জন নাবিক নিয়ে এটি সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন সোমালিল্যান্ড অঞ্চলের বারবেরা বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় গবাদি পশু পরিবহন করছিল।





সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে ওমানের লিমা উপকূলের কাছে একটি “সন্দেহজনক বিস্ফোরণ” ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফল হতে পারে।

বিস্ফোরণের পর জাহাজটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে জাহাজটি ডুবে যায় বলে জানায় ভ্যানগার্ড।

জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিটাইম ট্র্যাফিকের তালিকা অনুযায়ী, এমএসভি হাজ আলি ছিল ৫৪ মিটার (১৭৭ ফুট) দীর্ঘ একটি কাঠের ধো নৌকা।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, জাহাজে থাকা সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

 স্টাফ রিপোর্টার

ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারি ৭দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসের জন্য ছুটির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি ৪ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।





প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঈদের সাধারণ ছুটি আগামী ২৫ মে (সোমবার) হতে ৩১ মে (রবিবার) পর্যন্ত সকল অফিস বন্ধ থাকবে।

এছাড়া ছুটির আগের কর্মদিবস ২৩ মে (শনিবার) এবং ২৪ মে (রবিবার) অফিসসমূহ যথারীতি খোলা থাকবে।

জরুরি পরিষেবা ও আওতামুক্ত খাতসমূহ:

নির্দিষ্ট কিছু জরুরি সেবা এবং খাত এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে, যাতে জনজীবন সচল থাকে। এর মধ্যে রয়েছে: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা ।

ডাক সেবা এবং এসব জরুরি সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন।

এছাড়াও চিকিৎসা সেবা: হাসপাতাল, জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরাও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

জরুরি কাজ: সরকারি অন্যান্য জরুরি কাজের সাথে সম্পৃক্ত অফিসগুলোও খোলা থাকবে।

বিশেষ খাতের জন্য নির্দেশনা:

কিছু বিশেষ খাতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে নির্দেশনা প্রদান করবে। এর মধ্যে ব্যাংক কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

বিচার বিভাগ আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার সাধারণ ছুটির বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দিকনির্দেশনা দেবে।

জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা ও আমল

  হিজরি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ মাস। এ মাস চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এটি হজের মাস, ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার মাস, প্রভুর সান্নিধ...