Saturday, 4 April 2026

হরমুজ খুলতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, নয়তো নরক নেমে আসবে: ট্রাম্প

হরমুজ খুলতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, নয়তো নরক নেমে আসবে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত।

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর না খুললে ইরানে নরক নেমে আসার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই আলটিমেটাম দেন। তিনি লেখেন, ‘আমি যখন ইরানকে ১০ দিনের মধ্যে চুক্তি করতে বা হরমুজ প্রণালী খুলতে বলেছিলাম—তা মনে রাখুন। সময় ফুরিয়ে আসছে। আর ৪৮ ঘণ্টা—এরপর তাদের ওপর নেমে আসবে ভয়াবহ পরিণতি।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। বিশেষ করে ইরান আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে।

তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ ছাড়া অন্যদের জন্য এই জলপথ উন্মুক্ত থাকবে।

বিলাসী জীবন বয়ে আনে অশুভ পরিণাম

 

বিলাসী জীবন বয়ে আনে অশুভ পরিণাম

ভোগ-বিলাসিতা ভালো নয়। এর পরিণাম ভালো হয় না। মানব চরিত্রে যেসব খারাপ দিক আছে, তার মধ্যে লোভ মারাত্মক ক্ষতিকারক। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, কলহ-বিবাদ প্রভৃতি মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনকে অত্যন্ত বিষময় করে তোলে। এতে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। লোভ-লালসার প্রকৃতিতে আত্মসমর্পণ করে অন্যায়ভাবে অন্যের ধন-সম্পত্ত আত্মসাৎ করা এবং মানুষের মান-সম্মান ধূলিসাৎ, এমনকি অন্যদের হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না। তাই ইসলামে লোভকে নিন্দা করা হয়েছে। কাব ইবনে মালিক আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছাগলের পালে ছেড়ে দেওয়া হলে তা যতটুকু না ক্ষতি করে, কারো সম্পদ ও প্রতিপত্তির লোভ এর চেয়েও বেশি ক্ষতি করে তার ধর্মের।’ (তিরমিজি : ২৩৭৬)

পক্ষান্তরে এমন কিছু গুণ রয়েছে, যার ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহর রাসুল (সা.) ঈর্ষা করেছেন। এই লোকদের ব্যাপারে রাসুল (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন। যারা সততা ও বিদ্বানের আকাশে এমন নক্ষত্র, যাদের আলোকরশ্মি সবাইকে সমান আলো বিলায়। জগতের সব মানুষই তাদের দ্বারা উপকৃত হয়, কিন্তু তাদের নাম কারো জানা থাকে না। এসব গুণিজন নীরবে-নির্জনে কাজ করে যায়। যশ-খ্যাতি থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যায়। তাদের রেখে যাওয়া অমূল্য জিনিস থেকে দুনিয়ার মানুষ যুগ যুগ ধরে উপকৃত হতে থাকে। নিজের যত সুখ্যাতি আছে, সবকিছু চুপিসারে অন্যের জন্য রেখে যায়। সে এ কল্পনা করে নিজে প্রশান্তি লাভ করে আমি যা করেছি এর খুঁটিনাটি সম্পর্কে তিনিই জানেন, যার জন্য এ কাজ করা হয়েছে। অন্যরা না জানলেও তার কোনো সমস্যা নেই। যাদের দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ কম। দুনিয়ার জন্য তার অনেক সম্পদ নেই, কোনোমতে অল্পস্বল্প চলার পাথেয় নিয়ে সে সন্তুষ্ট থাকে। যখন যা থাকে তা নিয়ে সে সন্তুষ্ট। বেজায় খুশি মনে সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতায় লুটিয়ে পড়ে। তারা যখন দুনিয়া থেকে চলে যায়, তখন তাদের স্মরণে কোনো শোকসভার আয়োজন করা হয় না। তারা দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় একদম সাদামাটাভাবে, যেন কেউ টেরই পায় না।

এদের কথাই হাদিসে এভাবে এসেছে। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষণীয় হলো সেই মুমিন ব্যক্তি, যার অবস্থা খুবই হালকা (স্বল্প সম্পদ এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যাও কম) এবং যে নামাজে মনোযোগী, সুচারুরূপে তার প্রভুর ইবাদত করে, একান্ত নিভৃতেও তার অনুগত থাকে, মানুষের মধ্যে অখ্যাত, তারদিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয় না, আর ন্যূনতম প্রয়োজনমাফিক তার রিজিক এবং তাতেই ধৈর্য ধারণকারী। তারপর রাসুল (সা.) তার দুই হাতের ইঙ্গিতে বলেন, শিগগিরই তার মৃত্যু হয়, তার জন্য ক্রন্দনকারীর সংখ্যাও কম, তার রেখে যাওয়া সম্পদও খুব সামান্য।’ (তিরমিজি : ২৩৪৭)

আমাদের প্রিয়নবী (সা.) দরিদ্রতা পছন্দ করতেন, দরিদ্রদের ভালোবাসতেন এবং তাদের সঙ্গে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) দোয়া করে বলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দরিদ্র অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখো, দরিদ্র থাকা অবস্থায় মৃত্যু দিও এবং কিয়ামত দিবসে দরিদ্রদের দলভুক্ত করে হাশর করো।’ এ কথা শুনে আয়েশা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন বলছেন কেন? তিনি বললেন, হে আয়েশা! তারা তো তাদের সম্পদশালীদের চেয়ে চল্লিশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা। তুমি প্রার্থনাকারী দরিদ্রকে ফিরিয়ে দিও না। যদি দেওয়ার মতো কিছু তোমার কাছে না থাকে, তা হলে একটি খেজুরের টুকরা হলেও তাকে দিও। হে আয়েশা! তুমি দরিদ্রদের ভালোবাসবে এবং তাদের তোমার সান্নিধ্যে রাখবে। তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তোমাকে তার সান্নিধ্যে রাখবেন। (তিরমিজি : ২৩৫২)

আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) তো দরিদ্র ছিলেন। তবে এ দরিদ্রতায় ছিল না কোনো মুখাপেক্ষিতা। ছিল শুধু সম্পদের প্রতি অমুখাপেক্ষিতা। আর এই অমুখাপেক্ষিতাই ছিল তার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য, যা বড় বড় রাজা-বাদশাহরও ছিল না। আমাদের মনে রাখা উচিত, আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজি (সা.)-এর ওফাতের সময় তার বাড়িতে মাত্র সাতটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। অথচ তিনি তাও গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার অসিয়ত করে গেছেন এবং বলেছেন, ‘আমার লজ্জা হচ্ছে, ঘরে পার্থিব সম্পদ রেখে আল্লাহর রাসুল আল্লাহর সান্নিধ্যে যাব।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২৪২২২)

হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে প্রিয় নবীজি (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে অনুধাবন ও অনুসরণের তওফিক দান করুন।

আফগানিস্তানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮ জন নিহত, কাঁপল ভারত-পাকিস্তানও

 

আফগানিস্তানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮ জন নিহত, কাঁপল ভারত-পাকিস্তানও

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শুক্রবার রাতে ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি বাড়ি ধসে কমপক্ষে ৮ জন নিহত ও এক শিশু আহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিএফজেড) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৩ মিনিটে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ১৭৭ কিলোমিটার (১১০ মাইল) গভীরে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা র‍ইয়টার্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন অংশ ছাড়াও পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এবং ভারতের নয়াদিল্লি-তে কম্পন অনুভূত হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.১ পরিমাপ করেছে। ইসলামাবাদ, পাঞ্জাবের কিছু এলাকা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া, গিলগিট-বাল্টিস্তান, আজাদ জম্মু-কাশ্মির এবং ভারত-শাসিত কাশ্মীরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

আফগানিস্তান একটি দুর্গম পর্বতমালা বেষ্টিত দেশ, বিশেষ করে হিন্দুকুশ অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি। এই অঞ্চলে ইউরেশিয়ান ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট মিলিত হওয়ার কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫৬০ জন মানুষ ভূমিকম্পে প্রাণ হারান। গত বছরের নভেম্বরে আঘাত হানা ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৭ জন নিহত ও শত শত বাড়ি ধ্বংস হয়। ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পূর্বাঞ্চলে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন, যা সাম্প্রতিক আফগান ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে ধরা হয়।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় শক্তি প্রয়োগ প্রস্তাবের ভোট স্থগিত


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় শক্তি প্রয়োগ প্রস্তাবের ভোট স্থগিত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোট স্থগিত করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

১৫ সদস্যের এই পরিষদের শুক্রবার সকালে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতেই সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে এএফপি জানায়, ‘গুড ফ্রাইডে’ উপলক্ষে জাতিসংঘে সরকারি ছুটি থাকায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে—যদিও ভোট ঘোষণার সময়ই বিষয়টি জানা ছিল।

খসড়া প্রস্তাবে ভোটের নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

জাতিসংঘে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আলরোওয়াই এই সপ্তাহে বলেন, ‘আমাদের অঞ্চল ও বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলছে, এ ধরনের অর্থনৈতিক সন্ত্রাস আমরা মেনে নিতে পারি না।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া এই প্রস্তাবটি ‘গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে’ এসেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলোকে ‘নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করতে’ বলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে সহায়তা করবে না বলে জানান।

এএফপি-র দেখা সর্বশেষ ষষ্ঠ খসড়া অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এককভাবে বা ‘স্বেচ্ছাসেবী বহুজাতিক নৌ-জোট’ গঠন করে পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের জলসীমায় প্রযোজ্য হবে, যাতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা যায় এবং প্রণালী বন্ধ বা বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টা প্রতিহত করা যায়।

প্রস্তাবটি অন্তত ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকার কথা।

রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের সংশয় দূর করতে খসড়াটি একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে।

নতুন ভাষায় জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের সরাসরি উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

সংশোধিত প্রস্তাবে যেকোনো পদক্ষেপের প্রতিরক্ষামূলক চরিত্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা ফ্রান্সের উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি’

জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ বলেন, মার্চে ইরানের প্রণালি অবরোধের নিন্দা জানানো প্রস্তাব পাসের পর এখন ‘প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ দ্রুত নির্ধারণ করা পরিষদের দায়িত্ব’।

তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগে বলেছেন, এই প্রণালি খুলতে সামরিক অভিযান ‘বাস্তবসম্মত নয়’।

রাশিয়া ও চীন—যাদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে—এই প্রস্তাব সমর্থন করবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, ‘শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া মানে অবৈধ ও নির্বিচার শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দেওয়া, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।’

ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়াও একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল ফোর্তি বলেন, সম্ভাব্য ভেটোর কারণে এই প্রস্তাবের পাস হওয়া ‘খুবই কঠিন’।

তিনি বলেন, ‘প্রণালির স্থিতিশীলতাকে কেবল নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখলে চলবে না; টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।’

সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বর্তমানে এর প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল, এলএনজি ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন খুবই বিরল ঘটনা।

১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটকে ইরাকে সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ২০১১ সালে লিবিয়ায় ন্যাটোর হস্তক্ষেপের অনুমোদনও এ পরিষদ দিয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুতিন–এরদোয়ানের

 

মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুতিন–এরদোয়ানের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। ফাইল ছবি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার এক ফোনালাপে তারা এই আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা এমন একটি সমঝোতাভিত্তিক শান্তিচুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন, যা অঞ্চলের সব দেশের “বৈধ স্বার্থ” বিবেচনায় নেবে।

প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যা পরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কোটি মানুষের জীবনে পড়েছে।

ক্রেমলিন সতর্ক করে জানিয়েছে, চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়।

ফোনালাপে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করেন ভ্লাদিমির পুতিন ও রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এ সময় রাশিয়া অভিযোগ করে, ইউক্রেন রাশিয়া ও তুরস্ককে সংযুক্ত করা গ্যাস পরিবহন অবকাঠামোতে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাশিয়ার জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তুর্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনের একটি অংশে ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া এবং সার্বিয়াসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গ্যাস পেয়ে থাকে।

রাশিয়া একাধিকবার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলার অভিযোগ তুলেছে, সর্বশেষ মার্চ মাসে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে, যাতে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা যায়।

২০২২ সালে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে লাখো মানুষ বিদ্যুৎ ও তাপ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

Friday, 3 April 2026

ভূমিকম্প হলে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী (সা.)


ভূমিকম্প হলে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী (সা.)

মহান আল্লাহ তাআলা ইসলামের মধ্যে সবকিছুর সমাধান রেখেছেন । আর এসব দিকনির্দেশনার জন্য রয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআন। ভূমিকম্প, মেঘের গর্জন, ঝড়-তুফান মহান আল্লাহ তাআলার মহাশক্তির এক ছোট নিদর্শন। রাসূল (সা.) তার উম্মতকে যেকোনো দুর্যোগের সময় এবং বিপদে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে বলেছেন।

রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া তিনবার পড়বে, সে ভূমি ও আকাশের দুর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকবে।

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদুর`রু মা`আস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামি`ই ওয়াহুয়া সামি`য়ুল আলিম।

ভূমিকম্প হওয়ার সময় মাটির দিকে বা নিচের দিকে তাকিয়ে ‘আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা শারিকালাহু, ফাবি আইয়্যে আ’লাঈ রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান’ পড়তে থাকবেন যতক্ষণ ভূমিকম্প শেষ না হয়।

এ ছাড়া দুর্যোগের সময় আরও যে দোয়া পড়তে পারেন।

উচ্চারণ: আন্তা ওয়ালিয়্যুনা ফাগফিরলানা ওয়ার হামনা, ওয়া আন্তা খইরুল গাফিরিন।

অর্থ – হে আল্লাহ, আপনি যে আমাদের রক্ষক- সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের ওপর করুনা করুন। তাছাড়া আপনিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। [সুরা আরাফ, আয়াত ১৫৫]

হরমুজ খুলতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, নয়তো নরক নেমে আসবে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর না খুললে ...