Thursday, 26 February 2026

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য

 

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য


আজ নবম তারাবিতে সূরা হুদ এবং সূরা ইউসুফ (১-৫২) পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১২তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশেরবিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো ১১. সূরা হুদ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১২৩, রুকু ১০) প্রথম পাঁচ আয়াত ব্যতীত সূরা হুদ পুরোটাই এই পারায়।

সূরাটির সূচনাপর্বে কোরআনের আজমত ও বড়ত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। শব্দ, ভাষা, অর্থ সবদিক দিয়েই পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য। তার বর্ণনায় কোনো বিরোধ নেই, কোনো কিছুই অযৌক্তিক এবং বাস্তব বিরুদ্ধ নয়। এর অনুপম ভাষা এবং বর্ণনাধারা, অলৌকিক সাবলীলতা এবং প্রাঞ্জলতায় কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই।

কোরআনের প্রতিটি তত্ত্ব এবং তথ্য অকাট্য, কালের পরিবর্তনে তাতে চিড় ধরার সম্ভাবনা মাত্র নেই, রোজ কেয়ামত পর্যন্ত এর সার্থকতা, উপাদেয়তা এবং প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। (১-৫)।কোরআনের আজমত বর্ণনার পর তাওহিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর একত্ববাদের বিভিন্ন প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। (৬-১২)। যারা বলে, কোরআন মানব রচিত, তাদেরকে কোরআনের অনুরূপ কিছু বানিয়ে দেখানোর জন্য চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। (১৩)। কিন্তু কখনোই কাফেররা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারেনি এবং কেয়ামত পর্যন্তও পারবে না। কাফেররদের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে অন্ধ ও বধিরের সঙ্গে, আর ঈমানদারদের উপমা দেওয়া হয়েছে চক্ষুষ্মান ও শ্রবণসম্পন্ন ব্যক্তির সাথে।(১৫-২৪)।

কোরআনের সত্যতা এবং তাওহিদ ও রিসালতের বাস্তবতার প্রমাণ উল্লেখের পর হজরত নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব, মুসা এবং হারুন (আ.) এর কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত এই ঘটনাগুলো বর্ণনার একটি উদ্দেশ্য হল নবী মুহাম্মদ (সা.) এর ওহির সত্যতা এবং কোরআনের চির সত্য হওয়ার প্রমাণ পেশ করা।

সূরায় নবীদের ঘটনা আলোচনা প্রসঙ্গে হজরত নুহ (আ.) এর ঘটনা বর্ণনার পর বলা হয়েছে, এসব ঘটনা অদৃশ্যের সংবাদের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমাকে ওহির মাধ্যমে জানাচ্ছি। ইতঃপূর্বে না তুমি জানতে এগুলো, আর না জানত তোমার জাতি। সুতরাং সবর করো, মুত্তাকিদের পরিণতি ভালোই হয়। (৪৯)।

নবীদের ঘটনাগুলোয় বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য রয়েছে অসংখ্য উপদেশ, আর রয়েছে নবীজি (সা.) এবং মুখলিস ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য সান্ত্বনা ও দৃঢ়তার সবক। তাই ঘটনাগুলোর বর্ণনা প্রসঙ্গে নবীজি ও তার উম্মতকে দ্বীনের ওপর ইস্তেকামাত ও জমে থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। (১১২)। বস্তুত ইস্তেকামাত এমন এক হুকুম, যার সম্পর্ক আকিদা-বিশ্বাস, কথা-কাজ এবং আখলাক-চরিত্র সবকিছুর সঙ্গে। ইস্তেকামাত অর্থ হলো সারা জীবন সেই শিক্ষার আলোকে চলা, যেভাবে চলার নির্দেশনা আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। ইস্তেকামাতই হলো আসল কারামাত। ইস্তেকামাতের চেয়ে বড় কোনো কারামাত আর হতে পারে না।মুসা (আ.) এর ঘটনা আলোচনা প্রসঙ্গে গোনাহ ও নাফরমানির ব্যাপারে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না। (১০২-১০৩)। মূলত গোনাহ, সীমাতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং মন্দ কাজে বাধা না দেওয়ার কারণেই জাতীয় জীবনে বিপর্যয় এবং আল্লাহর আজাব নেমে আসে।(১১৬)।

পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন কাহিনী আলোচনার কী উদ্দেশ্য সে বিষয়ে আলোকপাতের মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।১২. সূরা ইউসুফ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১১, রুকু ১২) সূরার নামই বলে দেয়, সূরায় হজরত ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা বিবৃত হয়েছে। খোদ কোরআন ইউসুফ (আ.) এর ঘটনাকে ‘আহসানুল কাসাস’ তথা সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে। ঘটনাটিতে প্রচুর শিক্ষা ও নসিহত রয়েছে। নবী ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা এতই প্রসিদ্ধ যে, প্রকৃত মুসলিম পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাও তা জানে। সূরা ইউসুফের যে অংশটুকু আজ পড়া হবে তার সারসংক্ষেপ হলঃ-হজরত ইয়াকুব (আ.) এর বারো সন্তান ছিল। এদের মধ্যে ইউসুফ ছিলেন অস্বাভাবিক সৌন্দর্যের অধিকারী, বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও দৈহিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আচার-ব্যবহারেও তিনি ছিলেন অনন্য। তাই বাবার কাছেও ছিলেন সবচেয়ে আদরের।

মহব্বতের একটি কারণ এ-ও ছিল, ইউসুফ শৈশবে একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখেন, যা ছিল তার নবী হওয়ার পূর্বাভাষ। তাছাড়া ইউসুফ ও তার ভাই বিনয়ামিন ছিলেন সবার ছোট, আর তাদের মায়েরও ইন্তেকাল হয়ে গিয়েছিল। বাবা ইয়াকুব (আ.) এর এই স্বভাবজাত মহব্বত ভাইয়েরা সহ্য করতে পারেনি, তারা হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। বিনোদনের কথা বলে একদিন তারা ইউসুফ (আ.) কে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি কূপে তাকে ফেলে দেয়।

সেই পথ দিয়ে একটি কাফেলা যাচ্ছিল, পানির প্রয়োজনে তারা কূপের সামনে যায়, বালতি নিচে ফেলার পর বালতি ওঠানো মাত্রই ফুটফুটে সুন্দর ইউসুফকে দেখতে পায়। কাফেলার লোকরা মিশরে পৌঁছে ইউসুফকে বিক্রি করে দেয়।মিশরের আজিজ ইউসুফকে কিনে নিজের ঘরে নিয়ে যান। ধীরে ধীরে ইউসুফ বড় হন, যৌবনে পদারপর্ণ করেন। একসময় আজিজে মিশরের স্ত্রী ইউসুফের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। সে ইউসুফকে খারাপ কাজের প্রতি আহ্বান করে, ইউসুফ (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজপরিবার বদনাম থেকে বাঁচার জন্য ইউসুফকে জেলে নিক্ষেপ করে। জেলের কুঠুরিতেও তাওহিদের দাওয়াত অব্যাহত থাকে, বন্দীদের অনেকেই তার হাতে মুসলমান হন।সে সময় তৎকালীন বাদশা একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফ সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা বলে দেন। ইউসুফের প্রতি বাদশাহর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। বাদশা ইউসুফকে সে দেশের অর্থ বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দেন এবং তাকে নিজের উজির বানিয়ে নেন। (৩-৫২)।

মসজিদে নববির শিক্ষক আবদুল্লাহর ইন্তেকাল

 

মসজিদে নববির শিক্ষক আবদুল্লাহর ইন্তেকাল

সৌদি আরবের পবিত্র মদিনার মসজিদে নববিতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পবিত্র কোরআন ও দশ কেরাতের পাঠদানকারী প্রখ্যাত শিক্ষক শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে মদিনার আলেম সমাজ ও অগণিত ছাত্রের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মরহুম শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি এমন এক সময় থেকে মসজিদে নববিতে দরস (পাঠদান) দিতেন, যখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। সে সময় মসজিদে নববির মেঝেতে কোনো কার্পেট ছিল না; ছিল কেবল কাঁকর বিছানো প্রাঙ্গণ। প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি নিষ্ঠার সাথে তাঁর জ্ঞান বিতরণের কাজ চালিয়ে গেছেন।

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা জীবনে তিনি কখনোই পাঠদান থেকে বিরত থাকেননি। তাঁর জীবনের কর্তব্যনিষ্ঠার একটি বিরল উদাহরণ মদিনায় বহুল আলোচিত- একবার তাঁর আপন বোনের ইন্তেকালের দিন কেবল তিনি কিছুটা সময় বিরতি নিয়েছিলেন। বোনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেই তিনি পুনরায় ছাত্রদের কাছে ফিরে আসেন এবং নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যান। পবিত্র কোরআনের প্রতি এমন গভীর ভালোবাসা ও একনিষ্ঠ সাধনা তাঁকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে।

তার কাছে শিক্ষাগ্রহণ করে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ছাত্র পরবর্তীতে পবিত্র কোরআনের হাফেজ, শিক্ষক ও দাঈ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার এই শিক্ষার ধারা ছড়িয়ে পড়েছে।

মরহুমের জানাজা শেষে তাকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২০

 

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২০


পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত দুই দিনের হামলায় নিহত হয়েছে তারা। এছাড়া দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।

একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় ১৫ পুলিশ সদস্য ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।’ ওই কর্মকর্তা জানান, আরো দুই পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে, তারা এখনো নিখোঁজ।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বেশির ভাগ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পার্শ্ববর্তী বেলুচিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ভারতীয় মদতপুষ্ট অন্তত ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় প্রক্সি বাহিনী ফিতনা আল-খারিজ এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তানকে নির্মূল করা।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় চারটি পৃথক সংঘর্ষে ফিতনা আল-খারিজের ২৬ সন্ত্রাসী নিহত হয়। আর বেলুচিস্তানের সাম্বাজায় একটি অভিযানে ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের আট সন্ত্রাসী নিহত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিহত একজনকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।’

আইএসপিআর জানিয়েছে, লাক্কি মারওয়াত জেলায়ও অভিযান চালানো হয়েছে। তীব্র গুলিবিনিময়ের পর সেখানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়।

একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা আরো জানায়, বান্নু জেলার নর্মি খেল এলাকায় দুটি পৃথক অভিযানে ১০ জন নিহত হয়। এছাড়া উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মীর আলি জেলায় নিহত হয় ১২ জন। সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয় বলেও জানায় আইএসপিআর।

ইরান সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান শিকার: পেজেশকিয়ান

 

ইরান সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান শিকার: পেজেশকিয়ান


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান শিকার তার দেশ। বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক সফরের সময় তিনি বলেন, দেশটিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হামলায় তাদের অসংখ্য কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

এরআগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, ইরান বিশ্ব ‘সন্ত্রাসবাদের বৃহত্তম পৃষ্ঠপোষক’।

এর প্রতিক্রিয়ায় পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যদি বাস্তবতাকে ন্যায্যভাবে দেখা হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে ইরান কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরোধীই নয়, বরং এই অঞ্চল এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান শিকার।’

তার দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরোধী বলেও এসময় জানান তিনি। বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছেন, এর স্পষ্ট অর্থ হলো তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

২০০০ সালের গোড়ার দিকে একটি ফতোয়া বা ধর্মীয় ডিক্রিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করেছিলেন খামেনি।

ইরান আলোচনার মাঝেই ক্রিট ঘাঁটি ত্যাগ বৃহত্তম মার্কিন রণতরীর

 

ইরান আলোচনার মাঝেই ক্রিট ঘাঁটি ত্যাগ বৃহত্তম মার্কিন রণতরীর
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে সৌদা উপসাগর ত্যাগ করছে, ২৬শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স।

ইরানের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য পাঠানো বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরের ক্রিট নৌঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির এক আলোকচিত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে জেনেভায় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার একটি নতুন দফা শুরু হওয়ার পরই এর নৌঘাঁটি ত্যাগ করল ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।

জাহাজটি সোমবার থেকে ক্রিটের ইউএস নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি সউদা বে ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। এথেন্সে মার্কিন দূতাবাস রণতরির উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বারবার তেহরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরানের কর্মসূচি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে—একটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, ৯টি ডেস্ট্রয়ার এবং আরো তিনটি যুদ্ধজাহাজ।

Tuesday, 24 February 2026

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

আজ সপ্তম তারাবিতে সূরা আনফাল (৪১-৭৫) এবং সূরা তাওবা (১-৯৩) আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে দশম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো।

৮. সূরা আনফাল (৪১-৭৫)

দশম পারার শুরুতে গনিমতের সম্পদ বণ্টননীতি প্রসঙ্গে আলোচনার পর বদরযুদ্ধের আলোচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বদর যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বদর যুদ্ধে শয়তানের ভূমিকা এবং কাফেরদেরকে ফেরেশতাদের পিটুনি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। জিহাদের জন্য আত্মিক বল ও রুহানি শক্তি অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য যুদ্ধের ময়দানে অটল অবস্থান, বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য, মতভেদ ও অহংকার পরিহার এবং ধৈর্য ধারণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় জীবনে উত্থান-পতনের মূলনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। বদরযুদ্ধের বন্দি সমস্যা ও সমাধান বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। আনসার, মুজাহির এবং মুজাহিদদের পুরস্কার ও মর্যাদার আলোচনা করে সূরাটির সমাপ্তি ঘটেছে।

এই সূরার সূচনা হয়েছিল জিহাদ ও গনিমতের আলোচনা দিয়ে, আর সমাপ্তিও হয়েছে সাহায্য-সহযোগিতা ও জিহাদের আলোচনার মাধ্যমে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সূরাটিতে জিহাদের আলোচনাই ছিল প্রধান বিষয়। (৪১-৭৫)।

৯. সূরা তওবা (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ১২৯, রুকু ১৬)

আলোচ্য সূরার প্রথম শব্দটি হলো ‘বারাআত’, অর্থ নিঃসম্পর্ক হওয়া। সূরাটি নবম হিজরির ওই সময় অবতীর্ণ হয়েছে, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) রোমানদের শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলেন। এটি গাজওয়া তাবুক নামে পরিচিত। সূরা তওবায় মৌলিকভাবে দুটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছেঃ ১. মুশরিক ও আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে জিহাদের বিধানাবলি বর্ণনা এবং ২. গাজওয়া তাবুকের প্রেক্ষাপটে মোনাফেকদের মুখোশ উন্মোচন। জিহাদের বিধান বর্ণনার আগে ভূমিকাস্বরূপ বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অমুসলিমদের সঙ্গে মুসলমানদের সব সম্পর্ক ও চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। মুশরিকদের কাবা শরিফ ঘিরে হজ-ওমরা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ তারা অপবিত্র, কয়েকবার তারা চুক্তিভঙ্গ করেছে, ইসলামের অব্যাহত অগ্রযাত্রা রোধ করার জন্য ইহুদিদের সঙ্গে তারা জোট করেছিল।

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা, তার রাসুল ও জিহদের চেয়ে কোনো কিছু যেন মুসলমানদের কাছে বেশি প্রিয় না হয়- এ ব্যাপারে খুব তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। মুশরিকদের থেকে সম্পর্কোচ্ছেদের পাশাপাশি আহলে কিতাব তথা ইহুদী খৃস্টানদের কূটচক্রান্ত, ধোঁকা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, কপটতা এবং মিথ্যা সহ তাদের যাবতীয় মন্দ দোষের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, লড়াই করো ওদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে না, হারামকে হারাম মনে করে না এবং সত্য ধর্মের অনুসরণ করে না; তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাও, যতক্ষণ না তারা লাঞ্চিত হয়ে নিজ হাতে জিযিয়া প্রদান করে।(২৯-৪৯)।

সূরাটির অন্যতম একটি বিষয় হলো, মোনাফেকদের মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া। সে হিসেবে এ সূরার আরেকটি নাম ‘সূরাতুল ফাজিহাহ’ তথা লাঞ্ছনাকারী সূরা। এ সূরা নাজিল হওয়ার আগে মোনাফেকরা নিজেদের মুসলমান দাবি করত; কিন্তু আড়ালে কুফর গোপন রাখত। যাদের মনে কুফর আছে তাদের গোপন অবস্থা এ সূরা এমনভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে যে, কারও আর অজানা থাকেনি, কে মোনাফেক আর কে মুখলিস মোমিন। মোনাফেকদের দুর্বলতা ও গোপন দোষগুলো প্রকাশের বাহ্যিক কারণ ছিল তাবুক যুদ্ধ। স্বভাবতই জিহাদ প্রাণের ঝুঁকিসংকুল ইবাদত। গাজওয়া তাবুক ছিল বস্তুগত বিচারে সময়ের সবচেয়ে বড় শক্তির বিরুদ্ধে মোকাবিলা, তাও আবার যুগপৎ প্রচণ্ড গরম ও অভাব-দারিদ্র্যের দিনে। এই গাজওয়ার প্রেক্ষাপটে মোনাফেকদের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়ে যায়। সে সময় মোনাফেকদের যে আচরণ প্রকাশ পেয়েছিল তা সব যুগের সকল মোনাফেকের চিত্র। আমি খাঁটি মুসলমান কি না যাচাইয়ের পথ হলো, আমার মধ্যে মোনাফেকদের এ দোষগুলো নেই তো!

গাজওয়া তাবুকের প্রেক্ষাপটে মোনাফেকদের যে দোষগুলো প্রকাশ পেয়েছিল সেগুলো হলঃ- মিথ্যা অজুহাত পেশ করা (৪২), হিলা-বাহনা (৪৪-৪৬), হাস্যকর আপত্তির কথা বলে নিজেদের জন্য জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি আদায় (৪৯), মুসলিম সমাজে মাঝে অনিষ্ট ছড়ানো (৪৭), মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বিদ্বেষ, মুসলমানদের বিপদে আনন্দ প্রকাশ (৫০), মিথ্যা শপথ (৫৬), সম্পদ পেলে আনন্দ, না পেলে ক্ষোভ (৫৮), আল্লাহর মহব্বত, আল্লাহর জিকির ও তার প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ শূন্য অন্তর (৫৯), নবীজিকে গালমন্দ করা (৬১), একে অপরকে মন্দ কাজের আদেশ দেওয়া, ভালো কাজ থেকে নিষেধ করা, কৃপণতা (৬৭)। এসব ছিল মোনাফেকদের প্রকাশ্য দোষগুলোর অন্যতম। মূলত মোনাফেকদের এসব দোষ আর কার্যকলাপ পূর্বেকার কাফেরদের চরিত্রেরই প্রতিনিধিত্ব করে। (৬৯)।

কাফেরদের সঙ্গে মোনাফেকদের সাদৃশ্যের কথা বলতে গিয়ে কওমে নুহ, আদ, সামুদ, কওমে ইবরাহিম, আসহাবে মাদয়ান ও কওমে লুতের কথা বলা হয়েছে। তাদের পরিণাম জানা সত্ত্বেও এরূপ আচরণ সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

দশম পারার শেষ পর্যন্ত মোনাফেকদের আলোচনাই রয়েছে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এ ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন, ‘হে আমার রাসুল, যদি আপনি তাদের জন্য সত্তরবার ইস্তেগফার করেন, তবুও আল্লাহ কিছুতেই তাদের মাফ করবেন না।’এ কথাও বলেছেন যে, ‘যদি তাদের কারও মৃত্যু হয় তাহলে আপনি তার জানাজার নামাজ পড়াবেন না’। (৮০-৮৪)।

দশম পারার শেষে আল্লাহ তায়ালা ওই একনিষ্ঠ মুসলমানদের কথাও আলোচনা করেছেন, যারা বার্ধক্য, প্রচণ্ড অসুস্থতা বা সরঞ্জাম না পাওয়ার কারণে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারেনি ঠিক; কিন্তু তাদের আগ্রহ এত বেশি ছিল যে, জিহাদে অংশগ্রহণ করতে না পারার দুঃখে তাদের চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। এ কারণেই বলা হয়েছে, এই একনিষ্ঠ মাজুর মুসলমানদের জিহাদে অংশ না নেওয়ায় কোনো গোনাহ হবে না। (৯১-৯২)।

হামাস নিরস্ত্র না হলে পুরো গাজা দখলের হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীর

 

হামাস নিরস্ত্র না হলে পুরো গাজা দখলের হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীর

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস যদি অস্ত্র সমর্পণ না করে, তাহলে পুরো গাজা দখল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের কট্টরপন্থি রাজনীতিক ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। হামাসের পক্ষ থেকে ইসরাইলি আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

গত সপ্তাহে ইসরাইল জানিয়েছিল, ৬০ দিনের মধ্যে হামাসকে সব অস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ সমর্পণ করতে হবে। এই সময়সীমার জন্য মার্কিন প্রশাসন অনুরোধ করেছিল। অস্ত্র সমর্পণ না হলে ইসরাইলি বাহিনী আইডিএফ নতুন করে সামরিক অভিযানে নামবে।

তবে হামাস দাবি করছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও গণমাধ্যমের হুঁশিয়ারি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা, চলমান আলোচনার সঙ্গে এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাবি জানিয়েছেন, তারা এই হুমকি মানতে রাজি নয়।

স্মোট্রিচ বলেন, হামাসকে খুব শিগ্‌গির গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হতে পারে। যদি তা না মানে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক সমর্থন ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়ে নিজ উদ্যোগে অভিযান চালাবে। তিনি জানান, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থ হলে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় প্রবেশ করে এলাকা দখল করবে এবং কীভাবে অভিযান চালানো হবে সে বিষয়ে দু-তিনটি পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় ২০ হাজার সদস্যের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। যদিও বিদেশি সেনারা মোতায়েন থাকলেও, স্মোট্রিচের দাবি, ইসরাইলি বাহিনী চাইলে দ্রুত তাদের সরিয়ে অভিযান চালাতে পারবে। তবে আপাতত আন্তর্জাতিক বাহিনী দ্রুত গাজায় প্রবেশ করবে বলে মনে হচ্ছে না।

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য

  আজ নবম তারাবিতে সূরা হুদ এবং সূরা ইউসুফ (১-৫২) পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১২তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশেরবিষয়বস্তু তুলে ধরা হ...