Saturday, 14 March 2026

জাকাতের সরকারি ব্যবস্থাপনায়


জাকাতের সরকারি ব্যবস্থাপনায়

পৃথিবীর গতানুগতিক অন্যান্য অর্থব্যবস্থায় অক্ষম লোকদের জন্য সম্পদের যে অংশ রয়েছে, তা কেবলই বিত্তশালীদের করুণা। বিত্তশালীরা ইচ্ছা করলে দুর্বলদের দেবে, ইচ্ছা না করলে দেবে না। কিন্তু ইসলামই একমাত্র অর্থব্যবস্থা, যেখানে অক্ষমতার দরুন উৎপাদনে সম্পৃক্ত হতে না পারা দুর্বল ও দরিদ্রদের হাতে সম্পদের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তা-ই জাকাত। জাকাত ফরজ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ধনীরা গরিবদের প্রতি এক ধরনের ঋণী হয়ে যায়। ঋণের ক্ষেত্রে তার পাওনাদার খুঁজে বের করে অথবা তার বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসা তার কর্তব্য; তা দিয়ে না আসা পর্যন্ত যেমন সে দায়মুক্ত হয় না, তেমনি জাকাতদাতাও এর হকদারের কাছে ঋণী। জাকাতের হকদারকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে তা পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত সে দায়মুক্ত নয়। জাকাত ইসলামি অর্থব্যবস্থার মেরুদণ্ড; গরিব-ধনীর সেতুবন্ধ।

বাংলাদেশের বিত্তশালী মুসলিমরা জাকাত দেন। কিন্তু এর প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় দারিদ্র্য বিমোচনে তেমন ফলপ্রসূ ভূমিকা থাকছে না। উল্টো জাকাত আনতে গিয়ে দুর্ঘটনায় স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। সুষ্ঠু সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় জাকাত হতে পারে দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্য বিমোচনের একমাত্র মাধ্যম। এ বছরের ২৯ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে চতুর্দশ জাকাত ফেয়ার উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে জাকাত আদায় করা হলে এক লাখ কোটি টাকা জাকাত আদায় করা সম্ভব। (যুগান্তর : ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬)। আসলেই কি এত টাকা জাকাত আদায় করা সম্ভব?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে শুধু ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের হিসেবে কোটিপতির সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি। (যুগান্তর : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫)। শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই ১ লাখ ২৮ হাজার কোটিপতির সম্পদ ও তাদের জাকাত কত আসতে পারে, তার একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ ২১ কোটিপতির সম্পদ পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া ২৮ হাজার ৯৩১ জনের সম্পদ ১০ কোটি থেকে ৫৩ কোটি টাকা। তাদের সম্পদ থেকেই সম্ভাব্য জাকাত আসে ২৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বণিকবার্তায় প্রকাশিত শীর্ষ ধনীদের এক তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, ৩০ হাজার ৫৫৯ জন শীর্ষ ধনীর সম্পদ থেকে জাকাত আসতে পারে ৩৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৯৭ হাজার কোটিপতির সম্পদ থেকে সম্ভাব্য জাকাত আসে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এতে দেখা যায়, শুধু ব্যাংকে জমাকৃত টাকার হিসেবে থাকা বিত্তশালীদের সম্পদ থেকেই প্রায় ৪৫-৫০ হাজার কোটি টাকা জাকাত আদায় করা যেতে পারে। এ তো শুধু ব্যাংকে জমাকৃত টাকার হিসেবে। ব্যাংকের বাইরে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে থাকা অর্থ ও ব্যবসায়ী পণ্যের জাকাত যদি হিসেবে করা হয়, তাহলে আদায়যোগ্য জাকাত লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। আর জাকাত তো ইবাদত। তাতে সম্পদের মালিক স্বেচ্ছায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ফাঁকি না দিয়ে হিসেব করে দেবেন। ফলে জাকাতের সংগ্রহ অনায়াসেই লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে।

আদায়যোগ্য এ এক লাখ কোটি টাকা জাকাতের মাধ্যমে সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় পাঁচ বছরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আল্লাহর বিধান জাকাত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্যকে সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৩২০ এবং প্রত্যেক পরিবারে গড়ে রয়েছে ৪ দশমিক ১৯ জন সদস্য। (দৈনিক কালবেলা : ২ এপ্রিল, ২০২৪)। ভূমিহীন ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৩২০টি পরিবার বা ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫১৭ জন মানুষের বিপরীতে আদায়যোগ্য জাকাত এক লাখ কোটি টাকা। যদি ৮০ হাজার কোটি টাকাও বছরে জাকাত আদায় করা যায়, তাহলে প্রথম বছরেই প্রায় ১৬ লাখ ভূমিহীন পরিবারকে পাঁচ লাখ করে জাকাতের অর্থ প্রদান করা যাবে এবং প্রত্যেক পরিবারে থাকা ৪ দশমিক ১৯ জনকে মাথাপিছু এক লাখেরও বেশি টাকা দিয়ে ব্যবসায়ী পণ্য বা ক্ষুদ্র ব্যবসার মূলধন, পশু পালন, রিকশা, সেলাই মেশিন, ভ্যান ও কৃষি সহায়তা দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করে তাদের দারিদ্র্যসীমার ওপরে নিয়ে আসা যাবে।

দ্বিতীয় বছর আবার জাকাত আসবে অন্তত ৮০ হাজার কোটি টাকা। তখন তো আর ভূমিহীন পরিবার নেই। জাকাত ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান তখন এমন ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করবে, যাদের দোকান আছে কিন্তু মালামাল নেই। তারা এমন কৃষকদেরও খুঁজে বের করবে, যারা অর্থের অভাবে জমি চাষ করতে পারছেন না; পাশাপাশি ঋণগ্রস্ত ও অভাবগ্রস্ত মানুষদেরও শনাক্ত করবে। এমন ১৬ লাখ পরিবারকে প্রদান করবে পাঁচ লাখ টাকা করে। এভাবে চার বছরে ৬৪ লাখ পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার উপরে নিয়ে আসতে পারবে। তিন-চার বছরে জাকাতের সংগ্রহ আরো বাড়বে, কারণ আগের তিন-চার বছরে জাকাত পাওয়া ৬৪ লাখ পরিবার থেকে অন্তত ২০-৩০ লাখ পরিবার আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে তারাও কিছু কিছু জাকাত দেবে। পঞ্চম বছরে দেখা যাবে, জাকাতের দাতা বাড়ছে, গ্রহীতা কমছে; কিন্তু এই ১ লাখ বা ৮০ হাজার কোটি টাকা জাকাত যাদের সম্পদ থেকে আদায় করা হবে, তাদের কি কোনো ক্ষতি হবে? কিছুতেই না। কারণ তা আদায় করা হবে জীবন-জীবিকার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদেরও পুরোটা নেওয়া হবে না, নেওয়া হবে মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ। নেওয়া হবে ওই মালিকের নির্দেশে, যিনি তাকে এত সম্পদের মালিক বানালেন, যিনি চাইলেই তাকে ফকির বানিয়ে রাখতে পারতেন। ভূমিহীন, ঋণগ্রস্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি কয়েক হাজার কোটি টাকা বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষায় দরিদ্র মুসলিম শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করলে তারা পরিবারগুলোকে দাঁড় করাতে পারবে। হিজড়াসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়তে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা যাবে।

জাকাত ব্যক্তিপর্যায়েও প্রদান করা যায়। বেসরকারিভাবে বিশ্বস্ত সংস্থাগুলো সে কাজ করতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে বেসরকারিভাবেও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের মডেল রয়েছে। কিন্তু জনগণ আস্থা রাখতে পারবে, জাকাতের এমন সরকারি ব্যবস্থাপনা ইসলামি সরকারের অন্যতম মৌলিক কাজ, মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের অনিবার্য দায়িত্ব। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তারা এমন যে, আমি যদি দুনিয়ায় তাদের ক্ষমতা দান করি, তবে তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে, মানুষকে সৎকাজের আদেশ করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে। সব কাজের পরিণতি আল্লাহরই হাতে।’ (সুরা হজ : ৪১)

সরকারিভাবে এমন একটি বিশ্বস্ত সংস্থা থাকতে পারে, যার প্রতি গণমানুষের আস্থা থাকবে। দেশের পরীক্ষিত আমানতদার ও যোগ্য আলেমদের তত্ত্বাবধানে স্বতন্ত্রভাবে তা পরিচালিত হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরো জাকাত ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজ করতে হবে অ্যাপ বা অনলাইন ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। এভাবে অনিয়মের সব পথ বন্ধ করে প্রতিবছর জাকাত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে। তারপর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মসূচি কঠোরভাবে মূল্যায়ন ও মনিটরিং করে বছর শেষে গণমানুষের কাছে তা স্পষ্ট প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরলে মানুষ সরকারি তহবিলে জাকাত দিতে উদ্বুদ্ধ হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জাকাত তহবিলে যে অর্থ দেওয়া হয়, তার ওপর কর রেয়াত পাওয়ার ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই রয়েছে। সেটাকে আরো হালনাগাদ করা যায়।

জাকাত বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও ইসলামি অর্থনীতিবিদ বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শে ‘জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩’ আরো সময়োপযোগী করে জাকাতভিত্তিক দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচির সঙ্গে সরকারি কর্মসূচির একটি সফল সংযোগ করে বছরে কতজনকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া গেল, বছর শেষে তার তথ্য তুলে ধরা হলে বাড়বে জাকাতদাতার পরিমাণ। ‘সিআইপি’দের মতো যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোটা অঙ্কের জাকাত দেবে, তাদের পুরস্কৃত করলেও কাজে আসতে পারে। জাকাতের অর্থে কর্মসংস্থান তৈরি করা যাবে, আবার জাকাত সংগ্রহ, বিতরণ ও মনিটরিংয়েও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো জাকাত বোর্ডেও হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও জাকাতের অর্থ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থাও পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রেখেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় জাকাত হচ্ছে ফকির-মিসকিনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য...।’ (সুরা তাওবা : ৬০)। এ রকম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা হলে আশা করা যায় পাঁচ বছরেই দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।

লেবাননে হাসপাতালে ইসরাইলি হামলা, চিকিৎসাকর্মীসহ নিহত ১২

 

লেবাননে হাসপাতালে ইসরাইলি হামলা, চিকিৎসাকর্মীসহ নিহত ১২

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরাইলের বিমান হামলায় চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান উত্তেজনা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০৩ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১,৯০০–এর বেশি মানুষ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলাটি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রামে অবস্থিত বুর্জ কালাওইয়াহ হেলথ কেয়ার সেন্টারে আঘাত হানে। ওই হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স এবং জরুরি সেবাকর্মী (প্যারামেডিক) ছিলেন।

তবে এই সংখ্যা প্রাথমিক বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো নিখোঁজ কয়েকজনকে খোঁজার কাজ চলছে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পৃথক পৃথক বিমান হামলাগুলো অত্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ লেবাননের পাশাপাশি রাজধানী বৈরুতেও ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে।

সৌদির বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা, মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

 

সৌদির বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা, মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানকালে মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের ওই ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি এবং বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। এই হামলায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।

Friday, 13 March 2026

২৪তম তারাবি: রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?


২৪তম তারাবি: রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

আজ ২৪তম তারাবিতে সূরা যারিয়াত (৩১-৬০), সূরা তূর, সূরা নাজম, সূরা ক্বমার, সূরা রহমান, সূরা ওয়াকিআ এবং সূরা হাদীদ পড়া হবে। আজ পড়া হবে ২৭তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো -

৫১. সূরা যারিয়াত (৩১-৬০)

পারার শুরুতে ফেরাউন সম্প্রদায়, আদ ও সামুদ জাতি এবং হজরত নুহ ও লুত (আ.) এর সম্প্রদায়ের পরিণতি কী হয়েছিল, তা তুলে ধরা হয়েছে। এরপর আসমান-জমিন সৃষ্টির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। সূরার শেষাংশে জিন ও মানবজাতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার জন্য এবং তার মারেফত হাসিল করার জন্য। প্রত্যেকের রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার ওপর। তবে যারা কুফর ও শিরকে লিপ্ত হবে, অচিরেই তাদের ওপর অবধারিত আজাব নেমে আসবে।

৫২. সূরা তূর (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৪৯, রুকু ২)

সূরায় জাহান্নামের ভয়াবহতা এবং জান্নাতে মুত্তাকিদের পুরস্কার সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। নবীজির দাওয়াতের বিপরীতে মুশরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের এহেন আচরণের বিপরীতে নবীজিকে দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখার হুকুম দেওয়া হয়েছে। সূরার শেষাংশে আল্লাহ তায়ালার প্রভুত্ব ও একত্ববাদের দলিল পেশ করা হয়েছে, কাফের মুশরিকদের ভ্রান্ত চিন্তাধারা খ-ন করা হয়েছে এবং যারা ফেরেশতাদের আল্লাহ তায়ালার কন্যাসন্তান বলে আখ্যায়িত করে, তাদের নিন্দা জানানো হয়েছে।

৫৩. সূরা নাজম (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৬২, রুকু ৩)

সূরার শুরুতে রাসুল (সা.) এর সত্যবাদিতা এবং মেরাজের বিবরণ রয়েছে। (১-১৮)। যারা মূর্তির উপাসনা করে, ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা সাব্যস্ত করে, তাদের নিন্দা করা হয়েছে। (১৯-২৩)। সূরায় কেয়ামতের বর্ণনা রয়েছে, যেখানে সবকিছুর চূড়ান্ত ফায়সালা হয়ে যাবে। (৩২-৩৫)। এরপর বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকেই নিজ কৃতকর্মের জিম্মাদার। কারও গোনাহের বোঝা অপরের কাঁধে চাপানো হবে না। (৩৮-৪১)। আল্লাহর কুদরতের বর্ণনা দিয়ে সূরার সমাপ্তি হয়েছে।

৫৪. সূরা ক্বমার, (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৫৫, রুকু ৩)

সূরায় মোমিনদের জন্য সুসংবাদ, নাফরমানদের জন্য সতর্কবাণী এবং বিভিন্ন হিতোপদেশের কথা আলোচিত হয়েছে। এছাড়া রিসালাত, আখেরাত, বিচার দিবস এবং তাকদিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আকিদার আলোচনা রয়েছে সূরায়। সূরার শুরুতে কেয়ামতের আসন্নতার কথা বলার পর নবীজির বিশেষ মোজেজা তথা হাতের ইশারায় চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সূরায় পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন জাতির আলোচনার পর বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘বল, কেমন ছিল আমার সাজা-শাস্তি!’ এ প্রশ্ন করার পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘উপদেশ গ্রহণ করার জন্য আমি কোরআন শরিফ সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং আছে কি কোন উপদেশগ্রহীতা?’ মুত্তাকিদের উত্তম পরিণতি, আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তি এবং সম্মানজনক আবাসস্থল লাভের সুসংবাদ শুনিয়ে সূরাটির পরিসমাপ্তি ঘটেছে।

৫৫. সূরা রহমান (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ৭৮, রুকু ৩)

সূরায় দুনিয়া-আখিরাতের বহু নেয়ামতের বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচয়ে বড় নেয়ামত হলো পবিত্র কোরআনের নেয়ামত। জাগতিক কোনো নেয়ামতের সঙ্গে এর তুলনা হতে পারে না। দুনিয়া-আখেরাতের নেয়ামতরাজির বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা মোট ৩১বার প্রশ্ন করেছেন, ‘অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামত আস্বীকার করবে?’

সূরার শেষে বলা হয়েছে, তোমার প্রতিপালকের নাম খুবই বরকতময়, তিনি মহান এবং মহিমাময়। আহলে ইলম এবং জ্ঞানীজনরা বলেন, এখানে ‘নাম’ দ্বারা সূরার সূচনায় উল্লেখিত ‘রহমান’ নামটিই উদ্দেশ্য। যেন সূরায় আরেকবার ইঙ্গিত দেওয়া হলো, জমিন-আসমানের সৃষ্টি হোক কিংবা জান্নাত-জাহান্নামের অস্তিত্বÑ সবকিছু ‘রহমানের’রহমতেরই অসীম প্রকাশ ও ফলাফল।

৫৬. সূরা ওয়াকিয়া (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৯৬, রুকু ৩)

সূরার আরেক নাম ‘সূরা গিনা’ অর্থাৎ সমৃদ্ধিশালী করে যে সূরা। হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, তাকে কখনোই অভাব-অনটনের মুখোমুখি হতে হবে না (আল্লাহই সর্বাজ্ঞ)। কেয়ামতের সময়কার বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে সূরার সূচনাপর্বে। (১-৫৬)। এরপর সূরাটিতে আল্লাহর অস্তিত্ব, একত্ববাদ এবং পূর্ণ কুদরত ও ক্ষমতার প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং পুনরুত্থান ও হিসাবনিকাশের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এরপর পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্যের বিবরণ রয়েছে। (৭৬-৮০)। বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত, সাধারণ জান্নাতি এবং কাফের কেয়ামত-দিবসে এই তিন শ্রেণির মানুষের অবস্থার বিবরণ দিয়ে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

৫৭. সূরা হাদীদ (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ২৯, রুকু ৪)

‘হাদীদ’ শব্দের অর্থ লোহা। লোহা সৃষ্টির আলোচনা থাকায় সূরার নাম ‘হাদীদ’। এ সূরায় মৌলিকভাবে তিনটি বিষয় আলোচিত হয়েছেÑ এক. বিশ্বে যা কিছু আছে সবকিছু আল্লাহর। তিনি সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক। সৃষ্টির সবকিছুই তার প্রশংসা করে। দুই. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনার জন্য এবং দ্বীন ও ধর্মকে সারাবিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য জানমাল কোরবান করার হুকুম দেওয়া হয়েছে। তিন. আল্লাহ তায়ালা মানুষের সামনে দুনিয়ার হকিকত তুলে ধরেছেন, যেন মানুষ দুনিয়ার বাহ্যিক মোহ ও সৌন্দর্য দেখে ধোঁকা না খায়। সূরার শেষে যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং রাসুলের প্রতি ঈমান আনে, তাদের জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান এবং পথচলার নূর ও আলোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। (২৮)।

সাদাকাতুল ফিতরে রোজার পূর্ণতা


সাদাকাতুল ফিতরে রোজার পূর্ণতা

আত্মশুদ্ধি, সংযম আর পবিত্রতার মাস রমজান। পাপ থেকে মুক্তি আর নেক আমল লাভের অনন্য সুযোগ পাওয়া যায় রমজান মাসে। শুধু রোজা রেখে কিংবা নামাজ পড়ে রমজানে আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়; বরং নিজের সাধ্যমতো গরিব-দুঃখীদের দান করাও আমাদের কর্তব্য আর সে জন্য সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরার বিধান। ফিতরা রোজা ও ঈদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ওয়াজিব আমল। নিসাব পরিমাণ (সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সমমূল্য) সম্পদের মালিক হলে নিজের ও নির্ভরশীলদের পক্ষ থেকে ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব হয়। তবে যদি কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণের সম্পদের মালিক না ও হয়, তবু ফিতরা দিতে পারবেন, কারণ ফিতরা একটি সুন্নত আমল হিসেবেও পালন করা যায়। সাধারণত রমজানের শুরু থেকে ফিতরা দেওয়া যায়, তবে ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বা ঈদের দু-একদিন আগে দেওয়া উত্তম।

ফিতরা সাধারণত আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ বা পনিরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্থানীয় বাজার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে ফিতরার সর্বোচ্চ আর সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ইসলামি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, চলতি বছর আটা ও গম দিয়ে ফিতরা আদায় করলে সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং পনির, খেজুর দিয়ে ফিতরা আদায় করলে সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা দিতে হবে।

ইসলামে শুধু মুসলিমদের ফিতরা দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। আর চাইলেও নিজের বাবা-মা, সন্তানদের ফিতরা দিতে পারবে না। নিজের দরিদ্র আত্মীয়, প্রতিবেশী ও অভাবী মানুষদের ফিতরা দেওয়া উত্তম। মসজিদ, রাস্তা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ফিতরার টাকা দিয়ে যাবে না, কারণ ফিতরা দরিদ্রদের হক।

ফিতরা একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। কোনো মুসলিম চাইলেই ফিতরা বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রোজায় ভুলত্রুটি মাপের জন্য ফিতরা দেওয়ার বিধান হয়। অন্যদিকে ধনীরা গরিবদের মধ্যে ফিতরা দিয়ে ঈদের আনন্দ আরো বাড়িয়ে তোলে। ফিতরা দিয়ে কাউকে ছোট করা হয় না; বরং ধনীদের সম্পদের ওপর যে দরিদ্রের হক আছে, তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সমাজে ধনী-গরিবের যে ব্যবধান তা কমিয়ে আনতে ফিতরা দেওয়া হয়। একটি সুন্দর বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ফিতরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই ফিতরা দিয়ে যেমন সম্পদের পবিত্রতা রক্ষা করে নিজের ঈমান দৃঢ় করা যাবে, তেমনি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সাহায্য করবে। তাই সব সামর্থ্যবান মুমিন মুসলমানদের উচিত নিয়ম মেনে নিজের সাধ্য অনুসারে ফিতরা প্রদান করা।

জাকাতে সম্পদ বৃদ্ধি ও পবিত্র হয়


জাকাতে সম্পদ বৃদ্ধি ও পবিত্র হয়
প্রতীকী ছবি

আরবি জাকাত শব্দের ভেতর দুটি অর্থ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে, অনবরত বাড়তে থাকা। আরেকটি হচ্ছে, শুদ্ধ ও পবিত্র হওয়া। আরবি ভাষাবিজ্ঞানীরা বলেন, যে জিনিস ক্রমশ বাড়তে থাকে সে জিনিস অবশ্যই শুদ্ধ ও পবিত্র হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আরবিতে বলা হয়- জাকাজ জারউ ইয়াজকুজ জাকাহ। অর্থাৎ, ফসল যেমন বাড়ে, তেমনি করে জকাতও বাড়ে (বরকত বাড়ায়)। কৃষির ফসল ক্রমশ বাড়তে থাকবে তখনই, যখন ফসল আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন হয়। তাই জাকাত শব্দটি ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পবিত্র ও খাঁটি হওয়ার অর্থও দেয়।

আর শরিয়তে ব্যক্তির সম্পদে আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট ফরজ অংশ হকদারদের বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে জাকাত বলা হয়। ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘ধন-সম্পদ থেকে আল্লাহর নির্ধারিত সম্পদ বের করে দেওয়া জাকাত বলার কারণ হলো— এর বিনিময়ে সম্পদ ক্রমশ বাড়তে থাকে আর জাকাতদাতা অনেক বিপদাপদ থেকে পবিত্র থাকেন।’

সুফিরা বলেন, জাকাত মানুষকে দুই ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়। প্রথমত, আখেরাতের জবাবদিহি থেকে। দ্বিতীয়ত, দুনিয়ার বালা-মুসিবত থেকে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে জাকাত অর্থ পবিত্র ও পরিশুদ্ধতাই ঠিক আছে। অন্য একজন ইসলামিক স্কলার লিখেছেন, ‘জাকাতের মাধ্যমে ব্যক্তি দুই ধরনের পবিত্রতা অর্জন করে। প্রথমত, সে তার সম্পদ পবিত্র করে। দ্বিতীয়ত, তার মন-মনন কৃপণতা, স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ মুক্ত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে ইমাম ইবনে তাইমিয়া আরো চমৎকার করে বলেছেন— ‘জাকাত দেওয়ার ফলে দাতার আত্মা নির্মল-পবিত্র হওয়ার কারণে তার ধন-সম্পদে আল্লাহ বরকত দেন এবং তা দিন দিন বাড়তে থাকে।’ কারজাভি বলেন, ‘এই বৃদ্ধি কেবল ধন-সম্পদে নয়, ব্যক্তির মন-মানসিকতা, ধ্যান-ধারণায় প্রভাবিত হয়। ফলে জাকাতদাতা দিন দিন উন্নত রুচিরোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে ওঠে।’

ইমাম নববী ‘আল-হাভি’ গ্রন্থ প্রণেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, আরবি ‘জাকাত’ শব্দটি ইসলামি শরিয়ত প্রবর্তনের আগেও বেশ পরিচিত ছিল। জাহেলি যুগের কাব্য ও কবিতায় এর ব্যবহার পাওয়া যায়। তবে ইমাম দাউদ জাহেরি এ মতটি নাকচ করে বলেছেন, ‘ইসলামের আগে জাকাত শব্দের প্রচলন পাওয়া যায়নি।’ (ফিকহুজ জাকাত)

জাকাতের আরেক নাম সদকাহ। পবিত্র কোরআনে জাকাতের প্রতিশব্দ হিসেবে এ শব্দটিও ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন জাকাতের খাত বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এসব সদকা তো আসলে ফকির ও মিসকিনদের জন্য; ওইসব লোকদের জন্য, যারা সদকার কাজে নিযুক্ত; আর তাদের জন্য যাদের মন জয় করা প্রয়োজন; তাছাড়া এসব সদকা দাস মুক্ত করা, ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করা, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের খেদমতে ব্যয় করার জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ। আল্লাহ সব কিছু জানেন এবং তিনি পরম জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী।’ (সুরা তাওবাহ : ৬০)

জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান হওয়া শর্ত। এমন ব্যক্তি যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং পূর্ণ এক বছর এ সম্পদ তার মালিকানায় থাকে, তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৯) জাকাতের নিসাব হলো- স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিশ মিসকাল। আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭০৭৭-৭০৮২।) রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হলো ২০০ দিরহাম। আধুনিক হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা। এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে জাকাত দিতে হবে। (বুখারি : ১৪৪৭; মুসলিম : ৯৭৯) এ হিসাব অনুযায়ী প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা-পয়সা বা বাণিজ্য-দ্রব্যের মূল্য যদি সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের সমপরিমাণ হয় তাহলে জাকাতের নিসাব পূর্ণ হয়েছে ধরা হবে এবং এর জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৬৭৯৭, ৬৮৫১)

যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য—এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে এক্ষেত্রেও সব সম্পদ হিসাব করে জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭০৬৬, ৭০৮১) কারো কাছে কিছু স্বর্ণালংকার আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য আছে, যা একত্র করলে সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে এর জাকাত দিতে হবে। কারো কাছে নিসাবের কম রুপা আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা বা বাণিজ্যদ্রব্য আছে, যা একত্র করলে সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এরও জাকাত দিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩০৩)

হরমুজ প্রণালি কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

 

হরমুজ প্রণালি কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ হরমুজ প্রণালি, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়।

প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার জাহাজ এই করিডোর দিয়ে যাতায়াত করে। কেবল ২০২৫ সালেই, প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য যথেষ্ট গভীর হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই পথটি ব্যবহার করে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে অসংখ্য জাহাজ আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বৃহস্পতিবারও বলেছেন, এই প্রণালি "অবরোধ" কার্যক্রম চালিয়ে যাবে তারা।

যদিও ‘নিছক হতাশা থেকে’ ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

এ প্রাণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

জাকাতের সরকারি ব্যবস্থাপনায়

পৃথিবীর গতানুগতিক অন্যান্য অর্থব্যবস্থায় অক্ষম লোকদের জন্য সম্পদের যে অংশ রয়েছে, তা কেবলই বিত্তশালীদের করুণা। বিত্তশালীরা ইচ্ছা করলে দুর্বলদ...