Saturday, 23 May 2026

যে অবস্থায় বদলি হজের বিধান প্রযোজ্য

 

যে অবস্থায় বদলি হজের বিধান প্রযোজ্য
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েতের একটি হজ। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মৌলিক ভিত্তির একটি, যা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য পালনীয় একটি কর্তব্য। যে কারণে হজ পালনে প্রতি বছর বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ পালনে মক্কা নগরীতে সমবেত হন।

ইসলামের পরিভাষায় হজের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা করা ও সফর বা ভ্রমণ করা। অর্থাৎ হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে বিশেষ কিছু কর্ম সম্পাদন করা।



ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ আদায় করা আবশ্যক। তবে অনেক সময় কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হওয়ার পরও অসুস্থতা, বার্ধক্য বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি নিজে হজে যেতে সক্ষম হন না। সেক্ষেত্রে, তার জন্যও হজ করার বিধান রাখা হয়েছে ইসলামে। ধর্মীয় পরিভাষায় যে হজকে বলা হয়ে থাকে বদলি হজ।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মোহাম্মদ বলেন, ‘যে ব্যক্তির আর্থিকভাবে সক্ষমতা আছে, কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা নাই বা মৃত্যু পর্যন্ত ছিল না কিংবা থাকার সম্ভাবনাও প্রায় রহিত হয়, তার জন্যই বদলি হজ।

তবে অনেক সময় প্রশ্ন থাকে কারো ওপর যদি হজ ফরজ হয়ে থাকে, তা পালন করার শারীরিক সক্ষমতাও থাকে তাহলে তার ক্ষেত্রে বদলি হজ প্রযোজ্য হবে না।

এক্ষেত্রে বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধি বিধান রয়েছে ইসলামে। যেগুলো অবশ্যই পালন করা উচিত বলে বলছেন ইসলামিক চিন্তাবিদ ও গবেষকরা।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, যিনি বদলি হজ করতে মক্কায় যাবেন তার ক্ষেত্রেও খুব সুনির্দিষ্ট কিছু কিছু নিয়ম রয়েছে।

বদলি হজ কী

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হজ ফরজ করা হয়েছে ইসলামের বিধানে। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি ফরজ হজ্জ আদায় করতে অক্ষম হয় তাহলে তার পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি হজ্জ পালন করে দিতে পারে। ইসলামের পরিভাষায় এটিকে বদলি হজ্জ বলে।

বদলি হজ কেন?

বদলি হজের মূল লক্ষ্য হলো ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে জিম্মাদারি আদায় করা, যিনি নিজে হজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন।

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা আনিসুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘মৃত অবস্থায় ওসিয়ত করে গেলে বা জীবিত অবস্থায় যদি কেউ দেখেন তিনি হজ করতে যেতে পারবেন না তাহলে তার পক্ষ থেকে যে হজ পালন করা হবে সেটিকে ইসলামের পরিভাষায় বদলি হজ বলে।,

বদলি হজ কেন করাতে হয় তার বিভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী। ইসলামি গবেষকরা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘ধরুন একজন ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ ছিল, কিন্তু শারীরিকভাবে সমর্থ থাকতে হজ করেননি। এখন শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, এখন আপনার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে হজ করতে পাঠানো আপনার জন্য ফরজ’।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়েছিল, কিন্তু তিনি হজে যাবার আগেই মারা গেছেন। তাহলে মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার ওয়ারিশগন বদলি হজ পালন করতে পারেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক বলেন, ‘মারা যাওয়ার আগে যদি কোনো ব্যক্তি তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিশগণের কাছে এমন বদলি ওয়াজের বিষয়ে ওসিয়ত করে যান তাহলে তার ক্ষেত্রে বদলি হজ পালন করানো ওয়াজিব। আর যদি ওসিয়ত নাও করে থাকে যদি তার রেখে যাওয়া সেই পরিমাণ সম্পদ থাকে তার পক্ষে তার সন্তানরা মনে করেন তার মা/বাবার নামে বদলি হজ করাতে পারেন। সেটি ওয়াজিব না হলেও উত্তম।’

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যে ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার আশা আছে বা যিনি নিজে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তিনি অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করালে তাঁর ফরজ আদায় হবে না।

বদলি হজ পালনের নিয়ম কী?

হাদিস ও ইসলামের বিভিন্ন বিধান পর্যালোচনা করে বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানের কথা বলছেন ইসলামি লেখক ও গবেষকরা। সেক্ষেত্রে, কেউ শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সক্ষমতা হারিয়ে ফেললে এবং তা থেকে মুক্তির কোনো সম্ভাবনা না থাকলে বদলি হজ করানো যায়। দ্বিতীয়ত, জোর করে কেউকে আটকে রাখা হলে, তৃতীয়ত যাওয়ার পথ কারো জন্য অনিরাপদ হলে, চতুর্থত-নারীর ক্ষেত্রে হজে যাওয়ার জন্য মাহরাম পুরুষ সঙ্গে না পেলে তার জন্য বদলি হজ করানো যায়।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় কোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবে এতটাই অক্ষম যে তার আর্থিক সামর্থ্য আছে, কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা নেই তার ক্ষেত্রে বদলি হজ করানো যায়।’

তবে, যদি কেউ উল্লিখিত ওজরগুলোর কারণে নিজে জীবিত থাকা অবস্থায় নিজের ফরজ হজ অন্যের মাধ্যমে বদলি হজ হিসেবে করিয়ে ফেলেন, এরপর যদি তিনি আবার শারীরিক সক্ষমতা বা ওইসব সংকট কেটে যায় তাহলে তার পূর্ববর্তী কৃত বদলি হজ বাতিল হয়ে যাবে। এবং পরে তাকে নিজের ফরজ হজ নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘যদি মনে করে এখন সুস্থ না আগামী বার সুস্থ হয়ে হজে যেতে পারবে, তাহলে নিজেই করার চেষ্টা করবে। আর যদি কোনোভাবেই না হয় তাহলে জীবিত অবস্থায় অন্য কাউকে দিয়ে হজ করিয়ে নিতে হবে।’

বদলি হজ করানোর ক্ষেত্রে অনেকে আলেম-ওলামা দিয়ে বদলি হজ করিয়ে থাকেন। তবে, এক্ষেত্রে নিজের নিকট আত্নীয় স্বজনের মধ্যে থেকে বদলি হজ করানো উত্তম মনে করেন ধর্মীয় গবেষকরা।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো হবে তাকেই খরচ বহন করতে হবে। ওই ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে অসিয়ত করে যান তাহলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে এই হজ করাতে হবে।

বদলি হজের ক্ষেত্রে একটি আলোচনা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য আছে ইসলামি গবেষকদের মতে। একটি পক্ষ মনে করেন, যে ব্যক্তি আগে ফরজ হজ আদায় করেননি তাকে দিয়ে বদলি হজ করানো যাবে না।

তবে, ধর্মীয় বিধান পর্যালোচনা করে কেউ কেউ বলছেন, এই বিধানের পক্ষে জোরালো কোন যুক্তি নেই। যে কারণে যে কাউকে দিয়ে বদলি হজ করানো যাবে।

অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন, কোনো নারীর পক্ষ থেকে বদলি হজ করাতে হলে অন্য নারী দিয়েই করাতে হবে কি-না? তবে ধর্মীয় বিধান পর্যালোচনা করে ইসলামি গবেষকরা বলছেন, বদলি হজের ক্ষেত্রে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। বরং নারীর পক্ষ থেকে পুরুষও বদলি হজ করতে পারবে।

অন্যদিকে ধর্মীয় গবেষকদের মতে, যিনি বদলি হজ করবেন, তাকে সেই দেশের নাগরিক বা বাসিন্দা হতে হবে, যার পক্ষ থেকে তিনি বদলি হজ করছেন।

অবরুদ্ধ বা জেলবন্দির ক্ষেত্রে নিয়ম কী?

প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সৌদি আরবে যান হজ পালন করতে। এ বছর অন্তত ১৫ লাখ মুসলমানে হজে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে এবার শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকেই হজে যাচ্ছেন ৭৮ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

অনেক সময় বিভিন্ন অপরাধ বা নানা কারণে জেলে আটকা থাকেন অনেকে। অনেকের আবার আমৃত্যু কারাদণ্ড বা আমৃত্যু জেলও দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে অনেকে প্রশ্ন করেন, জেলবন্দি মানুষের ক্ষেত্রে বদলি হজ করানো যাবে কি-না।

বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রে যে সব নিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে, জোর করে কেউকে আটকে রাখা হলে বদলি হজ করানো যায়।

লেখক ও গবেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ জেলে থাকে, যদি আমৃত্যু সাজা হয়, উনি যদি বুঝতে পারেন উনি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারবেন না, আমলটা করতে পারবেন না। তখন দেখতে হবে তার ওপর হজ ফরজ হয়েছে কি-না।’

তিনি মনে করেন, এক্ষেত্রে যদি তার আর বের হওয়ার কোন সুযোগ না থাকে, তার পক্ষ থেকে পরিবার বদলি হজ করিয়ে নিতে পারেন যদি তার সেই সামর্থ্য থাকে।

প্রায় একই রকম বলছিলেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার। তিনি বলেন, ‘যদি কারো এমন কারাদণ্ড হয়, তার যদি আর্থিকভাবে সামর্থ্য থাকে তাহলে সে কাউকে দিয়ে হজ করিয়ে দিবে। এ রকম অবস্থা হলে সে বদলি হজ করাতে পারবে’।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরাফা দিবসের মর্যাদা ও করণীয়

 

আরাফা দিবসের মর্যাদা ও করণীয়

আল্লাহতায়ালা মুমিনদের বিবিধ হিসাবনিকাশের জন্য বারো মাসে একটি বছরের রূপ দান করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় আসমানগুলো ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই মাস বারোটি, এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত (নিষিদ্ধ বা হারাম মাস)। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।’ (সুরা তাওবা : ৩৫) এই চারটি মাসের একটি হলো, জিলহজ মাস। এই মাসটি পবিত্র হজ পালনের মাস। ইসলামের পঞ্চ রুকনের মধ্যে অন্যতম একটি হলো হজ আদায়। অন্যদিকে হজের মধ্যকার অন্যতম রোকন হলো আরাফায় অবস্থান। মহিমাঘেরা এই দিবসের তাৎপর্য, মহত্ত্ব চির উদ্ভাসিত।

বছরের শ্রেষ্ঠতম দিন আরাফার দিবস



সুরা আল-ফজরের দ্বিতীয় আয়াতে জিলহজের প্রথম দশকের কসম করে আল্লাহতায়ালা আয়াত নাজিল করেন, যা এই রাত্রিগুলোর অন্যতম মহিমার বহিঃপ্রকাশই মাত্র। এদিকে জিলহজের প্রথম দশকের নবম দিন আরাফার দিন। মহান যে দিবস নিয়ে আল্লাহতায়ালা অন্যত্র বলেন, ‘এবং (শপথ) সেই দিবসের, যে উপস্থিত হয় এবং যাতে উপস্থিত হয়।’ (সুরা বুরুজ : ০৩) এই আয়াতের তাফসিরে রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইয়াওমে মাশহুদ তথা যাতে উপস্থিত হয় দ্বারা আরাফার দিবস উদ্দেশ্য।’ (তিরমিজি : ৩৩৩৯)

আরাফার দিবসেই ইসলামের পূর্ণতা ঘোষণা

আরাফার ন্যায় মর্যাদাপূর্ণ দিবসে আল্লাহতায়ালা ইসলামের পূ্র্ণতার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা আরাফা দিবসের শেষ ভাগে কোরআনের সেই মহান ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়াত অবতীর্ণ করেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ (সুরা মায়িদা : ০৩)

জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভের দিন

একজন বান্দা মাত্রই আল্লাহর সমীপে ক্ষমাপ্রত্যাশী। ক্ষমা লাভের সুসংবাদ থেকে শ্রেষ্ঠ কোনো অর্জন বান্দার জন্য আর হতে পারে না। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘আরাফা দিবসের তুলনায় এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহতায়ালা সর্বাধিক লোককে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহতায়ালা নিকটবর্তী হন, অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের সামনে গৌরব করেন এবং বলেন, তারা কী উদ্দেশে সমবেত হয়েছে (বা তারা কী চায়)?’ (মুসলিম : ৩১৭৯)

ফেরেশতাদের সঙ্গে আল্লাহর গর্ব প্রকাশ

আমর বিন আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা আরাফায় অবস্থানরত লোকদের নিয়ে আসমানের ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করে বলেন, দেখো! আমার বান্দাদের দেখো, তারা এলোমেলো চুল ও ধূলিময় অবস্থায় আমার কাছে এসেছে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৮০৪৭)

আরাফাবাসীদের ক্ষমার ঘোষণা

আরাফার এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যঘেরা স্থানে যে বান্দাই আল্লাহর সমীপে নিজের প্রয়োজন পেশ করে, আল্লাহতায়ালা তা অবশ্যই পূরণ করেন। আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের বলেন, আচ্ছা! (আরাফাবাসী) এরা আমার কাছে কী চায়? এরপর আল্লাহ বলেন, হে আমার ফেরশেতারা! তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।’ (মুসলিম : ১৩৪৮)

আরাফা দিবসের দোয়ার শ্রেষ্ঠত্ব

দোয়া ও মোনাজাতের জন্য বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর দোয়া হলো আরাফা দিবসের দোয়া। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আরাফার দোয়া শ্রেষ্ঠতর দোয়া।’ (তিরমিজি : ৩৫৮৫)

সুতরাং এই দিবসটিকে হজ ও হজের বাইরের সব মুসলিমের উচিত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানো। তাই জেনে নিন আরাফার দিবসে কী কী করণীয় আছে।

আরাফায় অবস্থান করা

হজের মধ্যকার অন্যতম রুকন হলো, আরাফায় অবস্থান। নবীজি বলেন, ‘আরাফায় অবস্থানই হজ।’ (তিরমিজি : ৮৮৯) তাই এই দিবসে হাজিরা আরাফায় সমবেত অবস্থান করবেন।

আরাফা দিবসের রোজায় দুই বছরের গুনাহ মাফ

আরাফার দিবসের মতো শ্রেষ্ঠতর দিনে আল্লাহতায়ালা বান্দার পক্ষ থেকে সেরা সব আমলের নজরানা পছন্দ করেন। এর মধ্যে একটি হলো, যারা হজে যাননি, তারা নিজ স্থানে থেকে রোজা পালন করা সুন্নতসম্মত একটি বিধান। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আর আরাফার দিবসের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ (মুসলিম : ২৬৩৬)

অধিক পরিমাণে দোয়া ও ইস্তেগফার

এই দিনে অধিক পরিমাণে দোয়া করা। বিশেষত, এই দোয়াটি অধিক পরিমাণে করা; সেটি হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদুহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়্যিন ক্বাদির। মোটকথা, এদিনে আমাদের কর্তব্য হবে ক্ষমা প্রার্থনা এবং রোনাজারির মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা করা।

কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর জিকির করা

এই দিবসে কিছু পরিমাণ সময় কোরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট করা। হৃদয়ে প্রশান্তি অর্জনে কোরআন তিলাওয়াতের এবং হৃদয়ে সজীবতা আনতে জিকিরের তথা আল্লাহর অধিক স্মরণের বিকল্প নেই।

দান-সদকা করা

মহান এই দিনে সাধ্যমতো দান-সদকা ইত্যাদিতে নিজের জন্য একটি অংশ হলেও রাখা। আল্লাহতায়ালা দান-সদকাকারীদের ভালোবাসেন। সদকার মাধ্যমে আল্লাহর ক্রোধ ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা যায়। সদকার সুবাদে যেকোনো আমল কবুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ফের ইরান যুদ্ধ শুরু না করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ তিন মুসলিম দেশের

 

ফের ইরান যুদ্ধ শুরু না করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ তিন মুসলিম দেশের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ বিষয়ে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে একযোগে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।



প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউএই আরো সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, আবারো সংঘাত শুরু হলে ইরানের পাল্টা হামলায় পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে ইউএই, সৌদি আরব ও কাতারের নেতারা বলেছেন, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। বরং আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইর এই অবস্থান দেশটির আগের কঠোর নীতির তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, অতীতে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আবুধাবি ছিল বেশি কড়া অবস্থানে।

যদিও ইরানের সঙ্গে কেমন ধরনের সমঝোতা হওয়া উচিত এবং কতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন এ বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবু তারা সবাই আবারো ফেব্রুয়ারি-মার্চের মতো পরিস্থিতি ফিরে আসুক, তা চায় না।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই সংঘাতের সময় ইরান ও ইরানপন্থি ইরাকি গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজারো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে বহু মানুষ নিহত হন এবং বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষক ডিনা এসফানদিয়ারি বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বাস্তব রূপ দেখেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মাঝখানে আটকা পড়েছিল এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। গত ৮ এপ্রিল উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখনো শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই পক্ষ বার্তা আদান-প্রদান করছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার বলেছেন, আলোচনায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি গণমাধ্যমও। একই দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ইরান সফরের কথাও সামনে আসে, যা সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরো বেড়েছে সাম্প্রতিক এক ড্রোন হামলার ঘটনায়। গত রোববার ইউএইর একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হয়, যার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে আবুধাবি।

পরদিন ট্রাম্প জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তাদের অনুরোধেই তিনি ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশঙ্কা, ইসরাইলের চাপের মুখে ট্রাম্প আবারো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরো দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলার প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ

গরু কোরবানির বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হিন্দুদের বিক্ষোভ

 

গরু কোরবানির বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হিন্দুদের বিক্ষোভ

ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষ জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, ইসলামে গরু কোরবানি কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রথা নয়।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৩ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায়।



আদালত জানায়, ২০২৬ সালের ১৩ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিটি মূলত ২০১৮ সালে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনারই বাস্তবায়ন। ফলে এই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত বা বাতিল করার কোনো ভিত্তি নেই।

রাজ্য সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে সনদপত্র ছাড়া জবাই করা যাবে না। শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত কসাইখানায় এসব পশু জবাই করা যাবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।

ভারতের আজ তাক মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত গরু কোরবানি বন্ধ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন হিন্দু নারী-পুরুষরা। সেখানে তারা বলেন, কোরবানির নিয়মের যে প্রথা বন্ধ করা হয়েছে, সেটা আমরা মানি না। মানবো না। রাজ্য সরকার কোরবানির নিয়ম বন্ধ করেছে, সেটা আমরা মানি না। গরু বিক্রি করতে দিতে হবে।

যে অবস্থায় বদলি হজের বিধান প্রযোজ্য

  ছবি : সংগৃহীত বিশ্বের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েতের একটি হজ। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মৌলিক ভিত্তির একটি, যা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্...