Monday, 13 April 2026

হজযাত্রীদের সেবায় অনিয়ম করলে গুনতে হবে জরিমানা

হজযাত্রীদের সেবায় অনিয়ম করলে গুনতে হবে জরিমানা


হজযাত্রীদের সেবার মান উন্নত করতে এবং হয়রানি বন্ধে মক্কা ও মদিনার আবাসন ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান বারবার অনিয়ম করলে গুনতে হবে দ্বিগুণ জরিমানা, এমনকি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে লাইসেন্স।

শনিবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জিলকদ মাসের শুরু থেকে মহররমের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি ও নিয়ম কার্যকর থাকবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একই অপরাধ বারবার করে, তাহলে প্রতিবারই জরিমানার পরিমাণ বাড়বে। যদি হজের মৌসুম চলাকালীন কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয় এবং পরে আবারও একই ভুল হয়, তাহলে আগের চেয়ে দ্বিগুণ জরিমানা আদায় করা হবে। এমনকি হজের মৌসুম শেষ হওয়ার পরেও যদি আগের কোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবু কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি অপরাধের ধরন বুঝে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান পরপর তিনবার নিয়ম ভাঙলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। এ ছাড়া সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত বা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে কর্তৃপক্ষের হাতে।

সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে এই জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচতারকা হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ মানের আবাসনব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানের আকার ও সক্ষমতা অনুযায়ী এই জরিমানা বণ্টন করা হয়েছে। যেমন ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৫ শতাংশ, ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০ শতাংশ, মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শতভাগ জরিমানা কার্যকর হবে।

মক্কা ও মদিনার হোটেল ও আবাসন খাতের জন্য জরিমানার হার ২ হাজার রিয়াল থেকে শুরু করে ১৪ হাজার রিয়াল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অস্থায়ী আবাসন বা হজের বিশেষ ক্যাম্পগুলোর ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ১ হাজার থেকে ৫০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

মূলত আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করতেই সৌদি সরকার এই হার্ডলাইন নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যারা হাজিদের সেবায় অবহেলা করবে বা প্রতারণার আশ্রয় নেবে, তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণের স্পষ্ট বার্তা দিল দেশটি।

নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলা, ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহতের শঙ্কা


নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলা, ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহতের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার বোর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবোর একটি বাজারে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। এতে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল শনিবার রাতে জিল্লি নামে ওই গ্রাম্য বাজারে এ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় দুইশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও এক কাউন্সিলর।

নাইজেরিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে। তবে বাজারে হামলার বিষয়টি বিমানবাহিনী উল্লেখ করেনি।

যেখানে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে মিলিশিয়াদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এতে সেখানে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওই অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বোর্নোর সীমান্তবর্তী ইয়োবোর গেইদাম বিভাগের ফুচিমেরাম প্রধান ও কাউন্সিলর লাওয়ান জান্না নুর বলেছেন, আহতদের ইয়োবো ও বোর্নোতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “জিল্লি বাজারে একটি খুবই বিপর্যয়কর একটি ঘটনা। বাজারে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।”

সেখানকার তিনজন বাসিন্দা ও একটি এনজিও জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২০০ জনের বেশি হবে।

দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে ইস্তানবুল, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টের চেষ্টা

দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে ইস্তানবুল, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টের চেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলা, প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এই যুদ্ধ ঝুঁকির মুখে ফেলেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই বৈশ্বিক পুঁজি কেন্দ্রগুলোকে। এ অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিনিয়োগকারী ও সংস্থাগুলোকে নিজ দেশে আকৃষ্ট করার উপায় খুঁজছে তুরস্ক ।

মিডল ইস্ট আই-কে একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বলেছেন, আঙ্কারা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর ছাড় এবং অন্যান্য সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা ইতোমধ্যে ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারে (আইএফসি) প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক কেন্দ্র এবং আবুধাবি ও দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করে হামলা চালায় ইরান। এর ফলে সেখানকার কিছু সংস্থা তাদের ব্যবসাবাণিজ্য তুরস্কে সরিয়ে আনতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তি স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা এবং ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইস্তানবুল হচ্ছে তুরস্কের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে রয়েছে আইএফসি। আছে ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা দিয়েছে সরকার। যার মধ্যে রয়েছে করমুক্ত রপ্তানি আয়সহ সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলোতে আনুষঙ্গিক চার্জ থেকে অব্যাহতি।

এছাড়া রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য বেতন কর প্রণোদনা, যেখানে বিদেশি কর্মী কত বছর ধরে কাজ করছেন তার ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রকৃত বেতনের ৬০ বা ৮০ শতাংশ আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, তুরস্ক সরকার এই কর প্রণোদনাগুলোর কিছু অংশ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য আরো ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিগুলোকে বিদেশি কেনা পণ্য নিজে বিক্রি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিক্রির পর অর্জিত আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে দেখা গেছে, বিনিয়োগের জন্য তুরস্কের প্রতি বিদেশি সংস্থাগুলোর হয়তো আগ্রহ বাড়ছে । এই মাসের শুরুতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত একটি বৈঠকে ইস্তানবুলে বিশ্বব্যাপী ৪০ জন সিইও-কে আপ্যায়ন করেছিলেন। অংশগ্রহণ করা কোম্পানিগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার।

এদিকে ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের প্রধান নির্বাহী আহমেত ইহসান এরদেম এই মাসের শুরুতে রয়টার্সকে বলেছিলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলো ইরান যুদ্ধের কারণে আংশিকভাবে আইএফসিতে স্থানান্তর বা তুরস্কে তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে এবং সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী।

তবে একজন আন্তর্জাতিক ব্যাংকার মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, তুরস্কের আদালতকে কেউ বিশ্বাস করে না। কারণ তুরস্কের স্টিকি মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে, যা এ বছর ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরো বাড়বে। এছাড়া দেশটির আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কারণ তারাও দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের মতো আলাদা বাণিজ্যিক আইনের অধীনে কাজ করে। এর ফলে বিদেশিদের কাছে এটি অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি তিক্ত অভিজ্ঞতারও জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ তুর্কি কর্মকর্তা বলেছেন, আঙ্কারা যদি ডেটা সেন্টার এবং এআই কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করতে চায় তাহলে এই উদ্বেগ দূর করতে আইনি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

হরমুজ প্রণালীর বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

 

হরমুজ প্রণালীর বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার সকাল ১০টা থেকে এ অবরোধ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে বেসামিরক নৌযানের জন্য খোলা থাকলেও কোনো সামরিক জাহাজ চলতে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। মূলত তখন থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের এ গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার অপেক্ষায় বসে নেই কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো। কাতার গতকালই সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব আজ জানিয়েছে যে তারা তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই পাইপলাইনটি এখন পুরোপুরি সচল।

এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মানিফা তেলক্ষেত্রটিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

সংকটকালীন এ পরিস্থিতিতে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে এখন বিকল্প পথ ও নতুন কৌশলই উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Sunday, 12 April 2026

তাওহিদের সৌন্দর্য ও মানুষের মুক্তি

 

তাওহিদের সৌন্দর্য ও মানুষের মুক্তি


ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ-অর্থাৎ এক আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন। তাওহিদ শুধু একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন, যা মানুষের চিন্তা, চেতনা, আচরণ এবং সমাজব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাওহিদের সৌন্দর্য এমন এক আলো, যা মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে এবং তাকে সব ধরনের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দেয়।

তাওহিদের মূল বক্তব্য হলো সৃষ্টিকর্তা এক, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘বলুন, তিনি আল্লাহ, এক; আল্লাহ অমুখাপেক্ষী; তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি; আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা আল-ইখলাস : ১-৪) এই সংক্ষিপ্ত সুরাটি তাওহিদের সারমর্মকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরে। এখানে আল্লাহর একত্ব, তাঁর পরিপূর্ণতা এবং সৃষ্টির থেকে তাঁর সম্পূর্ণ ভিন্নতা স্পষ্ট করা হয়েছে।

তাওহিদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, এটি মানুষের অন্তরকে শান্তি দেয়। যখন একজন মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, তার জীবনের সবকিছু একমাত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে, তখন সে দুশ্চিন্তা, ভয় ও হতাশা থেকে মুক্ত থাকে। সে জানে, যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে এবং এতে তার জন্য কোনো না কোনো কল্যাণ রয়েছে। এই বিশ্বাস মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রদান করে।

তাওহিদ মানুষের মুক্তিরও প্রধান মাধ্যম। ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষ নানা রকম কুসংস্কার, মূর্তিপূজা এবং মানুষের বানানো মতবাদের কাছে নিজেদের সমর্পণ করেছে। ফলে তারা প্রকৃত স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু তাওহিদ মানুষকে শেখায় কাউকে নয়, শুধু আল্লাহকেই ইবাদত করতে হবে এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। এর ফলে মানুষ অন্যের গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়। সে আর কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা শক্তির কাছে নিজেকে নত করে না।

তাওহিদ মানুষের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে। একজন তাওহিদে বিশ্বাসী ব্যক্তি জানে যে, সে আল্লাহর বান্দা এটি তার জন্য গৌরবের বিষয়। তাই সে অন্যায়, অবিচার বা অন্য কারো আধিপত্য মেনে নেয় না। সে সত্য ও ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকে, কারণ তার ভরসা একমাত্র আল্লাহ। এই বিশ্বাস একজন মানুষকে সাহসী, ন্যায়পরায়ণ এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

এছাড়া তাওহিদ সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। যখন সবাই বিশ্বাস করে যে, তাদের সৃষ্টিকর্তা এক এবং তারা সবাই তাঁর বান্দা, তখন জাতি, বর্ণ, ধনী-গরিবের ভেদাভেদ কমে আসে। ইসলাম এই তাওহিদের ভিত্তিতেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে চায়, যেখানে সবাই সমান মর্যাদা পায় এবং একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকে। হাদিসে মহানবী (সা.) তাওহিদের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, ‘যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (বুখারি : ১২৮) এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, তাওহিদ শুধু দুনিয়ার শান্তিই নয়, আখিরাতের মুক্তিরও চাবিকাঠি।

তাওহিদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি মানুষকে জবাবদিহির অনুভূতি দেয়। যখন কেউ বিশ্বাস করে যে, এক আল্লাহ সবকিছু দেখছেন এবং একদিন তাঁর সামনে হিসাব দিতে হবে, তখন সে নিজের কাজের ব্যাপারে সচেতন হয়। ফলে সে অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে এবং সৎপথে চলার চেষ্টা করে।

তাওহিদ ইসলামের প্রাণ, যা মানুষের জীবনে সৌন্দর্য, শান্তি ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। এটি মানুষকে সব ধরনের শিরক, কুসংস্কার ও দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এবং তাকে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত তাওহিদের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা, তা হৃদয়ে ধারণ করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা। তাহলেই আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারব।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বড় পাঁচ ইস্যু

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বড় পাঁচ ইস্যু

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য প্রস্তুত ইসলামাবাদ। আলোচনাকে সামনে রেখে শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী। রাস্তার প্রবেশপথের ফুটপাত নতুন করে হলুদ ও কালোতে রঙিন করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান সরকার যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আশাবাদী। তারা জোর দিয়ে বলছে, অন্য অনেক দেশের তুলনায় তারা উভয়পক্ষেরই আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, তিনিও আশার কথা শুনিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে তিনি বলেন, ইরান যদি সৎভাবে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি তারা আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের গেম খেলার চেষ্টা করে, তাহলে তা আলোচনায় কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। সত্যি বলতে, এ আলোচনা সফল হওয়া নিয়ে পাহাড়সম বাধাও রয়েছে।

লেবানন

ইরানের মিত্র লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের চলমান হামলা যুদ্ধবিরতির আলোচনা সফল হওয়ার পথে হুমকি তৈরি করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখলে আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়বে। ইসরাইলকে হুমকি দিয়ে তিনি আরো বলেন, আমাদের আঙুল ট্রিগারের ওপরই আছে। ইরান কখনোই লেবাননের ভাইবোনদের ছেড়ে যাবে না।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে ‘কোনো যুদ্ধবিরতি নেই’, তবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের বারবার এলাকা ছাড়ার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সেখানে আর বড় কোনো সামরিক হামলা চালানো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলের হামলা এখন আগের তুলনায় ‘কিছুটা কম তীব্র’ হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ পদক্ষেপ ইরানকে খুশি করতে নামকাওয়াস্তে হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

হরমুজ প্রণালি

শুরুতেই যে বিষয়টি যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে তার একটি হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান শুরুতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা বললেও এখন তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, এটা আমাদের চুক্তি ছিল না। ইরান ঠিক কাজ করেনি।

বর্তমানে খুব অল্পসংখ্যক জাহাজই হরমুজ অতিক্রম করতে পারছে। শত শত জাহাজ এবং আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক এখনো পারস্য উপসাগরের ভেতরে আটকে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ইরান এটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। তারা এটিকে নিজেদের সার্বভৌম জলসীমা হিসেবে দাবি করছে এবং কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে আর কোনটি পারবে না, তা নির্ধারণে নতুন নিয়ম প্রণয়নের কথা বলছে।

বৃহস্পতিবার ইরান ঘোষণা দিয়েছে, বিদ্যমান দুটি ট্রাফিক চ্যানেলের উত্তরে নতুন ট্রানজিট রুট তৈরি করা হয়েছে। শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উদ্বেগকে সামনে রেখে এক বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন ধরনের জাহাজবিধ্বংসী মাইনের উপস্থিতি এড়াতেই নতুন এ রুট জরুরি ছিল।

সম্প্রতি কিছু জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে ২০ লাখ ডলার (প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড) টোল দিয়েছে—এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যেন ট্যাংকারগুলোর কাছ থেকে কোনো ফি না নেয়।

পারমাণবিক শক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি হলো পারমাণবিক ইস্যু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, এ নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য তিনি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছেন।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করেনি—যদিও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এ দাবিকে গভীর সন্দেহের চোখে দেখে। তবে তারা জোর দিয়ে বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র নয় বরং এনপিটি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

এদিকে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে ট্রাম্প কার্যকর ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও তাতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের নিজস্ব ১৫ দফা পরিকল্পনায় দাবি করা হয়েছে, ইরানের মাটিতে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এমনকি তা অর্জনের সক্ষমতাও তৈরি করতে পারবে না।

এ জটিল বিষয়টি সমাধান করতে আন্তর্জাতিক আলোচকদের ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তিতে পৌঁছতে বহু বছর সময় লেগেছিল, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে সমাধান করা হয়। এ অবস্থায় আবারও ইস্যুটি নিয়ে নতুন করে দুদেশ আলোচনায় প্রস্তুত কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

ইরানের আঞ্চলিক মিত্র

ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অন্যতম হলো লেবাননের সশস্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, গাজার হামাস এবং ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী। যারা তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে সহযোগিতা করছে। এর ফলে ইরান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও চলছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এ মিত্র শক্তিগুলোও (অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স) নিয়মিত হামলার সম্মুখীন হচ্ছে। ইরানের আরেক মিত্র সিরিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদও আগেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইল ইরানের এ মিত্র শক্তিগুলোকে ‘অ্যাক্সিস অব ইভিল’ হিসেবে দেখে, যা তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি এবং এদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা জরুরি বলে মনে করে তারা।

যখন ইরানের অর্থনীতি চাপে পড়ছে, তখন অনেক ইরানি নাগরিকও চান যে তাদের সরকার বিদেশে প্রভাব বিস্তারের পেছনে কম খরচ করে বরং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিক। যদিও ইরান তাদের মিত্রদের থেকে সরে আসতে প্রস্তুত এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ইরানের ইসলামিক শাসনব্যবস্থা বহু দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে। ফলে যখনই কোনো আলোচনায় শর্তের বিষয়টি সামনে আসে, তখন তারা আন্তর্জাতিক এ নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

শুক্রবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আলোচনা শুরুর আগেই প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে হবে।

তবে ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, সেখানে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে গালিবাফ কোন চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, কেবল আলোচনা শুরুর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এত বড় ছাড় দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়।

ইরানের শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা বাতিল হতে পারে

ইরানের শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা বাতিল হতে পারে


ইরানের দেওয়া পূর্বশর্তগুলো পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা এখনও বাতিল হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ চ্যানেল আইআরআইএনএনের এক সাংবাদিক ইসলামাবাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই সাংবাদিক বলেন, ইরানের স্বার্থ, দাবি আর রেড লাইনের (চূড়ান্ত সীমা) শর্ত পূরণ না হলে সেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসাকেই একটি ‘সাফল্য’ হিসেবে দেখতে পারে ইরান; কর্মকর্তারা যাকে বলছেন ‘জোরালো কূটনীতি’।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বর্তমানে ওয়াশিংটনের প্রতি বিশ্বাসের ঘাটতি এবং তেহরানের নিজস্ব শর্তগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং দাবি পূরণ না হলে আলোচনা ছাড়াই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে দেশটি।

হজযাত্রীদের সেবায় অনিয়ম করলে গুনতে হবে জরিমানা

হজযাত্রীদের সেবার মান উন্নত করতে এবং হয়রানি বন্ধে মক্কা ও মদিনার আবাসন ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে সৌদি...