Tuesday, 10 March 2026

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে মাহে রমজান

 

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে মাহে রমজান

বহু কল্যাণের উৎস মাহে রমজানের অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। প্রতিটি মুসলিমের জন্য রমজানের বাকি সময়টুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোজার লক্ষ্য হলো মানুষকে মুত্তাকি (আল্লাহভীরু) বানানো। এরশাদ হচ্ছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে সিয়াম যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)

কোরআনে তাকওয়া শব্দটি এসেছে ১৫ বার। তাছাড়াও অনেকবার আল্লাহ তায়ালা ‘ইত্তাকু’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তাকওয়া কী? তাকওয়া অর্থ আল্লাহভীতি। তাফসিরে এসেছেÑ ‘আল্লাহর আদেশসমূহ পালন ও নিষেধগুলো থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়া।’ (তাফসিরে জালালাইন : ১/৯)। ব্যাপক অর্থে, তাকওয়া তো আল্লাহর ভয়ে হালাল-হারামের বিধানের প্রতি মানবমনের ওই শ্রদ্ধা ও ভীতি যা মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে গোপনে অপরাধ করার প্রবণতা থাকে। যেখানে পুলিশ কিংবা কোনো মানুষ পাহারা দিতে পারে না। সেই গোপন অপরাধের জায়গায় আল্লাহর ভয়ের অদৃশ্য পাহারাটাই হলো তাকওয়া। রোজার মাধ্যমে এই পাহারা মজবুত হয়। আল্লাহ তাআলা বিশ্বমানবতার জন্য যে সংবিধান (কোরআন) নাজিল করেছেন তাকওয়ার আদেশের মাধ্যমে তার প্রতি সশ্রদ্ধ করতে চেয়েছেন। কারণ, জনগণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে কোনো আইনই প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে সমাজ থেকে অপরাধ দমনে দুটি ব্যবস্থা বিদ্যমান। ১. আইন, ২. আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পৃথিবীর বাস্তবতা বলছে, আইনের প্রতি জনগণ শ্রদ্ধাশীল না হলে শুধু এসব দিয়ে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয়। বরং অনেক সময় তা হয়ে যায় বিপরীত। এর মূল কারণ হলো অধিকাংশ মানুষই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।

পক্ষান্তরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই পৃথিবীকে অপরাধ থেকে মুক্ত করার জন্য যে ঐশী ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন তার ধাপ হচ্ছে ৩টি। ১. আইন (কোরআন-সুন্নাহ) ২. তাকওয়া (আইনের প্রতি মানুষকে শ্রদ্ধাশীল করে তোলা)। ৩. আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ইতিহাস সাক্ষী, এই ব্যবস্থাপত্র শতভাগ সফল হয়েছিল। কারণ এতে মহান আল্লাহ আইন প্রণয়নের পরই মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন।

একটি দেশের ক্ষুদ্রতম ইউনিট (একক) হচ্ছে নাগরিক, প্রত্যেকটি নাগরিক যতক্ষণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হবে ততক্ষণ সে আইন সমাজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আইনকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি তথা সবাইকে অপরাধপ্রবণতা থেকে বাঁচানোর জন্যই রোজার ব্যবস্থা। রোজার সংজ্ঞার দিকে তাকালেই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। এতে বলা হয়, ‘পানাহার, সহবাস ও সব ধরনের গুনাহের কাজ ছেড়ে দেওয়াই রোজা’। শুধু পানাহার ত্যাগ করে গুনাহের কাজ না ছাড়লে তা কিছুতেই রোজা হবে না। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পানাহার বর্জনের নাম সিয়াম নয়; সিয়াম হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা এবং কাজ বর্জন করা। (বায়হাকি: ৪/২৭০)। অর্থাৎ রোজার মাধ্যমে পবিত্র কোরআনে নিষিদ্ধ জিনিসগুলো ছেড়ে দেয়ার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। নিজেকে বিরত রাখতে হবে সব ধরনের মিথ্যা ও পাপাচার থেকে।

কোরআনের শান্তির সমাজ গড়ার মিশন বাস্তবায়নের মতো যোগ্য ও তাকওয়াসম্পন্ন (মুত্তাকি) নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাপ, মিথ্যা কথা, অন্যায় কাজ ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করতে না পারবে তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহ তায়ালার কোনো প্রয়োজন নেই। (বোখারি : ৫/২২৫১)। সিয়াম কোরআনের আইনের প্রতি মানুষের মনে ভীতি ও শ্রদ্ধা তৈরি করবে সযতনে। পানাহারকে নিয়ন্ত্রণ করে আর অপরাধ প্রবণতাকে করবে সমূলে উৎপাটন। রমজান শেষে পানাহার চালু হবে বটে কিন্তু অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার যে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হয়েছিল তা চলবে সারা বছর। তাকওয়ার মাধ্যমে অপরাধ দমন হবে সমাজ থেকে। মানুষ বাঁচবে মানুষের অনিষ্ট থেকে। কেউ কারো ক্ষতি করবে না। প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তির সমাজে।

লেবানন থেকে সিরিয়া গেছেন ৮০ হাজার মানুষ


লেবানন থেকে সিরিয়া গেছেন ৮০ হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত


ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে লেবানন থেকে ৮০ হাজার মানুষ সিরিয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর।

সংস্থার মুখপাত্র সেলিন শ্মিট সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে জানিয়েছেন, অনেক পরিবার খুব দ্রুত লেবানন ছেড়ে গেছে এবং অনেকেই ব্যক্তিগত কোনো জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগও পায়নি। তারা এখন বেশিরভাগই আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।

শ্মিট বলেন, এখন পর্যন্ত জরুরি আশ্রয়ের জন্য কোনো আবেদন নথিভুক্ত হয়নি।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে গ্যাস সরবরাহে কড়াকড়ি, রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার শঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে গ্যাস সরবরাহে কড়াকড়ি, রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রাকৃতিক এবং রান্নার গ্যাসের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দিয়েছে ভারত। দেশটির সরকারের এই নির্দেশে রেস্তোরাঁগুলো ব্যাপক পরিসরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ ভারত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চতুর্থ বৃহত্তম এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। রান্না ও কল-কারখানার কাজে ব্যবহৃত এসব গ্যাসের বিশাল অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে ভারত।

মঙ্গলবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আদেশে বলা হয়েছে, ‌‌মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। নতুন এসব নিয়ম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে গ্যাসের সুষম বণ্টন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাসাবাড়ি, পরিবহন খাত এবং এলপিজি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তবে সার কারখানা ও চা শিল্পের মতো অন্যান্য সব খাত ‘কার্যকরী প্রাপ্যতার সাপেক্ষে’ তাদের চাহিদার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্যাস পাবে। এই ঘাটতি মেটাতে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা গ্যাস পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে।

এরই মধ্যে সিরামিক ও টাইলস-সহ ভারতীয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বলেছে, তারা গ্যাসের সরবরাহ হ্রাসের মুখে পড়েছে; যা তাদের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোও তাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এর আগে, দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অপর এক আদেশে বাসাবাড়িতে এলপিজির সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।

রমজানের মহোত্তম আমল ইতিকাফ


রমজানের মহোত্তম আমল ইতিকাফ

মাহে রমজানের শেষদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। ইতিকাফের শাব্দিক অর্থ অবস্থান করা। শরীয়তের পরিভাষায় ‘ইতিকাফ’কে বলা হয়Ñ পুরুষের জন্য নিয়তসহ এমন মসজিদে অবস্থান করা যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

আর নারীদের রমজান মাসের শেষ দশদিনের জন্য ইতিকাফ হলো, নিয়তসহ ঘরের ভেতর নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অবস্থান করা। রাসুল (সা.) রমজান মাসের শেষ দশদিনে ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফ করা সুন্নতে কেফায়া। সবার পক্ষ থেকে একজন আদায় করলে সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। তবে একজনও না করলে মহল্লার সবাই গোনাহগার হবে।

ইতিকাফের জন্য রমজান মাসের ২০ তারিখ সূর্যাস্তের আগে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। ২৯ বা ৩০ তারিখ শাওয়ালের চাঁদ দেখার পর ইতিকাফ শেষ হয়। ইতিকাফ সহিহ হওয়ার শর্ত হলো, মুসলমান হওয়া, জ্ঞানবান হওয়া, জানাবাত (গোসল ফরজ) ও হায়েজ-নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া। ইতিকাফ অবস্থায় নেকের কথা ছাড়া অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা। এ সময় কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করা, হাদিস পাঠ করা, ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও অন্যান্য নবীর সিরাত পাঠ করা ও ধর্মীয় গ্রন্থাদি অধ্যয়ন করা। ইতিকাফকারী ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিমিত্তে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে তার ইবাদতে নিয়োজিত রাখবে এবং দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে দূরে থাকবে। এ সময় স্ত্রী সংস্রবও নিষিদ্ধ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ- ‘ওয়ালা তুবাশিরুহুন্না ওয়া আনতুম আকিফুনা ফিল মাসজিদ’। অর্থাৎÑতোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ করবে তখন স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না। (সুরা আল-বাকারা : ১৮৭) সৈয়দ কুতুব শহীদ (রহ.) তার তাফসীর ‘ফি যিলালিল কোরআন’-এ এই নির্দেশনার ব্যাখ্যায় বলেছেন, (ইতিকাফের) সময়টি একান্তভাবে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্যই নির্দিষ্ট। এ কারণে রোজার মাসে অন্য সময়ে রাতে স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ হলেও ইতিকাফের সময় স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাতে এই সময়ে নিজেকে পুরোপুরিভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করা যায়।

ইতিকাফের জন্য নিয়ত করা এর অন্যতম শর্ত। বিনা নিয়তে ইতিকাফ করলে তা সহিহ হবে না। এমন মসজিদে ইতিকাফ করা উচিত, যেখানে নামাজের জামাত হয়। ইতিকাফের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান হলো মসজিদুল হারাম, এরপর মসজিদে নববী (সা.), তারপর বায়তুল মোকাদ্দাস, তারপর জামে মসজিদ। মসজিদে ইতিকাফের নিয়তের সঙ্গে অবস্থান করাই উত্তম। বিনা কারণে মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভঙ্গ হবে। বিনা ওজরে দিনে বা রাতে সামান্য সময়ের জন্য মসজিদ থেকে বের হলেও, ইচ্ছা কিংবা ভুল করে, ইতিকাফ ভঙ্গ হবে। একইভাবে ইতিকাফরত নারী তার ঘরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের হবে না। তবে প্রস্রাব, পায়খানা ও জুমার নামাজ আদায় ইত্যাদি ওজরের কারণে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে।

ইতিকাফের স্থানেই ঘুম ও পানাহার বিধেয়। এর জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। মসজিদ ভেঙে যাওয়ার কারণে কিংবা জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার কারণে ইতিকাফকারী ব্যক্তি যদি মসজিদ থেকে বের হয়ে সঙ্গে সঙ্গে অন্য মসজিদে চলে যায়, তবে তার ইতিকাফ ফাসিদ বা ভঙ্গ হবে না। জান বা মালের ক্ষতির আশঙ্কা হলে একই বিধান প্রযোজ্য হবে। অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করার জন্য, কোনো মৃত ব্যক্তিকে দেখার উদ্দেশ্যে কিংবা তার জানাজা আদায়ের জন্য ইতিকাফ হতে বের হলে ইতিকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে। তবে কেউ ইতিকাফের নিয়তের সময় যদি রোগীর সেবা, জানাজার নামাজ ও ইলমের মজলিসে যাওয়ার মানত করে রাখে, তাহলে তার জন্য এসব জায়েজ হবে।

২১তম তারাবি: আল্লাহর রহমতে নিরাশ হয়ো না


২১তম তারাবি: আল্লাহর রহমতে নিরাশ হয়ো না

আজ ২১তম তারাবিতে সূরা জুমার (৩২-৭৫), সূরা মোমিন, সূরা হামিম সাজদা (১-৪৬) পঠিত হবে। আজ পড়া হবে ২৪তম পারা। তারাবিতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো-

৩৯. সূরা জুমার (৩২-৭৫)

পারার শুরুতে মোমিন ও কাফেরের শেষ পরিণতি প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বান্দার জন্য তো আল্লাহই যথেষ্ট। এরপর রয়েছে মানুষের মৃত্যু ও কেয়ামত প্রসঙ্গে আলোচনা। অপরাধী, গোনাহগার, এমনকি কাফের-মোশরেকদের জন্যও আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের দরজা সদা খোলা, বান্দা তওবা করা মাত্রই আল্লাহ তা কবুল করেনÑ এ কথা বলার পর সূরার শেষে আবারও কেয়ামত প্রসঙ্গে আলোচনা রয়েছে।

কেয়ামতের দিন কাফের ও মোশরেকদের টেনেহিঁচড়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে আর মুত্তাকিদের জান্নাতে প্রবেশের জন্য আহ্বান করা হবে। ফেরেশতারা তাদের অভ্যর্থনা জানাবেন, তাদের খেদমতে সালাম পেশ করবেন আর তারা আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে আপন নিবাস জান্নাতে প্রবেশ করবেন। (৬০-৭৩)।

৪০. সূরা মোমিন (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৮২, রুকু ৯)

এ সূরার আরেক নাম সূরা গাফির। সূরাটির আদ্যোপান্ত পাঠ করে দেখা যায়, সূরায় হক-বাতিল এবং হেদায়েত ও গোমরাহির মধ্যে বিরাজমান সংঘাতের বিবরণ স্পষ্টরূপে ফুটে উঠেছে। কোরআনুল কারিমের আলোচনার মাধ্যমে সূরাটির সূচনা। কোরআন নাজিল করেছেন সেই মহান সত্তা, যিনি পাপ মোচনকারী, তওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা এবং আপন বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল। ঈমানদারদের জন্য আল্লাহ তায়ালার আরশবহনকারী ফেরেশতাদের বিশেষ দোয়ার বিবরণ রয়েছে সূরায়। (৭-৯)। মোমিন বান্দার জন্য ফেরেশতাদের দোয়ার বিষয়টি আলোচনার পর জাহান্নামে কাফের-মোশরেকদের কী করুণ অবস্থা হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে। (১০-১২)।

কাফেরদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার শাস্তির বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফেরাউন-পরিবারের জনৈক মোমিন ব্যক্তির আলোচনা করা হয়েছে। তিনি ফেরাউন ও তার সভাসদদের মুসা নবীর অনুসরণের দাওয়াত দিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরাউন ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেই তার কথা উড়িয়ে দেয়। সে তার উজির হামানকে বলে, একটা প্রাসাদ বানাও, সেখানে চড়ে আমি দেখব মুসার ইলাহকে দেখা যায় কি না! মোমিন লোকটির সঙ্গে ফেরাউনের ঘটনার বিশ্লেষণ করলে সব যুগের জালেম, ধূর্ত ও চালাক শাসকদের একটি মূলনীতি বুঝে আসে। তা হলো জালেম শাসকরা কখনও হুমকি-ধামকির পথ অবলম্বন করে, আবার কখনও বিরোধীদের রায়, মতামত ও বক্তব্যকে জনগণের সামনে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে পেশ করে। এতে মানুষের কাছে বিরোধীদের বক্তব্য ও মতামতের গুরুত্ব হ্রাস পায়। অবশ্য হকপন্থিরা হুমকি-ধমকি বা ঠাট্টা-বিদ্রপের কোনো পরোয়া করেন না। তারা তাদের কাজ করে যান। ওই মোমিন ব্যক্তিটিও ফেরাউনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং হাসি-তামাশাকে একটুও আমলে নেননি; বরং তিনি দাওয়াতের কাজ

অব্যাহত রেখেছিলেন।

শেষে ফলাফল হয়েছিল এই যে, মোমিন ব্যক্তিটি আল্লাহ তায়ালার শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়েছেন আর ফেরাউন ও তার সহযোগীরা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে। এই আজাব কবরেও তাদের পিছু ছাড়বে না। সকাল-সন্ধ্যা তাদের ওপর পেশ করা হবে। আর আখেরাতে তো তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (২৭-৪৬)। এরপর মহান আল্লাহকে চেনার জন্য রবের কিছু নেয়ামত এবং মানবসৃষ্টির বিভিন্ন ধাপের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। (৬১-৬৯)। নবীজিকে সবরের নির্দেশ এবং দুনিয়া-আখেরাতে কাফেরদের পরিণতির বিবরণ দিয়ে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে। (৭৫-৮৫)।

৪১. সূরা হামিম সাজদা (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৫৪, রুকু ৬) সূরাটির আরেক নাম ফুসসিলাত। পবিত্র কোরআনের আলোচনা দিয়ে সূরাটির সূচনা। এরপর আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহের বিপরীতে মানুষের অকৃতজ্ঞতা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে আদ ও সামুদ জাতির আলোচনা করা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গই মানুষের পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষী দেবে। এরপর কেয়ামতের দিন কাফেরদের কী অবস্থা হবে, তার বিবরণ শেষে মোমিন বান্দাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘তারা একবার মনেপ্রাণে আল্লাহকে রব বলে মেনে নিলে আমরণ এ বিশ্বাসের ওপর অটুট-অবিচল থাকে। মৃত্যুর সময় এবং কেয়ামতের দিন ফেরেশতারা তাদের বলবেন, ভয় পেও না, জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো। দুনিয়া ও আখেরাতে আমরা হলাম তোমাদের বন্ধু।

জান্নাতে তোমাদের জন্য, তোমাদের মন যা চায় এমন সবকিছুই আছে।’ (৩০-৩১)। মন্দের প্রতিকারের উত্তম পন্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মন্দ আচরণের বিপরীতে তুমি উত্তম আচরণ উপহার দাও। এরপর আল্লাহকে চেনার কিছু নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে। নবীজিকে সবরের কথা বলা হয়েছে। এরপর কোরআনের প্রতি কাফেরদের আচরণ প্রসঙ্গে আলোচনা রয়েছে। পারার শেষাংশে আল্লাহ তায়ালার ন্যায়ানুগ ফয়সালার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘যে নেক আমল করবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই করবে। আর যে মন্দ কাজ করবে তার প্রতিফল সে নিজেই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি মোটেই জুলুম করেন না।’ (৪৬)।

Saturday, 7 March 2026

জানা গেল ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

 

জানা গেল ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে বলে জানিয়েছে শারজাহ একাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স ও টেকনোলজি।

একাডেমির জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, তাদের গণনা অনুযায়ী ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। ফলে ২০ মার্চ হবে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, ১৮ মার্চ (রমজানের ২৯তম দিন) চাঁদ দেখার প্রচলিত রাতে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে। তাই ওই দিন আমিরাতে নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না এবং ১৯ মার্চ রমজানের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হবে।

তবে ওই দিন আমিরাতে চাঁদ দেখা খুবই কঠিন হবে বলে জানিয়েছে একাডেমি। এমনকি দূরবীন ব্যবহার করেও দেখা কঠিন হতে পারে, যদিও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে চাঁদের ছবি ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।

তবে পশ্চিমের কিছু আরব ও মুসলিম দেশে ভৌগোলিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অবস্থার কারণে চাঁদ দেখা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

এই হিসাবের ভিত্তিতে ২০ মার্চ শুক্রবার আমিরাতসহ অনেক ইসলামি দেশে ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

১৮ তম তারাবি: কোরআন মহান আল্লাহর সত্য বাণী


১৮ তম তারাবি: কোরআন মহান আল্লাহর সত্য বাণী

আজ ১৮তম তারাবিতে সূরা আনকাবুত (৪৫-৬৯), সূরা রুম, সূরা লোকমান, সূরা আলিফ-লাম সাজদা এবং সূরা আহযাব (১-৩০) পড়া হবে। আজ পড়া হবে ২১তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলো।

২৯. সূরা আনকাবুত (৪৫-৬৯)

পারার প্রথম আয়াতে কোরআন শরিফ তেলাওয়াতের এবং সালাত কায়েমের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নবী মুহাম্মদ (সা.) এর নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নবীজি নিরক্ষর ছিলেন, না লিখতে পারতেন, না পড়তে জানতেন। যদি লেখাপড়া জানতেন, তাহলে বাতেল-পূজারিরা সন্দেহ করতে পারত যে, মুহাম্মদ পূর্ববর্তী কিতাব থেকে এসব জ্ঞান অর্জন করেছেন। আসলে বিশ্বাসীদের জন্য তো অলৌকিক বিষয় হিসেবে কোরআনই যথেষ্ট। এর পর অস্বীকারকারীদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে এবং মুত্তাকিদের আলোচনা করা হয়েছে। হিজরতের সময় এবং দ্বীনের পথে যত বিপদাপদ আসে, সবক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাতৃভূমি ত্যাগের সময় জীবিকা ও অর্থনৈতিক পেরেশানি থাকা স্বাভাবিক। তাই সান্ত¡না দিয়ে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ অসহায় প্রাণীদের রিজিকের ব্যবস্থা করেন; তোমাদের রিজিকের ব্যবস্থাও তিনি করবেন। সুতরাং হিজরতের সময় দারিদ্র্য বা নিঃস্ব হওয়ার ভয় করো না। সূরার শেষে আল্লাহ বলছেন, ‘যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, অতি অবশ্যই আমি তাদের আমার সুপথ দেখিয়ে দেই, নিশ্চয়ই আল্লাহ সজ্জনদের সঙ্গে আছেন।’

৩০. সূরা রুম (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৬০, রুকু ৬)

কোরআন কারিম আল্লাহ তায়ালার সত্য কালাম এবং চিরজীবন্ত মোজেজা। এর একটি প্রমাণ হলো- কোরআনে বহু ভবিষ্যদ্বাণী বর্ণিত হয়েছে, যুগে যুগে যা বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। সূরার শুরুতে এমনই একটি ভবিষ্যদ্বাণীর কথা বর্ণিত হয়েছে, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সূরাটি নাজিলের সময় রোমানরা জীবন-মৃত্যুর চরম সংকটকাল অতিক্রম করছিল। একের পর এক যুদ্ধে পরাজয় বরণ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে কোরআন ভবিষ্যদ্বাণী করে, কয়েক বছরের মধ্যেই রোমানরা পারসিকদের ওপর বিজয় লাভ করবে। মুশরিকরা ভবিষ্যদ্বাণীটি শুনে বিদ্রƒপ করেছিল। কিন্তু ঠিক ৯ বছরের মাথায় কোরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণীটি বাস্তবে পরিণত হলে মুশরিকদের মুখে চুন-কালি পড়ে যায়। এছাড়া সূরায় কিছু নিদর্শন এবং প্রমাণ বর্ণিত হয়েছে, যা আল্লাহর বড়ত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন। জীবিত থেকে মৃত, মৃত থেকে জীবিতকে মহান আল্লাহই সৃষ্টি করেন, নিষ্প্রাণ মাটি থেকে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেন। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা তিনিই পয়দা করেন। দিন-রাতে মানুষকে নিদ্রা দ্বারা প্রশান্তি দান করেন। আকাশে বিজলি চমকায়। এতে মনে আশা ও ভয়ের সঞ্চার হয়। অতঃপর বৃষ্টি হলে মৃত জমি পুনর্জীবিত হয়ে ওঠে। আসমান-জমিন এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু তিনিই সৃষ্টি করেছেন। কোন খুঁটি ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে আসমান। মানুষকে বিচিত্র ভাষা ও রং দান করেছেন। এসব কিছুই তাওহীদ ও একত্ববাদের শিক্ষা দেয়। সূরায় বলা হয়েছে, সুদ সম্পদ হ্রাস করে, জাকাত সম্পদ বৃদ্ধি করে। আরও বলা হয়েছে, পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রধান কারণ মানুষের গোনাহ। কেয়ামতের বিবরণের মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

৩১. সূরা লোকমান (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৩৪, রুকু ৪)

পবিত্র কোরআনের আলোচনা দিয়ে সূরাটির সূচনা। এরপর পুরা সূরায় রয়েছে আল্লাহর সৃষ্টি-কুশলতার বিবরণ। সূরার দ্বিতীয় রুকুতে সন্তানকে লক্ষ্য করে হজরত লোকমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ বর্ণিত হয়েছে। উপদেশগুলো হলো- আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো। সালাত কায়েম করো। সৎ কাজের আদেশ করবে, মন্দ কাজে বাধা দেবে আর বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করবে। অহংকার পরিহার করবে। চলাফেরায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে এবং নিচু স্বরে কথা বলবে। মনে রাখবে, ভালো-মন্দ তুমি যা-ই করবে, তা ক্ষুদ্র হোক কিংবা বড়, যেখানেই কর না কেন, কাল কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা হাজির করবেনই। সূরার শেষে বলা হয়েছে, মানুষের রিজিক, মৃত্যু, কেয়ামত, বৃষ্টি এবং মাতৃগর্ভের বাচ্চা- এ পাঁচ জিনিসের পূর্ণ ও সঠিক জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই আছে।

৩২. সূরা সিজদাহ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৩০, রুকু ৩)

পূর্বের সূরার মতো এ সূরাটির সূচনাও পবিত্র কোরআনের আলোচনা দিয়ে। এর পর সূরায় রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদ ও কুদরতের প্রমাণের বর্ণনা। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন এবং সুষম আকৃতির মানুষ সৃষ্টির বিবরণ। সূরায় মোমিন এবং অপরাধী উভয়ের দুনিয়া-আখেরাতের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। দুনিয়ায় মোমিনরা আল্লাহর আনুগত্য করে রাত জেগে জেগে ইবাদত করে। তাই আখিরাতে তাদের জন্য থাকবে নয়নজুড়ানো সব প্রতিদান। পক্ষান্তরে কাফেরদের জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি। সূরার শেষাংশে মূসা (আ.) কে তাওরাত দানের প্রসঙ্গ ধরে নবীজিকে বলা হয়েছে, আল্লাহর সঙ্গে আপনার সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত। সুতরাং কাফিরদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখুন।

৩৩. সূরা আহযাব (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ৭৩, রুকু ৯)

সূরায় মৌলিকভাবে তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছেঃ- সামাজিক শিষ্টাচার, ঐশী বিধিবিধান এবং নবী-যুগে সংগঠিত দুটি যুদ্ধ, তথা গাজওয়ায়ে আহজাব ও গাজওয়ায়ে বনি কুরাাইজা। সূরাটিতে যুদ্ধকালীন ঈমানদারদের অবস্থান এবং মুনাফিকদের কর্মকা-ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। জাহেলি যুগের কিছু ধ্যানধারণা ও বিশ্বাসের খ-ন করা হয়েছে। পালকপুত্র সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা বর্ণনা করা হয়েছে। একই হৃদয়ে ঈমান এবং কুফরের সম্মিলন ঘটতে পারে না মর্মে ঘোষণা রয়েছে। সূরায় বলা হয়েছে, আল্লাহ-প্রার্থীদের জন্য নবীজীবনেই রয়েছে উত্তম আদর্শ।

অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে মাহে রমজান

  বহু কল্যাণের উৎস মাহে রমজানের অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। প্রতিটি মুসলিমের জন্য রমজানের বাকি সময়টুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোজার লক্ষ্য হলো মানুষকে ...