Thursday, 4 June 2026

হজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে মক্কা ছাড়ছেন হাজিরা

 

হজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে মক্কা ছাড়ছেন হাজিরা
ছবি: সংগৃহীত

হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো মুসল্লি সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ত্যাগ করতে শুরু করেছেন।

এ বছর বিশ্বের ১৬৫টি দেশের ১৭ লাখেরও বেশি মুসলমান হজ পালনে অংশ নেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত।





হজ সম্পন্ন করার পর অনেক মুসল্লির মধ্যে আবেগঘন অনুভূতি দেখা গেছে।

মিশরের ৩৭ বছর বয়সী হাজি আহমেদ মামদুহ বলেন, ‌‌‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে আমি হজ সম্পন্ন করেছি। খুব আনন্দিত যে নিরাপদে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পেরেছি। প্রচণ্ড গরমে হজ সত্যিই খুব কষ্টকর।’

অন্যদিকে আলজেরিয়ার ৭৪ বছর বয়সী এক হাজি বলেন, ‘আমরা ৫০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর একসঙ্গে হজ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম, আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।’

মক্কার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উপত্যকায় হাজিরা রমি জামারাতের (প্রতীকী শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ) তৃতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এরপর তারা মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে ফিরে বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফুল বিদা) সম্পন্ন করেন।

তাওয়াফে হাজিরা কাবার চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন, যা হজের শেষ আনুষ্ঠানিকতার অংশ।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার পালন করা ফরজ। কয়েক দিনের এই ইবাদত মূলত বিভিন্ন শারীরিক ও আধ্যাত্মিক আনুষ্ঠানিকতার সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়।

লেবাননে হামলা চললে উত্তর ইসরাইল নিরাপদ থাকবে না: হিজবুল্লাহ

 

লেবাননে হামলা চললে উত্তর ইসরাইল নিরাপদ থাকবে না: হিজবুল্লাহ

লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী উত্তর ইসরাইলও নিরাপদ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম।





এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যতদিন লেবাননের জনগণ ও সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলার শিকার হবে, ততদিন সীমান্তের ওপারের ইসরাইলি এলাকাগুলোও হুমকির মুখে থাকবে।

নাঈম কাসেম আরও বলেন, হিজবুল্লাহর সামরিক উপস্থিতিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। তাঁর মতে, হিজবুল্লাহর অবস্থান বা মোতায়েনকে যুদ্ধবিরতি কিংবা ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। খবর আল জাজিরার।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংগঠনটি তাদের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে কোনো চাপ বা রাজনৈতিক শর্ত মেনে নেবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে নাঈম কাসেমের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও তাঁর মন্তব্যের বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পরাজয়ের পর ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: খামেনি

 

পরাজয়ের পর ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানিদের মধ্যে ‘বিভেদ’ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।





তেহরান থেকে এএফপি জানায়, এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘অশুভ শত্রু’ জনগণের মধ্যে ‘সন্দেহ, হতাশা, ভয়, অবিশ্বাস ও বিভেদের বীজ বপন’ করতে চাইছে।

বার্তায় বলা হয়, ‘এই অসৎ উদ্দেশ্যের মোকাবিলায় সবাইকে দৃঢ়তা, দূরদৃষ্টি এবং ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার মাধ্যমে তাদের অশুভ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে।’

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুবার্ষিকীর ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক নামাজের ইমাম খামেনির এ বার্তা পাঠ করে শোনান।

১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তার রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটায়।

১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তিনি নিহত হন, যার পর একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হয়।

৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থেমে গেলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর ৪ জুন আলি খামেনি স্মরণানুষ্ঠানে ভাষণ দিতেন। তবে এ বছর তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত সমাধিসৌধে তার প্রতিকৃতিসহ একটি খালি চেয়ার রাখা হয় বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে।

মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন এবং মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে ইরানিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, সমাধিসৌধে মোজতবা খামেনি এবং তার আগের দুই সর্বোচ্চ নেতার প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা এবং ইরান-সমর্থিত লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহর ব্যানার বহন করেন।

ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি অঞ্চলজুড়ে সংঘাত বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে লেবাননের পরিস্থিতিও রয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে।

Sunday, 24 May 2026

কোরবানি : ইতিহাস থেকে শিক্ষা

 

কোরবানি : ইতিহাস থেকে শিক্ষা

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। (আবু দাউদ : ১১৩৪; নাসায়ি : ১৫৫৬) জিলহজ মাসের ১০ তারিখে সারা বিশ্বের মুসলমানরা মহান আল্লাহর আদেশে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নিজ ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার ইচ্ছা এবং ত্যাগের স্মৃতি স্মরণে পশু কোরবানি করে থাকেন। আল্লাহতায়ালা ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে ছেলের পরিবর্তে তাকে পশু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। (সুরা সাফফাত : ১০৭)



কোরবানির পরিচয় ও ইতিহাস

‘ঈদ’ অর্থ-উৎসব এবং ‘আজহা’ অর্থÑকোরবানি বা উৎসর্গ। পারিভাষিক অর্থে, জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরয়ি তরিকায় পশু জবাই করাই হলো কোরবানি। মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম কোরবানি ছিল হজরত আদম (আ.)-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের কোরবানি। (সুরা মায়েদাহ : ২৭) হাবিলের নিষ্ঠাপূর্ণ কোরবানি গৃহীত হয়েছিল। কারণ, তিনি ছিলেন মুত্তাকি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ওই কোরবানি যাকে আগুন (অদৃশ্য থেকে) গ্রাস করে নেবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৩) এ পদ্ধতিই প্রাচীন শরিয়তে কবুলিয়তের নিদর্শন ছিল।

আমাদের কোরবানি মূলত ‘সুন্নতে ইবরাহিমি’। মুসলিম জাতির পিতা হিসেবে হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করেছেন। (সুরা হাজ্জ : ৭৮) ৮৬ বছর বয়সে তিনি আল্লাহর কাছে সৎকর্মশীল ছেলে চেয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল ছেলের সুসংবাদ দেন। (সুরা সাফফাত : ১০০-১০১)

সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি ছিল স্বপ্নের মাধ্যমে প্রিয় ছেলেকে কোরবানির নির্দেশ। ইবরাহিম (আ.) তাঁর ছেলেকে বললেন, ‘হে আমার ছেলে! আমি স্বপ্নে দেখেছি তোমাকে আমি জবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কী?’ ইসমাইল (আ.) জবাবে বললেন, ‘হে আমার পিতা! আপনাকে যা নির্দেশ করা হয়েছে, আপনি তা কার্যকর করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : ১০২) পিতা যখন ছেলেকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন, তখন আল্লাহ ঘোষণা করলেন—‘হে ইবরাহিম! তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়েছো। আমি সৎকর্মকারীদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।’ (সুরা সাফফাত : ১০৩-১০৯)

কোরআনের আলোকে গুরুত্ব ও লক্ষ্য

কোরবানি শুধু প্রথা নয়, বরং আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন। (সুরা হাজ্জ : ৩৬) আল্লাহতায়ালা প্রতিটি উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান রেখেছিলেন, যেন তারা আল্লাহর দেওয়া পশু জবেহ করার সময় তার নাম স্মরণ করে। (সুরা হাজ্জ : ৩৪) আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাওসার : ২)

তবে কোরবানির মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া। আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন : ‘মনে রেখো, কোরবানির গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হাজ্জ : ৩৭)

রাসুল (সা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি ঘোষণা করেন—‘আমার নামাজ, আমার ইবাদতের সমস্ত অনুষ্ঠান, আমার জীবন ও মৃত্যুÑসবকিছু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য।’ (সুরা আনআম : ১৬২-১৬৩)

প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা

১. আত্মসমর্পণ : ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় কীভাবে আবেগ ও সম্পদের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর নির্দেশের সামনে মাথা নত করতে হয়।

২. পশুত্ব বিসর্জন : কোরবানি শুধু পশু জবেহ নয়, বরং নিজের ক্ষুদ্রতা, নীচতা, স্বার্থপরতা ও আমিত্ব ত্যাগের শপথ।

৩. সামাজিক সাম্য : কোরবানি কোনো লোকদেখানো বা গোশত খাওয়ার উৎসব নয়। নিজের উপার্জিত উৎকৃষ্ট অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করাই প্রকৃত মুমিনের কাজ। (সুরা বাকারাহ : ২৬৭)

৪. তাকওয়ার পরীক্ষা : যারা অহংকার প্রদর্শনের জন্য বড় পশু কেনেন বা শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত করেন, তাদের কোরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। হালাল উপার্জন এবং ইখলাসই কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত।

উপসংহার : তাকওয়ার কষ্টিপাথরে যাচাই করলে দেখা যায়, কোরবানি হলো আল্লাহর প্রতি পরম প্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ইবরাহিম (আ.) ও তার পরিবারের সেই অবিস্মরণীয় আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের জান-মাল ও প্রিয়তম সবকিছু আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। কারণ আল্লাহ শুধু মুত্তাকিদের আদর্শকেই উত্তম আদর্শ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। (সুরা মুমতাহিনা : ৪)

এআই কীভাবে ইন্টারনেটকে চিরতরে বদলে দিচ্ছে

 

এআই কীভাবে ইন্টারনেটকে চিরতরে বদলে দিচ্ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে—বিশেষ করে অনলাইন সার্চ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ই-কমার্সে। ব্যবহারকারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল, দীর্ঘ এবং কথোপকথনের মতো প্রশ্ন করছেন, যা ইন্টারনেটের কাজের কাঠামোকেই নতুন করে গড়ে তুলছে।

গুগল সার্চ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি স্টেইন বলেন, মানুষ এখন এমন সব প্রশ্ন করছে যার সরাসরি উত্তর ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় না। এই পরিবর্তনের কারণেই গুগল তাদের সার্চ সিস্টেমে বড় ধরনের আপগ্রেড আনছে, যেখানে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভিজ্যুয়াল ও ইন্টারেক্টিভভাবে ফলাফল দেখানো হবে।



বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ব্যবহারকারীরা শুধু কীওয়ার্ড নয়, বরং পুরো প্রশ্ন বা কথোপকথনের মতো বাক্য ব্যবহার করছেন। এসইও প্রতিষ্ঠান ফার্ম সেমরাশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও কথোপকথনভিত্তিক সার্চ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যদিও এখনো অধিকাংশ ব্যবহারকারী সংক্ষিপ্ত শব্দ ব্যবহার করেন।

গুগল জানিয়েছে, ছবি বা স্ক্রিনের অংশ ব্যবহার করে সার্চ করার প্রবণতা বছরে ৬০ শতাংশ হারে বাড়ছে। পাশাপাশি তাদের “এ আই মোড” ব্যবহারও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে সার্চ আরও দীর্ঘ ও কথোপকথনভিত্তিক হয়ে উঠছে।

চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। মানুষ এখন তথ্য সারসংক্ষেপ করা, তুলনা করা এবং কনটেন্ট তৈরির জন্য আলাদা আলাদা এআই টুল ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি থেকে আসা ব্যবহার আবার গুগলে ফিরে যাচ্ছে, যা দুই প্ল্যাটফর্মের মিলিত ব্যবহারের প্রবণতা দেখায়।

এআই-এর প্রভাব শুধু সার্চেই সীমাবদ্ধ নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভার্চুয়াল ও এআই-নির্ভর ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি হচ্ছে, যারা বাস্তব মানুষের মতো কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস এবং গুগল নতুন এআই মডেল, চ্যাট ফিচার এবং ভার্চুয়াল অ্যাভাটার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতাকে আরও বদলে দিচ্ছে।

অনলাইন শপিংয়েও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এআই-চালিত টুল ব্যবহার করে রিটেইল ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক কয়েকশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অ্যামাজনসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন এআই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও পণ্য তুলনা করার টুল তৈরি করছে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

গুগলও নতুন “ইউনিভার্সাল শপিং কার্ট” চালু করেছে, যেখানে বিভিন্ন অনলাইন দোকানের পণ্য একসঙ্গে যুক্ত করা যায়। এতে ব্যবহারকারীর কেনাকাটার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও একীভূত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-নির্ভর সার্চ ফলাফল সরাসরি উত্তর দেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে ক্লিক কমতে পারে, তবে যারা ক্লিক করছেন তারা বেশি কার্যকর ব্যবহারকারী—যেমন কেনাকাটা বা বুকিং সম্পন্ন করা।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট এখন একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সার্চ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন শপিং—সব ক্ষেত্রেই এআই ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে পারে

হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলি, আহত ২

 

হোয়াইট হাউসের কাছে গোলাগুলি, আহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের কাছে সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ ও ১৭তম স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের সংযোগস্থলের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, অস্ত্রধারী একজন ব্যক্তিকে ঘিরে খবর পাওয়ার পর সিক্রেট সার্ভিসের ইউনিফর্মধারী সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।



ঘটনার সময় হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি অবস্থানরত সাংবাদিকরা টানা গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে পুরো এলাকা লকডাউন করা হয় এবং সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

সিএনএনের সাংবাদিকদের বর্ণনায় বলা হয়েছে, কয়েক ডজন গুলির শব্দ শোনার পর হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে থাকা সংবাদকর্মীদের দ্রুত প্রেস ব্রিফিং রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের আশ্রয় নিতে বলা হয় এবং সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা “নিচে শুয়ে পড়ুন” ও “গুলি চলছে” বলে সতর্ক করেন।

ঘটনার পর রাইফেলধারী সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের হোয়াইট হাউসের নর্থ লন এলাকায় টহল দিতে এবং প্রেস ব্রিফিং রুম ঘিরে ফেলতে দেখা যায়। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের কিছু পরে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।

ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, এফবিআই ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে জানানো হবে।

সূত্র: সিএনএন

হজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে মক্কা ছাড়ছেন হাজিরা

  ছবি: সংগৃহীত হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো মুসল্লি সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ত্যাগ করতে শুরু কর...