Wednesday, 6 May 2026

মক্কার হারাম এলাকার সীমানা ও প্রবেশের আদব

 

মক্কার হারাম এলাকার সীমানা ও প্রবেশের আদব

ইসলামে হারাম শরিফ বিশেষ সম্মানিত স্থান। হারাম শরিফে মুশরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সেখানে হত্যা, মারামারি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দ্বন্দ্ব-কলহ করা হারাম। হারামের সীমানার ভেতরে কোনো পশু-পাখি, জীব-জন্তু বা শিকারকে হত্যা করা বা তাড়িয়ে দেওয়া হারাম।

মক্কার চতুর্দিকে কিছু দূর পর্যন্ত এলাকা ইসলামে হারাম বা সম্মানিত স্থান হিসেবে গণ্য হয়। এই অঞ্চল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই ‘হারাম’ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা জিবরাইলের (আ.) মাধ্যমে হারামের সীমানা দেখিয়ে দেন। তিনি জিবরাইলের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমানা স্তম্ভ স্থাপন করেন।





আল্লাহ তাআলা বলেন, (বলো) আমাকে তো নির্দেশ দেয়া হয়েছে এই শহরের রবের ইবাদত করতে যিনি এটিকে সম্মানিত করেছেন এর সব কিছু তাঁরই অধিকারে। আর আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই। (সুরা নামল: ৯১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যেদিন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিনই মক্কাকে হারাম বা সম্মানিত ঘোষণা করেছেন। এটা কেয়ামত পর্যন্ত হারামই থাকবে। (সহিহ বুখারি:  ৩১৮৯)

কাবার চতুর্দিকে হারামের সীমানা

তানঈম

মদিনার পথে এই স্থানটি অবস্থিত। এখানে 'মসজিদে আয়েশা' নামে একটি মসজিদ রয়েছে। মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার।

নাখলাহ

মক্কা থেকে তায়েফ যাওয়ার পথে এই স্থানটি পড়ে। মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব তেরো কিলোমিটার।

জিয়িররানাহ

এটিও মক্কা থেকে তায়েফের দিকে অবস্থিত। মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব বাইশ কিলোমিটার।

এযাতু লাবান (বর্তমানে আকীশিয়্যাহ নামেও পরিচিত)

মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব ষোলো কিলোমিটার।

হুদাইবিয়্যাহ (শুমাইসিয়াহ নামেও পরিচিত)

মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব বাইশ কিলোমিটার।

জাবালে আরাফাত (যাতুস্সালীম নামেও পরিচিত)

মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্বও বাইশ কিলোমিটার।

হারাম এলাকায় প্রবেশের আদব

এ এলাকায় প্রবেশের সময় বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তেগফার করা, বিনয় ও আদবের সঙ্গে তালবিয়া ও দরুদ পাঠ করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা আবশ্যক। জেদ্দা থেকে মক্কায় গেলে শুমাইসি বা হোদায়বিয়া থেকে হারামের সীমা শুরু হয়। সম্ভব হলে এখানে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেওয়া উচিত।

মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় মসজিদে প্রবেশের সুন্নতগুলো পালন করা উচিত। যে কোনো মসজিদে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ পড়া, দরুদ পাঠ করা এবং ‘আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রহমাতিক’ (হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজা খুলে দিন) পড়া এবং ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা সুন্নত।

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের

 

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্ট সময়ের যুদ্ধবিরতি চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এর মধ্যে দেশটিতে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে পরিকল্পনা করছে মার্কিন সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার ইসরাইলি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানায়।





খবরে বলা হয়, ইরানে নতুন ধাপের হামলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ দফায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এছাড়া শীর্ষস্থানীয় ইরানি কর্মকর্তাদেরও হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ধাপের হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত বেশিরভাগ বিষয় অবশ্য গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির ঠিক আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সিএনএনকে ইসরাইলি সূত্র বলে, ‘এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত এক অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, যাতে মীমাংসার জন্য ইরানকে আরো চাপে ফেলা যায়।’ তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের নৌযান উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযানের ঘোষণা দেন। এর জেরে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌযানের অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

গত সোমবার হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে ইরানের নৌবাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলার দাবি জানানো হয়। অপরদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এ তথ্য অস্বীকার করা হয়।

মার্কিন হামলায় হরমুজে ইরানের পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত

এদিকে গতকাল ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলায় ইরানের পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার মার্কিন হামলায় ছয়টি বেসামরিক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী নৌযান ধ্বংস হয়। এতে অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের দিকে আসা দুটি ছোট পণ্যবাহী নৌযানের ওপর মার্কিন বাহিনী হামলা ও গুলি চালায়।

এর আগে মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার অভিযানের সময় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আইআরজিসির ছয়টি নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ‘সি হক’ এবং ‘অ্যাপাচি’ অ্যাটাক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল।

আমিরাতে হামলার পরিকল্পনা ছিল না : ইরান

এদিকে গতকাল ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজকে বের করতে মার্কিনিদের দুঃসাহসিকতার ফলে এ ঘটনা ঘটে।

ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীকে বাধা দিতে গিয়েই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত শক্তি প্রয়োগের এ আচরণ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে সামরিক আগ্রাসন থেকে বিরত থাকা। এর আগে গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে পেট্রোলিয়াম শিল্পাঞ্চলে ইরানের চারটি ড্রোন হামলার কথা জানায় আবুধাবি।

ইরান চুক্তিতে আগ্রহী : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান এখন সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তার দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাত না হলে তেহরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি নিজেদের টিকিয়ে রাখতেই চেষ্টা করছে।

হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, এটি অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার ভাষায়, এই অবরোধ যেন ‘ইস্পাতের দেয়াল’, যা ভাঙার সাহস কেউ দেখাবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজে হামলার প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাহাজটিতে গুলি চালানো হলেও সেটি চলাচল সক্ষম ছিল এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষিত বহরের অংশ ছিল না।

ইরানের অবস্থানকে ‘দ্বিমুখী’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, একদিকে তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখায়, অন্যদিকে প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, দুর্বল অবস্থানের কারণেই দেশটি এখন চুক্তির পথে এগোতে চাইছে।

ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধবিরতি এখনো শেষ হয়নি : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই বন্ধ করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেন তিনি।

পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের সাময়িক এই অভিযানের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং ইরানের আগ্রাসন মোকাবিলা করা। তার দাবি, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা প্রমাণ করে যে নৌপথ এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই পরিস্থিতিতে ইরান চাপের মুখে রয়েছে এবং তাদের ‘বিচক্ষণ আচরণ’ করা উচিত। একই সঙ্গে হেগসেথ পুনর্ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এখনো শেষ হয়নি।

যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অচলাবস্থা সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। এই সংঘাত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সই হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত সোমবার প্রায় ছয় শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪ দশমিক ৪৪ ডলারে ঠেকেছে। গতকাল মঙ্গলবার দাম কিছুটা কমে গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা নাগাদ ১১৩ দশমিক ৫৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের

 

হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ ঘোষণা দেন।





ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।

চুক্তি চূড়ান্ত করা ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা দেখার জন্য প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

Tuesday, 5 May 2026

কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে

 

কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে


ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ইবাদত কোরবানি। কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং কোরবানির সঙ্গে মিশে আছে আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগের চেতনা এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতি।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাওসার, আয়াত : ২)





এ থেকে বোঝা যায়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো ইখলাস ও আল্লাহভীতি অর্জন।

হাদিস শরীফেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১২৩)

অন্য হাদিসে এসেছে , আদম সন্তানের জন্য কোরবানির দিনের আমলসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো কোরবানি করা। (তিরমিজি)

ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। এখানে সামর্থ্যবান বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।

কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু

১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেই প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক মুকিম মুসলিম নারী ও পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। 
নেসাব হল,  স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ। 

স্বর্ণ বা রুপার কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয় তবে স্বর্ণ-রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সাথে প্রয়োজন-অতিরিক্ত অন্য বস্তুর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায়, তাহলে কোরবানী ওয়াজিব হবে। 

স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এমন জমি এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র—সবই কোবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব আল মুহিতুল বুরহানিতেও এই মাসআলা উল্লেখ রয়েছে।

সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া (হাওল) শর্ত নয়; বরং কোরবানির দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি ট্রাম্পের

 

ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়নকারী মার্কিন জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালালে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে।

ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান এখন ‘অনেক বেশি নমনীয়’ হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলে তিনি মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন।





মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আগের তুলনায় আমাদের কাছে এখন অনেক উন্নতমানের প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। আমাদের কাছে সেরা সব সরঞ্জাম আছে। সারা বিশ্বে আমাদের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটি ছড়িয়ে আছে। সেগুলো সরঞ্জামে পরিপূর্ণ। আমরা সেই সবকিছুই ব্যবহার করতে পারি এবং প্রয়োজন হলে আমরা তা করব।

মক্কার হারাম এলাকার সীমানা ও প্রবেশের আদব

  ইসলামে হারাম শরিফ বিশেষ সম্মানিত স্থান। হারাম শরিফে মুশরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সেখানে হত্যা, মারামারি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দ্বন্দ্ব-কলহ করা হারাম...