Saturday, 13 June 2026

ইসলাম শিশুশ্রম সমর্থন করে না

 

ইসলাম শিশুশ্রম সমর্থন করে না
প্রতীকী ছবি

আজ (১২ জুন) জাতীয় শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। ‎উপার্জন করতে গিয়ে শিশুর বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে সে কাজকে শিশুশ্রম বলা হয়। ‘‎বাংলাদেশের জাতীয় শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮)’ অনুযায়ী, কাজে নিয়োগের সর্বনিম্ন বয়স ১৪ বছর। তবে ১২ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা হালকা কাজে নিয়োজিত হতে পারবে, যদি তাদের শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত না হয়। তবে হালকা কাজের সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করা হয়নি। দেশে এ ধরনের আইন থাকার পরও ‘জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২’-এর ফল অনুযায়ী, দেশে এখন ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন শিশুশ্রমিক আছে। ২০ লাখ ১০ হাজার শিশুশ্রমিক পারিশ্রমিক পায় না। যারা পারিশ্রমিক পায়, তাদের গড় আয় মাসে ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ‎সরকারি হিসাবমতে, বাংলাদেশের এমন ৩৮টি সেক্টর চিহ্নিত, যেখানে প্রায় ১৭ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিযুক্ত।

‎ইসলামও শিশুশ্রম সমর্থন করে না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত বাবার ওপর তার সবকিছুর জিম্মাদারি। এ বয়সটাতে সে পরনির্ভরশীল, দায়িত্ববান নয়। ফলে তাকে কোনো কাজ চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে এসেছে, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা : ২৮৬)। বোঝা গেল, শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক মননশীলতা পরিপন্থী কোনো কাজ চাপিয়ে দেওয়া নিতান্তই বাড়াবাড়ি। ‎আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-ও শিশুদের প্রতি কঠোরতার বিরোধিতা করেছেন এবং তাদের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা শিশুদের স্নেহ করো, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো এবং সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।’ (তিরমিজি)





মহান আল্লাহর দয়া পেতে চাইলেও শিশুদের প্রতি দয়ার বিকল্প নেই। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না।’ (বুখারি : ৫৯৯৭)। ছোটদের প্রতি সদয় হয় না, এমন লোক নবীজির উম্মত হতে পারে না। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের শ্রদ্ধা করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ : ৪৯৪৩)। শিশুরা হলো পরিবারের সৌন্দর্য। শিশু ছাড়া কোনো পরিবার অন্তঃসারশূন্য। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।’ (সুরা আল-কাহ্ফ : ৪৬)। ‎কাজ করার জন্য তো শক্তি-সামর্থ্যের প্রয়োজন। আর একটি শিশুর তা থাকে না। ‎বলা হয়, ‘আজকের শিশু আনবে আলো, বিশ্বটাকে রাখবে ভালো।’ শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা না দিয়ে অঙ্কুরেই যদি তাদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে কীভাবে তারা আলো নিয়ে আসবে আমাদের মাঝে। বিষয়টা নবীজির বাণী দ্বারাও প্রমাণিত। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞান দান করো, কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য সৃষ্ট।’ (মুসলিম)

মনে রাখতে হবে, আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। এজন্য তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সঠিক শিক্ষাদীক্ষা জরুরি। তাই প্রয়োজন অনুভূত হলে এবং তার মধ্যে সে যোগ্যতা থাকলে তাকে কোনো শিল্প শেখানো এবং তরবিয়াতের জন্য কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে বসানো ভালো বৈ মন্দ নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা এতিমের দায়িত্বশীলদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা কর যতক্ষণ না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। সুতরাং যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিবেকের পরিপক্বতা দেখতে পাও, তবে তাদের ধনসম্পদ তাদের দিয়ে দাও।’ (সুরা নিসা : ৬)

আবার অনেক সময় কতিপয় শিশুর পড়ার প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকে না। তখন অভিভাবকরা তাকে শক্ত কোনো কাজে লাগিয়ে দেন, যেন কাজের কষ্ট সইতে না পেরে আবার পড়ার টেবিলে ফিরে আসে। এ ধরনের মহৎ উদ্দেশ্য থাকলে তাদের কোনো পেশা শেখানোর জন্য কারো কাছে কাজে দেওয়ার অনুমতি আছে। তবে এর জন্যও নিম্নোক্ত শর্তগুলো মেনে চলতে হবে—

‎১. শিশুর বয়স এতটুকু হওয়া যাতে তার শরীর এই পেশাটা শেখা এবং কাজ সইতে পারে। বয়সের সীমারেখা শিশুর মেজাজ, অঞ্চল ও কাল হিসেবে ভিন্ন হতে পারে। তাই যে শিশু কাজ করা এবং শ্রম দেওয়ার উপযুক্ত নয়, তাকে দিয়ে কাজ করানো জায়েজ নয়। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৫৬২) ‎২, শিশুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনো পেশা ও কাজে লাগানো যাবে। ছেলেদের জন্য তাদের উপযুক্ত কাজ এবং মেয়েদের জন্য তাদের উপযুক্ত কাজ নির্বাচন করতে হবে। যেমন মেয়েদের জন্য সেলাই কাজ ইত্যাদি কোনো হালকা কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৫৬২; রদ্দুল মুহতার : ৩/৬১২) ‎

৩. যেখানে ছেলে কিংবা মেয়েশিশু কাজ করবে, সেখানে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যে জায়গায় কিংবা যে কাজে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে, সেখানে তাদের কাজে লাগানো যাবে না। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৫৬৯)

‎৪. শ্রম বিনিয়োগ করে শিশু যে অর্থকড়ি উপার্জন করবে, তা তার ব্যক্তিগত খাতে খরচ করতে হবে। তার প্রয়োজনীয় খাতে খরচের পর অতিরিক্ত টাকা-পয়সা তার বাবা কিংবা তার অভিভাবকের কাছে আমানত থাকবে। গ্রহণযোগ্য অভিভাবক না থাকলে আদালত কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে তার উপার্জনের টাকা আমানত রাখবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৫৬২)

‎৫. শিশুকে কাজে দেওয়ার কারণে তার শিক্ষাদীক্ষায় ব্যাঘাত না ঘটতে হবে। যদি তাকে কাজে লাগানোর কারণে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে যায়, কিংবা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে তাকে কাজে লাগানো জায়েজ হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৫৬২) ‎

৬. শিশুকে যে কাজে লাগানো হবে, সেটা তার মেধা, চরিত্র ও শারীরিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকারক না হতে হবে। ‎

৭. শিশুকে শ্রম দেওয়ার জন্য তার ওলি কিংবা অভিভাবকের সম্মতি জরুরি। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/১৭৬)। ‎তাই এমন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, যে সমঝদার কিন্তু পড়াশোনায় আগ্রহী নয়, তাকে অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে শ্রমের সুযোগ দেওয়া শরিয়তে জায়েজ। কিন্তু যদি শিশু সমঝদার না হয়, কিংবা পড়াশোনায় আগ্রহী এবং অভিভাবকের পড়ানোর সামর্থ্য আছে, তাহলে এমন শিশুদের শ্রমে দেওয়া কিছুতেই উচিত হবে না।

শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের, বিজয় দাবি তেহরানের

শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের, বিজয় দাবি তেহরানের

অবশেষে ইরান যুদ্ধ ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা কাটতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির একটি খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এতে সই করতে পারে তেহরান ও ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন আব্বাস আরাগচি।





ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সমঝোতা স্মারকে এখনো পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে সম্ভাব্য চুক্তিতে এটা স্পষ্ট যে এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে তাঁর দেশ আরো শক্তিশালী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

চুক্তিসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সূত্রগুলো বলছে, সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর অজুহাত হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির যে কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সমঝোতা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, এই চুক্তিতে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হচ্ছে এবং তা সমঝোতা আলোচনা , খুব ভালো একটি জায়গায় নিয়ে এসেছে।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সম্প্রতি আবার একে অন্যের ওপর হামলা চালায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার রাতেও ইরানে কঠোর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কিছুক্ষণ বাদেই আবার বলেন, তিনি হামলা চালাতে নিষেধ করেছেন। কারণ, দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি প্রস্তুত। এরপরই সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি সামনে আসে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করতে পারেন

শুধু সূত্র নয়, চলতি সপ্তাহান্তে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারাও। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রায়ান জিনকের ভাষ্যমতে, যেকোনো সময়ের তুলনায় একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ট্রাম্প আবার আরাগচির সেই কথা শেয়ার করেছেন।

সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার সম্ভাবনা এখন প্রবল। এই সমঝোতা স্মারকটি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা হচ্ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্মারকটিতে দুই পক্ষ সই করলে ৬০দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। এ সময়ে চূড়ান্ত একটি চুক্তির আলোচনা হবে। যদিও এত দিন নানা ইস্যুতে জটিলতার কারণে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করার করার বিষয়টি আটকে ছিল।

সূত্র: রয়টার্স

ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দে মার্কিন মিশন শেষ মুহূর্তে স্থগিত করলেন ট্রাম্প

 

ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দে মার্কিন মিশন শেষ মুহূর্তে স্থগিত করলেন ট্রাম্প
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: এপি

ইরানের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে মজুত রাখা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জোরপূর্বক জব্দ করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থল অভিযানের প্রস্তুতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।



প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসের শেষের দিকে (১৯ মে) ন্যাটোর একটি বৈঠক মাঝপথে রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জেনারেল ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ফ্লোরিডার সেন্ট্রাল কমান্ড সদর দপ্তরে ছুটে যান। সেখানে তাকে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন স্থল সেনা পাঠিয়ে ইউরেনিয়াম জব্দের পরিকল্পনা নিয়ে জরুরি ও অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্রিফিং দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করা হলে তিনি এই মুহূর্তে অভিযানে সবুজ সংকেত না দিয়ে তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযান শুরু হলে ইরান তীব্র প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে এবং এর ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে-এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া অভিযানে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহতের আশঙ্কা নিয়েও ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কেউ এটার (ইউরেনিয়াম) কাছাকাছি যেতে পারছে না, কারণ এটি পাহাড়ের নিচে সমাহিত রয়েছে।’

তবে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে চলমান পারমাণবিক চুক্তি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলোচনার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন অগ্রিম যুদ্ধ প্রস্তুতির খবরটি সামনে এলো।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস ও অপসারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ভিন্ন দাবি করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে তারা রাজি নয় এবং যেকোনো চুক্তির আগে তাদের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করতে হবে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরানের ইসফাহান, নাতানজ এবং ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রের গভীর সুড়ঙ্গে এই ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব বলে সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি। ২০১৫ সালের জুনে আইএইএ-র শেষ পরিদর্শনের সময় এই উপাদানগুলো গ্যাসীয় অবস্থায় ছিল। এরপর যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা উপাদানগুলো অক্ষত থেকে যায়। পরবর্তীতে ইরান আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।

মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের মতে, এই সুড়ঙ্গগুলো থেকে উপাদান উদ্ধার করতে কয়েক শ স্পেশাল অপারেটরসহ বিশাল স্থল বাহিনী প্রয়োজন হবে, যা মূলত একটি ‘আগ্রাসন বা আক্রমণের’ শামিল। সামরিক মূল্যায়নে এই মিশনকে ‘উচ্চ থেকে চরম’ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তা ছাড়া ইরান চুক্তির টেবিলে ব্যর্থ হলে তাদের প্রক্সি গোষ্ঠী ইয়েমেনের হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কৌশলগত পরিকল্পনাও তৈরি করে রেখেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

Thursday, 11 June 2026

রাসুলুল্লাহর (সা.) অর্থনৈতিক জীবন

 

রাসুলুল্লাহর (সা.) অর্থনৈতিক জীবন

প্রচলিত ওয়াজ-মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কে এমন কিছু বর্ণনা শোনানো হয়। বরং যা শুনে সাধারণ মানুষের মনে একটি স্থায়ী ধারণা তৈরি হয় যে তিনি চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন পার করেছেন।

তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র খুব সামান্য ছিল, তার বর্ম বন্ধক রাখা ছিল এবং ঘরে দিনের পর দিন খাবার থাকত না—এই ধরনের খণ্ডিত বর্ণনাগুলো শুনে অনেকে মনে করেন যে ইসলামে আধ্যাত্মিকতা বা ধার্মিকতা অর্জনের পথই হলো দুনিয়া ত্যাগ করা এবং চরম দারিদ্র্য বেছে নেওয়া।





কিন্তু রাসুলুল্লাহর (সা.) সামগ্রিক অর্থনৈতিক জীবন এবং ইসলামের মূল দর্শনের দিকে তাকালে বোঝা যায় যে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয় এবং এর পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে।

মক্কী জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায় যে সেটি অভাব-অনটনের জীবন ছিল না, বরং তা ছিল অত্যন্ত সচ্ছল এক ব্যক্তির জীবন। তিনি নিজে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। পরবর্তীতে উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজার (রা.) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তার জীবনে যে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও প্রাচুর্য আসে, তার স্পষ্ট প্রমাণ ইতিহাসে রয়েছে।

সে সময়ে তার দস্তরখান ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত এবং তার অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই ভালো ছিল যে তিনি বহু মানুষের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজে বহন করতেন। সিরাত ও ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতে এই বিষয়গুলোর চমৎকার ও বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে মহানবীর (সা.) অর্থনৈতিক জীবন এই সময়ে কতটা সমৃদ্ধ ছিল।

মদিনায় হিজরতের পর প্রাথমিক অবস্থায় মুসলমানদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। মক্কা থেকে সবকিছু ছেড়ে মুহাজিররা যখন মদিনায় আসেন, তখন স্বভাবতই এক বিশাল মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়। একই সাথে মহানবীর (সা.) ওপর শুধু দ্বীন প্রচারের দায়িত্বই নয়, বরং একটি নবগঠিত রাষ্ট্রের পরিচালনার দায়িত্বও এসে পড়ে।

এমতাবস্থায় সমাজের ও রাষ্ট্রের প্রধান অভিভাবক বা পিতা হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বেচ্ছায় একটি অতি সাধারণ ও কৃচ্ছ্রতার জীবন বেছে নেন। এটি কোনো নিয়তি বা ভাগ্যের চাপিয়ে দেওয়া দারিদ্র্য ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। মুসলমানদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রে যে সম্পদ বা সাহায্য আসত, নবীজির (সা.) প্রধান লক্ষ্যই ছিল তা দিয়ে আগে মুহাজির ও অভাবী মানুষদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজের পরিবারের ওপরও কঠোরতা আরোপ করেছিলেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যতক্ষণ না সমাজের এই অভাবী মানুষদের দায়িত্ব তিনি পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারছেন, ততক্ষণ তিনি নিজের ঘরে আরাম-আয়েশ বা প্রাচুর্য চান না।

‘ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে’

 

‘ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে’

ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধবিরতির “সম্পূর্ণ ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” এবং এর ফলে কার্যত যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হামলাকে “আত্মরক্ষা” হিসেবে বর্ণনা করলেও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এর কোনো বৈধতা নেই।





গরিবাবাদি বলেন, “শব্দের মারপ্যাঁচ দিয়ে সামরিক আগ্রাসনকে বৈধ করা যায় না। আন্তর্জাতিক আইনে আগ্রাসী পক্ষ কেবল নাম পরিবর্তন করে তার কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে এবং “দৃঢ়, কর্তৃত্বপূর্ণ ও অনুতাপ সৃষ্টি করবে এমন জবাবের মাধ্যমে” দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষা করবে।

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক সতর্ক করে বলেন, “এই অবৈধ ও বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের পূর্ণ পরিণতি যুক্তরাষ্ট্র এবং যেকোনো পক্ষকে বহন করতে হবে, যারা এতে অংশ নেয়, সহযোগিতা করে বা সহায়তা প্রদান করে।”

মার্কিন হামলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এসআর

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি ট্রাম্পের, আজ রাতেই ‘কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি ট্রাম্পের, আজ রাতেই ‘কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি

ইরানের প্রধান তেল অবকাঠামো ও দেশটির প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আজ রাতেই ইরানের ওপর 'খুব কঠোর' সামরিক হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশটির অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।





তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ বিষয়ে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে দাবি করেন, অতীতের অনুরূপ পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।

ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে খুব কঠোর সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। তবে সম্ভাব্য ওই অভিযানের ধরন বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ইতোমধ্যেই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই হুঁশিয়ারি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে, কারণ দ্বীপটি ইরানের তেল রফতানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এর ফলে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন

ইসলাম শিশুশ্রম সমর্থন করে না

  প্রতীকী ছবি আজ (১২ জুন) জাতীয় শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। ‎উপার্জন করতে গিয়ে শিশুর বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে সে কাজকে শিশুশ্রম ...