Tuesday, 16 June 2026

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

 

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

অনেকেই ইসলামকে ভুলভাবে এমন একটি ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন, যেখানে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনের কোনো মূল্য নেই। অথচ ইসলামে মানুষের আত্মিক পবিত্রতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শালীন রুচিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম মানুষকে অহংকার ও অপচয় থেকে যেমন বিরত থাকতে বলে, তেমনি অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলাপূর্ণ জীবনকেও নিরোৎসাহিত করে। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের যথাযথ ও পরিমিত প্রকাশকেও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,



إنَّ اللَّهَ يحبُّ أن يرى أثرَ نعمتِهِ على عبدِهِ

‘আল্লাহ তাআলা তার দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তার বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)

এই হাদিসে ‘নিয়ামতের নিদর্শন’ বলতে শুধু ধন-সম্পদ নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া বৈধ রিজিক, পরিচ্ছন্নতা, শালীন পোশাক, পরিপাটি জীবনযাপন এবং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যবোধকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ কাউকে সামর্থ্য দিলে সে যেন নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন না করে, যাতে তাকে চরম অভাবগ্রস্ত বা অগোছালো মনে হয়। কারণ ইসলাম কৃত্রিম দারিদ্র্য প্রদর্শনকে পছন্দ করে না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ

‘বলুন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আ‘রাফ, আয়াত : ৩২)

এই আয়াত ইসলামের সৌন্দর্যবোধকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ইসলাম সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে নয়; বরং সৌন্দর্যকে সঠিক সীমার মধ্যে দেখতে চায়। তাই সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা রুচিশীল জীবনযাপন করা কোনো দোষ নয়, যদি তা অহংকার, অপচয় ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। তিনি সুন্দর কাপড় পরতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং সাহাবিদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে-

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا قَدْ تَفَرَّقَ شَعْرُهُ فَقَالَ: أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ شَعْرَهُ، وَرَأَى رَجُلًا آخَرَ وَعَلْيِهِ ثِيَابٌ وَسِخَةٌ، فَقَالَ أَمَا كَانَ هَذَا يَجِدُ مَاءً يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এখানে এসে এক বিক্ষিপ্ত চুলওয়ালাকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার চুলগুলো আচড়ানোর জন্য কিছু পায় না? তিনি ময়লা কাপড় পরিহিত অপর ব্যক্তিকে দেখে বললেন, লোকটি কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য কিছু পায় না? (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৬২)

এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলাম এমন জীবনব্যবস্থা চায়, যেখানে আধ্যাত্মিকতা ও সৌন্দর্যবোধ পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।

বর্তমান সমাজে এই বিষয়ে দুই ধরনের চরমপন্থা দেখা যায়। একদল মনে করে, দ্বীনদার হতে হলে মলিন ও অপরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অন্যদিকে আরেকদল সৌন্দর্যের নামে অপচয়, ব্র্যান্ড-আসক্তি, বিলাসিতা ও অহংকারে ডুবে যায়। ইসলাম এই দুই চরমতার মাঝখানে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। ইসলাম চায় না মানুষ নিজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিমভাবে নিজেকে অভাবী সাজাক। আবার এটাও চায় না, সে অহংকারের প্রতীক হয়ে উঠুক।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ

‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’

সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করেছিলেন, মানুষ তো সুন্দর কাপড় ও সুন্দর জুতা পছন্দ করে। তখন তিনি বললেন,

إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ، الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাবু তাহরীমিল কিবর ওয়া বায়ানিহি, হাদিস : ৯১)

এই হাদিস ইসলামের সৌন্দর্যবোধের মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। সুন্দর পোশাক বা ভালো জীবনযাপন নিজে কোনো অহংকার নয়। অহংকার হলো মানুষের প্রতি ঔদ্ধত্য এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই বিলাসিতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পোশাক, বাড়ি, গাড়ি কিংবা ভোগবিলাসকে মর্যাদার মাপকাঠি বানানো হচ্ছে। অন্যদিকে কেউ কেউ ধর্মীয় ভাবমূর্তির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাভাবিক জীবনযাপনকে তাকওয়া মনে করেন। এই দুই প্রবণতাই ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষার বিপরীত।

ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে বান্দা আল্লাহর শোকর আদায় করে; অহংকারে লিপ্ত না হয়। অর্থাৎ নিয়ামত ব্যবহার করা হবে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে, প্রদর্শন ও আত্মগরিমার জন্য নয়।

আসলে আল্লাহর নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহারও এক ধরনের শোকর। একজন মানুষ যখন হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য পরিচ্ছন্ন ও শালীন জীবন নিশ্চিত করে, তখন সে আল্লাহর একটি বিধানই বাস্তবায়ন করে। কারণ ইসলাম দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করেনি; বরং আত্মমর্যাদাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনকে উৎসাহিত করেছে।

ইসলাম শুধু মসজিদের ভেতরের ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি জীবনব্যবস্থা। একজন মুসলিমের পোশাক, পরিচ্ছন্নতা, রুচি, ব্যবহার ও জীবনযাপনেও ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠা উচিত। এমন সৌন্দর্য, যা বিনয় শেখায়; এমন পরিচ্ছন্নতা, যা হৃদয়ের পবিত্রতার প্রতিফলন; এমন জীবনযাপন, যা মানুষকে আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রকাশ তখনই ইবাদত হয়ে ওঠে, যখন তা কৃতজ্ঞতা, শালীনতা ও বিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। তাই অপচয় নয়, কৃত্রিম দারিদ্র্যও নয়; বরং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যই হোক একজন মুমিনের পরিচয়।

তেতাল্লিশ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি জ্বালানি তেলের মজুদ সর্বনিম্নে

তেতাল্লিশ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি জ্বালানি তেলের মজুদ সর্বনিম্নে

টেক্সাসের ফ্রিপোর্টে, ব্রায়ান মাউন্ড সাইটে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর)। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। খবর সিএনএনের।

সোমবার প্রকাশিত মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা শুধু গত সপ্তাহেই এসপিআর থেকে আরও ৮৯ লক্ষ ব্যারেল তেল ছেড়েছেন। ফলে দেশটির জরুরি তেল মজুত কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৩ লক্ষ, যা ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা আগের সর্বনিম্ন রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।



বর্তমান মজুতের পরিমাণ ১৯৮৩ সালের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কম। তখন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসন প্রথমবারের মতো এই রিজার্ভ গড়ে তুলছিল।

জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব কমিয়ে ভোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি লিপো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের তেল ছাড় এবং চীনের রপ্তানি হ্রাসের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

পরপর দুটি যুদ্ধ এসপিআর থেকে একটি বড় অংশ নিঃশেষ করে দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এসপিআর থেকে মোট ৭৫ মিলিয়ন ব্যারেল বা প্রায় ১৮ শতাংশ তেল কমে গেছে। অথচ ২০২২ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রচারণা শুরু করার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করেছিলেন। তবে বর্তমানে তার প্রশাসন আরও দ্রুতগতিতে এই মজুত ব্যবহার করছে।

বর্তমানে এসপিআর ধারণক্ষমতার অর্ধেকেরও কম পূর্ণ রয়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের সিইও মাইক সোমার্স সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য রিজার্ভে অন্তত ২০ শতাংশ তেল থাকা প্রয়োজন।

আমরা এখনই বিপদ সংকেত দিচ্ছি বলে সোমার্স বলেন, এটি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি আমরা উদ্বিগ্ন।’

বিশ্লেষক অ্যান্ডি লিপো বলেন, মার্চ মাসে ঘোষিত ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার কর্মসূচি শেষ হলে এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার গতি কমাতে হতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, মেক্সিকো উপসাগরে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় উৎপাদন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিলে বর্তমানে যে নিরাপত্তা বাফার রয়েছে, তা আর অবশিষ্ট থাকবে না।

ইরান চুক্তিতে বিক্ষুব্ধ ইসরাইল, কাঠগড়ায় নেতানিয়াহু

 

ইরান চুক্তিতে বিক্ষুব্ধ ইসরাইল, কাঠগড়ায় নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার খবর প্রকাশের পর ইসরাইলে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এই চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য কৌশলগত বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন এবং তাদের ক্ষোভে একমাত্র ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিহুর দিকেই নির্দেশ করেছেন। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান চেয়েছিল চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক, কিন্তু তিনি দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তা হয়নি।

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যতদিন আমি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আছি, এটি হতে দেওয়া হবে না।’



তবে বিরোধী নেতা ও সাবেক কর্মকর্তারা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। তারা প্রাথমিক চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে আসন্ন শরতের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ওপর এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক গণভোটের এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষত বিভিন্ন দেশে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরাইলের বিচ্ছিন্নতা নেতানিয়াহুর অবস্থানকে আরো জটিল করে তুলবে।

এছাড়াও ইরান চুক্তি লেবাননে ইসরাইলের অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যদিও ইসরাইল এই চুক্তির পক্ষ নয়, তবুও দেশটি এক ধরনের উভয়সংকটে পড়েছে। ইরান বরাবরই বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনের যেকোনো চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু সোমবার, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ লেবাননে সেনা রাখার অঙ্গীকার করেন। আলোচনা যতই এগোচ্ছিল এবং ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছিলেন। তাই বৈরুতে ইসরাইলের হামলায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সতর্ক করে দেন এই হামলা একটি চুক্তিকে বিপন্ন করতে পারে।

সমালোচকরা বলেন, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধ থেকে থেকে যা অর্জন করা সম্ভব, তার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধে জড়ান।

তারা বলেন, নেতানিয়াহু দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ বুঝতে ভুল করেছেন। আর এর ফলে আলোচনায় ইরানের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ইসরাইল এবং পরবর্অতীতে অঞ্চলের অন্যান্য প্রধান শক্তিগুলোর কাছেও ক্রমশ উপেক্ষিত হয়ে পড়েন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর ঔদ্ধত্য ও অন্ধত্বের মূল্য দিচ্ছে ইসরাইল, এবং ট্রাম্পের ওপর তিনি যে কারসাজি করার চেষ্টা করেছিলেন তারও মূল্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর ভুল কৌশল ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে ইসরাইল দুর্বল অবস্থানে পড়েছে, আর ইরান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ার লাপিদ চুক্তিটিকে ইসরাইলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির অন্যতম বড় ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণভাবে নেতানিয়াহুর ওপরই বর্তায়।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ফলে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানও জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। যদিও ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কার্জ বলেছেন, লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।

সমালোচকদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমানো এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল করার যে লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বরং সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত হলে তেহরান অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে।

এদিকে নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কট্টরপন্থী অংশও চুক্তির বিরোধিতা করেছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গভির বলেছেন, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Monday, 15 June 2026

কোন সহজ আমলে পাবেন এক দিনে হাজার নেকি

কোন সহজ আমলে পাবেন এক দিনে হাজার নেকি

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কেউ যদি এক দিনে একশত বার ‘সুবহানাল্লাহ’, পড়ে তাহলে এতে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং তার এক হাজার গুনাহ মাফ করা হবে। (সহিহ মুসলিম: ২২৯৯)

সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ ٱللَّٰه) অর্থ হলো, ‘আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, তিনি সব ধরনের অপূর্ণতা ও দোষ থেকে পবিত্র’। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করে, তার পবিত্রতা, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেয়।





আল্লাহর প্রিয় জিকির সুবাহানাল্লাহ

‘সুবাহানাল্লাহ’ জিকিরটি আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জিকির। ওপরে বর্ণিত হাদিসটি ছাড়াও বিভিন্ন হাদিসে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় জিকির চারটি। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। এগুলোর যে কোনোটি দিয়ে তুমি শুরু করতে পারো। (সহিহ মুসলিম: ৫৪১৬)

আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার পাঠ করা আমার কাছে ইহজগতের সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৫)

একবার কয়েকজন দরিদ্র সাহাবি নবীজিকে গিয়ে বলেন, সম্পদশালী সাহাবিরা দান-সদকার মাধ্যমে নেক কাজে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তো দান-সদকা করার মতো সামর্থ্য নেই। তখন নবীজি (সা.) তাদেরকে প্রতি নামাজের পর ‘সুবাহানাল্লাহ’ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করার পরামর্শ দেন।

আবু জর বলেন, নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! বিত্তবান লোকেরা সওয়াবের ক্ষেত্রে আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। আমরা যা বলি, তারাও তা বলে এবং তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করে, কিন্তু আমরা তা পারি না।

নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি আপনাদের এমন আমল বলে দিচ্ছি, যা করলে আপনারা আপনাদের অগ্রবর্তীদের ধরতে পারবেন এবং আপনারা যাদের অগ্রবর্তী তারা আপনাদের অতিক্রম করতে পারবে না।

প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর আলহামদুল্লিাহ, সুবহানাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, ৩৩বার এবং ৩৪ বার পাঠ করুন। (সুনানে ইবনে মাজা: ৯২৭)

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরছে তেহরানের গণমাধ্যম

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরছে তেহরানের গণমাধ্যম
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ইরার-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে ইরানের বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদ চ্যানেল ঘোষণা দিয়েছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে তারা এ তথ্যের উৎস হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যকে উল্লেখ করেছে।





রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় উপস্থাপক বলেন, `ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।'

তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা বা আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। ফলে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এবং তেহরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির প্রকৃত কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অপেক্ষা করতে হবে।

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

  অনেকেই ইসলামকে ভুলভাবে এমন একটি ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন, যেখানে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনের কোনো মূল্য নেই। অথচ ইসলা...