Friday, 15 May 2026

নফল তাওয়াফের নিয়ম ও ফজিলত

 

নফল তাওয়াফের নিয়ম ও ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত

হজ ও ওমরার ক্ষেত্রে তাওয়াফ করা বাধ্যতামূলক হলেও এর বাইরে ‘নফল তাওয়াফ’ করার সুযোগ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।

মসজিদুল হারামে অবস্থানকালে যে কেউ যেকোনো সময় নফল তাওয়াফ করতে পারেন। হজ বা ওমরার মতো এর জন্য ইহরাম বাঁধার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।





মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ক্ষমা প্রার্থনা এবং রহমত লাভের উদ্দেশ্যেই এই ইবাদত করা হয়। মক্কায় অবস্থানকালীন অবসরে নফল তাওয়াফ সওয়াব অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম।

নফল তাওয়াফ কী

ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদতের বাইরে নিজের ইচ্ছায় যে তাওয়াফ করা হয় তাকেই নফল তাওয়াফ বলে। যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তাদের জন্য নফল তাওয়াফ অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

এই তাওয়াফে ইহরাম পরতে হয় না এবং তাওয়াফ শেষে সাঈ (সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌঁড়ানো) করারও প্রয়োজন নেই। শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী দিনে যতবার খুশি নফল তাওয়াফ করা যায়।

নফল তাওয়াফের নিয়ম

নফল তাওয়াফ করা অত্যন্ত সহজ। এর ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • নিয়ত করা: প্রথমেই মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নফল তাওয়াফের নিয়ত করতে হবে।
  • অজু করা: তাওয়াফ করার জন্য অবশ্যই অজু অবস্থায় থাকতে হবে।
  • শালীন পোশাক:পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরতে হবে। তবে ইহরাম জরুরি নয়।
  • শুরু ও শেষ: হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরকে সামনে রেখে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। সাতবার প্রদক্ষিণ করলে একটি তাওয়াফ পূর্ণ হয়।
  • দোয়া ও জিকির: তাওয়াফকালে যেকোনো দোয়া, জিকির বা কোরআন তেলাওয়াত করা যায়। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাও যায়।
  • নামাজ ও জমজম: সাত চক্কর শেষ করার পর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এরপর জমজমের পানি পান করে দোয়া করা উত্তম।

নফল তাওয়াফের ফজিলত

নফল তাওয়াফের প্রতিটি কদমে সওয়াব রয়েছে। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। অনেক আলেমদের মতে, একবার তাওয়াফ করা একটি পূর্ণ সালাত বা নামাজের সমান সওয়াব হয়।

তাওয়াফ মনকে শান্ত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ

 

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ
ছবি: সংগৃহীত

ওমানের উপকূলে একটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনার পর সেটি ডুবে গেছে বলে দাবি করেছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, অজ্ঞাত হামলাকারীর হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির নাম ছিল এমএসভি হাজ আলি। ১৪ জন নাবিক নিয়ে এটি সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন সোমালিল্যান্ড অঞ্চলের বারবেরা বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় গবাদি পশু পরিবহন করছিল।





সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে ওমানের লিমা উপকূলের কাছে একটি “সন্দেহজনক বিস্ফোরণ” ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফল হতে পারে।

বিস্ফোরণের পর জাহাজটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে জাহাজটি ডুবে যায় বলে জানায় ভ্যানগার্ড।

জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিটাইম ট্র্যাফিকের তালিকা অনুযায়ী, এমএসভি হাজ আলি ছিল ৫৪ মিটার (১৭৭ ফুট) দীর্ঘ একটি কাঠের ধো নৌকা।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, জাহাজে থাকা সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

 স্টাফ রিপোর্টার

ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারি ৭দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসের জন্য ছুটির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি ৪ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।





প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঈদের সাধারণ ছুটি আগামী ২৫ মে (সোমবার) হতে ৩১ মে (রবিবার) পর্যন্ত সকল অফিস বন্ধ থাকবে।

এছাড়া ছুটির আগের কর্মদিবস ২৩ মে (শনিবার) এবং ২৪ মে (রবিবার) অফিসসমূহ যথারীতি খোলা থাকবে।

জরুরি পরিষেবা ও আওতামুক্ত খাতসমূহ:

নির্দিষ্ট কিছু জরুরি সেবা এবং খাত এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে, যাতে জনজীবন সচল থাকে। এর মধ্যে রয়েছে: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা ।

ডাক সেবা এবং এসব জরুরি সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন।

এছাড়াও চিকিৎসা সেবা: হাসপাতাল, জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরাও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

জরুরি কাজ: সরকারি অন্যান্য জরুরি কাজের সাথে সম্পৃক্ত অফিসগুলোও খোলা থাকবে।

বিশেষ খাতের জন্য নির্দেশনা:

কিছু বিশেষ খাতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে নির্দেশনা প্রদান করবে। এর মধ্যে ব্যাংক কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

বিচার বিভাগ আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার সাধারণ ছুটির বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দিকনির্দেশনা দেবে।

Thursday, 14 May 2026

একাধিক বিয়ে : প্রয়োজন ও বাস্তবতা

 

একাধিক বিয়ে : প্রয়োজন ও বাস্তবতা

মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো দাম্পত্য জীবন। পরিবার, সমাজ ও সভ্যতার ভিত্তি এই দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামে বিয়েকে শুধু একটি সামাজিক চুক্তি নয়; বরং ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘একাধিক বিয়ে’ বা বহু বিয়ে একটি সংবেদনশীল ও আলোচিত বিষয়। কোরআন-হাদিসে এর অনুমোদন থাকলেও এর উদ্দেশ্য, শর্ত ও বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তাই এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্তমান বাস্তবতা বিশ্লেষণ করা জরুরি।





কোরআনের দৃষ্টিতে একাধিক বিয়ে

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন—‘তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে, ইয়াতিম মেয়েদের ব্যাপারে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো। কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে, ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনই যথেষ্ট।’ (সুরা নিসা : ৩) এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তা শর্তসাপেক্ষ। মূল শর্ত হলো—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ, স্ত্রীদের মধ্যে অধিকার, সময়, ভরণ-পোষণ ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে সাম্য বজায় রাখতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এক স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসের আলোকে

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনে একাধিক বিয়ে করেছেন, তবে তা ছিল মূলত সামাজিক ও মানবিক প্রয়োজনের কারণে। যুদ্ধবিধবা নারীদের আশ্রয় দেওয়া, সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা—এসব ছিল তাঁর বিয়ের পেছনের উদ্দেশ্য।

একটি হাদিসে এসেছে—‘যার দুই স্ত্রী আছে, অথচ সে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করে না, কিয়ামতের দিন সে একপাশ হেলে পড়া অবস্থায় উপস্থিত হবে।’ (তিরমিজি)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বহু বিয়ের অনুমতি থাকলেও তা দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়।

একাধিক বিয়ের প্রয়োজনীয়তা

ইসলামে একাধিক বিয়ে কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়; বরং এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুমোদিত ব্যবস্থা। কিছু ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে—

১. সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা : যুদ্ধ, দুর্যোগ বা অন্যান্য কারণে নারীর সংখ্যা বেশি হলে তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার জন্য বহু বিয়ে একটি সমাধান হতে পারে।

২. বিধবা ও অসহায় নারীদের আশ্রয় : ইসলামের প্রাথমিক যুগে বহু নারী যুদ্ধের কারণে বিধবা হয়ে পড়তেন। তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহু বিয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

৩. পারিবারিক সমস্যা সমাধান : কখনো কখনো প্রথম স্ত্রী অসুস্থতা বা সন্তান ধারণে অক্ষম হলে, বৈধ উপায়ে পরিবার রক্ষার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে একটি বিকল্প হতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা

বর্তমান সমাজে বহু বিয়ে নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অপব্যবহার হচ্ছে, যা ইসলামের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এর কারণ বিবিধ। যথা—

এক. ন্যায়বিচারের অভাব : আজকের বাস্তবতায় অধিকাংশ মানুষ একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। ফলে পারিবারিক অশান্তি, হিংসা ও ভাঙন সৃষ্টি হয়।

দুই. আর্থিক সক্ষমতা : একাধিক পরিবার পরিচালনা করার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য প্রয়োজন। অনেকেই তা বিবেচনা না করেই বিয়ে করে, যার ফলে স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

তিন. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি : বর্তমান সমাজে বহু বিয়েকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। এর পেছনে রয়েছে অপব্যবহার ও দায়িত্বহীনতার উদাহরণ।

চার. নারীর অধিকার : আধুনিক যুগে নারীর শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে বহু বিয়ে গ্রহণযোগ্য হয় না।

ইসলামি দৃষ্টিতে ভারসাম্য

ইসলাম কখনোই মানুষের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে না। একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়ে ইসলাম মানবিক সমস্যার সমাধান দিয়েছে; কিন্তু একই সঙ্গে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। এ ভারসাম্যই ইসলামের সৌন্দর্য। একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। যদি কেউ মনে করে, সে একাধিক স্ত্রীর অধিকার যথাযথভাবে আদায় করতে পারবে না, তবে তার জন্য এক স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকা উত্তম।

সমাধান ও করণীয়

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বহু বিয়ের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কিছু বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা যাচাই করা। আর্থিক ও মানসিক প্রস্তুতি থাকা। প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব অবহেলা না করা। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

একাধিক বিয়ে বিনোদনের জন্য নয়

একাধিক বিয়ে ইসলামে একটি অনুমোদিত ব্যবস্থা, কিন্তু তা কোনো সাধারণ বা বিনোদনমূলক বিষয় নয়। এটি একটি গুরুতর দায়িত্ব, যা পালন করতে হলে ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতি থাকা আবশ্যক। বর্তমান সমাজে এর অপব্যবহার রোধ করতে হলে কোরআন-হাদিসের সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তবতার আলোকে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সুতরাং, বহু বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে ভারসাম্য ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা, ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি পূরণ করা নয়। ইসলামের এই বিধানকে সঠিকভাবে বুঝে প্রয়োগ করলেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—তিনটিই উপকৃত হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল

বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল

বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর প্রতি জনমতের নতুন এক জরিপে সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ইসরাইলের নাম। ২০২৬ সালের গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশন র‌্যাঙ্কিংয়ে ইসরাইলকে বিশ্বের সবচেয়ে কম ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিরা ডাটার ২০২৬ সালের গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক দেশ-ধারণা বিষয়ক এই জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ এবং তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। একইসঙ্গে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জনের অংশগ্রহণে প্রকাশ করা হয় ২০২৬ ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স, যেখানে নিজ নিজ দেশে গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।





জরিপে দেখা গেছে, গাজায় চলমান যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সংকট এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগও দেশটির প্রতি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো নেতিবাচক করেছে।

অন্যদিকে, ইতিবাচক ভাবমূর্তির শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এর পরেই রয়েছে কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালি।

জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতায় দেশটি এখন বিশ্বের পাঁচটি সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশের মধ্যে স্থান পেয়েছে, এমনকি রাশিয়া ও চীনের চেয়েও নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট পারসেপশন স্কোর ছিল প্লাস ২২ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে নেমে হয়েছে মাইনাস ১৬ শতাংশ মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্টের পতন।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন, আক্রমণাত্মক শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিতর্ক, ইউক্রেন সহায়তা কমানো এবং ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ক্ষয়ের বড় কারণ। জরিপে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন রাশিয়া ও ইসরাইলের পর বিশ্বের অন্যতম বড় বৈশ্বিক হুমকি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

নফল তাওয়াফের নিয়ম ও ফজিলত

  ছবি: সংগৃহীত হজ ও ওমরার ক্ষেত্রে তাওয়াফ করা বাধ্যতামূলক হলেও এর বাইরে ‘নফল তাওয়াফ’ করার সুযোগ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। মসজিদুল হারামে অব...