Friday, 20 March 2026

নতুন চাঁদ দেখলে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন

 

নতুন চাঁদ দেখলে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন
নতুন চাঁদ

ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষে মাসের সূচনা, সমাপ্তিসহ রোজার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইবাদত চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদ দেখে কল্যাণের প্রার্থনা করে দোয়া করতেন।

দোয়াটি হলো-

اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ

উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।

হাদিস

তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন এই দোয়া পড়তেন।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ ঈদ

 

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ ঈদ

সৌদি আরবে বৃহস্পতিবার ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ শুক্রবার দেশটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এটি মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রোজা শুরু এবং ঈদের এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সৌদি আরবের রাজকীয় আদালত (রয়্যাল কোর্ট) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার ৩০ রোজা পূর্ণ হবে এবং শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ, বিদায় নিচ্ছে রমজানও


পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ, বিদায় নিচ্ছে রমজানও

আজ পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার, জুমাতুল বিদা। সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হবে। পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। অপরদিকে আজকের দিন শেষে বিদায় নিচ্ছে ১৪৪৭ হিজরি সনের মহিমান্বিত মাস রমজান।

আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জুমার নামাজে যোগ দেবেন। নামাজ আদায়ের আগে খতিব ও আলেমগণ জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে খুতবা দেবেন।

জুমার নামাজ শেষে মসজিদগুলোতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এদিন পবিত্র রমজান মাসকে বিদায় জানিয়ে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করবেন মুসল্লিরা।

জুমাতুল বিদার সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। জুমার নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

সারা বছরের মধ্যে মুমিনের কাছে রমজান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুমাতুল বিদার মাধ্যমে কার্যত রোজাকে বিদায় জানানো হয়। এ ছাড়া আজ শুক্রবার রমজানের ৩০ দিনও পূর্ণ হচ্ছে। পরদিন শনিবার সারা দেশে একযোগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন দেশবাসী।

Wednesday, 18 March 2026

জাকাত আদায় করা যায় যে ৮ খাতে

 

জাকাত আদায় করা যায় যে ৮ খাতে

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত। এটি শুধু একটি আর্থিক ইবাদত নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। জাকাতের মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সমাজে দারিদ্র্য লাঘবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ইসলামের দৃষ্টিতে জাকাত গরিবদের প্রতি ধনীদের অনুগ্রহ নয়, বরং এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার।

কোরআন ও সুন্নাহতে জাকাতের বিধান, এর খাত এবং প্রাপকদের স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সমাজে একটি কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

জাকাত গরিবের অধিকার : জাকাত ধনীদের সম্পদে গরিবদের অধিকার। এ জন্য জাকাত আদায়কারীর নিজ দায়িত্বে জাকাতের সম্পদ জাকাত গ্রহিতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘এবং তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে আছে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৯)

জাকাতের খাত: পবিত্র কোরআনে আট শ্রেণির লোকদের জাকাত প্রদানের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, জাকাত হলো শুধু ফকির, মিসকিন, জাকাত উসুলের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী এবং যাদের মনোরঞ্জন করা উদ্দেশ্য তাদের হক। আর তা দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তের ঋণ পরিশোধ এবং আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের সাহায্যেও ব্যয় করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)

আট শ্রেণির লোকদের বিবরণ নিম্নরূপ :

১. ফকির: যার মালিকানায় জাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই, যদিও সে কর্মক্ষম বা কর্মরত হয়।

২. মিসকিন: যার মালিকানায় কোনো ধরনের সম্পদ নেই; একেবারেই নিঃস্ব ও অসহায়।

৩. আমিল: জাকাত সংগ্রহকারী বা ইসলামী রাষ্ট্রের বাইতুল মাল কর্তৃক জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। তাদের সংগৃহীত জাকাত থেকে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।

তবে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জাকাত সংগ্রহকারীদের জাকাত থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

৪. মুআল্লাফাতুল কুলুব: অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা বা নতুন মুসলমানদের সহায়তার উদ্দেশ্যে জাকাত প্রদান করা। ইসলামের বিজয় ও মর্যাদা লাভের পর প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় অমুসলিমদের জাকাত দেওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়। তবে নওমুসলিমকে পুনর্বাসনের জন্য জাকাত দেওয়া যেতে পারে।

৫. দাস মুক্তি: দাস-দাসিদের মুক্ত করার জন্য জাকাত প্রদান করা যায়। বর্তমানে এ ব্যবস্থা প্রায় বিলুপ্ত।

৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি: এমন ঋণগ্রস্ত ও অসহায় ব্যক্তি, যার ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই।

৭. ফি সাবিলিল্লাহ: যে মুসলমান আল্লাহর পথে নিয়োজিত। যেমন—দ্বিনের খিদমত, জিহাদ বা দ্বিনি জ্ঞান অর্জনের পথে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব আছে।

৮. মুসাফির: কোনো ব্যক্তি নিজ দেশে সম্পদশালী হলেও সফরের সময় অর্থশূন্য হয়ে পড়লে তাকে বাড়ি পৌঁছানোর পরিমাণ জাকাত দেওয়া যায়। উল্লিখিত যেকোনো একটি খাতে জাকাত প্রদান করলে জাকাত আদায় হয়ে যায়।

যাদের জাকাত দেওয়া উত্তম: নিকটাত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা অভাবগ্রস্ত, তাদের জাকাত দেওয়া উত্তম। এতে জাকাতের সওয়াবের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াবও অর্জিত হয়।

যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না: নিজ সন্তান বা তাদের অধস্তন, মা-বাবা বা ঊর্ধ্বতন আত্মীয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে জাকাত দেওয়া যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধররাও জাকাত গ্রহণ করতে পারেন না।

জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে শর্ত হলো—গ্রহীতাকে সম্পদের পূর্ণ মালিকানা দিতে হবে। এ জন্য যেসব কাজে ব্যক্তিগত মালিকানা সৃষ্টি হয় না, যেমন—মসজিদ, রাস্তা, মাদরাসার স্থাপনা, কবরস্থান বা এতিমখানার ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরাসরি জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায় না। তবে গরিব-এতিম ছাত্রদের জাকাত দেওয়া যায়। জাকাতের অর্থ দিয়ে অভাবী ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দেওয়া, ব্যক্তিমালিকানায় নলকূপ বা কৃষি সরঞ্জাম প্রদান করা কিংবা গৃহনির্মাণ করে তাকে মালিক বানিয়ে দেওয়া বৈধ। এ ছাড়া বিধবা ও এতিমের সহায়তা, চিকিৎসা, গরিব ছেলেমেয়ের বিবাহ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয়ে জাকাত প্রদান করা যায়। মূল শর্ত হলো—জাকাতের অর্থের মালিকানা অভাবী ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, জাকাত ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যা সমাজে ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টন নিশ্চিত করে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধন করে। যথাযথভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

রমজানের শেষ সময়ে যে তিন কাজ করা বেশি জরুরি

 

রমজানের শেষ সময়ে যে তিন কাজ করা বেশি জরুরি

পবিত্র মাহে রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। ইবাদত-বন্দেগির এই মাসটি শেষ করার সর্বোত্তম উপায় হলো মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা। কারণ, ইস্তিগফারের মাধ্যমে যেকোনো ভালো কাজের সমাপ্তি মানবজীবনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

রমজানের এই শেষ দিনগুলোতে করণীয় তুলে ধরা হলো-


বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা

নামাজ শেষ করে আমরা যেমন তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ি কিংবা হজ শেষ করি তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে, ঠিক তেমনি রমজানও শেষ করা উচিত ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। কারণ, মানুষ হিসেবে আমাদের ইবাদত-বন্দেগিতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। রোজা রেখে আমরা হয়তো কোনোদিন রেগে গিয়েছি, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু দেখে ফেলেছি কিংবা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছি। এই সব ছোটখাটো ভুল সংশোধনের জন্যই রমজানের শেষ মুহূর্তে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা প্রয়োজন।

সদকাতুল ফিতর আদায়

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সদকাতুল ফিতর হলো- এক ধরনের ইস্তিগফার। নামাজে ভুল হলে যেমন ‘সাহু সেজদা’ দিয়ে তা পূর্ণতা দেওয়া হয়, তেমনি রোজার ভুলত্রুটি দূর করতে সদকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি। এটি আমাদের অনর্থক কথা বা ভুল কাজের গুনাহ থেকে পবিত্র করে। তাই ইস্তিগফারের পাশাপাশি দ্রুত ফিতরা আদায় নিশ্চিত করতে হবে।

সময়ের সঠিক মূল্যায়ন

রমজান শুরুর দিনটির কথা ভাবুন। মনে হচ্ছে না যেন এই তো সেদিনের কথা? চোখের পলকেই ৩০টি দিন পেরিয়ে গেল। সময় এতটাই দ্রুতগতিতে চলে যায় যে একে কেউ ধরে রাখতে পারে না। রমজানের এই ক্ষণস্থায়ী রূপ আমাদের জীবনের নশ্বরতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। রমজান শেষ হচ্ছে আমরা জানি, কিন্তু আমাদের জীবন কবে শেষ হবে তা আমরা জানি না। তাই সময়ের এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সব সময়ের জন্য একটি মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু ইবাদত করাই বড় কথা নয়, বরং সেই ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন থেকেই কায়মনোবাক্যে দোয়া করুন,‘হে আল্লাহ! আমাদের রোজা কবুল করো, আমাদের দান-সদকা কবুল করো।’

Tuesday, 17 March 2026

রোজার আমল বছরজুড়ে

 

রোজার আমল  বছরজুড়ে


আমরা রমজান মাসের বিদায় লগ্নে উপনীত। সিয়াম-কিয়ামের মাস, রোজা ও তারাবির মাস শেষ হলেও মোমিনের আমল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শেষ হবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আপনি আপনার প্রভুর ইবাদত করুন, আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত।’ (সুরা হিজর : ৯৯)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়।’ (তিরমিজি : ১৩৭৬)। এখানে একমাত্র মৃত্যুকেই মানুষের আমলের পরিসমাপ্তি ধরা হয়েছে।

সুতরাং রমজান মাসের রোজা শেষ হলেও ঈমানদারের আমল বন্ধ হয়ে যাবে না। রমজানের পরও থাকবে রোজার আমল। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে সিয়াম পালন করবে, অতঃপর শাওয়ালের আরো ছয়টি সিয়াম পালন করবে, সে সারা বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য সওয়াবপ্রাপ্ত হবে।’ (মুসলিম : ১১৬৪)। এছাড়া প্রতি মাসে আছে তিনটি করে রোজা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতি মাসে তিনটি এবং এক রমজানের পর পরবর্তী রমজানেও সিয়াম পালন করা সারা বছর সিয়াম পালনের সমান।’ (মুসলিম : ১১৬২)। আছে সাপ্তাহিক সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা। নবীপত্নী আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন।’ (তিরমিজি : ৭৪৫)।

তারাবি শেষ হলেও রাতে নফল নামাজ বন্ধ হবে না। বছরজুড়ে প্রতি রাতেই তাহাজ্জুদ নামাজ অশেষ ফজিলতের সুন্নত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম সালাত হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত।’ (মুসলিম : ১১৬৩)। রমজানের মতো সারা বছরই শেষ রাতে দোয়া ও প্রার্থনার সুবর্ণ সুযোগ অবারিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতে এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে (শেষ রাতে) প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়ে বলতে থাকেন, আছে কেউ ডাকার আমি তার ডাকে সাড়া দেব? আছে কেউ চাওয়ার যাকে আমি দান করব? কেউ আছে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বোখারি : ১১৪৫)।

তাছাড়া রয়েছে দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ। ৪ রাকাত জোহরের আগে ও ২ রাকাত পরে। ২ রাকাত মাগরিবের পর। ২ রাকাত ইশার পর ও ২ রাকাত ফজরের আগে। উম্মে হাবিবা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) এর কাছে শুনেছি, ‘যদি কোনো মুসলিম বান্দা ফরজ ছাড়া ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ প্রতিদিন আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন।’ (মুসলিম : ৭২৮)। আরো রয়েছে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর কিছু জিকির। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন তোমরা নামাজ সম্পন্ন কর, তখন দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর।’ (সুরা নিসা : ১০৩)।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার ৩৩ বার মোট ৯৯ বার এবং সব শেষে ১০০ পূর্ণ করতে বলবে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদির’ তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও আল্লাহ তা মাফ করে দেবেন।’ (মুসলিম : ৫৯৭)

ইরাকে মার্কিন সেনা ও ইরানপন্থি গোষ্ঠীর সংঘাতে নিহত ৪

 

ইরাকে মার্কিন সেনা ও ইরানপন্থি গোষ্ঠীর সংঘাতে নিহত ৪
ছবি: সংগৃহীত


ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন সেনা ও ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি ইরানপন্থি গোষ্ঠীর ব্যবহৃত ভবনে বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে।

এ ছাড়া বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

বাগদাদের জাদরিয়া এলাকায় এই প্রাণঘাতী হামলার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণের কাছ থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

আলজাজিরার তরফে যাচাইকৃত ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা গেছে, মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। অন্যান্য ফুটেজে দূতাবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বেশ কিছু ড্রোন মাঝপথে রুখে দিতে দেখা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে দূতাবাসের ‘সি-র‍্যাম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অন্তত দুটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তবে একটি ড্রোন দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আছড়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় যে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে, তা দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতর থেকেই উঠছিল।

নতুন চাঁদ দেখলে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন

  নতুন চাঁদ ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষে মাসের সূচনা, সমাপ্তিসহ রোজার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইবাদত চাঁদ দেখার সঙ্গে...