Wednesday, 15 July 2026

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

 

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানুষের কথায় নয়, তার চরিত্র, ধৈর্য, আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা, উত্তম সঙ্গ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থার মধ্যেই প্রকাশ পায়। একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উত্তম আচরণেই প্রকৃত প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটে। একজন সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের জীবনকে এমন কিছু সুন্দর অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে তোলেন, যা তাকে দুনিয়ায় সম্মানিত এবং আখিরাতে সফল হওয়ার পথ দেখায়।

কম কথা বলুন, বেশি কাজ করুন





জ্ঞানী মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, বরং তার চরিত্র ও কর্মে ফুটে ওঠে। অপ্রয়োজনীয় কথা কম বলুন, প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নতুবা নীরব থাকে।’ (বুখারি ৬০১৮, মুসলিম ৪৭)

যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শান্ত থাকুন

রাগ বা উত্তেজনা নয়, ধৈর্য ও আত্মসংযমই একজন শক্তিশালী মানুষের প্রকৃত পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)

আত্মসমালোচনা ও চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন

কখনো কখনো নির্জনতা মানুষকে নিজের ভুল-ত্রুটি বুঝতে, আল্লাহকে স্মরণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ... لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ

‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৯০)

তর্কে নয়, উত্তম কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দিন

অকারণ বিতর্ক মানুষকে বিভক্ত করে, কিন্তু উত্তম চরিত্র ও সৎকর্ম মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا

‘যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক পরিত্যাগ করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।’ (আবু দাউদ ৪৮০০)

সৎ ও প্রজ্ঞাবান মানুষের সঙ্গ বেছে নিন

মানুষ তার সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই উত্তম চরিত্রের মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করুন এবং ক্ষতিকর সঙ্গ থেকে দূরে থাকুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ

‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিজি ২৩৭৮)

অভিযোগ নয়, কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন

যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য আরও কল্যাণ বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৭)

আরও পড়ুন

পরিবারের গোপন বিষয় সংরক্ষণ করুন

পরিবারের সম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাস রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত বিষয় অযথা প্রকাশ করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً... يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের একজন হলো সে, যে তার স্ত্রীর গোপন বিষয় মানুষের কাছে প্রকাশ করে।’ (মুসলিম ১৪৩৭)

বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

জীবনে পরীক্ষা আসবেই। ধৈর্য, হাসিমুখ ও আল্লাহর প্রতি ভরসাই একজন মুমিনের শক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

আমরা যদি এই গুণগুলোকে জীবনের অংশ করে নিতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ দুনিয়ায় সম্মানিত জীবন এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হবে।

ট্রাম্পের দৃষ্টি কেন ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে

 

ট্রাম্পের দৃষ্টি কেন ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে
ছবি: আল-জাজিরা

ইরানের সন্দেহভাজন একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের ওই স্থাপনা লক্ষ্য করে তিনি বলেছেন, ‘ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলো।’





জাইদ সাবাহর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ট্রাম্পের হুমকি দেওয়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কী

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘কুহ-ই কোলং গাজ লা’ নামে পরিচিত। এটি ইরানের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত। এই পাহাড়ে মাটির গভীরে দুটি টানেল বা সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সুড়ঙ্গগুলো মাটির এত গভীরে তৈরি করা হয়েছে যে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বা মাটি ভেদ করা বোমা দিয়েও সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ মার্কিন গণমাধ্যমে বিশ্লেষকদের বরাতে বলা হয়েছে, এই স্থাপনা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হতে পারে।

এর আগে ‘হিউ হিউইট শো’তে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই স্থাপনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেখানে কোনো তৎপরতা দেখছি না। তাদের পারমাণবিক পরিস্থিতির অবস্থা ভালো নয়। আমরা যখনই এর (পারমাণবিক কার্যক্রম) কথা শুনি, তখনই তা উড়িয়ে দিই। তাই তারা এটি নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে না। তবে আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে একটি আঘাত হানব।’

ইসরাইলপন্থি মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এখন আমার মরার সময় নয় বলার কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু

 

এখন আমার মরার সময় নয় বলার কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একনিষ্ঠ মিত্র এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের দীর্ঘদিনের সমর্থক, সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ মারা গেছেন। শনিবার তার মৃত্যু হয়। এতে ইউক্রেন ও ইসরাইলের মতো দেশগুলো কংগ্রেসে একজন একনিষ্ঠ সমর্থক এবং ট্রাম্পের কানে কথা বলার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বরকে হারালো।



এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেছিলেন, এখনই আমি মরতে পারি না। এখনও আমার অনেক কাজ বাকি।

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহে গ্রাহাম সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি উচ্চাভিলাষী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনালাপে গ্রাহাম সম্প্রতি ইউক্রেন সফরের বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। সফরকালে তিনি একটি সামরিক ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল সিনেটে পাস করানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন।

ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন, ফোনালাপে গ্রাহামকে কিছুটা ক্লান্ত শোনালেও তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে কংগ্রেসে ভোটার পরিচয় যাচাই সংক্রান্ত সেফ অ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এদিকে, গ্রাহামের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির সঙ্গে আরেকটি ফোনালাপেও তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, রোববার নির্ধারিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ফোনালাপে গ্রাহাম বলেন, এখনই আমি মরতে পারি না। এখনও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি শেষ করতে হবে, ইরান ইস্যু সমাধান করতে হবে এবং ইসরাইল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কাজও বাকি।

তার মৃত্যুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন। এদিকে, সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার গ্রাহামের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য তার বোন ডারলিন গ্রাহাম নরডোনকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

Tuesday, 14 July 2026

সাহাবিদের সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য

 

সাহাবিদের সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য

সাহাবায়ে কিরাম হেদায়াতের নক্ষত্র, তাকওয়া ও ঈমানের দীপ্তিমান তারকা, সুদীপ্ত পূর্ণিমা। রাসুল (সা.)-এর পর তারাই বহন করেছেন ইসলামের ঝান্ডা এবং উড্ডীন করেছেন পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এ কারণেই আমরা চিরকাল তাদের কাছে ঋণী। তারাই যুগশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম প্রজন্ম। আল্লাহতায়ালা তাদের নবীজির সহচর হিসেবে নির্বাচন করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার যুগের লোকরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর এমন সব ব্যক্তি আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দেবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে।’ (বুখারি : ২৬৫২)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তিটি এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অনুসরণ করতে চায় তবে সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ করে। কারণ, তারাই ছিলেন এ উম্মতের মধ্যে আত্মার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নেককার, ইলমের দিক থেকে গভীরতর, লৌকিকতার দিক থেকে স্বল্পতম, আদর্শের দিক থেকে সঠিকতম, অবস্থার দিক থেকে শুদ্ধতম। তারা এমন সম্প্রদায় আল্লাহ যাদের আপন নবী (সা.)-এর সংস্পর্শধন্য হওয়ার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে বাছাই করে নিয়েছেন। অতএব তোমরা তাদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। কারণ, তারা ছিলেন সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত। (মিশকাত : ১৯৩)



ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তির মর্ম হলো, নবীজি (সা.)-এর পর পৃথিবীতে অনুসরণযোগ্য কেউ থাকলে তারা হলেন সাহাবায়ে কিরাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা করেছেন। আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।

সমগ্র দুনিয়ার সব মানুষের নেক আমল এক করলেও সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালমন্দ করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্ত আমলের মর্যাদা তোমাদের সারাজীবনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬২)

আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার সাহাবাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার নিশানায় পরিণত করো না। কারণ, যে তাদের ভালোবাসবে, সে আমার মুহাব্বতেই তাদের ভালোবাসবে। আর যে তাদের অপছন্দ করবে, সে আমাকে অপছন্দ করার ফলেই তাদের অপছন্দ করবে। আর যে তাদের কষ্ট দেবে, সে আমাকেই কষ্ট দেবে। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকেই কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেবে, অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।’ (তিরমিজি : ৩৮৬২)

মুসলমান দাবি করে যদি কেউ তাদের গালমন্দ করে, তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখে, তার এই আচরণ কাফের-মুশরিকদের সঙ্গে মিলে যায়। পবিত্র কোরআনের ভাষ্যমতে, একমাত্র কাফিররাই সাহাবাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। মুসলিম হয়েও যারা সাহাবায়ে কিরামের সমালোচনা করে, তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়, নিশ্চিত বলা যায়, তারা কাফের মুশরিকদের সাথি-সঙ্গী। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে সাহাবাদের ঈমানের মতো ঈমান আনতে বলেছেন। এখন যারা সাড়ে চৌদ্দশ বছর পরে এসে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাদের মুসলমান বলার সুযোগ আছে কি!?

মুসলমান তো তারা যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছে, তাদের ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।’ (সুরা হাশর : ১০)

সুরা ফাতাহ ২৯ আয়াতে ‘লি ইয়াগিজা বিহিমুল কুফফার’। অর্থ— ‘কাফেরদের অন্তর্দাহ সৃষ্টি হয়’ এর ব্যাখ্যায় ইমাম মালেক (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, সেও এই হুকুমের আওতায় পড়বে।’

ইমাম আবু জুর‘আ আর রাজি (রহ.) বলেন, ‘যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে সাহাবাদের কোনো একজনের মর্যাদাহানি করতে দেখবেন, তখন বুঝে নেবেন যে, ধর্মদ্রোহী নাস্তিক। কারণ হলো, রাসুল (সা.) সত্য, কোরআনও সত্য। আর কোরআন ও সুন্নাহ আমাদের কাছে পৌঁছিয়েছেন সাহাবায়ে কিরাম। নিশ্চয় তারা চায় আমাদের প্রমাণগুলোয় আঘাত করতে। যাতে তারা কোরআন-সুন্নাহকে বাতিল করতে পারে। এরাই ধর্মদ্রোহী-নাস্তিক। এদের খতম করে দেওয়া শ্রেয়।’ (মিনহাজুস সুন্নাহ : ১/১৮)

সাহাবাবিদ্বেষী শ্রেণি সম্পর্কে নবীজি ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন, ‘শিগগিরই একদল বের হবে, যারা আমার সাহাবাদের দোষারোপ করবে, অভিযুক্ত করবে এবং গালি দেবে। সাবধান! সাবধান! তোমরা তাদের মজলিসে বসবে না, তাদের সঙ্গে পানাহার করবে না, তাদের সঙ্গে নামাজ পড়বে না এবং তাদের জন্য দোয়াও করবে না।’ (আল জামে’ লি আখলাকির রাবি ওয়া আদাবিস সামে : ১৩৫৩)

আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে আমার সাহাবিকে গালি দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা সব মানুষের অভিশাপ। আল্লাহ তার নফল বা ফরজ কিছুই কবুল করবেন না।’ (তাবারানি : ২১০৮)

হরমুজ উত্তেজনায় তেলের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে এক মাসের সর্বোচ্চে

 

হরমুজ উত্তেজনায় তেলের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে এক মাসের সর্বোচ্চে

হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণার প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন সময় বিকেল ৪টা (গ্রিনিচ মান সময় ২০০০) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করতে যাচ্ছে। গত জুনের মাঝামাঝি এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।





গেলবার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস–এর বিশ্লেষকরা এক প্রতিবেদনে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানি সামুদ্রিক চলাচলের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।”

লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ দশমিক ২৯ ডলার বা ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ দশমিক ৭৩ ডলার বা ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় একদিনের ডলারভিত্তিক উল্লম্ফন এবং ১২ জুনের পর সর্বোচ্চ সমাপনী মূল্য রেকর্ড করেছে।

এদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২৯ এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় দৈনিক বৃদ্ধি এবং ১৫ জুনের পর সর্বোচ্চ সমাপনী অবস্থানে পৌঁছেছে।

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

  প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানুষের কথায় নয়, তার চরিত্র, ধৈর্য, আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা, উত্তম সঙ্গ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থার মধ্...