Friday, 17 April 2026

সাংবাদিকতার ইসলামি নীতিমালা


সাংবাদিকতার ইসলামি নীতিমালা

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং জনমত গঠন ও সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার। তবে নৈতিকতাহীন সাংবাদিকতা অনেক সময় সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা সৃষ্টি করে। ইসলাম সাংবাদিকতাকে একটি পবিত্র দায়িত্ব বা ‘আমানত’ হিসেবে গণ্য করে, যার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে।

সংবাদের সত্যতা ও যাচাইকরণ

ইসলামি সাংবাদিকতার প্রথম ও প্রধান স্তম্ভ হলো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা। কোনো সংবাদ শোনামাত্রই তা প্রচার করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন : ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হয়।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন : ‘কোনো ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তা-ই বর্ণনা করে।’ (সহিহ মুসলিম : ৫; আবু দাউদ : ৪৯৯২)

সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তি

একজন সাংবাদিককে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক মতাদর্শ যেন সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতাকে ক্ষুণ্ণ না করে, সে বিষয়ে কোরআন বলছে : ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ না করার দিকে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৮)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন : ‘হে ঈমানদাররা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৭০)

সাংবাদিকতায় বর্জনীয় বিষয়

বর্তমান সাংবাদিকতায় অনেক সময় অন্যের ব্যক্তিগত দোষত্রুটি খুঁজে বের করাকে কৃতিত্ব মনে করা হয়। কিন্তু ইসলাম একে চরম ঘৃণা করে। আল্লাহ বলেন : ‘তোমরা একে অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করো না এবং একে অন্যের গিবত (পরনিন্দা) করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ বুখারি : ২৪৪২; সহিহ মুসলিম : ২৫৯৯; ইবনে মাজাহ : ২৫৪৪)

অশ্লীলতা ও ফিতনা প্রতিরোধ

সংবাদমাধ্যমকে অবশ্যই সমাজ থেকে অশ্লীলতা দূর করতে হবে। কুরুচিপূর্ণ ছবি বা সংবাদ প্রচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে কোরআন সতর্ক করেছে : ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তা কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।’ (সুরা নূর, আয়াত : ১৯)

পাশাপাশি মিথ্যা সংবাদ বা গুজবের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা (ফিতনা) সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ। আল্লাহ বলেন : ‘ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯১)

গোপনীয়তা রক্ষা

সাংবাদিকতার অন্যতম মূলনীতি হলো মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা। অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত অডিও, ভিডিও বা তথ্য প্রকাশ করা খিয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন :

‘যখন কোনো ব্যক্তি কথা বলার পর এদিক-ওদিক তাকায় (অর্থাৎ চায় না অন্য কেউ শুনুক), তবে সেই কথাটি একটি আমানত।’ (তিরমিজি : ১৯৫৯)

জনস্বার্থে গোপনীয়তা প্রকাশ

ইসলামে অন্যের দোষ গোপন রাখার ব্যাপারে নির্দেশ থাকলেও, যখন কোনো ত্রুটি রাষ্ট্র বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা প্রকাশ করা অপরিহার্য হয়ে পড়। আল্লাহ বলেন : ‘মন্দ কথা প্রকাশ করা আল্লাহ পছন্দ করেন না; তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে (তার কথা ভিন্ন)। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৪৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে, তবে সে যেন তা নিজের হাত দিয়ে (শক্তি প্রয়োগে) বাধা দেয়। যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন মুখ দিয়ে (প্রতিবাদ করে) বাধা দেয়…’ (সহিহ মুসলিম : ৪৯)

এভাবে একজন সাংবাদিক লেখনীর মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে মূলত হাদিসের নির্দেশই পালন করেন।

যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি আমানতের খিয়ানত (দুর্নীতি) করেন, তবে তা প্রকাশ করা খিয়ানতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা আমানত রক্ষার অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘উপদেশ বা কল্যাণকামিতাই হচ্ছে দ্বীন (ধর্ম)।’ (সহিহ মুসলিম : ৫৫)

উপসংহার

ইসলামি নীতিমালার আলোকে সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বরং সমাজ সংস্কারের একটি মহান ‘দাওয়াহ’। সাংবাদিকের কলম যখন কোরআন ও সুন্নাহর আদর্শে পরিচালিত হবে, তখন তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাল এবং সত্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘নিশ্চয়ই সত্য পুণ্যের পথ দেখায় আর পুণ্য জান্নাতের পথ দেখায়।’ (সহিহ বুখারি : ৬০৯৪; সহিহ মুসলিম : ২৬০৭) সুতরাং সাময়িক খ্যাতি বা ভাইরাল হওয়ার মোহের চেয়ে সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হওয়া উচিত একজন মুসলিম সাংবাদিকের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

শিগ্‌গিরই শেষ হবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ: ট্রাম্প


শিগ্‌গিরই শেষ হবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ: ট্রাম্প
ছবি: বার্তা সংস্থা এপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব শিগ্‌গির শেষ হবে। নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘খুব ভালোভাবে’ এগোচ্ছে। এই যুদ্ধ খুব শিগ্‌গির শেষ হবে।

এর আগে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে। তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ ‘প্রায় সবকিছুতেই রাজি হয়েছে’।

এদিকে তিনি বলেছেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘চমৎকার’ আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একমত হয়েছেন এ দুই নেতা।’

লেবাননে যুদ্ধবিরতি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক সুযোগ: নেতানিয়াহু

লেবাননে যুদ্ধবিরতি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক সুযোগ: নেতানিয়াহু

লেবাননে যুদ্ধবিরতিকে শান্তির জন্য ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগ বলে বর্ণনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যদিও যুদ্ধবিরতির সময় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেছেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আক্রমণের আশঙ্কা থাকায় এবং ইসরাইলে গোলাবর্ষণ প্রতিরোধ করতে আমরা লেবাননে একটি বর্ধিত নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সেখানেই আছি এবং আমরা এখান থেকে যাচ্ছি না।’

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তার মূল দাবি হলো হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা। এর আগে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী পর্যন্ত দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে লেবানন ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

Wednesday, 15 April 2026

তুরস্কের স্কুলে আবারো বন্দুক হামলা, নিহত ৯

 

তুরস্কের স্কুলে আবারো বন্দুক হামলা, নিহত ৯
ছবি: সংগৃহীত।

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি মাধ্যমিক স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। বুধবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তফা আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, কাহরামানমারাস প্রদেশে এই হামলা চালিয়েছে একই স্কুলের ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত হামলা, এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নেই।

প্রদেশের গভর্নর জানান, হামলার পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে। অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্র স্কুলে একটি ব্যাগে করে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র তার বাবার, যিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

হামলাকারী স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির দুটি কক্ষে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। তুরস্কে সাধারণত ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুরা পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করে।

দেশটিতে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা খুবই বিরল। তবে দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় গণমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

তুরস্কে অস্ত্র আইন তুলনামূলক কঠোর। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে কেবল ২১ বছরের ঊর্ধ্বে লাইসেন্সধারীরাই অস্ত্র রাখতে পারেন, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইবিহীন কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনের দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীকে বারান্দা দিয়ে হাঁটার সময় দুই শিক্ষার্থীকে গুলি করতে দেখা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার সানলিউরফা প্রদেশে আরেকটি বন্দুক হামলায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হন। ওই ঘটনায় হামলাকারীও আত্মহত্যা করেছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

Monday, 13 April 2026

হজযাত্রীদের সেবায় অনিয়ম করলে গুনতে হবে জরিমানা

হজযাত্রীদের সেবায় অনিয়ম করলে গুনতে হবে জরিমানা


হজযাত্রীদের সেবার মান উন্নত করতে এবং হয়রানি বন্ধে মক্কা ও মদিনার আবাসন ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান বারবার অনিয়ম করলে গুনতে হবে দ্বিগুণ জরিমানা, এমনকি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে লাইসেন্স।

শনিবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জিলকদ মাসের শুরু থেকে মহররমের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি ও নিয়ম কার্যকর থাকবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একই অপরাধ বারবার করে, তাহলে প্রতিবারই জরিমানার পরিমাণ বাড়বে। যদি হজের মৌসুম চলাকালীন কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয় এবং পরে আবারও একই ভুল হয়, তাহলে আগের চেয়ে দ্বিগুণ জরিমানা আদায় করা হবে। এমনকি হজের মৌসুম শেষ হওয়ার পরেও যদি আগের কোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবু কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি অপরাধের ধরন বুঝে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান পরপর তিনবার নিয়ম ভাঙলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। এ ছাড়া সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত বা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে কর্তৃপক্ষের হাতে।

সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে এই জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচতারকা হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ মানের আবাসনব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানের আকার ও সক্ষমতা অনুযায়ী এই জরিমানা বণ্টন করা হয়েছে। যেমন ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৫ শতাংশ, ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০ শতাংশ, মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শতভাগ জরিমানা কার্যকর হবে।

মক্কা ও মদিনার হোটেল ও আবাসন খাতের জন্য জরিমানার হার ২ হাজার রিয়াল থেকে শুরু করে ১৪ হাজার রিয়াল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অস্থায়ী আবাসন বা হজের বিশেষ ক্যাম্পগুলোর ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ১ হাজার থেকে ৫০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

মূলত আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করতেই সৌদি সরকার এই হার্ডলাইন নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যারা হাজিদের সেবায় অবহেলা করবে বা প্রতারণার আশ্রয় নেবে, তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণের স্পষ্ট বার্তা দিল দেশটি।

নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলা, ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহতের শঙ্কা


নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলা, ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহতের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার বোর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবোর একটি বাজারে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। এতে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল শনিবার রাতে জিল্লি নামে ওই গ্রাম্য বাজারে এ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় দুইশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও এক কাউন্সিলর।

নাইজেরিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে। তবে বাজারে হামলার বিষয়টি বিমানবাহিনী উল্লেখ করেনি।

যেখানে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে মিলিশিয়াদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এতে সেখানে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওই অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বোর্নোর সীমান্তবর্তী ইয়োবোর গেইদাম বিভাগের ফুচিমেরাম প্রধান ও কাউন্সিলর লাওয়ান জান্না নুর বলেছেন, আহতদের ইয়োবো ও বোর্নোতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “জিল্লি বাজারে একটি খুবই বিপর্যয়কর একটি ঘটনা। বাজারে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।”

সেখানকার তিনজন বাসিন্দা ও একটি এনজিও জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২০০ জনের বেশি হবে।

দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে ইস্তানবুল, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টের চেষ্টা

দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে ইস্তানবুল, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টের চেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলা, প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এই যুদ্ধ ঝুঁকির মুখে ফেলেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই বৈশ্বিক পুঁজি কেন্দ্রগুলোকে। এ অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিনিয়োগকারী ও সংস্থাগুলোকে নিজ দেশে আকৃষ্ট করার উপায় খুঁজছে তুরস্ক ।

মিডল ইস্ট আই-কে একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বলেছেন, আঙ্কারা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর ছাড় এবং অন্যান্য সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা ইতোমধ্যে ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারে (আইএফসি) প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক কেন্দ্র এবং আবুধাবি ও দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করে হামলা চালায় ইরান। এর ফলে সেখানকার কিছু সংস্থা তাদের ব্যবসাবাণিজ্য তুরস্কে সরিয়ে আনতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তি স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা এবং ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইস্তানবুল হচ্ছে তুরস্কের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে রয়েছে আইএফসি। আছে ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা দিয়েছে সরকার। যার মধ্যে রয়েছে করমুক্ত রপ্তানি আয়সহ সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলোতে আনুষঙ্গিক চার্জ থেকে অব্যাহতি।

এছাড়া রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য বেতন কর প্রণোদনা, যেখানে বিদেশি কর্মী কত বছর ধরে কাজ করছেন তার ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রকৃত বেতনের ৬০ বা ৮০ শতাংশ আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, তুরস্ক সরকার এই কর প্রণোদনাগুলোর কিছু অংশ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য আরো ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিগুলোকে বিদেশি কেনা পণ্য নিজে বিক্রি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিক্রির পর অর্জিত আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে দেখা গেছে, বিনিয়োগের জন্য তুরস্কের প্রতি বিদেশি সংস্থাগুলোর হয়তো আগ্রহ বাড়ছে । এই মাসের শুরুতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত একটি বৈঠকে ইস্তানবুলে বিশ্বব্যাপী ৪০ জন সিইও-কে আপ্যায়ন করেছিলেন। অংশগ্রহণ করা কোম্পানিগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার।

এদিকে ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের প্রধান নির্বাহী আহমেত ইহসান এরদেম এই মাসের শুরুতে রয়টার্সকে বলেছিলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলো ইরান যুদ্ধের কারণে আংশিকভাবে আইএফসিতে স্থানান্তর বা তুরস্কে তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে এবং সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী।

তবে একজন আন্তর্জাতিক ব্যাংকার মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, তুরস্কের আদালতকে কেউ বিশ্বাস করে না। কারণ তুরস্কের স্টিকি মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে, যা এ বছর ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরো বাড়বে। এছাড়া দেশটির আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কারণ তারাও দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের মতো আলাদা বাণিজ্যিক আইনের অধীনে কাজ করে। এর ফলে বিদেশিদের কাছে এটি অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি তিক্ত অভিজ্ঞতারও জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ তুর্কি কর্মকর্তা বলেছেন, আঙ্কারা যদি ডেটা সেন্টার এবং এআই কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করতে চায় তাহলে এই উদ্বেগ দূর করতে আইনি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

সাংবাদিকতার ইসলামি নীতিমালা

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং জনমত গঠন ও সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার। তবে নৈতিকতাহীন সাংবাদিক...