Sunday, 17 May 2026

হজে যাওয়ার আগে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

 

হজে যাওয়ার আগে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়

হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের পঞ্চম ও আবশ্যিক একটি বিধান। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। মনে রাখতে হবে, হজ ও ওমরাহ এক নয়। ওমরাহ বছরের যেকোনো সময় করা যায় এবং ওমরাহ একটি সংক্ষিপ্ত ইবাদত। কিন্তু হজ শুধু জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতেই পালন করতে হয়।

গত ২৫ মে সোমবার থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ৩০ মে শনিবার পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন ‘ইয়াওমে আরাফাহ’ বা আরাফা দিবস হতে পারে ২৬ মে মঙ্গলবার। পরদিন ২৭ মে বুধবার উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।







শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি

হজের সফরে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার হাঁটতে হতে পারে। তীব্র রোদে মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফার মধ্যে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। তাই এখন থেকেই নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা এবং প্রচুর পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখা আবশ্যক।

ইহরাম 

হজের ইহরাম শুধু একটি পোশাক নয়, এর মাধ্যমে হজের একটি বিশেষ মানসিক অবস্থা তুলে ধলা হয়। ইহরাম বাঁধার পর ঝগড়া-বিবাদ, উচ্চবাচ্য বা কোনো ধরনের অশোভন আচরণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় এবং নারীদের জন্য পর্দার সাথে মুখ ও হাত খোলা রাখা যায় এমন পোশাকই হলো ইহরাম। এখানে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা সবার পোশাক এক, যা মূলত আল্লাহর দরবারে মানুষের সমতার প্রতীক।

নিরাপত্তা ও সতর্কতা

লাখো মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে। সবসময় নিজের পরিচয়পত্র সাথে রাখা, মোবাইল চার্জ রাখা এবং দলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না করা জরুরি। সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং ভিড়ের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা 

হজ শুরু হয় ইহরাম ও নিয়তের মাধ্যমে। এরপর মক্কায় পৌঁছে কাবা শরীফ সাতবার তওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার সায়ি করতে হয়। মিনার তাবুতে রাত কাটিয়ে হাজিরা উপস্থিত হন আরাফার ময়দানে। আরাফায় অবস্থানকে হজের মূল রোকন বলা হয়। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে কান্নাকাটি ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হয়।

আরাফা থেকে হাজিরা যান মুজদালিফায় এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। সেখান থেকে শয়তানকে মারার জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করা হয়। পরের দিনগুলোতে মিনায় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ, দমে শোকর বা কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে ইহরাম ত্যাগ করতে হয়। সবশেষে মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ী তওয়াফের মাধ্যমে শেষ হয় হজের আনুষ্ঠানিকতা।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নিজেদের ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্র বলে দাবি তাইওয়ানের

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নিজেদের ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্র বলে দাবি তাইওয়ানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ছবি: রয়টার্স

চীন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর নিজেদের একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে তাইওয়ান।

বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন শেষে ট্রাম্প বলেন, স্বশাসিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটির বিষয়ে তিনি কোনো পক্ষেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।



উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে এটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প আরো জানান, তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ অনুমোদন করা হবে কি-না, সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।

আইনগতভাবে মার্কিন প্রশাসন তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় সরবরাহ করতে বাধ্য। তবে এই মিত্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রায়শই চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর আগে বলেছিলেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তারা ইতোমধ্যে নিজেদের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই দেখে।

শনিবার তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, তাইওয়ান যে একটি ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ’, তা ‘স্বতঃসিদ্ধ।’

তবে তিনি আরো বলেন, তাইওয়ান চীনের সঙ্গে বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে তাইওয়ান চীন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না, আবার চীনের সঙ্গে একত্রিতও হবে না। অনেক তাইওয়ানবাসী নিজেদের একটি আলাদা জাতি মনে করলেও, অধিকাংশ মানুষই এই বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অবস্থান হলো, তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের শর্ত থাকে যে, সেখানে কেবল একটিই চীনা সরকার থাকবে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, তাইওয়ান বিষয়ে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে একই সঙ্গে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না বলেও স্পষ্ট করে দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক। আপনি তো জানেন, একটি যুদ্ধ লড়তে আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল (১৫ হাজার ২৮৯ কি.মি) পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি তা চাই না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীন শান্ত হোক।’

ওয়াশিংটনে ফেরার ফ্লাইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের জানান, তিনি ও শি জিনপিং এই দ্বীপটি নিয়ে প্রচুর কথা বলেছেন।

তবে তাইওয়ান আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সেটি রক্ষা করবে কি-না, তা নিয়ে আলোচনা করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং এই দ্বীপের ব্যাপারে ‘খুবই সংবেদনশীল’ এবং তিনি কোনো ‘স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না।’

বেইজিং অবশ্য শুরু থেকেই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। এর আগে তাকে ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ এবং ‘প্রণালি অঞ্চলের শান্তি বিনষ্টকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে চীন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির চারপাশে চীন তাদের সামরিক মহড়া জোরদার করেছে, যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ওয়াশিংটনের বজায় রাখা ভারসাম্যকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, আসন্ন অস্ত্র প্যাকেজের বিষয়টি তাইওয়ানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি বলতে যাচ্ছি যে, বর্তমানে যিনি তাইওয়ান চালাচ্ছেন, তার সাথে আমাকে কথা বলতে হবে। আপনারা তো জানেনই তিনি কে।’

তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবে তারা যথেষ্ট অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ঐতিহ্যগতভাবে তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন না, কারণ এমনটা করা হলে বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের জাতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ তিনি তার প্রথম মেয়াদের পর থেকেই তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন দিয়ে আসছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি অর্জন করতে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরো গভীর করবে। এর মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা যেন হুমকিতে না পড়ে বা বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করা হবে, যা তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করবে।’

সূত্র: বিবিসি

চুক্তি না হলে ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে, ট্রাম্পের হুমকি

 

চুক্তি না হলে ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে,  ট্রাম্পের হুমকি

শিগগিরই কোনো শান্তিচুক্তি না হলে ইরানের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।





ফরাসি গণমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরানিদের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই সবচেয়ে ভালো হবে। তারা যদি তা না করে, তবে তাদের খুব খারাপ সময় পার করতে হবে। চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পাশাপাশি ইরানেরও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে নতুন করে আলোচনার বার্তা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে তেহরান। দুদেশের এমন মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মাঝেই অচলাবস্থা ভাঙতে ট্রাম্প ফের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। যার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়ে রেখেছেন তার শীর্ষ উপদেষ্টারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংকট নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি আরও বড় পরিসরে বোমা হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার একটি রূপরেখা তৈরি করে রেখেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র দুবার দেশটির ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল।

সূত্র: আলজাজিরা

Saturday, 16 May 2026

জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা ও আমল

 

জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা ও আমল

হিজরি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ মাস। এ মাস চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এটি হজের মাস, ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার মাস, প্রভুর সান্নিধ্য লাভের মাস। পবিত্র রমজান মাসের পর গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সময় হলো জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন। এই দিনগুলোর ইবাদত আল্লাহতায়ালার কাছে অতি প্রিয়।

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা পবিত্র কোরআন মজিদে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই দশকের রাতের শপথ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের।’ (সুরা আল-ফজর : ১-২) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও মুজাহিদ (রহ.)-সহ অনেক সাহাবি, তাবেয়ি ও মুফাসসির বলেন, এখানে ‘দশ রাত’ দ্বারা জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)




সুতরাং এই ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। এই ১০ দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে জিলহজ মাসের ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও এর চেয়ে উত্তম নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদের চেয়ে উত্তম যে নিজের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে। অতঃপর কোনো কিছু নিয়ে ঘরে ফিরে আসেনি।’ (সুনানে আবু দাউদ, সহিহ বুখারি, জামি তিরমিজি, সুনানে ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

অন্যত্র আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দুনিয়ার সর্বোত্তম দিনগুলো হলো, জিলহজ মাসের ১০ দিন। জিজ্ঞাসা করা হলো, আল্লাহর রাস্তায়ও কি তার সমতুল্য নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায়ও তার সমতুল্য নেই। তবে ওই ব্যক্তি যার চেহারা ধূলিযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শাহাদত লাভ করেছে।’ (মুসনাদে বাজ্জার, মুসনাদে আবু ইয়ালা, মাজমাউল জাওয়াইদ)

এসব বর্ণনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, জিলহজ মাসের প্রথম দশক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই একজন মুসলিমকে ইবাদতের এই সুবর্ণ সময়ের সদ্ব্যবহার করে অন্য সময়ের আমলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য প্রস্তুত হওয়া জরুরি। আক্ষেপের বিষয় হলো, পবিত্র কোরআন-হাদিসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া এই ইবাদতের সময় সম্পর্কে সমাজের খুব স্বল্পসংখ্যক মুসলিমই ধারণা রাখেন। জিলহজ মাসের প্রথম দশকের উল্লেখযোগ্য কিছু আমল হলো—

হাজিদের সাদৃশ্য হিসেবে চুল-নখ না কাটা : কোরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির এই ১০ দিন—নখ, চুলসহ শরীর থেকে কোনো কিছু না কাটা মুস্তাহাব। এ সম্পর্কে উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) বলছেন, ‘যে ব্যক্তি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখে এবং কোরবানির ইচ্ছা করে, সে যতক্ষণ কোরবানি না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন চুল বা নখ না কাটে।’ (সহিহ মুসলিম) এ আমল মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। ফিকাহবিদরা বলেছেন, কোরবানি করার আগে নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি না কাটার পেছনে হিকমত হচ্ছে হজযাত্রীদের সঙ্গে সাদৃশ্য করা। কারণ, তাদের ইহরাম অবস্থায় এসব কাটা নিষিদ্ধ।

তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা : জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখের আসর নামাজ পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। এটি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সব বালেগ পুরুষ, মহিলা, মুকিম, মুসাফির, গ্রামবাসী, শহরবাসী, জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায়কারী বা একাকী আদায়কারী প্রত্যেকের ওপর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা কর্তব্য। (ফাতাওয়ায়ে শামি, বাহরুর রায়েক)। পুরুষের জন্য তাকবিরে তাশরিক জোরে পড়া ওয়াজিব। আস্তে পড়লে তাকবির পড়ার হক আদায় হবে না। আর মহিলারা নিচু আওয়াজে—অর্থাৎ নিজে শুনতে পায় এমন আওয়াজে পড়বে। (রদ্দুল মুহতার, এলাউস সুনান)

তাকবিরে তাশরিক হলো—আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহ আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অধিক পরিমাণে জিকির করা : আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালার কাছে জিলহজ মাসের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই। সুতরাং, তোমরা এই দিনগুলোয় বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করো।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)

আরাফার দিনে রোজা রাখা : আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি মনে করি, তার বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা এক বছর আগের এবং এক বছর পরের গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম) আরাফার দিন ছাড়াও ঈদের দিন ছাড়া প্রথম দশকের বাকি ৯ দিন রোজা রাখাকে মুস্তাহাব বলেছেন ইমাম নববি (রহ.)।

ঈদুল আজহার সালাত আদায় : ঈদের দিনের যাবতীয় সুন্নতগুলো পালনে সচেষ্ট হওয়া। জিলহজ মাসের দশম দিন ঈদুল আজহার সালাত প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যা ঈদগাহে গিয়ে আদায় করতে হয়। হজরত আবু সাঈদ (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) ঈদুল ফিতর এবং আজহাতে ঈদগাহে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি)

কোরবানি করা : এ দিনগুলোর দশম দিন ঈদের সালাতের পর সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহতায়ালা তার নবীকে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো।’ (সুরা আল-কাউসার : ২)

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে জিলহজ মাসের প্রথম দশকের মর্যাদার প্রতি লক্ষ রেখে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন!

ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

 

ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভোজশালা কমপ্লেক্সের বিতর্কিত স্থানকে সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।





আদালত বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে এই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিতর্কিত এলাকাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল।’

আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায় ভোজশালাকে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতীর মন্দির বলে মনে করে। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ দাবি করে যে এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

২০০৩ সালের এএসআই চুক্তি অনুসারে, হিন্দু ও মুসলমানরা যথাক্রমে মঙ্গলবার ও শুক্রবার এখানে প্রার্থনা করে থাকেন।

হিন্দু পক্ষ এই আদেশকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে।

হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১১ মার্চ এএসআইকে ভোজশালা মন্দির-কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

এএসআই সেই বছরের ২২ মার্চ সমীক্ষা শুরু করে এবং ৯৮ দিনব্যাপী একটি বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই এর বৈজ্ঞানিক জরিপের সময় প্রাপ্ত মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপি প্রমাণ করে যে এই চত্বরটি মূলত একটি মন্দির ছিল।

তবে, মুসলিম পক্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি

হজে যাওয়ার আগে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের পঞ্চম ও আবশ্যিক একটি বিধান। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। মনে রাখতে হবে, হজ ও ও...