Thursday, 14 May 2026

একাধিক বিয়ে : প্রয়োজন ও বাস্তবতা

 

একাধিক বিয়ে : প্রয়োজন ও বাস্তবতা

মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো দাম্পত্য জীবন। পরিবার, সমাজ ও সভ্যতার ভিত্তি এই দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামে বিয়েকে শুধু একটি সামাজিক চুক্তি নয়; বরং ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘একাধিক বিয়ে’ বা বহু বিয়ে একটি সংবেদনশীল ও আলোচিত বিষয়। কোরআন-হাদিসে এর অনুমোদন থাকলেও এর উদ্দেশ্য, শর্ত ও বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তাই এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্তমান বাস্তবতা বিশ্লেষণ করা জরুরি।





কোরআনের দৃষ্টিতে একাধিক বিয়ে

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন—‘তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে, ইয়াতিম মেয়েদের ব্যাপারে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো। কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে, ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনই যথেষ্ট।’ (সুরা নিসা : ৩) এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তা শর্তসাপেক্ষ। মূল শর্ত হলো—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ, স্ত্রীদের মধ্যে অধিকার, সময়, ভরণ-পোষণ ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে সাম্য বজায় রাখতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এক স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসের আলোকে

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনে একাধিক বিয়ে করেছেন, তবে তা ছিল মূলত সামাজিক ও মানবিক প্রয়োজনের কারণে। যুদ্ধবিধবা নারীদের আশ্রয় দেওয়া, সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা—এসব ছিল তাঁর বিয়ের পেছনের উদ্দেশ্য।

একটি হাদিসে এসেছে—‘যার দুই স্ত্রী আছে, অথচ সে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করে না, কিয়ামতের দিন সে একপাশ হেলে পড়া অবস্থায় উপস্থিত হবে।’ (তিরমিজি)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বহু বিয়ের অনুমতি থাকলেও তা দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়।

একাধিক বিয়ের প্রয়োজনীয়তা

ইসলামে একাধিক বিয়ে কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়; বরং এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুমোদিত ব্যবস্থা। কিছু ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে—

১. সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা : যুদ্ধ, দুর্যোগ বা অন্যান্য কারণে নারীর সংখ্যা বেশি হলে তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার জন্য বহু বিয়ে একটি সমাধান হতে পারে।

২. বিধবা ও অসহায় নারীদের আশ্রয় : ইসলামের প্রাথমিক যুগে বহু নারী যুদ্ধের কারণে বিধবা হয়ে পড়তেন। তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহু বিয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

৩. পারিবারিক সমস্যা সমাধান : কখনো কখনো প্রথম স্ত্রী অসুস্থতা বা সন্তান ধারণে অক্ষম হলে, বৈধ উপায়ে পরিবার রক্ষার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে একটি বিকল্প হতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা

বর্তমান সমাজে বহু বিয়ে নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অপব্যবহার হচ্ছে, যা ইসলামের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এর কারণ বিবিধ। যথা—

এক. ন্যায়বিচারের অভাব : আজকের বাস্তবতায় অধিকাংশ মানুষ একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। ফলে পারিবারিক অশান্তি, হিংসা ও ভাঙন সৃষ্টি হয়।

দুই. আর্থিক সক্ষমতা : একাধিক পরিবার পরিচালনা করার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য প্রয়োজন। অনেকেই তা বিবেচনা না করেই বিয়ে করে, যার ফলে স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

তিন. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি : বর্তমান সমাজে বহু বিয়েকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। এর পেছনে রয়েছে অপব্যবহার ও দায়িত্বহীনতার উদাহরণ।

চার. নারীর অধিকার : আধুনিক যুগে নারীর শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে বহু বিয়ে গ্রহণযোগ্য হয় না।

ইসলামি দৃষ্টিতে ভারসাম্য

ইসলাম কখনোই মানুষের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে না। একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়ে ইসলাম মানবিক সমস্যার সমাধান দিয়েছে; কিন্তু একই সঙ্গে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। এ ভারসাম্যই ইসলামের সৌন্দর্য। একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। যদি কেউ মনে করে, সে একাধিক স্ত্রীর অধিকার যথাযথভাবে আদায় করতে পারবে না, তবে তার জন্য এক স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকা উত্তম।

সমাধান ও করণীয়

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বহু বিয়ের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কিছু বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা যাচাই করা। আর্থিক ও মানসিক প্রস্তুতি থাকা। প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব অবহেলা না করা। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

একাধিক বিয়ে বিনোদনের জন্য নয়

একাধিক বিয়ে ইসলামে একটি অনুমোদিত ব্যবস্থা, কিন্তু তা কোনো সাধারণ বা বিনোদনমূলক বিষয় নয়। এটি একটি গুরুতর দায়িত্ব, যা পালন করতে হলে ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতি থাকা আবশ্যক। বর্তমান সমাজে এর অপব্যবহার রোধ করতে হলে কোরআন-হাদিসের সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তবতার আলোকে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সুতরাং, বহু বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে ভারসাম্য ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা, ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি পূরণ করা নয়। ইসলামের এই বিধানকে সঠিকভাবে বুঝে প্রয়োগ করলেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—তিনটিই উপকৃত হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল

বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল

বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর প্রতি জনমতের নতুন এক জরিপে সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ইসরাইলের নাম। ২০২৬ সালের গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশন র‌্যাঙ্কিংয়ে ইসরাইলকে বিশ্বের সবচেয়ে কম ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিরা ডাটার ২০২৬ সালের গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক দেশ-ধারণা বিষয়ক এই জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ এবং তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। একইসঙ্গে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জনের অংশগ্রহণে প্রকাশ করা হয় ২০২৬ ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স, যেখানে নিজ নিজ দেশে গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।





জরিপে দেখা গেছে, গাজায় চলমান যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সংকট এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগও দেশটির প্রতি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো নেতিবাচক করেছে।

অন্যদিকে, ইতিবাচক ভাবমূর্তির শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এর পরেই রয়েছে কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালি।

জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতায় দেশটি এখন বিশ্বের পাঁচটি সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশের মধ্যে স্থান পেয়েছে, এমনকি রাশিয়া ও চীনের চেয়েও নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট পারসেপশন স্কোর ছিল প্লাস ২২ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে নেমে হয়েছে মাইনাস ১৬ শতাংশ মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্টের পতন।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন, আক্রমণাত্মক শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিতর্ক, ইউক্রেন সহায়তা কমানো এবং ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ক্ষয়ের বড় কারণ। জরিপে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন রাশিয়া ও ইসরাইলের পর বিশ্বের অন্যতম বড় বৈশ্বিক হুমকি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ইরান ও তাইওয়ান ইস্যুতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দর কষাকষি

 

ইরান ও তাইওয়ান ইস্যুতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দর কষাকষি

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা নেতৃত্বের সম্ভাব্য বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ ও মতবিরোধের দীর্ঘ তালিকায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে ইরান সংকট।





মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট সমাধানে সহায়তার বিনিময়ে বেইজিং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ছাড় চাইতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চীন বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আলোচনার কেন্দ্রে আনতে পারে। লন্ডনের সিটি সেন্ট জর্জস, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক ইন্দরজিৎ পারমারের মতে, ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলতে সহায়তা করার বদলে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতায় আরো স্পষ্ট অবস্থান দাবি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এখন শুধু আঞ্চলিক সংকট নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন দরকষাকষির ক্ষেত্রেও পরিণত হতে পারে। ফলে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ শুধু তেহরান বা ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তেই নয়, বেইজিংয়ের কৌশলগত হিসাব-নিকাশের ওপরও নির্ভর করতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

Wednesday, 13 May 2026

হজ পালনে যেসব কাজ বাদ পড়লে ‘দম’ ওয়াজিব

 

হজ পালনে যেসব কাজ বাদ পড়লে ‘দম’ ওয়াজিব

ইহরাম বাঁধার পর থেকে হজের প্রতিটি ধাপ সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পালন করতে হয়। হজের কোনো ওয়াজিব কাজ বাদ পড়লে বা ইহরামের নিষিদ্ধ কোনো কাজে লিপ্ত হলে তার প্রতিকার হিসেবে ‘দম’ বা কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।

হজের ওয়াজিব কাজগুলোর কোনো একটি সঠিক সময়ে পালন না করলে বা ছেড়ে দিলে তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পশু জবাই বা ‘দম’ দেওয়া আবশ্যক।





কাজগুলো হলো

১. সাফা-মারওয়া সাঈ করা: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌড়ানো বা সাঈ করা ছেড়ে দিলে।

২. মিকাতের বিধান লঙ্ঘন: হজের মিকাত বা সীমানা পার হওয়ার আগে ইহরাম না বাঁধলে।

৩. আরাফাত থেকে আগে চলে আসা: ৯ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান না করে আগে বেরিয়ে গেলে।

৪. মুজদালিফায় অবস্থান: মুজদালিফায় রাতযাপন বা অবস্থানের ওয়াজিব আমলটি বাদ পড়লে।

৫. মিনায় রাতযাপন: মুজদালিফার পর মিনায় অন্তত দুই রাত অতিবাহিত না করলে।

৬. কঙ্কর নিক্ষেপ : শয়তানকে পাথর মারার কাজ সম্পন্ন না করলে।

৭. হাদি বা কুরবানি: তামাত্তু ও কিরান হাজিদের জন্য হজের কুরবানি (দমে শোকর) না করলে।

৮. চুল কাটা: সঠিক সময়ে চুল মুণ্ডানো বা ছোট (হলক বা কসর) না করলে।

৯. বিদায়ী তাওয়াফ: মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ না করে চলে গেলে।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজ করা, যেমন—গুনাহের কাজ, তেমনি এটি হজকে অসম্পূর্ণ করে দেয়। তাই হজের সফরে প্রতিটি পদক্ষেপ ও আমল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা উচিত।

ইরান যুদ্ধ বন্ধে রিপাবলিকানদের ভোট চাইলেন মার্কিন সিনেটর

 

ইরান যুদ্ধ বন্ধে রিপাবলিকানদের ভোট চাইলেন মার্কিন সিনেটর

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াতে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর চাক শুমার। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।





সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শুমার বলেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধ বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় আমেরিকানরা প্রতি গ্যালন গ্যাসের জন্য ৪.৫০ ডলারের বেশি পরিশোধ করছে।

তিনি আরও বলেন, রিপাবলিকানরা যদি সত্যিই ব্যয় কমানো এবং আমাদের সেনাদের সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়, তাহলে তাদের উচিত ডেমোক্র্যাটদের ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশনকে সমর্থন করা, যাতে ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে।

ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি ঠেকাতে সপ্তমবারের মতো ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’ পাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট যাতে ৬০ দিনের বেশি সময় যুদ্ধ পরিচালনা করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা।

তবে কংগ্রেসে সংখ্যালঘু অবস্থানে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের আগের কয়েকটি প্রচেষ্টা দলীয় বিভাজনের কারণে ব্যর্থ হয়েছে। তারপরও বাড়তে থাকা জ্বালানি মূল্য, সামরিক ব্যয় এবং সেনা নিরাপত্তার প্রশ্নে বিরোধীরা এবার নতুন করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে : পেন্টাগন

 

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে : পেন্টাগন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় এখন প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেটের প্রতিরক্ষা বিষয়ক বরাদ্দ উপকমিটির দুটি শুনানিতে এ তথ্য তুলে ধরেন।





পেন্টাগনের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে জানানো হয়, গত দুই সপ্তাহের তুলনায় ইরান যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এর আগে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিরক্ষা বিভাগের কম্পট্রোলার নতুন যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের হিসাব দিয়েছেন, তাতেও এখনো ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা মেরামতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুনানিতে যুদ্ধের বাড়তি ব্যয় ও প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল এবং আর্থিক চাপের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

সূত্র: আল জাজিরা

একাধিক বিয়ে : প্রয়োজন ও বাস্তবতা

  মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো দাম্পত্য জীবন। পরিবার, সমাজ ও সভ্যতার ভিত্তি এই দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামে বিয়েকে ...