Monday, 8 June 2026

কাবা কোন কাপড়ে কেন ঢেকে রাখা হয়

 

কাবা কোন কাপড়ে কেন ঢেকে রাখা হয়

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা পাঁচ দিনে শেষ হয়। হজের অংশ হিসেবে হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ তওয়াফ করেন।

কাবা শরিফ কিসওয়া নামক একটি কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, যার ওপর সোনার সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত লেখা থাকে।





কাবা শরিফকে সুরক্ষিত, সম্মানিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রাখার উদ্দেশ্যে ঢেকে রাখা হয়। কাবার গায়ে সর্বপ্রথম কে কিসওয়া জড়িয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, ইসলাম-পূর্ব যুগে এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত। অনেকে মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল ৪০০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের বিশেষ কাপড় দিয়ে সর্বপ্রথম কাবা ঢেকে দিয়েছিলেন।

অন্য এক মতানুসারে, হজরত ইসমাইল (আ.) নিজেই প্রথম কাবা ঢেকেছিলেন। তবে এর পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। উসমানী আমলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রতিষ্ঠিত গাজী হুসরেভ-বেগ মাদরাসার অধ্যাপক এবং ‘এ গাইড থ্রু মক্কা আল-মুকাররমা’ বইয়ের লেখক মেনসুদ দুলোভিচ বলেন, তিনি যদি কোনো আবরণ দিয়েও থাকেন, তবে তা সম্ভবত পুরো কাঠামোর পরিবর্তে কাবার একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ ছিল।’

কিসওয়া কী

কিসওয়া হলো কালো রেশমি কাপড়, যা কাবা শরিফকে ঢেকে রাখে। কিসওয়া আরবি শব্দ। এর শব্দমূল হলো কাফ, সিন এবং ওয়াও। কিসওয়া শব্দের অর্থ ঢাকা বা আবৃত করা। মূলত, যেকোনো ধরনের পোশাক বা আবরণ বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হতো। কালক্রমে শব্দটি বিশেষভাবে কাবার আবরণের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরব অঞ্চল খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু থাকলেও কিসওয়া তৈরি হতো মিসরে। সেই সময় মিসরের দামিয়েত্তা ও অন্যান্য স্থানে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘তিরাজ’ কারখানায় উন্নত টেক্সটাইল শিল্প গড়ে উঠেছিল। সেখানেই কিসওয়া বোনা ও প্রস্তুত করা হতো।

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কিসওয়া গিলাফ নামে পরিচিত। ফার্সি গিলাফ শব্দের অর্থও কিসওয়ার অনুরূপ: ঢাকনা, আবরণ বা পর্দা।

হজের সময় কিসওয়ার নিচের অংশটি সযত্নে ওপরে তুলে রাখা হয়। মূলত বিপুলসংখ্যক হাজি কাবার কাছাকাছি যেতে এবং বরকত লাভের আশায় এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। তাই, কাপড়টি সুরক্ষিত রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কিসওয়া কোন উপাদানে তৈরি

বর্তমানে কিসওয়া প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে ইতিহাসজুড়ে কাবা ঢাকতে বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রথম দিকের কিসওয়াগুলো সাধারণত লিনেন, তুলা ও পশমের মতো প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি করা হতো।

কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে ইসলাম-পূর্ব যুগে কিসওয়া হিসেবে চামড়ার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে।

চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না নেতানিয়াহুর: ট্রাম্প

 

চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না নেতানিয়াহুর: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না।





ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তার (নেতানিয়াহুর) কোনো বিকল্প থাকবে না। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমিই সব সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন না।”

এদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ইচ্ছা বদলায়নি বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হামলাটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এর আগে তিনি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানাতে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করবে না।

তিনি বলেন, “এটি চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কী হয়, তা দেখা যাবে। কিন্তু এই হামলাগুলো চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পথেও যেতে পারে।

ট্রাম্পের ভাষায়, “চুক্তি না হলে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আমরা সামরিকভাবে বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান করতে পারি। দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। আমার মতে, এই অবরোধ দেশটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান

 

ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।





ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে আরও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরাইলি হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইল সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানায় দেশটির সেনাবাহিনী।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর হাইফা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহরের কাছাকাছি রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে চালানো সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়।

অন্যদিকে, ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, “আজ রাতেই তেহরানকে অবশ্যই জ্বলতে হবে”—যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Sunday, 7 June 2026

আসছে ডায়াবেটিসের নতুন ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ‍টিকা

 

আসছে ডায়াবেটিসের নতুন ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ‍টিকা

টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতা মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে সপ্তাহে একবার নেওয়া ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ইনজেকশন রেটাট্রুটাইড । সম্প্রতি প্রকাশিত ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গেছে, এই নতুন ওষুধ রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পাশাপাশি শরীরের ওজনও ব্যাপকভাবে কমাতে সক্ষম।





চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় ৯৩০ জন টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউই আগে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করছিলেন না। তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল না এবং সবার বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ছিল অন্তত ২৩।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪, ৯ অথবা ১২ মিলিগ্রাম রেটাট্রুটাইড কিংবা প্লাসেবো দেওয়া হয়। ৪০ সপ্তাহ ধরে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা (এইচবিএ১সি), ওজন, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, রেটাট্রুটাইড গ্রহণকারীদের এইচবিএ১সি গড়ে ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে, যেখানে প্লাসেবো গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে রেটাট্রুটাইড গ্রহণকারীদের শরীরের ওজন গড়ে ১১ দশমিক ৫ থেকে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা প্লাসেবো গ্রুপের ২ দশমিক ৬ শতাংশ ওজন হ্রাসের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।

গবেষকদের মতে, রেটাট্রুটাইডের বিশেষত্ব হলো এটি একসঙ্গে তিনটি অন্ত্র-হরমোন জিএলপি-১, জিআইপি এবং গ্লুকাগনের কার্যকারিতা অনুকরণ করে। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি মূলত জিএলপি-১ কে অনুসরণ করে ক্ষুধা কমায়, আর মাউনজারো জিএলপি-১ ও জিআইপির সমন্বয়ে কাজ করে। তবে রেটাট্রুটাইড অতিরিক্তভাবে গ্লুকাগন রিসেপ্টর সক্রিয় করে শরীরের শক্তি ব্যয়ও বাড়ায়, যা ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপের উন্নতিও লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ১৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, এর মধ্যে দুজন ছিলেন প্লাসেবো গ্রুপে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এবং সময়ের সঙ্গে তা কমে যায়। পরিপাকতন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

গবেষকরা মনে করছেন, যেসব রোগীর টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের জন্য এই নতুন ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে আরো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান রয়েছে।

স্থূলতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাথ ম্যাককালো বলেন, ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় ভোগা অনেক মানুষের জন্য এ ধরনের চিকিৎসা সত্যিকার অর্থেই জীবন বদলে দিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওষুধ কোনো ‘জাদুকরী সমাধান’ নয়; দীর্ঘমেয়াদে মানুষের এমন অবস্থায় পৌঁছানোই রোধ করতে হবে যাতে তাদের এসব ওষুধের প্রয়োজন না হয়।

অন্যদিকে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএস এপিডেমিওলজির বিশেষজ্ঞ ডা. মেরি স্প্রেকলি বলেন, গবেষণায় দেখা ওজন হ্রাসের মাত্রা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তবে এই গবেষণায় রেটাট্রুটাইডকে বর্তমান জনপ্রিয় ওষুধ সেমাগ্লুটাইড বা টিরজেপাটাইডের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা হয়নি। ফলে এটি বিদ্যমান চিকিৎসার তুলনায় কতটা বেশি বা কম কার্যকর, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ওজন কমানোই সর্বোত্তম স্বাস্থ্যগত ফল নিশ্চিত করে না। চিকিৎসার সময় রোগীদের পর্যাপ্ত পুষ্টি, পেশিশক্তি সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ডায়াবেটিস ইউকের গবেষণা ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ডা. লুসি চেম্বার্স বলেন, এই ফলাফলগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। নতুন এই শ্রেণির ওষুধ একই সঙ্গে ওজন কমানো এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে দ্বৈত সুবিধা দিতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসার সঙ্গে তুলনামূলক কার্যকারিতা জানতে আমরা আরো গবেষণার অপেক্ষায় রয়েছি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কোরবানি কার নামে হবে, যা বলছে ইসলাম

কোরবানি কার নামে হবে, যা বলছে ইসলাম

ছবি: আল-জাজিরা

কোরবানির সময় এলেই অনেকেই নিজের নাম ছাড়াও বাবা-মা, নাবালক সন্তান বা মৃত আত্মীয়স্বজনের নামেও কোরবানি দিয়ে থাকেন। অনেক পরিবারে আবার একটি পশু কোরবানিতে কয়েকজন শরিক হন, কেউ কেউ মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য নামেও অংশ রাখেন।

কোরবানি কার নামে হবে, কার ওপর ওয়াজিব এবং অন্যের নামে কোরবানি দেওয়া যাবে কি-না এসব বিষয় নিয়ে ইসলামি শরিয়তে নির্দিষ্ট কিছু বিধান রয়েছে।





মূলত, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার মতো প্রাণী একজনের পক্ষ থেকে একটি কোরবানি হিসেবেই আদায় করা হয়। অর্থাৎ, এসব পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারেন না। তবে গরু, মহিষ বা উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়া যায়। প্রত্যেকের নিয়ত ও অংশ আলাদা হলেও কোরবানি একটি পশুর মাধ্যমেই আদায় করা সম্ভব।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন,‘সাতজন মানে সাতটি নামের পক্ষ থেকে। সাতটি নামের চেয়ে কমও হতে পারে, বেশি হতে পারবে না। ভাগের ক্ষেত্রে নামের বিষয়টি হলো, অমুকের পক্ষ থেকে (কোরবানি হচ্ছে) এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোরবানির পশু জবাই আল্লাহ'র নামে করতে হয়।’

শরীফ মুহাম্মদ বলেন,‘কিন্তু মৃত বাবা-মায়ের নামে কোরবানি করা যাবে? স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই কি আলাদা কোরবানি প্রয়োজন? নাবালক সন্তান বা যাদের আয় রোজগার নেই, তাদের নামে কোরবানি দেওয়া যাবে?

কোরবানি মূলত কার ওপর ওয়াজিব?

ঈদ-উল-আজহা বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সৃষ্টিকর্তার সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশের মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।

আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির দিন ও পরবর্তী দুই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে থাকেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, যাদের ওপর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব তারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি না দেন, তাহলে গোনাহের ভাগীদার হতে হবে।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নেসাব অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত ভরি পরিমাণ স্বর্ণ অথবা, সাড়ে ৫২ ভরি পরিমাণ রুপা বা এর সমমূল্যের নগদ টাকা অথবা সম্পদ থাকলে তার জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। যাদের এই পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তি নেই, তাদের জন্য পশু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। এই নিয়ম নারী-পুরুষ সবার জন্য প্রযোজ্য।

ইসলামের নবী মুহাম্মদের সময় মানুষের সম্পদের হিসাব অনেক ক্ষেত্রে স্বর্ণ-রুপা দিয়েই করা হতো। তাই, ইসলামে ‘নেসাব’ নির্ধারণে স্বর্ণ ও রুপাকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।

বর্তমান বাজারে মানভেদে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১৮ লাখ কিংবা ১৮ লাখের চেয়ে কিছুটা বেশি। অন্যদিকে, সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দাম প্রায় তিন লাখ টাকার কাছাকাছি। সেক্ষেত্রে রুপার নেসাব ধরলে যারা স্বচ্ছল নয়, তাদের ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ এ বিষয়ে বলেন, ‘নবী মুহাম্মদ সা:-এর সময় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ এবং সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দাম এক ছিল। যুগ পরিক্রমায় এখন দামে পার্থক্য হয়ে গেছে। তাই, এখন সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বাজারে যে দামে বিক্রি হয়, সেই পরিমাণ অর্থ যদি জিলহজ মাসের ১০, ১১, ১২-এই তিন দিনে যদি কারো হাতে জমা থাকে, তাহলে উনি কোরবানি দিবেন।

কখন অন্য কারো নামে কোরবানি দেওয়া যাবে?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। তবে অনেকেই আছেন, যারা অন্যদের নামেও কোরবানি দেন।

যেমন, কেউ তার কোনো পরিবারের সদস্য বা প্রিয় মানুষের নামে কোরবানি দেন। অনেকেই আছেন, যারা তাদের মৃত বাবা-মায়ের নামে বা কোনো আত্মীয়ের নামে কোরবানি দেন।

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে মৃত বাবা-মা বা স্বজনদের নামে কোরবানি দেওয়ার প্রচলন অনেক পুরোনো। ইসলামি দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি দেওয়া জায়েজ।

অনেকেই মনে করেন, এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াবের দোয়া করা হয়।

তবে, জীবিত বা মৃত, অন্য কারো নামে কোরবানি দেওয়ার সর্বপ্রথম শর্ত হলো, আগে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে হবে। তারপর সে অন্য কারো নামও যুক্ত করতে পারবে বলে জানান শরীফ মুহাম্মদ।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন,‘নিজের নামে দিয়ে অন্যদের নামে দেওয়া যায়। তা হতে পারে কোনো মহান ব্যক্তি বা কোনো প্রিয় মানুষ বা পরিবারের সদস্য। তবে মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোরবানি দিলে সেই গোশত গরীবকে একটু বেশি দিলে ভালো হয়।’

এছাড়া, অনেকেই আছেন যারা তাদের নাবালক সন্তানের নামে কোরবানি দেন। নাবালক সন্তানের নামেও কোরবানি দেওয়ার জায়েজ আছে বলে জানান শরীফ মুহাম্মদ।

সব শরীককে কি সমান অর্থ দিতে হবে?

বিধান অনুযায়ী, সব শরীককে সমান অর্থ দিতে হবে এবং গোশত সমবন্টন করতে হবে।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘সাতজন যদি একদমই স্বতন্ত্র হয়, যেমন- ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের বা ভিন্ন ব্যক্তি, তাহলে তারা প্রত্যেকে সমান টাকা দিবেন এবং গোশতও সমানভাবে ভাগ করে নিবেন।’

অধ্যাপক আব্দুর রশীদ বলেন,‘তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, অনেকেই আছেন, যারা কোরবানি দিতে চান কিন্তু প্রতি ভাগে যে পরিমাণ টাকা দিতে হবে, তিনি সেই পরিমাণ দিতে পারছে না। তখন ‘কেউ তাকে ১০ হাজার টাকা উপহার হিসেবে দিতে পারে। কিন্তু গোশত সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। কেউ উপহার হিসেবে দিলে সমস্যা নাই।’

তবে কেউ যদি সন্তান হিসেবে তার মায়ের বা বাবার নামে কোরবানি দেন, এমনকি পরিবারের অন্য কারো নামে বা একাধিক ব্যক্তির নামে স্বেচ্ছায় কোরবানি দেন, তখন তাদের কাছে সেই টাকা চাওয়া জরুরি না বলে জানিয়েছেন ইসলামি স্কলাররা।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘আর স্বামী হিসেবে কেউ যদি স্ত্রীর নামে কোরবানি দিতে চান, স্ত্রীর কোরবানি ওয়াজিব হোক বা না হোক, সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে না জানিয়ে করার চেয়ে জানিয়ে করা ভালো। যদি স্ত্রীর কোরবানি ওয়াজিব হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে নিয়ত করতে হবে যে তার কোরবানিটা তার স্বামী করছেন।’

যদিও অধ্যাপক আব্দুর রশীদের মতে, মৃত ব্যক্তি বা অন্য কারো নামে কোরবানি দিলে এখানে অনুমতির প্রয়োজন নাই। যে কারো নামেই কোরবানি দেওয়া যেতে পারে। আর কোনো নারী যদি অবিবাহিত হন এবং তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে তাকেও আগে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে হবে। এরপর তিনিও তার বাবা-মা বা অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজন বা প্রিয়জনের নামে নিজ অর্থেই কোরবানি দিতে পারবেন।

ঋণ নিয়ে কোরবানি করা যায়?

এদিকে, অনেকেই আছেন, যারা খুব স্বচ্ছল নন, কিন্তু কোরবানি দিতে চান। সেক্ষেত্রে তারাও কোরবানি দিতে পারবেন এবং তা নফল হিসেবে কবুল হবে উল্লেখ করে ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলছিলেন, এখানে একটা শর্ত আছে।

তিনি বলেন, ‘ধরলাম, বাচ্চাদের মন খারাপ হয়ে আছে। সেজন্য তিনি কোরবানি দিতে চান। তাহলে হবে না। এখানে শর্ত হলো, কোনো সামাজিক উপলক্ষ্যই এখানে মূখ্য হতে পারবে না। নিয়ত থাকতে হবে যে আল্লাহকে খুশি করার জন্য করছি। অর্থাৎ, এটা প্রদর্শনমূলক না।’

তিনি আরো বলেন এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি ঋণ নিয়ে সেই নফল কোরবানি আদায় করতে পারবেন। কিন্তু বারবার ঋণ করার পর সেই ঋণ ওয়াদামাফিক পূরণ না করতে পারলে সেটারও দরকার নাই করার।’

এছাড়া যারা ১০০ বা হাজার কোটি টাকা শিল্প ঋণ নিয়েছেন নেসাবের পরিমাণ মিলাতে গিয়ে তাদের ঋণের পরিমাণ ধর্তব্য হবে না। কারণ ঋণের টাকা হিসাবে ধরা হলে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তার কোরবানি আবশ্যকীয় থাকে না।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘কিন্তু ব্যক্তিগত লোন, তা ১০ হাজার টাকা হোক বা ১০ লাখ টাকা হোক, এটা প্লাস-মাইনাস করে যদি দেখা যায় যে লোন পরিশোধ করেও আপনার কাছে নেসাব পরিমাণ অতিরিক্ত টাকা আছে, তাহলে আপনার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে।’

কাবা কোন কাপড়ে কেন ঢেকে রাখা হয়

  পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা পাঁচ দিনে শেষ হয়। হজের অংশ হিসেবে হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ তওয়াফ করেন। কাব...