Thursday, 21 May 2026

সৌদিতে পৌঁছেছেন বাংলাদেশি ৭৮,৫০০ হজযাত্রী, শেষ ফ্লাইট আজ

সৌদিতে পৌঁছেছেন বাংলাদেশি ৭৮,৫০০ হজযাত্রী, শেষ ফ্লাইট কাল

আজ বৃহস্পতিবার হজ ফ্লাইট শেষ হবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এরমধ্যে সরকারি হজ যাত্রীর সংখ্যা ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি হজ যাত্রীর সংখ্যা ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

বাংলাদেশ হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৭৯টি ফ্লাইট জেদ্দায় অবতরণ করেছে।





হজ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত স্বাভাবিক কারণে ১৮জন হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন মদিনায় এবং মক্কায় ১৩ জন মারা গেছেন।

এতে আরো বলা হয়, সৌদি মেডিকেল টিম মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৩৭০ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে, আর আইটি হেল্পডেস্ক ১৭ হাজার ৯৮৮ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে।

এয়ারলাইন্সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৭টি ফ্লাইটে ৩৪ হাজার ৪৪২ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৬১টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ১০০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

বাংলাদেশ হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, অবশিষ্ট ১০ হাজার ১২৬ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধীরে ধীরে যাত্রা করবেন।

ঢাকায় সৌদি দূতাবাস এ পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ৩৮৭টি ভিসা ইস্যু করেছে, যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৬৫টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২২টি।

সৌদি আরবে গতকাল সোমবার পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসাবে দেশটিতে ১০ জিলহজ ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদের আগের দিন ২৬ মে পবিত্র হজ পালিত হবে।

ফিরতি হজ ফ্লাইট আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে শুরু হবে। শেষ ফিরতি হজ ফ্লাইট আগামী ৩০ জুন নির্ধারিত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে যুদ্ধ ‘মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে’: আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে যুদ্ধ ‘মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে’: আইআরজিসি

ইরানের পতাকা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফের ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ অঞ্চলটির বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে বলে বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।





আইআরজিসি তাদের ‘ওয়েবসাইট সেপাহ নিউজে’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে ফের আগ্রাসন চালানো হলে, প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার অঞ্চলটির অনেক বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। আমাদের ধ্বংসাত্মক হামলা আপনাদেরকে গুঁড়িয়ে দেবে।’ তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামনের কয়েক দিনের মধ্যে স্থায়ী সমাধানে কোনো চুক্তি না হলে, ইরানে আবারও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর, এ সতর্কবার্তা দিল রেভল্যুশনারি গার্ড।

দুই পক্ষই যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাব বিনিময়ের পাশাপাশি পরস্পরের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়িয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধে ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, ‘আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুকে জানতে হবে যে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সেনাবাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলেও, আমরা এখনো ইসলামী বিপ্লবের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করিনি।’

প্রায় ৪০ দিনের এই যুদ্ধে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতারা নিহত হন।

এর জবাবে তেহরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা না হলে, কয়েক দিনের মধ্যেই আবার হামলা শুরু হতে পারে।

এর একদিন আগে তিনি বলেন, উপসাগরীয় আরব নেতারা শেষ মুহূর্তে তাকে হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছিলেন।

হজের কারণে ইরানে হামলা স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প

 

হজের কারণে ইরানে হামলা স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প

হজ মৌসুমে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করলে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন সতর্কবার্তার পর ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।





প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেন যে, হজ চলাকালে ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে সৌদি আরবে অবস্থানরত লাখো হজযাত্রী আটকা পড়ার আশঙ্কা ছিল।

তারা আরও বলেন, পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহার সময় হামলা চালালে মুসলিম বিশ্বে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন যে, এ ধরনের আলোচনা হয়েছিল এবং ট্রাম্পকে সম্ভাব্য “সুনামগত ক্ষতি” সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।

প্রতি বছর সৌদি আরবে প্রায় ১০ লাখ বিদেশি হজযাত্রী অংশ নেন। হজ চলাকালে যুদ্ধ শুরু হলে সৌদি আরব ছাড়াও কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারত। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

চলতি বছরের হজ ২৪ মে শুরু হয়ে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে শত শত হাজার মানুষ সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

“যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হজ শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র কখনো কখনো কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দেওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প নিজেও বলেন, কাতারের আমির, সৌদি যুবরাজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে। তেহরান সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে জ্বালানি বা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে।

বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে আগ্রহী। কারণ হরমুজ প্রণালিতে চলমান ইরানি অবরোধের কারণে ইতোমধ্যে এসব দেশের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের প্রথম দফার হামলা প্রত্যাশিত ফল আনতে পারেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পরও দেশটির সরকার টিকে আছে।

খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান এখনো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পেন্টাগনের কর্মকর্তারা গোলাবারুদের ঘাটতি এবং ইরানের উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য নতুন মার্কিন অভিযানের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন।

Wednesday, 20 May 2026

জান্নাতি ঝরনা জমজমের সূচনা

 

জান্নাতি ঝরনা জমজমের সূচনা

মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশির মধ্যে এক অলৌকিক ঝরনাধারা ‘জমজম’। এটি শুধু একটি কূপ নয়, বরং মহান আল্লাহর কুদরতের এক জীবন্ত নিদর্শন। হাজার হাজার বছর ধরে কোটি কোটি তৃষ্ণার্ত মানুষের পিপাসা মিটিয়ে আসা এই কূপের পানি পবিত্রতা, বরকত এবং আরোগ্যের প্রতীক। বিশেষ করে, পবিত্র হজের মৌসুমে জমজম কূপের গুরুত্ব ও তাৎপর্য মুমিন হৃদয়ে এক অনন্য আবেগ তৈরি করে।

খ্রিষ্টপূর্ব ২১০০ থেকে ১৯০০ অব্দের মাঝামাঝি। ইতিহাসের বিভাজন অনুযায়ী সময়টি ব্রোঞ্জ যুগ। তবে ধর্মীয় ও সভ্যতার প্রেক্ষাপটে এটি ছিল ‘পিতা-পিতামহদের যুগ’ (Age of the Patriarchs)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭৭ মিটার উঁচুতে চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা মাঝখানে জনমানবহীন ঢালু উত্তপ্ত মরুভূমি থেকে চিন্তিত মুখে ফিরে যাচ্ছেন ইব্রাহিম (আ.)। তিনি চলে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী হাজেরা (আ.) ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি কি আমাদের এভাবে ফেলে যাচ্ছেন?’ ইব্রাহিম (আ.) কোনো উত্তর দেননি। কিন্তু যখন হাজেরা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহ কি আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?’ তখন ইব্রাহিম (আ.) বললেন, ‘হ্যাঁ।’ জবাবে হাজেরা (আ.) দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘তাহলে আল্লাহ আমাদের ধ্বংস করবেন না।’ অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের সঙ্গে থাকা সামান্য খাবার ও পানি শেষ হয়ে যায়। প্রখর রোদে তৃষ্ণায় শিশু ইসমাইল (আ.) ছটফট করতে থাকেন। সন্তানের এই কষ্ট মা হাজেরা সহ্য করতে পারছিলেন না। উত্তপ্ত মরুভূমিতে পার্শ্ববর্তী পাহাড়গুলোর মধ্যে মরীচিকার সৃষ্টি হয়। সেখানে পানির উৎস আছে মনে করে সেদিকে ছুটতে থাকেন তিনি। এভাবে সাফা থেকে মারওয়া এবং মারওয়া থেকে সাফা—সাতবার আসা-যাওয়া করেন। দুই পাহাড়ের মাঝখানে একটি নিচু জায়গা ছিল, যেখান থেকে শিশু ইসমাইলকে দেখা যেত না। সেই অংশটুকু তিনি দ্রুত দৌড়ে পার হতেন, যা বর্তমানে পবিত্র হজ ও ওমরাহর সময় পুরুষদের জন্য এই স্থানে সবুজ বাতি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে দৌড়ানো সুন্নত।





সপ্তমবার যখন তিনি মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছান, তখন একটি শব্দ শুনতে পান। তিনি সেখানে জিবরাইল (আ.)-কে দেখতে পান। জিবরাইল (আ.) তার ডানা বা পায়ের গোড়ালি দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে পাথুরে শক্ত মাটি থেকে স্বচ্ছ পানির ধারা বেরিয়ে আসতে শুরু করে। বিবি হাজেরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে পানির চারপাশে বালু দিয়ে বাঁধ দিতে থাকেন এবং বলছিলেন—‘জমজম’ (থামো ও থামো)।

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতাগুলোর সঙ্গে জমজমের পানি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হজের প্রতিটি ধাপে যখন হাজিরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন জমজম তাদের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি দান করে। হাজেরা (আ.)-এর সেই স্মৃতি স্মরণে হাজিরা যখন সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ান, তখন তাদের পিপাসা মেটানোর প্রধান উৎস হয় জমজম। কাবার চারদিকে তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর দুই রাকাত নামাজ শেষে জমজমের পানি পান করেন হাজিরা।

জমজমের পানি পান করার দোয়া—‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআঁও, ওয়া রিজকান ওয়াসিআঁও, ওয়া শিফা-আম মিন কুল্লি দা-ইন।’ অর্থাৎ—‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সমস্ত রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করছি।’

জমজমের পানির মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহানবী (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হবে, তা-ই পূরণ হবে।’ (ইবনে মাজাহ)

আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি জমজম কূপ। হাজার বছর ধরে অবিরত জান্নাতি পানির প্রবাহ কোটি কোটি মানুষের পেট ও আত্মাকে ভরিয়ে দিচ্ছে। হজের প্রতিটি মুহূর্তে জমজমের পানি হাজিদের হৃদয়ে ঈমানি শক্তি জোগায় এবং মহান আল্লাহর অলৌকিক সৃষ্টিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ট্রাম্পকে বিদায়, পুতিনকে স্বাগত—চীনের কূটনৈতিক বার্তা কী

 

ট্রাম্পকে বিদায়, পুতিনকে স্বাগত—চীনের কূটনৈতিক বার্তা কী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই দিনের সফরে চীনে পৌঁছান পুতিন। বেইজিং বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।



এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব কূটনীতিতে নিজেদের প্রভাব ও অবস্থান নিয়ে চীনের বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন এই সফর। একইসঙ্গে এটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও নতুনভাবে সামনে এনেছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে চীনের ওপর রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে এলেও বেইজিং বরং মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পুতিনের সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়ছে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠক থেকেও বড় কোনও অগ্রগতি আসেনি। ফলে এর ঠিক পরপরই পুতিনের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন এবং এর পরিচালনা কাঠামো তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণাও দিয়েছে। পাশাপাশি, ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষেও এই সফরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুই নেতা এখন পর্যন্ত ৪০ বারের বেশি বৈঠক করেছেন, যা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কোনও পশ্চিমা নেতার বৈঠকের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতাকে আতিথেয়তা দেওয়া চীনের কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত। তার মতে, শি জিনপিং এভাবেই ওয়াশিংটনকে বুঝিয়ে দিতে চাইছেন যে, চীনের শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার এখনও রয়েছে।

এদিকে, ইউক্রেইন যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় রাশিয়ার ভেতরেও পুতিন চাপের মুখে রয়েছেন। অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হওয়ায় চীনের ওপর মস্কোর নির্ভরশীলতাও বাড়ছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্রমেই আরও একপেশে করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সফরের আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে “এক নজিরবিহীন উচ্চতায়” পৌঁছেছে। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, ডলারের পরিবর্তে রুবল ও ইউয়ানে লেনদেন এবং দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, শি ও পুতিনের কৌশলগত নেতৃত্বে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে এবং তা জনগণের মধ্যেও আরও দৃঢ় ভিত্তি পাবে।

সৌদিতে পৌঁছেছেন বাংলাদেশি ৭৮,৫০০ হজযাত্রী, শেষ ফ্লাইট আজ

আজ বৃহস্পতিবার হজ ফ্লাইট শেষ হবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এরমধ্যে সরকারি হজ যাত্রীর সংখ্যা ৪ হাজার...