Tuesday, 30 June 2026

ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। বহু হতাহতের খবর ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। যেকোনো সময় বাংলাদেশও শিকার হতে পারে এ ভূমিকম্পে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করব

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা আইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতানু ইনদাল মাওতি, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদিগান।





অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে।

যেভাবেই হোক ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে চান ট্রাম্প

 

যেভাবেই হোক ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে চান ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। ওভাল অফিসের সেই মুহূর্তে একটি বাক্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যেভাবেই হোক ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে চান তিনি।

সেখানে তিনি বলেন, ‘সেভ আমেরিকা ভোটিং অ্যাক্ট’ ছাড়া অন্য সবকিছুই এতটুকু বলে অনেক বড় হাই তোলেন।





‘সেভ আমেরিকা ভোটিং অ্যাক্ট’ এই আইনটি পাসের জন্য বেশ কিছু সময় ধরে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প।

স্পষ্টতই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করতে চান।

জানা গেছে, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার দোহায় অপর একটি আলোচনাকারী দলের সঙ্গে থাকবেন। তারা সম্ভবত দু’পক্ষের মধ্যে চলা লড়াইয়ের অবসান আশা করছেন। উভয় পক্ষই এর আগে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল। তবে বর্তমানে সেই হামলাগুলো বন্ধ রয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যেও কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা ভেবেছিলেন দু’পক্ষকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পেরেছেন। তবে এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, এই প্রক্রিয়াগুলো কতটা কঠিন।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বৈঠক করতে চান। তার দাবি, ইরানিরাও বৈঠক করতে চায়। কিন্তু ইরানিরা এই দাবি অস্বীকার করছে। তাই আসলে কী ঘটছে, তা আলোচনার কক্ষে উপস্থিত না থাকা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যাবে না।

তবে এটি স্পষ্ট যে, ট্রাম্প এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তার ভাষায়, অন্য সবকিছুই ক্লান্তিকর।

সূত্র: আল-জাজিরা

বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি

 

বাবরি মসজিদ ভেঙে মোদির গড়া রাম মন্দিরে দুর্নীতির মহা কেলেঙ্কারি

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বর্তমানে যে রাম মন্দির দাঁড়িয়ে আছে, সেই স্থানেই একসময় ছিল ষোড়শ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। ১৯৯২ সালে হিন্দু উগ্রপন্থীদের হাতে মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনা গোটা ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্ম দেয়। সেই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম।





পরবর্তীতে ওই স্থানকে কেন্দ্র করেই বিজেপি-সমর্থিত হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়। আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন। বহু হিন্দুর বিশ্বাস, এ স্থানই ভগবান রামের জন্মভূমি।

তবে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ইতিহাসের পর ভক্তদের কাছে ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠা এই মন্দির এখন বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। গত এক মাস ধরে অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।

ভক্ত ব্রজেশ কুমার আল জাজিরাকে বলেন, তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তার ভাষায়, যারা ধর্মের নামে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তারাই সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে।

রাম মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই ভারতের অন্যতম ব্যস্ত ধর্মীয় তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। মন্দিরটি পরিচালনা করে স্বাধীন সংস্থা ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। যদিও ট্রাস্টটি সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নয়, এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিজেপির আদর্শিক সংগঠন আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।

২০২৪ সালের ২২শে জানুয়ারী, ভারতের নয়াদিল্লির একটি রাস্তায় উত্তর ভারতের অযোধ্যা শহরে রাম মন্দিরের উদ্বোধন উদযাপন করছেন মানুষজন। ছবি: রয়টার্স
২০২৪ সালের ২২শে জানুয়ারী, ভারতের নয়াদিল্লির একটি রাস্তায় উত্তর ভারতের অযোধ্যা শহরে রাম মন্দিরের উদ্বোধন উদযাপন করছেন মানুষজন। ছবি: রয়টার্স

চলতি মাসে ট্রাস্টের হিসাব বিভাগের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মহিপাল সিং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলেও আল জাজিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

এদিকে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, মন্দিরের অনুদানের কোটি কোটি রুপি গায়েব হয়ে গেছে। বিরোধীদের চাপের মুখে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এরই মধ্যে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনও রয়েছেন।

শুধু তাই নয়, আরও অনেক ভক্ত দাবি করেছেন, তারা ট্রাস্টের কাছে জমা দেওয়া রুপার ইট, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান উপহারের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শুক্রবার ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ট্রাস্টি পদত্যাগ করেন। রাম মন্দির আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হওয়ায় চম্পত রায়ের পদত্যাগ ঘটনাটিকে আরও অভিযোগগুলো আরো শক্তিশালী করে তুলেছে।

তবে পদত্যাগের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। হাজারো ভক্তের পাশাপাশি বিজেপির একাংশের সমর্থকরাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন এবং অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

Monday, 29 June 2026

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

 

যে অভ্যাসগুলো প্রকৃত জ্ঞানী মানুষে পরিণত করে

প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা মানুষের কথায় নয়, তার চরিত্র, ধৈর্য, আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা, উত্তম সঙ্গ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থার মধ্যেই প্রকাশ পায়। একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উত্তম আচরণেই প্রকৃত প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটে। একজন সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের জীবনকে এমন কিছু সুন্দর অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে তোলেন, যা তাকে দুনিয়ায় সম্মানিত এবং আখিরাতে সফল হওয়ার পথ দেখায়।

কম কথা বলুন, বেশি কাজ করুন






জ্ঞানী মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, বরং তার চরিত্র ও কর্মে ফুটে ওঠে। অপ্রয়োজনীয় কথা কম বলুন, প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নতুবা নীরব থাকে।’ (বুখারি ৬০১৮, মুসলিম ৪৭)

যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শান্ত থাকুন

রাগ বা উত্তেজনা নয়, ধৈর্য ও আত্মসংযমই একজন শক্তিশালী মানুষের প্রকৃত পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)

আত্মসমালোচনা ও চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন

কখনো কখনো নির্জনতা মানুষকে নিজের ভুল-ত্রুটি বুঝতে, আল্লাহকে স্মরণ করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ... لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ

‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৯০)

তর্কে নয়, উত্তম কাজের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দিন

অকারণ বিতর্ক মানুষকে বিভক্ত করে, কিন্তু উত্তম চরিত্র ও সৎকর্ম মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا

‘যে ব্যক্তি সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক পরিত্যাগ করে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের জামিন।’ (আবু দাউদ ৪৮০০)

সৎ ও প্রজ্ঞাবান মানুষের সঙ্গ বেছে নিন

মানুষ তার সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই উত্তম চরিত্রের মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করুন এবং ক্ষতিকর সঙ্গ থেকে দূরে থাকুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ

‘মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিজি ২৩৭৮)

অভিযোগ নয়, কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন

যে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য আরও কল্যাণ বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৭)

আরও পড়ুন

পরিবারের গোপন বিষয় সংরক্ষণ করুন

পরিবারের সম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাস রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত বিষয় অযথা প্রকাশ করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً... يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের একজন হলো সে, যে তার স্ত্রীর গোপন বিষয় মানুষের কাছে প্রকাশ করে।’ (মুসলিম ১৪৩৭)

বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

জীবনে পরীক্ষা আসবেই। ধৈর্য, হাসিমুখ ও আল্লাহর প্রতি ভরসাই একজন মুমিনের শক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

আমরা যদি এই গুণগুলোকে জীবনের অংশ করে নিতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ দুনিয়ায় সম্মানিত জীবন এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হবে।

ইউরোপে দাবদাহে ১৩০০ মৃত্যু

 

ইউরোপে দাবদাহে ১৩০০ মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে নজিরবিহীন গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহের কারণে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তীব্র এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে রোববার জার্মানি, পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রসহ পুরো মহাদেশজুড়ে তাপমাত্রার আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে।





সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ২১ জুন থেকে ইউরোপের এই উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত ১ হাজার ৩০০টির বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে।

তিনি বলেন, তাপমাত্রাজনিত চাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলো এমন তাপমাত্রার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি।

রোববার সকালে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে গত বুধবার থেকে প্রায় এক হাজার বাড়তি মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এসব অতিরিক্ত মৃত্যুর একটি বড় অংশই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের। বাড়িতে মানুষের মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ বেড়েছে।



ডব্লিউএইচও প্রধান সতর্ক করে বলেন, বিশ্বে মহাসচিব হিসেবে ইউরোপই সবচেয়ে দ্রুত গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মহাদেশটির লাখ লাখ মানুষ এখন তীব্র গরমের মধ্যে বসবাস করছে। শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুতের গ্রিডগুলো বিকল হয়ে পড়ছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার টানা তৃতীয় দিনের মতো জার্মানি ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পার করেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে পূর্ব ব্র্যান্ডেনবার্গের কোশেনের একটি আবহাওয়া স্টেশনে স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

চেক প্রজাতন্ত্রের আবহাওয়া ইনস্টিটিউট সিএইচএমআই জানিয়েছে, দেশটিতে টানা দুই দিনে দুই দফায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। প্রাগের উত্তরে ডোকসানি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, রোববার এই তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে পরে পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ভারী ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

পোল্যান্ডেও সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। রোববার দেশটির সলুবিস শহরে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। পোল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব মেটিওরোলজি অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের (আইএমজিডব্লিউ) এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানান।



এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন ডব্লিউএইচওর প্রধান। তিনি আবারও সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। প্রজন্মে একবার দেখা দেওয়ার মতো এমন তাপপ্রবাহ এখন প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাপপ্রবাহ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।



চরম আবহাওয়ার কারণে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার চরম গরমের কারণে নজিরবিহীন 'কোড রেড' সতর্কবার্তা জারির পর নেদারল্যান্ডসের সঙ্গীত উৎসব 'ডেফকন.১' বাতিল করা হয়।

প্যারিসে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ কমাতে জনসাধারণের জন্য বাইরে বা খোলা জায়গায় অ্যালকোহল কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয় এবং শহরের প্রাইড মার্চ বাতিল করা হয়।

ফ্রান্স ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়ে রোববার সকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।



ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস শনিবার লে প্যারিসিয়ান সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন, দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সে অন্তত ৭৪ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে নদী, হ্রদ এবং পুকুরের মতো অনিরাপদ ও নজরদারীহীন জলাশয়গুলোতে।



জুন মাসের এই রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের জন্য 'হিট ডোম' বা তাপ বলয় প্রভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। এই আবহাওয়ার ধরণে বায়ুমণ্ডল থেকে বাতাস নিচের দিকে নেমে আসে। ফলে বাতাস সংকুচিত হয় এবং ভূমিতে আঘাত করার সময় আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই নিচে নেমে আসা বাতাস শুষ্ক হওয়ায় কোনো মেঘ তৈরি হতে পারে না। ফলে তীব্র সূর্যালোক মাঠঘাট ও ভূমিকে আরো বেশি উত্তপ্ত করে তোলে।


সূত্র: বিবিসি

ভূমিকম্প ও অপমৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। বহু হতাহতের খবর ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। যেকোনো সময় বাংল...