Tuesday, 12 May 2026

বজ্রপাত ও ঝড়-তুফানে করণীয় আমল

 

বজ্রপাত ও ঝড়-তুফানে করণীয় আমল

আকাশে হঠাৎ করে বিদ্যুতের ঝলকানি, মেঘের গর্জন আর বজ্রপাত এই দৃশ্য মানুষের হৃদয়ে ভয় ও বিস্ময় জাগায়। আধুনিক বিজ্ঞান এর কারণ ব্যাখ্যা করলেও, একজন মুমিনের কাছে এটি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; বরং আল্লাহর কুদরত, সতর্কবার্তা এবং রহমতের নিদর্শন। এই ভয়াবহ মুহূর্তগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মানুষ কতটা অসহায় আর আল্লাহ কত মহান।

বজ্রপাত কেন হয়





বৈজ্ঞানিকভাবে মেঘের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জ জমে গিয়ে হঠাৎ নির্গত হলে বজ্রপাত ঘটে। কিন্তু কোরআন আমাদের এ ঘটনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখায়—‘তিনিই তোমাদের বিদ্যুৎ দেখান ভয় ও আশার জন্য এবং তিনি ভারী মেঘ সৃষ্টি করেন।’ (সুরা আর-রুম : ২৪) আরো বলা হয়েছে, ‘বজ্র তাঁর প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে এবং ফেরেশতারা তাঁর ভয়ে তাসবিহ করে…।’ (সুরা আর-রাদ : ১৩)

অতএব, বজ্রপাত শুধু প্রকৃতির খেলা নয়, এটি আল্লাহর মহিমা ও ক্ষমতার জীবন্ত প্রকাশ।

ঝড়-তুফান ও বজ্রপাতের সময় করণীয়

ঝড়-তুফান বা বজ্রপাতের সময় রাসুল (সা.) আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল শিখিয়েছেন। যথা—

১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা

প্রবল বাতাস বা ঝড় শুরু হলে পড়তে হবে এই দোয়া—আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া-খাইরা মা-ফিহা, ওয়া-খাইরা মা উরসিলাত বিহি। ওয়া আউজু বিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা-ফিহা, ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এই বাতাসের, এর মধ্যকার সবকিছুর এবং এর সঙ্গে যা পাঠানো হয়েছে তার কল্যাণ চাই। আর আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট, এর মধ্যকার সবকিছুর অনিষ্ট এবং এর সঙ্গে যা পাঠানো হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। (মুসলিম : ৮৯৯)

২. বজ্রের শব্দ শুনলে দোয়া

উচ্চারণ : সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি।

অর্থ : পবিত্র সেই সত্তা, যার প্রশংসাসহ বজ্র তাসবিহ পাঠ করে এবং ফেরেশতারা তার ভয়ে তাসবিহ করে। (মুয়াত্তা মালিক : ১৭২২)

৩. ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নামাজ ও তওবা করা

হাদিসে এসেছে, যখন নবী (সা.) ভয়াবহ কিছু দেখতেন, তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। (বুখারি : ১০৩৪; মুসলিম : ৯০১) তাই এই সময় বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার, নফল নামাজ ও দান-সদকা করা উচিত।

বজ্রপাত থেকে বাঁচার বাস্তব উপায়

ইসলাম শুধু আধ্যাত্মিক নয়, বাস্তব জীবনেও সতর্ক হতে শিক্ষা দেয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রথমে তোমার উটকে বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (তিরমিজি : ২৫১৭)

সুতরাং করণীয় হলো—

১. খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা পানির কাছ থেকে দূরে থাকা।

২. নিরাপদ ঘরে আশ্রয় নেওয়া।

৩. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকা।

৪. ধাতব বস্তু ব্যবহার এড়িয়ে চলা।

অসহায় মানুষদের রক্ষা করার দায়িত্ব

ঝড়-তুফানে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলাম আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে মানুষের জন্য বেশি উপকারী।’ (মুসনাদ আহমাদ : ২৩৪০৫)

আমাদের দায়িত্ব : ১. আশ্রয়হীনদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া। ২. খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া। ৩. ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা।

পশুপাখির প্রতি আমাদের দায়িত্ব : ইসলাম শুধু মানুষের নয়, প্রতিটি জীবের প্রতি দয়া করার শিক্ষা দেয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জীবের প্রতি দয়া করলে সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি : ৬০০৯; মুসলিম : ২২৪৪)

তাই আমাদের যা করণীয় : ১. গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে রাখা। ২. পাখিদের সুরক্ষা দেওয়া। ৩. খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা।

বজ্রপাত ও ঝড়-তুফান আমাদের জন্য শুধু ভয় নয়, এটি ঈমানের পরীক্ষা ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ। এ সময় একজন মুমিনের উচিত— ১. আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। ২. সহিহ দোয়া ও আমল করা। ৩. প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করা এবং ৪. অসহায় মানুষ ও প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো। তাহলেই এই দুর্যোগ আমাদের জন্য শাস্তি নয়, বরং রহমতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

আল জাজিরাকে সাক্ষাৎকারে কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ রূপ দিতে ইরান যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন

 

নেতানিয়াহু ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ রূপ দিতে ইরান যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যকে সহিংসভাবে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য এবং একটি ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ গড়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান ইরান যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম আল থানি।

আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মূল্যায়ন তুলে ধরেন।



শেখ হামাদ জানান, ইরানের সাথে বর্তমান সংঘাত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। নব্বইয়ের দশকে ক্লিনটন প্রশাসন থেকেই নেতানিয়াহু তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু মার্কিন প্রশাসনকে এই ‘বিভ্রম’ দেখাতে সফল হয়েছেন যে, এই যুদ্ধ হবে স্বল্পস্থায়ী এবং দ্রুত ইরানি শাসনের পতন ঘটবে।”

তিনি ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির ওপর অতি-নির্ভরতার সমালোচনা করে বলেন, এ বছরের শুরুতে ওমানের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব ছিল।

সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ সতর্ক করেন যে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিণতি হলো হরমুজ প্রণালীর সংকট। ইরান এখন এই জলপথকে তার নিজস্ব সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে গণ্য করছে এবং একে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অনেক বড় হুমকি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার আড়ালে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেহরান এই অঞ্চলে তার রাজনৈতিক পুঁজি ও জনসমর্থন হারিয়েছে।

অঞ্চলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় শেখ হামাদ একটি “উপসাগরীয় ন্যাটো” গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বাইরে থেকে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বিভেদ থেকে আসছে। সৌদি আরবকে মেরুদণ্ড হিসেবে রেখে একটি যৌথ রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা প্রকল্প শুরু করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন নিরাপত্তার ওপর চিরকাল নির্ভর না করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি।

গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ডকে “নৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়” হিসেবে অভিহিত করেন শেখ হামাদ। তিনি সতর্ক করেন যে, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি ছাড়তে উৎসাহিত করার জন্য ইসরাইল অর্থ প্রদান করছে, যা গাজাকে কার্যত একটি ‘রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে’ পরিণত করার ষড়যন্ত্র। তবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব তিনি নাকচ করে দেন। একই সঙ্গে, ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান ছাড়া ইসরাইলের সাথে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে সৌদি আরবের অস্বীকৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বাশার আল-আসাদের পতনে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং নতুন সিরীয় নেতৃত্বের বাস্তবসম্মত অবস্থানের প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি একটি ঐতিহাসিক গোপন তথ্যও ফাঁস করেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ক্লিনটন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি একটি বার্তা নিয়ে তেহরানে গিয়েছিলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে ইরান যেন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে অথবা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা মেনে নেয়।

শেখ হামাদ বিন জসিম আল থানি উপসংহারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে একটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে অনুভূত হবে।

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির বড় পতন, শেয়ারবাজারে ধস

 

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির বড় পতন, শেয়ারবাজারে ধস
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বর্ণ ক্রয় হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই বার্তার পরই সোমবার দেশটির শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই দিনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মানও ইতিহাসের অন্যতম বড় ধাক্কা খেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক ভারত এর আগে জানিয়েছিল, বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্য বাড়লেও আপাতত দেশীয় বাজারে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের।





সোমবার দেশটির প্রধান শেয়ারসূচক এনএসই নিফটি-৫০ প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮১৫ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে বিএসই সেনসেক্স সূচকও প্রায় ১ হাজার ২৭৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৭৬ হাজার ১৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৩১ রুপিতে, যা এক দিনের হিসাবে রুপির রেকর্ড পতনের মধ্যে অন্যতম।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষক অরুণ কেজরিওয়ালের মতে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির মধ্যেও যদি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে না নামে, তাহলে ভারতীয় বাজারে চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

দিনজুড়ে ভারতের অধিকাংশ খাতেই দরপতন হয়েছে। বিশেষ করে স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ শেয়ারে বড় চাপ দেখা যায়। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল ও এইচপিসিএলের শেয়ার ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সঙ্গে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারও ৩ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।

ভ্রমণ ও আতিথেয়তা খাতও ক্ষতির মুখে পড়ে। ইন্ডিয়ান হোটেলস, লেমন ট্রি, চালেট হোটেলস, টমাস কুক এবং যাত্রা অনলাইনের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর শেয়ারও প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে যায়।

সরকারের স্বর্ণ কেনা নিরুৎসাহিত করার বার্তার প্রভাব পড়ে গয়না খাতেও। টাইটান, সেনকো গোল্ড ও কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ারদরে বড় পতন দেখা গেছে। এছাড়া প্রত্যাশার তুলনায় কম মুনাফা করায় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শেয়ার কমে যাওয়ায় সরকারি ব্যাংক সূচকেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তবে সামগ্রিক মন্দাবাজারের মধ্যেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। হুন্দাই মোটর ইন্ডিয়ার শেয়ার প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ত্রৈমাসিক মুনাফা বাড়ার খবরে কৃষি-রাসায়নিক কোম্পানি ইউপিএলের শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

সূত্র: দ্য ডন

ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি লাইফ সাপোর্টে : ট্রাম্প

 

ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি লাইফ সাপোর্টে : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আমি বলব যুদ্ধবিরতিটি বিশাল মাত্রায় লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। যেন একজন চিকিৎসক এসে বলছেন স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ।





এ সময় তিনি ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনার জবাবে দেওয়া প্রস্তাবেরও কঠোর সমালোচনা করেন। ট্রাম্প ওই প্রস্তাবকে বোকামিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি একটি হাস্যকর প্রস্তাব, কেউই এটি গ্রহণ করবে না।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, তবুও উভয় পক্ষের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

মুখ থুবড়ে পড়ছে ট্রাম্পের ‘গোল্ড কার্ড’ প্রজেক্ট

 

মুখ থুবড়ে পড়ছে ট্রাম্পের ‘গোল্ড কার্ড’ প্রজেক্ট

যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুততম সময়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের (রেসিডেন্সি) প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা ‘গোল্ড কার্ড’ প্রোগ্রামটি মুখ থুবড়ে পড়ছে। ১০ লাখ ডলার মূল্যের এই কার্ডটি বিশ্বের কোটিপতি ও ধনকুবেরদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

গত বছরের ডিসেম্বরে এই ভিসা প্রোগ্রামটি চালুর সময় এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ‘রেকর্ড সময়ের’ মধ্যে মার্কিন রেসিডেন্সি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে দেখা যাচ্ছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেও দ্রুত ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা মিলছে না।





আবেদনকারীর সংখ্যা নগণ্য

মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক শুরুতে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে, সরকার অন্তত ৮০ হাজার গোল্ড কার্ড ইস্যু করবে এবং এর মাধ্যমে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় হবে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (DHS) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন গোল্ড কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১৬৫ জন ১৫ হাজার ডলারের প্রাথমিক ফি জমা দিয়েছেন।

প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের গরমিল

গোল্ড কার্ডের প্রধান আকর্ষণ ছিল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত অনুমোদন। তবে আদালতের নথিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি স্বীকার করেছে যে, গোল্ড কার্ড আবেদনকারীরা প্রচলিত ভিসা আবেদনকারীদের তুলনায় কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার বা দ্রুততর প্রক্রিয়াকরণের সুবিধা পাবেন না।

আইনজীবীরা বলছেন, গোল্ড কার্ডের এই নড়বড়ে আইনি অবস্থানের কারণেই আগ্রহীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যেহেতু ট্রাম্প এটি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে চালু করেছেন, তাই এর আইনি বৈধতা নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এটি মেধাভিত্তিক ইবি-১ (EB-1) এবং ইবি-২ (EB-2) ভিসার যোগ্য আবেদনকারীদের সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে।

কেন অনাগ্রহী ধনকুবেররা

ইমিগ্রেশন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান দাদেইঁ অ্যাডভাইজারস-এর সিইও রিয়াজ জাফরি বলেন, “দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা ছাড়া এই গোল্ড কার্ড সেই সব দেশের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হবে না যেখানে ভিসার দীর্ঘ জট রয়েছে। যদি দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত করা যেত, তবে এটি গেম চেঞ্জার হতে পারত।”

অন্যদিকে, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ১০ লাখ ডলার সরকারকে ‘অনুদান’ হিসেবে দেওয়ার চেয়ে প্রচলিত ইবি-৫ (EB-5) প্রোগ্রাম অনেক বেশি কার্যকর। ইবি-৫ প্রোগ্রামে ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় এবং সেই অর্থ পরে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু গোল্ড কার্ডের ক্ষেত্রে ১০ লাখ ডলার সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য।

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে রেকর্ড ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটিপতি নিজেদের দেশ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। এই বিশাল বাজারকে ধরতে ট্রাম্প গোল্ড কার্ডের ঘোষণা দিলেও স্বচ্ছতা ও আইনি নিশ্চয়তার অভাবে তা এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি।

Monday, 11 May 2026

একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালনের মতবাদে বিশ্বাসীরা ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী

 

একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালনের মতবাদে বিশ্বাসীরা ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক বলেছেন, যারা একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালনের কথা বলেন, তাদের মতবাদ ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোজা ও ঈদ বিশ্বব্যাপী একই দিনে পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরিয়াহ বিশ্লেষণ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।





তিনি বলেন, নিজ অঞ্চলে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ঈদ পালনের জন্য অন্য অঞ্চলের চাঁদের অপেক্ষা করা সর্বসম্মতিক্রমে শরিয়ত পরিপন্থি। তিনি এ মতবাদ পোষণকারীদের জ্যোতির্বিজ্ঞানবিরোধী বলেও আখ্যা দেন।

দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, চাঁদ পর্যবেক্ষণ পরিষদ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি ইসমাইল সিরাজী, আস্সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, তেজগাঁও পলিটেকনিক মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল বাশার মো. সাইফুল ইসলাম, জমঈয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি ড. অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফারুক, ফুরফুরা মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নোমান, লালবাগ মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, পটিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি, শামসুদ্দিন জিয়া, বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ডক্টর এস এম লুৎফুল কবির প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া মুসলিমদের অবশ্য কর্তব্য। জাতীয় এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম মুফতি মাহমুদুল হাসান।

দাওয়াত সুন্নাহ বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুসের সঞ্চালনায় জাতীয় মসজিদের খতিব দীর্ঘ প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর নাগরিকদের উদ্দেশে ১০টি ইশতেহার ঘোষণা করেন।

বজ্রপাত ও ঝড়-তুফানে করণীয় আমল

  আকাশে হঠাৎ করে বিদ্যুতের ঝলকানি, মেঘের গর্জন আর বজ্রপাত এই দৃশ্য মানুষের হৃদয়ে ভয় ও বিস্ময় জাগায়। আধুনিক বিজ্ঞান এর কারণ ব্যাখ্যা করলেও, এ...