Monday, 18 May 2026

কোরবানিতে শরিকানার অংশ যেমন হবে

 

কোরবানিতে শরিকানার অংশ যেমন হবে

ছাগল, ভেড়া, দুম্বা শুধু একজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে। এমন একটি পশু দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি করলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না।

আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবে। সাতের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না। (ফতোয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৭-২০৮)।





জাবের (রা.)-সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, ‘আমরা হজের ইহরাম বেঁধে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে বেরুলাম। তখন রাসুল (সা.) আমাদেরকে একটি গরু এবং একটি উটে সাতজন করে শরিক হওয়ার নির্দেশ দিলেন।’ (মুসলিম : ১৩১৮/৩৫১, মুয়াত্তায়ে মালেক : ১/৩১৯)।

শরিকানার অংশ ও শরিক যেমন হবেন

সাতজনে মিলে কোরবানি করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারও অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। (যেমন- কারও আধাভাগ, কারও দেড়ভাগ)। এমন হলে কোনো শরিকের কোরবানি সহিহ হবে না। তেমনিভাবে কোরবানি করতে হবে সম্পূর্ণ হালাল সম্পদ থেকে। হারাম টাকা দ্বারা কোরবানি করা সহিহ নয় এবং এ ক্ষেত্রে অন্য শরিকদের কোরবানিও আদায় হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৭)।

শরিক নির্বাচনে সর্তকতা

সব অংশিদারের নিয়ত কোরবানির জন্য হতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; কিন্তু পৌঁছে তোমাদের অন্তরের তাকওয়া।’ (সুরা হজ : ৩৭)। তাই যদি কেউ আল্লাহতায়ালার হুকুম পালনের উদ্দেশে কোরবানি না করে নিছক গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করে, তাহলে তার কোরবানি সহিহ হবে না। তাকে অংশিদার বানালে শরিকদের কারও কোরবানিই আদায় হবে না। সুতরাং খুব সতর্কতার সঙ্গে শরিক নির্বাচন করা চাই। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৮, ফতোয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৪৯)।

একা পশু কিনে পরে শরিক করা

যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে ক্রয় করে আর সে ধনী হয়, তাহলে তার জন্য এ পশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ। তবে এতে কাউকে শরিক না করে তার একা কোরবানি করাই শ্রেয়। শরিক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরিব হয়, যার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়, তাহলে যেহেতু কোরবানির নিয়তে পশুটি ক্রয় করার মাধ্যমে লোকটি তার পুরোটাই আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছে, তাই তার জন্য এ পশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ নয়। যদি শরিক করে, তাহলে ওই টাকা সদকা করে দেওয়া জরুরি। আর কোরবানির পশুতে কাউকে শরিক করতে চাইলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিতে হবে। (ফতোয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২১০)।

জবাইয়ের আগে শরিকের মৃত্যুর বিধান

জবাইয়ের আগে কোনো শরিকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করার অনুমতি দেয়, তাহলে তা জায়েজ হবে। নইলে ওই শরিকের টাকা ফেরৎ দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে তার স্থলে অন্যকে শরিক করা যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩২৬, ফতোয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৫১)।

কোরবানির পশুতে আকিকা ও হজের নিয়ত

কোরবানির পশুতে আকিকা ও হজের কোরবানির নিয়ত করা যাবে। এতে প্রত্যেকের নিয়তকৃত ইবাদত আদায় হয়ে যাবে। এমন পশু হেরেম এলাকায় জবাই করতে হবে। অন্যথায় হজের কোরবানি আদায় হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৯, আল ইনায়া : ৮/৪৩৫-৩৪৬)।

ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে ইরানি মুখপাত্রের ভিডিও পোস্ট

 

ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে ইরানি মুখপাত্রের ভিডিও পোস্ট
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ চলচ্চিত্রের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই বায়োপিকটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক কর্মজীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

চলচ্চিত্রের ওই দৃশ্যটিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের পরামর্শদাতা রয় কোন তার ‘জেতার নিয়মাবলি’ বর্ণনা করছেন। যার মধ্যে রয়েছে-‘যাই ঘটুক না কেন, সর্বদা নিজের বিজয় দাবি করতে হবে এবং কখনোই পরাজয় স্বীকার করা যাবে না’ এবং সফল হতে হলে ‘যেকোনো মানুষের সঙ্গে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকতে হবে’।



ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের অনুসারী অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে যে ব্যাপক কটাক্ষ ও উপহাস করা হচ্ছে, বাঘাইয়ের এই পোস্টটি তারই অংশ। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যাপক সমালোচিত এবং দুর্বল পরিকল্পনার হামলার বিষয়টিকেও এই প্রচারণার মাধ্যমে উপহাস করা হচ্ছে।

এর আগেও নিজের বিভিন্ন মন্তব্যে সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ টেনেছেন ইসমাইল বাঘাই। বিশেষ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় মার্কিন নীতির সমালোচনা করে লেখা একটি কলামে তিনি মার্তিনিকের চিন্তাবিদ এইমে সেজায়ার এবং দ্বাদশ শতাব্দীর পারস্যের কবি ফরিদুদ্দিন আত্তারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে’: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে’: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানকে দ্রুত সমঝোতার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ইরানকে দ্রুত চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে হবে। অন্যথায় দেশটিকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা পারমাণবিক ইস্যুভিত্তিক আলোচনা নতুন করে গতি না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে উভয় পক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদক আলমিগদাদ আলরুহাইদ তেহরান থেকে জানিয়েছেন, আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

সূত্র: আল জাজিরা

Sunday, 17 May 2026

হজে যাওয়ার আগে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

 

হজে যাওয়ার আগে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়

হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের পঞ্চম ও আবশ্যিক একটি বিধান। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। মনে রাখতে হবে, হজ ও ওমরাহ এক নয়। ওমরাহ বছরের যেকোনো সময় করা যায় এবং ওমরাহ একটি সংক্ষিপ্ত ইবাদত। কিন্তু হজ শুধু জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতেই পালন করতে হয়।

গত ২৫ মে সোমবার থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ৩০ মে শনিবার পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন ‘ইয়াওমে আরাফাহ’ বা আরাফা দিবস হতে পারে ২৬ মে মঙ্গলবার। পরদিন ২৭ মে বুধবার উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।







শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি

হজের সফরে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার হাঁটতে হতে পারে। তীব্র রোদে মক্কা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফার মধ্যে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। তাই এখন থেকেই নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা এবং প্রচুর পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখা আবশ্যক।

ইহরাম 

হজের ইহরাম শুধু একটি পোশাক নয়, এর মাধ্যমে হজের একটি বিশেষ মানসিক অবস্থা তুলে ধলা হয়। ইহরাম বাঁধার পর ঝগড়া-বিবাদ, উচ্চবাচ্য বা কোনো ধরনের অশোভন আচরণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় এবং নারীদের জন্য পর্দার সাথে মুখ ও হাত খোলা রাখা যায় এমন পোশাকই হলো ইহরাম। এখানে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা সবার পোশাক এক, যা মূলত আল্লাহর দরবারে মানুষের সমতার প্রতীক।

নিরাপত্তা ও সতর্কতা

লাখো মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে। সবসময় নিজের পরিচয়পত্র সাথে রাখা, মোবাইল চার্জ রাখা এবং দলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না করা জরুরি। সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং ভিড়ের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা 

হজ শুরু হয় ইহরাম ও নিয়তের মাধ্যমে। এরপর মক্কায় পৌঁছে কাবা শরীফ সাতবার তওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার সায়ি করতে হয়। মিনার তাবুতে রাত কাটিয়ে হাজিরা উপস্থিত হন আরাফার ময়দানে। আরাফায় অবস্থানকে হজের মূল রোকন বলা হয়। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে কান্নাকাটি ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হয়।

আরাফা থেকে হাজিরা যান মুজদালিফায় এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। সেখান থেকে শয়তানকে মারার জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করা হয়। পরের দিনগুলোতে মিনায় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ, দমে শোকর বা কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে ইহরাম ত্যাগ করতে হয়। সবশেষে মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ী তওয়াফের মাধ্যমে শেষ হয় হজের আনুষ্ঠানিকতা।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নিজেদের ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্র বলে দাবি তাইওয়ানের

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নিজেদের ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্র বলে দাবি তাইওয়ানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ছবি: রয়টার্স

চীন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর নিজেদের একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে তাইওয়ান।

বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন শেষে ট্রাম্প বলেন, স্বশাসিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটির বিষয়ে তিনি কোনো পক্ষেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।



উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে এটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প আরো জানান, তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ অনুমোদন করা হবে কি-না, সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।

আইনগতভাবে মার্কিন প্রশাসন তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় সরবরাহ করতে বাধ্য। তবে এই মিত্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রায়শই চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর আগে বলেছিলেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তারা ইতোমধ্যে নিজেদের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই দেখে।

শনিবার তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, তাইওয়ান যে একটি ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ’, তা ‘স্বতঃসিদ্ধ।’

তবে তিনি আরো বলেন, তাইওয়ান চীনের সঙ্গে বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে তাইওয়ান চীন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না, আবার চীনের সঙ্গে একত্রিতও হবে না। অনেক তাইওয়ানবাসী নিজেদের একটি আলাদা জাতি মনে করলেও, অধিকাংশ মানুষই এই বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অবস্থান হলো, তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের শর্ত থাকে যে, সেখানে কেবল একটিই চীনা সরকার থাকবে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, তাইওয়ান বিষয়ে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে একই সঙ্গে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না বলেও স্পষ্ট করে দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক। আপনি তো জানেন, একটি যুদ্ধ লড়তে আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল (১৫ হাজার ২৮৯ কি.মি) পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি তা চাই না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীন শান্ত হোক।’

ওয়াশিংটনে ফেরার ফ্লাইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের জানান, তিনি ও শি জিনপিং এই দ্বীপটি নিয়ে প্রচুর কথা বলেছেন।

তবে তাইওয়ান আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সেটি রক্ষা করবে কি-না, তা নিয়ে আলোচনা করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং এই দ্বীপের ব্যাপারে ‘খুবই সংবেদনশীল’ এবং তিনি কোনো ‘স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না।’

বেইজিং অবশ্য শুরু থেকেই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। এর আগে তাকে ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ এবং ‘প্রণালি অঞ্চলের শান্তি বিনষ্টকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে চীন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির চারপাশে চীন তাদের সামরিক মহড়া জোরদার করেছে, যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ওয়াশিংটনের বজায় রাখা ভারসাম্যকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, আসন্ন অস্ত্র প্যাকেজের বিষয়টি তাইওয়ানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি বলতে যাচ্ছি যে, বর্তমানে যিনি তাইওয়ান চালাচ্ছেন, তার সাথে আমাকে কথা বলতে হবে। আপনারা তো জানেনই তিনি কে।’

তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবে তারা যথেষ্ট অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ঐতিহ্যগতভাবে তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন না, কারণ এমনটা করা হলে বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের জাতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ তিনি তার প্রথম মেয়াদের পর থেকেই তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন দিয়ে আসছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি অর্জন করতে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরো গভীর করবে। এর মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা যেন হুমকিতে না পড়ে বা বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করা হবে, যা তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করবে।’

সূত্র: বিবিসি

চুক্তি না হলে ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে, ট্রাম্পের হুমকি

 

চুক্তি না হলে ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে,  ট্রাম্পের হুমকি

শিগগিরই কোনো শান্তিচুক্তি না হলে ইরানের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।





ফরাসি গণমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরানিদের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই সবচেয়ে ভালো হবে। তারা যদি তা না করে, তবে তাদের খুব খারাপ সময় পার করতে হবে। চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পাশাপাশি ইরানেরও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে নতুন করে আলোচনার বার্তা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে তেহরান। দুদেশের এমন মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মাঝেই অচলাবস্থা ভাঙতে ট্রাম্প ফের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। যার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়ে রেখেছেন তার শীর্ষ উপদেষ্টারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংকট নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি আরও বড় পরিসরে বোমা হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার একটি রূপরেখা তৈরি করে রেখেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র দুবার দেশটির ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল।

সূত্র: আলজাজিরা

কোরবানিতে শরিকানার অংশ যেমন হবে

  ছাগল, ভেড়া, দুম্বা শুধু একজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে। এমন একটি পশু দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি করলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না।...