মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ইরানের পবিত্র নগরী কোমে অবস্থিত ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (Assembly of Experts) ভবনে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ট্রাম্প ও রুবিওর মতপার্থক্য এবং ‘প্রি-এম্পটিভ’ স্ট্রাইক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সপক্ষে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের পক্ষে কূটনৈতিক ও কৌশলগত যুক্তি দিচ্ছিলেন, ট্রাম্প সেই তর্কে না গিয়ে বরং তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপকে বেছে নিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান আগে আক্রমণ করতে যাচ্ছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি মার্কিন বাহিনীকে ইসরায়েলের সাথে যোগ দিয়ে ইরানে আঘাত করার নির্দেশ দেন। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন:
"আমরা বসে থাকতে পারি না যখন তেহরান আমাদের ওপর প্রথম আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আত্মরক্ষার্থেই আমরা আগে হামলা শুরু করেছি।"
দুবাই ও ফুজাইরায় ইরানের পাল্টা আঘাত
টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ফুজাইরা বন্দরের কাছেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানা গেছে। এই হামলাগুলো ওই অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা বলয়কে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা
ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে মোতায়েন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে ইরাকের তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দেশটির বৃহত্তম রুমাইলা ফিল্ড এবং পশ্চিম কুর্না-২ প্রকল্পে তেল উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
নিহত: শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ৭৮৭ জন।
টার্গেট: ইরানের কোম শহরে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভবন এবং মার্কিন দুবাই দূতাবাস।
অর্থনৈতিক প্রভাব: ইরাকে তেল উৎপাদন হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের হুমকি।
No comments:
Post a Comment