মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের পর এবার ইরানের রাজধানী তেহরানে সরাসরি বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিনের টানা হামলায় ইরান ও লেবানন মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে।
রণক্ষেত্রে পরিণত তেহরান ও বৈরুত
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানের কৌশলগত সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে। লেবাননের বৈরুতেও মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইরান এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। পালটা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
এই সংঘাতের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে ওয়াশিংটন যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
অভিযানের সময়সীমা: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান প্রায় চার সপ্তাহ বা এক মাস স্থায়ী হতে পারে।
লক্ষ্যবস্তু: তেহরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা।
সহায়তা: ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে।
সংকটে বিশ্ব পরিস্থিতি
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে এবং এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও, বর্তমানে কোনো পক্ষই পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা যেকোনো মুহূর্তে পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করতে পারে।
No comments:
Post a Comment