Thursday, 4 June 2026

হজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে মক্কা ছাড়ছেন হাজিরা

 

হজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে মক্কা ছাড়ছেন হাজিরা
ছবি: সংগৃহীত

হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো মুসল্লি সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ত্যাগ করতে শুরু করেছেন।

এ বছর বিশ্বের ১৬৫টি দেশের ১৭ লাখেরও বেশি মুসলমান হজ পালনে অংশ নেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত।





হজ সম্পন্ন করার পর অনেক মুসল্লির মধ্যে আবেগঘন অনুভূতি দেখা গেছে।

মিশরের ৩৭ বছর বয়সী হাজি আহমেদ মামদুহ বলেন, ‌‌‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে আমি হজ সম্পন্ন করেছি। খুব আনন্দিত যে নিরাপদে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পেরেছি। প্রচণ্ড গরমে হজ সত্যিই খুব কষ্টকর।’

অন্যদিকে আলজেরিয়ার ৭৪ বছর বয়সী এক হাজি বলেন, ‘আমরা ৫০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর একসঙ্গে হজ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম, আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।’

মক্কার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উপত্যকায় হাজিরা রমি জামারাতের (প্রতীকী শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ) তৃতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এরপর তারা মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে ফিরে বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফুল বিদা) সম্পন্ন করেন।

তাওয়াফে হাজিরা কাবার চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন, যা হজের শেষ আনুষ্ঠানিকতার অংশ।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার পালন করা ফরজ। কয়েক দিনের এই ইবাদত মূলত বিভিন্ন শারীরিক ও আধ্যাত্মিক আনুষ্ঠানিকতার সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়।

লেবাননে হামলা চললে উত্তর ইসরাইল নিরাপদ থাকবে না: হিজবুল্লাহ

 

লেবাননে হামলা চললে উত্তর ইসরাইল নিরাপদ থাকবে না: হিজবুল্লাহ

লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী উত্তর ইসরাইলও নিরাপদ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম।





এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যতদিন লেবাননের জনগণ ও সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলার শিকার হবে, ততদিন সীমান্তের ওপারের ইসরাইলি এলাকাগুলোও হুমকির মুখে থাকবে।

নাঈম কাসেম আরও বলেন, হিজবুল্লাহর সামরিক উপস্থিতিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। তাঁর মতে, হিজবুল্লাহর অবস্থান বা মোতায়েনকে যুদ্ধবিরতি কিংবা ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। খবর আল জাজিরার।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংগঠনটি তাদের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে কোনো চাপ বা রাজনৈতিক শর্ত মেনে নেবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে নাঈম কাসেমের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও তাঁর মন্তব্যের বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পরাজয়ের পর ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: খামেনি

 

পরাজয়ের পর ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানিদের মধ্যে ‘বিভেদ’ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।





তেহরান থেকে এএফপি জানায়, এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘অশুভ শত্রু’ জনগণের মধ্যে ‘সন্দেহ, হতাশা, ভয়, অবিশ্বাস ও বিভেদের বীজ বপন’ করতে চাইছে।

বার্তায় বলা হয়, ‘এই অসৎ উদ্দেশ্যের মোকাবিলায় সবাইকে দৃঢ়তা, দূরদৃষ্টি এবং ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার মাধ্যমে তাদের অশুভ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে।’

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুবার্ষিকীর ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক নামাজের ইমাম খামেনির এ বার্তা পাঠ করে শোনান।

১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তার রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটায়।

১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তিনি নিহত হন, যার পর একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হয়।

৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থেমে গেলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর ৪ জুন আলি খামেনি স্মরণানুষ্ঠানে ভাষণ দিতেন। তবে এ বছর তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত সমাধিসৌধে তার প্রতিকৃতিসহ একটি খালি চেয়ার রাখা হয় বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে।

মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন এবং মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে ইরানিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, সমাধিসৌধে মোজতবা খামেনি এবং তার আগের দুই সর্বোচ্চ নেতার প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা এবং ইরান-সমর্থিত লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহর ব্যানার বহন করেন।

ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি অঞ্চলজুড়ে সংঘাত বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে লেবাননের পরিস্থিতিও রয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে।

হজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে মক্কা ছাড়ছেন হাজিরা

  ছবি: সংগৃহীত হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো মুসল্লি সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ত্যাগ করতে শুরু কর...