
ইরানের প্রধান তেল অবকাঠামো ও দেশটির প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আজ রাতেই ইরানের ওপর 'খুব কঠোর' সামরিক হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশটির অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ বিষয়ে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে দাবি করেন, অতীতের অনুরূপ পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।
ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে খুব কঠোর সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। তবে সম্ভাব্য ওই অভিযানের ধরন বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ইতোমধ্যেই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই হুঁশিয়ারি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে, কারণ দ্বীপটি ইরানের তেল রফতানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এর ফলে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন
No comments:
Post a Comment