Saturday, 11 July 2026

হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ


তাহাজ্জুদ শব্দটি গভীর রাতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে। রাত গভীর হলেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়। হৃদয়ের আবেগ ঢেলে প্রেমপেয়ালা পরিপূর্ণ করার সময় হলো তাহাজ্জুদ। সেজদায় রবের কাছে গিয়ে প্রেমালাপের উত্তম তরিকা তাহাজ্জুদ। মনের ভাষাগুলো চোখ দিয়ে বের করে হাতে ও মুখে শান্তি মাখানোর নাম-ই তাহাজ্জুদ।

তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে রব বান্দার খুব কাছাকাছি চলে আসেন। বান্দারও সুযোগ থাকে রবকে কাছে পেয়ে সব হাজত তুলে ধরার। দুনিয়াবাসী এ সময় ঘুমের কোলে পরম আরামে থাকে। আরশ থেকে নামা রবের বিশেষ রহমত পেতে বান্দার আরাম বিসর্জন দেওয়া জরুরি। ইবাদত যত ত্যাগ ও মেহনতময় হবে, তত লাভজনক হবে এর ফল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম : ১১৬৩)





গোনাহ মাফ, নৈকট্যলাভ ও মন ভালো রেখে মন্দ থেকে দূরে থাকার অন্যতম পথ হলো রাতের নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজ আদায় করা উচিত। কারণ, রাতে ইবাদত করা তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের রীতি। এটি তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পথ, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ-অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার মাধ্যম।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১১৩৫)

পৃথিবীর প্রাসাদ মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। আর মাটিও ইসরাফিল (আ.)-এর ফুঁতকারের অপেক্ষায়। আকাশ-মাটি সব ধ্বংস হবে। দুনিয়ার প্রাসাদ তো দুনিয়ার চোখে নামমাত্র সুন্দর, কিন্তু রাতজাগা ইবাদতকারীদের জন্য রয়েছে, অবর্ণনীয় সুন্দরের জান্নাতি চিরস্থায়ী প্রাসাদ। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতের মধ্যে প্রাসাদগুলো এমন হবে যে, এর ভেতর থেকে বাইরের সবকিছু দেখা যাবে এবং এর বাইরে থেকে ভেতরের সবকিছু দেখা যাবে।’ এক বেদুইন দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! এসব কাদের জন্য? তিনি বললেন, ‘যারা মানুষের সঙ্গে নরম কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়, সিয়াম পালন করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করে ।’ (তিরমিজি : ২৫২৭)

আমরা মানুষ। আল্লাহর বান্দা। তিনি জানেন আমরা অপরাধ করতে পারি! তাই তো, তিনিই ক্ষমার অপার সুযোগ রেখে তাহাজ্জুদের সময় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে আমাদের ডাকতে থাকেন। সাহাবি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদিগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনÑকেউ আছে কি! যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিয়ে দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি : ৬৩২১)

বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাপ্রেমিকরা শেষরাতে প্রিয় দলের লড়াই দেখার জন্য জেগে ওঠে। (কপালপোড়া সেই মুসলিমরা আল্লাহর সব নিয়ামত ভোগ করেও তাঁর হুকুমে একটু পর ফজর পড়তে পারে না।) তেমনি প্রকৃত মুমিনরা শেষ রাতে আল্লাহর সান্নিধ্যের টানে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। তাহাজ্জুদকে সেতু বানিয়ে সেজদার বাহনে চড়ে চলে যায় মহান রবের দরবারে। আল্লাহর দরবারের চেয়ে উত্তম গন্তব্য মুমিমের আর কী হতে পারে! রব আমাদের সবাইকে কবুল করুন।

চোরাবালিতে নামলেন ট্রাম্প, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন

 

চোরাবালিতে নামলেন ট্রাম্প, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘সমাপ্ত’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণার পর মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সামনেই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময়ে একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর রিপাবলিকানরা আশা করেছিল, যুদ্ধ বন্ধ হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা ভালো ফল করবে। এর আগে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ে দলের নেতারা হোয়াইট হাউসকে সতর্কও করেছিলেন।





এখন যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। একদিকে মার্কিন ভোটারদের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরোধী, অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের পুরোপুরি দূরেও সরিয়ে নিতে পারছেন না। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে এবং ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে।

রিপাবলিকানপন্থী নির্বাচনী সংগঠন ‘মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপ’-এর প্রধান সারা চেম্বারলিন বলেন, ‘ভোক্তাদের কাছে এখন প্রধান বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এই মৌসুমে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখন প্রার্থীদের চেষ্টা করতে হবে এই পরিস্থিতির পুরো দায় ইরানের ওপর চাপানোর।’

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকায় অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই অসন্তুষ্ট। গত জুন মাসে ফক্স নিউজ পরিচালিত এক জরিপে ৫৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এছাড়া ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতাই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর থেকে অধিকাংশ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে টমাস ম্যাসির মতো কোনো কোনো নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই ঘটনাকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা একে ট্রাম্পের ‘পছন্দের যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের জন্য একে দায়ী করছে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যখন ক্রমাগত বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের বেপরোয়া ইরান যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। তিনি জীবনযাত্রার সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা আরও গভীর করেছেন।’

একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ অনুযায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে তুলছেন।

ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলার পর তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও সম্ভব, তবে তা হবে সময়ের অপচয়।

এর পাশাপাশি বুধবার তিনি ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের তীব্র হুমকি দেন। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এক দিনের মধ্যেই আমরা ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দিতে পারি। তাদের সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানা রয়েছে, প্রয়োজন হলে সেগুলোও ধ্বংস করব... এমনকি খার্গ দ্বীপও হয়তো আমরা দখল করে নেব!’

এবার অমুসলিম দেশেও ইসরাইলি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ

 

এবার অমুসলিম দেশেও ইসরাইলি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ

অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট। টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে অন্যতম কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।



‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরাইলের স্বীকৃত সীমানার বাইরের আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেন এ ধরনের আমদানি বিধিনিষেধের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।

তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের ‘চরম ইসরাইলিবিরোধী নীতির’ অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন।

হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ

তাহাজ্জুদ শব্দটি গভীর রাতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে। রাত গভীর হলেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়। হৃদয়ের আবেগ ঢেলে প্রেমপেয়ালা পরিপূর্ণ করার সময় হলো...