Saturday, 18 July 2026

ধোঁয়া-আগুন-বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র


ধোঁয়া-আগুন-বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র
ধোঁয়া-আগুন-বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে দাবানল, বন্যা এবং দাবানলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট দূষণ—এই তিন ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি একযোগে আঘাত হেনেছে। পূর্বাঞ্চলে দাবানলের ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে, দক্ষিণে টেক্সাসে তৃতীয় দিনের মতো বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে নতুন নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। খবর রয়টার্সের।



শুক্রবার দেশটির ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) জানায়, বর্তমানে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। বজ্রপাতের পর শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই নতুন করে ১৭টি দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে, যা অঞ্চলটিকে বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত করেছে।

একই সময়ে গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে টেক্সাসের হিল কান্ট্রি এলাকায় বন্যার পানি তৃতীয় দিনের মতো তাণ্ডব চালাচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ১৭ হাজার ৪০০-এর বেশি দমকলকর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ এয়ার ট্যাঙ্কার মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর (১৫ লাখ ১০ হাজার হেক্টর) বনভূমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক জেসি বারম্যান বলেন, একই সময়ে একাধিক দুর্যোগ দেখা দিলে তার সম্মিলিত প্রভাব অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “এগুলো যৌথ দুর্যোগ। একাধিক দুর্যোগ একসঙ্গে ঘটলে প্রতিটির আলাদা প্রভাবের তুলনায় সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়।”

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিদ মাইকেল মানের মতে, এই চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর পেছনে জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক তরঙ্গধারা বা ‘রেজোন্যান্স’ কাজ করছে। এতে জেট স্ট্রিমের বড় তরঙ্গগুলো দীর্ঘ সময় একই স্থানে আটকে থাকে, ফলে কোনো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী চরম আবহাওয়া বিরাজ করে।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৫০-এর দশকের তুলনায় এ ধরনের স্থবির জেট স্ট্রিমের ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন স্কুলের ডিন জনাথন ওভারপেক বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন একই সঙ্গে খরা ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তার ভাষায়, “উষ্ণ বায়ুমণ্ডল মাটি ও উদ্ভিদ থেকে দ্রুত আর্দ্রতা শুষে নেয়, ফলে বনভূমি আরও শুষ্ক হয়ে দাবানলের ঝুঁকি বাড়ে। আবার একই উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, যা পরে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হয়।”

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যেখানে একই সময়ে একদিকে খরা ও দাবানল, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির মতো দুর্যোগ আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।”

No comments:

Post a Comment

মসজিদুল হারামে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চালু, মুসল্লিরা পাবেন যেসব সুবিধা

পবিত্র কাবায় হজযাত্রী ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করেছে সৌদি আরব। দেশটির এ উদ্যোগের ফলে তীর্থযাত্রীদের দুর...