বাবার ত্যাগের বিজয়, অদম্য তরুণের বিসিএস জয়
বনজীবীর ঘর থেকে শিক্ষা ক্যাডার— আবু রায়হানের অনুপ্রেরণার গল্প
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের মিস্ত্রি পাড়া গ্রামের এক সাধারণ বনজীবী আব্দুল হান্নান মিস্ত্রির জীবনে ছিল দারিদ্র্যের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরালেও বুকের ভেতর লালন করতেন একটাই স্বপ্ন— ছেলেকে বড় অফিসার বানাবেন।
ছেলের নাম আবু রায়হান। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এই শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ–৫ অর্জন করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দেন। তবে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য ছিল না বাবার। ছেলের স্বপ্ন বাঁচাতে জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্ত নেন আব্দুল হান্নান মিস্ত্রি। নিজের শেষ সম্বল কৃষি জমি বিক্রি করে প্রায় ১৮ বছর আগে পাড়ি জমান প্রবাসে— সুদূর দুবাইয়ে।
বাবার সেই নিরব ত্যাগের মর্যাদা রাখতে কোনো কার্পণ্য করেননি আবু রায়হান। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক শেষ করে তিনি প্রথমে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI)-তে ফিল্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি; লক্ষ্য ছিল বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা।
অবশেষে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাবার দেড় যুগের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন আবু রায়হান।
ছেলের সাফল্যের খবর পেয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরেছেন গর্বিত বাবা আব্দুল হান্নান মিস্ত্রি। চোখে আনন্দাশ্রু, মুখে তৃপ্তির হাসি— ত্যাগের ফসল হাতে পাওয়ার সেই দৃশ্য আজ পুরো গ্রামবাসীর আবেগে ভাসিয়েছে।
একজন সাধারণ বনজীবীর ঘর থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার এই গল্প প্রমাণ করে—
No comments:
Post a Comment