Wednesday, 28 January 2026

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের গণভোটের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা ইসির

 

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের গণভোটের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা ইসির


গণভোটের প্রচারে যুক্ত না হতে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সব নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো পক্ষের প্রচারে জড়িত না হতে সতর্ক করেছে ইসি। এ বিষয়ে সরকারকে চিঠি দেওয়ার কথাও ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে নির্বাচনের মাঝপথে এসে নির্বাচনি আচরণবিধি সংশোধনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তফসিল ঘোষণার দেড় মাস পর আচরণবিধি পরিবর্তনের উদ্যোগ কমিশনের প্রস্তুতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গণভোটের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রচারে যুক্ত হলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আমার দেশকে বলেন, নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) কেউই গণভোট-সংক্রান্ত কোনো প্রচারে যুক্ত হতে পারবেন না। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকারকেও অবহিত করা হবে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ আমার দেশকে বলেন, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনের শুরুতে গণভোট ইস্যুতে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কিছুটা সরব ছিলাম। তবে ইসি থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর এখন আর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাও জানান, তিনি গণভোটের পক্ষে কোনো প্রচারে যুক্ত নন। তার পুরো মনোযোগ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দিকে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম আমার দেশকে বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দিয়ে থাকে, তাহলে সঠিক কাজ করেছে। আমরা এ জন্য তাকে স্বাগত জানাই। কারণ, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো পক্ষে ভোট চাওয়ার সুযোগ নেই। সরকার চাইলে তার জায়গা থেকে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে; কিন্তু নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হবে। নৈতিকভাবে তারা এ ধরনের কোনো কাজ করতে পারেন না।

এদিকে আচরণবিধির কয়েকটি ধারা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় সেগুলো সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী রাজনৈতিক জনসভায় সর্বোচ্চ তিনটি মাইক ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এখন দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক মাইক ও শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়া ভোটার স্লিপে আগে শুধু কেন্দ্র ও ভোটার তথ্য থাকলেও নতুন সংশোধনীতে প্রার্থী তার নাম, দলীয় পরিচয় ও প্রতীক সংবলিত ভোটার স্লিপ সরবরাহ করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আমার দেশকে বলেন, জনসভায় তিনটি মাইক ব্যবহারের বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটার স্লিপেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটার স্লিপ সরবরাহে প্রার্থীর কোনো সুবিধা না থাকলে তিনি কেন তা দেবেন—এ বিবেচনা থেকেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের মাঝপথে আচরণবিধি সংশোধন স্বাভাবিক চর্চা নয়। এতে মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি বাড়ে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন ছিল।

No comments:

Post a Comment

রমজানের শিক্ষা যেন ভুলে না যাই

এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের জীবনে আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে ঈদুল ফিতর। পুরো রমজানে রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং আত্মসংযম...