Sunday, 18 January 2026

পবিত্র মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

মোঃ মোস্তফা কামাল

১৭/০১/২০২৬ ইং




পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

রমজান হলো ইসলাম ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মাস। এই মাসে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অশেষ ভান্ডার খুলে দেন। রমজান মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। কুরআন নাজিলের মাধ্যমে এই মাসের মর্যাদা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।


রমজানের পরিচয় ও ফরজিয়ত

‘রমজান’ শব্দের অর্থ দহন করা বা পুড়িয়ে ফেলা। অর্থাৎ এই মাস মানুষের গুনাহসমূহ পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়। হিজরি সনের নবম মাস হলো রমজান। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর এই মাসে রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন—

“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” 
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)


তাকওয়া অর্জনের মাস

রমজানের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। রোজার মাধ্যমে মানুষ সংযমী হয়, খিদে ও তৃষ্ণার কষ্ট অনুভব করে আত্মনিয়ন্ত্রণ শিখে। হারাম থেকে বেঁচে থাকা, মিথ্যা ও অসৎ কাজ পরিহার করা—এসব গুণ রোজাদারের চরিত্রে গড়ে ওঠে। ফলে একজন মানুষ আল্লাহভীরু ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।


কুরআন নাজিলের মাস

রমজান মাসেই মানবজাতির হিদায়াতের মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত।” 
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)

এ কারণে এই মাসে কুরআন তিলাওয়াত, অনুধাবন ও এর ওপর আমল করার গুরুত্ব অপরিসীম।

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস

হাদিসে এসেছে—রমজানের প্রথম দশ দিন রহমত, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাত এবং শেষ দশ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাতের সময়। এই মাসে আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন, গুনাহ ক্ষমা করেন এবং নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেন।


লাইলাতুল কদরের মহিমা

রমজানের শেষ দশকে রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতে ইবাদত করলে হাজার মাস ইবাদতের সওয়াব লাভ হয়। এ রাতেই মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় এবং ফেরেশতারা শান্তির বার্তা নিয়ে অবতরণ করেন।


সামাজিক ও মানবিক শিক্ষা

রমজান মানুষকে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। রোজার মাধ্যমে ধনী ব্যক্তি গরিবের কষ্ট অনুভব করতে পারে। ফলে দান-সদকা, জাকাত ও ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।


উপসংহার

পবিত্র রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, চরিত্র গঠন ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। সঠিকভাবে রমজানের শিক্ষা গ্রহণ ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারলে একজন মানুষ পরিপূর্ণ মুমিন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাই আমাদের উচিত রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জন করা।

No comments:

Post a Comment

ইউরোপের ৮ দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প...