Monday, 19 January 2026

শবে বরাত: পরিচয়, গুরুত্ব ও তাৎপর্য

মোঃ মোস্তফা কামাল

১৯/০১/২০২৬ ইং



ভূমিকা

ইসলাম ধর্মে কিছু বিশেষ রজনী রয়েছে, যেগুলো আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত, মাগফিরাত ও বরকতে পরিপূর্ণ। এসব রজনীর মধ্যে শবে বরাত অন্যতম। মুসলমানদের কাছে এই রাতটি ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত। শবে বরাত মুসলিম জীবনে আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ সময়।


শবে বরাত কী

“শবে বরাত” শব্দটি ফারসি। এখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতি। অর্থাৎ, শবে বরাত হলো মুক্তির রাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে বরাত বলা হয়। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দয়া ও ক্ষমা বর্ষণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।


শবে বরাতের গুরুত্ব

শবে বরাতের গুরুত্ব কুরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

হাদিসে বর্ণিত আছে,
এই রাতে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন—
“কে আছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কে আছে রিজিক প্রার্থনাকারী? আমি তাকে রিজিক দান করব।”
(তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

এই রাতে অসংখ্য মানুষ জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করে। এজন্য একে লাইলাতুল বরাত বা মুক্তির রাত বলা হয়। এই রাতে মানুষের আমলনামা পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামীর এক বছরের তাকদির আল্লাহর ইচ্ছায় নির্ধারিত হয়—এই বিশ্বাস মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।


শবে বরাতের তাৎপর্য

শবে বরাতের তাৎপর্য বহুমাত্রিক ও গভীর।

প্রথমত, আত্মশুদ্ধির রাত
এই রাত মানুষকে নিজের গুনাহ, ভুল ও অবহেলার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দেয়।

দ্বিতীয়ত, ক্ষমা ও রহমতের রাত
এই রাতে আল্লাহ তায়ালার রহমতের দরজা খুলে যায়। তবে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও সম্পর্কচ্ছেদের মতো পাপ থেকে বিরত না হলে এই রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথাও হাদিসে উল্লেখ আছে।

তৃতীয়ত, ইবাদত ও দোয়ার রাত
নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দরুদ শরিফ এবং দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ এই রাত।

চতুর্থত, মৃতদের জন্য দোয়ার রাত
অনেকে এই রাতে কবর জিয়ারত করেন এবং মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া করেন, যা ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী সওয়াবের কাজ।

আমাদের করণীয়

শবে বরাতে আমাদের উচিত—

  • আন্তরিক তওবা ও ইস্তিগফার করা

  • নফল নামাজ আদায় করা

  • কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মনোনিবেশ করা

  • নিজের ও উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া করা

  • হিংসা, শত্রুতা ও অহংকার পরিহার করা

  • সারা রাতকে গুনাহমুক্ত ও ইবাদতমুখর রাখা

অযথা আতশবাজি, অপচয় কিংবা বিদআত থেকে বিরত থাকাই ইসলামের সঠিক শিক্ষা।


শেষকথা

শবে বরাত মুসলিম জীবনে এক মহামূল্যবান রজনী। এটি শুধু একটি রাত নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য এবং পরকালীন মুক্তির এক সুবর্ণ সুযোগ। এই রাতের প্রকৃত তাৎপর্য তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন আমরা আন্তরিক তওবা করে আমাদের জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত করব। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত ও বরকত যথাযথভাবে লাভ করার তৌফিক দান করেন। আমিন।

No comments:

Post a Comment

শবে বরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

মোঃ মোস্তফা কামাল ১৯/০১/২০২৬ ইং ভূমিকা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বরকতময় রজনীগুলোর মধ্যে শবে বরাত অন্যতম। এই রাত আল্লাহ তায়ালার রহমত, মাগফিরাত ...