২০২৬ সালের সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে দেশের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে একটি বিস্তৃত প্রস্তাবনা জনসমক্ষে এসেছে। “গণভোট ২০২৬—সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি আপনার হাতে” শিরোনামে প্রচারিত এই উদ্যোগে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত গণভোটে জনগণের সম্মতির মাধ্যমে এমন একটি শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে, যেখানে নির্বাহী ক্ষমতা, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন ব্যবস্থা:
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হবে, যেখানে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে। এর ফলে নির্বাচন ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা বাড়বে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনে সীমাবদ্ধতা:
গণভোটের প্রস্তাবনায় উল্লেখ রয়েছে, সরকার দল এককভাবে ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে, যা জনগণের সরাসরি মতামতকে প্রাধান্য দেবে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা:
সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সংসদে জবাবদিহি ও কার্যকর বিতর্ক বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষমতার মেয়াদ ও নারী প্রতিনিধিত্ব:
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। পাশাপাশি সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে বৃদ্ধির অঙ্গীকারও করা হয়েছে।
বিচার বিভাগ ও মৌলিক অধিকার:
বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইন্টারনেট সেবা নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য:
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার সুস্পষ্ট ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতায় ক্ষমা করার সুযোগ সীমিত করার কথাও বলা হয়েছে।
‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বার্তা:
প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে উপরোক্ত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে, আর ‘না’ ভোট দিলে এসব পরিবর্তন কার্যকর হবে না।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
এই প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ একে রাষ্ট্র সংস্কারের সাহসী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সাংবিধানিক জটিলতার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন।
আমার মতে, গণভোট বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সর্বদলীয় সংলাপ, আইনি স্বচ্ছতা এবং সর্বোপরি জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ।
No comments:
Post a Comment