Saturday, 31 January 2026

শবেবরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

শবেবরাতে করণীয় ও বর্জনীয়


শবেবরাত শুধু হালুয়া-রুটির উৎসব নয়, নিজের পরকাল নির্মাণের উপলক্ষ। তাই এ রাতে আমাদের করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-‘কিয়ামুল লাইল’ তথা রাতে নফল নামাজ পড়া, কোরআনে কারিমের তিলাওয়াত করা, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার করা, তাওবা ইস্তেগফার পড়া, কবর জিয়ারত করা, নিজের জন্য, বাবা-মায়ের জন্য, আত্মীয়-স্বজনের জন্য ও সব মুসলমানের জন্য গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া, দেশ-জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কান্নাকাটি করে রাত কাটিয়ে দেওয়া। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন— ‘কাঁদো, যদি কাঁদতে না পার তাহলে অন্তত কাঁদার ভান করো।’ কেননা চোখের পানির চেয়ে শক্তিশালী আর কোনো জিনিস নেই। (তারগিব : ৩৩২৮)

এ রাতে আমাদের বর্জনীয়

এ রাতে অযথা ঘোরাফেরা করা, আতশবাজি-পটকা ফোটানো, হইহুল্লোড় করা, অযাচিত আনন্দ-উল্লাস করা, গাড়ি ভাড়া করে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যাওয়া, বিভিন্ন মসজিদে দুই রাকাত করে নামাজ পড়া, কারো ঘুমে বা ইবাদতে সমস্যা করা এবং অতিরিক্ত খাবারদাবার বিশেষ করে হালুয়া-রুটির উৎসব করা।

তাওবার গুরুত্ব

মানুষের জীবন গুনাহে জর্জর। গুনাহ সংঘটিত হওয়া কোনো আশ্চর্য বা অস্বাভাবিক বিষয় নয়; বরং আশ্চর্য হলো গুনাহের ওপর অটল-অবিচল থাকা, তওবা না করা। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমে বারবার বান্দাকে তাওবার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে—‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, আন্তরিক তাওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সুরা তাহরিম : ৮)

অন্যত্র ইরশাদ করেন—‘মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর সামনে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা নুর : ৩১)। আরো ইরশাদ হচ্ছে—‘বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা যুমার : ৫৩)

এসব আয়াত থেকে বোঝা যায়, গুনাহর সঙ্গে মানুষের ফিতরাতের সম্পর্ক। গুনাহ করার প্রবণতা মানুষের স্বভাবের মধ্যে রয়েছে। সুতরাং মানুষ থেকে গুনাহ ও অপরাধ সংঘটিত হওয়া আশ্চর্যের বিষয় নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো গুনাহ করে তার ওপর অবিচল থাকা, তাওবা না করা। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে বারবার ডেকে বলেন, ‘হে আমার বান্দা! তোমরা যারা গুনাহ করে নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তারা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। তোমরা খাঁটি তাওবা করলে আমি তোমাদের যাবতীয় সব গুনাহ মাফ করে দেব। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’

মানুষ যত গুনাহই করুক না কেন, যদি মৃত্যুর এক মুহূর্ত আগেও খাঁটি তাওবা করে, তাহলে তার সারা জীবনের সব গুনাহ তিনি মাফ করে দেবেন।

সুতরাং এই মহিমান্বিত রাতকে আমাদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তাই সন্ধ্যার আগেই নিজেকে পাক-সাফ করে, পবিত্র পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে, গায়ে খুশবু মেখে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ার জন্য নিজেকে পাক মুক্ত করে নতুনভাবে জীবন গড়ার উদ্দেশ্যে মসজিদ পানে ছুটে চলব ইনশাআল্লাহ।


শবেবরাতে আত্মশুদ্ধির বার্তা


আল্লাহতায়ালা মহিমময়। তার করুণা অপার। তিনি বিমূর্ত সময়কেও দান করেছেন মাহাত্ম্য, করেছেন মহিমান্বিত। বছরের তেমনি একটি মহিমান্বিত সময় হচ্ছে শবেবরাত বা মধ্য শাবানের রাত। আটজন সাহাবি (রা.) থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে মধ্য শাবানের রাতের মাহাত্ম্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা মধ্য শাবানের রাতে বিশেষভাবে নজর দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবন মাজাহ : ১৩৯০; মুসনাদ আহমাদ : ৬৬৪২)

হাদিসটিতে জীবনব্যাপী দুটি বিষয় বর্জনের মাধ্যমে ওই রাতের সাধারণ ক্ষমা লাভের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে— তা হচ্ছে শিরক ও হিংসা। বিষয় দুটি অন্তঃকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর মহান আল্লাহর কাছে দেহ ও কর্মের পারিপাট্যের চেয়ে আত্মশুদ্ধির মূল্য অনেক বেশি। (আল-কোরআন : ২২/৩৭; সহিহ মুসলিম-২৫৬৪) সুতরাং হাদিসটির মৌলিক শিক্ষা হচ্ছে আত্মশুদ্ধি বা অন্তরের পবিত্রতার।

মানুষের বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্তরের ধারণা তার কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং স্রষ্টার অধিকার যথাযথভাবে আদায় করতে হলে তাঁর ব্যাপারে অন্তর থাকতে হবে স্বচ্ছ, পরিষ্কার; দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে ইতিবাচক। কিন্তু শিরক হচ্ছে স্রষ্টার ব্যাপারে সৃষ্টির অন্তরের নেতিবাচক ও পঙ্কযুক্ত সর্বনিকৃষ্ট ধারণার নাম। সৃষ্টির অধিকার আদায়ের জন্যও চাই তার ব্যাপারে অন্তরে ইতিবাচক ধারণার উপস্থিতি। কিন্তু হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা-শত্রুতা সৃষ্টির প্রতি এমন চূড়ান্ত অবজ্ঞার নাম, যা অধিকার আদায় দূরে থাক, অধিকার নষ্ট করতেই সর্বতোভাবে প্ররোচিত করতে থাকে।

সুতরাং শিরক ও হিংসা-পঙ্কিল হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি স্রষ্টা এবং সৃষ্টির অধিকারসচেতন থেকে কল্যাণ ও সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারে না। বরং সে তখন তার বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মের মাধ্যমে এমনভাবে অধঃপতনের দিকে যেতে থাকে যে, অপার দয়া ও ক্ষমার আধার মহান স্রষ্টার কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়ারও অযোগ্য করে তোলে নিজেকে।

উল্লিখিত হাদিসের মতো আরেকটি হাদিসে নবীজি (সা.) এই একই কথা বলেছেন, ‘প্রতি সপ্তাহে দুবার-সোম ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল (আল্লাহর দরবারে) পেশ করা হয়। মহান আল্লাহ সেদিন এমন সবাইকে ক্ষমা করে দেন, যারা তার সঙ্গে শরিক করে না। তবে ওই দুই ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না, যারা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করে। (তাদের সম্পর্কে) বলা হয়, পরস্পর মিলে যাওয়া পর্যন্ত এদের মওকুফ রাখো; পরস্পর মিলে যাওয়া পর্যন্ত এদের মওকুফ রাখো।’ (মুসলিম : ২৫৬৫)

সুতরাং মহান আল্লাহর ক্ষমালাভের জন্য অন্তরকে ন্যূনতম যে পঙ্ক ও কলুষ থেকে পবিত্র রাখা দরকার, তা হচ্ছে শিরক ও বিদ্বেষ। এ দুটি অপরাধের প্রকৃতি, পরিণতি ও ভয়াবহতা নিয়ে কোরআন ও হাদিসে বিভিন্নভাবে আলোচনা এসেছে।

মধ্য শাবানের রাতে ক্ষমা পাওয়ার জন্য হাদিস শরিফে অন্তরকে দ্বিতীয় যে ব্যাধি থেকে পরিশুদ্ধ রাখার শর্তারোপ করা হয়েছে, তা হলো হিংসা-বিদ্বেষ। মুমিনের হৃদয়ে হিংসার ঠাঁই হয় না। কেননা হিংসা ও ঈমান পরস্পরবিরোধী। নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্র হয় না।’ (নাসায়ি : ৩১০৯)।

মুমিন হয় মিত্রতাপ্রবণ। সে ভালোবাসে, তাকেও ভালোবাসা হয়। ‘ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই যে মিত্র হয় না এবং যাকে মিত্র বানানো হয় না।’ (মুসনাদ আহমাদ : ২২৮৪০)। দীন তো কল্যাণকামিতার নাম। সব ক্ষেত্রে মুমিনের আদর্শ নবী মুহাম্মাদ (সা.)। তিনি তো প্রাণের শত্রুরও কল্যাণ কামনায় পেরেশান থাকতেন।

মুমিন ও দ্বীনদারের যে হৃদয়বৃত্তির কথা বিবৃত হয়েছে হিংসা তার সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর ব্যাধি—হিংসা ও বিদ্বেষ তোমাদের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছে। এই ব্যাধি মুণ্ডন করে দেয়। আমি বলি না যে তা চুল মুণ্ডন করে, বরং দীন মুণ্ডন করে দেয়। যার হাতে আমার প্রাণ তার কসম, মুমিন না হলে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর একে অন্যকে ভালো না বাসলে তোমরা মুমিন হতে পারবে না।’ (তিরমিজি : ২৫১০)

শিরকের মতোই হিংসার প্রকৃতি। জীবনের সব অর্জন, সব নেকিকে বিনষ্ট করে দেয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘আগুন যেমন শুকনো কাঠকে নিঃশেষ করে দেয় হিংসা, তেমনি তার অন্য নেক কর্মগুলো পর্যন্ত ধ্বংস করে ফেলে।’ (আবু দাউদ : ৪৯০৩)। হিংসুকের তাই ক্ষমা হয় না, তার কোনো অর্জন থাকে না।

আমরা যদি শিরক ও হিংসা থেকে হৃদয়কে পবিত্র রেখে স্রষ্টা ও সৃষ্টির হকের ব্যাপারে সচেতন থাকতে পারি, তাহলেই আমরা আমাদের রবের দয়া ও ক্ষমার ধারায় প্রতিনিয়ত সিক্ত হতে থাকব। মুআজ ইবন জাবাল (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) আমাকে সম্বোধন করে বললেন, হে মুআজ, তুমি জানো কি, বান্দার ওপর আল্লাহর কী অধিকার আর আল্লাহর কাছে কী অধিকার বান্দার? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই অধিকজ্ঞাত। নবীজি (সা.) বললেন, ‘বান্দার ওপর আল্লাহর অধিকার হচ্ছে, সে তাঁর ইবাদত করবে, শিরক করবে না। আর আল্লাহর কাছে বান্দার অধিকার হচ্ছে, যে শিরক করবে না তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না।’ (বুখারি : ২৮৫৬; মুসলিম : ৩০)

ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে ব্যক্তি তাওহিদে বিশ্বাসী, নিজের ওপর করেনি শিরকের অত্যাচার, তার জন্য রয়েছে নিরাপত্তা আর সে তো সফলতার মহাসড়কের পথিক।’ (আল-কোরআন : ৬/৮২; সহিহ বুখারি : ৩৪২৯)

তেমনই নবীজি (সা.) আনাস ইবন মালেক (রা.)-কে বলেছেন, ‘বেটা, যদি এমনভাবে দিন অতিবাহিত করতে পারো যে, তোমার হৃদয়ে কারো প্রতি বিদ্বেষ নেই, তাহলে এভাবেই থাকো। বেটা, এটি আমার সুন্নত। আর যে আমার সুন্নতকে জিন্দা করে, সে আমাকে ভালোবাসে। যে আমাকে ভালোবাসে, সে আমার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে।’ (তিরমিজি : ২৬৭৮)

মহান আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা উপলক্ষ খোঁজে। কখনো বিশেষ সময়ে অগ্রবর্তী হয়ে আমাদের দ্বারে এসে কড়া নাড়ে। আমাদের সে জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। হৃদয়পাত্রকে উপযুক্ত রাখতে হবে সে দান গ্রহণের। উপরের আলোচনা থেকে আমরা জেনে গেছি, আল্লাহর দান শিরক ও হিংসা-পঙ্কিল হৃদয়কে উপযুক্ত পাত্র মনে করে না।

শবেবরাত বা মধ্য শাবানের রাত শুধু সাময়িক কোনো উৎসবী উপাসনা নয়, বরং জীবন-জোড়া এই শুদ্ধতার শিক্ষাই দিতে এসেছে। যেহেতু শিরকমুক্ত অন্তর স্রষ্টার অধিকার এবং হিংসামুক্ত হৃদয় সৃষ্টির অধিকার আদায়ে সর্বত সচেষ্ট থাকে, তাই আমরা যদি শবেবরাতের শিক্ষার আলোকে অন্তরকে শিরক ও হিংসা থেকে মুক্ত রাখতে পারি, তবে আমাদের জীবন হবে পবিত্র, উন্নত এবং মহিমান্বিত।

আকাবা উপসাগরে নোঙরে প্রস্তুত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

 

আকাবা উপসাগরে নোঙরে প্রস্তুত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ
ছবি: বার্তা সংস্থা আনাদোলু


ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সম্ভাবনার মধ্যে উন্নত সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরাইলি বন্দর শহর আইলাতের দক্ষিণে আকাবা উপসাগরে নোঙরের প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি মার্কিন সামরিক জাহাজ । বৃহস্পতিবার ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেএএন একথা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা আনাদোলুর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে কেএএন জানায়, ‘এই পদক্ষেপ মার্কিন-ইসরাইল সামরিক ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের অংশ। এর মধ্যে রয়েছে নৌবাহিনী মোতায়েন এবং প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের নিরাপত্তা সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ আগামী সময়ে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও উদ্বেগ রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়ে ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের প্রস্তুতির বাড়াচ্ছে।

সম্প্রচারক জানায়, বৃহস্পতিবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাপ্তাহিক নিরাপত্তা পর্যালোচনার সময় ইরান ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এদিকে, ইরান নিয়ে আলোচনার জন্য এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন ইসরাইল ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান জেনারেল শ্লোমি বাইন্ডার মঙ্গলবার ও বুধবার পেন্টাগন, সিআইএ ও হোয়াইট হাউসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।

অন্যদিকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠকে কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরান-তুরস্ক সমন্বয় জরুরি: আরাগচি

 

আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরান-তুরস্ক সমন্বয় জরুরি: আরাগচি
ছবি: বার্তা সংস্থা আনাদোলু


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জোর দিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং নিয়মিত আলোচনা হওয়া অপরিহার্য। শুক্রবার ইস্তাম্বুল সফরের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আরাগচি একথা বলেন। সফরে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

আরাগচি বলেন, ‘ইরান ও তুরস্ক সব সময়ে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ বজায় রেখেছে। আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে পরামর্শ করি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পক্ষের হুমকির প্রেক্ষিতে উভয় দেশের অবস্থান সমন্বয় করা, আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্যালোচনা করা এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, সে সম্পর্কে মত বিনিময় করা প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইউরোপের ইরানি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ‘বড় কৌশলগত ভুল’। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ মহাদেশের পতন হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্রমশ তার ভূমিকা হারাচ্ছে, দুর্ভাগ্যবশত এই প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হচ্ছে।’

সূত্র: বার্তা সংস্থা আনাদোলু

গণভোট নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

 

গণভোট নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা


আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সরকারি চাকরিজীবীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো থেকে বিরত রাখার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সেই নির্দেশনা কার্যকর করতে সব মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণভোটকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘হ্যা’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে গণভোটের পক্ষে ‘হ্যা’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে তাদের বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ বিষয়ে একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

ইসির এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিশিয়ালি নির্দেশনা দেওয়া হবে। আজ শুক্রবার গণভোটের প্রচারণা বিষয়ে গণমাধ্যমকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর প্রচার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের যে নির্দেশনা তা সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিষয়টি গণমাধ্যমের সুবাদে সবাই জেনেছেন। এখন অফিসিয়ালি জানানো হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে।

এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক জানিয়েছেন, নির্বাচনের কমিশনের বিধি ছিল না বলেই সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে কোন প্রচারণা চালানো হবে না। নির্বাচন কমিশন বিধিনিষেধ দেওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা অংশ নেবে না।

Wednesday, 28 January 2026

নিশ্চুপ রাত, সক্রিয় চোরচক্র: সাতক্ষীরা সদরে একের পর এক বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি।

মোঃ মোস্তফা কামাল

২৮/০১/২০২৬ ই


সাতক্ষীরা সদরে সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা বাসা-বাড়ি ও অফিসের বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রী চুরিতে আতঙ্ক, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ।




সাতক্ষীরা সদরের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে এই চক্রটি বাসা-বাড়ি ও অফিসের মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রী—যেমন ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, রাউটার, সিসিটিভি ক্যামেরা, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।


ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, রাতের আঁধার কিংবা দিনের ব্যস্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে চোরচক্রটি খুব কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। সদর উপজেলার শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসে একাধিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।


অনেক ক্ষেত্রে চুরির পর সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও অপরাধীরা এখনও শনাক্ত বা গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ বাড়ছে। ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা বলছেন, প্রযুক্তি সামগ্রী চুরির ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজকর্মেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছেন।


স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই চোরচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সাতক্ষীরা সদর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি রাত্রীকালীন টহল জোরদার, সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি মনিটরিং কার্যকর করার দাবিও জানানো হয়েছে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে সাতক্ষীরা সদরের সাধারণ মানুষের জান-মাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

বাবার ত্যাগের বিজয়, অদম্য তরুণের বিসিএস জয়

মোঃ মোস্তফা কামাল

২৮/০১/২০২৬ ই



বাবার ত্যাগের বিজয়, অদম্য তরুণের বিসিএস জয়


বনজীবীর ঘর থেকে শিক্ষা ক্যাডার— আবু রায়হানের অনুপ্রেরণার গল্প


সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের মিস্ত্রি পাড়া গ্রামের এক সাধারণ বনজীবী আব্দুল হান্নান মিস্ত্রির জীবনে ছিল দারিদ্র্যের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরালেও বুকের ভেতর লালন করতেন একটাই স্বপ্ন— ছেলেকে বড় অফিসার বানাবেন।


ছেলের নাম আবু রায়হান। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এই শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ–৫ অর্জন করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দেন। তবে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য ছিল না বাবার। ছেলের স্বপ্ন বাঁচাতে জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্ত নেন আব্দুল হান্নান মিস্ত্রি। নিজের শেষ সম্বল কৃষি জমি বিক্রি করে প্রায় ১৮ বছর আগে পাড়ি জমান প্রবাসে— সুদূর দুবাইয়ে


বাবার সেই নিরব ত্যাগের মর্যাদা রাখতে কোনো কার্পণ্য করেননি আবু রায়হান। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক শেষ করে তিনি প্রথমে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI)-তে ফিল্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি; লক্ষ্য ছিল বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা।


অবশেষে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাবার দেড় যুগের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন আবু রায়হান।


ছেলের সাফল্যের খবর পেয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরেছেন গর্বিত বাবা আব্দুল হান্নান মিস্ত্রি। চোখে আনন্দাশ্রু, মুখে তৃপ্তির হাসি— ত্যাগের ফসল হাতে পাওয়ার সেই দৃশ্য আজ পুরো গ্রামবাসীর আবেগে ভাসিয়েছে।


একজন সাধারণ বনজীবীর ঘর থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার এই গল্প প্রমাণ করে—


সততা, পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর বাবার দোয়া থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

অভিনন্দন আবু রায়হান।


স্যালুট জানাই ত্যাগী বাবা আব্দুল হান্নান মিস্ত্রিকে।


২০ কোটি শিশুর মানবিক সহায়তা প্রয়োজন: ইউনিসেফ

  জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, এ বছর ১৩০টিরও বেশি দেশের ২০ কোটিরও বেশি শিশুর মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ড...