Wednesday, 28 January 2026

নিশ্চুপ রাত, সক্রিয় চোরচক্র: সাতক্ষীরা সদরে একের পর এক বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি।

মোঃ মোস্তফা কামাল

২৮/০১/২০২৬ ই


সাতক্ষীরা সদরে সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা বাসা-বাড়ি ও অফিসের বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রী চুরিতে আতঙ্ক, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ।




সাতক্ষীরা সদরের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে এই চক্রটি বাসা-বাড়ি ও অফিসের মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রী—যেমন ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, রাউটার, সিসিটিভি ক্যামেরা, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।


ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, রাতের আঁধার কিংবা দিনের ব্যস্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে চোরচক্রটি খুব কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। সদর উপজেলার শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসে একাধিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।


অনেক ক্ষেত্রে চুরির পর সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও অপরাধীরা এখনও শনাক্ত বা গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ বাড়ছে। ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা বলছেন, প্রযুক্তি সামগ্রী চুরির ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজকর্মেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছেন।


স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই চোরচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সাতক্ষীরা সদর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি রাত্রীকালীন টহল জোরদার, সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি মনিটরিং কার্যকর করার দাবিও জানানো হয়েছে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে সাতক্ষীরা সদরের সাধারণ মানুষের জান-মাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

বাবার ত্যাগের বিজয়, অদম্য তরুণের বিসিএস জয়

মোঃ মোস্তফা কামাল

২৮/০১/২০২৬ ই



বাবার ত্যাগের বিজয়, অদম্য তরুণের বিসিএস জয়


বনজীবীর ঘর থেকে শিক্ষা ক্যাডার— আবু রায়হানের অনুপ্রেরণার গল্প


সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের মিস্ত্রি পাড়া গ্রামের এক সাধারণ বনজীবী আব্দুল হান্নান মিস্ত্রির জীবনে ছিল দারিদ্র্যের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরালেও বুকের ভেতর লালন করতেন একটাই স্বপ্ন— ছেলেকে বড় অফিসার বানাবেন।


ছেলের নাম আবু রায়হান। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এই শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ–৫ অর্জন করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দেন। তবে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য ছিল না বাবার। ছেলের স্বপ্ন বাঁচাতে জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্ত নেন আব্দুল হান্নান মিস্ত্রি। নিজের শেষ সম্বল কৃষি জমি বিক্রি করে প্রায় ১৮ বছর আগে পাড়ি জমান প্রবাসে— সুদূর দুবাইয়ে


বাবার সেই নিরব ত্যাগের মর্যাদা রাখতে কোনো কার্পণ্য করেননি আবু রায়হান। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক শেষ করে তিনি প্রথমে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI)-তে ফিল্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি; লক্ষ্য ছিল বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা।


অবশেষে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাবার দেড় যুগের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন আবু রায়হান।


ছেলের সাফল্যের খবর পেয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরেছেন গর্বিত বাবা আব্দুল হান্নান মিস্ত্রি। চোখে আনন্দাশ্রু, মুখে তৃপ্তির হাসি— ত্যাগের ফসল হাতে পাওয়ার সেই দৃশ্য আজ পুরো গ্রামবাসীর আবেগে ভাসিয়েছে।


একজন সাধারণ বনজীবীর ঘর থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার এই গল্প প্রমাণ করে—


সততা, পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর বাবার দোয়া থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

অভিনন্দন আবু রায়হান।


স্যালুট জানাই ত্যাগী বাবা আব্দুল হান্নান মিস্ত্রিকে।


আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে নবীজি

 

আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে নবীজি


ইসলামের ইতিহাসে শবেমেরাজ অনুপম, অতুলনীয় ও বিস্ময়কর একটি ঘটনা। এটি নবুয়তের সত্যতা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মর্যাদা প্রকাশ এবং মানবজাতির জন্য আল্লাহর চূড়ান্ত দিকনির্দেশনার অধ্যায়।

মেরাজের অর্থ

মেরাজ শব্দের আভিধানিক অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ইসলামি পরিভাষায় মেরাজ হলো মহানবী (সা.)-এর সশরীরে, পূর্ণ জাগ্রত ও সচেতন অবস্থায়, ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) ও মিকাইল (আ.)-এর সঙ্গ নিয়ে বিশেষ বাহন বোরাকে আরোহণ করে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত গমন; এরপর প্রথম আসমান থেকে পর্যায়ক্রমে সপ্তম আসমান অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছানো এবং সেখান থেকে রফরফ নামক বাহনে একাকী আরশে আজিমে উপনীত হওয়ার নাম। মেরাজে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য লাভ করেন, জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেন এবং অতঃপর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন।

ইসরা ও মেরাজ

মেরাজের প্রথম অংশকে বলা হয় ‘ইসরা’। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন সফর। যেহেতু এই ঐতিহাসিক ভ্রমণ রাতের বেলায় সংঘটিত হয়েছিল, তাই একে ইসরা বলা হয়। বিশেষভাবে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত অংশটিই ইসরা নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এই সফরের কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘তিনি পবিত্র সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত—যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি—যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১)

মেরাজ আত্মিক নাকি শারীরিক

প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, মেরাজ সংঘটিত হয় নবুয়তের একাদশ বছরের রজব মাসে। তখন নবীজি (সা.)-এর বয়স ছিল ৫১ বছর। এই সফর কোনো স্বপ্ন বা আত্মিক দর্শন ছিল না, এটি ছিল সশরীরে সংঘটিত বাস্তব ঘটনা। এর অন্যতম প্রমাণ কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকদের তীব্র অস্বীকৃতি ও বিদ্রুপ। যদি এটি শুধু স্বপ্ন বা রুহানি যাত্রা ও অভিজ্ঞতা হতো, তবে তাদের অবিশ্বাস করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ থাকত না।

কোরআন ও হাদিসে মেরাজের প্রমাণ

মেরাজের ঘটনাবলি পবিত্র কোরআনের সুরা নাজম ও সুরা বনি ইসরাইলে সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে। বিশেষ করে সুরা নাজমের প্রথম ১৮টি আয়াতে নবীজি (সা.)-এর আসমানি দর্শন, জিবরাইল (আ.)-এর সাক্ষাৎ, সিদরাতুল মুনতাহা ও আল্লাহর নিদর্শনাবলি প্রত্যক্ষ করার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ সিহাহ সিত্তার বহু নির্ভরযোগ্য হাদিসে ইসরা ও মেরাজের বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষিত আছে, যা আকিদা ও ইতিহাস উভয় দিকেরই অকাট্য প্রমাণ।

মেরাজের সংক্ষিপ্ত ঘটনা

এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক অবস্থায় ছিলেন, যা ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী। ঠিক সেই সময় আল্লাহর পাঠানো ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে উপস্থিত হন। আল্লাহর হিকমতে নবীজির বুক বিদীর্ণ করা হয়, জমজমের পবিত্র পানি দিয়ে তা ধৌত করা হয় এবং ঈমান ও প্রজ্ঞায় তা পরিপূর্ণ করে আবার যথাস্থানে স্থাপন করা হয়। এ ঘটনাটি ছিল নবীজির অন্তরকে আসমানি দর্শনের জন্য প্রস্তুত করার এক বিশেষ ব্যবস্থা।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য হাজির করা হয় বুরাক নামের এক অনন্য বাহন। এর গতি ছিল অবিশ্বাস্য। একেকটি কদম পড়ছিল চোখ যত দূর দেখতে পায় তারও শেষ প্রান্তে। এই বাহনে আরোহণ করে নবীজি (সা.) মুহূর্তের মধ্যেই মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে পৌঁছে যান। সেখানে তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন এবং পূর্ববর্তী সব নবীর ইমামতি করেন।

এরপর শুরু হয় ঊর্ধ্বাকাশের দিকে আরোহণ। সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, প্রতিটি আসমানে প্রবেশের আগে জিবরাইল (আ.) সংশ্লিষ্ট আসমানের প্রহরী ফেরেশতাদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। এই অনুমতির ধারা আসমানি শৃঙ্খলা, নিয়ম ও আল্লাহর দরবারের অসীম মর্যাদার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

প্রতিটি আসমানে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বা একাধিক নবীর সাক্ষাৎ লাভ করেন। প্রথম আসমানে তিনি মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান। দ্বিতীয় আসমানে ছিলেন ইসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.)। তৃতীয় আসমানে সৌন্দর্য ও চরিত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত ইউসুফ (আ.)। চতুর্থ আসমানে ইদরিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে মুসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।

ইবরাহিম (আ.)-কে নবীজি (সা.) দেখতে পান বাইতুল মামুরের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে থাকতে। এটি আসমানের কাবা, যেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা ইবাদতে প্রবেশ করেন এবং এখানে যারা একবার ইবাদত করেন, তারা আর কখনো সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) পৌঁছান সিদরাতুল মুনতাহায়, এটি সৃষ্টিজগতের চূড়ান্ত সীমা। এখানেই এসে জিবরাইল (আ.) থেমে যান এবং বলেন, ‘আমি যদি এখান থেকে সামান্যও অগ্রসর হই, তবে আমি জ্বলে-পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব।’

এই সীমা অতিক্রম করে একমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) অগ্রসর হন। অতঃপর আল্লাহতায়ালা তাঁকে বিশেষ নৈকট্য দান করেন। এই মহিমান্বিত অবস্থায় প্রথমে উম্মতের ওপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। ফেরার পথে হজরত মুসা (আ.)-এর পরামর্শে নবীজি বারবার আল্লাহর দরবারে ফিরে যান। প্রতিবারই নামাজের সংখ্যা কমতে থাকে। অবশেষে তা পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত হয়, তবে আল্লাহতায়ালা দয়া করে এর সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমানই রেখে দেন। (বুখারি : ৩২০৭)

শবেমেরাজে ঘোষিত সিদ্ধান্ত

এই মহিমান্বিত রজনিতে আল্লাহতায়ালা মানবজাতির জন্য ১৪ দফার এক মৌলিক নীতিমালা ঘোষণা করেন। এতে তাওহিদ, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, নৈতিকতা ও ব্যক্তিচরিত্রÑসবকিছুর দিকনির্দেশনা রয়েছে। এগুলো হলো—আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত না করা, পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ, আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায়, মিসকিন ও পথচারীর হক প্রদান, অপচয় পরিহার, কৃপণতা বর্জন, সন্তান হত্যা নিষিদ্ধকরণ, ব্যভিচারের ধারে-কাছেও না যাওয়া, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা না করা, এতিমের সম্পদ সংরক্ষণ, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, মাপে ও ওজনে পূর্ণতা, অজ্ঞতার অনুসরণ বর্জন এবং অহংকার পরিহার। আল্লাহতায়ালা বলেন, এসব কাজই মন্দ এবং তিনি (আল্লাহতায়ালা) এগুলো অপছন্দ করেন। (সুরা বনি ইসরাইল : ২২-৪৪)

তেল খাতে ২০২৬ সালে ১৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আশা ভেনেজুয়েলার

 

তেল খাতে ২০২৬ সালে ১৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আশা ভেনেজুয়েলার


ভেনেজুয়েলা ২০২৬ সালে তেল খাতে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। পরিকল্পিত সংস্কার কার্যকর হলে এই বিনিয়োগ ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি হবে বলে তিনি জানান।

কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রদ্রিগেজ বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় কঠোর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি বিল সংসদে চূড়ান্তভাবে পাস হলে বিনিয়োগে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি আসবে। তার ভাষায়, “গত বছর তেল খাতে বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৯০ কোটি ডলার আর চলতি বছরের জন্য ইতোমধ্যে ১৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।”

তেল খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে আয়োজিত এক জনপরামর্শ সভায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুতের দেশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাকে উৎপাদনেও একটি শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানের পর নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছেন ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোর পরিবর্তে রদ্রিগেজকে ক্ষমতায় বসাতে সমর্থন দিয়েছিলেন, শর্ত ছিল তার নীতিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন।

কলকাতায় মোমো কারখানায় আগুনে ৮ জনের মৃত্যু

 

কলকাতায় মোমো কারখানায় আগুনে ৮ জনের মৃত্যু


পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে একটি মোমো তৈরির কারখানা ও সংলগ্ন গুদামে আগুন লেগে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৪ জন।

সোমবার ভোরে দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার ওই কারখানায় লাগা আগুন মঙ্গলবার দুপুরেও পুরোপুরি নেভানো যায়নি।

হতাহতদের স্বজনদের দাবি, নিখোঁজ ব্যক্তিরা আগুন লাগার সময় গুদাম ও কারখানাতেই ছিলেন। নিখোঁজদের অনেকেরই হয়ত আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে সরকারিভাবে নিখোঁজদের সংখ্যা জানানো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার দুপুরে এক্স হ্যান্ডেলে ১৪ জন নিখোঁজের একটি তালিকা দিয়েছেন।

দমকল কর্তৃপক্ষের দাবি, সোমবার ভোররাতে দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর এলাকার একটি ডেকোরেটর্সের গুদাম থেকে আগুন লাগে এবং দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গুদাম সংলগ্ন একটি খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের মোমো কারখানায়। ডেকোরেটরের গুদাম ও মোমো কারখানায় প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ ছিল।

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে উত্তম সাহা নামের এক ব্যক্তি বলেছেন, তার বোনের স্বামী কৃষ্ণেন্দু সাহা নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি ডেকোরেটর্সের গুদামে কাজ করতেন। বারবার ফোন করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

মৌসুমি হালদার এএনআইকে বলেছেন, ‘ভোর ৩টা নাগাদ আমার স্বামী ফোন করে বলেন যে আমি আর বাঁচব না, তোমাদের কাছে ফেরা হলো না।’

সোমবার সারাদিন রাত চেষ্টার করেও আগুন নেভানো যায়নি। মঙ্গলবার সকালেও আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে।

রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে এসে বলেন, ‘এখানে যে নির্মাণ ছিল, তা কেটে কেটে অনেক জায়গায় ঢুকতে হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ছিল। রাতে গোডাউনের ভেতরে উত্তাপ ছিল অত্যধিক। সে কারণেই রাতে উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়নি।’

ওই কারখানা ও গুদামে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। সূত্র: বিবিসি বাংলা

ভয়াবহ তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, নিহত অন্তত ৩০

 

ভয়াবহ তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, নিহত অন্তত ৩০


তীব্র শীত ও শক্তিশালী তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগের প্রভাবে হাজারো ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশটির কমপক্ষে ২৫টি অঙ্গরাজ্যে আবহাওয়াসংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

শীতের এই ভয়াবহতা উত্তর–পূর্বাঞ্চলের নিউইয়র্ক ও ম্যাসাচুসেটস থেকে শুরু করে দক্ষিণের টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে এবং তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তুষারঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের ওপর, আর সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে ১৫ কোটিরও বেশি বাসিন্দাকে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে, যেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোচুল। শহরের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এ ছাড়া টেনেসি, লুইজিয়ানা, টেক্সাস, ম্যাসাচুসেটস ও কানসাস থেকেও মৃত্যুর খবর এসেছে।

তুষারঝড়ের কারণে রোববার সারা দেশে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার ডটকম জানিয়েছে, সোমবার এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি টেক্সাস থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, তুষারঝড়ের মূল বলয় উত্তর–পূর্বাঞ্চল ছেড়ে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে সরে গেলেও আর্কটিক অঞ্চল থেকে নতুন করে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে উত্তর–পূর্বাঞ্চলে আরও ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, তীব্র শীত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

বাংলাদেশে ডটবিডি সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন ও আধুনিক রিসেলার সিস্টেম চালু

 

বাংলাদেশে ডটবিডি সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন ও আধুনিক রিসেলার সিস্টেম চালু


দেশের আইটি ও ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ডটবিডি (.bd) সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন (যেমন: example.bd)। এই নতুন ডোমেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা সংক্ষিপ্ত, আকর্ষণীয় এবং জাতীয় পরিচয়বাহী ডোমেইন ব্যবহার করতে পারবেন।

বিটিসিএল জানিয়েছে, নতুন ডোমেইন চালুর আগে তিন মাসব্যাপী ‘সানরাইজ পিরিয়ড’ রাখা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বিদ্যমান .com.bd ডোমেইন ব্যবহারকারীরা তাদের পরিচিতি রক্ষা করে .bd ডোমেইন সংরক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য নাম-সংঘাত এবং সাইবার স্কোয়াটিং প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (BTCL) একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর রিসেলার সিস্টেম চালু করেছে। গ্রাহকরা এখন বিটিসিএলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্বীকৃত রিসেলারদের মাধ্যমে সরাসরি ডোমেইন ক্রয় করতে পারবেন।

ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করা এবং ডোমেইন ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে বিটিসিএল:

স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ডোমেইন অপব্যবহার রোধের জন্য যথাযথ প্রমাণাদি সরবরাহ করা আবশ্যক।

দেশীয় সরকারি দপ্তর ও সংস্থাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে .bd ডোমেইন প্রদান করা হবে।

gov, govt, এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নামের সঙ্গে মিলিত ডোমেইন নাম গ্রহণযোগ্য হবে না। বিদ্যমান বিরোধ থাকলে বিটিসিএল তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার পূর্ণ অধিকার রাখে

যেকোনো ডোমেইন সংক্রান্ত বিরোধ BTCL এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) যৌথভাবে সমাধান করবে। গ্রাহকরা ই-মেইল info@btrc.gov.bd এর মাধ্যমে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ বা উসকানিমূলক ডোমেইন নাম গ্রহণযোগ্য হবে না। ডোমেইন ক্রয় করে তা অন্যের কাছে বিক্রি বা লিজ দেওয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

কোনো শর্ত লঙ্ঘন হলে BTCL সংশ্লিষ্ট ডোমেইন বাতিল করতে পারবে এবং গ্রাহক কোনো ক্ষতিপূরণ বা রিফান্ড দাবি করতে পারবেন না।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় ডোমেইন ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হবে। উদ্যোক্তারা সংক্ষিপ্ত ও জাতীয় পরিচয়বাহী ডোমেইন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে সুসংহত করবে।

নিশ্চুপ রাত, সক্রিয় চোরচক্র: সাতক্ষীরা সদরে একের পর এক বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি।

মোঃ মোস্তফা কামাল ২৮/০১/২০২৬ ই সাতক্ষীরা সদরে সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা বাসা-বাড়ি ও অফিসের বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সামগ্রী চুরিতে আতঙ্ক, প্রশাস...