Monday, 13 April 2026

হরমুজ প্রণালীর বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

 

হরমুজ প্রণালীর বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার সকাল ১০টা থেকে এ অবরোধ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে বেসামিরক নৌযানের জন্য খোলা থাকলেও কোনো সামরিক জাহাজ চলতে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। মূলত তখন থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের এ গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার অপেক্ষায় বসে নেই কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো। কাতার গতকালই সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব আজ জানিয়েছে যে তারা তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই পাইপলাইনটি এখন পুরোপুরি সচল।

এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মানিফা তেলক্ষেত্রটিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

সংকটকালীন এ পরিস্থিতিতে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে এখন বিকল্প পথ ও নতুন কৌশলই উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Sunday, 12 April 2026

তাওহিদের সৌন্দর্য ও মানুষের মুক্তি

 

তাওহিদের সৌন্দর্য ও মানুষের মুক্তি


ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ-অর্থাৎ এক আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন। তাওহিদ শুধু একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন, যা মানুষের চিন্তা, চেতনা, আচরণ এবং সমাজব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাওহিদের সৌন্দর্য এমন এক আলো, যা মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে এবং তাকে সব ধরনের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দেয়।

তাওহিদের মূল বক্তব্য হলো সৃষ্টিকর্তা এক, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘বলুন, তিনি আল্লাহ, এক; আল্লাহ অমুখাপেক্ষী; তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি; আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা আল-ইখলাস : ১-৪) এই সংক্ষিপ্ত সুরাটি তাওহিদের সারমর্মকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরে। এখানে আল্লাহর একত্ব, তাঁর পরিপূর্ণতা এবং সৃষ্টির থেকে তাঁর সম্পূর্ণ ভিন্নতা স্পষ্ট করা হয়েছে।

তাওহিদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, এটি মানুষের অন্তরকে শান্তি দেয়। যখন একজন মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, তার জীবনের সবকিছু একমাত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে, তখন সে দুশ্চিন্তা, ভয় ও হতাশা থেকে মুক্ত থাকে। সে জানে, যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে এবং এতে তার জন্য কোনো না কোনো কল্যাণ রয়েছে। এই বিশ্বাস মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রদান করে।

তাওহিদ মানুষের মুক্তিরও প্রধান মাধ্যম। ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষ নানা রকম কুসংস্কার, মূর্তিপূজা এবং মানুষের বানানো মতবাদের কাছে নিজেদের সমর্পণ করেছে। ফলে তারা প্রকৃত স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু তাওহিদ মানুষকে শেখায় কাউকে নয়, শুধু আল্লাহকেই ইবাদত করতে হবে এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। এর ফলে মানুষ অন্যের গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়। সে আর কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা শক্তির কাছে নিজেকে নত করে না।

তাওহিদ মানুষের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে। একজন তাওহিদে বিশ্বাসী ব্যক্তি জানে যে, সে আল্লাহর বান্দা এটি তার জন্য গৌরবের বিষয়। তাই সে অন্যায়, অবিচার বা অন্য কারো আধিপত্য মেনে নেয় না। সে সত্য ও ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকে, কারণ তার ভরসা একমাত্র আল্লাহ। এই বিশ্বাস একজন মানুষকে সাহসী, ন্যায়পরায়ণ এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

এছাড়া তাওহিদ সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। যখন সবাই বিশ্বাস করে যে, তাদের সৃষ্টিকর্তা এক এবং তারা সবাই তাঁর বান্দা, তখন জাতি, বর্ণ, ধনী-গরিবের ভেদাভেদ কমে আসে। ইসলাম এই তাওহিদের ভিত্তিতেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে চায়, যেখানে সবাই সমান মর্যাদা পায় এবং একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকে। হাদিসে মহানবী (সা.) তাওহিদের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, ‘যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (বুখারি : ১২৮) এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, তাওহিদ শুধু দুনিয়ার শান্তিই নয়, আখিরাতের মুক্তিরও চাবিকাঠি।

তাওহিদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি মানুষকে জবাবদিহির অনুভূতি দেয়। যখন কেউ বিশ্বাস করে যে, এক আল্লাহ সবকিছু দেখছেন এবং একদিন তাঁর সামনে হিসাব দিতে হবে, তখন সে নিজের কাজের ব্যাপারে সচেতন হয়। ফলে সে অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে এবং সৎপথে চলার চেষ্টা করে।

তাওহিদ ইসলামের প্রাণ, যা মানুষের জীবনে সৌন্দর্য, শান্তি ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। এটি মানুষকে সব ধরনের শিরক, কুসংস্কার ও দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এবং তাকে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত তাওহিদের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা, তা হৃদয়ে ধারণ করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা। তাহলেই আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারব।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বড় পাঁচ ইস্যু

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বড় পাঁচ ইস্যু

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য প্রস্তুত ইসলামাবাদ। আলোচনাকে সামনে রেখে শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী। রাস্তার প্রবেশপথের ফুটপাত নতুন করে হলুদ ও কালোতে রঙিন করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান সরকার যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আশাবাদী। তারা জোর দিয়ে বলছে, অন্য অনেক দেশের তুলনায় তারা উভয়পক্ষেরই আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, তিনিও আশার কথা শুনিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে তিনি বলেন, ইরান যদি সৎভাবে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি তারা আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের গেম খেলার চেষ্টা করে, তাহলে তা আলোচনায় কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। সত্যি বলতে, এ আলোচনা সফল হওয়া নিয়ে পাহাড়সম বাধাও রয়েছে।

লেবানন

ইরানের মিত্র লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের চলমান হামলা যুদ্ধবিরতির আলোচনা সফল হওয়ার পথে হুমকি তৈরি করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখলে আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়বে। ইসরাইলকে হুমকি দিয়ে তিনি আরো বলেন, আমাদের আঙুল ট্রিগারের ওপরই আছে। ইরান কখনোই লেবাননের ভাইবোনদের ছেড়ে যাবে না।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে ‘কোনো যুদ্ধবিরতি নেই’, তবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের বারবার এলাকা ছাড়ার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সেখানে আর বড় কোনো সামরিক হামলা চালানো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলের হামলা এখন আগের তুলনায় ‘কিছুটা কম তীব্র’ হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ পদক্ষেপ ইরানকে খুশি করতে নামকাওয়াস্তে হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

হরমুজ প্রণালি

শুরুতেই যে বিষয়টি যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে তার একটি হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান শুরুতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা বললেও এখন তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, এটা আমাদের চুক্তি ছিল না। ইরান ঠিক কাজ করেনি।

বর্তমানে খুব অল্পসংখ্যক জাহাজই হরমুজ অতিক্রম করতে পারছে। শত শত জাহাজ এবং আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক এখনো পারস্য উপসাগরের ভেতরে আটকে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ইরান এটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। তারা এটিকে নিজেদের সার্বভৌম জলসীমা হিসেবে দাবি করছে এবং কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে আর কোনটি পারবে না, তা নির্ধারণে নতুন নিয়ম প্রণয়নের কথা বলছে।

বৃহস্পতিবার ইরান ঘোষণা দিয়েছে, বিদ্যমান দুটি ট্রাফিক চ্যানেলের উত্তরে নতুন ট্রানজিট রুট তৈরি করা হয়েছে। শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উদ্বেগকে সামনে রেখে এক বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন ধরনের জাহাজবিধ্বংসী মাইনের উপস্থিতি এড়াতেই নতুন এ রুট জরুরি ছিল।

সম্প্রতি কিছু জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে ২০ লাখ ডলার (প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড) টোল দিয়েছে—এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যেন ট্যাংকারগুলোর কাছ থেকে কোনো ফি না নেয়।

পারমাণবিক শক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি হলো পারমাণবিক ইস্যু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, এ নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য তিনি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছেন।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করেনি—যদিও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এ দাবিকে গভীর সন্দেহের চোখে দেখে। তবে তারা জোর দিয়ে বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র নয় বরং এনপিটি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

এদিকে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে ট্রাম্প কার্যকর ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও তাতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের নিজস্ব ১৫ দফা পরিকল্পনায় দাবি করা হয়েছে, ইরানের মাটিতে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এমনকি তা অর্জনের সক্ষমতাও তৈরি করতে পারবে না।

এ জটিল বিষয়টি সমাধান করতে আন্তর্জাতিক আলোচকদের ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তিতে পৌঁছতে বহু বছর সময় লেগেছিল, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে সমাধান করা হয়। এ অবস্থায় আবারও ইস্যুটি নিয়ে নতুন করে দুদেশ আলোচনায় প্রস্তুত কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

ইরানের আঞ্চলিক মিত্র

ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অন্যতম হলো লেবাননের সশস্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, গাজার হামাস এবং ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী। যারা তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে সহযোগিতা করছে। এর ফলে ইরান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও চলছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এ মিত্র শক্তিগুলোও (অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স) নিয়মিত হামলার সম্মুখীন হচ্ছে। ইরানের আরেক মিত্র সিরিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদও আগেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইল ইরানের এ মিত্র শক্তিগুলোকে ‘অ্যাক্সিস অব ইভিল’ হিসেবে দেখে, যা তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি এবং এদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা জরুরি বলে মনে করে তারা।

যখন ইরানের অর্থনীতি চাপে পড়ছে, তখন অনেক ইরানি নাগরিকও চান যে তাদের সরকার বিদেশে প্রভাব বিস্তারের পেছনে কম খরচ করে বরং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিক। যদিও ইরান তাদের মিত্রদের থেকে সরে আসতে প্রস্তুত এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ইরানের ইসলামিক শাসনব্যবস্থা বহু দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে। ফলে যখনই কোনো আলোচনায় শর্তের বিষয়টি সামনে আসে, তখন তারা আন্তর্জাতিক এ নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

শুক্রবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আলোচনা শুরুর আগেই প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে হবে।

তবে ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, সেখানে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে গালিবাফ কোন চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, কেবল আলোচনা শুরুর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এত বড় ছাড় দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়।

ইরানের শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা বাতিল হতে পারে

ইরানের শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা বাতিল হতে পারে


ইরানের দেওয়া পূর্বশর্তগুলো পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা এখনও বাতিল হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ চ্যানেল আইআরআইএনএনের এক সাংবাদিক ইসলামাবাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই সাংবাদিক বলেন, ইরানের স্বার্থ, দাবি আর রেড লাইনের (চূড়ান্ত সীমা) শর্ত পূরণ না হলে সেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসাকেই একটি ‘সাফল্য’ হিসেবে দেখতে পারে ইরান; কর্মকর্তারা যাকে বলছেন ‘জোরালো কূটনীতি’।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বর্তমানে ওয়াশিংটনের প্রতি বিশ্বাসের ঘাটতি এবং তেহরানের নিজস্ব শর্তগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং দাবি পূরণ না হলে আলোচনা ছাড়াই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে দেশটি।

ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, আবার কি যুদ্ধ!

ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, আবার কি যুদ্ধ!


ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

তিনি বলেছেন, ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি দুঃসংবাদ বলেন ভ্যান্স। ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ভ্যান্স।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাকিস্তান অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান ভ্যান্স। ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছে। তবে ইরান তাতে রাজি হয়নি।

ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন ভ্যান্স। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভ্যান্স। তবে ভবিষ্যতে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে সে জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন। তবে সেটা এখনো প্রতীয়মান হয়নি। এমনটা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে। খবর বিবিসির।

আল জাজিরার খবর বলছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি। ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপরও আলোচনার সাফল্য নির্ভরশীল বলে জানান বাগাই।

Saturday, 11 April 2026

সমকালীন বাস্তবতায় ইসলামি শিক্ষা

সমকালীন বাস্তবতায় ইসলামি শিক্ষা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের উপায় নয়; বরং তা মানুষের চিন্তা, চরিত্র, মূল্যবোধ এবং জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু সব শিক্ষা এক নয়—কিছু শিক্ষা মানুষকে শুধু দক্ষ করে তোলে আর কিছু শিক্ষা মানুষকে মানুষ বানায়। ইসলামি শিক্ষা হলো সেই শিক্ষা, যা মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে, তার জীবনের উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে এবং তাকে স্রষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত করে। আজকের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে, যেখানে প্রযুক্তি ও ভোগবাদ মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে, সেখানে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব আরো গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। কারণ এই শিক্ষা মানুষকে শুধু বাহ্যিক সাফল্যের পথে নয়, বরং আত্মিক উন্নতির পথে পরিচালিত করে।

ইসলামি শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো তাওহিদে ঈমান—এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। এই বিশ্বাসই মানুষের জীবনের প্রতিটি কাজকে অর্থবহ করে তোলে। একজন মুসলিম যখন শিক্ষা গ্রহণ করে, তখন তার উদ্দেশ্য শুধু চাকরি বা অর্থ উপার্জন নয়; বরং সে জ্ঞান অর্জন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। এই দৃষ্টিভঙ্গিই ইসলামি শিক্ষাকে অন্যসব শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আলাদা করে। এখানে জ্ঞান একটি ইবাদত, একটি দায়িত্ব এবং একটি আমানত। তাই ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে ওঠা মানুষ শুধু নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের জন্যও কল্যাণকর হয়ে ওঠে।

বর্তমান সময়ে আমরা যে শিক্ষাব্যবস্থার মুখোমুখি, সেখানে প্রতিযোগিতা, ফল এবং চাকরি পাওয়ার দৌড়ই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা মানুষের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ক্রমেই দুর্বল করে দিচ্ছে। এর বিপরীতে ইসলামি শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি যদি নৈতিকতা হারিয়ে ফেলে, তবে তার শিক্ষা সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামি শিক্ষা এই সংকটের সমাধান দেয়, কারণ এটি মানুষকে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, সহানুভূতি এবং দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়।

ইসলামের প্রথম ওহি ‘পড়’ শব্দটি দিয়েই শুরু হয়েছে, যা শিক্ষার গুরুত্বকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এই একটি শব্দই প্রমাণ করে যে, ইসলাম জ্ঞান অর্জনকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এই জ্ঞান শুধু পার্থিব জ্ঞান নয়; বরং এমন জ্ঞান, যা মানুষকে তার স্রষ্টার পরিচয় দেয়, তার নিজের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করে এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই ইসলামি শিক্ষায় কোরআন ও হাদিসের পাশাপাশি বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শনসহ অন্যান্য জ্ঞানও গুরুত্ব পায়—তবে সবকিছুই একটি নৈতিক কাঠামোর মধ্যে।

ইসলামি শিক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারসাম্য। এটি দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে একটি সুন্দর সামঞ্জস্য সৃষ্টি করে। আজকের অনেক শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে শুধু দুনিয়াবাদী করে তোলে, ফলে সে আখিরাতের কথা ভুলে যায়। আবার কিছু মানুষ শুধু আখিরাতের চিন্তায় দুনিয়ার দায়িত্ব অবহেলা করে। ইসলামি শিক্ষা এই দুই চরম অবস্থার মধ্যে একটি মধ্যপন্থা প্রদান করে। এটি মানুষকে শেখায় কীভাবে দুনিয়ার কাজ করতে হবে, কিন্তু সেই কাজ যেন আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয়।

ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হয়। আত্মশুদ্ধি বা তাজকিয়া ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। লোভ, হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ—এসব নেতিবাচক গুণ থেকে মুক্ত হয়ে একজন মানুষ সত্যিকার অর্থে সফল হতে পারে। ইসলামি শিক্ষা এই আত্মিক পরিশুদ্ধির পথ দেখায় এবং মানুষকে একটি সুন্দর চরিত্রের অধিকারী করে তোলে। এমন একজন মানুষ সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও ইসলামি শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। একটি সমাজ তখনই উন্নত হয়, যখন তার সদস্যরা নৈতিক ও দায়িত্বশীল হয়। ইসলামি শিক্ষা এ ধরনের মানুষ তৈরি করে, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, সত্যের পক্ষে কথা বলতে পারে এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, ইসলামি শিক্ষার আলোকে গড়ে ওঠা সমাজগুলো জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সভ্যতায় কতটা সমৃদ্ধ ছিল। তারা শুধু নিজেদের উন্নতি করেনি, বরং পুরো মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে এনেছে।

বর্তমান বিশ্বে যে নৈতিক সংকট দেখা যাচ্ছে—দুর্নীতি, অন্যায়, সহিংসতা—এসবের মূল কারণ হলো সঠিক শিক্ষার অভাব। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, যদি মানুষের চরিত্র উন্নত না হয়, তবে সেই উন্নয়ন ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইসলামি শিক্ষা এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান প্রদান করে, কারণ এটি মানুষের অন্তরকে পরিবর্তন করে। এটি মানুষকে আল্লাহভীতি শেখায়, যা তাকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।

পরিবারের ক্ষেত্রেও ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা শুরু হয় তার পরিবার থেকে। যদি পরিবারে ইসলামি শিক্ষার পরিবেশ থাকে, তবে শিশুটি ছোটবেলা থেকেই সঠিক মূল্যবোধ শিখে বড় হয়। বাবা-মা যদি নিজেরাই ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হন, তবে তারা তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারেন। ফলে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে।

ইসলামি শিক্ষা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি—সবকিছুতেই ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। এই শিক্ষা মানুষকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রদান করে, যেখানে প্রতিটি কাজের একটি নৈতিক ভিত্তি থাকে। তাই ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করা মানে শুধু কিছু তথ্য জানা নয়; বরং একটি জীবনদর্শন গ্রহণ করা।

আজকের তরুণ প্রজন্ম নানা ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে তারা বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য ও ধারণার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামি শিক্ষা তাদের জন্য একটি নিরাপদ পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি তাদের সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে এবং তাদের একটি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ জীবনের দিকে পরিচালিত করে।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমরা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে নিজের পরিচয় বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইসলামি শিক্ষা মানুষকে তার নিজস্ব পরিচয় সম্পর্কে সচেতন করে এবং তাকে তার মূল্যবোধ ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি শেখায় কীভাবে প্রবহমান সংস্কৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে, কিন্তু নিজের বিশ্বাস ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে।

সুতরাং ইসলামি শিক্ষা শুধু একটি শিক্ষাব্যবস্থা নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের জীবনের প্রতিটি দিককে আলোকিত করে। এটি মানুষকে জ্ঞানী, নৈতিক ও দায়িত্বশীল করে এবং স্রষ্টার নিকটবর্তী করে। আজকের এই অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পৃথিবীতে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যদি আমরা একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তবে ইসলামি শিক্ষার বিকল্প নেই।

ইসলামি শিক্ষার আলোই পারে মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করতে, সমাজকে অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মানবজাতিকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং তা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। তখনই আমরা প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারব—এই দুনিয়াতেও এবং পরকালেও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই: ইরানের স্পিকার

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই: ইরানের স্পিকার
ছবি: ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরানি প্রতিনিধিদল আত্মবিশ্বাসী, তবে তারা মার্কিন প্রতিপক্ষকে বিশ্বাস করছে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু কোনো বিশ্বাস নেই। মার্কিনিরা যদি একটি ‘প্রকৃত চুক্তির জন্য প্রস্তুত’ থাকে, তবে ইরানও প্রস্তুত হতে পারে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকানদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার অভিজ্ঞতা সব সময় ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। 

চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ

১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইসলা...