Friday, 27 February 2026

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদের ইমামকে লক্ষ্য করে গুলি

 

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদের ইমামকে লক্ষ্য করে গুলি

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে দেশটির অন্যতম বৃহৎ মসজিদের এক ইমামকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। রমজান মাসে সোমবার সন্ধ্যায় নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এ হামলার মুখে পড়েন তিনি।

হামলার শিকার ইমাম শুয়াইব দিন ইউটা ইসলামিক সেন্টারের নেতা। তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও তার গাড়িতে একাধিক গুলি লাগে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিন জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি তার বাড়ির বাইরে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। তার ভাষ্য, হামলাকারী তার বাসা, গাড়ি এবং সময়সূচি সম্পর্কে অবগত ছিল। প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। গুলিগুলো তার গাড়ির উইন্ডশিল্ড এবং সামনের ও পেছনের আসনে আঘাত করে।

পুলিশ একটি সাদা যাত্রীবাহী গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছে, যা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ইমাম দিন বলেন, তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রু আছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে তিনি সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটি ইসলামবিদ্বেষী হামলা হতে পারে।

এদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, নেইট ব্লুইন, যিনি ইউটা স্টেট সিনেট-এর সদস্য, ঘটনাটিকে “হত্যাচেষ্টা” হিসেবে বর্ণনা করে একে ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে এ হামলার সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিতও দেন।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’

 

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’

পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। তবে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে দেশ দুটির মধ্যে কোনো চুক্তি হবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। শিগগিরই আবার আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে উভয় পক্ষ।

আলবুসাইদি বলেন, দুই পক্ষই নিজ নিজ দেশে পরামর্শ শেষে ‘শিগগিরই’ আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনায় তার দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও অন্য কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী দফা আলোচনা হবে।

দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। তারা নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে কর্মকর্তারা কিছু ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তা প্রকাশ করা হয়নি। আলোচিত একটি বিকল্প হলো, তিন থেকে পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশের পর আন্তর্জাতিক নজরদারিতে সীমিত মাত্রায় ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেয়া। এছাড়া চুক্তির বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আরাগচি। ইরানি টেলিভিশনকে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।

বিবিসি বলছে, পরোক্ষ এই আলোচনা দুই দফায় হয়। সকালে তিন ঘণ্টার একটি বৈঠক এবং সন্ধ্যায় আরেকটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক। ফলাফল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আলোচনায় আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও এই আলোচনায় যোগ দেন।

Thursday, 26 February 2026

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য

 

নবম তারাবি: পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য


আজ নবম তারাবিতে সূরা হুদ এবং সূরা ইউসুফ (১-৫২) পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১২তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশেরবিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো ১১. সূরা হুদ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১২৩, রুকু ১০) প্রথম পাঁচ আয়াত ব্যতীত সূরা হুদ পুরোটাই এই পারায়।

সূরাটির সূচনাপর্বে কোরআনের আজমত ও বড়ত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। শব্দ, ভাষা, অর্থ সবদিক দিয়েই পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রুব সত্য। তার বর্ণনায় কোনো বিরোধ নেই, কোনো কিছুই অযৌক্তিক এবং বাস্তব বিরুদ্ধ নয়। এর অনুপম ভাষা এবং বর্ণনাধারা, অলৌকিক সাবলীলতা এবং প্রাঞ্জলতায় কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই।

কোরআনের প্রতিটি তত্ত্ব এবং তথ্য অকাট্য, কালের পরিবর্তনে তাতে চিড় ধরার সম্ভাবনা মাত্র নেই, রোজ কেয়ামত পর্যন্ত এর সার্থকতা, উপাদেয়তা এবং প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। (১-৫)।কোরআনের আজমত বর্ণনার পর তাওহিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর একত্ববাদের বিভিন্ন প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। (৬-১২)। যারা বলে, কোরআন মানব রচিত, তাদেরকে কোরআনের অনুরূপ কিছু বানিয়ে দেখানোর জন্য চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। (১৩)। কিন্তু কখনোই কাফেররা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারেনি এবং কেয়ামত পর্যন্তও পারবে না। কাফেররদের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে অন্ধ ও বধিরের সঙ্গে, আর ঈমানদারদের উপমা দেওয়া হয়েছে চক্ষুষ্মান ও শ্রবণসম্পন্ন ব্যক্তির সাথে।(১৫-২৪)।

কোরআনের সত্যতা এবং তাওহিদ ও রিসালতের বাস্তবতার প্রমাণ উল্লেখের পর হজরত নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব, মুসা এবং হারুন (আ.) এর কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত এই ঘটনাগুলো বর্ণনার একটি উদ্দেশ্য হল নবী মুহাম্মদ (সা.) এর ওহির সত্যতা এবং কোরআনের চির সত্য হওয়ার প্রমাণ পেশ করা।

সূরায় নবীদের ঘটনা আলোচনা প্রসঙ্গে হজরত নুহ (আ.) এর ঘটনা বর্ণনার পর বলা হয়েছে, এসব ঘটনা অদৃশ্যের সংবাদের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমাকে ওহির মাধ্যমে জানাচ্ছি। ইতঃপূর্বে না তুমি জানতে এগুলো, আর না জানত তোমার জাতি। সুতরাং সবর করো, মুত্তাকিদের পরিণতি ভালোই হয়। (৪৯)।

নবীদের ঘটনাগুলোয় বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য রয়েছে অসংখ্য উপদেশ, আর রয়েছে নবীজি (সা.) এবং মুখলিস ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য সান্ত্বনা ও দৃঢ়তার সবক। তাই ঘটনাগুলোর বর্ণনা প্রসঙ্গে নবীজি ও তার উম্মতকে দ্বীনের ওপর ইস্তেকামাত ও জমে থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। (১১২)। বস্তুত ইস্তেকামাত এমন এক হুকুম, যার সম্পর্ক আকিদা-বিশ্বাস, কথা-কাজ এবং আখলাক-চরিত্র সবকিছুর সঙ্গে। ইস্তেকামাত অর্থ হলো সারা জীবন সেই শিক্ষার আলোকে চলা, যেভাবে চলার নির্দেশনা আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। ইস্তেকামাতই হলো আসল কারামাত। ইস্তেকামাতের চেয়ে বড় কোনো কারামাত আর হতে পারে না।মুসা (আ.) এর ঘটনা আলোচনা প্রসঙ্গে গোনাহ ও নাফরমানির ব্যাপারে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না। (১০২-১০৩)। মূলত গোনাহ, সীমাতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং মন্দ কাজে বাধা না দেওয়ার কারণেই জাতীয় জীবনে বিপর্যয় এবং আল্লাহর আজাব নেমে আসে।(১১৬)।

পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন কাহিনী আলোচনার কী উদ্দেশ্য সে বিষয়ে আলোকপাতের মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।১২. সূরা ইউসুফ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১১, রুকু ১২) সূরার নামই বলে দেয়, সূরায় হজরত ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা বিবৃত হয়েছে। খোদ কোরআন ইউসুফ (আ.) এর ঘটনাকে ‘আহসানুল কাসাস’ তথা সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে। ঘটনাটিতে প্রচুর শিক্ষা ও নসিহত রয়েছে। নবী ইউসুফ (আ.) এর ঘটনা এতই প্রসিদ্ধ যে, প্রকৃত মুসলিম পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাও তা জানে। সূরা ইউসুফের যে অংশটুকু আজ পড়া হবে তার সারসংক্ষেপ হলঃ-হজরত ইয়াকুব (আ.) এর বারো সন্তান ছিল। এদের মধ্যে ইউসুফ ছিলেন অস্বাভাবিক সৌন্দর্যের অধিকারী, বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও দৈহিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আচার-ব্যবহারেও তিনি ছিলেন অনন্য। তাই বাবার কাছেও ছিলেন সবচেয়ে আদরের।

মহব্বতের একটি কারণ এ-ও ছিল, ইউসুফ শৈশবে একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখেন, যা ছিল তার নবী হওয়ার পূর্বাভাষ। তাছাড়া ইউসুফ ও তার ভাই বিনয়ামিন ছিলেন সবার ছোট, আর তাদের মায়েরও ইন্তেকাল হয়ে গিয়েছিল। বাবা ইয়াকুব (আ.) এর এই স্বভাবজাত মহব্বত ভাইয়েরা সহ্য করতে পারেনি, তারা হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। বিনোদনের কথা বলে একদিন তারা ইউসুফ (আ.) কে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি কূপে তাকে ফেলে দেয়।

সেই পথ দিয়ে একটি কাফেলা যাচ্ছিল, পানির প্রয়োজনে তারা কূপের সামনে যায়, বালতি নিচে ফেলার পর বালতি ওঠানো মাত্রই ফুটফুটে সুন্দর ইউসুফকে দেখতে পায়। কাফেলার লোকরা মিশরে পৌঁছে ইউসুফকে বিক্রি করে দেয়।মিশরের আজিজ ইউসুফকে কিনে নিজের ঘরে নিয়ে যান। ধীরে ধীরে ইউসুফ বড় হন, যৌবনে পদারপর্ণ করেন। একসময় আজিজে মিশরের স্ত্রী ইউসুফের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। সে ইউসুফকে খারাপ কাজের প্রতি আহ্বান করে, ইউসুফ (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজপরিবার বদনাম থেকে বাঁচার জন্য ইউসুফকে জেলে নিক্ষেপ করে। জেলের কুঠুরিতেও তাওহিদের দাওয়াত অব্যাহত থাকে, বন্দীদের অনেকেই তার হাতে মুসলমান হন।সে সময় তৎকালীন বাদশা একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফ সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা বলে দেন। ইউসুফের প্রতি বাদশাহর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। বাদশা ইউসুফকে সে দেশের অর্থ বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দেন এবং তাকে নিজের উজির বানিয়ে নেন। (৩-৫২)।

মসজিদে নববির শিক্ষক আবদুল্লাহর ইন্তেকাল

 

মসজিদে নববির শিক্ষক আবদুল্লাহর ইন্তেকাল

সৌদি আরবের পবিত্র মদিনার মসজিদে নববিতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পবিত্র কোরআন ও দশ কেরাতের পাঠদানকারী প্রখ্যাত শিক্ষক শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে মদিনার আলেম সমাজ ও অগণিত ছাত্রের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মরহুম শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি এমন এক সময় থেকে মসজিদে নববিতে দরস (পাঠদান) দিতেন, যখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। সে সময় মসজিদে নববির মেঝেতে কোনো কার্পেট ছিল না; ছিল কেবল কাঁকর বিছানো প্রাঙ্গণ। প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি নিষ্ঠার সাথে তাঁর জ্ঞান বিতরণের কাজ চালিয়ে গেছেন।

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা জীবনে তিনি কখনোই পাঠদান থেকে বিরত থাকেননি। তাঁর জীবনের কর্তব্যনিষ্ঠার একটি বিরল উদাহরণ মদিনায় বহুল আলোচিত- একবার তাঁর আপন বোনের ইন্তেকালের দিন কেবল তিনি কিছুটা সময় বিরতি নিয়েছিলেন। বোনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেই তিনি পুনরায় ছাত্রদের কাছে ফিরে আসেন এবং নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যান। পবিত্র কোরআনের প্রতি এমন গভীর ভালোবাসা ও একনিষ্ঠ সাধনা তাঁকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে।

তার কাছে শিক্ষাগ্রহণ করে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ছাত্র পরবর্তীতে পবিত্র কোরআনের হাফেজ, শিক্ষক ও দাঈ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার এই শিক্ষার ধারা ছড়িয়ে পড়েছে।

মরহুমের জানাজা শেষে তাকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২০

 

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২০


পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত দুই দিনের হামলায় নিহত হয়েছে তারা। এছাড়া দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।

একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় ১৫ পুলিশ সদস্য ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।’ ওই কর্মকর্তা জানান, আরো দুই পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে, তারা এখনো নিখোঁজ।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বেশির ভাগ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পার্শ্ববর্তী বেলুচিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ভারতীয় মদতপুষ্ট অন্তত ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় প্রক্সি বাহিনী ফিতনা আল-খারিজ এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তানকে নির্মূল করা।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় চারটি পৃথক সংঘর্ষে ফিতনা আল-খারিজের ২৬ সন্ত্রাসী নিহত হয়। আর বেলুচিস্তানের সাম্বাজায় একটি অভিযানে ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের আট সন্ত্রাসী নিহত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিহত একজনকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।’

আইএসপিআর জানিয়েছে, লাক্কি মারওয়াত জেলায়ও অভিযান চালানো হয়েছে। তীব্র গুলিবিনিময়ের পর সেখানে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়।

একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা আরো জানায়, বান্নু জেলার নর্মি খেল এলাকায় দুটি পৃথক অভিযানে ১০ জন নিহত হয়। এছাড়া উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মীর আলি জেলায় নিহত হয় ১২ জন। সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয় বলেও জানায় আইএসপিআর।

ইরান সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান শিকার: পেজেশকিয়ান

 

ইরান সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান শিকার: পেজেশকিয়ান


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান শিকার তার দেশ। বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক সফরের সময় তিনি বলেন, দেশটিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হামলায় তাদের অসংখ্য কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

এরআগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, ইরান বিশ্ব ‘সন্ত্রাসবাদের বৃহত্তম পৃষ্ঠপোষক’।

এর প্রতিক্রিয়ায় পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যদি বাস্তবতাকে ন্যায্যভাবে দেখা হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে ইরান কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরোধীই নয়, বরং এই অঞ্চল এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান শিকার।’

তার দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরোধী বলেও এসময় জানান তিনি। বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছেন, এর স্পষ্ট অর্থ হলো তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

২০০০ সালের গোড়ার দিকে একটি ফতোয়া বা ধর্মীয় ডিক্রিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করেছিলেন খামেনি।

ইরান আলোচনার মাঝেই ক্রিট ঘাঁটি ত্যাগ বৃহত্তম মার্কিন রণতরীর

 

ইরান আলোচনার মাঝেই ক্রিট ঘাঁটি ত্যাগ বৃহত্তম মার্কিন রণতরীর
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে সৌদা উপসাগর ত্যাগ করছে, ২৬শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স।

ইরানের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য পাঠানো বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরের ক্রিট নৌঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির এক আলোকচিত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে জেনেভায় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার একটি নতুন দফা শুরু হওয়ার পরই এর নৌঘাঁটি ত্যাগ করল ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।

জাহাজটি সোমবার থেকে ক্রিটের ইউএস নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি সউদা বে ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। এথেন্সে মার্কিন দূতাবাস রণতরির উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বারবার তেহরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরানের কর্মসূচি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে—একটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, ৯টি ডেস্ট্রয়ার এবং আরো তিনটি যুদ্ধজাহাজ।

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা

আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদয...