Sunday, 6 September 2026

সুরা কাহফ: ঢাল ও আলোকবর্তিকা



আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য বিভিন্নভাবে বিশেষ নেয়ামত ও ফজিলত দান করেছেন। কখনো বিশেষ কোনো দিনকে, কখনো কোনো সময়কে, কখনো কোনো আমলকে এবং কখনো কোরআনের কোনো সুরা বা আয়াতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। বিশেষ সুরাগুলোর একটি হচ্ছে সুরা কাহ্ফ।

আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত বিশেষ দিনগুলোর একটি জুমার দিন। সেই জুমার দিনে মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল। এগুলোর মধ্যে একটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা হচ্ছে জুমার দিনে ‘সুরা কাহ্ফ’ তিলাওয়াত করা। সুরা কাহ্ফ পবিত্র কোরআনের ১৮ নম্বর সুরা। এর শুরু হয়েছে ১৫তম পারায় এবং এতে আয়াত রয়েছে ১১০টি।



জুমার দিনে ‘সুরা কাহ্ফ’ তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহ্ফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এই জুমা থেকে আগামী জুমা পর্যন্ত চমকাতে থাকবে।’ (মিশকাত)। সুরা কাহ্ফের আরো একটি বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা আমরা পবিত্র হাদিস থেকে জানতে পারি। বারাআ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি সুরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করছিলেন। তার ঘোড়াটি দুটি রশি দিয়ে তার পাশে বাঁধা ছিল। তখন এক টুকরো মেঘ এসে তার উপর ছায়া দান করল। মেঘখণ্ড ক্রমেই নিচের দিকে নেমে আসতে লাগল। আর তার ঘোড়াটি ভয়ে লাফালাফি শুরু করে দিল। সকালবেলা যখন লোকটি নবী (সা.)-এর কাছে ওই ঘটনার কথা ব্যক্ত করেন, তখন তিনি বললেন, এ ছিল আস-সাকিনা (প্রশান্তি/ফেরেশতা), যা কোরআন তিলাওয়াতের কারণে নাজিল হয়েছিল।’ (বুখারি)

শুধু তা-ই নয়, সুরা কাহ্ফের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ফজিলত রয়েছে, সেটা হচ্ছে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তির মাধ্যম। দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার জন্য সুরা কাহ্ফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার নির্দেশ হাদিসে এসেছে। অন্য একটি বর্ণনায় শেষ ১০ আয়াতের কথাও রয়েছে। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা আল-কাহ্ফের প্রথম ১০টি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে।’ (মুসলিম)। অন্য বর্ণনায় শেষ ১০ আয়াতের কথা রয়েছে।

দাজ্জালের ফিতনা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। শেষ যুগে বহু মানুষ দাজ্জালের ফিতনায় বিভ্রান্ত ও পরীক্ষিত হবে। দাজ্জালের ফিতনা কতটা ভয়ংকর হবে, তা কিছুটা আলোকপাত করা যাক। দাজ্জালের ফিতনাগুলোর অন্যতম একটি ভয়ংকর ফিতনা হবে, তার সঙ্গে এমন কিছু থাকবে, যা বাহ্যিকভাবে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো মনে হবে। কিন্তু বাহ্যিকভাবে যেটা জান্নাত দেখা যাবে, প্রকৃতপক্ষে সেটা হবে জাহান্নাম। যেটা দেখতে জাহান্নাম মনে হবে, সেটাই হবে জান্নাত। হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছেন, ‘দাজ্জালের আবির্ভাবকালে তার সঙ্গে পানি এবং আগুন থাকবে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা আগুন মনে হবে, প্রকৃতপক্ষে তা হবে ঠান্ডা পানি। আর যা পানি মনে হবে, সেটি হবে মূলত দাউ দাউ করা আগুন। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই সময়ের মুখোমুখি হবে, সে যেন দাজ্জালের আগুনের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে; কারণ সেটি হবে সুমিষ্ট ও শীতল পানি।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

আমাদের সর্বদা যাবতীয় ফিতনা থেকে বেঁচে থাকতে হবে এবং দাজ্জাল থেকে দূরে থাকতে হবে। তাছাড়া দাজ্জালের আবির্ভাবের আগেও পৃথিবীতে নানা ধরনের ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে। তাই নিজেদের সর্বদা হিফাজত করতে হবে। আর তার অন্যতম উপায় হচ্ছে সুরা কাহ্ফের তিলাওয়াত এবং প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত মুখস্থ করা। দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় মুসলিমদের জন্য মক্কা-মদিনায় অবস্থান করা নিরাপদ হবে। কারণ দাজ্জালের ফিতনার সময় মক্কা ও মদিনা বিশেষভাবে নিরাপদ থাকবে। দাজ্জাল এ দুই নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না। নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দাজ্জাল বের হওয়ার কথা শুনবে, সে যেন তার কাছে না যায়। আল্লাহর শপথ! এমন একজন লোক দাজ্জালের কাছে যাবে, যে নিজেকে ঈমানদার মনে করবে। অতঃপর সে দাজ্জালের সঙ্গে প্রেরিত সন্দেহময় জিনিসগুলো ও তার কাজকর্ম দেখে বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমানহারা হয়ে তার অনুসারী হয়ে যাবে।’ (আবু দাউদ)

দাজ্জালের ফিতনাগুলোর আরেকটি হচ্ছে, তার কপালে আরবি অক্ষরে কাফের লেখা থাকবে। কিন্তু অমুসলিম ও মোনাফেকরা তা পড়তে পারবে না, যদিও তারা শিক্ষিত হবে। আর ঈমানদাররা তা পড়তে পারবেন তারা নিরক্ষর হলেও। তাই এই ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের ঈমানের যত্ন নেওয়া উচিত। সুরা কাহ্ফের তিলাওয়াত নিয়মিত করলে আমাদের ঈমান সেই ফিতনা মোকাবিলা করতেও প্রস্তুত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

দাজ্জালের আরো একটি ভয়ংকর ফিতনা হবে, দাজ্জাল মৃতকে জীবিত এবং জীবিতকে মৃত্যু দেওয়ার মতো ক্ষমতা পাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তার এই ক্ষমতায় অসংখ্য মুসলিম দ্বিধায় পড়ে ঈমানহারা হয়ে যাবে। দাজ্জাল তার কর্মকাণ্ডে শয়তানের সহযোগিতা নেবে। শয়তান কেবল মিথ্যা, গোমরাহি এবং কুফরি কাজেই সাহায্য করে থাকে। এ সম্পর্কে হাদিসের কিতাবে বর্ণিত আছে, নবী (সা.) বলেন, ‘দাজ্জাল মানুষের কাছে গিয়ে বলবে, আমি যদি তোমার মৃত পিতা-মাতাকে জীবিত করে দেখাই, তাহলে কি তুমি আমাকে প্রভু হিসেবে মানবে? সে বলবে, অবশ্যই মানব। এ সুযোগে শয়তান তার পিতা-মাতার আকৃতি ধরে সন্তানকে বলবে, হে সন্তান! তুমি তার অনুসরণ করো। সে তোমার প্রতিপালক।’ (ইবন মাজাহ)

এমন কঠিন অবস্থায় কীভাবে মুসলিমদের ঈমান রক্ষা করা সম্ভব? যখন একজন সাধারণ মুসলিম চোখের সামনে জান্নাত-জাহান্নাম দেখতে পাবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই জান্নাতের দিকে অগ্রসর হবে। সে বুঝতেও পারবে না, সেটা যে ধোঁকা, সেটাই জাহান্নাম। যখন তার মৃত পিতা-মাতা জীবিত হয়ে দাজ্জালকে প্রতিপালক মানতে বলবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে বিশ্বাস করে নেবে। কারণ তখন অধিকাংশ মুসলিমের ঈমান হবে দুর্বল। সেই কঠিন মুহূর্তেও একজন মুসলিম নিজের ঈমানের হিফাজত করবেন এই সুরার মাধ্যমে। তাছাড়া এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এই সুরা তিলাওয়াতকারীর জন্য নূর হয়ে থাকবে।

মুসলিমদের কি ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই—ভারতে মসজিদ ধ্বংসের তীব্র নিন্দা ওয়াইসির

 


ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদ ভেঙে ফেলার তীব্র নিন্দা করেছেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি দাবি করেন, ১৯১১ সাল থেকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নথিতে ওই স্থানে মসজিদের অস্তিত্বের প্রমাণ রয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘শুধু আপনাদের মনে খচখচের কারণে আমাদের মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিতে পারেন না।’



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা কি মুসলমানদের জন্য আর প্রযোজ্য নয়? কেন আমাদের উপাসনালয়গুলো ক্রমাগত তুচ্ছ কারণে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়?

ওয়াইসি বলেন, “মসজিদ কমিটি এর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ১৯১১ সাল পর্যন্ত পুরোনো নথি উপস্থাপন করেছিল। সেখানে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নামাজ আদায় করা হয়েছে। এটিই ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’-এর প্রকৃত সংজ্ঞা, যা এখনো আইনের অধীনে ওয়াকফ হিসেবে সুরক্ষিত।”

সরকারের ওই সম্পত্তির ওপর দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওয়াইসি। এ ক্ষেত্রে তিনি তামাদি আইন এবং স্থাবর সম্পত্তির দখলসংক্রান্ত বিধানের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “তামাদি আইন সাধারণত সরকারকে কোনো স্থাবর সম্পত্তির দখল দাবি করার জন্য সীমাহীন সময় অপেক্ষা করে এক সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করার সুযোগ দেয় না।”

দীর্ঘদিনের দখলকে সম্পত্তিটির আইনগত অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলেও যুক্তি দেন তিনি।

এআইএমআইএম প্রধান বলেন, “এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রকাশ্য, ধারাবাহিক ও সর্বসাধারণের সামনে দখল ছিল না কি? রাষ্ট্র এমন ভান করতে পারে না যে এই দখল গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের যুক্তি মেনে নিলেও ‘অ্যাডভার্স পজেশন’ বা দীর্ঘদিনের বিরোধী দখলের নীতি এখানে প্রযোজ্য হবে।”

ওয়াইসি আরও দাবি করেন, কালেক্টরেট প্রতিষ্ঠার আগেই মসজিদটি সেখানে ছিল।

তিনি বলেন, “মসজিদ আগে এসেছে, কালেক্টরেট পরে।” এরপর তিনি বলেন, “কিছু মানুষের কাছে হয়তো মসজিদ দেখাটাই কষ্টের কারণ। সেটা তাদের সমস্যা, আমাদের নয়।”

তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজনে চোখ ফিরিয়ে নিন। শুধু আপনাদের মনে খচখচ করছে বলে আমাদের মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিতে পারেন না। আমার ধর্মীয় স্বাধীনতা আপনার দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়।”

সাহারানপুর কালেক্টরেটে মসজিদটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরুর পর ওয়াইসি এসব মন্তব্য করেন। একটি আদালতের আদেশে মসজিদটি অপসারণের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার পরই এর ধ্বংসকাজ শুরু হয়।

Amardesh_Mosjid_bREAKING

গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা জজের আদালত মসজিদ কমিটির করা আপিল খারিজ করে এবং সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আগের আদেশ বহাল রাখেন। এর আগে ১৭ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, সরকারি জমিতে কথিত অবৈধ দখল ও অপব্যবহারের অভিযোগে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছিল।

সাহারানপুরের ডিআইজি অভিষেক সিং বলেন, সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত বলে রায় দিয়েছিল এবং পরবর্তী আপিলও খারিজ হয়ে যায়।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গুজব ছড়ানো ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি করা হচ্ছে।

মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হাসান অভিযোগ করেছেন, সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাকে কাইরানায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।

কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদও মসজিদটি ভেঙে ফেলার সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, মসজিদটি ১৯১১ সালেরও আগে থেকে সেখানে ছিল। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ওয়াকফ বোর্ডকে মামলার পক্ষ করা হয়নি এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।

পৃথিবীর যুদ্ধ চাঁদেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, চীনা মহাকাশ বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

 



পৃথিবীতে শুরু হওয়া কোনো বড় ধরনের সামরিক যুদ্ধ ভবিষ্যতে ছড়িয়ে পড়তে পারে পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী বিশাল মহাকাশ অঞ্চলেও। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মহাকাশযানের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, আক্রমণ-প্রতিরোধ, গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশপথ অবরোধ এমনকি প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চীনের মহাকাশ গবেষকেরা।

`


চীনের শিয়ানের নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির মহাকাশবিজ্ঞানীদের একটি দল এ বিষয়ে একটি বিরল গবেষণা চালিয়েছে। গবেষণাটি জুলাই মাসে চীনা ভাষার ‘জর্নাল অব কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে, যাকে ‘সিসলুনার স্পেস’ বলা হয়, ভবিষ্যৎ মহাকাশ যুদ্ধের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে পৃথিবী ও চাঁদের উভয় গ্রহের মহাকর্ষীয় প্রভাব কাজ করায় মহাকাশযানের গতিপথ পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে থাকা সাধারণ উপগ্রহের তুলনায় অনেক বেশি জটিল।

গবেষকদের মতে, কোনো মহাকাশযান চাঁদের আশপাশের জটিল মহাকর্ষীয় পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এমন গতিপথে অবস্থান নিতে পারে, যা প্রতিপক্ষের জন্য অনুমান বা শনাক্ত করা কঠিন। প্রয়োজনের সময় সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পৃথিবীর কাছাকাছি কোনো লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যেতে পারে সেটি।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বা তুলনামূলকভাবে জ্বালানি-সাশ্রয়ী কয়েকটি মহাকাশপথ যেখানে একত্রিত হয়, এমন ‘চোক পয়েন্ট’ বা কৌশলগত সংকীর্ণ অঞ্চলে মহাকাশযান মোতায়েন করে প্রতিপক্ষের চলাচল বাধাগ্রস্ত করার কৌশলও নেওয়া হতে পারে। এতে প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ ও বেশি জ্বালানি-নির্ভর পথ বেছে নিতে কিংবা নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে এগোতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক ও নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব অ্যাস্ট্রোনটিক্সের সহযোগী অধ্যাপক ডাং ঝাওহুইয়ের ভাষ্য, সরাসরি শক্তি প্রয়োগ না করেও প্রতিপক্ষকে পথ পরিবর্তন, কোনো অভিযান বিলম্বিত করা, উৎক্ষেপণের সুযোগ হারানো কিংবা অতিরিক্ত ব্যয় করতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।

তিনি বলেন, সিসলুনার মহাকাশ প্রতিযোগিতায় ঝুঁকির বিষয়টি শুধু কোনো একটি মহাকাশযান, কক্ষপথ বা নির্দিষ্ট পথ নয়। বরং এই অঞ্চলে মহাকাশে প্রবেশ, তা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করার সক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার ক্ষমতাই বড় বিষয়।

গবেষণায় সম্ভাব্য সিসলুনার সংঘাতকে ছয় ধরনের পরিস্থিতিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধাওয়া ও এড়িয়ে যাওয়া, আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা, অবরোধ ও পাল্টা-অবরোধ, এবং প্রতারণা ও শনাক্তকরণ। এসব পরিস্থিতি একটি মহাকাশযানের সঙ্গে আরেকটির সংঘাত থেকে শুরু করে বিস্তৃত কোনো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা পর্যন্ত হতে পারে।

গবেষকেরা উদাহরণ হিসেবে বলেছেন, কোনো পক্ষ ডিকয় বা ভুয়া মহাকাশযান, মিথ্যা গতিপথ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। এতে প্রতিপক্ষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি ব্যয় করতে পারে, নিজের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে ফেলতে পারে অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সুযোগ হারাতে পারে।

তবে গবেষকেরাই সতর্ক করে বলেছেন, বাস্তব পরিস্থিতি তাদের মডেলের চেয়েও অনেক বেশি জটিল হতে পারে। কারণ মডেলগুলোতে অনেক সময় ধরে নেওয়া হয় যে মহাকাশযানগুলোকে নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করা সম্ভব এবং প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। বাস্তবে এত বিশাল ও কঠিনভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাকাশ অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত নয়।

তাই ভবিষ্যৎ গবেষণায় তথ্য অসম্পূর্ণ বা বিলম্বিত হলে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

তাদের মতে, ভবিষ্যতের কোনো সিসলুনার সংঘাতে মহাকাশযানের কৌশলগত চালচলনের পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করা এবং সেই বিভ্রান্তি শনাক্ত করার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা আধুনিক সামরিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠায় পৃথিবীর কোনো সংঘাত ভবিষ্যতে পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের আশপাশের মহাকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে—এই সম্ভাবনাই নতুন গবেষণাটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

সুরা কাহফ: ঢাল ও আলোকবর্তিকা

আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য বিভিন্নভাবে বিশেষ নেয়ামত ও ফজিলত দান করেছেন। কখনো বিশেষ কোনো দিনকে, কখনো কোনো সময়কে, কখনো কোনো আমলকে এবং কখনো ক...